📄 মুমিনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার আল্লাহর ওপর নির্ভরশীলতা
হযরত জাবের থেকে বর্ণিত আছে যে, আমরা রাসূল (সাঃ) এর সঙ্গে যাতুর রিকাব অভিযানে গিয়েছিলাম। একটি ছায়াদার বৃক্ষ দেখে সেখানে রাসূল (সাঃ) বিশ্রাম করতে লাগলেন। আর আমরা কিছু দূরে অবস্থান করতে লাগলাম। সহসা শত্রুপক্ষীয় একজন মোশরেক রাসূল (সাঃ) এর কাছে এল। এ সময়ে রাসূল (সাঃ) ঘুমন্ত ছিলেন এবং তাঁর তরবারী গাছের সাথে ঝুলছিল। সে এসেই রাসূলুল্লাহর তরবারী হাতে নিয়ে বললো, হে মুহাম্মদ! এখন তোমাকে আমার হাত থেকে কে রক্ষা করবে? রাসূল (সাঃ) নির্ভীকভাকে দৃপ্ত কণ্ঠে উত্তর দিলেন, আল্লাহ। এ কথা শোনামাত্র লোকটির হাত থেকে তরবারী খসে পড়লো। অমনি রাসূল (সাঃ) তরবারী তুলে নিলেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে তাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ বল, এখন কে তোমাকে আমার হাত থেকে রক্ষা করবে? সে বললোঃ আপনি মহানুভবতা প্রদর্শন করুন। রাসূল (সাঃ) বললেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত আছ যে, আল্লাহ ছাড়া, আর কোন মা'বুদ নেই এবং আমি তাঁর রাসূল? সে বললোঃ না। তবে আমি ওয়াদা করছি যে, আমি কখনো আপনার সাথে যুদ্ধ করবো না এবং আপনার শত্রুদের সঙ্গী হয়ে যুদ্ধ করতে আসবো না। রাসূল (সাঃ) তাকে মুক্ত করে দিলেন। সে চলে গেল। নিজ গোত্রের কাছে গিয়ে সে বললোঃ আমি মুহাম্মাদের (সাঃ) সাথে সাক্ষাত করে এলাম। পৃথিবীতে তার চেয়ে উত্তম মানুষ আর নেই।
শিক্ষা : (১) আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ঈমান, অবিচল নির্ভরতা ও সৎ সাহস মুমিন ব্যক্তির সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
(২) নাগালে পেয়েও শত্রুর প্রতি মহানুভবতা ও ক্ষমা প্রদর্শন ইসলামের দাওয়াত দাতাদের সবচেয়ে মূল্যবান গুণ। এ দ্বারা মানুষের হৃদয় জয় করা যায়।
(৩) শত্রুকে সব সময় স্বমতে দীক্ষিত করার আশা করা ঠিক নয়। কখনো কখনো তার শত্রুতার তীব্রতা হ্রাস পাওয়াকেই যথেষ্ট মনে করা উচিত। তাকে সংঘর্ষের পথ থেকে সরাতে পারাও একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
হযরত জাবের থেকে বর্ণিত আছে যে, আমরা রাসূল (সাঃ) এর সঙ্গে যাতুর রিকাব অভিযানে গিয়েছিলাম। একটি ছায়াদার বৃক্ষ দেখে সেখানে রাসূল (সাঃ) বিশ্রাম করতে লাগলেন। আর আমরা কিছু দূরে অবস্থান করতে লাগলাম। সহসা শত্রুপক্ষীয় একজন মোশরেক রাসূল (সাঃ) এর কাছে এল। এ সময়ে রাসূল (সাঃ) ঘুমন্ত ছিলেন এবং তাঁর তরবারী গাছের সাথে ঝুলছিল। সে এসেই রাসূলুল্লাহর তরবারী হাতে নিয়ে বললো, হে মুহাম্মদ! এখন তোমাকে আমার হাত থেকে কে রক্ষা করবে? রাসূল (সাঃ) নির্ভীকভাকে দৃপ্ত কণ্ঠে উত্তর দিলেন, আল্লাহ। এ কথা শোনামাত্র লোকটির হাত থেকে তরবারী খসে পড়লো। অমনি রাসূল (সাঃ) তরবারী তুলে নিলেন। তিনি সঙ্গে সঙ্গে তাকে জিজ্ঞাসা করলেনঃ বল, এখন কে তোমাকে আমার হাত থেকে রক্ষা করবে? সে বললোঃ আপনি মহানুভবতা প্রদর্শন করুন। রাসূল (সাঃ) বললেনঃ তুমি কি সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত আছ যে, আল্লাহ ছাড়া, আর কোন মা'বুদ নেই এবং আমি তাঁর রাসূল? সে বললোঃ না। তবে আমি ওয়াদা করছি যে, আমি কখনো আপনার সাথে যুদ্ধ করবো না এবং আপনার শত্রুদের সঙ্গী হয়ে যুদ্ধ করতে আসবো না। রাসূল (সাঃ) তাকে মুক্ত করে দিলেন। সে চলে গেল। নিজ গোত্রের কাছে গিয়ে সে বললোঃ আমি মুহাম্মাদের (সাঃ) সাথে সাক্ষাত করে এলাম। পৃথিবীতে তার চেয়ে উত্তম মানুষ আর নেই।
শিক্ষা : (১) আল্লাহর প্রতি দৃঢ় ঈমান, অবিচল নির্ভরতা ও সৎ সাহস মুমিন ব্যক্তির সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
(২) নাগালে পেয়েও শত্রুর প্রতি মহানুভবতা ও ক্ষমা প্রদর্শন ইসলামের দাওয়াত দাতাদের সবচেয়ে মূল্যবান গুণ। এ দ্বারা মানুষের হৃদয় জয় করা যায়।
(৩) শত্রুকে সব সময় স্বমতে দীক্ষিত করার আশা করা ঠিক নয়। কখনো কখনো তার শত্রুতার তীব্রতা হ্রাস পাওয়াকেই যথেষ্ট মনে করা উচিত। তাকে সংঘর্ষের পথ থেকে সরাতে পারাও একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
📄 মহানবীর আখলাক
[ক] একবার এক সফরে থাকাকালে রাসূল (সাঃ) সাহাবীগণকে একটি ছাগল জবাই করে রান্না করতে বললেন। জনৈক সাহাবী বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমি ছাগলটি জবাই করবো। আর এক সাহাবী আরয করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমি ছাগলটির চামড়া খসাবো ও গোশত বানাবো। তৃতীয় সাহাবী আবদার করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমি ছাগলটি রান্না করবো। রাসূল (সাঃ) বললেন, ঠিক আছে। আর আমি রান্নার জন্য জ্বালানী কাঠ কুড়িয়ে আনবো।
সকলে একযোগে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ, ও কাজটি আমরাই করতে পারবো, আপনার কিছু করতে হবে না। রাসূল (সাঃ) বললেন, আমি জানি, ও কাজটি আমি না পারলেও তোমরা করতে পারবে। কিন্তু আমি তোমাদের মধ্যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে বসে থাকা পছন্দ করি না। আল্লাহও এটা পছন্দ করেন না যে, তার কোন বান্দা তার সাথীদের মধ্যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে বসে থাকুক।
শিক্ষাঃ (ক) মহানবী (সাঃ) এর এই গুণটি পদমর্যাদা সম্পন্নসহ নির্বিশেষে সকল মুসলমানের আয়ত্ব করা উচিত। অফিস আদালতে বা ঘরোয়া জীবনে সর্বক্ষেত্রে প্রত্যেকের পরস্পরের সহযোগিতা করা উচিত।
[খ] জনৈক ইহুদীর কাছে রাসূল (সাঃ) এর কিছু ঋণ ছিল। লোকটি নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ঋণ পরিশোধের জন্য তাড়া দিতে লাগলো। সে মদিনার এক রাস্তায় রাসূল (সাঃ) এর মুখোমুখী হয়ে বললো "তোমরা আব্দুল মুতালিবের বংশধরেরা সময়মত ঋণ পরিশোধ কর না।"
হযরত ওমর তার এই আচরণ দেখে রেগে গিয়ে বললেন, "ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি অনুমতি দিন, ওর গর্দান কেটে ফেলি।"
রাসূল (সাঃ) বললেন, "হে ওমর, আমার এই ইহুদীর জন্য অন্য রকম আচরণের প্রয়োজন ছিল। তুমি বরং ওকে উত্তম পন্থায় ঋণ ফেরত চাইতে বল, আর আমাকে উত্তম পন্থায় ঋণ পরিশোধ করতে বল.."
