📘 হাদীসের কিসসা > 📄 হযরত যুলকিফলের ক্রোধ সংবরণ

📄 হযরত যুলকিফলের ক্রোধ সংবরণ


হযরত যুলকিফল (আ) বনী ইসরাঈলের একজন নবী ছিলেন। তিনি ওয়াদা করেছিলেন যে, তিনি দিনে রোজা রাখবেন, রাতে ইবাদত করবেন এবং বিচার কার্যে কখনো রাগ করবেন না। ইবলিস শয়তান তাঁকে এই ওয়াদা থেকে বিচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করল। সে এক বৃদ্ধের রূপ ধরে দুপুরে যুলকিফল (আ)-এর বিশ্রামের সময় এসে দরজায় কড়া নাড়ল। নবী তাকে ভেতরে ডাকলেন। বৃদ্ধটি তার ওপর অত্যাচারের দীর্ঘ ও মিথ্যা কাহিনী বলতে শুরু করল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করল যাতে নবীর বিশ্রাম ও দুপুরের ঘুম নষ্ট হয়।
এভাবে পরপর তিন দিন শয়তান তাঁকে বিরক্ত করল, যাতে তিনি রেগে যান। কিন্তু হযরত যুলকিফল (আ) প্রতিবারই অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে তার কথা শুনলেন এবং শান্ত থাকলেন। তিনি বিন্দুমাত্র রাগ করলেন না। অবশেষে শয়তান ব্যর্থ হয়ে নিজের আসল পরিচয় প্রকাশ করে স্বীকার করল যে, সে নবীর ধৈর্য ও ক্রোধ সংবরণ দেখে পরাজিত হয়েছে। এই ঘটনার কারণেই আল্লাহ তাঁকে 'যুলকিফল' বা 'দায়িত্ব পূর্ণকারী' উপাধিতে ভূষিত করেছেন।

হযরত যুলকিফল (আ) বনী ইসরাঈলের একজন নবী ছিলেন। তিনি ওয়াদা করেছিলেন যে, তিনি দিনে রোজা রাখবেন, রাতে ইবাদত করবেন এবং বিচার কার্যে কখনো রাগ করবেন না। ইবলিস শয়তান তাঁকে এই ওয়াদা থেকে বিচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করল। সে এক বৃদ্ধের রূপ ধরে দুপুরে যুলকিফল (আ)-এর বিশ্রামের সময় এসে দরজায় কড়া নাড়ল। নবী তাকে ভেতরে ডাকলেন। বৃদ্ধটি তার ওপর অত্যাচারের দীর্ঘ ও মিথ্যা কাহিনী বলতে শুরু করল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করল যাতে নবীর বিশ্রাম ও দুপুরের ঘুম নষ্ট হয়।
এভাবে পরপর তিন দিন শয়তান তাঁকে বিরক্ত করল, যাতে তিনি রেগে যান। কিন্তু হযরত যুলকিফল (আ) প্রতিবারই অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে তার কথা শুনলেন এবং শান্ত থাকলেন। তিনি বিন্দুমাত্র রাগ করলেন না। অবশেষে শয়তান ব্যর্থ হয়ে নিজের আসল পরিচয় প্রকাশ করে স্বীকার করল যে, সে নবীর ধৈর্য ও ক্রোধ সংবরণ দেখে পরাজিত হয়েছে। এই ঘটনার কারণেই আল্লাহ তাঁকে 'যুলকিফল' বা 'দায়িত্ব পূর্ণকারী' উপাধিতে ভূষিত করেছেন।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 মুক্তির জন্য নিজের সৎলোক হওয়াই যথেষ্ট নয়

