📄 হযরত ওমরের (রাঃ) ন্যায় বিচারের আর একটি উদাহরণ
একবার কিছু সুগন্ধী দ্রব্য বাহরাইন থেকে হযরত ওমরের নিকট পাঠানো হলো। তিনি সমবেত জনতাকে লক্ষ্য করে বললেন, "তোমাদের মধ্যে এমন কেউ আছে কি, যে এই সুগন্ধী দ্রব্যটিকে মেপে সমান ভাগ করে মুসলমানদের মধ্যে বন্টন করতে পারে?"
তাঁর স্ত্রী হযরত আতেকা বললেন, "আমিরুল মুমিনীন, আমি পারবো।"
হযরত ওমর বললেন, "আতেকা ছাড়া আর কেউ আছে কি?”
হযরত আতেকা বললেন, "আমীরুল মুমিনীন, আমি মেপে দিলে অসুবিধা কী?"
হযরত ওমর বললেন, "আমার আশংকা হয় যে, মাপার সময় জিনিসটা তুমি হাত দিয়ে ধরবে এবং তোমার হাত সুবাসিত হয়ে যাবে। অতঃপর সেই সুবাসিত হাত তুমি মুখে মেখে নেবে এবং সুগন্ধী উপভোগ করবে। অন্যদের চাইতে এতটুকু বাড়তি সুবিধাও তুমি পেয়ে যাও, তা আমি পছন্দ করি না।"
শিক্ষাঃ একজন সাধারণ মুসলমানের জন্য স্বীর স্ত্রী বা অধীনস্থদের ওপর এত কঠোরতা আরোপ না করলেও চলতো। কিন্তু খলীফা বা যে কোন স্তরের নেতৃবৃন্দের পক্ষে এরূপ কঠোর ও সূক্ষ্ম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরী। কারণ নেতামাত্রই আদর্শ ও অনুকরণীয় ব্যক্তি। তার পক্ষে নিজেকে ও নিজের ঘনিষ্ঠজনদেরকে বিন্দুমাত্রও ছাড় দেয়ার অবকাশ নেই।
📄 হযরত ওমর কর্তৃক স্বীয় পুত্রের বিচার
একবার হযরত ওমরের নিকট একটা অভিযোগ এল যে, তার পুত্র আবু শাহমা মদ খেয়েছে। অভিযোগটা অন্যান্য লোকেরও কানে গেল। অনেকে ফিসফিসানি শুরু করে দিল যে, এবার দেখবো খলিফার আইনের শাসন নিজের ছেলের ক্ষেত্রে কতটা কার্যকর হয়। কিন্তু তাদের ধারণাটা অচিরেই মাঠে মারা গেল। কেননা অন্যরা শৈথিল্য দেখাতে পারে এই আশংকায় হযরত ওমর তাঁর ছেলের মামলা আদালতে না পাঠিয়ে নিজের হাতে তুলে নিলেন।
ছেলের মদ খাওয়ার সত্যতা প্রমাণিত হলো। ইসলামী আইনে এর শাস্তি ৮০ ঘা বেত্রদন্ড। এবারও হযরত ওমর অন্যের ওপর নির্ভর করলেন না। কেননা অন্যরা দুর্বলতা দেখাতে পারে। তিনি নিজ হাতেই পুরো ৮০টা বেত্রাঘাত নিজের ছেলের পিঠে লাগালেন। আবু শাহমা এই শাস্তিতে মারা গেল। কিন্তু হযরত ওমর আল্লাহর শোকর আদায় করলেন যে, তিনি তাকে এমন কঠিন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করেছেন। কোন কোন রেওয়ায়েতে আছে যে, ৮০টি বেত্রাঘাতের কয়েকটি বাকী থাকতেই ছেলে মারা গেলে হযরত ওমর তার কবরের ওপর বাকী বেত্রাঘাতগুলো করেন।
শিক্ষাঃ ইসলামী আইন ও নীতিমালা প্রয়োগের ব্যাপারে কোন আপোষের অবকাশ নেই। আল্লাহ বলেনঃ 'হে মুমিনগণ, তোমরা আল্লাহর সাক্ষী হিসাবে ইনসাফ কায়েম কর, এমনকি তা যদি তোমাদের নিজেদের, পিতামাতার ও ঘনিষ্ঠজনদের বিরুদ্ধেও যায়।'
