📘 হাদীসের কিসসা 📄 হযরত উরওয়া ইবনে যুবাইরের পরহেজগারী ও কৃতজ্ঞতা

📄 হযরত উরওয়া ইবনে যুবাইরের পরহেজগারী ও কৃতজ্ঞতা


বিখ্যাত তাবিঈ হযরত উরওয়া ইবনে যুবাইর (রহ) একবার খলিফা ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিকের দরবারে সিরিয়া সফরে যান। পথিমধ্যে তাঁর পায়ে 'গ্যাংগ্রিন' বা পচন রোগ দেখা দেয়। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিলেন যে, পা কেটে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই, নতুবা বিষ সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়বে। পা কাটার সময় তাঁকে বলা হলো কোনো চেতনানাশক ঔষধ সেবন করতে। তিনি বললেন, 'আল্লাহর জিকির ও নামাজই আমার জন্য যথেষ্ট। আমি নামাজে দাঁড়ালে তোমরা পা কেটে ফেলো।'
নামাজরত অবস্থায় তাঁর পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলো, কিন্তু তিনি যন্ত্রণায় একবার 'উহ' শব্দও করলেন না। ঠিক সেই সফরেই তাঁর এক প্রিয় পুত্র ঘোড়ার আস্তাবলে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে। একই সাথে পা হারানো এবং সন্তান হারানোর শোক সত্ত্বেও তিনি আল্লাহর দরবারে হাত তুলে বললেন, 'হে আল্লাহ! আমার চারটি হাত-পা ছিল, তুমি একটি নিয়েছ এবং তিনটি রেখেছ। আমার চারটি পুত্র ছিল, তুমি একটি নিয়েছ এবং তিনটি রেখেছ। তোমারই সমস্ত প্রশংসা। তুমি যা দিয়েছ তার জন্যও শোকর, যা নিয়েছ তার জন্যও শোকর।'

বিখ্যাত তাবিঈ হযরত উরওয়া ইবনে যুবাইর (রহ) একবার খলিফা ওয়ালিদ ইবনে আব্দুল মালিকের দরবারে সিরিয়া সফরে যান। পথিমধ্যে তাঁর পায়ে 'গ্যাংগ্রিন' বা পচন রোগ দেখা দেয়। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিলেন যে, পা কেটে ফেলা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই, নতুবা বিষ সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়বে। পা কাটার সময় তাঁকে বলা হলো কোনো চেতনানাশক ঔষধ সেবন করতে। তিনি বললেন, 'আল্লাহর জিকির ও নামাজই আমার জন্য যথেষ্ট। আমি নামাজে দাঁড়ালে তোমরা পা কেটে ফেলো।'
নামাজরত অবস্থায় তাঁর পা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করা হলো, কিন্তু তিনি যন্ত্রণায় একবার 'উহ' শব্দও করলেন না। ঠিক সেই সফরেই তাঁর এক প্রিয় পুত্র ঘোড়ার আস্তাবলে পড়ে গিয়ে মৃত্যুবরণ করে। একই সাথে পা হারানো এবং সন্তান হারানোর শোক সত্ত্বেও তিনি আল্লাহর দরবারে হাত তুলে বললেন, 'হে আল্লাহ! আমার চারটি হাত-পা ছিল, তুমি একটি নিয়েছ এবং তিনটি রেখেছ। আমার চারটি পুত্র ছিল, তুমি একটি নিয়েছ এবং তিনটি রেখেছ। তোমারই সমস্ত প্রশংসা। তুমি যা দিয়েছ তার জন্যও শোকর, যা নিয়েছ তার জন্যও শোকর।'

📘 হাদীসের কিসসা 📄 ইমাম আবু হানিফার মহানুভবতা

📄 ইমাম আবু হানিফার মহানুভবতা


ইমাম আবু হানিফা (রহ) কাপড়ের ব্যবসা করতেন। একবার তিনি তাঁর কর্মচারীকে এক গাইট কাপড় বিক্রি করতে পাঠালেন এবং বলে দিলেন যে, এই গাইটের একটি কাপড়ে সামান্য খুঁত আছে। ক্রেতাকে যেন অবশ্যই সেই খুঁতটি দেখিয়ে দেওয়া হয়।
কর্মচারীটি বাজারে গিয়ে সবগুলো কাপড় বিক্রি করে দিল, কিন্তু ভুলবশত সেই খুঁতযুক্ত কাপড়টির কথা ক্রেতাকে বলতে ভুলে গেল। ইমাম আবু হানিফা (রহ) যখন জানতে পারলেন যে, খুঁতযুক্ত কাপড়টি ত্রুটির কথা না জানিয়েই বিক্রি করা হয়েছে এবং ক্রেতাকে আর খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়, তখন তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হলেন। তিনি সেই চালানের সমস্ত লভ্য ও মূলধন—প্রায় ত্রিশ হাজার দিরহাম—পুরোটাই গরিবদের মাঝে সদকা করে দিলেন, যাতে তাঁর উপার্জনে বিন্দুমাত্র হারাম বা সন্দেহের মিশ্রণ না থাকে।