📄 মুক্তির জন্য নিজের সৎলোক হওয়াই যথেষ্ট নয়


একবার আল্লাহ তাআলা হযরত ইউশা ইবনে নূন (আ)-এর কাছে ওহী পাঠালেন, 'আমি তোমার জাতির এক লক্ষ লোককে ধ্বংস করব। তাদের মধ্যে চল্লিশ হাজার লোক নেককার এবং ষাট হাজার বদকার।' নবী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আল্লাহ! বদকারদের শাস্তি তো বুঝলাম, কিন্তু নেককারদের কেন ধ্বংস করবেন?'
আল্লাহ তাআলা উত্তর দিলেন, 'কারণ তারা আমার নাফরমানি ও পাপ কাজ দেখেও রাগান্বিত হতো না। তারা পাপীদের সাথে মিলেমিশে চলত এবং পাপাচার বন্ধ করার কোনো চেষ্টা করত না।' এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, সমাজে কেবল নিজে ভালো থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং অন্যায় ও পাপাচারের বিরুদ্ধে সাধ্যমতো প্রতিরোধ গড়ে তোলাও মুমিনের দায়িত্ব। অন্যথায়, আল্লাহর আজাব এলে ভালো-মন্দ সবাই তাতে আক্রান্ত হয়।

একবার আল্লাহ তাআলা হযরত ইউশা ইবনে নূন (আ)-এর কাছে ওহী পাঠালেন, 'আমি তোমার জাতির এক লক্ষ লোককে ধ্বংস করব। তাদের মধ্যে চল্লিশ হাজার লোক নেককার এবং ষাট হাজার বদকার।' নবী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আল্লাহ! বদকারদের শাস্তি তো বুঝলাম, কিন্তু নেককারদের কেন ধ্বংস করবেন?'
আল্লাহ তাআলা উত্তর দিলেন, 'কারণ তারা আমার নাফরমানি ও পাপ কাজ দেখেও রাগান্বিত হতো না। তারা পাপীদের সাথে মিলেমিশে চলত এবং পাপাচার বন্ধ করার কোনো চেষ্টা করত না।' এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, সমাজে কেবল নিজে ভালো থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং অন্যায় ও পাপাচারের বিরুদ্ধে সাধ্যমতো প্রতিরোধ গড়ে তোলাও মুমিনের দায়িত্ব। অন্যথায়, আল্লাহর আজাব এলে ভালো-মন্দ সবাই তাতে আক্রান্ত হয়।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 মসজিদুল আকসা নির্মাণের ঘটনা

📄 মসজিদুল আকসা নির্মাণের ঘটনা


হযরত সুলাইমান (আ) জিনদের মাধ্যমে মসজিদুল আকসার পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন। কাজ শেষ হওয়ার আগেই তিনি বুঝতে পারলেন যে তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে। জিনরা গায়েব জানত না, তাই তারা সুলাইমান (আ)-এর ভয়ে কাজ করত। তিনি ভাবলেন, আমি মারা গেলে জিনরা কাজ বন্ধ করে দেবে। তাই তিনি একটি কাঁচের ঘরে লাঠিতে ভর দিয়ে ইবাদতের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রইলেন এবং সেখানেই তাঁর রুহ কবজ করা হলো।
জিনরা মনে করল তিনি জীবিত আছেন এবং তাদের কাজ তদারকি করছেন। ভয়ে তারা দিনরাত পরিশ্রম করে মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ করল। কাজ শেষ হওয়ার পর একটি উইপোকা তাঁর লাঠিটি খেয়ে ফেলল, ফলে লাঠি ভেঙে তিনি মাটিতে পড়ে গেলেন। তখন জিনরা বুঝতে পারল যে তিনি অনেক আগেই ইন্তেকাল করেছেন। এভাবে আল্লাহর কুদরতে মসজিদুল আকসার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।

