📘 হাদীসের কিসসা > 📄 স্বামী-স্ত্রীর আচরণে সহনশীলতা

📄 স্বামী-স্ত্রীর আচরণে সহনশীলতা


বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে হযরত ওমর (রাঃ) এর নিকট নালিশ করতে ও তাঁর পরামর্শ নিতে এলো। এসে হযরত ওমরের (রাঃ) বাস ভবনের দরজায় দাঁড়াতেই শুনতে পেল তাঁর স্ত্রী অত্যন্ত কর্কশ ভাষায় ও উচ্চস্বরে তাঁকে তিরষ্কার করছে, আর হযরত ওমর নিরবে তা শুনছেন। লোকটি তৎক্ষণাৎ ফিরে যেতে উদ্যত হলো। সে ভাবলো, হযরত ওমরের (রাঃ) মত কঠোর মেজাজের মানুষের যখন এই অবস্থা এবং তিনি খলীফা, তখন আমি আর কে? ঠিক এই সময়ে হযরত ওমর বাইরে বেরিয়ে দেখলেন এক ব্যক্তি তার দরজা থেকে ফিরে যাচ্ছে। তিনি তাকে ডেকে ফেরালেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি জন্য এসেছ? সে বললোঃ "আমীরুল মুমিনীন, আমি আপনার কাছে এসেছিলাম নিজের স্ত্রীর বদমেজাজ ও কঠোর ব্যবহার সম্পর্কে নালিশ করতে। কিন্তু এসে নিজ কানে যা শুনতে পেলাম, তাতে মনে হলো আপনার স্ত্রীরও একই অবস্থা। তাই এই সান্তনা নিয়ে ফিরে যাচ্ছিলাম যে, খোদ্ আমীরুল মুমিনীনের যখন নিজের স্ত্রীর সাথে এরূপ অবস্থা, তখন আমি আর কোথাকার কে?

হযরত ওমর (রাঃ) বললেনঃ ওহে দ্বীনি ভাই, শোন। আমি আমার স্ত্রীর এরূপ আচরণ সহ্য করি দুটি কারণে- প্রথমতঃ আমার কাছে তার অনেক অধিকার পাওনা আছে। দ্বিতীয়তঃ সে আমার খাবার রান্না করে, রুটি বানায়, কাপড় ধোয় এবং আমার সন্তানকে দুধ খাওয়ায়। অথচ এর কোনটি তার কাছে আমার প্রাপ্য নয় এবং সে এগুলো করতে বাধ্য নয়। এ সবের কারণে আমার মনে শান্তি বিরাজ করে এবং আমি হারাম উপার্জন থেকে রক্ষা পাই। এ কারণেই আমি তাকে সহ্য করি। লোকটি বললোঃ হে আমীরুল মুমিনীন, আমার স্ত্রীও তদ্রুপ। হযরত ওমর (রাঃ) বললেনঃ তাহলে সহ্য করতে থাকো ভাই। দুনিয়ার জীবন তো অল্প কটা দিনের!

শিক্ষা : ইসলাম যে নারীর প্রতি কত উদার ও সহনশীল হওয়ার শিক্ষা দেয় তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। এই ঘটনা থেকে শরীয়তের এই বিধিও স্পষ্ট হয়ে যায় যে, নিছক প্রথাগতভাবে আমাদের সমাজে মনে করা হয় যে, রান্না বান্না করা, কাপড় ধোয়া ও গৃহস্থালির যাবতীয় কাজ করা স্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু আসলে তা তার কোন দায়িত্ব ও কর্তব্য নয়। এ সব কাজ করা স্ত্রীর ইচ্ছাধীন। শুধু স্বামী ও সন্তানের মঙ্গলাকাংখা থেকেই স্ত্রীরা নিজের ইচ্ছায় এ সব কাজ করে থাকে। এ সব কাজে কোন ত্রুটি হলে সে জন্য তাকে কোন শাস্তি বা বকাঝকা করা জায়েজ নয়। তবে স্বামীর সম্পদ ও সন্তানের রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান অবশ্যই স্ত্রীর দায়িত্ব।

