📘 হাদীসের কিসসা > 📄 মোনাফেকীর পরিণাম

📄 মোনাফেকীর পরিণাম


মদীনার মুনাফিকরা বাহ্যিকভাবে মুসলমান হওয়ার ভান করত, কিন্তু অন্তরে তারা ছিল ইসলামের চরম শত্রু। তারা বিভিন্ন সময় রাসূলুল্লাহ (সা)-এর বিরোধিতা করত এবং সাহাবীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করত। আবদুল্লাহ ইবন উবাই ছিল তাদের নেতা। আল্লাহ তাআলা কুরআনে মুনাফিকদের জন্য জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরের শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন। দুনিয়াতেও তারা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়েছে। বিশ্বাসে কপটতা বা মোনাফেকী মুমিনের চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত এবং এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 রাখাল ছেলের খোদাভীতি

📄 রাখাল ছেলের খোদাভীতি


একবার হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) মদীনার অদূরে এক মরুভূমি দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন এক রাখাল বালক মেষ চড়াচ্ছে। তিনি বালকটিকে পরীক্ষা করার জন্য বললেন, 'তোমার এই মেষপাল থেকে একটি মেষ আমার কাছে বিক্রি করো।'
বালকটি উত্তর দিল, 'আমি তো মালিক নই, আমি কেবল একজন রাখাল বা গোলাম।' ইবন উমর (রা) বললেন, 'তোমার মালিক তো এখানে নেই। তুমি তাকে গিয়ে বলবে যে একটি মেষ বাঘে খেয়ে ফেলেছে। সে তো আর জানবে না।'
এই কথা শুনে রাখাল বালকটি আকাশের দিকে আঙুল তুলে চিৎকার করে বলল, 'ফা আইনাল্লাহ?' অর্থাৎ, 'তাহলে আল্লাহ কোথায়?'
বালকটির এই খোদাভীতি ও তাকওয়া দেখে হযরত ইবন উমর (রা) অভিভূত হয়ে গেলেন। তিনি পরে সেই বালককে তার মালিকের কাছ থেকে কিনে নিয়ে মুক্ত করে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, 'তোমার এই কথাটি তোমাকে দুনিয়াতে আজাদী দিয়েছে এবং আশা করি আখিরাতেও তোমাকে মুক্তি দেবে।'

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর পথে দান করা

📄 প্রিয় বস্তুকে আল্লাহর পথে দান করা


হযরত আবু তালহা (রা) ছিলেন মদীনার অন্যতম বিত্তশালী আনসার। মসজিদে নববীল সামনে 'বাইরুহা' নামে তাঁর একটি অত্যন্ত প্রিয় বাগান ছিল। রাসূলুল্লাহ (সা)-ও মাঝে মাঝে সেখানে যেতেন এবং এর সুপেয় পানি পান করতেন। যখন কুরআনের আয়াত নাযিল হলো—'তোমরা ততক্ষণ পর্যন্ত পুণ্য লাভ করতে পারবে না, যতক্ষণ না তোমরা তোমাদের প্রিয় বস্তু আল্লাহর পথে ব্যয় করবে', তখন আবু তালহা (রা) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে এসে বললেন, 'হে আল্লাহর রাসূল! বাইরুহা বাগানটি আমার সবচেয়ে প্রিয় সম্পদ। আমি এটি আল্লাহর পথে দান করে দিলাম।'
রাসূলুল্লাহ (সা) খুব খুশি হলেন এবং বললেন, 'বাঃ! এটি তো অত্যন্ত লাভজনক সম্পদ।' সাহাবীরা এভাবেই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের সবচেয়ে প্রিয় বস্তু অকাতরে বিলিয়ে দিতেন।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 একটি নাকের মূল্য

📄 একটি নাকের মূল্য


জাহিলী যুগে কুলাব এর যুদ্ধে আরফাজা ইবন আসাদ (রা)-এর নাক কেটে গিয়েছিল। তিনি তখন রুপা দিয়ে একটি কৃত্রিম নাক তৈরি করে নিলেন। কিন্তু কিছুদিন পর সেই রুপার নাকে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হলো এবং তা ব্যবহারের অনুপযুক্ত হয়ে পড়ল।
বিষয়টি তিনি রাসূলুল্লাহ (সা)-কে জানালেন। তখন নবীজি (সা) তাকে স্বর্ণ দিয়ে নাক তৈরি করার অনুমতি দিলেন। যদিও পুরুষদের জন্য স্বর্ণ ব্যবহার হারাম, কিন্তু বিশেষ প্রয়োজনে বা চিকিৎসার স্বার্থে শরীয়ত তা ব্যবহারের অনুমতি দেয়। এই ঘটনা থেকে বোঝা যায়, আল্লাহ তাআলা মানুষের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ও প্রয়োজনকে কতটা গুরুত্ব দিয়েছেন এবং শরীয়তের বিধান কতটা বিজ্ঞানসম্মত ও মানবিক।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00