📄 হযরত উযাইর (আ) এর কাহিনী
হযরত উযাইর (আ) একবার একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যার ঘরবাড়ি ধসে পড়েছিল এবং মানুষের হাড়গোড় ছড়িয়ে ছিল। তিনি মনে মনে ভাবলেন, 'মৃত্যুর পর আল্লাহ কীভাবে এই নগরীকে পুনরায় জীবিত করবেন?' আল্লাহ তাআলা তাঁকে এই বিষয়টি প্রত্যক্ষ করানোর জন্য সেখানেই মৃত্যুদান করলেন এবং তিনি একশ বছর মৃত অবস্থায় পড়ে রইলেন।
একশ বছর পর আল্লাহ তাঁকে জীবিত করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কতদিন এখানে ছিলে?' তিনি বললেন, 'একদিন বা তার কিছু অংশ।' আল্লাহ বললেন, 'না, বরং তুমি একশ বছর অবস্থান করেছ। তোমার খাবারের দিকে তাকাও, তা অবিকৃত আছে। আর তোমার গাধাটির দিকে তাকাও, যার হাড়গুলো পচে গলে গেছে।' এরপর আল্লাহর হুকুমে গাধার হাড়গুলো একত্রিত হলো, তাতে গোশত ও চামড়া লাগল এবং গাধাটি জীবিত হয়ে ডাকতে শুরু করল। এ দৃশ্য দেখে উযাইর (আ) বললেন, 'আমি জানি, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।'
হযরত উযাইর (আ) একবার একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যার ঘরবাড়ি ধসে পড়েছিল এবং মানুষের হাড়গোড় ছড়িয়ে ছিল। তিনি মনে মনে ভাবলেন, 'মৃত্যুর পর আল্লাহ কীভাবে এই নগরীকে পুনরায় জীবিত করবেন?' আল্লাহ তাআলা তাঁকে এই বিষয়টি প্রত্যক্ষ করানোর জন্য সেখানেই মৃত্যুদান করলেন এবং তিনি একশ বছর মৃত অবস্থায় পড়ে রইলেন।
একশ বছর পর আল্লাহ তাঁকে জীবিত করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কতদিন এখানে ছিলে?' তিনি বললেন, 'একদিন বা তার কিছু অংশ।' আল্লাহ বললেন, 'না, বরং তুমি একশ বছর অবস্থান করেছ। তোমার খাবারের দিকে তাকাও, তা অবিকৃত আছে। আর তোমার গাধাটির দিকে তাকাও, যার হাড়গুলো পচে গলে গেছে।' এরপর আল্লাহর হুকুমে গাধার হাড়গুলো একত্রিত হলো, তাতে গোশত ও চামড়া লাগল এবং গাধাটি জীবিত হয়ে ডাকতে শুরু করল। এ দৃশ্য দেখে উযাইর (আ) বললেন, 'আমি জানি, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।'
📄 কাদেসিয়ার এক দুর্ধর্ষ বীরের কাহিনী
আবু মিহজান সাকাফী (রা) ছিলেন একজন বিখ্যাত বীর যোদ্ধা, কিন্তু মদ্যপানের অপরাধে কাদেসিয়ার যুদ্ধের সময় সেনাপতি হযরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা) তাঁকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছিলেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে আবু মিহজান আর স্থির থাকতে পারলেন না। তিনি সেনাপতির স্ত্রীর কাছে অনুনয়-বিনয় করে বললেন, 'আমাকে শুধু যুদ্ধের সময়টুকু ছেড়ে দিন এবং সা'দ ভাইয়ের ঘোড়াটি দিন। আমি কথা দিচ্ছি, বেঁচে থাকলে আমি আবার এসে শিকল পরব।'
সেনাপতির স্ত্রী তাঁকে মুক্ত করে দিলেন। আবু মিহজান যুদ্ধের ময়দানে এমন বীরত্ব দেখালেন যে শত্রুবাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। স্বয়ং সা'দ (রা) দূর থেকে দেখে ভাবলেন, 'ইনি কে? এই ঘোড়া তো আমার, আর যুদ্ধের ধরন তো আবু মিহজানের মতো!' সন্ধ্যায় আবু মিহজান ফিরে এসে আবার শিকল পরলেন। পরে সব জানতে পেরে সা'দ (রা) তাঁকে মুক্ত করে দিলেন এবং বললেন, 'আল্লাহর কসম, আমি আর তোমাকে শাস্তি দেব না।' আবু মিহজানও কসম করলেন, 'আমিও আর কখনো মদ্যপান করব না।'
আবু মিহজান সাকাফী (রা) ছিলেন একজন বিখ্যাত বীর যোদ্ধা, কিন্তু মদ্যপানের অপরাধে কাদেসিয়ার যুদ্ধের সময় সেনাপতি হযরত সা'দ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা) তাঁকে শিকল দিয়ে বেঁধে রেখেছিলেন। যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখে আবু মিহজান আর স্থির থাকতে পারলেন না। তিনি সেনাপতির স্ত্রীর কাছে অনুনয়-বিনয় করে বললেন, 'আমাকে শুধু যুদ্ধের সময়টুকু ছেড়ে দিন এবং সা'দ ভাইয়ের ঘোড়াটি দিন। আমি কথা দিচ্ছি, বেঁচে থাকলে আমি আবার এসে শিকল পরব।'
