📘 হাদিসের গল্প > 📄 তিনের পরীক্ষা

📄 তিনের পরীক্ষা


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহী ওয়া সাল্লাম বলেছেন: বনী ইসরাঈল বংশে তিন ব্যক্তি ছিল। একজন কুঠে। একজন টেকো। একজন অন্ধ।
আল্লাহ্ তা'আলা একদিন এদের তিনজনের পরীক্ষা নিতে চাইলেন। একজন ফেরেশতাকেই প্রতিনিধি হিসেবে এ তিন ব্যক্তির কাছে পাঠানো হ'ল। ফেরেশতা প্রথমে কুঠের কাছে এলেন। এই যে বল, কি জিনিস তোর সবচেয়ে বেশি প্রিয়? কুঠে বলল-আমার এ শরীরের বদ রং বদলে যদি ভাল রং আর এ কুৎসিত চামড়াটা বদলে যদি সুন্দর চামড়া হত তাহলে, আমি সবচেয়ে বেশি খুশি হতাম। আমার এ রোগের জন্যই তো মানুষেরা আমাকে ভীষণ ঘেন্না করে, তাদের পাশে বসতে দেয় না, তা আবার বসতে দেবে? হুঁ! দূর দূর করে তাড়িয়ে দেয়।
ফেরেশতা এ কুঠের শরীরের উপর দিয়ে তাঁর একটা হাত বুলিয়ে দিলেন। সাথে সাথেই কুঠে লোকটি দিব্যি এক সুপুরুষে রূপ নিল-যাকে বলে সৌম্য ও সুদর্শন। তার শরীরের বদ রং এবং কুৎসিত চামড়ার পরিবর্তে সুন্দর রং আর সুন্দর চামড়া বেরিয়ে এল। ফেরেশতা জিজ্ঞেস করলেন: এবার বল, কি ধরনের সম্পত্তির উপর তোর খুব বেশি লোভ? কুঠে যে এখন সুপুরুষ অর্থাৎ সৌম্য ও সুদর্শন এবং সম্পূর্ণ ভাল হয়ে গেছে, সে বলল: একটি উট। ফেরেশতা একটি গর্ভবতী উট ভাল হয়ে যাওয়া কুঠেকে দিলেন। আর বললেন: এর মধ্যে আল্লাহ্ তোর উন্নতি দিন।
ফেরেশতা এর পর টেকোর কাছে এলেন। এই যে বল, কি জিনিসে তোর সবচে বেশি লোভ? টেকো বলল: আমার এ টেকো মাথায় যদি কুচকুচে কাল এবং সুন্দর মসৃণ চুল গজিয়ে উঠত, তা হলে মানুষেরা আমাকে আর ঘেন্না করত না, কাছে টেনে নিত। আমার মাথার উপর থেকে এ বালা মুসিবত অর্থাৎ বিপদ যাই বলুন, সরে গিয়ে সুন্দর হওয়ার প্রতি আমার সবচেয়ে বেশি লোভ।
ফেরেশতা এ টেকোর মাথার উপর তাঁর একটি হাতের মুদু পরশ বুলিয়ে দিলেন। সাথে সাথে টেকো লোকটাও তার টেকো মাথা ভর্তি সুন্দর চুল পেয়ে গেল।
ফেরেশতা জিজ্ঞেস করলেন : এবার বল কি ধরনের সম্পত্তির উপর তোর আগ্রহটা খুব বেশি? টেকো, যে এখন তার মাথায় কুচকুচে কাল এবং সুন্দর মসৃণ চুল ফিরে পেয়েছে, সে বলল : গাভী। ফেরেশতা একটি গর্ভবতী গরু ভাল হয়ে যাওয়া টেকোকে দিলেন এবং বললেন : এর মধ্যে আল্লাহ্ তোর উন্নতি দিন।
ফেরেশতা এবার অন্ধের কাছে এলেন। এই যে বল, শুনি-তোমার কি জিনিস চাই। অন্ধ বলল : আল্লাহ্ তা'আলা যদি আমার এ অন্ধ চোখ দুটি ভাল করে দিতেন, তাহলে আমি সব মানুষকেই দেখতে পেতাম, আর আমার যে কি খুশি হত-ভাষা নেই যে, বলব। আমি চাই আল্লাহ্ আমার দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দিন যেন আমি আমার মন ভরে সব কিছু এবং সবাইকে দেখতে পারি।
ফেরেশতা অন্ধের চোখের উপর তার একটা হাত বুলিয়ে দিলেন। সাথে সাথে অন্ধও আল্লাহ্ হুকুমে তার দৃষ্টিহীন চোখে দৃষ্টি ফিরে পেল। হ্যাঁ, এমন বল তুমি কি ধরনের সম্পত্তি পেলে খুশি হও?