বর্ণিত আছে যে, এক ব্যক্তি নিজের স্ত্রীর দুর্ব্যবহারে অতিষ্ঠ হয়ে হযরত ওমর (রাঃ) এর নিকট নালিশ করতে ও তাঁর পরামর্শ নিতে এলো। এসে হযরত ওমরের (রাঃ) বাস ভবনের দরজায় দাঁড়াতেই শুনতে পেল তাঁর স্ত্রী অত্যন্ত কর্কশ ভাষায় ও উচ্চস্বরে তাঁকে তিরষ্কার করছে, আর হযরত ওমর নিরবে তা শুনছেন। লোকটি তৎক্ষণাৎ ফিরে যেতে উদ্যত হলো। সে ভাবলো, হযরত ওমরের (রাঃ) মত কঠোর মেজাজের মানুষের যখন এই অবস্থা এবং তিনি খলীফা, তখন আমি আর কে? ঠিক এই সময়ে হযরত ওমর বাইরে বেরিয়ে দেখলেন এক ব্যক্তি তার দরজা থেকে ফিরে যাচ্ছে। তিনি তাকে ডেকে ফেরালেন এবং জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কি জন্য এসেছ? সে বললোঃ "আমীরুল মুমিনীন, আমি আপনার কাছে এসেছিলাম নিজের স্ত্রীর বদমেজাজ ও কঠোর ব্যবহার সম্পর্কে নালিশ করতে। কিন্তু এসে নিজ কানে যা শুনতে পেলাম, তাতে মনে হলো আপনার স্ত্রীরও একই অবস্থা। তাই এই সান্তনা নিয়ে ফিরে যাচ্ছিলাম যে, খোদ্ আমীরুল মুমিনীনের যখন নিজের স্ত্রীর সাথে এরূপ অবস্থা, তখন আমি আর কোথাকার কে?

হযরত ওমর (রাঃ) বললেনঃ ওহে দ্বীনি ভাই, শোন। আমি আমার স্ত্রীর এরূপ আচরণ সহ্য করি দুটি কারণে- প্রথমতঃ আমার কাছে তার অনেক অধিকার পাওনা আছে। দ্বিতীয়তঃ সে আমার খাবার রান্না করে, রুটি বানায়, কাপড় ধোয় এবং আমার সন্তানকে দুধ খাওয়ায়। অথচ এর কোনটি তার কাছে আমার প্রাপ্য নয় এবং সে এগুলো করতে বাধ্য নয়। এ সবের কারণে আমার মনে শান্তি বিরাজ করে এবং আমি হারাম উপার্জন থেকে রক্ষা পাই। এ কারণেই আমি তাকে সহ্য করি। লোকটি বললোঃ হে আমীরুল মুমিনীন, আমার স্ত্রীও তদ্রুপ। হযরত ওমর (রাঃ) বললেনঃ তাহলে সহ্য করতে থাকো ভাই। দুনিয়ার জীবন তো অল্প কটা দিনের!

শিক্ষা : ইসলাম যে নারীর প্রতি কত উদার ও সহনশীল হওয়ার শিক্ষা দেয় তা এই ঘটনা থেকে স্পষ্ট হয়ে যায়। এই ঘটনা থেকে শরীয়তের এই বিধিও স্পষ্ট হয়ে যায় যে, নিছক প্রথাগতভাবে আমাদের সমাজে মনে করা হয় যে, রান্না বান্না করা, কাপড় ধোয়া ও গৃহস্থালির যাবতীয় কাজ করা স্ত্রীর দায়িত্ব ও কর্তব্য। কিন্তু আসলে তা তার কোন দায়িত্ব ও কর্তব্য নয়। এ সব কাজ করা স্ত্রীর ইচ্ছাধীন। শুধু স্বামী ও সন্তানের মঙ্গলাকাংখা থেকেই স্ত্রীরা নিজের ইচ্ছায় এ সব কাজ করে থাকে। এ সব কাজে কোন ত্রুটি হলে সে জন্য তাকে কোন শাস্তি বা বকাঝকা করা জায়েজ নয়। তবে স্বামীর সম্পদ ও সন্তানের রক্ষণাবেক্ষণ ও তত্ত্বাবধান অবশ্যই স্ত্রীর দায়িত্ব।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 রাসূলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যানকারী এক মুরতাদের শাস্তি

📄 রাসূলের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যানকারী এক মুরতাদের শাস্তি