📄 সততার পুরস্কার
রাত প্রায় দুপুর গড়িয়ে চলেছে। ঘুমন্ত মদীনা নগরী। এরই অলিগলি দিয়ে প্রতিদিনের মত ধীর পদে হেটে চলেছেন ছদ্মবেশী খলীফা হযরত ওমর। খোঁজ খবর নিচ্ছেন প্রজাদের। হঠাৎ একটি কুঁড়েঘর থেকে ফিসফিস করে একটি কথোপকথন তার কানে ভেসে এল। খলীফা দাঁড়িয়ে গেলেন পুরো কথোপকথন শুনতে। এক বৃদ্ধা মহিলা তার মেয়েকে বলছেঃ “দুধ বেঁচতে দেয়ার সময় একটু পানি মিশিয়ে দিসনে কেন? তুই তো জানিস, কী অভাব আমাদের। ঐটুকু দুধে আর ক'টা পয়সা হবে। একটু পানি মেশালে কিছুটা সচ্ছলতার মুখ দেখা যেত।”
"কিন্তু তুমি খলীফার আদেশ ভুলে গেল, আম্মী? তিনি যে বলেছেন কেউ যেন দুধের সাথে পানি না মেশায়।"
"বলেছেন, তাতে কী হয়েছে? খলীফা বা তার কোন কর্মচারী তো আর দেখতে আসছেন না আমরা কী করছি।”
"কিন্তু আম্মী, তিনি বা তার কোন কর্মচারী দেখুক বা না দেখুক, তার আদেশ তো প্রত্যেক মুসলমানের মেনে চলা দরকার। তা ছাড়া খলীফা যদি নাও জানেন, আল্লাহ তো জানবেন। তিনি তো সব কিছু দেখেন, শোনেন এবং জানেন।"
খলীফা নীরবে প্রস্থান করলেন। নিজের সঙ্গীকে জিজ্ঞেস করলেনঃ "শুনলে তো? এই মেয়েটাকে কী পুরস্কার দেয়া যায় তার সততার জন্য?"
"তাকে বেশ বড়সড় একটা পুরস্কার দেয়া উচিত। ধরুন, এক হাজার দিরহাম।"
"না, তা যথেষ্ট নয়। আমি তাকে সততার সর্বোচ্চ পুরস্কার দেব। আমি তাকে আপন করে নেব।"
খলীফার সঙ্গী অবাক হয়ে ভাবতে লাগলো, খলীফা কী পুরস্কার দিতে চান?
পরদিন সকালে খলীফা মেয়েটাকে তার দরবারে ডেকে পাঠালেন। মেয়েটি ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে এসে হাজির হলো মুসলিম সাম্রাজ্যের মহাশক্তিধর শাসকের সামনে।
খলীফা তাঁর ছেলেদের ডাকলেন। তাদেরকে শোনালেন গত রাতে তার শোনা আলাপচারিতার কথা। তারপর বললেনঃ "হে আমার ছেলেরা, আমি চাই তোমাদের কোন একজন এই মেয়েটিকে স্ত্রী হিসাবে গ্রহণ করুক। কেননা এর চেয়ে ভালো কোন পাত্রী আমি তোমাদের জন্য যোগাড় করতে পারবো বলে মনে হয় না।"
একটি ছেলে পিতার প্রস্তাবে রাজী হলো। মেয়েটিও সম্মতি দিল। আর সে খলীফার সম্মানিত পুত্রবধুতে পরিণত হলো। বর্ণিত আছে যে, পরবর্তীকালে দ্বিতীয় ওমর নামে পরিচিত ও পঞ্চম খলীফায়ে রাশেদ নামে আখ্যায়িত মহান শাসক ওমর বিন আবদুল আযীয এই মেয়েরই দৌহিত্র ছিলেন।
শিক্ষাঃ এই ঘটনাটি একদিকে যেমন প্রাথমিক যুগের মুসলমানদের সততার এক অত্যুজ্জ্বল দৃষ্টান্ত তুলে ধরে, অপরদিকে তেমনি মুসলিম নেতৃবৃন্দ সততার কেমন মর্যাদা দিতেন ও কদর করতেন, তাও এ ঘটনা থেকে সুস্পষ্টভাবে জানা যায়। মনে রাখতে হবে, গুণের কদর দিতে না পারলে সমাজে সদগুণের বিকাশ ঘটা সম্ভব নয়।