অন্ধ, যে এখন তার দৃষ্টিহীন চোখে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়েছে, সে বললঃ বকরি। ফেরেশতা একটি গর্ভবতী বকরি ভাল হয়ে যাওয়া অন্ধকে দিলেন। আর বললেন : এর মধ্যেই আল্লাহ্ তোমাকে বরকত দিন।
দিন যায়। সপ্তাহ আসে। মাস গত হয়।
উটনি, গাভী আর বকরি যথা সময়ে বাচ্ছা দিল। এরপর?
আবার মাসের পর মাস-ছ'মাস যায়। বছর আসে। উটনি, গাভী আর বকরি বাচ্চা দিয়েই চলল। এরপর? বাচ্চাদের থেকে আবার বাচ্চা। আবার। ক্রমান্বেয়ে বিয়োনের পালা চলে। এরপর থেকে বিয়োনোর পর বিয়োনো। কেবলি সংখ্যা বৃদ্ধি। আর বিয়োনোর-চাপে তিন জন ফেঁপে উঠল। শুধু কি তাই?
এদিকে দেখতে না দেখতে কয়েক বছরের মধ্যেই মনে হল যে উট, গরু, আর বকরিতে ঘর-বাড়ি মাঠ-ঘাট এবং জঙ্গল-মরুভূমি সব ভরে গেছে। আল্লাহ্ তা'আলা আবার একদিন তাদের তিন জনের অর্থাৎ কুঠে, টোকো এবং অন্ধের পরীক্ষা নিতে চাইলেন।
আগের সে ফেরেশতাকেই আবার পাঠানো হল। ফেরেশতা প্রথমেই আগের সে আকৃতি বা রূপ নিয়েই ভাল হয়ে যাওয়া মানে ভূতপূর্ব কুঠের কাছে এলেন।
-ভাই, আমি একজন মিসকিন সফরে বেরিয়েছিলাম। আমার সব সামানই শেষ হয়ে গেছে। এখন এক আল্লাহ্ আর আছ তুমি এছাড়া আজ আমার আর কোন উপায় গতি নেই। যিনি তোমার শরীরের বদ রং এবং কুৎসিত চামড়ার পরিবর্তে সুন্দর রূপ আর চামড়া বশিশ স্বরূপ দান করেছিলেন, আমি আজ সে আল্লাহ্ নামের উপর তোমার কাছে একটা উট চাই। দিবে, ভাই? এ জন্য চাইছি-এর পিঠে আমি সওয়ার হয়ে তাড়াতাড়ি যেন আমার বাড়ি গিয়ে পৌঁছতে পারি।
ভাল হয়ে যাওয়া কুঠে বলল: যা-যা! যা বেটা এখান থেকে। বলি আপনি কোন নোয়াবের পুত্তর? বড় যে এসেছেন লাট সাবের পো সেজে একটা উট চাইতে! হুঁ, যেন তার বাপ-দাদা কেউ আমার কাছে গচ্ছিত রেখে বলে গেছে, ও মিয়াঁ! এসে চাইলেন দিয়ে দিও। যা বেটা, ভাগ, এখান থেকে।
ফেরেশতা বলে উঠলেন: আরে ভাই, এমন করছ কেন? একটু থাম, শোন, সম্ভবত আমি তোমাকে চিনি। তাই তোমার কাছে বড় দাবি নিয়ে এসেছি। দাও ভাই, দাও! দিয়ে দাও একটা উট। তোমার তো অভাব নেই। সামান্য একটা উটেরই তো মামলা -- দিলে যে আমার কত বড় উপকার হয়, তা আর কি বলব!
কুঠে রেগে বলে উঠল: গেলে! তুই বেটা আমাকে চিনিসনা? আমি যে কে! তুমি না চিনিয়ে দিলে আমি কি করে চিনব। বলি, ভালয় ভালয় যাবে না যাবে না? বলি, যা। আমাকে আর রাগাসনে। আমি খুব খারাপ মানুষ-ভাগ। যা আমার সামনে থেকে। আমি যা বলি তাই করি। যা, আমি কিছু দিতে টিতে পারব না। তা ছাড়া তোকে যে দেব, সে রকম দেয়ার মত এখানে তেমন কোন বাড়তি উটও নেই। আর আমাকে আগেরই আরো অনেকগুলো ঋণ শোধতে হবে! বুঝলে?
