📘 হাদীসের কিসসা > 📄 সততার এক নজীরবিহীন দৃষ্টান্ত

📄 সততার এক নজীরবিহীন দৃষ্টান্ত


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ একবার এক ব্যক্তি অপর এক ব্যক্তির নিকট থেকে এক খন্ড জমি কিনলো। ক্রেতা তার কেনা জমিতে স্বর্ণমুদ্রায় পরিপূর্ণ একটি কলসী পেলো। সে তৎক্ষণাৎ ঐ জমির সাবেক মালিকের নিকট কলসীটি নিয়ে গেলো এবং বললোঃ "তোমার এই স্বর্ণ নিয়ে নাও, তোমার জমিতে এটি পাওয়া গেছে। আমি তো তোমার কাছ থেকে জমি কিনেছি। স্বর্ণ কিনিনি।" সাবেক জমিওয়ালা বললোঃ “না, ও স্বর্ণ তোমার। কেননা আমি ঐ জমিতে যেখানে যা কিছু আছে- সব শুদ্ধই বিক্রয় করেছি।" কিন্তু ক্রেতা কিছুতেই এ কথা মানতে রাজী হলো না।

অবশেষে উভয়েই তৃতীয় এক ব্যক্তির মধ্যস্ততা গ্রহণ করলো। তৃতীয় ব্যক্তিটি উভয়ের বক্তব্য শুনলেন। দেখলেন, উভয়ে নিজ নিজ বক্তব্যে অনড়। তখন বিরোধ মিটাবার কি উপায় করা যায় ভাবতে লাগলেন। শেষ পর্যন্ত একটি কৌশল তিনি উদ্ভাবন করে ফেললেন।

তিনি বিবাদমান লোক দু'টিকে জিজ্ঞাসা করলেন, তোমাদের কোন সন্তান আছে কি? একজন জানালো তার একটি ছেলে আছে। অপরজন জানালো তার একটি মেয়ে আছে।

মধ্যস্তকারী বললেন, ঠিক আছে। এই স্বর্ণ তোমাদের কাউকেই নিতে হবে না। তোমরা তোমাদের ছেলে মেয়েকে পরস্পরে বিয়ে দাও। এই স্বর্ণ দিয়ে বিয়ের ব্যয় নির্বাহ কর এবং যা বেঁচে যায়, তা নব দম্পতিকে উপটৌকন দাও।

উভয়ে এই রায় বিনা বাক্য ব্যয়ে মেনে নিলো। (বুখারী ও মুসলিম)

শিক্ষাঃ
(১) যে কোন বিরোধ বা বিতর্কের মীমাংসার জন্য নিরপেক্ষ তৃতীয় ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের মধ্যস্ততা গ্রহণ করা ইসলামী রীতি। এই তৃতীয় ব্যক্তি উভয় বিবাদমান পক্ষের সম্মতিক্রমে মনোনীত হবে এবং তার ফায়সালা মেনে নেয়া উভয়ের জন্য বাধ্যতামূলক হবে।
(২) আলোচ্য ঘটনার বিবাদমান ব্যক্তিদ্বয় খোদাভীরুতার এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। উভয়েই জমির ভেতরে প্রাপ্ত স্বর্ণ অপর পক্ষকে দেয়ার জন্য উদগ্রীব- নিজে নেয়ার জন্য নয়। একজন মুমিনের প্রকৃত চরিত্র এ রকমই হওয়া উচিত।
(৩) ইসলামী আইনের দৃষ্টিতে বিক্রেতার বক্তব্যই সঠিক। কেননা জমি যখন বিক্রয় অথবা দানসূত্রে হস্তান্তরিত হয়, তখন বিক্রেতা বা দাতা ইচ্ছাপূর্বক কোন কিছু বাদ না দিলে ঐ জমির ওপরে বা অভ্যন্তরে যা-ই থাক্, সব সমেতই হস্তান্তরিত হবে। দাতা বা বিক্রেতা যদি কোন জিনিস দান বা বিক্রয় বহির্ভূত বলে ঘোষণা করে, তবে তা হস্তান্তরের আগেই অথবা যে সময়ের জন্য ক্রেতা বা গ্রহীতা অনুমতি দেয়, সে সময়ের মধ্যেই তা সরিয়ে নিতে হবে।
(৪) ছেলে বা মেয়ে বিয়ে দেয়ার জন্য কি ধরণের পরিবার ও কি ধরণের বর কনে খোঁজা দরকার, সে ব্যাপারেও এই কিস্সাটিতে চমৎকার শিক্ষা রয়েছে। একটি উন্নত মানের ইসলামী চরিত্র সম্পন্ন পরিবারের বর কনেই প্রত্যেক মুসলিম পরিবারের কাম্য হওয়া উচিত। পরিবারের ইসলামী ভাবধারা অক্ষুন্ন রাখার এটাই একমাত্র উপায়।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 তওবার মহিমা

