📘 হাদীসের কিসসা > 📄 ভিক্ষাবৃত্তি একটি কলংক

📄 ভিক্ষাবৃত্তি একটি কলংক


একবার এক আনসারী সাহাবী রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে কিছু সাহায্য চাইতে এলেন। নবীজি (সা) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার ঘরে কি কিছুই নেই?' সাহাবী বললেন, 'আছে, একটি কম্বল ও একটি পেয়ালা।' নবীজি (সা) সেই জিনিস দুটি আনিয়ে নিলামে বিক্রি করে দিলেন এবং সেই টাকা দিয়ে সাহাবীকে একটি কুড়াল ও কিছু খাবার কিনে দিলেন। তিনি বললেন, 'যাও, জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করো।'
পনেরো দিন পর সেই সাহাবী ফিরে এসে জানালেন যে, তিনি নিজের উপার্জনে বেশ ভালো আছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, 'কিয়ামতের দিন চেহারায় ভিক্ষাবৃত্তির কলংক নিয়ে ওঠার চেয়ে এটা কি তোমার জন্য উত্তম নয়?' ইসলামে ভিক্ষাবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং নিজ হাতে উপার্জনকে সর্বোৎকৃষ্ট বলা হয়েছে।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 পরোপকারী মানুষই শ্রেষ্ঠ মানুষ

📄 পরোপকারী মানুষই শ্রেষ্ঠ মানুষ


রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, 'মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠ, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।' মুমিন কেবল নিজের স্বার্থ দেখে না, সে অন্যের উপকারে এগিয়ে আসে। ইয়ারমুকের যুদ্ধের ময়দানে মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়েও সাহাবীরা একে অপরকে পানি পানের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। নিজেরা পিপাসার্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন, তবুও অন্য ভাইয়ের পিপাসা মেটানোকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এই আত্মত্যাগ ও পরোপকারই হলো ইসলামের শিক্ষা এবং মুমিনের ভূষণ।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 মোনাফেকীর পরিণাম

📄 মোনাফেকীর পরিণাম


মদীনার মুনাফিকরা বাহ্যিকভাবে মুসলমান হওয়ার ভান করত, কিন্তু অন্তরে তারা ছিল ইসলামের চরম শত্রু। তারা বিভিন্ন সময় রাসূলুল্লাহ (সা)-এর বিরোধিতা করত এবং সাহাবীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করত। আবদুল্লাহ ইবন উবাই ছিল তাদের নেতা। আল্লাহ তাআলা কুরআনে মুনাফিকদের জন্য জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরের শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন। দুনিয়াতেও তারা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়েছে। বিশ্বাসে কপটতা বা মোনাফেকী মুমিনের চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত এবং এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 রাখাল ছেলের খোদাভীতি

📄 রাখাল ছেলের খোদাভীতি


একবার হযরত আবদুল্লাহ ইবন উমর (রা) মদীনার অদূরে এক মরুভূমি দিয়ে যাচ্ছিলেন। তিনি দেখলেন এক রাখাল বালক মেষ চড়াচ্ছে। তিনি বালকটিকে পরীক্ষা করার জন্য বললেন, 'তোমার এই মেষপাল থেকে একটি মেষ আমার কাছে বিক্রি করো।'
বালকটি উত্তর দিল, 'আমি তো মালিক নই, আমি কেবল একজন রাখাল বা গোলাম।' ইবন উমর (রা) বললেন, 'তোমার মালিক তো এখানে নেই। তুমি তাকে গিয়ে বলবে যে একটি মেষ বাঘে খেয়ে ফেলেছে। সে তো আর জানবে না।'
এই কথা শুনে রাখাল বালকটি আকাশের দিকে আঙুল তুলে চিৎকার করে বলল, 'ফা আইনাল্লাহ?' অর্থাৎ, 'তাহলে আল্লাহ কোথায়?'
বালকটির এই খোদাভীতি ও তাকওয়া দেখে হযরত ইবন উমর (রা) অভিভূত হয়ে গেলেন। তিনি পরে সেই বালককে তার মালিকের কাছ থেকে কিনে নিয়ে মুক্ত করে দিয়েছিলেন এবং বলেছিলেন, 'তোমার এই কথাটি তোমাকে দুনিয়াতে আজাদী দিয়েছে এবং আশা করি আখিরাতেও তোমাকে মুক্তি দেবে।'

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00