📘 হাদীসের কিসসা > 📄 খলিফার আখলাক

📄 খলিফার আখলাক


[ক] হযরত আবু বকর ছিদ্দীক (রাঃ) যেদিন খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, সেইদিনই সকালে কাপড়ের বড় একটা পুটুলি মাথায় করে বাড়ী থেকে বেরুলেন। পথে হযরত ওমরের সাথে তার দেখা হলো। ওমর জিজ্ঞাসা করলেন, ওহে রাসূলুল্লাহর খলীফা, আপনি কোথায় চলেছেন?

হযরত আবু বকর বললেন, বাজারে।

হযরত ওমর বললেন, আপনি মুসলমানদের শাসনভার গ্রহণ করেছেন। এখন বাজারে আপনার কি কাজ?

আবু বকর বললেন, বাজারে না গেলে আমার ছেলেমেয়েকে খাওয়াবো কোথেকে? নিজের ছেলেমেয়েদেরকে যদি আমি খাবার না দিতে পারি তাহলে গোটা দেশের মুসলমানদেবকেও তো খাবার দিতে পারবো না।

ওমর বললেন, চলুন, মসজিদে নববীতে যাই। সবার সাথে আলোচনা করে আপনার ও আপনার পরিবারের খোরপোষের কি ব্যবস্থা করা যায়, যাতে আপনি দেশের কল্যাণ সাধন ও খিলাফতের দায়িত্ব পালনে একাগ্রচিত্তে কাজ করতে পারেন। মসজিদে গিয়ে আবু বকর ও ওমর বাইতুল মালের সচিব আবু ওবায়দা ইবনুল জাররাহ ও আরো কিছু সংখ্যক সাহাবীর সাথে বৈঠকে বসলেন এবং ওমর তাঁর অভিমত পেশ করলেন। তখন সকলে আবু বকর ও তার পরিবারের জন্য প্রচলিত নিয়মে যতটা দরকার খোরপোষ বরাদ্দ করলেন।

শিক্ষা : মুসলমানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরকে এরূপ বেতনভাতা দেওয়া উচিত, যাতে তারা মৌ লিক প্রয়োজনের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থেকে একাগ্র চিত্তে কাজ করতে পারে এবং কোন দূর্নীতিতে লিপ্ত হতে বাধ্য না হয়।

[খ] খলীফা হওয়ার পর হযরত ওমর (রাঃ) রাত জেগে এই বলে কাঁদতেন যে, আল্লার কসম, আমার শাসনকালে ছাগলও যদি নদীর কিনারে অযত্নে পড়ে থাকে, তবে আমার আশংকা হয় যে, কিয়ামতের দিন তার সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হবে।

একবার তিনি একজন সঙ্গীকে নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এক মহিলা তাকে ডেকে থামালো। তারপর বললো, একদিন তুমি শিশু ওমর ছিলে, এখন তুমি বয়স্ক ওমর হয়েছ। কাল তুমি ওমর ছিলে, আজ হয়েছ মুসলমানদের খলীফা। হে ওমর, আল্লাহ তোমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পন করেছেন, সে ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর।

মহিলার কথা শুনে ওমর অঝোরে কাঁদতে লাগলেন। খলীফার সঙ্গী মহিলাকে বললো, ওহে আল্লাহর বান্দী, একটু সংযত হয়ে কথা বলুন। যিনি এই পৃথিবীতে আল্লাহর রাসূলের খলীফা, তাঁকে আপনি কাঁদিয়ে ফেললেন।

ওমর বললেন, “ওহে আমার সহযাত্রী, এ মহিলাকে বলতে দাও। উনি হচ্ছেন সেই খাওলা বিনতে হাকীম, যার কথা স্বয়ং আল্লাহও শুনেছেন এবং পবিত্র কুরআনে তা বর্ণনাও করেছেন, “হে রাসূল, সেই মহিলার কথা আল্লাহ শুনেছেন যে তোমার সাথে তার স্বামীর ব্যাপারে বাকবিতন্ডা করে এবং আল্লাহর কাছে অভিযোগ করে। আল্লাহ তোমাদের উভয়ের আলাপ আলোচনা শ্রবণ করেন।” সুতরাং খাত্তাবের পুত্র ওমরকে তার কথা শুনতেই হবে।”