📄 তওবার মহিমা


হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "তোমাদের পূর্ববর্তী জাতিগুলোর মধ্যে এক ব্যক্তি এক নাগাড়ে ৯৯ জনকে হত্যা করে। অতঃপর সে সৎপথে প্রত্যাবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। সে লোকজনের কাছে দেশের সেরা আলেমের সন্ধান চায়। লোকেরা তাকে জনৈক দরবেশের সন্ধান দেয়। সে ঐ দরবেশের কাছে গিয়ে জিজ্ঞাসা করে যে, আমি তো ৯৯ জন মানুষকে হত্যা করেছি। এ পাপ থেকে আমার নিষ্কৃতি লাভের কোন উপায় আছে কি? দরবেশ বললো, না। সে তৎক্ষণাত ঐ দরবেশকে হত্যা করে একশো পূর্ণ করলো। এরপর পুনরায় একজন ভালো আলেমের অনুসন্ধানে বেরুলো। এবার একজন আলেমের সন্ধান পেলো। তাকে সে জিজ্ঞাসা করলো, আমি তো একশো জন মানুষ হত্যা করেছি। আমার তওবার অবকাশ আছে কি? তিনি বললেন, হ্যাঁ। তওবার পথে বাধা দেয়ার অধিকার কারো নেই। তবে তোমাকে নিজের গ্রাম ছাড়তে হবে। কারণ, ওটা খারাপ লোকদের বসতি। তুমি অমুক গ্রামে চলে যাও। সেখানে আল্লাহর অনুগত লোকেরা বাস করে। সেখানে গিয়ে তাদের সাথে তুমিও আল্লাহর আনুগত্যের পথ অবলম্বন কর।

লোকটি উক্ত আলেমের কথামত স্বগ্রাম ত্যাগ করে সৎলোকদের গ্রামের দিকে রওনা হলো। পথের মাঝামাঝি জায়গায় উপনীত হলে তার আয়ু শেষ হয়ে গেলো। তার কাছে দুই ধরনের ফেরেশতা হাজির হলো- রহমতের ফেরেশতা ও আযাবের ফেরেশতা। তারা পরস্পরে ঝগড়া করতে লাগলো রহমতের ফেরেশতারা বললো: এই ব্যক্তি তওবা করে আল্লাহর দিকে আন্তরিকভাবে প্রত্যাবর্তিত হয়েছিল। কাজেই এর প্রাণ আমরা গ্রহণ করবো। আযাবের ফেরেশতারা বললোঃ সে কখনো কোন সৎ কাজ করেনি। তাই ওর প্রাণ আমাদেরই প্রাপ্য। এই ঝগড়ার মীমাংসার জন্য সেখানে মানুষের আকৃতিতে একজন ফেরেশতা এলো। সে বললোঃ তোমরা ঝগড়া থামাও। দু'দিকের রাস্তা মেপে দেখো। কোনটা দীর্ঘতর। যে দিকের রাস্তা ক্ষুদ্রতর হবে, তাকে সেদিকের অধিবাসী ধরে নিতে হবে। অতঃপর রাস্তা মাপলে দেখা গেল, তার গন্তব্যস্থল সংলগ্ন রাস্তাই ক্ষুদ্রতর। তখন রহমতের ফেরেশতারা তার প্রাণ সংহার করলো।” (বুখারী, মুসিলম, ইবনে মাজা)

একটি বর্ণনায় পাওয়া যায়, সৎলোকদের গ্রামটি এক বিঘত পরিমাণ নিকটতর ছিল। অপর এক বর্ণনায় আছে আল্লাহ তায়ালা স্বীয় আদেশ বলে সৎ লোকদের গ্রামটিকে নিকটতর করে দেন। আর এক বর্ণনায় বলা হয়েছে যে, মৃত্যুর ফেরেশতা আসার পরও সে হামাগুড়ি দিয়ে গন্তব্যস্থলের দিকে কিঞ্চিৎ এগিয়ে যায়。

শিক্ষা: এ কিসসাটিও অত্যন্ত শিক্ষাপ্রদ। বিশেষতঃ নিম্নোক্ত বিষয়গুলো এ হাদীসের অন্যতম শিক্ষনীয় বলে বিবেচিত হতে পারেঃ
(১) মুর্খ দরবেশের চাইতে হকপন্থী আলেমই মানুষকে সৎপথের সন্ধান দিতে অধিকতর যোগ্য।
(২) কেউ যদি একনিষ্ঠ মনে ন্যায় পথে অগ্রসর হবার সিদ্ধান্ত নেয়, তবে তার পথ কেউ আটকাতে পারে না। আল্লাহ স্বয়ং তাকে সাহায্য করেন।
(৩) সৎ হবার জন্য সৎ লোকদের সংসর্গ অবলম্বন ও অসৎ লোকদের সাহচর্য বর্জন অপরিহার্য। এ জন্য প্রয়োজনে নিজের জন্মভূমি থেকে হিজরত করা কর্তব্য। আর হিজরত করা যেখানে সম্ভব নয় কিংবা হিজরত করে যথার্থ সৎলোকের সংসর্গ পাওয়া যাবে এমন নিশ্চয়তা নেই, সেখানে একমাত্র বিকল্প কর্মপন্থা হলো, আশপাশের মানুষকে ইসলামের শিক্ষায় শিক্ষিত করে ইসলামী পরিবেশ গড়ে তোলার দীর্ঘমেয়াদী ও স্বল্পমেয়াদী কর্মসূচী নিয়ে কাজ শুরু করে দেয়া। আল্লাহ আমাদেরকে সৎ লোক ও সৎ পরিবেশ তৈরীর তৌফিক দিন। আমীন।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 আল্লাহর পথে দানের মাহাত্ম্য

📄 আল্লাহর পথে দানের মাহাত্ম্য


হযরত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ একবার এক ব্যক্তি ক্ষেতে কাজ করার সময় মেঘের ভেতরে আওয়াজ শুনতে পেলঃ "হে মেঘ! অমুকের ক্ষেতে পানি দাও।" এ কথার পর মেঘখানা এক দিকে চলতে শুরু করলো। ঐ লোকটিও মেঘের সাথে সাথে চলতে লাগলো।

বেশ কিছু পথ অতিক্রম করার পর সে দেখতে পেল, একটি বাগানের ওপর ঐ মেঘখানি গিয়ে থামলো এবং মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করলো। অথচ তার আশপাশের অন্যান্য ক্ষেতখামারে এক ফোঁটা বৃষ্টিও হলো না।

