📘 হাদীসের কিসসা > 📄 কে ধনী, কে গরীব

📄 কে ধনী, কে গরীব


একদিন রাসূলুল্লাহ (সা) সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমরা কি জানো নিঃস্ব বা গরীব কে?' সাহাবীরা বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে যার টাকা-পয়সা ও ধনসম্পদ নেই, তাকেই আমরা নিঃস্ব বলি।' তখন নবীজি (সা) বললেন, 'আমার উম্মতের মধ্যে প্রকৃত নিঃস্ব সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন নামাজ, রোজা ও যাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু সে দুনিয়াতে কাউকে গালি দিয়েছে, কারও অপবাদ দিয়েছে, কারও সম্পদ আত্মসাৎ করেছে বা কাউকে হত্যা করেছে।'
'ফলে তার নেক আমলগুলো পাওনাদারদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। যখন তার নেক আমল শেষ হয়ে যাবে কিন্তু পাওনা শোধ হবে না, তখন পাওনাদারদের পাপগুলো তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।' এই ব্যক্তিই হলো আখেরাতের প্রকৃত গরীব বা দেউলিয়া।

একদিন রাসূলুল্লাহ (সা) সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমরা কি জানো নিঃস্ব বা গরীব কে?' সাহাবীরা বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে যার টাকা-পয়সা ও ধনসম্পদ নেই, তাকেই আমরা নিঃস্ব বলি।' তখন নবীজি (সা) বললেন, 'আমার উম্মতের মধ্যে প্রকৃত নিঃস্ব সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন নামাজ, রোজা ও যাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু সে দুনিয়াতে কাউকে গালি দিয়েছে, কারও অপবাদ দিয়েছে, কারও সম্পদ আত্মসাৎ করেছে বা কাউকে হত্যা করেছে।'
'ফলে তার নেক আমলগুলো পাওনাদারদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। যখন তার নেক আমল শেষ হয়ে যাবে কিন্তু পাওনা শোধ হবে না, তখন পাওনাদারদের পাপগুলো তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।' এই ব্যক্তিই হলো আখেরাতের প্রকৃত গরীব বা দেউলিয়া।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 উম্মে সুলাইমের দেন মোহর

📄 উম্মে সুলাইমের দেন মোহর


হযরত আনাস (রা)-এর মা উম্মে সুলাইম (রা) ছিলেন একজন বুদ্ধিমতী ও ঈমানদার নারী। তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর হযরত আবু তালহা (রা) তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তখনো আবু তালহা ইসলাম গ্রহণ করেননি। উম্মে সুলাইম বললেন, 'হে আবু তালহা! আপনার মতো মানুষের প্রস্তাব ফেরানো যায় না। কিন্তু আমি মুসলিম আর আপনি মুশরিক। কোনো মুশরিককে বিয়ে করা আমার জন্য জায়েজ নয়। আপনি যদি ইসলাম গ্রহণ করেন, তবে সেটাই হবে আমার দেনমোহর। আমি আপনার কাছে কোনো সোনা-রুপা চাই না।'
উম্মে সুলাইমের এই কথায় আবু তালহার অন্তরে পরিবর্তন এল। তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং তাঁদের বিয়ে হলো। সাহাবীরা বলতেন, 'আমরা উম্মে সুলাইমের দেনমোহরের চেয়ে উত্তম ও মর্যাদাপূর্ণ দেনমোহর আর দেখিনি।'

হযরত আনাস (রা)-এর মা উম্মে সুলাইম (রা) ছিলেন একজন বুদ্ধিমতী ও ঈমানদার নারী। তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর হযরত আবু তালহা (রা) তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তখনো আবু তালহা ইসলাম গ্রহণ করেননি। উম্মে সুলাইম বললেন, 'হে আবু তালহা! আপনার মতো মানুষের প্রস্তাব ফেরানো যায় না। কিন্তু আমি মুসলিম আর আপনি মুশরিক। কোনো মুশরিককে বিয়ে করা আমার জন্য জায়েজ নয়। আপনি যদি ইসলাম গ্রহণ করেন, তবে সেটাই হবে আমার দেনমোহর। আমি আপনার কাছে কোনো সোনা-রুপা চাই না।'
উম্মে সুলাইমের এই কথায় আবু তালহার অন্তরে পরিবর্তন এল। তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং তাঁদের বিয়ে হলো। সাহাবীরা বলতেন, 'আমরা উম্মে সুলাইমের দেনমোহরের চেয়ে উত্তম ও মর্যাদাপূর্ণ দেনমোহর আর দেখিনি।'