হযরত সুলাইমান (আ) জিনদের মাধ্যমে মসজিদুল আকসার পুনর্নির্মাণ কাজ শুরু করেছিলেন। কাজ শেষ হওয়ার আগেই তিনি বুঝতে পারলেন যে তাঁর মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে এসেছে। জিনরা গায়েব জানত না, তাই তারা সুলাইমান (আ)-এর ভয়ে কাজ করত। তিনি ভাবলেন, আমি মারা গেলে জিনরা কাজ বন্ধ করে দেবে। তাই তিনি একটি কাঁচের ঘরে লাঠিতে ভর দিয়ে ইবাদতের ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে রইলেন এবং সেখানেই তাঁর রুহ কবজ করা হলো।
জিনরা মনে করল তিনি জীবিত আছেন এবং তাদের কাজ তদারকি করছেন। ভয়ে তারা দিনরাত পরিশ্রম করে মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ করল। কাজ শেষ হওয়ার পর একটি উইপোকা তাঁর লাঠিটি খেয়ে ফেলল, ফলে লাঠি ভেঙে তিনি মাটিতে পড়ে গেলেন। তখন জিনরা বুঝতে পারল যে তিনি অনেক আগেই ইন্তেকাল করেছেন। এভাবে আল্লাহর কুদরতে মসজিদুল আকসার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 হযরত উযাইর (আ) এর কাহিনী

📄 হযরত উযাইর (আ) এর কাহিনী


হযরত উযাইর (আ) একবার একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যার ঘরবাড়ি ধসে পড়েছিল এবং মানুষের হাড়গোড় ছড়িয়ে ছিল। তিনি মনে মনে ভাবলেন, 'মৃত্যুর পর আল্লাহ কীভাবে এই নগরীকে পুনরায় জীবিত করবেন?' আল্লাহ তাআলা তাঁকে এই বিষয়টি প্রত্যক্ষ করানোর জন্য সেখানেই মৃত্যুদান করলেন এবং তিনি একশ বছর মৃত অবস্থায় পড়ে রইলেন।
একশ বছর পর আল্লাহ তাঁকে জীবিত করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কতদিন এখানে ছিলে?' তিনি বললেন, 'একদিন বা তার কিছু অংশ।' আল্লাহ বললেন, 'না, বরং তুমি একশ বছর অবস্থান করেছ। তোমার খাবারের দিকে তাকাও, তা অবিকৃত আছে। আর তোমার গাধাটির দিকে তাকাও, যার হাড়গুলো পচে গলে গেছে।' এরপর আল্লাহর হুকুমে গাধার হাড়গুলো একত্রিত হলো, তাতে গোশত ও চামড়া লাগল এবং গাধাটি জীবিত হয়ে ডাকতে শুরু করল। এ দৃশ্য দেখে উযাইর (আ) বললেন, 'আমি জানি, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।'

হযরত উযাইর (আ) একবার একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত জনপদ দিয়ে যাচ্ছিলেন, যার ঘরবাড়ি ধসে পড়েছিল এবং মানুষের হাড়গোড় ছড়িয়ে ছিল। তিনি মনে মনে ভাবলেন, 'মৃত্যুর পর আল্লাহ কীভাবে এই নগরীকে পুনরায় জীবিত করবেন?' আল্লাহ তাআলা তাঁকে এই বিষয়টি প্রত্যক্ষ করানোর জন্য সেখানেই মৃত্যুদান করলেন এবং তিনি একশ বছর মৃত অবস্থায় পড়ে রইলেন।
একশ বছর পর আল্লাহ তাঁকে জীবিত করলেন এবং জিজ্ঞেস করলেন, 'তুমি কতদিন এখানে ছিলে?' তিনি বললেন, 'একদিন বা তার কিছু অংশ।' আল্লাহ বললেন, 'না, বরং তুমি একশ বছর অবস্থান করেছ। তোমার খাবারের দিকে তাকাও, তা অবিকৃত আছে। আর তোমার গাধাটির দিকে তাকাও, যার হাড়গুলো পচে গলে গেছে।' এরপর আল্লাহর হুকুমে গাধার হাড়গুলো একত্রিত হলো, তাতে গোশত ও চামড়া লাগল এবং গাধাটি জীবিত হয়ে ডাকতে শুরু করল। এ দৃশ্য দেখে উযাইর (আ) বললেন, 'আমি জানি, নিশ্চয়ই আল্লাহ সর্ববিষয়ে সর্বশক্তিমান।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00