বৃষ্টির শেষে লোকটি ঐ বাগানে ঢুকলো। দেখলো, বাগানের ভেতরে এক প্রৌঢ় কৃষক বৃষ্টির পানি বিভিন্ন গাছের গোড়ায় পৌঁছিয়ে দিচ্ছে। সে জিজ্ঞাসা করলোঃ জনাব, আপনার নাম কি? কৃষক যখন তার নাম বললো, তখন সে দেখলো, মেঘের ভেতরে যে নামটি উচ্চারিত হয়েছিল, তার সাথে এ নামটি হু-ব-হু মিলে যাচ্ছে। অতঃপর কৃষক আগুন্তককে জিজ্ঞাসা করলো, "আপনি কি জন্য আমার নাম জানতে চাইছেন?" আগন্তুক বললোঃ "যে মেঘ থেকে এই মাত্র বৃষ্টি বর্ষিত হলো, সেখানে আপনার নাম ধরে বলা হচ্ছিল আপনার বাগানে বৃষ্টি বর্ষাতে। আমি জানতে চাই আপনি এমন কি মহৎ কাজ করেন, যার জন্য আপনার প্রতি আল্লাহর এমন অলৌকিক অনুগ্রহ।"

কৃষক বললোঃ "আমি ফসল ঘরে তোলার পর তাকে তিন ভাগ করি। এক ভাগ প্রথমেই আল্লাহর পথে দান করি। অপর এক ভাগ বীজ হিসাবে সংরক্ষণ করি। আর তৃতীয় ভাগ নিজে সপরিবারে ভোগ করি।” (মুসলিম শরীফ, তারগীব ও তারহীব)

শিক্ষাঃ
(১) এ ঘটনাটি থেকে জানা যায় যে, নিজের যাবতীয় প্রয়োজন পুরনের পর অবশিষ্ট অংশ আল্লাহর পথে ব্যয় করা নয় বরং উপার্জিত স্বম্পদের একটি অংশ প্রথমেই আল্লাহর পথে দান করা এবং তারপর বাদ বাকী অংশ দিয়ে নিজের প্রয়োজন পুরন করাই ইসলামী রীতি। কেননা এতে অনেক সময় আদৌ কোন অবশিষ্ট নাও থাকতে পারে। প্রথমে আল্লাহর পথে দাতব্য অংশটি নির্দ্ধারণ বা দান করার অর্থ দাঁড়ায় সমুদয় পার্থিব চাহিদা ও প্রয়োজনের ওপর আল্লাহর দ্বীনের ও তার দরিদ্র বান্দাদের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দেয়া। এতে আল্লাহ সর্বাধিক পরিমাণে খুশী হন এবং যে বান্দা এরূপ নীতি অবলম্বন করে তার জীবিকা বৃদ্ধি নিশ্চিত করেন।
(২) এ ঘটনাটি থেকে এ কথাও জানা গেল যে, সাধারণ কৃষক শ্রমিক ও মুটে মজুর শ্রেণীর লোককে অবজ্ঞা করা কোন অবস্থাতেই উচিত নয়। এ ধরনের নগন্য লোকেরা অতি সহজেই আল্লাহর নৈকট্য লাভ ও তাঁর ওলীর মর্যাদায় উপনীত হতে পারে। যদিও তাদের বেশভুষা ও চালচলনে তেমন কোন লক্ষণ সাধারণ মানুষের চোখে পড়ে না এবং তারা সমাজের মর্যাদাবান ও প্রভাবশালী লোকদের দৃষ্টিতে উপেক্ষিতই থাকে। নিজের উপার্জনে আল্লাহর বঞ্চিত দরিদ্র বান্দাদের অংশ রয়েছে- এ কথা যারা ভুলে যায় না বরং সেই অংশটি সবার আগে আলাদা করে ও দান করে, তারা যথার্থই আল্লাহর ওলী তথা প্রিয় বান্দা-চাই তারা যেখানে যে পরিচয়েই বাস করুক না কেন।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 নিজের ক্ষতি স্বীকার করে পরোপকার

