📄 বিপদের বন্ধু
মুসলমানের অবস্থার পরিবর্তনের সাথে সাথে কোরাইশদের মনে এক নতুন চিন্তার উদয় হল। অচিরে তারা পরামর্শ সভা আহ্বান করল। মুহাম্মদকে এখন কি করা যায়, এটাই হল সভার আলোচনার বিষয়। আবু জাহেল উঠে প্রস্তাব করল : “আমি বিশেষ চিন্তা করে দেখলাম, মুহাম্মদকে হত্যা করা ছাড়া গত্যন্তর নেই। তাকে হত্যা করা হলেই ইসলামের প্রাণশক্তির উৎস-মুখ রুদ্ধ হয়ে যাবে। অন্যথায় কিছুতেই আমাদের কল্যাণ নেই।” সকলেই এক বাক্যে এ প্রস্তাব সমর্থন করল। কিন্তু কে মুহাম্মদকে হত্যা করবে? তখন আবু জাহেল পুনরায় প্রস্তাব করল : “প্রত্যেক গোত্র থেকে এক একজন প্রতিনিধি নির্বাচিত করা হবে এবং তারাই একযোগে মুহাম্মদকে হত্যা করবে।” এ প্রস্তাব সকলেরই মনঃপুত হল। প্রতিনিধি নির্বাচনও হয়ে গেল। স্থির হল, গভীর রাতে সকলে গিয়ে মুহাম্মদের বাড়ী ঘেরাও করে রাখবে; প্রত্যুষে মুহাম্মদ যেই বাইরে আসবে, অমনি সকলে একযোগে তাকে হত্যা করবে।
ওহীযোগে এদিকে হযরতের কিছুই জানতে বাকী রইল না। হযরত তাড়াতাড়ি আবু বকর (রা)-কে সাথে নিয়ে বের হয়ে পড়লেন। স্থির হল, মক্কার তিন মাইল দূরবর্তী সওর পর্বতের গুহায় গিয়ে তাঁরা আত্মগোপন করবেন; এরপর সুযোগ ও সুবিধা মত সেখান হতে মদীনায় হিজরত করে রওয়ানা হবেন।
রাতে তারার আলোকে পথ দেখে উভয়েই অগ্রসর হলেন। প্রভাতকালে তাঁরা সওর পর্বতে উপনীত হলেন।
আবু বকর (রা) ও নূরনবী (স) সওর গিরিগুহায় প্রবেশ করামাত্রই দেখতে পেলেন কোরাইশগণ তাঁদের দিকে ছুটে আসছে। আবু বকর (রা) বিচলিত হয়ে পড়লেন এবং বললেন, “হযরত এখন উপায়? শত্রুগণ সংখ্যায় অনেক; আমরা মাত্র দু'জন।” শুনে হযরত শান্তস্বরে বললেন, “তুমি ভুল করছো আবু বকর! আমরা দু'জন নই, আল্লাহ আমাদের সাথে আছেন।” আবু বকর (রা) অপ্রতিভ হলেন।
সে নিভৃত গুহার মধ্যে দুটি মানুষ। পলায়নের পথ নেই, ঘাতকদল পশ্চাদাবদ্ধন করছে, মৃত্যু একরূপ অবধারিত। কিন্তু সেখানেও হযরত সমুদ্রের মত গম্ভীর, পর্বতের মত অটল। তখনও তাঁর বিশ্বাস, আল্লাহ্র করুণা নিশ্চয় আসবে, নিশ্চয়ই তাঁরা রক্ষা পাবেন।
কার্যত হলও তাই, কোরেশগণ এদিক-ওদিক অনুসন্ধান করার পর যখন গুহায় মুখে এসে পড়ল, তখন দেখল, গুহায় মুখে একটি মাকড়সা প্রকাণ্ড এক জাল বুনে বসে আছে। তা দেখে তারা আর গুহামুখে প্রবেশ করল না; ভাবল, এ গুহায় নিশ্চয়ই কোন লোক প্রবেশ করেনি এটাই তাদের ধারণা হল। করলে মাকড়সার জাল এমন অক্ষত অবস্থায় থাকতে পারত না। এ ভেবে তারা অন্যদিকে চলে গেল।
