📘 হাদীসের কিসসা 📄 ইমাম আবু হানিফা ও নাস্তিক

📄 ইমাম আবু হানিফা ও নাস্তিক


একবার এক নাস্তিক ঘোষণা দিল যে, এই বিশ্বজগতের কোনো স্রষ্টা নেই, সব কিছু প্রাকৃতিকভাবেই সৃষ্টি হয়েছে। সে তৎকালীন আলেমদের সাথে বিতর্কের আহ্বান জানাল। ইমাম আবু হানিফা (রহ) সেই বিতর্কে অংশ নিতে রাজি হলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে তিনি না এসে বেশ দেরি করে উপস্থিত হলেন। নাস্তিকটি উপহাস করে বলল, 'কি হে, বিতর্কের ভয়ে পালিয়ে ছিলে নাকি?'
ইমাম সাহেব বললেন, 'না ভাই, আমি আসার পথে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখে আটকে গিয়েছিলাম। দেখলাম, নদীর তীরে একা একাই কাঠগুলো জোড়া লেগে তক্তা হচ্ছে, তারপর সেগুলো আপনা-আপনিই একটি সুন্দর নৌকায় পরিণত হলো। এরপর কোনো মাঝি ছাড়াই সেই নৌকা আমাকে নদী পার করে দিল।'
নাস্তিকটি হো হো করে হেসে উঠল এবং বলল, 'আপনি কি পাগল? কেউ কি বিশ্বাস করবে যে নৌকা একা একা তৈরি হতে পারে এবং মাঝি ছাড়া চলতে পারে?'
তখন ইমাম আবু হানিফা (রহ) শান্ত গলায় বললেন, 'যদি একটি ছোট নৌকা কারিগর ছাড়া তৈরি হতে না পারে, তবে এই বিশাল আকাশ, জমিন, সূর্য, চন্দ্র এবং সুশৃঙ্খল মহাবিশ্ব কীভাবে কোনো স্রষ্টা ছাড়া আপনা-আপনি সৃষ্টি হতে পারে?' এই যুক্তি শুনে নাস্তিকটি নিরুত্তর হয়ে গেল এবং সত্য মেনে নিল।

একবার এক নাস্তিক ঘোষণা দিল যে, এই বিশ্বজগতের কোনো স্রষ্টা নেই, সব কিছু প্রাকৃতিকভাবেই সৃষ্টি হয়েছে। সে তৎকালীন আলেমদের সাথে বিতর্কের আহ্বান জানাল। ইমাম আবু হানিফা (রহ) সেই বিতর্কে অংশ নিতে রাজি হলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে তিনি না এসে বেশ দেরি করে উপস্থিত হলেন। নাস্তিকটি উপহাস করে বলল, 'কি হে, বিতর্কের ভয়ে পালিয়ে ছিলে নাকি?'
ইমাম সাহেব বললেন, 'না ভাই, আমি আসার পথে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখে আটকে গিয়েছিলাম। দেখলাম, নদীর তীরে একা একাই কাঠগুলো জোড়া লেগে তক্তা হচ্ছে, তারপর সেগুলো আপনা-আপনিই একটি সুন্দর নৌকায় পরিণত হলো। এরপর কোনো মাঝি ছাড়াই সেই নৌকা আমাকে নদী পার করে দিল।'
নাস্তিকটি হো হো করে হেসে উঠল এবং বলল, 'আপনি কি পাগল? কেউ কি বিশ্বাস করবে যে নৌকা একা একা তৈরি হতে পারে এবং মাঝি ছাড়া চলতে পারে?'
তখন ইমাম আবু হানিফা (রহ) শান্ত গলায় বললেন, 'যদি একটি ছোট নৌকা কারিগর ছাড়া তৈরি হতে না পারে, তবে এই বিশাল আকাশ, জমিন, সূর্য, চন্দ্র এবং সুশৃঙ্খল মহাবিশ্ব কীভাবে কোনো স্রষ্টা ছাড়া আপনা-আপনি সৃষ্টি হতে পারে?' এই যুক্তি শুনে নাস্তিকটি নিরুত্তর হয়ে গেল এবং সত্য মেনে নিল।