📄 নিজের ক্ষতি স্বীকার করে পরোপকার


রাসূল (সাঃ) বলেনঃ প্রাচীনকালে একবার দুই ব্যক্তি একসাথে সফরে বেরুলো। এদের একজন সব সময় আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত থাকতে পছন্দ করতো। অপরজন ছিল আল্লাহর হুকুম পালনে উদাসীন। পথিমধ্যে এক সময় প্রথমোক্ত ব্যক্তি পিপাসায় কাতর হয়ে পড়লো। ক্রমে সে বেহুশ হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়লো। দ্বিতীয় ব্যক্তিটি মনে মনে বললো, "এই সৎ ও খোদাভীরু লোকটি যদি পিপাসায় মারা যায় এবং আমার কাছে পানি থাকা সত্ত্বেও যদি তাকে না খাওয়াই, তা হলে আল্লাহর আক্রোশ থেকে আমি কোন ক্রমেই রক্ষা পাবো না। পক্ষান্তরে তাকে পানি খাওয়ালে পরবর্তীতে আমি নিজে পিপাসায় মারা যাবো। এখন তা হলে কি করা?"

কয়েক মূহুর্ত ভেবেচিন্তে সে আল্লাহর ওপর ভরসা করে তাকে কয়েক ফোঁটা পানি খাইয়ে দিল এবং নিজের জন্যও কিছু সঞ্চিত রাখলো। এভাবে এক সময় তাদের একত্রে সফরের পালা শেষ হলো।

এই দুই ব্যক্তির মৃত্যুর পর প্রথম ব্যক্তিকে জান্নাত ও দ্বিতীয় ব্যক্তিকে জাহান্নামের অধিবাসী বলে ঘোষণা করা হলো। দ্বিতীয় ব্যক্তিকে যখন ফেরেশতারা জাহান্নামে নিয়ে যেতে আরম্ভ করলো, তখন সহসা প্রথম ব্যক্তির সাথে তার সাক্ষাত হলো। সে ঐ ব্যক্তিকে চিনতে পেরে বললোঃ "ওহে আল্লাহর প্রিয় বান্দা। তুমি কি আমাকে চিন?” সে বললোঃ "তুমি কে?” তখন সে বললোঃ "আমি অমুক। এক বিপদের দিনে আমরা মিলিত হয়েছিলাম এবং তোমাকে আমি অগ্রাধিকার দিয়ে পানি খাইয়ে প্রাণ রক্ষার চেষ্টা করেছিলাম।" তখন ঘটনাটা প্রথম ব্যক্তির মনে পড়লো এবং দোজখের ফেরেশতাকে থামতে বললো। অতঃপর সে আল্লাহর নিকট সুপারিশ করে তাকে সাথে নিয়ে বেহেশতে চলে গেলো। (তাবরানী, বায়হাকী)

শিক্ষাঃ
(১) হাদিসটির পয়লা শিক্ষা এই যে, কোন বিপন্ন বা মুমূর্ষ মানুষকে দেখলে তাকে সাহায্য করা ও তার প্রাণ বাঁচানোর চেষ্টা করা কর্তব্য। বিশেষতঃ কোন ধার্মিক ও সৎ ব্যক্তি যদি বিপদগ্রস্থ হয় তবে নিজের কিছু কষ্ট হলেও তাকে সাহায্য করা উচিত।
(২) দ্বিতীয়তঃ কাউকে বিপদগ্রস্ত বা মৃত্যুর সম্মুখীন দেখলে নিজের যথাসর্বস্ব বিলিয়ে দিয়ে তাকে সাহায্য করা ঠিক নয়। নিজের জন্য যতটুকু একান্ত প্রয়োজন, তা রেখে অন্যকে দিতে হবে। শেষ কপর্দক বিলিয়ে দিয়ে নিজেকে অন্যের মুখাপেক্ষী বানানো উচিত নয়।
(৩) সফরসংগীকে সব সময় অগ্রাধিকার দিয়ে খিদমত করার চেষ্টা করা উচিত। বিশেষতঃ সফরসংগী যদি অপেক্ষাকৃত অভাবী সৎ ব্যক্তি হয়, তবে তার দিকে আরো বেশী খেয়াল রাখা কর্তব্য।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00