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 অকৃতজ্ঞতার পরিণাম

📄 অকৃতজ্ঞতার পরিণাম


বনী ইসরাঈলে তিনজন লোক ছিল—একজন কুষ্ঠরোগী, একজন মাথায় টাকওয়ালা এবং একজন অন্ধ। আল্লাহ তাদের পরীক্ষা করার জন্য ফেরেশতা পাঠালেন। ফেরেশতার দোয়ায় তারা সুস্থ হয়ে গেল এবং আল্লাহ তাদের যথাক্রমে উট, গরু ও ছাগল দিয়ে ধনী করে দিলেন।
বহুদিন পর সেই ফেরেশতা আবার মানুষের রূপ ধরে তাদের কাছে সাহায্য চাইতে গেলেন। কুষ্ঠরোগী এবং টাকওয়ালা তাদের আগের অবস্থার কথা অস্বীকার করল এবং গরিবকে সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানাল। ফলে তারা আবার তাদের পূর্বের রোগাক্রান্ত ও দরিদ্র অবস্থায় ফিরে গেল। কিন্তু অন্ধ ব্যক্তিটি বলল, 'আমি অন্ধ ছিলাম, আল্লাহ আমাকে দৃষ্টি দিয়েছেন। আমি দরিদ্র ছিলাম, তিনি আমাকে ধনী করেছেন। তুমি যা চাও নিয়ে যাও।' তার কৃতজ্ঞতার কারণে আল্লাহ তার সম্পদ ও সুস্থতা বজায় রাখলেন। অকৃতজ্ঞরা ধ্বংস হলো, আর কৃতজ্ঞ ব্যক্তি পুরস্কৃত হলো।

বনী ইসরাঈলে তিনজন লোক ছিল—একজন কুষ্ঠরোগী, একজন মাথায় টাকওয়ালা এবং একজন অন্ধ। আল্লাহ তাদের পরীক্ষা করার জন্য ফেরেশতা পাঠালেন। ফেরেশতার দোয়ায় তারা সুস্থ হয়ে গেল এবং আল্লাহ তাদের যথাক্রমে উট, গরু ও ছাগল দিয়ে ধনী করে দিলেন।
বহুদিন পর সেই ফেরেশতা আবার মানুষের রূপ ধরে তাদের কাছে সাহায্য চাইতে গেলেন। কুষ্ঠরোগী এবং টাকওয়ালা তাদের আগের অবস্থার কথা অস্বীকার করল এবং গরিবকে সাহায্য করতে অস্বীকৃতি জানাল। ফলে তারা আবার তাদের পূর্বের রোগাক্রান্ত ও দরিদ্র অবস্থায় ফিরে গেল। কিন্তু অন্ধ ব্যক্তিটি বলল, 'আমি অন্ধ ছিলাম, আল্লাহ আমাকে দৃষ্টি দিয়েছেন। আমি দরিদ্র ছিলাম, তিনি আমাকে ধনী করেছেন। তুমি যা চাও নিয়ে যাও।' তার কৃতজ্ঞতার কারণে আল্লাহ তার সম্পদ ও সুস্থতা বজায় রাখলেন। অকৃতজ্ঞরা ধ্বংস হলো, আর কৃতজ্ঞ ব্যক্তি পুরস্কৃত হলো।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 আসহাবুল উখদুদের ঘটনা

📄 আসহাবুল উখদুদের ঘটনা


রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ তোমাদের পূর্ববর্তীদের মধ্যে এক অতীব পরাক্রমশালী রাজা ছিল আর তার ছিল এক যাদুকর। সে যখন বৃদ্ধ হয়ে গেল, তখন রাজাকে বললোঃ আমি বৃদ্ধ হয়ে পড়েছি। এক বালককে আমার কাছে পাঠিয়ে দিন। আমি তাকে যাদু শিখাবো। রাজা একটি বালককে যাদু শেখার জন্য তার কাছে পাঠালো। তার যাতায়াতের রাস্তায় ছিল হযরত ঈসা (আ) এর শরীয়তের অনুসারী একজন দরবেশ। একদিন সে আসা যাওয়ার সময় কিছুক্ষণ তার কাছে বসলো এবং তার কথাবার্তা শুনে মুগ্ধ হলো। এভাবে সে প্রতিদিন আসা যাওয়ার সময় দরবেশের কাছে বসতে লাগলো। যাদুকরের কাছে গেলে সে তাকে বিলম্বের কারণে মারধোর করতো। এতে সে দরবেশের কাছে যাদুকরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলো। দরবেশ বললো যখন যাদুকর তোমাকে বিলম্বের কারণ জিজ্ঞাসা করবে তখন বলবে আমার পরিবারবর্গ আমাকে আটকে রেখেছিল। আর যখন তোমার পরিবারবর্গ তোমার কাছে বিলম্বের কারণ জানতে চাইবে, তখন বলবে যাদুকর আমাকে আটকে রেখেছিল।