হযরত ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে যে, মদীনায় বিশর নামক একজন মুনাফিক বাস করতো। একবার জনৈক ইহুদীর সাথে তার বিবাদ বেধে যায়। ইহুদী বললোঃ চল, আমরা মুহাম্মাদ (সাঃ) এর কাছে গিয়ে এর মীমাংসা করিয়ে আসি। বিশর প্রথমে এ প্রস্তাবে সম্মত হলো না। সে ইহুদী নেতা কা'ব ইবনে আশরাফের কাছে মীমাংসার জন্য যাওয়ার প্রস্তাব করলো। কা'ব ইবনে আশরাফ ছিল মুসলমানদের কট্টর দুশমন। বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, এই ইহুদী নেতার কাছ থেকে মীমাংসা কামনা করছিল মুসলমান পরিচয় দানকারী বিশর। অথচ ইহুদী লোকটি স্বয়ং রাসূল এর ওপর এর বিচারের ভার অর্পণ করতে চাইছিল। আসলে এর কারণ ছিল এই যে, রাসূল (সাঃ) এর বিচার যে পুরোপুরি ন্যায়সংগত হবে তা উভয়েই জানতো। কিন্তু ন্যায়সংগত মীমাংসা হলে মুনাফিক হেরে যেত, আর ইহুদী জয়লাভ করতো। অনেক তর্ক বিতর্কের পর শেষ পর্যন্ত ইহুদীর মতই স্থির হলো। উভয়ে রাসূল (সাঃ) এর কাছে গিয়ে বিবাদটার মীমাংসার ভার তাঁর ওপর অর্পণ করলো। রাসূল (সাঃ) মামলার ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে ইহুদীর পক্ষে রায় দিলেন এবং বিশর হেরে গেল। সে এ মীমাংসায় মনে মনে অসন্তুষ্ট হয় এবং ইহুদীকে এই মর্মে সম্মত করে যে, বিষয়টির চূড়ান্ত মীমাংসার জন্য তারা হযরত ওমরের নিকট যাবে। বিশর ভেবেছিল যে, হযরত ওমর যেহেতু কাফেরদের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠিন, তাই তিনি ইহুদীর মুকাবিলায় তার পক্ষে রায় দেবেন।

দু'জনেই হযরত ওমরের নিকট উপস্থিত হলো। ইহুদী তাঁকে পুরো ঘটনা জানালো এবং বললো, এ ব্যাপারে রাসূল (সাঃ) যে ফায়সালা করেছেন, তা আমার পক্ষে। কিন্তু এ লোকটি তাতে সম্মত নয়। তাই আমাকে আপনার কাছে নিয়ে এসেছে।

হযরত ওমর বিশরকে জিজ্ঞাসা করলেন, ঘটনা কি এরূপ? সে বললো, হাঁ। তখন হযরত ওমর বললেন, তাহলে একটু অপেক্ষা কর। এই বলে তিনি ঘরের ভেতর থেকে একখানা তলোয়ার নিয়ে এলেন এবং "যে লোক রাসূলের ফায়সালা মেনে নিতে রাযী হয় না, ওমরের কাছে তার ফায়সালা হলো এই......." এই বলে চোখের নিমেষে বিশরকে দ্বিখন্ডিত করে ফেললো।

এরপর বিশরের উত্তরাধিকারীরা রাসূল (সাঃ) এর নিকট হযরত ওমরের বিরুদ্ধে এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করেন যে, তিনি শরীয়ত সম্মত কারণ ব্যতীত একজন মুসলমানকে হত্যা করেছেন। এ সময় রাসূল (সাঃ) এর মুখ দিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কথা বেরিয়ে আসে যে, "ওমর কোন মুসলমানকে হত্যা করার ধৃষ্টতা দেখাতে পারে এটা আমি মনে করি না।"

আসলে হযরত ওমর (রাঃ) তাকে এই মনে করে হত্যা করেছেন যে, সে যখন আল্লাহর রাসূলের ফায়সালা প্রত্যাখ্যান করেছে, তখন সে স্পষ্টতই মুরতাদ ও কাফের হয়ে গেছে। ইসলামী শরীয়তে মুরতাদের সর্বসম্মত শাস্তি যে মৃত্যুদন্ড সেটাই তিনি তাকে দিয়েছিলেন। আর এর অব্যবহিত পর সূরা নিসার ৬০ থেকে ৬৮ নং আয়াত নাযিল হয়ে হযরত ওমরের অভিমতকে সঠিক প্রমাণিত করে।

শিক্ষা: আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর আদেশ, নিষেধ বা সিদ্ধান্তকে যারা প্রকাশ্যভাবে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করে, তাদেরকে মুসলমান বলে মনে করা বৈধ নয়। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত থাকলে এ ধরনের লোকদের মৃত্যুদন্ড দেয়া অপরিহার্য। অন্যথায়, এ ধরনের মুরতাদদেরকে সমাজচ্যুত করা ও নিন্দা প্রতিবাদের মাধ্যমে কোনঠাসা করে রাখতে হবে, যাতে আর কেউ মুরতাদ হওয়ার ধৃষ্ঠতা না দেখায়।