অতঃপর তিনি ইহুদীর দিকে ফিরে বললেন, তুমি কালকেই তোমার দেয়া ঋণ ফেরত পাবে।
এদিকে রাসূল (সাঃ) এর ব্যবহারে ইহুদীর মনে ভাবান্তর দেখা দিল। সে এগিয়ে এসে বললোঃ "আমি আসলে আপনার প্রতিক্রিয়া দেখতে চেয়েছিলাম। তাওরাতে শেষ নবীর এ রকম আলামতই লেখা আছে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনিই আল্লাহর শেষ রাসূল।” এই বলে সে ইসলাম গ্রহণ করলো।
শিক্ষাঃ (ক) স্বচ্ছল ব্যক্তির কোন অস্বচ্ছল ব্যক্তিকে ঋণ দেয়া খুবই সওয়াবের কাজ। আর সময় মত ঋণ পরিশোধে অক্ষম হলে তাকে সময় বাড়িয়ে দেয়া আরো মহৎ কাজ। তবে সময় হওয়ার আগে ঋণ পরিশোধের জন্য তাড়া দেওয়া এবং কটুক্তি করায় ঋণ দেয়ার সওয়াব কমে যায়। (খ) কারো আচরণে সহসা উত্তেজিত হওয়া উচিত নয়। ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা কখনো কখনো অকল্পনীয় সুফল পাওয়া যায়।
[ক] একবার এক সফরে থাকাকালে রাসূল (সাঃ) সাহাবীগণকে একটি ছাগল জবাই করে রান্না করতে বললেন। জনৈক সাহাবী বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমি ছাগলটি জবাই করবো। আর এক সাহাবী আরয করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমি ছাগলটির চামড়া খসাবো ও গোশত বানাবো। তৃতীয় সাহাবী আবদার করলেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, আমি ছাগলটি রান্না করবো। রাসূল (সাঃ) বললেন, ঠিক আছে। আর আমি রান্নার জন্য জ্বালানী কাঠ কুড়িয়ে আনবো।
সকলে একযোগে বললো, ইয়া রাসূলুল্লাহ, ও কাজটি আমরাই করতে পারবো, আপনার কিছু করতে হবে না। রাসূল (সাঃ) বললেন, আমি জানি, ও কাজটি আমি না পারলেও তোমরা করতে পারবে। কিন্তু আমি তোমাদের মধ্যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে বসে থাকা পছন্দ করি না। আল্লাহও এটা পছন্দ করেন না যে, তার কোন বান্দা তার সাথীদের মধ্যে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য নিয়ে বসে থাকুক।
শিক্ষাঃ (ক) মহানবী (সাঃ) এর এই গুণটি পদমর্যাদা সম্পন্নসহ নির্বিশেষে সকল মুসলমানের আয়ত্ব করা উচিত। অফিস আদালতে বা ঘরোয়া জীবনে সর্বক্ষেত্রে প্রত্যেকের পরস্পরের সহযোগিতা করা উচিত।
[খ] জনৈক ইহুদীর কাছে রাসূল (সাঃ) এর কিছু ঋণ ছিল। লোকটি নির্দিষ্ট সময়ের আগেই ঋণ পরিশোধের জন্য তাড়া দিতে লাগলো। সে মদিনার এক রাস্তায় রাসূল (সাঃ) এর মুখোমুখী হয়ে বললো "তোমরা আব্দুল মুতালিবের বংশধরেরা সময়মত ঋণ পরিশোধ কর না।"
হযরত ওমর তার এই আচরণ দেখে রেগে গিয়ে বললেন, "ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি অনুমতি দিন, ওর গর্দান কেটে ফেলি।"
রাসূল (সাঃ) বললেন, "হে ওমর, আমার এই ইহুদীর জন্য অন্য রকম আচরণের প্রয়োজন ছিল। তুমি বরং ওকে উত্তম পন্থায় ঋণ ফেরত চাইতে বল, আর আমাকে উত্তম পন্থায় ঋণ পরিশোধ করতে বল.."