📄 কাযী শুরাইহের ন্যায় বিচার
একবার হযরত ওমর (রাঃ) জনৈক বেদুইনের কাছ থেকে একটি ঘোড়া কিনলেন। ঘোড়ার দাম পরিশোধ করেই তিনি ঘোড়ায় চড়লেন এবং তাকে হাঁকিয়ে নিয়ে গেলেন। কিছুদূর যেতেই ঘোড়াটি হোঁচট খেয়ে খোঁড়া হয়ে গেল। তিনি তৎক্ষণাৎ ঘোড়াকে পেছনের দিকে ফিরিয়ে ঐ বেদুইনের কাছে নিয়ে গেলেন। হযরত ওমর ভেবেছিলেন ঘোড়াটির আগে থেকেই পায়ে কোন খুঁত ছিল, যা সামান্য ধাক্কা খেয়ে ভেঙ্গে গেছে। তিনি ঘোড়ার মালিককে বললেনঃ "তোমার ঘোড়া ফেরত নাও। এর পা ভাঙ্গা।"
সে বললোঃ "আমীরুল মু'মিনীন! আমি ফেরত নিতে পারবোনা। কারণ আমি যখন বিক্রী করেছি, তখন ঘোড়াটি ভালো ছিল।"
হযরত ওমর বললেনঃ "ঠিক আছে। একজন শালিশ মানা হোক। সে আমাদের বিরোধ মিটিয়ে দেবে।"
লোকটি বললো: শুরাইহ বিন হারিস কান্দী নামে একজন ভালো জ্ঞানী লোককে আমি চিনি। তাকেই শালিশ মানা হোক। হযরত ওমর রাজী হলেন। উভয়ে শুরাইহের নিকট উপস্থিত হলেন। প্রথমে বেদুইন বাদী হয়ে নালিশ করলে শুরাইহ খলিফাকে জিজ্ঞাসা করলেন: "আমীরুল মুমিনীন! আপনি কি ঘোড়াটি সুস্থ অবস্থায় কিনেছিলেন?
হযরত ওমর বললেন, হ্যাঁ।
শুরাইহ বললেন: তাহলে হয় আপনি ঘোড়াটির মূল্য দিয়ে কিনে নিন। নচেত যে অবস্থায় কিনেছিলেন সেই অবস্থায় ফেরত দিন।
এ কথা শুনে খলিফা ওমর (রাঃ) চমৎকৃত হয়ে বললেন: “এটাই সঠিক বিচার বটে। তুমি সম্পূর্ণ নির্ভুল মত ও ন্যায্য রায় দিয়েছ। তুমি কুফা চলে যাও। আজ থেকে তুমি কুফার বিচারপতি।”
সেই থেকে দীর্ঘ ষাট বছর যাবত পর্যন্ত তিনি মুসলিম জাহানের বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। যতদূর জানা যায়, হযরত আলীর সময়ে তিনি খলিফার বিরুদ্ধে অনুরূপ আর একটি রায় দিয়ে প্রধান বিচারপতির পদে উন্নীত হন। তার পর উমাইয়া শাসনামলে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের অবর্ণনীয় অত্যাচারে বিরক্ত হয়ে তিনি নিজে পদত্যাগ না করা পর্যন্ত কোন শাসকই তাকে পদচ্যুত করতে সাহস পায়নি।
হযরত আলী (রাঃ) একবার তার অতিপ্রিয় একটি বর্ম হারিয়ে ফেলেন। কিছুদিন পর জনৈক ইহুদীর হাতে সেটি দেখেই চিনে ফেলেন। লোকটি কুফার বাজারে ওটা বিক্রয় করতে এনেছিল। হযরত আলী তাকে বললেন: "এতো আমার বর্ম! আমার একটি উটের পিঠ থেকে এটি অমুক রাত্রে অমুক জায়গায় পড়ে গিয়েছিল।"
ইহুদী বললো: "আমীরুল মুমিনীর! ওটা আমার বর্ম এবং আমার দখলেই রয়েছে।”
হযরত আলী পুনরায় বললেন: "এটি আমারই বর্ম। আমি এটাকে কাউকে দানও করিনি, কারো কাছে বিক্রয়ও করিনি। এটি তোমার হাতে কিভাবে গেল?”