হযরত ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে যে, মদীনায় বিশর নামক একজন মুনাফিক বাস করতো। একবার জনৈক ইহুদীর সাথে তার বিবাদ বেধে যায়। ইহুদী বললোঃ চল, আমরা মুহাম্মাদ (সাঃ) এর কাছে গিয়ে এর মীমাংসা করিয়ে আসি। বিশর প্রথমে এ প্রস্তাবে সম্মত হলো না। সে ইহুদী নেতা কা'ব ইবনে আশরাফের কাছে মীমাংসার জন্য যাওয়ার প্রস্তাব করলো। কা'ব ইবনে আশরাফ ছিল মুসলমানদের কট্টর দুশমন। বিস্ময়ের ব্যাপার এই যে, এই ইহুদী নেতার কাছ থেকে মীমাংসা কামনা করছিল মুসলমান পরিচয় দানকারী বিশর। অথচ ইহুদী লোকটি স্বয়ং রাসূল এর ওপর এর বিচারের ভার অর্পণ করতে চাইছিল। আসলে এর কারণ ছিল এই যে, রাসূল (সাঃ) এর বিচার যে পুরোপুরি ন্যায়সংগত হবে তা উভয়েই জানতো। কিন্তু ন্যায়সংগত মীমাংসা হলে মুনাফিক হেরে যেত, আর ইহুদী জয়লাভ করতো। অনেক তর্ক বিতর্কের পর শেষ পর্যন্ত ইহুদীর মতই স্থির হলো। উভয়ে রাসূল (সাঃ) এর কাছে গিয়ে বিবাদটার মীমাংসার ভার তাঁর ওপর অর্পণ করলো। রাসূল (সাঃ) মামলার ব্যাপক তদন্ত চালিয়ে ইহুদীর পক্ষে রায় দিলেন এবং বিশর হেরে গেল। সে এ মীমাংসায় মনে মনে অসন্তুষ্ট হয় এবং ইহুদীকে এই মর্মে সম্মত করে যে, বিষয়টির চূড়ান্ত মীমাংসার জন্য তারা হযরত ওমরের নিকট যাবে। বিশর ভেবেছিল যে, হযরত ওমর যেহেতু কাফেরদের ব্যাপারে অত্যন্ত কঠিন, তাই তিনি ইহুদীর মুকাবিলায় তার পক্ষে রায় দেবেন।

দু'জনেই হযরত ওমরের নিকট উপস্থিত হলো। ইহুদী তাঁকে পুরো ঘটনা জানালো এবং বললো, এ ব্যাপারে রাসূল (সাঃ) যে ফায়সালা করেছেন, তা আমার পক্ষে। কিন্তু এ লোকটি তাতে সম্মত নয়। তাই আমাকে আপনার কাছে নিয়ে এসেছে।

হযরত ওমর বিশরকে জিজ্ঞাসা করলেন, ঘটনা কি এরূপ? সে বললো, হাঁ। তখন হযরত ওমর বললেন, তাহলে একটু অপেক্ষা কর। এই বলে তিনি ঘরের ভেতর থেকে একখানা তলোয়ার নিয়ে এলেন এবং "যে লোক রাসূলের ফায়সালা মেনে নিতে রাযী হয় না, ওমরের কাছে তার ফায়সালা হলো এই......." এই বলে চোখের নিমেষে বিশরকে দ্বিখন্ডিত করে ফেললো।

এরপর বিশরের উত্তরাধিকারীরা রাসূল (সাঃ) এর নিকট হযরত ওমরের বিরুদ্ধে এই মর্মে অভিযোগ দায়ের করেন যে, তিনি শরীয়ত সম্মত কারণ ব্যতীত একজন মুসলমানকে হত্যা করেছেন। এ সময় রাসূল (সাঃ) এর মুখ দিয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ কথা বেরিয়ে আসে যে, "ওমর কোন মুসলমানকে হত্যা করার ধৃষ্টতা দেখাতে পারে এটা আমি মনে করি না।"

আসলে হযরত ওমর (রাঃ) তাকে এই মনে করে হত্যা করেছেন যে, সে যখন আল্লাহর রাসূলের ফায়সালা প্রত্যাখ্যান করেছে, তখন সে স্পষ্টতই মুরতাদ ও কাফের হয়ে গেছে। ইসলামী শরীয়তে মুরতাদের সর্বসম্মত শাস্তি যে মৃত্যুদন্ড সেটাই তিনি তাকে দিয়েছিলেন। আর এর অব্যবহিত পর সূরা নিসার ৬০ থেকে ৬৮ নং আয়াত নাযিল হয়ে হযরত ওমরের অভিমতকে সঠিক প্রমাণিত করে।