ফেরেশতা নিজের মনেই হেসে উঠলেন: বাইরে এর লেশ মাত্রও প্রকাশ পেল না। কুঠের অবস্থা তো ফেরেশতার জানাই ছিল। কিন্তু যিনি শরীরের বদ রং এবং কুৎসিত চামড়ার পরিবর্তে সুন্দর রং আর সুন্দর চামড়া বশি স্বরূপ দান করেছিলেন-কথাগুলো স্মরণ করিয়ে দেয়ার পরেও যখন কুঠে তা স্বীকার করল না, তখন বাধ্য হয়েই ফেরেশতা এবার 'সম্ভবত' দিয়ে এ জন্য কথা শুরু করলেন: কুঠে যেন সাথে সাথেই আর অস্বীকার করে না বসে, ভেবে-চিন্তে উত্তর দেয়, অথচ এবারও হল হিতে বিপরীত। চোরা না শোনে ধর্মের কথা।
ফেরেশতা এবার জোর গলায় বলে উঠলেন: নিশ্চয়ই তোমাকে আমি চিনি। এখন তুমি যতই সাফাই গেয়ে যাওয়া কেন? আমি সব জানি, আগে তুমি কুঠে ছিলে। মনে পড়ে? কি, মনে পড়ে না, অত শিগগিরই ভুলে গেলে? এ রোগের জন্য ওই যে মানুষ তোমাকে ঘেন্না করত, তুমি গরীব ছিলে, কি গরীব ছিলেনা? পরে আল্লাহ্ তোমাকে আমার মাধ্যমে এত ধন-সম্পত্তি দিয়েছেন। আমি তো তোমার কাছে একটা উটই চাচ্ছি। এর বেশি তো আর কিছুই চাচ্ছিনা। চাবও না। আল্লাহ্ ওয়াস্তে একটা উট দিয়ে আমার বিদায় করে দাও। আমি চলে যাই।
কুঠে গর্জে বলে উঠল: রে মিথ্যুক, দেখছি তোর আস্পর্ধা তো খুব বেশি বেড়ে যাচ্ছে। সামনের দিকে আর একটা কথা বললে জানিস তোর জীবনের জন্য বড় বেশি ভাল হবে না। হুঁ! বলে রাখলাম। আচ্ছা ফ্যাসাদ দেখছি-খুবত, চমৎকার বাহ! কার সামনে দাঁড়িয়ে আচিস, বুঝতে পারিসনি। একদম মুখ থেঁতলে দেব। আরে এটা তুই কি বললে যে, আল্লাহ্ আমাকে দিয়েছে। আর দিয়েছে তোর মাধ্যমে। রে মিথ্যুক, কান পেতে শুনে নে এবং এসব ধন-সম্পত্তি তো আমার কয়েক পুরুষ থেকে। আমার বাপ-দাদার, দাদার দাদার বংশ থেকেই চলে আসছে, আর তুই কিনা বলছিস আল্লাহ্ দিয়েছেন তোর মাধ্যমে।
ফেরেস্তা সাথে সাথে বলে উঠলেন: দেখ আমি মিথ্যুক নই। যদি তুমি মিথ্যুক হও তাহলে?
কুঠে বলে উঠল: তাহলে আবার কি? আমারটা আমি বুঝব। এখান থেকে তুই যাবে, কি যাবে না। এবার তাই জানতে চাই। নইলে ঘাড়ে কয়েক ঘা কসিয়েই মারব। আমাকে আরেকটু ত্যক্ত করলে-অমনি অমনিতেই আর ছেড়ে দিচ্ছি না। আমার শেষ কথাটা কান খুলে শুনে নে-আর একটু টু শব্দ করছে কি...তোর মঙ্গল নেই, হ্যাঁ!
ফেরেস্তা বললেন: বেশ, আমি চলে যাচ্ছি। যাবার আগে বলে যাই তা হলে আল্লাহ্ তা'আলা তোমাকে ঠিক তেমনটিই করে দিন, প্রথমে তুমি ঠিক যেমনটি ছিলে। কেমন?