ইহুদী বললোঃ "চলুন, কাযীর দরবারে যাওয়া যাক।" হযরত আলী (রাঃ) বললেন: “বেশ, তাই হোক। চলো।” তারা উভয়ে গেলেন বিচারপতি শুরাইহের দরবারে।
বিচারপতি শুরাইহ উভয়ের বক্তব্য জানতে চাইলে উভয়ে বর্মটি নিজের বলে যথারীতি দাবী জানালেন।
বিচারপতি খলিফাকে সম্মোধন করে বললেন: "আমীরুল মুমিনীন! আপনাকে দু'জন সাক্ষী উপস্থিত করতে হবে।”
হযরত আলী বললেন: "আমার ভৃত্য কিম্বার এবং ছেলে হাসান সাক্ষী আছে।"
শুরাইহ বললেন : “আপনার ভৃত্যের সাক্ষ্য নিতে পারি। কিন্তু ছেলের সাক্ষ্য নিতে পারবো না। কেননা বাপের জন্য ছেলের সাক্ষ্য শরীয়তের আইনে অচল।"
হযরত আলী বললেন: "বলেন কি আপনি? একজন বেহেস্তবাসীর সাক্ষ্য চলবে না? আপনি কি শোনেননি, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, হাসান ও হোসেন বেহেস্তের যুবকদের নেতা?"
শুরাইহ বললেন: "শুনেছি আমীরুল মুমিনীন! তথাপি আমি বাপের জন্য ছেলের সাক্ষ্য গ্রহণ করবো না।"
অনন্যোপায় হযরত আলী ইহুদীকে বললেন: “ঠিক আছে। বর্মটা তুমিই নিয়ে নাও। আমার কাছে এই দু'জন ছাড়া আর কোন সাক্ষী নেই।”
ইহুদী তৎক্ষণাৎ বললোঃ "আমীরুল মুমিনীন! আমি স্বয়ং সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, ওটা আপনারই বর্ম। কি আশ্চর্য! মুসলমানদের খলিফা আমাকে কাযীর দরবারে হাজির করে আর সেই কাযী খলিফার বিরুদ্ধে রায় দেয়। এমন সত্য ও ন্যায়ের ব্যবস্থা যে ধর্মে রয়েছে আমি সেই ইসলামকে গ্রহণ করছি। আশহাদু আল্ লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহ ..................... !"