শিক্ষা: আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূল (সাঃ) এর আদেশ, নিষেধ বা সিদ্ধান্তকে যারা প্রকাশ্যভাবে অস্বীকার ও প্রত্যাখ্যান করে, তাদেরকে মুসলমান বলে মনে করা বৈধ নয়। ইসলামী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত থাকলে এ ধরনের লোকদের মৃত্যুদন্ড দেয়া অপরিহার্য। অন্যথায়, এ ধরনের মুরতাদদেরকে সমাজচ্যুত করা ও নিন্দা প্রতিবাদের মাধ্যমে কোনঠাসা করে রাখতে হবে, যাতে আর কেউ মুরতাদ হওয়ার ধৃষ্ঠতা না দেখায়।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 জাবালার ঔদ্ধত্য ও হযরত ওমর (রাঃ)

📄 জাবালার ঔদ্ধত্য ও হযরত ওমর (রাঃ)


একবার হযরত ওমর (রাঃ) হজ্জ করতে মক্কায় এলেন। তিনি কা'বার চারপাশে তওয়াফ করছিলেন। তাঁর সাথে সাথে একই কাতারে তওয়াফ করছিলেন সদ্য ইসলাম গ্রহণকারী প্রতিবেশী এক রাজা জাবালা ইবনে আইহাম। জাবালা কা'বার চারপাশ প্রদক্ষিণ করার সময় সহসা আরেক তওয়াফকারী জনৈক দরিদ্র আরব বেদুঈনের পায়ের তলে চাপা পড়ে জাবালার বহু মূল্যবান ইহরামের চাদরের এক কোণা। চাদরটি রাজার কাঁধের ওপর থেকে টান লেগে নীচে পড়ে যায়।

ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন জাবালা। লোকটির কোন ওজর আপত্তি না শুনে জাবালা তার গালে প্রবল জোরে এক চড় বসিয়ে দেন।

লোকটি তৎক্ষণাৎ খলিফার নিকট গিয়ে নালিশ করে এবং এই অন্যায়ের বিচার চায়। খলিফা জাবালাকে তৎক্ষণাৎ ডেকে পাঠান এবং জিজ্ঞাসা করেন যে, অভিযোগ সত্য কিনা। জাবালা উদ্ধত স্বরে জবাব দেন, "সম্পূর্ণ সত্য। এই পাজিটা আমার চাদর পদদলিত করে আল্লাহর ঘরের সামনে আমাকে প্রায় উলংগ করে দিয়েছে।"

খলিফা দৃঢ়তার সাথে জবাব দেন, "কিন্তু এটা ছিল একটা দুর্ঘটনা।" জাবালা স্পর্ধিত কন্ঠে বললেন, "আমি তার পরোয়া করিনে। কা'বা শরীফের সম্মানের খাতিরে ও কা'বার চত্তরে রক্তপাত নিষিদ্ধ থাকার কারণে আমি যথেষ্ট ক্রোধ সংবরণ করেছি। নচেত ওকে আমি চপেটাঘাত নয় হত্যাই করতাম।"

জাবালা হযরত ওমরের একজন শক্তিশালী মিত্র ও ব্যক্তিগত বন্ধু ছিলেন। খলিফা তাই একটু থামলেন এবং কিছু চিন্তাভাবনা করলেন। অতঃপর শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, "জাবালা, তুমি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছ। এখন বাদী ক্ষমা না করলে তোমাকে ইসলামী আইনের শাস্তি মাথা পেতে নিতে হবে এবং বাদীর হাতে পাল্টা একটা চপেটাঘাত খেতে হবে।”

স্তম্ভিত হয়ে জাবালা বললেন, "আমি একজন রাজা। আর ও হচ্ছে একজন সাধারণ কৃষক।”

হযরত ওমর (রাঃ) বললেন, "তোমরা উভয়ে মুসলমান এবং আইনের চোখে সবাই সমান।"

জাবালা বললো, "যে ধর্মে রাজা ও একজন সাধারণ প্রজাকে সমান চোখে দেখা হয়, আমি তার আনুগত্য করতে পারিনে। ঐ চাষা যদি আমাকে চপেটাঘাত করে, তবে আমি ইসলাম ত্যাগ করবো।” (নাউযু বিল্লাহ)