আল্লাহ্ কি মহিমা! অশনি সম্পাত দ্বারা নয়, ভূমিকম্প দ্বারা নয়, সামান্য একটা মাকড়সার জালে আড়াল করে আল্লাহ্ তাঁর রাসূল (স)-কে পাষণ্ডদের হাত থেকে রক্ষা করলেন।
এ গুহায় মধ্যে হযরত সেদিন মানুষের জন্য সত্যিই এক চরম ভরসা রেখে গিয়েছেন। আল্লাহ্র করুণার উপর এমন ঐকান্তিক নির্ভরতার দৃষ্টান্ত আর কোথায় আমরা দেখতে পাই? বিশ্বের মানুষ সেদিন বুঝেছে, আল্লাহ্র করুণা থেকে কোন অবস্থাতেই নিরাশ হওয়া কারো পক্ষে উচিত নয়। বিপদে ধৈর্য ধরে থাকলে আল্লাহ্ যে মুহূর্তের মধ্যে তাঁর ভক্তকে রক্ষা করতে পারেন, এ সত্যিই সেদিন প্রতিপন্ন হয়েছে।
📄 দুশমন
সামামা ছিল হোনায়ফিয়া কওমের এক অতি গুণ্ডা প্রকৃতির সর্দার। রাহমাতুল লিল-আলামীন হযরত মুহাম্মদ (স)-এর বহু নিরপরাধ সাহাবীকে সে নির্দয়ভাবে হত্যা করেছিল। হঠাৎ একদিন সে মুসলমানদের হাতে বন্দী হল। মুসলমানেরা তাকে বন্দী করে হযরত মুহাম্মদ (স)-এর কাছে হাজির করলেন। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁর সাহাবীদেরকে ডেকে বললেন, বন্ধুগণ! সামামা আজ তোমাদের হাতে বন্দী। সামামার প্রতি তোমরা ভাল ব্যবহার কর। সামামা খুব বেশি ভোজন করতে পারত। একাকী সে দশবার জনের খাদ্য খেতে পারত।
হযরত (স) বাড়ী গিয়ে হযরত আয়েশা (রা)-কে বললেন, আজ একজন ভোজপটু মেহমান এসেছে। আমাদের সকলের খাবার একত্রিত করে তাকে দিতে হবে। যে উটটা বেশি দুধ দেয় তা দোহন করে সবটুকু দুধ তাকে দিয়ে দাও। সেদিন সামামা এত আহার করল যে, হযরতের ঘরে খাদ্যবস্তু কিছুই আর অবশিষ্ট ছিল না। আর সে রাতে হযরত (স) সপরিবারে সকলেই অনাহারে থেকে গেলেন। আহার শেষ হলে সামামা হযরত (স)-কে বলল, আমি আপনার বহু সাহাবীকে অন্যায়ভাবে হত্যা করেছি। আপনি ইচছা করল আমাকে হত্যা করতে পারেন। হযরত (স) তার কথা শুনলেন, কিন্তু কোন উত্তর দিলেন না। অন্য এক দিন সামামা হযরতকে বলল, হে মুহাম্মদ! আপনি যদি আমাকে মুক্ত করে দেন তাহলে মুক্তিপণ স্বরূপ যত দিরহাম চাইবেন আমি ঠিক তত দিরহামই দেব, একটি দিরহাম কম দেব না। তবুও আমাকে মুক্তি দিয়ে দিন।
হযরত এ কথারও কোন উত্তর দিলেন না। এরও কয়েক দিন পর আখেরী নবী দয়ার সাগর হযরত মুহাম্মদ (স) বিনা শর্তে সামামাকে মুক্তি দিয়ে দিলেন। সামামা বিদায় নিয়ে চলে যাওয়ার সময় হযরত (স) তাকে বললেন, 'আমাদের ব্যবহারে যদি কোন দোষ-ত্রুটি হয়ে থাকে, তাহলে আমাদেরকে ক্ষমা করে দিও।' সামামা চলে গেল।
বহুদূর চলে যাওয়ার পর ক্লান্ত হয়ে সে একটি গাছের ছায়ায় বসে বিশ্রাম করতে লাগল এবং কিছুক্ষণ গভীরভাবে চিন্তা-ভাবনা করার পর সে উঠে দাঁড়াল। পাশের একটি নহর থেকে গোসল করে সে পুনরায় হযরতের বাড়ির দিকে ফিরে চলল। হযরতের কাছে পৌঁছে সে ইসলাম গ্রহণ করল।