কথা শেষ করার সাথে সাথেই ফেরেস্তার দোআ কবুল হয়ে গেল।
ফেরেস্তা এরপর আগের বার আসা রূপ নিয়েই সে ভাল হয়ে যাওয়া টেকোর কাছে এলেন। ভাই আমি মিসকিন মানুষ। সফরে বেরিয়ে ছিলাম। এখন সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। আমার এখন এক আল্লাহ্ আর তুমি ছাড়া কোন উপায় দেখছি না। কোন গতি না দেখে উপায়হীন হয়েই তোমার কাছে ছুটে এসেছি। যিনি তোমাকে টেকো মাথায় কুঁচকুঁচে কাল সুন্দর চুল গজিয়ে দিয়ে, মানুষের খারাপ দৃষ্টি থেকে তোমাকে রক্ষা করেছেন-আমি আজ সে আল্লাহ্ নামের উপর তোমার কাছে একটা গরু চাই। দিবে? দাও না ভাই, তোমার পছন্দ মত একটা গরু। বড় আশা নিয়ে এসেছি।
ভাল হয়ে যাওয়া টেকো বলল: বড় আশা নিয়ে এসেছ বাছা! শুনি কোথা থেকে আসা হয়েছে? যেমন বাপ-দাদার রাখা সম্পত্তি! পছন্দসই একটা গরু দিতে হবে, হুঁ! এ বেটা, আজেবাজে না বকে নিজের সোজা পথটি দেখ, বুঝলে? রংবাজি আর কারো সাথে গিয়ে কর গে। যা, ফকড়ামী ছেড়ে খেটে খা! দেখতে তো ভদ্রলোক বলেই মনে হয়। তাই বলছি যা। ভাগ! ভবিষ্যতের জন্য ভাল হয়ে এ পথ ছেড়ে এখান থেকে সোজা চলে যা। আর হ্যাঁ, ও রকম দাবি জানাতে যেন ভবিষ্যতে ভুলেও আর কেন দিন এখানে ছুটে আসবে না। এলে আচ্ছা মত শায়েস্তা করে দেব। দেখ দেখি, কত বড় বজ্জাত-হারামি, বলে কিনা একটা গরু দাও। মরার সময় তোর বাবা কি আমার কাছে একটা গরু জমা রেখে গিয়েছিল নাকি যে, চাইলেই দিয়ে দিতে হবে। কত কষ্ট-সাধনার পর এগুলো করেছি। তুই বেটা বুঝবে কি? তুই কি খান্দানী ফকিরের বাচ্চা নাকি! কোন বাপের মাল চাইতে এসেচিস হুঁ! কি হল এখানে দেখছি এখনো দাঁড়িয়ে রয়েচিস। যা, ভালয় ভালয় চলে যা, নইলে খুব বেশি ভাল হবে না। আমি বেহায়া দেখতে পারি না। মেরে হালুয়া করে দেব।
ফেরেশতা বলে উঠলেন: ভাই, তুমি যত রাগই কর আর যতই কথা শুনাও এবং মেরে যত মজার হালুয়াই বানাও না কেন, কিছুতেই আমার আপত্তি নেই। তোমার যা মন চায়, তাই কর। কিন্তু আমাকে একটা গরু দিতেই হবে। গরু না নিয়ে আমি যাচ্ছি না। দাও তোমার মত ধনীর জন্য আমার এ ক্ষুদ্র সওয়াল পূরণ করা এমন কেন শক্ত কাজ নয়। মনটাকে একটু নরম কর, ভাই! এতটা কঠিন হয়ো না-রহম কর, আমি বড় বিপদে আছি।
টেকো রেগে বলে উঠল : আচ্ছা ফ্যাসাদ দেখছি! সোজা কথায় চলে যাওয়ার পাত্র তুই না। এখন দেখছি-কয়েক ঘা না বসানো পর্যন্ত তুই এখান থেকে নড়বে না। দেখ, আমি বড়ই ভয়ংকর প্রকৃতির লোক। একবার সত্যি সত্যিই বিগড়ে গেলে রক্ষা নেই। জান না নিয়ে শান্তি পাইনা। আমাকে বিগড়ে ফেললে আর তোকে আস্ত ছাড়ছিনা। তাই বলছি আমাকে আর ত্যক্ত না করে সেজো এখান থেকে তোর আপন পথে চলে যা। যা, তো ভাল হবে।
তখন ফেরেশতা আপন মনেই হেসে বলে উঠলেন সত্যি মানুষ কত অকৃতজ্ঞ, অবিশ্বাসী, হীন-নীচু-বেঈমান-মিথ্যুক হয়ে থাকে। ধনের লোভে, সম্পত্তির মোহে ভুলে যায় সবকিছু-হারায় তার শ্রেষ্ঠ সম্পদ ঈমান-বিবেক। এ নগন্য, তুচ্ছ ধন-সম্পত্তির লোভের মোহে ভুলে যায় তার স্রষ্টাকে। এর চাইতে আর দুঃখ কি হতে পারে, মানুষ এত বড় স্বার্থপরও হয়? এ স্বার্থপর মানুষ করতে না পারে এমন কাজ নেই। সব করতে পারে-পারে না লাখে দু'চার জন ছাড়া লোভকে সংবরণ করতে। ছি, কি জঘন্য মন-মানসিকাতা!