অতঃপর তিনি ইহুদীর দিকে ফিরে বললেন, তুমি কালকেই তোমার দেয়া ঋণ ফেরত পাবে।
এদিকে রাসূল (সাঃ) এর ব্যবহারে ইহুদীর মনে ভাবান্তর দেখা দিল। সে এগিয়ে এসে বললোঃ "আমি আসলে আপনার প্রতিক্রিয়া দেখতে চেয়েছিলাম। তাওরাতে শেষ নবীর এ রকম আলামতই লেখা আছে। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনিই আল্লাহর শেষ রাসূল।” এই বলে সে ইসলাম গ্রহণ করলো।
শিক্ষাঃ (ক) স্বচ্ছল ব্যক্তির কোন অস্বচ্ছল ব্যক্তিকে ঋণ দেয়া খুবই সওয়াবের কাজ। আর সময় মত ঋণ পরিশোধে অক্ষম হলে তাকে সময় বাড়িয়ে দেয়া আরো মহৎ কাজ। তবে সময় হওয়ার আগে ঋণ পরিশোধের জন্য তাড়া দেওয়া এবং কটুক্তি করায় ঋণ দেয়ার সওয়াব কমে যায়। (খ) কারো আচরণে সহসা উত্তেজিত হওয়া উচিত নয়। ধৈর্য ও সহিষ্ণুতা কখনো কখনো অকল্পনীয় সুফল পাওয়া যায়।
📄 খলিফার আখলাক
[ক] হযরত আবু বকর ছিদ্দীক (রাঃ) যেদিন খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, সেইদিনই সকালে কাপড়ের বড় একটা পুটুলি মাথায় করে বাড়ী থেকে বেরুলেন। পথে হযরত ওমরের সাথে তার দেখা হলো। ওমর জিজ্ঞাসা করলেন, ওহে রাসূলুল্লাহর খলীফা, আপনি কোথায় চলেছেন?
হযরত আবু বকর বললেন, বাজারে।
হযরত ওমর বললেন, আপনি মুসলমানদের শাসনভার গ্রহণ করেছেন। এখন বাজারে আপনার কি কাজ?
আবু বকর বললেন, বাজারে না গেলে আমার ছেলেমেয়েকে খাওয়াবো কোথেকে? নিজের ছেলেমেয়েদেরকে যদি আমি খাবার না দিতে পারি তাহলে গোটা দেশের মুসলমানদেবকেও তো খাবার দিতে পারবো না।
ওমর বললেন, চলুন, মসজিদে নববীতে যাই। সবার সাথে আলোচনা করে আপনার ও আপনার পরিবারের খোরপোষের কি ব্যবস্থা করা যায়, যাতে আপনি দেশের কল্যাণ সাধন ও খিলাফতের দায়িত্ব পালনে একাগ্রচিত্তে কাজ করতে পারেন। মসজিদে গিয়ে আবু বকর ও ওমর বাইতুল মালের সচিব আবু ওবায়দা ইবনুল জাররাহ ও আরো কিছু সংখ্যক সাহাবীর সাথে বৈঠকে বসলেন এবং ওমর তাঁর অভিমত পেশ করলেন। তখন সকলে আবু বকর ও তার পরিবারের জন্য প্রচলিত নিয়মে যতটা দরকার খোরপোষ বরাদ্দ করলেন।
শিক্ষা : মুসলমানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরকে এরূপ বেতনভাতা দেওয়া উচিত, যাতে তারা মৌ লিক প্রয়োজনের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থেকে একাগ্র চিত্তে কাজ করতে পারে এবং কোন দূর্নীতিতে লিপ্ত হতে বাধ্য না হয়।
[খ] খলীফা হওয়ার পর হযরত ওমর (রাঃ) রাত জেগে এই বলে কাঁদতেন যে, আল্লার কসম, আমার শাসনকালে ছাগলও যদি নদীর কিনারে অযত্নে পড়ে থাকে, তবে আমার আশংকা হয় যে, কিয়ামতের দিন তার সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হবে।