হযরত ওমর ততোধিক কঠোর স্বরে জবাব দিলেন, "তোমার মত হাজার জাবালাও যদি ইসলাম ত্যাগ করে চলে যায়, তবে সেই ভয়ে ইসলামের একটি ক্ষুদ্রতম বিধিও লংঘিত হতে পারে না। তোমাকে এ শাস্তি পেতেই হবে। আর এ কথাও জেনে রেখ যে, ইসলাম কাউকে জোরপূর্বক মুসলমান বানায় না। তোমাকেও বানায়নি। কিন্তু ইসলাম ত্যাগ করা সহজ নয়। মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড।”

হযরত ওমরের শেষোক্ত কথাটা শুনে জাবালা রাগে ও ভয়ে ঠক্ ঠক্ করে কাঁপতে লাগলো। হযরত ওমরের নির্দেশে বাদী তৎক্ষণাত জাবালার মুখে ঠাস্ করে একটি চড় বসিয়ে দিয়ে প্রতিশোধ নিয়ে নিল।

জাবালা ক্রোধে চক্ষু লাল করে বাদীর দিকে একবার তাকালো। অতঃপর রাগে গরগর করতে করতে কা'বার চত্তর ত্যাগ করে নীরবে চলে গেল। জানা যায়, এরপর জাবালা ইবনে আইহাম ইসলাম ত্যাগ করে প্রাণের ভয়ে সোজা রোম সম্রাটের কাছে গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং সেখানেই জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলো কাটায়।

একবার হযরত ওমর (রাঃ) হজ্জ করতে মক্কায় এলেন। তিনি কা'বার চারপাশে তওয়াফ করছিলেন। তাঁর সাথে সাথে একই কাতারে তওয়াফ করছিলেন সদ্য ইসলাম গ্রহণকারী প্রতিবেশী এক রাজা জাবালা ইবনে আইহাম। জাবালা কা'বার চারপাশ প্রদক্ষিণ করার সময় সহসা আরেক তওয়াফকারী জনৈক দরিদ্র আরব বেদুঈনের পায়ের তলে চাপা পড়ে জাবালার বহু মূল্যবান ইহরামের চাদরের এক কোণা। চাদরটি রাজার কাঁধের ওপর থেকে টান লেগে নীচে পড়ে যায়।

ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে ওঠেন জাবালা। লোকটির কোন ওজর আপত্তি না শুনে জাবালা তার গালে প্রবল জোরে এক চড় বসিয়ে দেন।

লোকটি তৎক্ষণাৎ খলিফার নিকট গিয়ে নালিশ করে এবং এই অন্যায়ের বিচার চায়। খলিফা জাবালাকে তৎক্ষণাৎ ডেকে পাঠান এবং জিজ্ঞাসা করেন যে, অভিযোগ সত্য কিনা। জাবালা উদ্ধত স্বরে জবাব দেন, "সম্পূর্ণ সত্য। এই পাজিটা আমার চাদর পদদলিত করে আল্লাহর ঘরের সামনে আমাকে প্রায় উলংগ করে দিয়েছে।"

খলিফা দৃঢ়তার সাথে জবাব দেন, "কিন্তু এটা ছিল একটা দুর্ঘটনা।" জাবালা স্পর্ধিত কন্ঠে বললেন, "আমি তার পরোয়া করিনে। কা'বা শরীফের সম্মানের খাতিরে ও কা'বার চত্তরে রক্তপাত নিষিদ্ধ থাকার কারণে আমি যথেষ্ট ক্রোধ সংবরণ করেছি। নচেত ওকে আমি চপেটাঘাত নয় হত্যাই করতাম।"

জাবালা হযরত ওমরের একজন শক্তিশালী মিত্র ও ব্যক্তিগত বন্ধু ছিলেন। খলিফা তাই একটু থামলেন এবং কিছু চিন্তাভাবনা করলেন। অতঃপর শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে বললেন, "জাবালা, তুমি নিজের অপরাধ স্বীকার করেছ। এখন বাদী ক্ষমা না করলে তোমাকে ইসলামী আইনের শাস্তি মাথা পেতে নিতে হবে এবং বাদীর হাতে পাল্টা একটা চপেটাঘাত খেতে হবে।”

স্তম্ভিত হয়ে জাবালা বললেন, "আমি একজন রাজা। আর ও হচ্ছে একজন সাধারণ কৃষক।”

হযরত ওমর (রাঃ) বললেন, "তোমরা উভয়ে মুসলমান এবং আইনের চোখে সবাই সমান।"

