📄 রাখাল ছেলের খোদাভীতি
একবার হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) মদীনার অদূরে এক মরুভূমি দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন এক রাখাল বালক মেষ চড়াচ্ছে। তিনি বালকটিকে পরীক্ষা করার জন্য বললেন, 'তোমার এই মেষপাল থেকে একটি মেষ আমার কাছে বিক্রি করো।'
বালকটি উত্তর দিল, 'আমি তো মালিক নই, আমি কেবল একজন রাখাল বা গোলাম।' ইবন উমর (রা) বললেন, 'তোমার মালিক তো এখানে নেই। তুমি তাকে গিয়ে বলবে যে একটি মেষ বাঘে খেয়ে ফেলেছে। সে তো আর জানবে না।'
এই কথা শুনে রাখাল বালকটি আকাশের দিকে আঙুল তুলে চিৎকার করে বলল, 'ফা আইনাল্লাহ?' অর্থাৎ, 'তাহলে আল্লাহ কোথায়?'
বালকটির এই খোদাভীতি ও তাকওয়া দেখে হযরত ইবন উমর (রা) অভিভূত হয়ে গেলেন। তিনি পরে সেই বালককে তার মালিকের কাছ থেকে কিনে নিয়ে মুক্ত করে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, 'তোমার এই কথাটি তোমাকে দুনিয়াতে আজাদী দিয়েছে এবং আশা করি আখিরাতেও তোমাকে মুক্তি দেবে।'
📄 প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর পথে দান করা
হযরত আবু তালহা (রা) ছিলেন মদীনার অন্যতম বিত্তশালী আনসার। মসজিদে নববীল সামনে 'বাইরুহা' নামে তাঁর একটি অত্যন্ত প্রিয় বাগান ছিল। রাসূলুল্লাহ (সা)-ও মাঝে মাঝে সেখানে যেতেন এবং এর সুপেয় পানি পান করতেন। যখন কুরআনের আয়াত নাযিল হলো—'তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু আল্লাহর পথে ব্যয় করবে', তখন আবু তালহা (রা) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! বাইরুহা বাগানটি আমার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ। আমি এটি আল্লাহর পথে দান করে দিলাম।'
রাসূলুল্লাহ (সা) খুব খুশি হলেন এবং বললেন, 'বাঃ! এটি তো অত্যন্ত লাভজনক সম্পদ।' সাহাবীরা এভাবেই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু অকাতরে বিলিয়ে দিতেন।
📄 একটি নাকের মূল্য
জাহিলী যুগে কুলাব এর যুদ্ধে আরফাজা ইবন আসাদ (রা)-এর নাক কেটে গিয়েছিল। তিনি তখন রুপা দিয়ে একটি কৃত্রিম নাক তৈরি করে নিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর সেই রুপার নাকে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হলো এবং তা ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ল।
বিষয়টি তিনি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে জানালেন। তখন নবীজি (সা) তাকে স্বর্ণ দিয়ে নাক তৈরি করার অনুমতি দিলেন। যদিও পুরুষদের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হারাম, কিন্তু বিশেষ প্রয়োজনে বা চিকিৎসার স্বার্থে শরীয়ত তা ব্যবহারের অনুমতি দেয়। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ তাআলা মানুষের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও প্রয়োজনকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন এবং শরীয়তের বিধান কতটা বিজ্ঞানসম্মত ও মানবিক।
📄 পশুপাখীর প্রতি দয়া মুমিনের কর্তব্য
রাসূলুল্লাহ (সা) একদিন সাহাবীদের একটি ঘটনা শোনালেন। এক ব্যক্তি পথ দিয়ে যাচ্ছিল। সে প্রচণ্ড পিপাসার্ত ছিল। সে একটি কূপে নেমে পানি পান করল। উপরে উঠে সে দেখল, একটি কুকুর পিপাসায় কাতর হয়ে কাদা চাটছে। লোকটি ভাবল, 'আমার যেমন পিপাসা লেগেছিল, কুকুরটিরও তেমনি পিপাসা লেগেছে।' সে আবার কূপে নামল, নিজের চামড়ার মোজায় পানি ভরে মুখ দিয়ে কামড়ে ধরে উপরে উঠে এল এবং কুকুরটিকে পানি পান করাল। আল্লাহ তাআলা তার এই কাজ পছন্দ করলেন এবং তাকে ক্ষমা করে দিলেন।
সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! জীবজন্তুর ওপর দয়া করলেও কি আমাদের সওয়াব হবে?' তিনি বললেন, 'হ্যাঁ, প্রত্যেক সজীব প্রাণীর সেবায় সওয়াব রয়েছে।' পক্ষান্তরে, এক মহিলাকে কেবল একটি বিড়ালের কারণে জাহান্নামে যেতে হয়েছিল, কারণ সে বিড়ালটিকে বেঁধে রেখেছিল; খেতেও দেয়নি, আবার ছেড়েও দেয়নি যাতে সে নিজে পোকামাকড় ধরে খেতে পারে।