একবার তিনি একজন সঙ্গীকে নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এক মহিলা তাকে ডেকে থামালো। তারপর বললো, একদিন তুমি শিশু ওমর ছিলে, এখন তুমি বয়স্ক ওমর হয়েছ। কাল তুমি ওমর ছিলে, আজ হয়েছ মুসলমানদের খলীফা। হে ওমর, আল্লাহ তোমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পন করেছেন, সে ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর।
মহিলার কথা শুনে ওমর অঝোরে কাঁদতে লাগলেন। খলীফার সঙ্গী মহিলাকে বললো, ওহে আল্লাহর বান্দী, একটু সংযত হয়ে কথা বলুন। যিনি এই পৃথিবীতে আল্লাহর রাসূলের খলীফা, তাঁকে আপনি কাঁদিয়ে ফেললেন।
ওমর বললেন, “ওহে আমার সহযাত্রী, এ মহিলাকে বলতে দাও। উনি হচ্ছেন সেই খাওলা বিনতে হাকীম, যার কথা স্বয়ং আল্লাহও শুনেছেন এবং পবিত্র কুরআনে তা বর্ণনাও করেছেন, “হে রাসূল, সেই মহিলার কথা আল্লাহ শুনেছেন যে তোমার সাথে তার স্বামীর ব্যাপারে বাকবিতন্ডা করে এবং আল্লাহর কাছে অভিযোগ করে। আল্লাহ তোমাদের উভয়ের আলাপ আলোচনা শ্রবণ করেন।” সুতরাং খাত্তাবের পুত্র ওমরকে তার কথা শুনতেই হবে।”
শিক্ষাঃ শাসকদের কর্তব্য প্রজাদের যাবতীয় অভিযোগ-অনুযোগ ধৈর্য সহকারে শ্রবণ করা ও যথাসাধ্য প্রতিকার করা।
[ক] হযরত আবু বকর ছিদ্দীক (রাঃ) যেদিন খিলাফতের দায়িত্ব গ্রহণ করলেন, সেইদিনই সকালে কাপড়ের বড় একটা পুটুলি মাথায় করে বাড়ী থেকে বেরুলেন। পথে হযরত ওমরের সাথে তার দেখা হলো। ওমর জিজ্ঞাসা করলেন, ওহে রাসূলুল্লাহর খলীফা, আপনি কোথায় চলেছেন?
হযরত আবু বকর বললেন, বাজারে।
হযরত ওমর বললেন, আপনি মুসলমানদের শাসনভার গ্রহণ করেছেন। এখন বাজারে আপনার কি কাজ?
আবু বকর বললেন, বাজারে না গেলে আমার ছেলেমেয়েকে খাওয়াবো কোথেকে? নিজের ছেলেমেয়েদেরকে যদি আমি খাবার না দিতে পারি তাহলে গোটা দেশের মুসলমানদেবকেও তো খাবার দিতে পারবো না।
ওমর বললেন, চলুন, মসজিদে নববীতে যাই। সবার সাথে আলোচনা করে আপনার ও আপনার পরিবারের খোরপোষের কি ব্যবস্থা করা যায়, যাতে আপনি দেশের কল্যাণ সাধন ও খিলাফতের দায়িত্ব পালনে একাগ্রচিত্তে কাজ করতে পারেন। মসজিদে গিয়ে আবু বকর ও ওমর বাইতুল মালের সচিব আবু ওবায়দা ইবনুল জাররাহ ও আরো কিছু সংখ্যক সাহাবীর সাথে বৈঠকে বসলেন এবং ওমর তাঁর অভিমত পেশ করলেন। তখন সকলে আবু বকর ও তার পরিবারের জন্য প্রচলিত নিয়মে যতটা দরকার খোরপোষ বরাদ্দ করলেন।
শিক্ষা : মুসলমানের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদেরকে এরূপ বেতনভাতা দেওয়া উচিত, যাতে তারা মৌ লিক প্রয়োজনের ব্যাপারে নিশ্চিন্ত থেকে একাগ্র চিত্তে কাজ করতে পারে এবং কোন দূর্নীতিতে লিপ্ত হতে বাধ্য না হয়।
[খ] খলীফা হওয়ার পর হযরত ওমর (রাঃ) রাত জেগে এই বলে কাঁদতেন যে, আল্লার কসম, আমার শাসনকালে ছাগলও যদি নদীর কিনারে অযত্নে পড়ে থাকে, তবে আমার আশংকা হয় যে, কিয়ামতের দিন তার সম্পর্কে আমাকে জিজ্ঞাসা করা হবে।
একবার তিনি একজন সঙ্গীকে নিয়ে কোথাও যাচ্ছিলেন। পথিমধ্যে এক মহিলা তাকে ডেকে থামালো। তারপর বললো, একদিন তুমি শিশু ওমর ছিলে, এখন তুমি বয়স্ক ওমর হয়েছ। কাল তুমি ওমর ছিলে, আজ হয়েছ মুসলমানদের খলীফা। হে ওমর, আল্লাহ তোমার ওপর যে দায়িত্ব অর্পন করেছেন, সে ব্যাপারে আল্লাহকে ভয় কর।
মহিলার কথা শুনে ওমর অঝোরে কাঁদতে লাগলেন। খলীফার সঙ্গী মহিলাকে বললো, ওহে আল্লাহর বান্দী, একটু সংযত হয়ে কথা বলুন। যিনি এই পৃথিবীতে আল্লাহর রাসূলের খলীফা, তাঁকে আপনি কাঁদিয়ে ফেললেন।
ওমর বললেন, “ওহে আমার সহযাত্রী, এ মহিলাকে বলতে দাও। উনি হচ্ছেন সেই খাওলা বিনতে হাকীম, যার কথা স্বয়ং আল্লাহও শুনেছেন এবং পবিত্র কুরআনে তা বর্ণনাও করেছেন, “হে রাসূল, সেই মহিলার কথা আল্লাহ শুনেছেন যে তোমার সাথে তার স্বামীর ব্যাপারে বাকবিতন্ডা করে এবং আল্লাহর কাছে অভিযোগ করে। আল্লাহ তোমাদের উভয়ের আলাপ আলোচনা শ্রবণ করেন।” সুতরাং খাত্তাবের পুত্র ওমরকে তার কথা শুনতেই হবে।”
শিক্ষাঃ শাসকদের কর্তব্য প্রজাদের যাবতীয় অভিযোগ-অনুযোগ ধৈর্য সহকারে শ্রবণ করা ও যথাসাধ্য প্রতিকার করা।
📄 হযরত আবু বকরের খোদাভীতি
সহীহ আল বুখারীতে বর্ণিত আছে যে, হযরত আবু বকর (রাঃ) এর একজন গোলাম ছিল। সে হযরত আবু বকরকে মুক্তিপণ হিসাবে কিছু অর্থ দেয়ার শর্তে মুক্তি চাইলে তিনি তাতে সম্মত হন। অতঃপর সে প্রতিদিন তার মুক্তিপণের কিছু অংশ নিয়ে আসতো। হযরত আবু বকর তাকে জিজ্ঞেস করতেন, কিভাবে এটা উপার্জন করে এনেছ? সে যদি সন্তোষজক জবাব দিত তবে তা গ্রহণ ও ভোগ করতেন, নচেত করতেন না। একদিন সে রাতের বেলায় তাঁর জন্য কিছু খাবার জিনিস নিয়ে এল। সেদিন তিনি রোজা ছিলেন। তাই তাকে ঐ খাদ্যের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ভুলে গেলেন এবং এক লোকমা খেয়ে নিলেন। তাঁরপর তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এ খাবার তুমি কিভাবে সংগ্রহ করেছ? সে বললোঃ আমি জাহেলিয়াত আমলে লোকের ভাগ্যগণনা করতাম। আমি ভালো গণনা করতে পারতাম না। কেবল ধোকা দিতাম। এ খাদ্য সেই ভাগ্যগণনার উপার্জিত অর্থ দ্বারা সংগ্রহীত। হযরত আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ কী সর্বনাশ! তুমি তো আমাকে ধ্বংস করে ফেলার উপক্রম করেছ। তারপর গলায় আঙ্গুল ঢুকিয়ে বমি করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু বমিতে খাওয়া জিনিস বেরুলোনা। তখন তিনি পানি চাইলেন। পানি খেয়ে খেয়ে সমস্ত ভুক্ত