📄 কুফরীর আস্তাকুঁড়ে ঈমানের রক্ত গোলাপ
ফিরআউনের স্ত্রী আছিয়া এবং ফিরআউনের কন্যার বাদি মাশিতার ঘটনা ইতিহাসের এক করুণ অথচ ঈমানদীপ্ত অধ্যায়। ফিরআউন নিজেকে খোদা দাবি করলেও তার স্ত্রী আছিয়া গোপনে এক আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছিলেন। যখন ফিরআউন তা জানতে পারল, তখন সে আছিয়ার ওপর অকথ্য নির্যাতন চালাল। কিন্তু আছিয়া (আ) ঈমান ত্যাগ করেননি। তিনি আল্লাহর কাছে জান্নাতে একটি গৃহের প্রার্থনা করেছিলেন।
একইভাবে, মাশিতার হাত থেকে চিরুনি পড়ে গেলে তিনি 'বিসমিল্লাহ' বলে তা তুলে নেন। এতে ফিরআউনের মেয়ে জেনে যায় যে মাশিতা তার পিতাকে খোদা মানে না। ফিরআউন মাশিতা ও তার সন্তানদের জ্বলন্ত তেলের কড়াইয়ে নিক্ষেপ করে হত্যা করে। তবুও মাশিতা ঈমান থেকে এক চুলও নড়েননি। কুফরীর অন্ধকার প্রাসাদে থেকেও তাঁরা ছিলেন ঈমানের ফুটন্ত রক্ত গোলাপ।
📄 ভিক্ষাবৃত্তি একটি কলংক
একবার এক আনসারী সাহাবী রাসূলুল্লাহ (সা)-এর কাছে কিছু সাহায্য চাইতে এলেন। নবীজি (সা) তাকে জিজ্ঞেস করলেন, 'তোমার ঘরে কি কিছুই নেই?' সাহাবী বললেন, 'আছে, একটি কম্বল ও একটি পেয়ালা।' নবীজি (সা) সেই জিনিস দুটি আনিয়ে নিলামে বিক্রি করে দিলেন এবং সেই টাকা দিয়ে সাহাবীকে একটি কুড়াল ও কিছু খাবার কিনে দিলেন। তিনি বললেন, 'যাও, জঙ্গল থেকে কাঠ কেটে বাজারে বিক্রি করো।'
পনেরো দিন পর সেই সাহাবী ফিরে এসে জানালেন যে, তিনি নিজের উপার্জনে বেশ ভালো আছেন। তখন রাসূলুল্লাহ (সা) বললেন, 'কিয়ামতের দিন চেহারায় ভিক্ষাবৃত্তির কলংক নিয়ে ওঠার চেয়ে এটা কি তোমার জন্য উত্তম নয়?' ইসলামে ভিক্ষাবৃত্তিকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং নিজ হাতে উপার্জনকে সর্বোৎকৃষ্ট বলা হয়েছে।
📄 পরোপকারী মানুষই শ্রেষ্ঠ মানুষ
রাসূলুল্লাহ (সা) বলেছেন, 'মানুষের মধ্যে সেই ব্যক্তিই শ্রেষ্ঠ, যে মানুষের জন্য সবচেয়ে বেশি উপকারী।' মুমিন কেবল নিজের স্বার্থ দেখে না, সে অন্যের উপকারে এগিয়ে আসে। ইয়ারমুকের যুদ্ধের ময়দানে মৃত্যুর দুয়ারে দাঁড়িয়েও সাহাবীরা একে অপরকে পানি পানের সুযোগ করে দিয়েছিলেন। নিজেরা পিপাসার্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেছেন, তবুও অন্য ভাইয়ের পিপাসা মেটানোকে প্রাধান্য দিয়েছেন। এই আত্মত্যাগ ও পরোপকারই হলো ইসলামের শিক্ষা এবং মুমিনের ভূষণ।
📄 মোনাফেকীর পরিণাম
মদীনার মুনাফিকরা বাহ্যিকভাবে মুসলমান হওয়ার ভান করত, কিন্তু অন্তরে তারা ছিল ইসলামের চরম শত্রু। তারা বিভিন্ন সময় রাসূলুল্লাহ (সা)-এর বিরোধিতা করত এবং সাহাবীদের মনোবল ভেঙে দেওয়ার চেষ্টা করত। আবদুল্লাহ ইবন উবাই ছিল তাদের নেতা। আল্লাহ তাআলা কুরআনে মুনাফিকদের জন্য জাহান্নামের সর্বনিম্ন স্তরের শাস্তির ঘোষণা দিয়েছেন। দুনিয়াতেও তারা লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়েছে। বিশ্বাসে কপটতা বা মোনাফেকী মুমিনের চরিত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত এবং এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ।