📘 হাদীসের কিসসা > 📄 হযরত উসমানের দানশীলতা ও মিতব্যয়িতা

📄 হযরত উসমানের দানশীলতা ও মিতব্যয়িতা


একদিন এক নিঃস্ব লোক রাসূলের নিকট এসে কিছু সাহায্য চাইল। তখন রাসূলের নিকট কিছুই ছিল না, তিনি লোকটাকে হযরত উসমানের নিকট পাঠালেন। দরিদ্র ব্যক্তিটি হযরত উসমানের গৃহে উপস্থিত হয়ে দেখে যে একদল পিঁপড়ে বেশ কিছু শস্য একটি স্তুপ থেকে গর্তে নিয়ে যাচ্ছে। হযরত উসমান শস্যগুলো একত্রিত করে কিছু শস্য পিঁপড়ের গর্তের কাছে ছড়িয়ে বাকীগুলো আবার স্তুপে রেখে দিচ্ছিলেন। লোকটি ধারণা করলো যে হযরত উসমান বড় কৃপণ। সে মনে মনে ভাবলো যে দরিদ্র হওয়া স্বত্ত্বেও সে নিজে পিঁপড়ের মুখ থেকে শস্য কেড়ে নিতো না। তাই কিছুই না চেয়ে লোকটি চলে গেল।

পরদিন লোকটি আবার রাসূলের নিকট উপস্থিত হল এবং কিছু চাইল। সে রাসূলকে জানাল যে, কৃপণ উসমানের (রাঃ) নিকট কিছুই আশা করা যায় না, তাই সে কিছুই চায়নি। রাসূল (সাঃ) তাকে আবার হযরত উসমানের নিকট পাঠালেন। অনিচ্ছা সত্ত্বেও লোকটি গেল এবং দেখতে পেল যে হযরত উসমান তার চাকরকে বাতির সলতে উঁচু করে দেওয়ার দায়ে বকাঝকা করছেন। কারণ তাতে অধিক তেল খরচ হয়। দরিদ্র লোকটি মনে মনে ভাবলো যে তার বাড়ীতে আলো আরও উজ্জ্বলভাবে জ্বলে এবং সে কখনও এরূপ তেলের হিসাব করে না। হযরত উসমানের কৃপণতা সম্বন্ধে তার ধারণা আরো জোরদার হলো। কিছু না চেয়েই লোকটি আবার রাসূলের নিকট ফিরে গেল। হযরত উসমানের বিরুদ্ধে কৃপণতার অভিযোগ শুনে রাসূল (সাঃ) মৃদু হাসলেন এবং লোকটিকে আবার বললেন হযরত উসমানের কাছে ফিরে যেতে এবং কিছু চাইতে।

তৃতীয়বার লোকটি উসমানের নিকট এসে দেখে যে হযরত উসমানের বাড়ীতে তুলা শুকাতে দেয়া হয়েছে। ঢেকে দেয়া হয়েছিল জাল দিয়ে। জালের নিচ হতে কিছু কিছু তুলা বাতাসে উড়িয়ে নিচ্ছিল। হযরত উসমান সেই তুলাগুলোকে সংগ্রহ করে এনে আবার জালের নিচে রাখছিলেন। লোকটির মন অত্যন্ত বিরূপ হয়ে উঠলো। ভাবলো এমন কৃপণও কি কিছু দান করতে পারে? তবুও যেহেতু রাসূল তাকে তিনবার উসমান (রাঃ)-এর কাছে পাঠিয়েছেন, তাই সে গিয়ে কিছু চাইল।

হযরত উসমান (রাঃ) ভাবলেন, লোকটিকে কি দেওয়া যায়, যে লোককে রাসূল তার নিকট সাহায্যের জন্য পাঠিয়েছেন, তার চাইতে সাহায্য নেয়ার যোগ্য আর কে হতে পারে? তখন দেখা গেল বেশ দূরে একটি সরু রেখা। রেখাটিকে একটি উটের কাফেলা বলেই মনে হল। কিছুক্ষণ পর হযরত উসমান বুঝতে পারলেন, যে কাফেলা বাণিজ্যের উদ্দেশ্যে সিরিয়ায় গিয়েছিল সেটাই ফিরে আসছে। হযরত উসমান তাকে লিখে দিলেন যে ঐ কাফেলার সবচেয়ে ভাল উটটি এবং যার ওপর সবচেয়ে বেশী দ্রব্য সম্ভার আছে সেটিই সে নিতে পারে। লোকটি প্রথম মনে করল যে হযরত উসমান তামাসা করছেন। কিছুক্ষণ কথাবার্তার পরও লোকটি তার দান সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হতে পারল না। সন্দিগ্ধ চিত্তে লোকটি গেল কাফেলার নিকট। সবচেয়ে ভালো এবং প্রথম উটটিই তার পছন্দ হল। সেটি সে নিতে চাইল। কাফেলার পরিচালক অনুমতি দিল। কিন্তু মরুভূমিতে চলাকালে প্রথম উটটিকে কাফেলা থেকে সরিয়ে নেওয়া সহজ নয়। সবগুলো উটই প্রথমটিকে অনুসরণ করল। কাফেলার পরিচালক তখন লোকটিকে বললো যে আস্তানায় ফিরে যাওয়ার পর উটটি দেয়া হবে। হযরত উসমানের নিকট খবর দেওয়া হলো যে একটি উটকে কাফেলা থেকে সরিয়ে নেয়া সম্ভব হয়নি। তাই তখন তার নির্দেশ পালন করা হয়নি। খবর শুনে হযরত উসমান (রাঃ) বললেন, হয়ত আল্লাহর ইচ্ছা এই যে, কাফেলার সবগুলো উটই লোকটি পাবে। অতঃপর তিনি কাফেলার পরিচালককে নির্দেশ দিলেন যে সবগুলো উটই যেন লোকটিকে দিয়ে দেয়া হয়। লোকটি তো বিস্ময়ে অবাক। অতো বড় কৃপণের কি করে এতো বড় দান করা সম্ভব হলো? হতবাক হয়ে সে তার পূর্ববর্তী তিন অভিজ্ঞতা জানাল এবং দু'প্রকার ব্যবহারের তাৎপর্য কি জানতে চাইল।

হযরত উসমান যে জওয়াব দিলেন তার সারমর্ম এই যে, আল্লাহ বিশ্বের সমস্ত সম্পদের মালিক, মানুষ হলো তত্ত্বাবধানকারী বা পাহারাদার। সে শুধুমাত্র আল্লাহর ইচ্ছানুসারে সম্পদ নিজের জন্য এবং সমাজের অপরাপর ব্যক্তির কল্যাণের জন্য ব্যয় করতে পারবে। মানুষের কাজ হল আল্লাহর সম্পদ নিজের মর্জিমত রক্ষণাবেক্ষণ করা। যদি কোনো ব্যক্তির তত্ত্বাবধানকালে কোনো সম্পদের এক কণামাত্র বিনষ্ট হয় তবে তার জন্য আল্লাহর কাছে জওয়াবদিহি করতে হবে। সম্পদের অধিকার শুধু বিশেষ সুবিধা নয়, বরং একটি বিরাট দায়িত্ব।”

শিক্ষা: মুমিনকে অবশ্যই দানশীল হতে হবে, কিন্তু সে কখনো অপচয়কারী ও অপব্যয়কারী হতে পারবে না। কেননা "অপচয় ও অপব্যয়কারী শয়তানের ভাই।” (আল-কুরআন)

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 সাতশো গুণ লাভ

📄 সাতশো গুণ লাভ


হযরত আবু বকর (রাঃ) এর খেলাফতকালে এক দুর্ভিক্ষ সংঘটিত হয়। খাদ্যদ্রব্য একেবারেই দুর্লভ হয়ে পড়ে এবং মানুষের দুঃখ দুর্দশা চরম আকার ধারণ করে। এই সময়ে হযরত ওসমানের প্রায় এক হাজার মন গমের একটি চালান বিদেশ থেকে মদীনায় পৌছলো। শহরে কয়েকজন ব্যবসায়ী তাঁর কাছে এলো। তারা তাঁর সমস্ত গমের চালান শতকরা ৫০ ভাগ লাভে কিনে নেয়ার প্রস্তাব দিল। সেই সাথে তারা এও ওয়াদা করলো যে, তারা দুর্ভিক্ষ পীড়িত জনগণের দুর্দশা লাঘবের জন্যই এটা কিনতে চাইছে।

হযরত ওসমান বললেন, "তোমরা যদি আমাকে এক হাজার গুণ লাভ দিতে পার, তবে আমি দিতে পারি। কেননা অন্য একজন আমাকে সাতশো গুণ লাভ দিতে চেয়েছে।"

ব্যবসায়ীরা বললো, "বলেন কি? চালান মদীনায় আসার পর তো আমরাই প্রথম আপনার কাছে এলাম। সাতশো গুণ লাভের প্রস্তাব কে কখন দিলো?"

হযরত ওসমান বললেন, "এই প্রস্তাব আমি পেয়েছি আল্লাহর কাছ থেকে। আমি এই চালানের সমস্ত গম বিনা মূল্যে গরীবদের মধ্যে বিতরণ করবো। এর বিনিময়ে আল্লাহ আমাকে সাতশো গুণ বেশী পূণ্য দেবেন বলে ওয়াদা করেছেন।”

শিক্ষা: পবিত্র কুরআনে সূরা বাকারার ২৬১ নং আয়াতে এই ওয়াদার উল্লেখ রয়েছে। হযরত ওসমান (রাঃ) সম্ভবতঃ ঐদিকেই ইংগিত করেছেন। হযরত ওসমানের মহানুভবতার এই ঘটনা বিপন্ন মানুষের সেবাকে ইসলাম কত গুরুত্ব দেয়, তারই প্রমাণ বহন করে। জনসেবা ও ত্যাগের এই মনোভাব বিশেষভাবে ধনীদের মধ্যে সঞ্চারিত হওয়া খুবই জরুরী।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 হযরত আলীর (রাঃ) খোদাভীতি

📄 হযরত আলীর (রাঃ) খোদাভীতি


হযরত আলী (রাঃ) তখন মুসলিম জাহানের খলিফা। একদিন তার ছোট ভাই আকীল তার কাছে এসে নিজের অনেক অভাব অভিযোগের কথা জানালেন এবং তাকে কিছু সাহায্য দেয়ার অনুরোধ করলেন। হযরত আলী বললেন, জনগণের সম্পদের কোষাগার বাইতুল মাল থেকে আমি তোমাকে এক কপর্দকও দিতে পারবো না। মাসের শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা কর। আমি বেতন পেলে তা থেকে তোমাকে কিছু দেয়া যাবে। হযরত আকীল বললেন, আপনি নিজের বেতন অগ্রিম নিয়ে নিন। হযরত আলী বললেন, আমার বেতন অন্য সকলের বেতনের সাথে আসবে। অগ্রিম নেয়ার কোন অধিকার আমার নেই। হযরত আকীল নাছোড় বান্দা। তিনি বললেন, একটা কিছু করুন। আমার সংসার চলছে না। যেভাবেই হোক আমাকে কিছু সাহায্য দিন। হযরত আলী বললেন, বাজারের কোন দোকান থেকে তালা ভেঙ্গে কিছু নিয়ে যাও। আকীল বললেন, ওটা তো চুরি বা ডাকাতি বলে গণ্য হবে। হযরত আলী (রাঃ) বললেন, এই মুহূর্তে আমি যদি তোমাকে বাইতুল মাল থেকে কিছু নিয়ে দেই তবে তাও চুরি বা ডাকাতি বলে গণ্য হবে। কেননা ওটা জনগণের সম্পদ এবং জনগণ আমাকে ওখান থেকে নেয়ার অনুমতি দেয়নি।

অগত্যা হযরত আকীল হযরত মোয়াবিয়ার নিকট গেলে তিনি তাকে একশো দিরহাম দিয়ে বললেন, তুমি মসজিদে দাঁড়িয়ে সকলকে জানাবে যে, আলীর কাছে সাহায্য চেয়ে পাইনি, কিন্তু মোয়াবিয়ার কাছে চেয়ে পেয়েছি। ইত্যবসরে আকীল হযরত আলীর বক্তব্যের যৌক্তিকতা বুঝতে পারলেন। তিনি মসজিদে দাঁড়িয়ে বললেন, আমি আলীর কাছে অন্যায়ভাবে সাহায্য চেয়েছিলাম। কিন্তু তিনি খোদভীতিকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। আর মোয়াবিয়ার কাছে সাহায্য চাইলে তিনি খোদভীর পরিবর্তে আমাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 অধিক সম্পদের মোহ ও কৃপণতার পরিণাম

📄 অধিক সম্পদের মোহ ও কৃপণতার পরিণাম


একবার সালাবা ইবনে হাতেম আনসারী নামক এক সাহাবী রাসূল (সাঃ) এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ), আমার জন্য দোয়া করুন, যেন আমি অনেক বড় ধনী হতে পারি। রাসূল (সাঃ) বললেনঃ আমি যে নীতি অনুসরণ করে চলছি, তা কি তোমার পছন্দ নয়? আল্লাহর কসম, আমি ইচ্ছা করলে মদীনার পাহাড়গুলো সোনা হয়ে আমার সাথে সাথে ঘুরতো। কিন্তু এমন ধনী হওয়া আমার পছন্দ নয়। এ কথা শুনে লোকটি ফিরে গেল, কিন্তু কিছুক্ষণ পর আবার ফিরে এল। এবার সে বললোঃ হে রাসূল (সাঃ), আমি ওয়াদা করছি যে, আমি যদি ধনী হয়ে যাই তাহলে প্রত্যেক হকদারকে তার প্রাপ্য পৌঁছে দেব। এ কথা শুনে রাসূল (সাঃ) তার বিপুল ধনসম্পদ হোক- এই মর্মে দোয়া করলেন। এর ফলে তার ছাগল ভেড়া ইত্যাদিতে অসাধারণ প্রবৃদ্ধি দেখা দিল। ফলে মদীনার যে জায়গায় সে বাস করতো তাতে তার আর স্থান সংকুলান হলো না। সে মদীনার বাইরে চলে গেল। তবে যোহর ও আসরের নামায মদীনার মসজিদে নববীতে পড়তো। আর অন্যান্য নামায সে নিজের বাসস্থানেই পড়তো।

এরপর তার গৃহপালিত পশুর সংখ্যা আরো বেড়ে গেল। এর ফলে নতুন জায়গাটিও তার জন্য সংকীর্ণ হয়ে দাঁড়ালো। তাই সে মদীনা থেকে আরো দূরে যেয়ে থাকতে আরম্ভ করলো। সেখান থেকে সে শুধু জুমার নামায মদীনায় এসে পড়তে পারতো। অন্যান্য নামায নিজের বাসস্থানেই পড়তো। ক্রমে তার সম্পদ আরো বেড়ে গেলে তাকে আরো দূরে চলে যেতে হলো। সেখান থেকে সে জুমার নামাযেও মসজিদে আসতে পারতো না।

কিছুদিন পর রাসূল (সাঃ) সালাবা সম্পর্কে লোকদের কাছে খোঁজ-খবর জানতে চাইলেন। তাঁকে জানানো হলো যে, সালাবার সম্পদ এত বেশী হয়েছে যে, শহরের কাছে কোথাও তার স্থান সংকুলান হয়নি। তাই এখন সে আর এদিকে আসে না। এ কথা শুনে রাসূল (সাঃ) তিনবার বললেন, "ইয়া ওয়াইহা সালাবা!” অর্থাৎ সালাবার জন্য আফসোস।

ঠিক এই সময় যাকাতের আয়াত নাযিল হয়। তাতে রাসূল (সাঃ) কে মুসলমানদের কাছ থেকে যাকাত আদায়ের নির্দেশ দেয়া হয়। তিনি যাকাত আদায়ের জন্য মুসলমানদের কাছে লোক পাঠালেন। কয়েকজন লোককে সালাবার কাছে পাঠালেন। আর কয়েকজনকে বনু সুলাইমের আর এক ধনীর কাছেও পাঠালেন।

যখন আদায়কারীরা সালাবার কাছে গিয়ে যাকাত চাইল এবং রাসূল (সাঃ) এর লিখিত ফরমান দেখালো; তখন সালাবা বলতে লাগলো, এতো জিযিয়া কর হয়ে গেল, যা অমুসলমানদের কাছ থেকে আদায় করা হয়। তারপর বললো, এখন আপনারা যান। ফেরার পথে আসবেন। তখন তারা চলে গেলেন।

পক্ষান্তরে বনু সুলাইমের ধনী লোকটি রাসূল (সাঃ) এর আদেশ শুনে নিজের গৃহপালিত পশুর মধ্য থেকে বেছে বেছে উৎকৃষ্ট মানের পশু যাকাত হিসেবে দিলেন। আদায়কারীরা বললেন, আমাদের প্রতি নির্দেশ রয়েছে, উৎকৃষ্ট মানের পশু যেন না নেই। বনু সুলাইমের ধনী লোকটি বললো, আমি নিজের ইচ্ছায় দিচ্ছি। দয়া করে গ্রহণ করুন।

অতঃপর আদায়কারীগণ সালাবার কাছে গেলে সে বললোঃ "কই, দেখি যাকাতের আইন আমাকে দেখাও। তারপর তা দেখে আবার বলতে লাগলোঃ আমি তো মুসলমান। অমুসলমানদের মত জিযিয়া কেন দিতে যাবো? যা হোক, আপনারা এখন যান। আমি পরে ভেবে চিন্তে জানাবো।

যখন আদায়কারীরা রাসূল (সাঃ) এর কাছে ফিরে গেল। তখন সকল বৃত্তান্ত শুনে রাসূল (সাঃ) আবার তিনবার বললেন, 'সালাবার জন্য আক্ষেপ!' আর সুলাইমের জন্য দোয়া করতে লাগলেন। এরপর সালাবার প্রতি ইঙ্গিত করে সুরা তাওবার একটি আয়াত নাযিল হয়। তাতে এই ধরনের লোকদের নিন্দা করা হয়, যারা সম্পদশালী হলে হকদারদের হক দেবে বলে ওয়াদা করেছে, কিন্তু পরে সেই ওয়াদা ভুলে গিয়ে কৃপণতা করতে আরম্ভ করেছে। আয়াতে বলা হয় যে, এ ধরনের লোকদের মনে আল্লাহ মোনাফেকী গভীরভাবে বদ্ধমূল করে দিয়েছেন।

রাসূল (সাঃ) যখন সালাবার জন্য তিনবার আক্ষেপ প্রকাশ করলেন এবং কুরআনের আয়াতও নাযিল হলো, তখন সেখানে সালাবার একজন আত্মীয় ছিল। সে গিয়ে সালাবাকে সব জানালো এবং তাকে তার আচরণের জন্য তিরস্কার করলো। সালাবা ভীষণ ঘাবড়ে গেল এবং মদীনায় হাজির হয়ে বললো, 'হে রাসূল, আমার যাকাত গ্রহণ করুন। রাসূল (সাঃ) বললেন, আল্লাহ তোমার যাকাত গ্রহণ করতে নিষেধ করেছেন। এ কথা শুনে সালাবা আফসোস করতে লাগলো।

রাসূল (সাঃ) বললেনঃ এটা তো তোমার নিজের কৃতকার্যের ফল। আমি তোমাকে হুকুম করেছিলাম। তুমি তা মাননি। এখন আর তোমার যাকাত কবুল হতে পারে না। তখন সালাবা অকৃতকার্য হয়ে ফিরে গেল। এর কিছুদিন পরই রাসূল (সাঃ) ইন্তেকাল করেন। এরপর সালাবা যথাক্রমে হযরত আবু বকর ও ওমর (রাঃ) কে যাকাত গ্রহণ করার আবেদন জানায়। কিন্তু তারা রাসূল (সাঃ) এর নীতি অনুসরণ করেন। হযরত ওসমানও তার যাকাত গ্রহণ করতে অস্বীকার করেন। হযরত উসমানের খেলাফত আমলেই তার মৃত্যু হয়। (মায়া'রিফুল কুরআনের সৌ জন্যে)

শিক্ষাঃ হালাল সম্পদে ধনী হওয়ার আশা ও চেষ্টা করা যদিও বৈধ। তথাপি এত বেশি সম্পদের লোভ করা উচিত নয়, যা মানুষকে ইসলাম থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। আর প্রাপ্ত সম্পদের যাকাত ও সদকা দিতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ করা উচিত নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00