📄 একটি নাকের মূল্য
জাহিলী যুগে কুলাব এর যুদ্ধে আরফাজা ইবন আসাদ (রা)-এর নাক কেটে গিয়েছিল। তিনি তখন রুপা দিয়ে একটি কৃত্রিম নাক তৈরি করে নিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর সেই রুপার নাকে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হলো এবং তা ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ল।
বিষয়টি তিনি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে জানালেন। তখন নবীজি (সা) তাকে স্বর্ণ দিয়ে নাক তৈরি করার অনুমতি দিলেন। যদিও পুরুষদের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হারাম, কিন্তু বিশেষ প্রয়োজনে বা চিকিৎসার স্বার্থে শরীয়ত তা ব্যবহারের অনুমতি দেয়। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ তাআলা মানুষের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও প্রয়োজনকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন এবং শরীয়তের বিধান কতটা বিজ্ঞানসম্মত ও মানবিক।
📄 পশুপাখীর প্রতি দয়া মুমিনের কর্তব্য
রাসূলুল্লাহ (সা) একদিন সাহাবীদের একটি ঘটনা শোনালেন। এক ব্যক্তি পথ দিয়ে যাচ্ছিল। সে প্রচণ্ড পিপাসার্ত ছিল। সে একটি কূপে নেমে পানি পান করল। উপরে উঠে সে দেখল, একটি কুকুর পিপাসায় কাতর হয়ে কাদা চাটছে। লোকটি ভাবল, 'আমার যেমন পিপাসা লেগেছিল, কুকুরটিরও তেমনি পিপাসা লেগেছে।' সে আবার কূপে নামল, নিজের চামড়ার মোজায় পানি ভরে মুখ দিয়ে কামড়ে ধরে উপরে উঠে এল এবং কুকুরটিকে পানি পান করাল। আল্লাহ তাআলা তার এই কাজ পছন্দ করলেন এবং তাকে ক্ষমা করে দিলেন।
সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! জীবজন্তুর ওপর দয়া করলেও কি আমাদের সওয়াব হবে?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, প্রত্যেক সজীব প্রাণীর সেবায় সওয়াব রয়েছে।' পক্ষান্তরে, এক মহিলাকে কেবল একটি বিড়ালের কারণে জাহান্নামে যেতে হয়েছিল, কারণ সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল; খেতেও দেয়নি, আবার ছেড়েও দেয়নি যাতে সে নিজে পোকামাকড় ধরে খেতে পারে।
📄 খোদাভীরু সাহাবীর অলৌকিকভাবে জীবন রক্ষা
হযরত সাফিনা (রা) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (সা)-এর একজন সাহাবী। একবার তিনি রোম অভিযানে গিয়ে দলছুট হয়ে পথ হারিয়ে ফেলেন এবং এক গভীর জঙ্গলে গিয়ে পড়েন। হঠাৎ একটি ভয়ংকর বাঘ বা সিংহ তার সামনে এসে পথ রোধ করে দাঁড়াল। সাফিনা (রা) বাঘটিকে দেখে ভয় পেলেন না। তিনি বাঘের কাছে গিয়ে বললেন, 'হে বাঘ! আমি সাফিনা, রাসূলুল্লাহ (সা)-এর গোলাম। আমি পথ হারিয়ে ফেলেছি।'
আশ্চর্যের বিষয় হলো, বাঘটি তার ওপর আক্রমণ করল না। বরং সে লেজ নেড়ে তাঁর গা ঘেঁষে দাঁড়াল এবং তাঁকে পথ দেখিয়ে দলের কাছে পৌঁছে দিল। মুমিনের খোদাভীতি ও আল্লাহর রাসূলের প্রতি গভীর ভালোবাসার কারণে আল্লাহ তাআলা হিংস্র পশুকেও তাঁর অনুগত করে দিয়েছিলেন। এটি ছিল সাহাবীদের জীবনের এক অলৌকিক ঘটনা বা কারামত।
📄 ওমর ইবনে আব্দুল আযীযের ন্যায়বিচার
হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহ) যখন খলিফা হলেন, তখন তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবন যাপন করতেন। একদিন রাতে তিনি রাজকার্য পরিচালনা করছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় বাতি জ্বালিয়ে কাজ করছিলেন। এমন সময় এক মেহমান তাঁর সাথে দেখা করতে এলেন। খলিফা মেহমানকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি কি কোনো রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে এসেছেন, নাকি ব্যক্তিগত কাজে?'
মেহমান জানালেন যে তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এসেছেন। এ কথা শোনা মাত্রই খলিফা ফুঁ দিয়ে রাষ্ট্রীয় বাতিটি নিভিয়ে দিলেন এবং নিজের পয়সায় কেনা একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে নিলেন। মেহমান অবাক হয়ে এর কারণ জানতে চাইলেন। খলিফা বললেন, 'এতক্ষণ আমি রাষ্ট্রের কাজ করছিলাম, তাই রাষ্ট্রের তেল পুড়ছিলাম। এখন আপনার সাথে আমার ব্যক্তিগত আলাপ হবে, তাই রাষ্ট্রের আলো ব্যবহার করা আমার জন্য জায়েজ নয়।' এটাই ছিল ওমর ইবনে আব্দুল আযীযের ন্যায়বিচার ও খোদাভীতির দৃষ্টান্ত।
হযরত ওমর ইবনে আব্দুল আযীয (রহ) যখন খলিফা হলেন, তখন তিনি অত্যন্ত সাধারণ জীবন যাপন করতেন। একদিন রাতে তিনি রাজকার্য পরিচালনা করছিলেন এবং রাষ্ট্রীয় বাতি জ্বালিয়ে কাজ করছিলেন। এমন সময় এক মেহমান তাঁর সাথে দেখা করতে এলেন। খলিফা মেহমানকে জিজ্ঞেস করলেন, 'আপনি কি কোনো রাষ্ট্রীয় প্রয়োজনে এসেছেন, নাকি ব্যক্তিগত কাজে?'
মেহমান জানালেন যে তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে এসেছেন। এ কথা শোনা মাত্রই খলিফা ফুঁ দিয়ে রাষ্ট্রীয় বাতিটি নিভিয়ে দিলেন এবং নিজের পয়সায় কেনা একটি মোমবাতি জ্বালিয়ে নিলেন। মেহমান অবাক হয়ে এর কারণ জানতে চাইলেন। খলিফা বললেন, 'এতক্ষণ আমি রাষ্ট্রের কাজ করছিলাম, তাই রাষ্ট্রের তেল পুড়ছিলাম। এখন আপনার সাথে আমার ব্যক্তিগত আলাপ হবে, তাই রাষ্ট্রের আলো ব্যবহার করা আমার জন্য জায়েজ নয়।' এটাই ছিল ওমর ইবনে আব্দুল আযীযের ন্যায়বিচার ও খোদাভীতির দৃষ্টান্ত।