📄 মুমিনের আতিথেয়তা
একবার এক ব্যক্তি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এসে বললোঃ আমি অনাহারে আছি। রাসূল (সাঃ) তৎক্ষণাত অন্য এক ব্যক্তিকে নিজের এক স্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে কিছু খাবার আনতে বললেন। কিন্তু রাসূল (সাঃ) এর ঐ স্ত্রী জানালেন যে, তাঁর কাছে পানি ছাড়া আর কিছু নেই। অতঃপর একে একে অন্য সকল স্ত্রীর কাছে খাবার চেয়ে পাঠালেন। কিন্তু প্রত্যেকের কাছ থেকে একই জবাব পেলেন যে, পানি ছাড়া আর কিছুই নেই।
অতঃপর রাসূল (সাঃ) তাঁর সাহাবীগণের কাছে জানতে চাইলেন যে, তোমাদের কারো এই ব্যক্তিকে আজকের রাতের জন্য আতিথেয়তা করার ক্ষমতা আছে কি? আনসারদের একজন বললেন: “হে রাসূল! আমি প্রস্তুত।” তিনি লোকটিকে নিয়ে নিজের পরিবারের কাছে গেলেন এবং তাঁর স্ত্রীকে বললেন: "আল্লাহর রাসূলের মেহমানকে যতন কর।" স্ত্রী বললেন: আমার ছেলেমেয়েদের খাবার ছাড়া আর কিছু নেই। সাহাবী বললেন: বেশ তো, ওদেরকে অন্য কোন বিষয়ের দিকে আকৃষ্ট করে রাখ। তারপর রাতের খাবার চাইলে ঘুম পাড়িয়ে রাখ। আর আমাদের মেহমান খেতে আসলে আলো নিভিয়ে দাও এবং এরূপ ভান কর যেন আমরাও তার সাথে খাচ্ছি। অতঃপর তারা একত্রে বসলেন। কিন্তু শুধু মেহমান তৃপ্ত হয়ে আহার করলো। আর তারা উভয়ে এবং ছেলেমেয়েরা অনাহারে রাত কাটিয়ে দিলেন।
সকাল বেলা তিনি যখন রাসূল (সাঃ) এর নিকট এলেন, তখন দেখলেন, রাসূল (সাঃ) পুরো ঘটনা ওহীর মাধ্যমে জেনে ফেলেছেন। তিনি বললেনঃ তোমরা দু'জনে তোমাদের মেহমানের সাথে রাত্রে যে ব্যবহার করেছ, তাতে আল্লাহ তায়ালা মুগ্ধ হয়েছেন। (বুখারী ও মুসলিম)
শিক্ষা: মেহমানের যত্ন করা ইসলামে অত্যন্ত সওয়াবের কাজ। এমনকি প্রয়োজনে নিজেরা অভুক্ত থেকেও মেহমানকে আপ্যায়ন করানো উচিত।
📄 মুমিনের আত্মসংযম
হযরত আলী (রা)-এর একটি ঘটনা। এক যুদ্ধে তিনি এক কাফিরকে পরাস্ত করে তার বুকের ওপর চড়ে বসলেন। তিনি যখন তাকে হত্যা করতে উদ্যত হলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে কাফিরটি হযরত আলীর মুখে থুথু নিক্ষেপ করল। হযরত আলী (রা) তৎক্ষণাৎ তাকে ছেড়ে দিয়ে উঠে দাঁড়ালেন। কাফিরটি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করল, 'আমাকে হত্যা না করে ছেড়ে দিলেন কেন?'
উত্তরে হযরত আলী (রা) বললেন, 'আমি এতক্ষণ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য তোমাকে হত্যা করতে চেয়েছিলাম। কিন্তু যখন তুমি আমার মুখে থুথু দিলে, তখন আমার ব্যক্তিগত ক্রোধ জাগ্রত হলো। এখন তোমাকে হত্যা করলে তা আল্লাহর জন্য হবে না, বরং আমার নিজের রাগের বশবর্তী হয়ে হবে। তাই আমি তোমাকে ছেড়ে দিলাম।'
এই ঘটনাটি মুমিনের আত্মসংযমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ব্যক্তিগত আবেগ ও ক্রোধকে দমন করে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করাই হলো প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
📄 মুমিনের আত্মসমালোচনা
হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা) বলতেন, 'তোমরা নিজেদের হিসাব নিজেরা নাও, তোমাদের হিসাব নেওয়ার আগে। আর নিজেদের আমল মেপে নাও, তোমাদের আমল মাপা হওয়ার আগে।'
মুমিন ব্যক্তি প্রতিদিন ঘুমানোর আগে তার সারাদিনের কাজের হিসাব নেয়। সে চিন্তা করে, আজ আমি কী কী ভালো কাজ করেছি এবং কী কী ভুল করেছি। যদি কোনো পাপ হয়ে থাকে, তবে সে তাৎক্ষণিক তওবা করে এবং ভবিষ্যতে তা না করার প্রতিজ্ঞা করে। এই আত্মসমালোচনাই মুমিনকে সিরাতুল মুস্তাকিমের পথে অটল রাখে এবং পরকালের কঠিন হিসাবের জন্য প্রস্তুত করে।
📄 ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের অগ্নিপরীক্ষায় মুমিনের দৃঢ়তা
খন্দকের যুদ্ধের সময়কার ঘটনা। মদীনার চারপাশে পরিখা খনন করা হচ্ছে। সাহাবীরা তীব্র ক্ষুধা ও কষ্টে ভুগছেন। এমতাবস্থায় হযরত জাবির (রা) রাসূলুল্লাহ (সা)-এর পেটে পাথর বাঁধা অবস্থায় দেখতে পেলেন। ক্ষুধার জ্বালায় পিঠ যাতে নুয়ে না পড়ে, সেজন্য পেটে পাথর বেঁধে রাখা হয়েছিল।
মুমিনরা ক্ষুধা ও দারিদ্র্যকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হিসেবে গ্রহণ করে। তারা অভাবের তাড়নায় কখনও হতাশ হয় না বা হারাম পথে পা বাড়ায় না। বরং তারা আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলা করে। তাদের বিশ্বাস থাকে যে, কষ্টের পরেই রয়েছে স্বস্তি।