📄 একজন আরব শেখের মহানুভবতা
এক আরব দলপতি বা শেখ তাঁর তাঁবুর সামনে বসে ছিলেন। এমন সময় এক লোক হন্তদন্ত হয়ে দৌড়ে এসে তাঁর কাছে আশ্রয় চাইল। শেখ তাকে আশ্রয় দিলেন। কিছুক্ষণ পর শেখের লোকেরা একটি মৃতদেহ বহন করে নিয়ে এল। দেখা গেল, নিহত ব্যক্তিটি শেখের নিজেরই পুত্র। আর আশ্রয়প্রার্থী লোকটিই ভুলবশত তাকে হত্যা করেছে।
লোকটি ভয়ে কাঁপতে লাগল। কিন্তু শেখ তাকে অভয় দিয়ে বললেন, 'তুমি আমার মেহমান এবং আমি তোমাকে নিরাপত্তা দিয়েছি। আমার পুত্রের মৃত্যুতে আমি শোকাহত, কিন্তু তাই বলে আমি আমার ওয়াদা ভঙ্গ করতে পারি না।' শেখ তাকে ক্ষমা করে দিলেন এবং নিরাপদে চলে যাওয়ার জন্য বাহন ও পাথেয় ব্যবস্থা করে দিলেন। আরবের মরুভূমিতে এই ঘটনা আজও মহানুভবতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হয়ে আছে।
এক আরব দলপতি বা শেখ তাঁর তাঁবুর সামনে বসে ছিলেন। এমন সময় এক লোক হন্তদন্ত হয়ে দৌড়ে এসে তাঁর কাছে আশ্রয় চাইল। শেখ তাকে আশ্রয় দিলেন। কিছুক্ষণ পর শেখের লোকেরা একটি মৃতদেহ বহন করে নিয়ে এল। দেখা গেল, নিহত ব্যক্তিটি শেখের নিজেরই পুত্র। আর আশ্রয়প্রার্থী লোকটিই ভুলবশত তাকে হত্যা করেছে।
লোকটি ভয়ে কাঁপতে লাগল। কিন্তু শেখ তাকে অভয় দিয়ে বললেন, 'তুমি আমার মেহমান এবং আমি তোমাকে নিরাপত্তা দিয়েছি। আমার পুত্রের মৃত্যুতে আমি শোকাহত, কিন্তু তাই বলে আমি আমার ওয়াদা ভঙ্গ করতে পারি না।' শেখ তাকে ক্ষমা করে দিলেন এবং নিরাপদে চলে যাওয়ার জন্য বাহন ও পাথেয় ব্যবস্থা করে দিলেন। আরবের মরুভূমিতে এই ঘটনা আজও মহানুভবতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হয়ে আছে।
📄 দুঃসাহসী বীর বিশর বিন আমরের ইসলাম গ্রহণের কাহিনী
কাদেসিয়ার যুদ্ধের সময়কার ঘটনা। বিশর বিন আমর ছিলেন এক দুর্ধর্ষ খ্রিস্টান আরব সেনাপতি, যিনি পারস্য সম্রাট কিসরার পক্ষে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ও রণকৌশলী। যুদ্ধের ময়দানে তিনি মুসলমানদের ঈমানি জজবা এবং মৃত্যুর প্রতি তাদের নির্ভীকতা দেখে বিস্মিত হন।
বিশেষ করে তিনি লক্ষ্য করলেন, মুসলিম সৈন্যরা দুনিয়ার কোনো সম্পদের লোভে নয়, বরং এক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। তাদের সেনাপতিদের সাদাসিধা জীবন ও ন্যায়পরায়ণতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। একপর্যায়ে যুদ্ধের ময়দানেই তাঁর অন্তরে সত্যের আলো জ্বলে ওঠে। তিনি তরবারি ফেলে দিয়ে ঘোষণা করেন, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল।' তিনি ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমানদের পক্ষে যুদ্ধ শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত শাহাদাত বরণ করেন।
কাদেসিয়ার যুদ্ধের সময়কার ঘটনা। বিশর বিন আমর ছিলেন এক দুর্ধর্ষ খ্রিস্টান আরব সেনাপতি, যিনি পারস্য সম্রাট কিসরার পক্ষে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ও রণকৌশলী। যুদ্ধের ময়দানে তিনি মুসলমানদের ঈমানি জজবা এবং মৃত্যুর প্রতি তাদের নির্ভীকতা দেখে বিস্মিত হন।
বিশেষ করে তিনি লক্ষ্য করলেন, মুসলিম সৈন্যরা দুনিয়ার কোনো সম্পদের লোভে নয়, বরং এক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। তাদের সেনাপতিদের সাদাসিধা জীবন ও ন্যায়পরায়ণতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। একপর্যায়ে যুদ্ধের ময়দানেই তাঁর অন্তরে সত্যের আলো জ্বলে ওঠে। তিনি তরবারি ফেলে দিয়ে ঘোষণা করেন, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল।' তিনি ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমানদের পক্ষে যুদ্ধ শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত শাহাদাত বরণ করেন।
📄 হযরত যুলকিফলের ক্রোধ সংবরণ
হযরত যুলকিফল (আ) বনী ইসরাঈলের একজন নবী ছিলেন। তিনি ওয়াদা করেছিলেন যে, তিনি দিনে রোজা রাখবেন, রাতে ইবাদত করবেন এবং বিচার কার্যে কখনো রাগ করবেন না। ইবলিস শয়তান তাঁকে এই ওয়াদা থেকে বিচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করল। সে এক বৃদ্ধের রূপ ধরে দুপুরে যুলকিফল (আ)-এর বিশ্রামের সময় এসে দরজায় কড়া নাড়ল। নবী তাকে ভেতরে ডাকলেন। বৃদ্ধটি তার ওপর অত্যাচারের দীর্ঘ ও মিথ্যা কাহিনী বলতে শুরু করল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করল যাতে নবীর বিশ্রাম ও দুপুরের ঘুম নষ্ট হয়।
এভাবে পরপর তিন দিন শয়তান তাঁকে বিরক্ত করল, যাতে তিনি রেগে যান। কিন্তু হযরত যুলকিফল (আ) প্রতিবারই অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে তার কথা শুনলেন এবং শান্ত থাকলেন। তিনি বিন্দুমাত্র রাগ করলেন না। অবশেষে শয়তান ব্যর্থ হয়ে নিজের আসল পরিচয় প্রকাশ করে স্বীকার করল যে, সে নবীর ধৈর্য ও ক্রোধ সংবরণ দেখে পরাজিত হয়েছে। এই ঘটনার কারণেই আল্লাহ তাঁকে 'যুলকিফল' বা 'দায়িত্ব পূর্ণকারী' উপাধিতে ভূষিত করেছেন।
হযরত যুলকিফল (আ) বনী ইসরাঈলের একজন নবী ছিলেন। তিনি ওয়াদা করেছিলেন যে, তিনি দিনে রোজা রাখবেন, রাতে ইবাদত করবেন এবং বিচার কার্যে কখনো রাগ করবেন না। ইবলিস শয়তান তাঁকে এই ওয়াদা থেকে বিচ্যুত করার ষড়যন্ত্র করল। সে এক বৃদ্ধের রূপ ধরে দুপুরে যুলকিফল (আ)-এর বিশ্রামের সময় এসে দরজায় কড়া নাড়ল। নবী তাকে ভেতরে ডাকলেন। বৃদ্ধটি তার ওপর অত্যাচারের দীর্ঘ ও মিথ্যা কাহিনী বলতে শুরু করল এবং ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করল যাতে নবীর বিশ্রাম ও দুপুরের ঘুম নষ্ট হয়।
এভাবে পরপর তিন দিন শয়তান তাঁকে বিরক্ত করল, যাতে তিনি রেগে যান। কিন্তু হযরত যুলকিফল (আ) প্রতিবারই অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে তার কথা শুনলেন এবং শান্ত থাকলেন। তিনি বিন্দুমাত্র রাগ করলেন না। অবশেষে শয়তান ব্যর্থ হয়ে নিজের আসল পরিচয় প্রকাশ করে স্বীকার করল যে, সে নবীর ধৈর্য ও ক্রোধ সংবরণ দেখে পরাজিত হয়েছে। এই ঘটনার কারণেই আল্লাহ তাঁকে 'যুলকিফল' বা 'দায়িত্ব পূর্ণকারী' উপাধিতে ভূষিত করেছেন।
📄 মুক্তির জন্য নিজের সৎলোক হওয়াই যথেষ্ট নয়
একবার আল্লাহ তাআলা হযরত ইউশা ইবনে নূন (আ)-এর কাছে ওহী পাঠালেন, 'আমি তোমার জাতির এক লক্ষ লোককে ধ্বংস করব। তাদের মধ্যে চল্লিশ হাজার লোক নেককার এবং ষাট হাজার বদকার।' নবী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আল্লাহ! বদকারদের শাস্তি তো বুঝলাম, কিন্তু নেককারদের কেন ধ্বংস করবেন?'
আল্লাহ তাআলা উত্তর দিলেন, 'কারণ তারা আমার নাফরমানি ও পাপ কাজ দেখেও রাগান্বিত হতো না। তারা পাপীদের সাথে মিলেমিশে চলত এবং পাপাচার বন্ধ করার কোনো চেষ্টা করত না।' এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, সমাজে কেবল নিজে ভালো থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং অন্যায় ও পাপাচারের বিরুদ্ধে সাধ্যমতো প্রতিরোধ গড়ে তোলাও মুমিনের দায়িত্ব। অন্যথায়, আল্লাহর আজাব এলে ভালো-মন্দ সবাই তাতে আক্রান্ত হয়।
একবার আল্লাহ তাআলা হযরত ইউশা ইবনে নূন (আ)-এর কাছে ওহী পাঠালেন, 'আমি তোমার জাতির এক লক্ষ লোককে ধ্বংস করব। তাদের মধ্যে চল্লিশ হাজার লোক নেককার এবং ষাট হাজার বদকার।' নবী অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আল্লাহ! বদকারদের শাস্তি তো বুঝলাম, কিন্তু নেককারদের কেন ধ্বংস করবেন?'
আল্লাহ তাআলা উত্তর দিলেন, 'কারণ তারা আমার নাফরমানি ও পাপ কাজ দেখেও রাগান্বিত হতো না। তারা পাপীদের সাথে মিলেমিশে চলত এবং পাপাচার বন্ধ করার কোনো চেষ্টা করত না।' এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, সমাজে কেবল নিজে ভালো থাকাই যথেষ্ট নয়, বরং অন্যায় ও পাপাচারের বিরুদ্ধে সাধ্যমতো প্রতিরোধ গড়ে তোলাও মুমিনের দায়িত্ব। অন্যথায়, আল্লাহর আজাব এলে ভালো-মন্দ সবাই তাতে আক্রান্ত হয়।