শিক্ষাঃ শাসকদের কর্তব্য প্রজাদের যাবতীয় অভিযোগ-অনুযোগ ধৈর্য সহকারে শ্রবণ করা ও যথাসাধ্য প্রতিকার করা।

[ক] হযরত আবু বকর ছিদ্দীক (রাঃ) যেদিন খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, সেইদিনই সকালে কাপড়ের বড় একটা পুটুলি মাথায় করে বাড়ী থেকে বেরুলেন। পথে হযরত ওমরের সাথে তার দেখা হলো। ওমর জিজ্ঞাসা করলেন, ওহে রাসূলুল্লাহর খলীফা, আপনি কোথায় চলেছেন?

হযরত আবু বকর বললেন, বাজারে।

হযরত ওমর বললেন, আপনি মুসলমানদের শাসনভার গ্রহণ করেছেন। এখন বাজারে আপনার কি কাজ?

আবু বকর বললেন, বাজারে না গেলে আমার ছেলেমেয়েকে খাওয়াবো কোথেকে? নিজের ছেলেমেয়েদেরকে যদি আমি খাবার না দিতে পারি তাহলে গোটা দেশের মুসলমানদেবকেও তো খাবার দিতে পারবো না।

ওমর বললেন, চলুন, মসজিদে নববীতে যাই। সবার সাথে আলোচনা করে আপনার ও আপনার পরিবারের খোরপোষের কি ব্যবস্থা করা যায়, যাতে আপনি দেশের কল্যাণ সাধন ও খিলাফতের দায়িত্ব পালনে একাগ্রচিত্তে কাজ করতে পারেন। মসজিদে গিয়ে আবু বকর ও ওমর বাইতুল মালের সচিব আবু ওবায়দা ইবনুল জাররাহ ও আরো কিছু সংখ্যক সাহাবীর সাথে বৈঠকে বসলেন এবং ওমর তাঁর অভিমত পেশ করলেন। তখন সকলে আবু বকর ও তার পরিবারের জন্য প্রচলিত নিয়মে যতটা দরকার খোরপোষ বরাদ্দ করলেন।

শিক্ষা : মুসলমানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরকে এরূপ বেতনভাতা দেওয়া উচিত, যাতে তারা মৌ লিক প্রয়োজনের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থেকে একাগ্র চিত্তে কাজ করতে পারে এবং কোন দূর্নীতিতে লিপ্ত হতে বাধ্য না হয়।

[খ] খলীফা হওয়ার পর হযরত ওমর (রাঃ) রাত জেগে এই বলে কাঁদতেন যে, আল্লার কসম, আমার শাসনকালে ছাগলও যদি নদীর কিনারে অযত্নে পড়ে থাকে, তবে আমার আশংকা হয় যে, কিয়ামতের দিন তার সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হবে।

একবার তিনি একজন সঙ্গীকে নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এক মহিলা তাকে ডেকে থামালো। তারপর বললো, একদিন তুমি শিশু ওমর ছিলে, এখন তুমি বয়স্ক ওমর হয়েছ। কাল তুমি ওমর ছিলে, আজ হয়েছ মুসলমানদের খলীফা। হে ওমর, আল্লাহ তোমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পন করেছেন, সে ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর।

মহিলার কথা শুনে ওমর অঝোরে কাঁদতে লাগলেন। খলীফার সঙ্গী মহিলাকে বললো, ওহে আল্লাহর বান্দী, একটু সংযত হয়ে কথা বলুন। যিনি এই পৃথিবীতে আল্লাহর রাসূলের খলীফা, তাঁকে আপনি কাঁদিয়ে ফেললেন।