আরও কিছুদিন পর সে পবিত্র কাবা যিয়ারত করার জন্য মক্কায় রওয়ানা হল। কাবা শরীফে প্রবেশ করার সময় সে উচ্চকণ্ঠে তাকবীর বলতে বলতে সামনের দিকে এগিয়ে চলল।
এমতাবস্থায় মক্কার কোরায়েশরা চারদিক থেকে এসে তাকে ঘিরে ধরল এবং সামামার মাথার উপর তরবারী ঝলসে উঠল।
তাদের মধ্য থেকে কেউ কেউ বলতে লাগল, সাবধান! সামামাকে কেউ হত্যা করবে না। কারণ এ লোকটি হোনায়ফিয়া কওমের সর্দার এবং ইয়ামামায় তার বাড়ি। ইয়ামামা থেকে আমরা সারা বছর খাদ্যশস্য পেয়ে থাকি, তাকে হত্যা করলে আমাদের আহার বন্ধ হয়ে যাবে। অনাহারে সকলেই মরতে হবে।
সামামা কোরাইশদের উদ্দেশ্য করে বলল, তোমরা হযরত মুহাম্মদ (স)-এর প্রতি এত বিরূপ হয়েছ কেন? অথচ তিনি অত্যন্ত দয়ালু আর ক্ষমাশীল মহাপুরুষ। আমি যতদিন তাঁর দুশমন ছিলাম, ততদিন তাঁর বহু সাহাবায়ে কিরামকে বিনা কারণে হত্যা করেছি। তাঁর হাতে বন্দী হবার পর তিনি আমাকে হত্যা করেনি, আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আর তোমরা সে মহান ব্যক্তিকে দেশ ছাড়া করেছ! তোমরা তাঁর কাছে গিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করে তাঁকে মক্কায় ফিরিয়ে আন।
কাবা শরীফ যিয়ারত করে সামামা দেশে ফিরে গিয়ে মক্কার খাদ্যশস্য রপ্তানি বন্ধ করে দিল। খাদ্যের অভাবে মক্কাবাসীরা উপবাসে দিন কাটাতে লাগল। সমগ্র দেশে হাহাকার পড়ে গেল।
ক্ষুধার তাড়নায় মক্কার লোকেরা হযরতের কাছে লোক পাঠিয়ে আবেদন জানাল যে, আমরা মক্কাবাসীরা আপনার আত্মীয়, খাদ্যের অভাবে আমরা আজ মৃত প্রায়। আমাদের জীবন রক্ষা করুন।
হযরত মুহাম্মদ (স) তৎক্ষণাৎ মক্কার খাদ্যশস্য প্রেরণের জন্য সামামার কাছে সংবাদ পাঠালেন। হযরতের মেহেরবাণীতে পুনরায় ইয়ামামা থেকে রসদ আসতে শুরু হল আর সে খাদ্য আহার করে মক্কার কোরায়েশরা পুনরায় হযরতের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করতে লাগল।
📄 রিযিকের মালিক আল্লাহ্
হাতে অনেক কাজ। কাজগুলো শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্বস্তি নেই। হযরত আলী (রা) কাজের মাঝে ডুবে গেলেন। ভুলে গেল ঘর-সংসারের কথা।
কিন্তু না খেয়ে কতক্ষণ কাজ করা যায়। হযরত আলী এক সময় বেশ ক্ষুধা অনুভব করেন। ক্ষুধায় পেট চো-চো করছে। কাজে আর মন বসছে না। পেটে কিছু দানাপানি না দিলেই নয়।
তাড়াতাড়ি বাড়ি ছুটে এলেন হযরত আলী (রা)। খেয়ে-দেয়ে আবার কাজে বসতে হবে। স্ত্রী ফাতিমার (রা) কাছে কিছু খাবার চাইলেন।