এভাবেই চলতে লাগলো বালকটির আসা যাওয়া। একই সাথে যাদুকরের কাছে যাদু এবং দরবেশের কাছে ইসলামী বিধান শিখতে লাগলো। বাড়ী থেকে যাদুকরের কাছে যাওয়ার সময় একবার এবং যাদুকরের কাছ থেকে বাড়ী যাওয়ার সময় আর একবার দরবেশের কাছে বসতো এবং তার উপদেশ শুনতো। কিছুদিন এভাবে চলার পর বালকটা উভয়ের ব্যাপারে সন্দিহান ও দোদুল্যমান হয়ে পড়লো। কোন্টি সত্য ও সঠিক, তা সে বুঝে উঠতে পারলো না।

এই সময়ে একদিন সে রাস্তার ওপর একটা বিশালকায় জন্তু দেখতে পেলো। জন্তুটি এমনভাবে রাস্তা আটকে দাঁড়িয়েছিল যে, লোকজন আসা যাওয়া করতে পারছিল না। বালকটি তখন মনে মনে বললোঃ "আজ আমি দেখে নেবো দরবেশ শ্রেষ্ঠ না যাদুকর শ্রেষ্ঠ।" তাই সে একটি পাথরখন্ড হাতে নিয়ে বললোঃ "হে আল্লাহ! দরবেশের কার্যকলাপ যদি তোমার নিকট যাদুকরের কার্যকলাপের চেয়ে বেশী পছন্দনীয় হয়, তবে এই জানোয়ারটাকে মেরে ফেল, যাতে লোকজন পথ চলতে পারে।” তারপর সে ঐ পাথরখন্ড ছুঁড়ে মারলো এবং তাতে জানোয়ারটা মারা গেল। আর লোকজন যে যার পথে চলে গেলো। তারপর সে দরবেশের কাছে এসে সমস্ত বৃত্তান্ত জানালো। দরবেশ তাকে বললোঃ "প্রিয় বৎস! তুমি আজ আমার চেয়ে উত্তম হয়ে গেছ। তবে তুমি খুব শীঘ্রই পরীক্ষার সম্মুখীন হবে। যদি তুমি কোন পরীক্ষায় পড়ে যাও, তবে আমার সন্ধান দিও না।"

এরপর বালকটি এমন অলৌকিক ক্ষমতার অধিকারী হলো যে, সে কেবল আল্লাহর কাছে দোয়া করা মাত্রই অন্ধ ও কুষ্ঠরোগী ভালো হয়ে যেতো এবং এভাবে অন্যান্য রোগেরও চিকিৎসা করতো।

রাজার পাত্রমিত্রদের একজন অন্ধ হয়ে গিয়েছিল। সে এই খবর শুনে বালকটার কাছে উপঢৌকন নিয়ে এসে বললোঃ তুমি আমাকে আরোগ্য দান করবে এই আশায় এ সব এনেছি। বালক বললোঃ আমি কাউকে আরোগ্য দান করি না। আল্লাহই আরোগ্য দান করেন। যদি তুমি আল্লাহর প্রতি ঈমান আনো, তবে আমি দোয়া করবো। আশা করা যায় যে, তিনি আরোগ্য দান করবেন। সে তখন আল্লাহর প্রতি ঈমান আনলো। আর আল্লাহ তৎক্ষণাৎ তাকে আরোগ্য দান করলেন। তারপর সে রাজ দরবারে ফিরে গিয়ে আগের মত নিজ দায়িত্বে নিয়োজিত হলো। রাজা তাকে জিজ্ঞেস করলোঃ "তোমার চোখ কে ফিরিয়ে দিল?” সে উত্তর দিলঃ "আমার প্রভু!” রাজা বললোঃ "আমি ছাড়া তোমার কোন প্রভু আছে না কি?" সে বললোঃ "আমার ও তোমার সকলেরই প্রভু আল্লাহ।” এতে রাজা তাকে ধরে শাস্তি দিতে লাগলো। অবশেষে সে শাস্তি থেকে রেহাই পাবার আশায় বালকের কথা বলে দিল। তখন বালকটিকে ধরে আনা হলো। রাজা তাকে বললোঃ হে প্রিয় বালক! তোমার যাদুবিদ্যার যথেষ্ট খ্যাতি ছড়িয়েছে। শুনেছি তুমি নাকি অন্ধ ও কুষ্ঠরোগী আরোগ্য করে থাকো এবং আরো বহু অলৌকিক কর্মকান্ড করে থাকো। বালক বললোঃ আমি কাউকে আরোগ্য দান করি না। আরোগ্য দান তো আল্লাহই করেন। এ কথা শুনে রাজা তাকেও শাস্তি দিতে লাগলো。