ওমর বললেন, “ওহে আমার সহযাত্রী, এ মহিলাকে বলতে দাও। উনি হচ্ছেন সেই খাওলা বিনতে হাকীম, যার কথা স্বয়ং আল্লাহও শুনেছেন এবং পবিত্র কুরআনে তা বর্ণনাও করেছেন, “হে রাসূল, সেই মহিলার কথা আল্লাহ শুনেছেন যে তোমার সাথে তার স্বামীর ব্যাপারে বাকবিতন্ডা করে এবং আল্লাহর কাছে অভিযোগ করে। আল্লাহ তোমাদের উভয়ের আলাপ আলোচনা শ্রবণ করেন।” সুতরাং খাত্তাবের পুত্র ওমরকে তার কথা শুনতেই হবে।”

শিক্ষাঃ শাসকদের কর্তব্য প্রজাদের যাবতীয় অভিযোগ-অনুযোগ ধৈর্য সহকারে শ্রবণ করা ও যথাসাধ্য প্রতিকার করা।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 হযরত আবু বকরের খোদাভীতি

📄 হযরত আবু বকরের খোদাভীতি


সহীহ আল বুখারীতে বর্ণিত আছে যে, হযরত আবু বকর (রাঃ) এর একজন গোলাম ছিল। সে হযরত আবু বকরকে মুক্তিপণ হিসাবে কিছু অর্থ দেয়ার শর্তে মুক্তি চাইলে তিনি তাতে সম্মত হন। অতঃপর সে প্রতিদিন তার মুক্তিপণের কিছু অংশ নিয়ে আসতো। হযরত আবু বকর তাকে জিজ্ঞেস করতেন, কিভাবে এটা উপার্জন করে এনেছ? সে যদি সন্তোষজক জবাব দিত তবে তা গ্রহণ ও ভোগ করতেন, নচেত করতেন না। একদিন সে রাতের বেলায় তাঁর জন্য কিছু খাবার জিনিস নিয়ে এল। সেদিন তিনি রোজা ছিলেন। তাই তাকে ঐ খাদ্যের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ভুলে গেলেন এবং এক লোকমা খেয়ে নিলেন। তাঁরপর তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এ খাবার তুমি কিভাবে সংগ্রহ করেছ? সে বললোঃ আমি জাহেলিয়াত আমলে লোকের ভাগ্যগণনা করতাম। আমি ভালো গণনা করতে পারতাম না। কেবল ধোকা দিতাম। এ খাদ্য সেই ভাগ্যগণনার উপার্জিত অর্থ দ্বারা সংগ্রহীত। হযরত আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ কী সর্বনাশ! তুমি তো আমাকে ধ্বংস করে ফেলার উপক্রম করেছ। তারপর গলায় আঙ্গুল ঢুকিয়ে বমি করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু বমিতে খাওয়া জিনিস বেরুলোনা। তখন তিনি পানি চাইলেন। পানি খেয়ে খেয়ে সমস্ত ভুক্ত দ্রব্য পেট থেকে বের করে দিলেন। লোকেরা বললোঃ আল্লাহ আপনার ওপর দয়া করুন। ঐ এক লোকমা খাওয়ার কারণেই কি এত সব? হযরত আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ ঐ খাদ্য বের করার জন্য যদি আমাকে মৃত্যুবরণও করতে হতো, তবুও আমি বের করে ছাড়তাম। কেননা আমি শুনেছি, রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ “যে দেহ হারাম খাদ্য দ্বারা গড়ে ওঠে তার জন্য দোজখের আগুনই উত্তম।” তাই আমি আশংকা করছিলাম যে এই এক লোকমা খাদ্য দ্বারা আমার শরীরের কিছু অংশ গঠিত হতে পারে।

শিক্ষা : আখেরাতের কঠিন ও অবধারিত শাস্তির কথা মনে রেখে সব সময় হালাল-হারাম বাছ-বিচার করে চলা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।

সহীহ আল বুখারীতে বর্ণিত আছে যে, হযরত আবু বকর (রাঃ) এর একজন গোলাম ছিল। সে হযরত আবু বকরকে মুক্তিপণ হিসাবে কিছু অর্থ দেয়ার শর্তে মুক্তি চাইলে তিনি তাতে সম্মত হন। অতঃপর সে প্রতিদিন তার মুক্তিপণের কিছু অংশ নিয়ে আসতো। হযরত আবু বকর তাকে জিজ্ঞেস করতেন, কিভাবে এটা উপার্জন করে এনেছ? সে যদি সন্তোষজক জবাব দিত তবে তা গ্রহণ ও ভোগ করতেন, নচেত করতেন না। একদিন সে রাতের বেলায় তাঁর জন্য কিছু খাবার জিনিস নিয়ে এল। সেদিন তিনি রোজা ছিলেন। তাই তাকে ঐ খাদ্যের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ভুলে গেলেন এবং এক লোকমা খেয়ে নিলেন। তাঁরপর তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এ খাবার তুমি কিভাবে সংগ্রহ করেছ? সে বললোঃ আমি জাহেলিয়াত আমলে লোকের ভাগ্যগণনা করতাম। আমি ভালো গণনা করতে পারতাম না। কেবল ধোকা দিতাম। এ খাদ্য সেই ভাগ্যগণনার উপার্জিত অর্থ দ্বারা সংগ্রহীত। হযরত আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ কী সর্বনাশ! তুমি তো আমাকে ধ্বংস করে ফেলার উপক্রম করেছ। তারপর গলায় আঙ্গুল ঢুকিয়ে বমি করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু বমিতে খাওয়া জিনিস বেরুলোনা। তখন তিনি পানি চাইলেন। পানি খেয়ে খেয়ে সমস্ত ভুক্ত দ্রব্য পেট থেকে বের করে দিলেন। লোকেরা বললোঃ আল্লাহ আপনার ওপর দয়া করুন। ঐ এক লোকমা খাওয়ার কারণেই কি এত সব? হযরত আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ ঐ খাদ্য বের করার জন্য যদি আমাকে মৃত্যুবরণও করতে হতো, তবুও আমি বের করে ছাড়তাম। কেননা আমি শুনেছি, রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ “যে দেহ হারাম খাদ্য দ্বারা গড়ে ওঠে তার জন্য দোজখের আগুনই উত্তম।” তাই আমি আশংকা করছিলাম যে এই এক লোকমা খাদ্য দ্বারা আমার শরীরের কিছু অংশ গঠিত হতে পারে।

শিক্ষা : আখেরাতের কঠিন ও অবধারিত শাস্তির কথা মনে রেখে সব সময় হালাল-হারাম বাছ-বিচার করে চলা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 হযরত আবু বকরের (রাঃ) জনসেবা

📄 হযরত আবু বকরের (রাঃ) জনসেবা


হযরত আবু বকর (রাঃ) কে খলীফা নিযুক্ত করা হয়েছে একথা যখন ঘোষণা করা হলো তখন মহল্লার একটা গরীব মেয়ে অস্থির হয়ে পড়লো। লোকেরা জিজ্ঞাসা করলো যে, আবু বকর (রাঃ) খলীফা হয়েছেন, তাতে তোমার কি অসুবিধা হয়েছে। মেয়েটি বললো, "আমাদের ছাগলগুলোর কী হবে?" জিজ্ঞাসা করা হলো, "তার অর্থ?" সে বললো, এখনতো উনি খলীফা হয়ে গেছেন। আমাদের ছাগল ক'টার দেখাশুনাই বা কে করবে, ওগুলোর দুধই বা কে দুইয়ে দেবে? এ কথার কোন জবাব দেয়া কারো পক্ষে সম্ভব হলো না। কিন্তু পরদিন খুব ভোরে মেয়েটি অবাক হয়ে দেখলো যে, হযরত আবু বকর (রাঃ) যথাসময়ে তাদের বাড়ীতে গেছেন এবং দুধ দোহাচ্ছেন। আর যাওয়ার সময় বলে গেলেন, "মা, তুমি একটুও চিন্তা করো না। আমি প্রতিদিন এভাবেই তোমার কাজ করে দিয়ে যাবো।" তাবাকাতে ইবনে সা'দে আছে যে, মেয়েটির বিচলিত হওয়ার খবর শুনে হযরত আবু বকর (রাঃ) বলেছিলেন, আমি আশা করি খেলাফতের দায়িত্ব আমার আল্লাহর বান্দাদের সেবার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। আমি এখনো ঐ দরিদ্র মেয়েটির ছাগল দোহন করে দিয়ে আসবো ইনশা আল্লাহ।

ইবনে আসাকের লিখেছেন যে, আবু বকর (রাঃ) খেলাফতের পূর্বে তিন বছর এবং খেলাফতের পরে এক বছর পর্যন্ত মহল্লার দরিদ্র পরিবারগুলোর ছাগল দোহন করে দিতেন।

আবু সালেহ গিফারী বর্ণনা করেন যে, হযরত আবু বকর (রাঃ) যখন খলীফা হন তখন মদীনার এক অন্ধ বুড়ীর বাড়ীর কাজকর্ম হযরত ওমর (রাঃ) স্বহস্তে করে দিতেন। তার প্রয়োজনীয় পানি এনে দিতেন ও বাজার সওদা করে দিতেন।

একদিন হযরত ওমর সেখানে গিয়ে দেখেন বুড়ীর বাড়ী একদম পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। কলসিতে পানি আনা হয়েছে, বাজারও করা হয়েছে। তিনি ভাবলেন, বুড়ীর কোন প্রতিবেশী হয়তো কাজগুলো করে দিয়ে গেছে। পরদিনও দেখলেন একই অবস্থা। সব কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। এভাবে কয়েকদিন কেটে গেল। এবার হযরত ওমরের কৌতুহল হলো। ভাবলেন, এই মহানুভব লোকটি কে তা না দেখে ছাড়বেন না।

একদিন নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগে এসে লুকিয়ে রইলেন। দেখলেন অতি প্রত্যুষে এক ব্যক্তি দ্রুত গতিতে বুড়ীর বাড়ীর দিকে এগিয়ে আসছে। হযরত ওমর বুঝতে পারলেন যে, এই ব্যক্তিই সেই মহান ব্যক্তি যিনি তারও আগে এসে বুড়ীর সমস্ত কাজ সেরে দিয়ে যান। ব্যক্তিটি বুড়ীর ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে যখন কাজ শুরু করে দিল তখন হযরত ওমর যেয়ে দেখেন, ইনি আর কেউ নয় স্বয়ং খলীফা হযরত আবু বকর (রাঃ)। হযরত ওমর বললেন, হে রাসূলের প্রতিনিধি! মুসলিম জাহানের শাসন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি 'এই বুড়ীর তদারকীও চালিয়ে যেতে চান নাকি? সকল নেক কাজেই কি আপনি আমাদের সবাইকে পেছনে ফেলে দেবেন? হযরত আবু বকর জবাব না দিয়ে একটু মুচকি হেসে যথারীতি কাজ করতে লাগলেন।

শিক্ষাঃ সাধারণতঃ উচ্চ পদস্থ লোকেরা স্বহস্তে অন্যের কাজ করে দেয়া দূরে থাক, নিজের কাজও করতে চায়না। চাকর চাকরাণী ও যন্ত্রের মাধ্যমে সব কাজ সারতে চেষ্টা করে। হযরত আবু বকরের হাতে দাসদাসীর অভাব ছিল না। উপকারের কাজটা কোন ভৃত্যকে পাঠিয়ে দিয়েও করাতে পারতেন। কিন্তু আখেরাতের বাড়তি সওয়াবের আশায় এবং সাধারণ মুসলমানদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করার মানসে এভাবে স্বহস্তে অন্যের সেবা করেছেন সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদে আসীন থাকা অবস্থায়। সকল যুগের মুসলমানদের সকল পর্যায়ের উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিবর্গের জন্য এটি একটি চমকপ্রদ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