ফাতিমার কথা শুনে তো একেবারে হতবাক। ঘরে কোন খাবার নেই। হাড়ি-পাতিল সবই শূন্য। সবাই না খেয়ে চুপচাপ বসে আছে। আল্লাহকে ডাকছে মনে মনে।
আর দেরি করলন না হযরত আলী (রা)। কাজের সন্ধানে বেরিয়ে পড়লেন। এদিক-ওদিক ঘোরাফিরা করলেন অনেকক্ষণ। কোথাও কোন কাজ পাওয়া গেল না। এদিকে সন্ধ্যা হয়ে এসেছে। এমন অসময়ে তিনি কোথায় কাজ পাবেন? কে তাঁকে কাজ দেবে? হতাশ হয়ে পড়লেন তিনি। বাড়িতে ফিরে যাওয়াই স্থির করলন। ভাবলেন-রিযিকের মালিক আল্লাহ্। তিনি যা করেন বান্দার ভালর জন্যই করেন। যদি তিনি খাওয়ান-তাতে আলহামদুলিল্লাহ আর যদি উপবাস রাখেন তাতেও আলহামদুলিল্লাহ।
তখন আর এক ঘটনা ঘটে গেল। বেলা শেষ তিনি বাড়ির পথে পা বাড়িয়েছেন। এমন সময় সওদাগরের পণ্য বোঝাই এক কাফেলা মদীনায় এসে উপস্থিত। সওদাগরের একটু বিশ্রাম চাই। তিনি উট থেকে মালপত্র নামাবার আয়োজন করছেন।
উটের পিঠে অনেক মাল। হযরত আলী (রা) ভাবলেন এ মালামাল তিনি নামাবেন কি করে? নিশ্চয়ই তাঁর মজুরের প্রয়োজন হবে। হযরত আলী এগিয়ে গেলেন তাঁদের কাছে। মজুরের প্রয়োজন আছে কিনা জানতে চাইলেন।
কাফেলা হযরত আলী (রা)-কে চিনত না। তারা ভাবল, সম্ভবত লোকটি খেটে খাওয়া দিন মজুর। তাদের প্রস্তাবে হযরত আলী (রা) সম্মত হলেন।
বেলা শেষে ফিরতি পথে আল্লাহ্ তার কাজ জুটিয়ে দিলেন। হযরত আলী (রা) মালপত্র নামাতে শুরু করলেন। দুটা-একটা মাল তো নয়। অনেক মাল। মালপত্র নামাতে নামাতে বেশ অনেকটা রাত হয়ে গেল। মালপত্র নামানো শেষ। মুজরী হিসাবে পেলেন এক দিরহাম। সারা দিনের উপার্জন তাতেই তিনি আল্লাহ্র দরবারে জানালেন হাজার শুকরিয়া।
দিরহাম পেলেন। কিন্তু এত রাতে খাবার জিনিস পাবেন কোথায়? শহরের দোকানপাট এতক্ষণে বন্ধ হয়ে গেছে। তবু উপায় নেই। তাঁকে চেষ্টা করে দেখতেই হবে। নইলে সবাইকে যে সারারাত উপবাস থাকতে হবে। প্রতিবেশী পরিচিত কারো কাছে থেকে সাহায্য নেবেন, ধার নেবেন, তাও সম্ভব নয়। দ্রুত পায়ে তিনি ছুটলেন বাজারের দিকে। না, দোকানপাট সব বন্ধ হয়ে গেছে। সারা বাজারে নেমে এসেছে রাতের নীরবতা। কপালের ঘাম মুছতে-মুছতে তিনি ঘুরছেন বাজারের ভেতরে। ভাগ্যক্রমে দেখা গেল আশার ক্ষীণ আলো। বাজারের এক কোণে তখনও একটি দোকান খোলা ছিল। দোকান থেকে কিছু খাবার কিনলেন। সারা রাতের একমাত্র খাবার। তিনি তাড়াতাড়ি ফিরে এলেন বাড়িতে। আর সকলেই মিলে পরম তৃপ্তিতে তাই খেয়ে নিলেন।
📄 নবীজীর দুঃখ
গাছের কি প্রাণ আছে? গাছ কি কথা বলতে পারে?
অবশ্যই গাছের প্রাণ আছে। প্রাণ না থাকলে গাছ মরে কিভাবে?
গাছ কেটে ঘরের আসবাবপত্র বানানো হয়। যে আকারের চেয়ার, টেবিল, খাট, পালং বানানো হয়, সব সময় তাই থাকে। এগুলো কি কখনও আস্তে আস্তে বড় হয়ে যায়? না হয়। কারণ এ গুলোর প্রাণ নেই। কিন্তু গাছ বড় হয়। গাছের পাতা শুকিয়ে যায়। নতুন পাতা গজায়। গাছ কি কথা বলতে পারে? গাছ তাও পারে। গাছের পাতা আল্লাহ্র যিকির করে। গাছ আল্লাহ্ ইবাদতও করে। আল্লাহ্ গাছের জন্য যে হুকুম করেছেন, গাছ সে হুকুম মানে। আল্লাহ্ গাছ বানিয়েছেন মানুষের উপকারের জন্য। শুধু গাছ কেন, আল্লাহ্ সব কিছুই বানিয়েছেন মানুষের উপকারের জন্য।
মানুষের জন্য আল্লাহ্র দুনিয়ার সব কিছু বানালেও কোন কিছুই নিজের ইচ্ছামত মানুষ ব্যবহার করতে পারে না। আল্লাহ্ জিনিস ব্যবহার করতে হলে আল্লাহ্ হুকুম মত ব্যবহার করতে হয়। বিনা দরকারে একটা পোকা মারতেও আল্লাহ্ নিষেধ আছে। শুধু পোকা কেন, আমাদের নবী (স) বিনা দরকারে এক ফোঁটা পানিও নষ্ট করতে মানা করেছেন। আমাদের দরকারে গাছের ডাল কাটা যায়। দরকার হলে গাছও কাটাতে হয়। অকারণে গাছের পাতা ছেঁড়া আমাদের নবী (স) পছন্দ করতেন না। এ সম্পর্কে একটি সুন্দর দৃষ্টান্ত আছে।
নবী (স) তাঁর সাহাবীদের নিয়ে এক সফরে বের হলেন। এক জায়গায় গিয়ে তাঁরা তাঁবু গাড়েন। নবী (স) দেখলেন কিছু লোক একটি গাছের নীচে বসে আছে। আর একটি লোক মনের আনন্দে গাছের পাতা ছিঁড়ছে। এটা দেখে নবী দুঃখিত হলেন। তিনি লোকটিকে কাছে গিয়ে জিজ্ঞেস করলেন, কেন তুমি অযথা গাছের পাতা ছিঁড়ছ? লোকটি বলল: এমনি, গাছের পাতা ছিঁড়লে দোষ কি? রাসূল (স) লোকটির আরো কাছে গিয়ে তার চুল ধরে একটু টান দিলেন। জিজ্ঞেস করলন: কেমন লাগল? লোকটি বলল: একটু ব্যথা পেলাম।
রাসূল (স) বললেন: যদি তোমার চুল ছিঁড়ে যেত কেমন ব্যথা পেতে? লোকটি বলল: আরও বেশী ব্যথা পেতাম। রাসূল (স) বললেন: গাছের পাতা ছিঁড়লে গাছও এমনি ব্যথা পায়। লোকটি বলল: কেন, গাছ ব্যথা পাবে কেন? গাছের কি প্রাণ আছে? রাসূল (স) বললেন: কেন থাকবে না! তুমি কি গাছ মরতে দেখনি? লোকটি বলল: দেখেছি।
রাসূল (স) বললেন: তা হলে তুমিই বল, গাছের জীবন নেই কি? যার জীবন থাকে সে কিন্তু মরে। তা নয় কি? লোকটি এবার লজ্জা পেল।
রাসূল (স) বললেন: অকারণে গাছের পাতা ছেঁড়া উচিত নয়। অবশ্য প্রয়োজনে তুমি গাছের পাতা ছিঁড়তে পার। এমনকি গোটা গাছটাই কাটতে পার।
ভাল কাজের জন্য একজন মুসলিম গাছের পাতা ছেঁড়া কেন, নিজের জীবনটাও দিয়ে দিতে পারে, জালিমের সাথে জিহাদ করে শহীদ হতে পারে। কিন্তু অকারণে কোন মুসলমান গাছের একটি পাতাও ছিঁড়তে পারে না।