অবশেষে বালকটি হযরত ঈসার শরীয়তপন্থী দরবেশের কথা বলে দিল। তখন দরবেশকে আনা হলো। তাকে তার ধর্ম ত্যাগ করতে বলা হলো। কিন্তু সে অস্বীকার করলো। তখন রাজা একখানি করাত আনিয়ে দরবেশের মাথার মাঝখান থেকে চেরাই করে দ্বিখন্ডিত করে ফেললো। তারপর আনা হলো রাজার সেই সভাসদকে। তাকেও তার ধর্ম ত্যাগ করতে বলা হলো। কিন্তু সে অস্বীকার করায় তাকেও করাত দিয়ে চিরে দু'টুকরো করে ফেলা হলো।

এরপর আনা হলো বালকটিকে। তাকেও তার ধর্ম ত্যাগ করতে বলা হলো। কিন্তু সে অস্বীকার করলো। তখন রাজা তাকে তার কতিপয় কর্মচারীর হাতে সমর্পন করে বললোঃ তোমরা তাকে পাহাড়ের চূড়ার ওপর নিয়ে যাও। তখন যদি সে তার ধর্ম ত্যাগ করে তবে তো ভালো কথা। নচেত তাকে সেখান থেকে ফেলে দিও।

লোকেরা বালকটাকে নিয়ে যেই পাহাড়ে উঠলো। বালক বললোঃ হে আল্লাহ! তুমি যেভাবে চাও এদের হাত থেকে আমাকে মুক্তি দান কর। তখন পাহাড়টি এমন জোরে কেঁপে উঠলো যে, রাজার লোকেরা নীচে পড়ে মারা গেলো এবং বালক স্বচ্ছন্দে রাজার কাছে গিয়ে হাজির হলো। রাজা তাকে জিজ্ঞেস করলোঃ তোমার সঙ্গীরা কোথায়? সে বললোঃ তাদের ব্যাপারে আমার জন্য আল্লাহই যথেষ্ট। এতে রাজা অনুমান করতে পারলো যে, তার আর বেঁচে নেই।

এরপর রাজা তাকে আরেক দল কর্মচারীর হাতে সোপর্দ করে বললোঃ তোমরা এক একটি নৌকায় তুলে সমুদ্রের মাঝখানে নিয়ে যাও। তারপর সে যদি তার ধর্ম ত্যাগে রাজী না হয়, তবে তাকে সেখানে সমুদ্রের পানিতে ফেলে দেবে।

নৌকা চললো মাঝ দরিয়া অভিমুখে। বালক আবার বললোঃ হে আল্লাহ! তুমি যেভাবে চাও, তাদের হাত থেকে আমাকে মুক্তি দাও। এতে নৌকা তাদেরকে নিয়ে ডুবে গেলো এবং ছেলেটি শান্তভাবে রাজার দরবারে হাজির হলো। রাজা তাকে জিজ্ঞেস করলোঃ তোমার সঙ্গীরা কোথায়? সে বললোঃ তাদের হাত থেকে আমাকে উদ্ধার করতে আল্লাহই যথেষ্ট হয়েছে।

এরপর সে রাজাকে বললোঃ আমি যেভাবে বলবো সেভাবে কাজ করলেই তুমি আমাকে হত্যা করতে পারবে। রাজা জিজ্ঞেস করলোঃ কিভাবে? সে বললোঃ একটি মাঠে জনগণকে সমবেত কর। তারপর আমাকে শূলে চড়াও। তারপর আমার তীরদানি থেকে একটি তীর নিয়ে ধনুকে জুড়ে দিয়ে বলঃ বালকটির প্রভু আল্লাহর নামে তীর মারছি। এরূপ করলে তুমি আমাকে মারতে পারবে।

রাজা তখন মাঠে লোক সমবেত করে বালককে শূলের ওপর বসালো। তারপর বালকের তীরদানি থেকে তীর নিয়ে ধনুকে জুড়ে দিয়ে বললোঃ 'বিসমিল্লাহি রাব্বিল গুলাম” অর্থাৎ বালকটার প্রভু আল্লাহর নামে তীর মারলাম। এই বলে তীর নিক্ষেপ করলো, বালকটি তাতে বিদ্ধ হলো ও মারা গেলো।