দ্রব্য পেট থেকে বের করে দিলেন। লোকেরা বললোঃ আল্লাহ আপনার ওপর দয়া করুন। ঐ এক লোকমা খাওয়ার কারণেই কি এত সব? হযরত আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ ঐ খাদ্য বের করার জন্য যদি আমাকে মৃত্যুবরণও করতে হতো, তবুও আমি বের করে ছাড়তাম। কেননা আমি শুনেছি, রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ “যে দেহ হারাম খাদ্য দ্বারা গড়ে ওঠে তার জন্য দোজখের আগুনই উত্তম।” তাই আমি আশংকা করছিলাম যে এই এক লোকমা খাদ্য দ্বারা আমার শরীরের কিছু অংশ গঠিত হতে পারে।
শিক্ষা : আখেরাতের কঠিন ও অবধারিত শাস্তির কথা মনে রেখে সব সময় হালাল-হারাম বাছ-বিচার করে চলা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।
সহীহ আল বুখারীতে বর্ণিত আছে যে, হযরত আবু বকর (রাঃ) এর একজন গোলাম ছিল। সে হযরত আবু বকরকে মুক্তিপণ হিসাবে কিছু অর্থ দেয়ার শর্তে মুক্তি চাইলে তিনি তাতে সম্মত হন। অতঃপর সে প্রতিদিন তার মুক্তিপণের কিছু অংশ নিয়ে আসতো। হযরত আবু বকর তাকে জিজ্ঞেস করতেন, কিভাবে এটা উপার্জন করে এনেছ? সে যদি সন্তোষজক জবাব দিত তবে তা গ্রহণ ও ভোগ করতেন, নচেত করতেন না। একদিন সে রাতের বেলায় তাঁর জন্য কিছু খাবার জিনিস নিয়ে এল। সেদিন তিনি রোজা ছিলেন। তাই তাকে ঐ খাদ্যের উৎস সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করতে ভুলে গেলেন এবং এক লোকমা খেয়ে নিলেন। তাঁরপর তাকে জিজ্ঞাসা করলেন, এ খাবার তুমি কিভাবে সংগ্রহ করেছ? সে বললোঃ আমি জাহেলিয়াত আমলে লোকের ভাগ্যগণনা করতাম। আমি ভালো গণনা করতে পারতাম না। কেবল ধোকা দিতাম। এ খাদ্য সেই ভাগ্যগণনার উপার্জিত অর্থ দ্বারা সংগ্রহীত। হযরত আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ কী সর্বনাশ! তুমি তো আমাকে ধ্বংস করে ফেলার উপক্রম করেছ। তারপর গলায় আঙ্গুল ঢুকিয়ে বমি করার চেষ্টা করলেন। কিন্তু বমিতে খাওয়া জিনিস বেরুলোনা। তখন তিনি পানি চাইলেন। পানি খেয়ে খেয়ে সমস্ত ভুক্ত দ্রব্য পেট থেকে বের করে দিলেন। লোকেরা বললোঃ আল্লাহ আপনার ওপর দয়া করুন। ঐ এক লোকমা খাওয়ার কারণেই কি এত সব? হযরত আবু বকর (রাঃ) বললেনঃ ঐ খাদ্য বের করার জন্য যদি আমাকে মৃত্যুবরণও করতে হতো, তবুও আমি বের করে ছাড়তাম। কেননা আমি শুনেছি, রাসূল (সাঃ) বলেছেনঃ “যে দেহ হারাম খাদ্য দ্বারা গড়ে ওঠে তার জন্য দোজখের আগুনই উত্তম।” তাই আমি আশংকা করছিলাম যে এই এক লোকমা খাদ্য দ্বারা আমার শরীরের কিছু অংশ গঠিত হতে পারে।
শিক্ষা : আখেরাতের কঠিন ও অবধারিত শাস্তির কথা মনে রেখে সব সময় হালাল-হারাম বাছ-বিচার করে চলা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য।