হযরত আবু বকর (রাঃ) কে খলীফা নিযুক্ত করা হয়েছে একথা যখন ঘোষণা করা হলো তখন মহল্লার একটা গরীব মেয়ে অস্থির হয়ে পড়লো। লোকেরা জিজ্ঞাসা করলো যে, আবু বকর (রাঃ) খলীফা হয়েছেন, তাতে তোমার কি অসুবিধা হয়েছে। মেয়েটি বললো, "আমাদের ছাগলগুলোর কী হবে?" জিজ্ঞাসা করা হলো, "তার অর্থ?" সে বললো, এখনতো উনি খলীফা হয়ে গেছেন। আমাদের ছাগল ক'টার দেখাশুনাই বা কে করবে, ওগুলোর দুধই বা কে দুইয়ে দেবে? এ কথার কোন জবাব দেয়া কারো পক্ষে সম্ভব হলো না। কিন্তু পরদিন খুব ভোরে মেয়েটি অবাক হয়ে দেখলো যে, হযরত আবু বকর (রাঃ) যথাসময়ে তাদের বাড়ীতে গেছেন এবং দুধ দোহাচ্ছেন। আর যাওয়ার সময় বলে গেলেন, "মা, তুমি একটুও চিন্তা করো না। আমি প্রতিদিন এভাবেই তোমার কাজ করে দিয়ে যাবো।" তাবাকাতে ইবনে সা'দে আছে যে, মেয়েটির বিচলিত হওয়ার খবর শুনে হযরত আবু বকর (রাঃ) বলেছিলেন, আমি আশা করি খেলাফতের দায়িত্ব আমার আল্লাহর বান্দাদের সেবার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। আমি এখনো ঐ দরিদ্র মেয়েটির ছাগল দোহন করে দিয়ে আসবো ইনশা আল্লাহ।

ইবনে আসাকের লিখেছেন যে, আবু বকর (রাঃ) খেলাফতের পূর্বে তিন বছর এবং খেলাফতের পরে এক বছর পর্যন্ত মহল্লার দরিদ্র পরিবারগুলোর ছাগল দোহন করে দিতেন।

আবু সালেহ গিফারী বর্ণনা করেন যে, হযরত আবু বকর (রাঃ) যখন খলীফা হন তখন মদীনার এক অন্ধ বুড়ীর বাড়ীর কাজকর্ম হযরত ওমর (রাঃ) স্বহস্তে করে দিতেন। তার প্রয়োজনীয় পানি এনে দিতেন ও বাজার সওদা করে দিতেন।

একদিন হযরত ওমর সেখানে গিয়ে দেখেন বুড়ীর বাড়ী একদম পরিস্কার পরিচ্ছন্ন। কলসিতে পানি আনা হয়েছে, বাজারও করা হয়েছে। তিনি ভাবলেন, বুড়ীর কোন প্রতিবেশী হয়তো কাজগুলো করে দিয়ে গেছে। পরদিনও দেখলেন একই অবস্থা। সব কাজ সম্পন্ন হয়ে গেছে। এভাবে কয়েকদিন কেটে গেল। এবার হযরত ওমরের কৌতুহল হলো। ভাবলেন, এই মহানুভব লোকটি কে তা না দেখে ছাড়বেন না।

একদিন নির্দিষ্ট সময়ের অনেক আগে এসে লুকিয়ে রইলেন। দেখলেন অতি প্রত্যুষে এক ব্যক্তি দ্রুত গতিতে বুড়ীর বাড়ীর দিকে এগিয়ে আসছে। হযরত ওমর বুঝতে পারলেন যে, এই ব্যক্তিই সেই মহান ব্যক্তি যিনি তারও আগে এসে বুড়ীর সমস্ত কাজ সেরে দিয়ে যান। ব্যক্তিটি বুড়ীর ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে যখন কাজ শুরু করে দিল তখন হযরত ওমর যেয়ে দেখেন, ইনি আর কেউ নয় স্বয়ং খলীফা হযরত আবু বকর (রাঃ)। হযরত ওমর বললেন, হে রাসূলের প্রতিনিধি! মুসলিম জাহানের শাসন সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি 'এই বুড়ীর তদারকীও চালিয়ে যেতে চান নাকি? সকল নেক কাজেই কি আপনি আমাদের সবাইকে পেছনে ফেলে দেবেন? হযরত আবু বকর জবাব না দিয়ে একটু মুচকি হেসে যথারীতি কাজ করতে লাগলেন।

