📄 মুমিনের আত্মসংযম
হযরত আলী (রা)-এর একটি ঘটনা। এক যুদ্ধে তিনি এক কাফিরকে পরাস্ত করে তার বুকের ওপর চড়ে বসলেন। তিনি যখন তাকে হত্যা করতে উদ্যত হলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে কাফিরটি হযরত আলীর মুখে থুথু নিক্ষেপ করল। হযরত আলী (রা) তৎক্ষণাৎ তাকে ছেড়ে দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। কাফিরটি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, 'আমাকে হত্যা না করে ছেড়ে দিলেন কেন?'
উত্তরে হযরত আলী (রা) বললেন, 'আমি এতক্ষণ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তোমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখন তুমি আমার মুখে থুথু দিলে, তখন আমার ব্যক্তিগত ক্রোধ জাগ্রত হলো। এখন তোমাকে হত্যা করলে তা আল্লাহর জন্য হবে না, বরং আমার নিজের রাগের বশবর্তী হয়ে হবে। তাই আমি তোমাকে ছেড়ে দিলাম।'
এই ঘটনাটি মুমিনের আত্মসংযমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ব্যক্তিগত আবেগ ও ক্রোধকে দমন করে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করাই হলো প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
📄 মুমিনের আত্মসমালোচনা
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) বলতেন, 'তোমরা নিজেদের হিসাব নিজেরা নাও, তোমাদের হিসাব নেওয়ার আগে। আর নিজেদের আমল মেপে নাও, তোমাদের আমল মাপা হওয়ার আগে।'
মুমিন ব্যক্তি প্রতিদিন ঘুমানোর আগে তার সারাদিনের কাজের হিসাব নেয়। সে চিন্তা করে, আজ আমি কী কী ভালো কাজ করেছি এবং কী কী ভুল করেছি। যদি কোনো পাপ হয়ে থাকে, তবে সে তাৎক্ষণিক তওবা করে এবং ভবিষ্যতে তা না করার প্রতিজ্ঞা করে। এই আত্মসমালোচনাই মুমিনকে সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে অটল রাখে এবং পরকালের কঠিন হিসাবের জন্য প্রস্তুত করে।
📄 ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের অগ্নিপরীক্ষায় মুমিনের দৃঢ়তা
খন্দকের যুদ্ধের সময়কার ঘটনা। মদীনার চারপাশে পরিখা খনন করা হচ্ছে। সাহাবীরা তীব্র ক্ষুধা ও কষ্টে ভুগছেন। এমতাবস্থায় হযরত জাবির (রা) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পেটে পাথর বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেলেন। ক্ষুধার জ্বালায় পিঠ যাতে নুয়ে না পড়ে, সেজন্য পেটে পাথর বেঁধে রাখা হয়েছিল।
মুমিনরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করে। তারা অভাবের তাড়নায় কখনও হতাশ হয় না বা হারাম পথে পা বাড়ায় না। বরং তারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে। তাদের বিশ্বাস থাকে যে, কষ্টের পরেই রয়েছে স্বস্তি।
📄 কুফরীর আস্তাকুঁড়ে ঈমানের রক্ত গোলাপ
ফিরআউনের স্ত্রী আছিয়া এবং ফিরআউনের কন্যার বাদি মাশিতার ঘটনা ইতিহাসের এক করুণ অথচ ঈমানদীপ্ত অধ্যায়। ফিরআউন নিজেকে খোদা দাবি করলেও তার স্ত্রী আছিয়া গোপনে এক আল্লাহর ওপর ঈমান এনেছিলেন। যখন ফিরআউন তা জানতে পারল, তখন সে আছিয়ার ওপর অকথ্য নির্যাতন চালাল। কিন্তু আছিয়া (আ) ঈমান ত্যাগ করেননি। তিনি আল্লাহর কাছে জান্নাতে একটি গৃহের প্রার্থনা করেছিলেন।
একইভাবে, মাশিতার হাত থেকে চিরুনি পড়ে গেলে তিনি 'বিসমিল্লাহ' বলে তা তুলে নেন। এতে ফিরআউনের মেয়ে জেনে যায় যে মাশিতা তার পিতাকে খোদা মানে না। ফিরআউন মাশিতা ও তার সন্তানদের জ্বলন্ত তেলের কড়াইয়ে নিক্ষেপ করে হত্যা করে। তবুও মাশিতা ঈমান থেকে এক চুলও নড়েননি। কুফরীর অন্ধকার প্রাসাদে থেকেও তাঁরা ছিলেন ঈমানের ফুটন্ত রক্ত গোলাপ।