অতঃপর বিচারপতি শুরাইহকে সে জানালো যে, “খলিফা সিফফীন যুদ্ধে যাওয়ার সময় আমি তার পিছু পিছু যাচ্ছিলাম। হঠাৎ তার উটের পিঠ থেকে এই বর্মটি পড়ে গেলে আমি তা তুলে নেই।”
হযরত আলী (রাঃ) বললেন: "বেশ! তুমি যখন ইসলাম গ্রহণ করেছ, তখন আমি ওটা তোমাকে উপহার দিলাম।"
এই লোকটি পরবর্তীকালে নাহরাওয়ানে হযরত আলীর নেতৃত্বে খারেজীদের সাথে যুদ্ধ করার সময় শহীদ হয়।
আর একবার কাযী শুরাইহের ছেলে জনৈক আসামীর জামিন হয়। আসামী জামিনে মুক্তি পেয়ে পালিয়ে গেলে শুরাইহ আসামীর বিনিময়ে ছেলেকে জেলে আটকান। যতদিন আসামীকে খুঁজে পাওয়া যায়নি ততদিন সে জেলে আটক এবং কাযী সাহেব স্বয়ং বন্দী ছেলের জন্য জেলখানায় খাবার এগিয়ে দিয়ে আসতেন।
কাযী শুরাইহের আর এক ছেলে একবার এক গোত্রের সাথে জমীজমা সংক্রান্ত ব্যাপারে মোকদ্দমার সম্মুখীন হন। মোকদ্দমাটি শুরাইহের আদালতেই আসার কথা ছিল। তাই পিতার সাথে আগেভাগেই পরামর্শ করার জন্য ছেলেটি একদিন বললোঃ আব্বা, আপনি আমার মামলার বিবরণটি পুরোপুরি শুনে আমাকে বলুন আমার জেতার সম্ভাবনা আছে কিনা। যদি থাকে তাহলে আমি মামলাটি রুজু করবো। নচেত বিরত থাকবো।
বিচারপতি শুরাইহ পুরো ঘটনা শুনে ছেলেকে মামলা রুজু করার পরামর্শ দিলেন।
যথা সময়ে মামলার শুনানী শুরু হলো। শুনানী শেষে শুরাইহ নিজের ছেলের বিরুদ্ধে রায় দিলেন।
রাত্রে বাসায় এসে ছেলে পিতার কাছে অনুযোগের সূরে বললো : "আব্বা, আপনি আমাকে এভাবে অপমান করলেন! আমি যদি আগেভাগে আপনার পরামর্শ না নিতাম, তা হলেও একটা সান্তনা ছিল। কিন্তু ......।"
কাযী শুরাইহ বললেন: “হে বৎস! তুমি আমার কাছে পৃথিবীর সবার চাইতে প্রিয়; কিন্তু তোমার চেয়েও আল্লাহ আমার কাছে অনেক বেশী প্রিয়। আমি জানতাম, তোমার বিপক্ষের দাবীই সঠিক ও ন্যায়সংগত। কিন্তু তোমাকে সেটা জানিয়ে দিলে তুমি তাদের সাথে এমনভাবে আপোষ করে নিতে পারতে, যার ফলে তাদের প্রাপ্যের অংশ বিশেষ তোমাকে দিতে হতো। তেমনটি ঘটলে আমার ওপর আল্লাহ নারাজ হতেন। এজন্যই আমি তোমাকে মামলা আদালতে আনবার পরামর্শ দিয়েছিলাম। এখন তোমার খুশী হওয়া উচিত যে, তুমি অন্যায়ভাবে অন্যের সম্পত্তি দখল করা থেকে রক্ষা পেলে।"
বর্ণিত আছে যে, বিচারপতি শুরাইহ যখনই কোন মামলার শুনানী গ্রহণ করতেন, তখন সংশ্লিষ্ট সাক্ষীদেরকে সাক্ষ্য দানের ভয়াবহ পরিণাম স্বরণ করিয়ে দিতেন এবং বলতেন, "তোমাদের সাক্ষ্যের ওপরই এই মামলার রায় নির্ভরশীল। এখনো সময় আছে, তোমরা ইচ্ছা করলে সাক্ষ্য না দিয়েও চলে যেতে পারো।"
এরপরও যখন সাক্ষীরা সাক্ষ্য দিতে চাইতো, তিনি সাক্ষ্য নিতেন এবং রায় দেয়ার সময় বিজয়ী পক্ষকে হুশিয়ার করে দিতেন যে, "শুধুমাত্র সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতেই আমি এই রায় দিলাম। আল্লাহ যা হারাম করেছেন, এই রায় দ্বারা তা হালাল হবে না।"
সম্ভবতঃ এসব দুর্লভ গুণ বৈশিষ্ট্যের কারণেই হাজার হাজার জ্ঞানীগুণী সাহাবী বেঁচে থাকা সত্ত্বেও হযরত ওমরের আমল থেকে শুরু করে হাজ্জাজ বিন ইউসুফের শাসনামল পর্যন্ত দীর্ঘ ৬০ বছর ব্যাপী কাযী শুরাইহ মুসলিম জাহানের প্রধান বিচারপতির পদে বহাল থাকেন।