শিক্ষাঃ সাধারণতঃ উচ্চ পদস্থ লোকেরা স্বহস্তে অন্যের কাজ করে দেয়া দূরে থাক, নিজের কাজও করতে চায়না। চাকর চাকরাণী ও যন্ত্রের মাধ্যমে সব কাজ সারতে চেষ্টা করে। হযরত আবু বকরের হাতে দাসদাসীর অভাব ছিল না। উপকারের কাজটা কোন ভৃত্যকে পাঠিয়ে দিয়েও করাতে পারতেন। কিন্তু আখেরাতের বাড়তি সওয়াবের আশায় এবং সাধারণ মুসলমানদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করার মানসে এভাবে স্বহস্তে অন্যের সেবা করেছেন সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় পদে আসীন থাকা অবস্থায়। সকল যুগের মুসলমানদের সকল পর্যায়ের উচ্চ পদস্থ ব্যক্তিবর্গের জন্য এটি একটি চমকপ্রদ অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত।

📘 হাদীসের কিসসা > 📄 হযরত আবু বকর (রাঃ) অনুশোচনা

📄 হযরত আবু বকর (রাঃ) অনুশোচনা


এক ব্যক্তি হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) কে গালি দিচ্ছিল। সেখানে রাসূল (সাঃ) উপস্থিত ছিলেন। আবু বকর (রাঃ) কোন বাদ প্রতিবাদ না করে নীরবে গালি শুনতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর ধৈর্যের বাঁদ ভেঙ্গে গেল। তিনি ঐ ব্যক্তিকে তারই দেয়া একটি গালি ফিরিয়ে দিলেন। তৎক্ষণাৎ রাসূল (সাঃ) এর মুখে অসন্তোষের চিহ্ন ফুটে উঠলো। তিনি উঠে বাড়ীতে চলে গেলেন। আবু বকর (রাঃ) ঘাবড়ে গেলেন। তিনি কালবিলম্ব না করে রাসূল (সাঃ) এর কাছে ছুটে গেলেন এবং বললেন, "হে রাসূল! লোকটি যখন আমাকে গালি দিচ্ছিল আপনি চুপচাপ শুনছিলেন। যেই আমি জবাব দিলাম অমনি অসন্তুষ্ট হয়ে উঠে চলে এলেন।"

রাসূল (সাঃ) বললেন, "শোন আবু বকর, যতক্ষণ তুমি চুপ ছিলে এবং ধৈর্য ধারণ করছিলে, ততক্ষণ তোমার সাথে আল্লাহর একজন ফেরেশতা ছিল, যিনি তোমার পক্ষ থেকে জবাব দিচ্ছিলেন। কিন্তু যখন তুমি নিজেই জবাব দিতে শুরু করলে তখন ঐ ফেরেশতা চলে গেলেন এবং মাঝখানে এক শয়তান এসে গেল। সে তোমাদের উভয়ের মধ্যে গোলযোগ তীব্রতম করতে চাইছিল। হে আবু বকর! মনে রেখ কোন বান্দার ওপর যদি যুলুম ও বাড়াবাড়ি হতে থাকে এবং সে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তা ক্ষমা করতে থাকে এবং কোন প্রতিশোধ নেয়া থেকে বিরত থাকে, তবে আল্লাহ যুলুমকারীর বিরুদ্ধে তাকে সর্বাত্মক সাহায্য করে।"