জাবালা বললো, "যে ধর্মে রাজা ও একজন সাধারণ প্রজাকে সমান চোখে দেখা হয়, আমি তার আনুগত্য করতে পারিনে। ঐ চাষা যদি আমাকে চপেটাঘাত করে, তবে আমি ইসলাম ত্যাগ করবো।” (নাউযু বিল্লাহ)

হযরত ওমর ততোধিক কঠোর স্বরে জবাব দিলেন, "তোমার মত হাজার জাবালাও যদি ইসলাম ত্যাগ করে চলে যায়, তবে সেই ভয়ে ইসলামের একটি ক্ষুদ্রতম বিধিও লংঘিত হতে পারে না। তোমাকে এ শাস্তি পেতেই হবে। আর এ কথাও জেনে রেখ যে, ইসলাম কাউকে জোরপূর্বক মুসলমান বানায় না। তোমাকেও বানায়নি। কিন্তু ইসলাম ত্যাগ করা সহজ নয়। মুরতাদের শাস্তি মৃত্যুদন্ড।”

হযরত ওমরের শেষোক্ত কথাটা শুনে জাবালা রাগে ও ভয়ে ঠক্ ঠক্ করে কাঁপতে লাগলো। হযরত ওমরের নির্দেশে বাদী তৎক্ষণাত জাবালার মুখে ঠাস্ করে একটি চড় বসিয়ে দিয়ে প্রতিশোধ নিয়ে নিল।

জাবালা ক্রোধে চক্ষু লাল করে বাদীর দিকে একবার তাকালো। অতঃপর রাগে গরগর করতে করতে কা'বার চত্তর ত্যাগ করে নীরবে চলে গেল। জানা যায়, এরপর জাবালা ইবনে আইহাম ইসলাম ত্যাগ করে প্রাণের ভয়ে সোজা রোম সম্রাটের কাছে গিয়ে আশ্রয় নেয় এবং সেখানেই জীবনের অবশিষ্ট দিনগুলো কাটায়।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 হযরত খাব্বাব (রাঃ) এর ত্যাগ ও কুরবানী

📄 হযরত খাব্বাব (রাঃ) এর ত্যাগ ও কুরবানী


হযরত ওমর (রাঃ) ইসলাম গ্রহণের পূর্বে নগ্ন তরবারী হাতে নিয়ে যেদিন রাসূল (সাঃ) কে হত্যা করতে রওয়ানা হয়েছিলেন, সেইদিন পথিমধ্যে নিজের বোন ও ভগ্নিপতির ইসলাম গ্রহণের খবর পেয়ে সাময়িকভাবে গন্তব্য স্থান পরিবর্তন করেন এবং প্রথমে বোন ভগ্নিপতিকে ইসলাম গ্রহণের শাস্তি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বোনের বাড়ীতে গিয়ে দেখতে পান তারা কুরআন পড়ছে। আর যে ব্যক্তি কুরআন পড়াচ্ছিল তিনি ছিলেন বিশিষ্ট সাহাবী খাব্বাব ইবনুল আরত। হযরত ওমর বাড়ীতে প্রবেশ করা মাত্রই খাব্বাব প্রাণভয়ে আত্মগোপন করেন। কেননা বোন ভগ্নিপতি রক্তের টানে প্রাণে রক্ষা পেলেও সেদিন খাব্বাবের বাঁচার কোন আশা ছিলনা ওমরের নগ্ন তরবারী থেকে। সেদিন যা হবার তা হলো। প্রথম সাক্ষাতে বোন ভগ্নিপতি কিছু মার খেলেও কুরআনের আয়াত ক'টি পড়ে তাঁর আমূল পরিবর্তন ঘটে এবং তিনি রাসূলের (সাঃ) কাছে গিয়ে ইসলাম গ্রহণ করেন। খাব্বাবের সাথে হযরত ওমরের সেইদিন হয়েছিল প্রথম সাক্ষাত। তারপর দরিদ্র খাব্বাবের ওপর মক্কার কোরেশদের আরো অনেক নির্যাতন হয়েছে। হযরত ওমর শুনেছেন, কিন্তু প্রতিকার করতে পারেননি।