ইমাম আবু হানিফা (রহ) কাপড়ের ব্যবসা করতেন। একবার তিনি তাঁর কর্মচারীকে এক গাইট কাপড় বিক্রি করতে পাঠালেন এবং বলে দিলেন যে, এই গাইটের একটি কাপড়ে সামান্য খুঁত আছে। ক্রেতাকে যেন অবশ্যই সেই খুঁতটি দেখিয়ে দেওয়া হয়।
কর্মচারীটি বাজারে গিয়ে সবগুলো কাপড় বিক্রি করে দিল, কিন্তু ভুলবশত সেই খুঁতযুক্ত কাপড়টির কথা ক্রেতাকে বলতে ভুলে গেল। ইমাম আবু হানিফা (রহ) যখন জানতে পারলেন যে, খুঁতযুক্ত কাপড়টি ত্রুটির কথা না জানিয়েই বিক্রি করা হয়েছে এবং ক্রেতাকে আর খুঁজে পাওয়া সম্ভব নয়, তখন তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হলেন। তিনি সেই চালানের সমস্ত লভ্য ও মূলধন—প্রায় ত্রিশ হাজার দিরহাম—পুরোটাই গরিবদের মাঝে সদকা করে দিলেন, যাতে তাঁর উপার্জনে বিন্দুমাত্র হারাম বা সন্দেহের মিশ্রণ না থাকে।

📘 হাদীসের কিসসা 📄 ইমাম আবু হানিফা ও নাস্তিক

📄 ইমাম আবু হানিফা ও নাস্তিক


একবার এক নাস্তিক ঘোষণা দিল যে, এই বিশ্বজগতের কোনো স্রষ্টা নেই, সব কিছু প্রাকৃতিকভাবেই সৃষ্টি হয়েছে। সে তৎকালীন আলেমদের সাথে বিতর্কের আহ্বান জানাল। ইমাম আবু হানিফা (রহ) সেই বিতর্কে অংশ নিতে রাজি হলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে তিনি না এসে বেশ দেরি করে উপস্থিত হলেন। নাস্তিকটি উপহাস করে বলল, 'কি হে, বিতর্কের ভয়ে পালিয়ে ছিলে নাকি?'
ইমাম সাহেব বললেন, 'না ভাই, আমি আসার পথে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখে আটকে গিয়েছিলাম। দেখলাম, নদীর তীরে একা একাই কাঠগুলো জোড়া লেগে তক্তা হচ্ছে, তারপর সেগুলো আপনা-আপনিই একটি সুন্দর নৌকায় পরিণত হলো। এরপর কোনো মাঝি ছাড়াই সেই নৌকা আমাকে নদী পার করে দিল।'
নাস্তিকটি হো হো করে হেসে উঠল এবং বলল, 'আপনি কি পাগল? কেউ কি বিশ্বাস করবে যে নৌকা একা একা তৈরি হতে পারে এবং মাঝি ছাড়া চলতে পারে?'
তখন ইমাম আবু হানিফা (রহ) শান্ত গলায় বললেন, 'যদি একটি ছোট নৌকা কারিগর ছাড়া তৈরি হতে না পারে, তবে এই বিশাল আকাশ, জমিন, সূর্য, চন্দ্র এবং সুশৃঙ্খল মহাবিশ্ব কীভাবে কোনো স্রষ্টা ছাড়া আপনা-আপনি সৃষ্টি হতে পারে?' এই যুক্তি শুনে নাস্তিকটি নিরুত্তর হয়ে গেল এবং সত্য মেনে নিল।