হযরত আবু বকর অনুতপ্ত হলেন যে, ধৈর্যহারা হয়ে তিনি আল্লাহর ফেরেশতার সাহায্য থেকে বঞ্চিত হয়ে গেলেন।

শিক্ষাঃ এই ঘটনা আমাদের সামনে ধৈর্যের শিক্ষাই নতুন করে তুলে ধরেছে। রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ 'ধৈর্য এমন একটা গাছ, যার সারা গায়ে কাঁটা, কিন্তু এর ফল অত্যন্ত মজাদার।' সুতরাং প্রত্যেক মুসলমানের উচিত, চরম উস্কানীর মুখেও ধৈর্য ধারণ করা এবং ক্রোধ সম্বরণ করা। উস্কানীর মুখে ক্রোধ সম্বরণের সহজ পন্থা হলো সালাম দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করা, নচেত ঠান্ডা পানি দিয়ে ওযু করা।

এক ব্যক্তি হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) কে গালি দিচ্ছিল। সেখানে রাসূল (সাঃ) উপস্থিত ছিলেন। আবু বকর (রাঃ) কোন বাদ প্রতিবাদ না করে নীরবে গালি শুনতে লাগলেন। কিছুক্ষণ পর তাঁর ধৈর্যের বাঁদ ভেঙ্গে গেল। তিনি ঐ ব্যক্তিকে তারই দেয়া একটি গালি ফিরিয়ে দিলেন। তৎক্ষণাৎ রাসূল (সাঃ) এর মুখে অসন্তোষের চিহ্ন ফুটে উঠলো। তিনি উঠে বাড়ীতে চলে গেলেন। আবু বকর (রাঃ) ঘাবড়ে গেলেন। তিনি কালবিলম্ব না করে রাসূল (সাঃ) এর কাছে ছুটে গেলেন এবং বললেন, "হে রাসূল! লোকটি যখন আমাকে গালি দিচ্ছিল আপনি চুপচাপ শুনছিলেন। যেই আমি জবাব দিলাম অমনি অসন্তুষ্ট হয়ে উঠে চলে এলেন।"

রাসূল (সাঃ) বললেন, "শোন আবু বকর, যতক্ষণ তুমি চুপ ছিলে এবং ধৈর্য ধারণ করছিলে, ততক্ষণ তোমার সাথে আল্লাহর একজন ফেরেশতা ছিল, যিনি তোমার পক্ষ থেকে জবাব দিচ্ছিলেন। কিন্তু যখন তুমি নিজেই জবাব দিতে শুরু করলে তখন ঐ ফেরেশতা চলে গেলেন এবং মাঝখানে এক শয়তান এসে গেল। সে তোমাদের উভয়ের মধ্যে গোলযোগ তীব্রতম করতে চাইছিল। হে আবু বকর! মনে রেখ কোন বান্দার ওপর যদি যুলুম ও বাড়াবাড়ি হতে থাকে এবং সে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তা ক্ষমা করতে থাকে এবং কোন প্রতিশোধ নেয়া থেকে বিরত থাকে, তবে আল্লাহ যুলুমকারীর বিরুদ্ধে তাকে সর্বাত্মক সাহায্য করে।"

হযরত আবু বকর অনুতপ্ত হলেন যে, ধৈর্যহারা হয়ে তিনি আল্লাহর ফেরেশতার সাহায্য থেকে বঞ্চিত হয়ে গেলেন।

শিক্ষাঃ এই ঘটনা আমাদের সামনে ধৈর্যের শিক্ষাই নতুন করে তুলে ধরেছে। রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ 'ধৈর্য এমন একটা গাছ, যার সারা গায়ে কাঁটা, কিন্তু এর ফল অত্যন্ত মজাদার।' সুতরাং প্রত্যেক মুসলমানের উচিত, চরম উস্কানীর মুখেও ধৈর্য ধারণ করা এবং ক্রোধ সম্বরণ করা। উস্কানীর মুখে ক্রোধ সম্বরণের সহজ পন্থা হলো সালাম দিয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করা, নচেত ঠান্ডা পানি দিয়ে ওযু করা।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00