📘 হাদীসের কিসসা 📄 কে বেশী দানশীল

📄 কে বেশী দানশীল


একবার হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রা) এক বাগানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন, বাগানের হাবশি গোলামটি দুপুরের খাবার খেতে বসেছে। এমন সময় একটি কুকুর সেখানে এল। গোলামটি তার রুটির একটি টুকরো কুকুরটিকে দিল। কুকুরটি তা খেয়ে ফেলার পর সে আরেকটি টুকরো দিল। এভাবে সে তার তিনটি রুটিই কুকুরটিকে খাইয়ে দিল।
আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার প্রতিদিনের খাবার কতটুকু?' গোলামটি বলল, 'এই তিনটি রুটিই।' তিনি বললেন, 'তাহলে তুমি আজ কী খাবে?' গোলামটি উত্তর দিল, 'আজ উপোস থাকব। মনে হলো এই কুকুরটি অনেক দূর থেকে এসেছে এবং সে খুব ক্ষুধার্ত। তাকে ফিরিয়ে দিতে আমার লজ্জাবোধ হলো।'
এ কথা শুনে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর মুগ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি ভাবলেন, এই গোলাম আমার চেয়েও বেশি দানশীল। তিনি তৎক্ষণাৎ বাগানটি এবং গোলামটিকে মালিকের কাছ থেকে কিনে নিলেন। এরপর গোলামটিকে আজাদ করে দিলেন এবং বাগানটি তাকে উপহার হিসেবে দিয়ে দিলেন।

একবার হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রা) এক বাগানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন, বাগানের হাবশি গোলামটি দুপুরের খাবার খেতে বসেছে। এমন সময় একটি কুকুর সেখানে এল। গোলামটি তার রুটির একটি টুকরো কুকুরটিকে দিল। কুকুরটি তা খেয়ে ফেলার পর সে আরেকটি টুকরো দিল। এভাবে সে তার তিনটি রুটিই কুকুরটিকে খাইয়ে দিল।
আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার প্রতিদিনের খাবার কতটুকু?' গোলামটি বলল, 'এই তিনটি রুটিই।' তিনি বললেন, 'তাহলে তুমি আজ কী খাবে?' গোলামটি উত্তর দিল, 'আজ উপোস থাকব। মনে হলো এই কুকুরটি অনেক দূর থেকে এসেছে এবং সে খুব ক্ষুধার্ত। তাকে ফিরিয়ে দিতে আমার লজ্জাবোধ হলো।'
এ কথা শুনে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর মুগ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি ভাবলেন, এই গোলাম আমার চেয়েও বেশি দানশীল। তিনি তৎক্ষণাৎ বাগানটি এবং গোলামটিকে মালিকের কাছ থেকে কিনে নিলেন। এরপর গোলামটিকে আজাদ করে দিলেন এবং বাগানটি তাকে উপহার হিসেবে দিয়ে দিলেন।

📘 হাদীসের কিসসা 📄 একজন আরব শেখের মহানুভবতা

📄 একজন আরব শেখের মহানুভবতা


এক আরব দলপতি বা শেখ তাঁর তাঁবুর সামনে বসে ছিলেন। এমন সময় এক লোক হন্তদন্ত হয়ে দৌড়ে এসে তাঁর কাছে আশ্রয় চাইল। শেখ তাকে আশ্রয় দিলেন। কিছুক্ষণ পর শেখের লোকেরা একটি মৃতদেহ বহন করে নিয়ে এল। দেখা গেল, নিহত ব্যক্তিটি শেখের নিজেরই পুত্র। আর আশ্রয়প্রার্থী লোকটিই ভুলবশত তাকে হত্যা করেছে।
লোকটি ভয়ে কাঁপতে লাগল। কিন্তু শেখ তাকে অভয় দিয়ে বললেন, 'তুমি আমার মেহমান এবং আমি তোমাকে নিরাপত্তা দিয়েছি। আমার পুত্রের মৃত্যুতে আমি শোকাহত, কিন্তু তাই বলে আমি আমার ওয়াদা ভঙ্গ করতে পারি না।' শেখ তাকে ক্ষমা করে দিলেন এবং নিরাপদে চলে যাওয়ার জন্য বাহন ও পাথেয় ব্যবস্থা করে দিলেন। আরবের মরুভূমিতে এই ঘটনা আজও মহানুভবতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হয়ে আছে।

এক আরব দলপতি বা শেখ তাঁর তাঁবুর সামনে বসে ছিলেন। এমন সময় এক লোক হন্তদন্ত হয়ে দৌড়ে এসে তাঁর কাছে আশ্রয় চাইল। শেখ তাকে আশ্রয় দিলেন। কিছুক্ষণ পর শেখের লোকেরা একটি মৃতদেহ বহন করে নিয়ে এল। দেখা গেল, নিহত ব্যক্তিটি শেখের নিজেরই পুত্র। আর আশ্রয়প্রার্থী লোকটিই ভুলবশত তাকে হত্যা করেছে।
লোকটি ভয়ে কাঁপতে লাগল। কিন্তু শেখ তাকে অভয় দিয়ে বললেন, 'তুমি আমার মেহমান এবং আমি তোমাকে নিরাপত্তা দিয়েছি। আমার পুত্রের মৃত্যুতে আমি শোকাহত, কিন্তু তাই বলে আমি আমার ওয়াদা ভঙ্গ করতে পারি না।' শেখ তাকে ক্ষমা করে দিলেন এবং নিরাপদে চলে যাওয়ার জন্য বাহন ও পাথেয় ব্যবস্থা করে দিলেন। আরবের মরুভূমিতে এই ঘটনা আজও মহানুভবতার শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হয়ে আছে।

📘 হাদীসের কিসসা 📄 দুঃসাহসী বীর বিশর বিন আমরের ইসলাম গ্রহণের কাহিনী

📄 দুঃসাহসী বীর বিশর বিন আমরের ইসলাম গ্রহণের কাহিনী


কাদেসিয়ার যুদ্ধের সময়কার ঘটনা। বিশর বিন আমর ছিলেন এক দুর্ধর্ষ খ্রিস্টান আরব সেনাপতি, যিনি পারস্য সম্রাট কিসরার পক্ষে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ও রণকৌশলী। যুদ্ধের ময়দানে তিনি মুসলমানদের ঈমানি জজবা এবং মৃত্যুর প্রতি তাদের নির্ভীকতা দেখে বিস্মিত হন।
বিশেষ করে তিনি লক্ষ্য করলেন, মুসলিম সৈন্যরা দুনিয়ার কোনো সম্পদের লোভে নয়, বরং এক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। তাদের সেনাপতিদের সাদাসিধা জীবন ও ন্যায়পরায়ণতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। একপর্যায়ে যুদ্ধের ময়দানেই তাঁর অন্তরে সত্যের আলো জ্বলে ওঠে। তিনি তরবারি ফেলে দিয়ে ঘোষণা করেন, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল।' তিনি ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমানদের পক্ষে যুদ্ধ শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত শাহাদাত বরণ করেন।

কাদেসিয়ার যুদ্ধের সময়কার ঘটনা। বিশর বিন আমর ছিলেন এক দুর্ধর্ষ খ্রিস্টান আরব সেনাপতি, যিনি পারস্য সম্রাট কিসরার পক্ষে মুসলমানদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছিলেন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সাহসী ও রণকৌশলী। যুদ্ধের ময়দানে তিনি মুসলমানদের ঈমানি জজবা এবং মৃত্যুর প্রতি তাদের নির্ভীকতা দেখে বিস্মিত হন।
বিশেষ করে তিনি লক্ষ্য করলেন, মুসলিম সৈন্যরা দুনিয়ার কোনো সম্পদের লোভে নয়, বরং এক আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত। তাদের সেনাপতিদের সাদাসিধা জীবন ও ন্যায়পরায়ণতা তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। একপর্যায়ে যুদ্ধের ময়দানেই তাঁর অন্তরে সত্যের আলো জ্বলে ওঠে। তিনি তরবারি ফেলে দিয়ে ঘোষণা করেন, 'আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি আল্লাহ ছাড়া কোনো মাবুদ নেই এবং মুহাম্মদ (সা) আল্লাহর রাসূল।' তিনি ইসলাম গ্রহণ করে মুসলমানদের পক্ষে যুদ্ধ শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত শাহাদাত বরণ করেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px
🎤 ভাষা বেছে নিন
🇧🇩
বাংলা
Bengali
🕌
আরবি
العربية