কিন্তু আজ সম্পূর্ণ ভিন্ন পরিবেশে হযরত ওমরের সামনে বসে আছেন, মহান ত্যাগী সাহাবী খাব্বাব। আজ ইসলাম বিজয়ী আসনে অধিষ্ঠিত। হযরত ওমর আজ মুসলিম জাহানের দ্বিতীয় খলিফা। তাওহীদ ও রিসালাতের সাথে সংঘর্ষে কুফর ও শিরক চূর্ণবিচূর্ণ হয়ে গেছে। জাহেলিয়াতের অন্ধকার দূর হয়ে ইসলামের আলোয় চারদিক উদ্ভাসিত। কিন্তু হযরত ওমরের (রাঃ) প্রবল ইচ্ছা, খাব্বাবের সেই নির্যাতনের কাহিনীগুলো শুনবেন। তাই জিজ্ঞাসা করলেন, "ইসলাম গ্রহণের পর আপনার ওপর কি ধরনের নির্যাতন হয়েছে, একটু বলবেন?"

হযরত ওমরের প্রশ্ন হযরত খাব্বাবকে আবার দূর অতীতে টেনে নিয়ে গেল এবং মক্কার ১৩ বছরের সেই রক্তক্ষরা দিনগুলোকে তার চোখের সামনে হাজির করলো। সে নির্যাতন ঈমান ও একীনে উজ্জীবিত মর্দে মুমিনরা ছাড়া আর কেউ তেরো বছর তো দূরের কথা, তেরো দিনও বরদাশত করতে পারতো না। হযরত খাব্বাব কোন্ কাহিনী দিয়ে শুরু করবেন এবং কোন্টা বাদ দিয়ে কোন্টা বলবেন। তাই ভেবে ভেবে কয়েক মুহূর্ত নিরবে কাটিয়ে দিলেন। শেষে বলতে চেয়েও বলতে পারলেন না। অবশেষে প্রশ্নের জবাব না দিয়ে নিজের জামা খুলে কোমরের একটি অংশ আমীরুল মুমিনীনকে দেখালেন। জায়গাটা ছিল যখমের চিহ্নে পরিপূর্ণ। আমীরুল মুমিনীন দেখা মাত্র চিৎকার করে বলে উঠলেন:

"আল্লাহু আকবার! এই নাকি আপনার কোমর। আমি তো আজ পর্যন্ত কোন মানুষের এমন কোমর দেখিনি।"

খাব্বাব বললেন, "জি, আমীরুল মুমিনীন, কতবার যে আমাকে লোহার বর্মসহ তপ্ত মরুভূমিতে টেনে হিচড়ে বেড়ানো হয়েছে এবং কতবার যে আমার কোমরের চর্বিতে ওদের আগুন নিভেছে, তা আমি স্মরণ করতে পারিনা। তারপর আল্লাহর শোকর যে, একদিন আমরা সমস্ত নির্যাতন থেকে মুক্তি পেলাম।"

সহসা হযরত খাব্বার কান্না শুরু করে দিলেন।

হযরত ওমর বললেন, "খাব্বাব, আজ কেন কাঁদছেন?"

হযরত খাব্বাব চোখের পানি ফেলতে ফেলতে জবাব দিলেন: "আমি কাঁদছি এজন্য যে, জেহাদের পর জেহাদ করে বিজয় অর্জন করার পর আল্লাহ আমাদের জন্য সুখ সমৃদ্ধি ও ধন দৌলতের দ্বার খুলে দিয়েছেন। আমাদের মাথার ওপর সম্মান ও মর্যাদার পতাকা উড়ছে। আমার আশংকা হয় যে আমাদের ক্ষুদ্র ও সৎ কাজগুলোর প্রতিদান দুনিয়াতেই দিয়ে দেয়া হচ্ছে কিনা এবং আখেরাতে আমাদের খালি হাতে উঠতে হবে কিনা।"

এই নিঃস্বার্থ ত্যাগী পুরুষ ইন্তিকালের সময় ওসিয়ত করেন, "আমাকে তোমরা লোকালয়ে নয়, কুফার জংগলে কবর দিও। জংগল আমাকে ডাকছে।"

তাঁর ইন্তিকালের পর একদিন হযরত আলী তাঁর কবরের কাছ দিয়ে যাওয়ার সময় চোখের পানি ফেলতে ফেলতে বললেন, "আল্লাহ খাব্বাবের ওপর রহমত করুন। তিনি সেচ্ছায় ও সানন্দে ইসলাম গ্রহণ করেন, সানন্দে হিজরত করেন, জেহাদে জীবন কাটান এবং মুসিবতের পর মুসিবত বরদাশত করেন। অথচ নিজের প্রয়োজনের চেয়ে এক চুল পরিমাণও বেশী সম্পদ যোগাড় করেননি।"

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00