সেনাপতির স্ত্রী তাঁকে মুক্ত করে দিলেন। আবু মিহজান যুদ্ধের ময়দানে এমন বীরত্ব দেখালেন যে শত্রুবাহিনী ছত্রভঙ্গ হয়ে গেল। স্বয়ং সা'দ (রা) দূর থেকে দেখে ভাবলেন, 'ইনি কে? এই ঘোড়া তো আমার, আর যুদ্ধের ধরন তো আবু মিহজানের মতো!' সন্ধ্যায় আবু মিহজান ফিরে এসে আবার শিকল পরলেন। পরে সব জানতে পেরে সা'দ (রা) তাঁকে মুক্ত করে দিলেন এবং বললেন, 'আল্লাহর কসম, আমি আর তোমাকে শাস্তি দেব না।' আবু মিহজানও কসম করলেন, 'আমিও আর কখনো মদ্যপান করব না।'
📄 কে ধনী, কে গরীব
একদিন রাসূলুল্লাহ (সা) সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমরা কি জানো নিঃস্ব বা গরীব কে?' সাহাবীরা বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে যার টাকা-পয়সা ও ধনসম্পদ নেই, তাকেই আমরা নিঃস্ব বলি।' তখন নবীজি (সা) বললেন, 'আমার উম্মতের মধ্যে প্রকৃত নিঃস্ব সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন নামাজ, রোজা ও যাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু সে দুনিয়াতে কাউকে গালি দিয়েছে, কারও অপবাদ দিয়েছে, কারও সম্পদ আত্মসাৎ করেছে বা কাউকে হত্যা করেছে।'
'ফলে তার নেক আমলগুলো পাওনাদারদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। যখন তার নেক আমল শেষ হয়ে যাবে কিন্তু পাওনা শোধ হবে না, তখন পাওনাদারদের পাপগুলো তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।' এই ব্যক্তিই হলো আখেরাতের প্রকৃত গরীব বা দেউলিয়া।
একদিন রাসূলুল্লাহ (সা) সাহাবীদের জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমরা কি জানো নিঃস্ব বা গরীব কে?' সাহাবীরা বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মধ্যে যার টাকা-পয়সা ও ধনসম্পদ নেই, তাকেই আমরা নিঃস্ব বলি।' তখন নবীজি (সা) বললেন, 'আমার উম্মতের মধ্যে প্রকৃত নিঃস্ব সেই ব্যক্তি, যে কিয়ামতের দিন নামাজ, রোজা ও যাকাত নিয়ে উপস্থিত হবে। কিন্তু সে দুনিয়াতে কাউকে গালি দিয়েছে, কারও অপবাদ দিয়েছে, কারও সম্পদ আত্মসাৎ করেছে বা কাউকে হত্যা করেছে।'
'ফলে তার নেক আমলগুলো পাওনাদারদের মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হবে। যখন তার নেক আমল শেষ হয়ে যাবে কিন্তু পাওনা শোধ হবে না, তখন পাওনাদারদের পাপগুলো তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হবে এবং তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে।' এই ব্যক্তিই হলো আখেরাতের প্রকৃত গরীব বা দেউলিয়া।
📄 উম্মে সুলাইমের দেন মোহর
হযরত আনাস (রা)-এর মা উম্মে সুলাইম (রা) ছিলেন একজন বুদ্ধিমতী ও ঈমানদার নারী। তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর হযরত আবু তালহা (রা) তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তখনো আবু তালহা ইসলাম গ্রহণ করেননি। উম্মে সুলাইম বললেন, 'হে আবু তালহা! আপনার মতো মানুষের প্রস্তাব ফেরানো যায় না। কিন্তু আমি মুসলিম আর আপনি মুশরিক। কোনো মুশরিককে বিয়ে করা আমার জন্য জায়েজ নয়। আপনি যদি ইসলাম গ্রহণ করেন, তবে সেটাই হবে আমার দেনমোহর। আমি আপনার কাছে কোনো সোনা-রুপা চাই না।'
উম্মে সুলাইমের এই কথায় আবু তালহার অন্তরে পরিবর্তন এল। তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং তাঁদের বিয়ে হলো। সাহাবীরা বলতেন, 'আমরা উম্মে সুলাইমের দেনমোহরের চেয়ে উত্তম ও মর্যাদাপূর্ণ দেনমোহর আর দেখিনি।'
হযরত আনাস (রা)-এর মা উম্মে সুলাইম (রা) ছিলেন একজন বুদ্ধিমতী ও ঈমানদার নারী। তাঁর স্বামী মারা যাওয়ার পর হযরত আবু তালহা (রা) তাঁকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। তখনো আবু তালহা ইসলাম গ্রহণ করেননি। উম্মে সুলাইম বললেন, 'হে আবু তালহা! আপনার মতো মানুষের প্রস্তাব ফেরানো যায় না। কিন্তু আমি মুসলিম আর আপনি মুশরিক। কোনো মুশরিককে বিয়ে করা আমার জন্য জায়েজ নয়। আপনি যদি ইসলাম গ্রহণ করেন, তবে সেটাই হবে আমার দেনমোহর। আমি আপনার কাছে কোনো সোনা-রুপা চাই না।'
উম্মে সুলাইমের এই কথায় আবু তালহার অন্তরে পরিবর্তন এল। তিনি ইসলাম গ্রহণ করলেন এবং তাঁদের বিয়ে হলো। সাহাবীরা বলতেন, 'আমরা উম্মে সুলাইমের দেনমোহরের চেয়ে উত্তম ও মর্যাদাপূর্ণ দেনমোহর আর দেখিনি।'