📄 মিথ্যা সকল পাপের জননী
একবার রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট এক ব্যক্তি উপস্থিত হয়ে বললোঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমার মধ্যে তিনটি বদ অভ্যাস রয়েছেঃ মিথ্যা বলা, চুরি করা ও মদ খাওয়া। আমি তিনটি বদ অভ্যাসই ছেড়ে দিতে চাই। কিন্তু এক সাথে এর সব ক'টি ছাড়তে পারছি না। আমাকে এক একটি করে এগুলো পরিত্যাগ করার সুযোগ দিন এবং কোনটি আগে ত্যাগ করবো, তা বলে দিন। রাসূল (সাঃ) একটু চিন্তা করে বললেনঃ তুমি প্রথমে মিথ্যা কথা বলার অভ্যাস ত্যাগ কর। আর এই ত্যাগ করার ওপর বহাল আছ কিনা, তা জানানোর জন্য মাঝে মাঝে আমার কাছে এসো।
সে এতে রাজী হয়ে চলে গেল এবং কোন অবস্থাতেই মিথ্যা বলবে না বলে দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করলো।
রাত্রে সে অভ্যাসমত চুরি করতে বেরিয়ে পড়লো। কেননা এটা সে বাদ দেওয়ার ওয়াদা করেনি। কিন্তু কিছুদূর গেলেই তার মনে হলোঃ রাসূল (সাঃ) এর সাথে দেখা করতে গেলে তিনি যদি চুরি করেছি কিনা জিজ্ঞাসা করেন তা হলে মিথ্যা তো বলা যাবে না। কাজেও সত্য বলে স্বীকারোক্তি দিতে হবে। আর তাহলে রাসূলের (সাঃ) দরবারে অপমান তো সহ্য করতেই হবে। উপরন্তু হাতটাও কাটা যাবে। অনেক ভেবে চিন্তে সে ফিরে এল। চুরি করতে যাওয়া হলো না।
এরপর সে মদ খাওয়ার জন্য গ্লাস হাতে নিয়ে তাতে মদ ঢাললো। কিন্তু মুখে নিতে গিয়ে আবার ঐ একই প্রশ্ন তার মনে উদিত হলো। রাসূল (সাঃ) এর দরবারে তো আজ হোক কাল হোক যেতেই হবে। তিনি যদি জিজ্ঞেস করেন, মদ খাওয়া চলছে কিনা, তাহলে কি জবাব দেব? মিথ্যা তো বলা যাবে না। আর সত্য বললে অপমান ও ৮০ ঘা বেত্র দন্ড। অতএব, মদও সে ছেড়ে দিল।
এভাবে একমাত্র মিথ্যা ছেড়ে দিয়ে সে একে একে সব কয়টি চারিত্রিক দোষ থেকে মুক্তি পেল। রাসূল (সাঃ) সত্যই বলেছেনঃ মিথ্যা হলো সকল পাপের জননী।
শিক্ষাঃ এই ঘটনার মধ্য দিয়ে মানুষকে ইসলামে দীক্ষিত করার একটি অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত চমকপ্রদ কৌ শল শিক্ষা দেয়া হয়েছে। সেই শিক্ষাটি এই যে, ইসলাম বিরোধী কর্মকান্ড ও চরিত্র যখন কারো অভ্যাসে পরিণত হয়ে যায়, তখন তাকে রাতারাতি শুধরে পবিত্র করা সম্ভব হয় না। এজন্য ধীরে ধীরে ও পর্যায়ক্রমে চরিত্র সংশোধনের চেষ্টা করতে হবে। এতে সফলতা লাভ করা সহজতর হবে। এ কথা ব্যক্তির ক্ষেত্রে যেমন সঠিক, জাতির ক্ষেত্রেও তেমনি অভ্রান্ত।
📄 মসজিদে যেরারের ঘটনা
মদীনায় আবু আমের নামে একজন খৃস্টান পাদ্রী বাস করতো। তার ছেলে ছিলেন বিখ্যাত সাহাবী হযরত হানযালা (রাঃ)। শহীদ হওয়ার পর ফেরেস্তারা তাঁকে গোসল দিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর পিতা খৃস্টধর্মের ওপর অবিচল ছিল।
রাসূল (সাঃ) হিজরত করে মদীনায় যাওয়ার পর আবু আমের তাঁর সাথে সাক্ষাত করে ইসলাম সম্পর্কে বিভিন্ন আপত্তি ও সন্দেহ উত্থাপন করে। রাসূল (সাঃ) তার সকল আপত্তির জবাব দেন। কিন্তু তবু সে সন্তুষ্ট হতে পারেনি। সে বললোঃ আমাদের দু'জনের মধ্যে যে মিথ্যুক সে যেন অভিশপ্ত ও আত্মীয় স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় মৃত্যু বরণ করেন। সে রাসূল (সাঃ) কে একথাও জানিয়ে দিল যে, সে রাসূল (সাঃ) এর শত্রুদেরকে সব সময় সাহায্য করতে থাকবে। নিজের এই প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সে বদর থেকে হুনাইন পর্যন্ত সকল যুদ্ধে মুসলমানদের শত্রুদের পক্ষ অবলম্বন করে। হুনায়েনের যুদ্ধে যখন হাওয়াযেনের মত বিশালাকায় গোত্র মুসলমানদের কাছে হেরে গেল, তখন সে ভগ্ন হৃদয়ে তৎকালীন খৃস্টধর্মের ঘাটি সিরিয়ায় চলে যায় এবং আত্মীয় স্বজন থেকে বিচ্ছিন্ন অবস্থায় সেখানেই মৃত্যুবরণ করে। এভাবে তার নিজের বদদোয়া ও অভিশাপ দ্বারা সে নিজেই ঘায়েল হয়।
জীবদ্দশায় আবু আমের পাদ্রী আজীবন ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রুতা করে। এমনকি সে রোম সম্রাটকে মদীনায় আক্রমণ চালিয়ে মুসলমানদের নাম নিশানা মুছে ফেলার প্ররোচনাও দিয়েছিল।
মদীনার মুসলমানদের মধ্যে যারা বর্ণচোরা, ভন্ড ও মোনাফেক ছিল, সর্বকালের ও সর্বদেশের মোনাফেকদের মতই তারাও ইহুদী ও খৃস্টানদের ক্রীড়নক ছিল। বিশেষতঃ আবু আমেরের তারা খুবই ভক্ত ও অনুগত ছিল। আবু আমের এই মোনাফেকদের কাছে চিঠি লিখলো যে, আমি রোম সম্রাটকে মদীনা আক্রমণ করার অনুরোধ জানিয়েছি। কিন্তু সম্রাটের বাহিনীকে সহযোগিতা করে এমন একটি দল মদীনাতেও সংগঠিত হওয়া জরুরী। এ জন্য তোমরা মদীনায় মসজিদের নাম দিয়ে একটি গৃহ নির্মাণ কর, যেন মদীনার মুসলমানদের মনে কোন সন্দেহ সৃষ্টি না হয়। সেই গৃহে নিজেরা সমবেত হও, কিছু অস্ত্র-শস্ত্র ও সাজ-সরঞ্জাম তাতে সংগ্রহ করে রাখ।
তার এ চিঠির ভিত্তিতে বারোজন মোনাফেক মদীনার কোবা মহল্লায় একটি মসজিদ নির্মাণ করলো। এই মহল্লায় রাসূল (সাঃ) হিজরত করে এসে প্রথম অবস্থান করেছিলেন এবং একটি মসজিদ তৈরী করেছিলেন। অতঃপর তারা স্থির করলো যে, ঐ মসজিদে রাসূল (সাঃ) এর দ্বারা এক ওয়াক্ত নামায পড়াবে। এতে মুসলমানদের মনে আর কোন সন্দেহ থাকবে না। তারা বুঝবে এটাও অন্যান্য মসজিদের মতই একটা মসজিদ।
তাদের একটি প্রতিনিধি দল রাসূল (সাঃ) এর সাথে সাক্ষাত করে বুঝালো যে, কোবার বর্তমান মসজিদটি অনেক দূরে অবস্থিত। দুর্বল ও অসুস্থ লোকেরা অত দূরে যেতে পারে না। তাছাড়া ওখানে সব লোকের সংকুলানও হয় না। তাই আমরা আর একটি মসজিদ নির্মাণ করেছি। আপনি এতে এক ওয়াক্ত নামায পড়ে উদ্বোধন করে দিয়ে যান।
রাসূল (সাঃ) তখন তাবুক যুদ্ধের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত ছিলেন। তাই ওয়াদা করলেন যে, যুদ্ধ থেকে ফিরে এসে তিনি ওখানে নামায পড়বেন। কিন্তু তাবুক থেকে ফেরার পথে সূরা তাওবার সংশ্লিষ্ট আয়াত কয়টি নাযিল করে আল্লাহ তাতে নামায পড়তে নিষেধ করলেন এবং তাকে 'মসজিদে যেরার' (ক্ষতিকর মসজিদ) নামে আখ্যায়িত করলেন। রাসূল (সাঃ) এই নির্দেশ অনুসারে নামায তো পড়লেনই না, অধিকন্তু কতিপয় সাহাবীকে পাঠিয়ে দিয়ে মসজিদটি আগুন ধরিয়ে পুড়িয়ে দিলেন।
সূরা তাওবার সংশ্লিষ্ট আয়াতে এই মসজিদকে তিনটি কারণে মসজিদে যেরার বলা হয়েছেঃ এক, তা দ্বারা ইসলামের ক্ষতি সাধন ও কুফরী প্রতিষ্ঠার সংকল্প করা হয়েছিল। দুই, তা দ্বারা মুসলামনদের মধ্যে বিভেদ ও অনৈক্য সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছিল। তিন, সেখানে ইসলামের শত্রুদেরকে আশ্রয় দেয়ার ফন্দি আটা হয়েছিল।
উল্লিখিত তিনটি উদ্দেশ্যে যখন যেখানেই কোন গৃহ নির্মাণ, কোন দল বা প্রতিষ্ঠান গঠন কিংবা আর কোন ধরনের স্থাপনার কাজ করা হবে, তখন তা মসজিদে যেরারেরই পর্যায়ভুক্ত হবে এবং মুসলমানদের কর্তব্য হবে তা প্রথম সুযোগেই ধ্বংস করা, চাই তা সমজিদ বা অন্য কোন আকারেই গঠিত হোক। এ কারণে হযরত ওমর (রাঃ) এক মসজিদের পার্শ্বে আর একটি মসজিদ নির্মাণ করতে নিষেধ করেন। অনুরূপভাবে কোন প্রতিষ্ঠিত ইসলামী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা ইসলাম প্রতিষ্ঠার চেষ্টায় নিয়োজিত দল বা সংগঠনকে ক্ষতিগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে অন্য কোন প্রতিষ্ঠান গঠন করা বৈধ হবে না।
শিক্ষাঃ (১) মুসলমান নাম ধারন করেও ইসলামের চিহ্নিত শত্রুদের আনুগত্য করা সুস্পষ্ট মোনাফেকীর লক্ষণ। (২) অজ্ঞতা বা ভুলবশত কোন অন্যায় কাজের ওয়াদা করলে সেই ওয়াদা ভংগ করা শুধু জায়েজ নয় বরং ওয়াজিবও।
📄 মানুষের পরিণাম তার শেষ কর্মের ওপর নির্ভরশীল
হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণনা করেন যে, আমরা খয়বরের যুদ্ধে রাসূল (সাঃ)-এর সাথে অংশগ্রহণ করেছিলাম। তখন ইসলাম গ্রহণ করেছে বলে দাবী করতো এমন এক ব্যক্তি সম্পর্কে রাসূল (সাঃ) বললেনঃ “এই ব্যক্তি দোজখবাসী।” তারপর যুদ্ধ শুরু হলে লোকটি বীরত্বের সাথে যুদ্ধ করলো এবং আঘাতে আঘাতে জর্জরিত হলো। এক সময় আঘাতের চোটে সে অচল হয়ে পড়লো। তখন এক সাহাবী এসে রাসূল (সাঃ)-কে বললেনঃ “হে আল্লাহর রসূল! ঐ ব্যক্তির ব্যাপারে আপনার মত কী? যে ব্যক্তিকে আপনি দোজখবাসী বলেছিলেন, সেতো প্রচন্ডভাবে যুদ্ধ করেছে এবং আহত হয়েছে।” নবী করিম (সাঃ) বললেনঃ “শুনে রাখোও, সে দোজখবাসী।" এতে কোন কোন মুসলমান সন্দেহ পোষণ করতে লাগলেন।
ইত্যবসরে লোকটি ক্ষত স্থানের তীব্র যন্ত্রনা অনুভব করলো। অতঃপর সে নিজের তীর হাতে নিয়ে তা দ্বারা নিজের গলা ফুঁড়ে আত্মহত্যা করলো। এ ঘটনা প্রত্যক্ষ করে বহু সংখ্যক সাহাবী রাসূল (সাঃ)-এর নিকট ছুটে গিয়ে বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আপনার কথাকে সত্যে পরিণত করেছেন। অমুক লোকটি তো নিজের গলা ফুঁড়ে আত্মহত্যা করেছে।” তখন রাসূল (সাঃ) বললেনঃ “ওহে বিলাল! ওঠো। জনগণের মধ্যে ঘোষণা করে দাও যে, মুমিন ব্যতীত কেউ বেহেশতে প্রবেশ করতে পারবে না। আর পাপী লোক দ্বারাও আল্লাহ কখনো কখনো এ দ্বীনের সাহায্য করে থাকেন।"
অন্য রেওয়ায়েতে আছে, রাসূল (সাঃ) বললেনঃ কোন কোন বান্দা দোযখীর ন্যায় আমল করে, অথচ সে বেহেস্তবাসী। আবার কোন কোন বান্দা বেহেশতবাসীর ন্যায় কাজ করে, অথচ সে দোজখবাসী। আর মনে রাখবে, কর্মের ফলাফল শেষ কর্মের ওপর নির্ভরশীল।
শিক্ষাঃ আত্মহত্যা কবীরা গুনাহ তথা মহাপাপই শুধু নয়, বরং তা ঈমানকেও ধ্বংস করে দেয় এবং সকল কৃত সৎ কাজ বিনষ্ট করে দেয়। তাই আত্নহত্যাকারী শত ভালো কাজ করলেও দোজখবাসী হয়ে থাকে।
📄 বিনা তদন্তে কারো সম্পর্কে খারাপ ধারণা পোষণ ও অপপ্রচার
মুসনাদে আহমাদের বরাদ দিয়ে ইবনে কাছীর বর্ণনা করেন যে, বনুল মুস্তালিক গোত্রের সরদার, উন্মুল মুমিনীন হযরত জুয়াইরিয়ার পিতা হারেছ ইবনে যেরার রাসূল (সাঃ)-এর দরবারে হাজির হলে তিনি তাকে ইসলামের দাওয়াত দিলেন এবং যাকাত প্রদানের আদেশ দিলেন। হারেস ইসলামের দাওয়াত কবুল এবং যাকাত প্রদানের ওয়াদা করে বললেনঃ এখন আমি নিজ গোত্রে ফিরে গিয়ে তাদেরকেও ইসলাম ও যাকাত প্রদানের দাওয়াত দেব। যারা আমার কথা মানবে ও যাকাত দেবে, আমি তাদের যাকাত একত্রিত করে আমার কাছে জমা রাখবো। আপনি অমুক মাসের অমুক তারিখ পর্যন্ত কোন দূত আমার কাছে পাঠাবেন। আমি তার কাছে যাকাতের জমাকৃত অর্থ দিয়ে দেব। এরপর হারেস ওয়াদা অনুযায়ী যাকাতের অর্থ জমা করলেন এবং দূত আগমনের নির্ধারিত মাস ও তারিখ অতিক্রান্ত হওয়ার পরও কোন দূত না আসায় হারেসের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হলো। তিনি ভাবলেন, হয়তো রাসূল (সাঃ) কোন কারণে আমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন। নতুবা ওয়াদা অনুযায়ী দূত না পাঠানোর কোন কারণ থাকতে পারে না। হারেস তার এই আশংকার কথা ইসলাম গ্রহণকারী নেতৃস্থানীয় লোকদের কাছেও ব্যক্ত করলেন। অতঃপর সবাই মিলে একদিন রাসূল (সাঃ) এর কাছে যাবেন বলে স্থির করলেন।
এদিকে রাসূল (সাঃ) নির্ধারিত তারিখে ওলীদ বিন উকবাকে যাকাত গ্রহণের জন্য পাঠিয়ে দেন। কিন্তু ওলীদের মনে এই ধারণা জন্মে যে, যেহেতু এই গোত্রের সাথে তার পুরানো শত্রুতা রয়েছে, তাই তারা হয়তো তাকে একা পেয়ে হত্যা করে ফেলবে। এই আশংকার ভিত্তিতে তিনি আর অগ্রসর না হয়ে সেখান থেকেই ফিরে আসেন এবং রাসূল (সাঃ) এর কাছে গিয়ে বলেন যে, তারা যাকাত দিতে অস্বীকার করেছে এবং আমাকেও হত্যা করার হুমকি দিয়েছে। তখন রাসূল (সাঃ) রাগান্বিত হয়ে হযরত খালেদ বিন ওলীদের নেতৃত্বে একদল মুজাহিদ প্রেরণ করেন। ঠিক এই সময়ে হারেস মদীনার উপকণ্ঠে উপস্থিত হয়ে এই মুজাহিদ বাহিনীকে দেখতে পান। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করেন, আপনারা কোন গোত্রের দিকে রওনা হয়েছেন। তারা বললেন, আমরা তোমার গোত্রের দিকেই যাচ্ছি। হারেস কারণ জিজ্ঞাসা করলে তাকে ওলীদ বিন উকবার কথিত পুরো কাহিনী শুনানো হলো। তাকে বলা হলো যে, বনুল মুস্তালিক গোত্র যাকাত দিতে অস্বীকার করে ওলীদকে হত্যা করার ফন্দি এঁটেছে। এ কথা শুনে হারেস বললেন, আল্লাহর কসম, আমি ওলীদ বিন উকবাকে দেখিওনি। সে আমার কাছে যায়নি। অতঃপর হারেস রাসূল (সাঃ) এর সামনে উপস্থিত হলে তিনি জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি যাকাত দিতে অস্বীকার করেছ এবং আমার দূতকে হত্যা করতে চেয়েছ? হারিস বললেন, কখনো নয়। আল্লাহর কসম, সে আমার কাছে যায়নি এবং আমি তাকে দেখিওনি। নির্ধারিত সময়ে আপনার দূত যায়নি দেখে আমার আশংকা হয় যে, আপনি হয়তো কোন ত্রুটির কারণে আমাদের ওপর অসন্তুষ্ট হয়েছেন।
কোন কোন রেওয়ায়েতে আছে যে, ওলীদ বিন উকবা রাসূল (সাঃ) এর নির্দেশ মোতাবেক বনুল মুস্তালিক গোত্রে পৌ ছেন। গোত্রের লোকেরা আগেই জানতো যে, রাসূল (সাঃ) এর দূত অমুক তারিখে আসবে। তাই তারা অভ্যর্থনার উদ্দেশ্যে বস্তি থেকে বেরিয়ে আসে। ওলীদ সন্দেহ করলেন যে, তারা বোধ হয় পুরানো শত্রুতার কারণে তাকে হত্যা করতে এগিয়ে আসছে। তাই তিনি সেখান থেকেই ফিরে আসেন এবং রাসূল (সাঃ) এর কাছে নিজ ধারণা অনুযায়ী অভিযোগ পেশ করলেন যে, তারা যাকাত দেয়ার পরিবর্তে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছে। তখন রাসূল (সাঃ) খালেদ বিন ওলীদকে প্রেরণ করলেন এবং বলে দিলেন যে পূর্ণ তদন্ত ও অনুসন্ধানের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। খালেদ বিন ওলীদ রাতের বেলায় বস্তির নিকট পৌছে গোপনে কয়েকজন গুপ্তচর পাঠিয়ে দিলেন। তারা ফিরে এসে সংবাদ দিল যে তারা সবাই ঈমান ও ইসলামের ওপর কায়েম আছে এবং যাকাত দিতে প্রস্তুত আছে। তাদের মধ্যে ইসলামের বিপরীত কিছু নেই। খালেদ ফিরে এসে রাসূল (সাঃ) এর নিকট সমস্ত বৃত্তান্ত বর্ণনা করলেন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে পবিত্র কুরআনের সূরা আল-হুজরাত নাযিল হয়। বিশেষতঃ এই ঘটনার সাথে সম্পৃক্ত আয়াতটি হলোঃ “হে মুমিনগণ! যদি কোন পাপাচারী ব্যক্তি তোমাদের কাছে কোন খবর নিয়ে আসে, তবে তোমরা তা পরীক্ষা করে দেখবে, যাতে অজ্ঞতাবশতঃ তোমরা কোন সম্প্রদায়ের ক্ষতি সাধনে প্রবৃত্ত না হও এবং পরে নিজেদের কৃতকর্মের জন্য অনুতপ্ত না হও।"
শিক্ষাঃ এই ঘটনা ও এই ঘটনা উপলক্ষে অবতীর্ণ সূরার সংশ্লিষ্ট আয়াতের প্রধান শিক্ষা এই যে, কোন প্রচারণা- চাই তা মৌখিক হোক বা লিখিত হোক- বক্তা বা লেখকের চারিত্রিক মান এবং খবরের গুরুত্ব বিবেচনা করে গ্রহণ বা বর্জন করতে হবে। খবর যদি এমন গুরুতর হয় যে, তার ভিত্তিতে জানমালের ক্ষয়ক্ষতি সংঘটিত হতে পারে তবে তা তদন্ত ছাড়া গ্রহণ করা যাবে না। সংবাদদাতা অসৎ হলে তো নয়ই, এমন কি সৎ হলেও নয়। কেননা খবরটি তার ইচ্ছাকৃত অপপ্রচার না হয়ে ভুল বুঝাবুঝির কারণেও উদ্ভূত হতে পারে। রাসূল (সাঃ) বলেছেন, একজন লোকের মিথ্যাবাদী হওয়ার জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, সে যা শোনে তাই বলে বেড়ায়।