একবার এক নাস্তিক ঘোষণা দিল যে, এই বিশ্বজগতের কোনো স্রষ্টা নেই, সব কিছু প্রাকৃতিকভাবেই সৃষ্টি হয়েছে। সে তৎকালীন আলেমদের সাথে বিতর্কের আহ্বান জানাল। ইমাম আবু হানিফা (রহ) সেই বিতর্কে অংশ নিতে রাজি হলেন। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে তিনি না এসে বেশ দেরি করে উপস্থিত হলেন। নাস্তিকটি উপহাস করে বলল, 'কি হে, বিতর্কের ভয়ে পালিয়ে ছিলে নাকি?'
ইমাম সাহেব বললেন, 'না ভাই, আমি আসার পথে এক অদ্ভুত দৃশ্য দেখে আটকে গিয়েছিলাম। দেখলাম, নদীর তীরে একা একাই কাঠগুলো জোড়া লেগে তক্তা হচ্ছে, তারপর সেগুলো আপনা-আপনিই একটি সুন্দর নৌকায় পরিণত হলো। এরপর কোনো মাঝি ছাড়াই সেই নৌকা আমাকে নদী পার করে দিল।'
নাস্তিকটি হো হো করে হেসে উঠল এবং বলল, 'আপনি কি পাগল? কেউ কি বিশ্বাস করবে যে নৌকা একা একা তৈরি হতে পারে এবং মাঝি ছাড়া চলতে পারে?'
তখন ইমাম আবু হানিফা (রহ) শান্ত গলায় বললেন, 'যদি একটি ছোট নৌকা কারিগর ছাড়া তৈরি হতে না পারে, তবে এই বিশাল আকাশ, জমিন, সূর্য, চন্দ্র এবং সুশৃঙ্খল মহাবিশ্ব কীভাবে কোনো স্রষ্টা ছাড়া আপনা-আপনি সৃষ্টি হতে পারে?' এই যুক্তি শুনে নাস্তিকটি নিরুত্তর হয়ে গেল এবং সত্য মেনে নিল।

📘 হাদীসের কিসসা 📄 কে বেশী দানশীল

📄 কে বেশী দানশীল


একবার হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রা) এক বাগানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন, বাগানের হাবশি গোলামটি দুপুরের খাবার খেতে বসেছে। এমন সময় একটি কুকুর সেখানে এল। গোলামটি তার রুটির একটি টুকরো কুকুরটিকে দিল। কুকুরটি তা খেয়ে ফেলার পর সে আরেকটি টুকরো দিল। এভাবে সে তার তিনটি রুটিই কুকুরটিকে খাইয়ে দিল।
আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার প্রতিদিনের খাবার কতটুকু?' গোলামটি বলল, 'এই তিনটি রুটিই।' তিনি বললেন, 'তাহলে তুমি আজ কী খাবে?' গোলামটি উত্তর দিল, 'আজ উপোস থাকব। মনে হলো এই কুকুরটি অনেক দূর থেকে এসেছে এবং সে খুব ক্ষুধার্ত। তাকে ফিরিয়ে দিতে আমার লজ্জাবোধ হলো।'
এ কথা শুনে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর মুগ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি ভাবলেন, এই গোলাম আমার চেয়েও বেশি দানশীল। তিনি তৎক্ষণাৎ বাগানটি এবং গোলামটিকে মালিকের কাছ থেকে কিনে নিলেন। এরপর গোলামটিকে আজাদ করে দিলেন এবং বাগানটি তাকে উপহার হিসেবে দিয়ে দিলেন।

একবার হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর (রা) এক বাগানের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন, বাগানের হাবশি গোলামটি দুপুরের খাবার খেতে বসেছে। এমন সময় একটি কুকুর সেখানে এল। গোলামটি তার রুটির একটি টুকরো কুকুরটিকে দিল। কুকুরটি তা খেয়ে ফেলার পর সে আরেকটি টুকরো দিল। এভাবে সে তার তিনটি রুটিই কুকুরটিকে খাইয়ে দিল।
আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার প্রতিদিনের খাবার কতটুকু?' গোলামটি বলল, 'এই তিনটি রুটিই।' তিনি বললেন, 'তাহলে তুমি আজ কী খাবে?' গোলামটি উত্তর দিল, 'আজ উপোস থাকব। মনে হলো এই কুকুরটি অনেক দূর থেকে এসেছে এবং সে খুব ক্ষুধার্ত। তাকে ফিরিয়ে দিতে আমার লজ্জাবোধ হলো।'
এ কথা শুনে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে জাফর মুগ্ধ হয়ে গেলেন। তিনি ভাবলেন, এই গোলাম আমার চেয়েও বেশি দানশীল। তিনি তৎক্ষণাৎ বাগানটি এবং গোলামটিকে মালিকের কাছ থেকে কিনে নিলেন। এরপর গোলামটিকে আজাদ করে দিলেন এবং বাগানটি তাকে উপহার হিসেবে দিয়ে দিলেন।

ফন্ট সাইজ
15px
17px