এ দৃশ্য দেখে জনতা সমস্বরে বলে উঠলোঃ এই বালক যে প্রভুর কথা বলে, সেই আল্লাহর ওপর আমরা ঈমান আনলাম। এ খবর পেয়ে রাজা ক্রোধে অধীর হয়ে উঠলো। তার পারিষদবর্গ তাকে বললোঃ যে আশংকা আপনার ছিল তাইতো ঘটে গেল। এখনতো দেশশুদ্ধ লোক ঈমান এনে ফেলেছে।

রাজা তখন রাস্তার পাশে দীর্ঘ গর্ত খোড়ার হুকুম দিল। গর্ত খোড়া হলে তাতে আগুন জ্বালানো হলো। রাজা বললোঃ যে ব্যক্তি তার ঈমান ত্যাগ করবে না তাকে ঐ আগুনে ফেলে দাও। যারা ইসলামের ওপর অবিচল রইল, তাদের সবাইকে জ্বলন্ত আগুনে নিক্ষেপ করে শহীদ করা হলো। এক সময় সন্তান কোলে নিয়ে এক মহিলা এলো। সে আগুনের মধ্যে যেতে ইতস্ততঃ করলে শিশুটি অলৌকিভাবে বাকশক্তি লাভ করলো এবং বললোঃ আম্মা! আপনি সবর করুন (অর্থাৎ আগুনে ঝাপ দিতে সংকোচ করবেন না)। কারণ আপনি তো সত্যের ওপরে আছেন। (মুসলিম শরীফ)

পর্যালোচনাঃ এই ঘটনাটিকে ইতিহাসে আসহাবুল উখদুদের ঘটনা বলা হয়। উখদুদ অর্থ আগুনের কুন্ডলী। পবিত্র কুরআনের সূরা আল বুরুজে এই ঘটনার প্রতি ইঙ্গীত দেয়া হয়েছে।

সাধারণ অবস্থায় নিজেকে হত্যা করতে কাউকে পরামর্শ দেয়া বা তার কৌশল শিখিয়ে দেয়া আত্মহত্যার শামিল। আত্মহত্যা কখনো জায়েজ নয়। তবে আলোচ্য ঘটনায় বালকটি যে পরিস্থিতিতে এ কাজ করেছিল তা স্বাভাবিক অবস্থার পর্যায়ে পড়ে না। তা ছাড়া সম্ভবতঃ সে আল্লাহর ইঙ্গীতে কাজ করেছিল, যা ওহী ব্যতীত ইলহামের মাধ্যমেও এসে থাকতে পারে। এমনও হতে পারে যে, এরূপ কৌশলে জীবন বিসর্জন দেয়ার ফলে সমগ্র দেশ ঈমান আনবে বলে বালক ধারণা করেছিল, বাস্তবেও তাই ঘটেছিল।

শিক্ষাঃ এ ঘটনাটির সবচেয়ে বড় শিক্ষা এই যে, প্রকৃত ঈমানদার ব্যক্তির যে কোন সময় যে কোন কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকা উচিত। এমনকি যদি ইসলামের প্রচার ও প্রতিষ্ঠার কাজে নিয়োজিত হয় এবং তাতে কিছু সাফল্য ও বিজয় আসতে থাকে, তাহলেও প্রত্যেক সাফল্যের সাথে সাথে পরীক্ষার তীব্রতা ও কঠোরতা বেড়ে যাওয়া বিচিত্র নয়।

দ্বিতীয় শিক্ষা এই যে, এক আল্লাহর প্রতি ঈমানই ছিল হযরত ঈসা (আঃ) এর প্রকৃত শিক্ষা। তিনিও ইসলামের একজন নবী ছিলেন এবং ইসলামেরই দাওয়াত দিয়েছেন। পরবর্তীকালে তার অনুসারীরা তার আনিত ইসলামী শরীয়ত বিকৃত করে তার নাম রাখে খৃস্টবাদ এবং নিজেরা খৃস্টান নামে পরিচিত হয়। এই খৃস্টবাদ ও খৃস্টানদের সাথে হযরত ঈসার প্রকৃত শিক্ষার কোন সম্পর্ক নেই। আলোচ্য ঘটনায় উল্লেখিত দরবেশ, বালক ও অন্যান্য শহীদগণ ছিলেন হযরত ঈসার প্রকৃত অনুসারী ও খাঁটি মুসলমান-খৃস্টান নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00