ফেরেশতা এবার জোর গলায় বলে উঠলেন : ভাই, শুধু শুধু রাগ কর কেন! আমি তো তোমাকে অনেক আগে থেকেই খুব ভাল চিনি ও জানি। অস্বীকার করতে পারনা কি ছিলে আর কি হয়েছ। সবই আমার জানা আছে। তোমার ব্যাপারে আমার কিছুই অজানা নেই। আল্লাহ্ তোমাকে এত ধন-সম্পত্তি দিয়েছেন বলি, তোমার কাছে একটা গরু এমন কিইবা? ইচ্ছা করলেই তো আমাকে একটা গরু দিতে পার। দিতে পার একটা কেন কয়েকটাই। কিন্তু রে ভাই, আমার সওয়াল একটাই। যেন তেন একটা গরু দিয়ে দাওনা ভাই। আল্লাহ্র কাছে যেদিন তুমি চুল আর ধনের মুখাপেক্ষী ছিলে, সেদিন আল্লাহ্ তোমাকে আমার উসিলায় তা দিয়েছেন। আজ আমি তোমার কাছে মুখাপেক্ষী। দাও ভাই, আমাকে দাও একটা গরু। খালি হাতে ফিরিয়ে দিওনা ভাই! দোআ করব যেন আল্লাহ্ তোমাকে আরো প্রচুর ধন দেন এবং বিরাট ধনী হও তুমি।
টেকো গর্জে বলে উঠল : আরে এ মিথ্যুক, কি বললে তুই? তোর এত বড় আস্পর্ধা! যত্তসব মিথ্যা কথা আল্লাহর কাছে আমি চুল আর গরু চেয়েছিলাম কবে? কখন? তোর সামনে? এখন দেখছি তুই আসলে পাগল না, পাগলের অভিনয়ে সেরা ছেচ্চর। রং জমাবার জায়গা আর পাসনি, এখানে এসেচিস জমাতে? আল্লাহর কাছে আমি চুল আর গরু চেয়েছিলাম। আর তা-ও সে দিয়েছে আমাকে তোর উসিলায়! তবে রে -- শোন, কে আছে এমন যে, বুক ফুলিয়ে বলতে পারে এসব আল্লাহ্ আমাকে তোর উসিলায় দিয়েছে। হুঁ, তুই বললে! আরে এ মিথ্যুক, ফেরেশতা সাথে সাথে বলে উঠলেন: সত্যিই যদি তুমি মিথ্যুক হও, তাহলে?
টেকো বলে উঠল: তাহলে আবার কি? আমি কি মিথ্যুক নাকি? সাবধান হয়ে, মুখ সামলে কথা বল। বলে রাখছি-উলটা, পালটা কথা বলচিস কি... বেশি ভাল হবে না, হ্যাঁ! বড় যে উঁচু গলায় বলতে এসেচিস, মুখ থেঁতলে দেব। এখন পর্যন্ত আমার আসল রূপটি দেখিসনি তো-ফের আমার বিরুদ্ধে আর একটা বলচিস তো দেখিয়ে দেব।
ফেরেশতা বললেন: এখানে ভাল-মন্দের কথা নয়, লেনদেনের কথা কাটাকাটি হচ্ছিল। কিন্তু সত্যিই যদি তুমি মিথ্যুক হও, তাহলে আল্লাহ্ তোমাকে ঠিক তাই যেন করে দেন আগে তুমি যা ছিলে। কথা শেষ হওয়ার সাথে সাথেই ফেরেশতার দোআ মঞ্জুর হয়ে গেল।
ফেরেশতা এবার অন্ধের কাছে প্রথমবারের সে রূপ নিয়ে এলেন। এই যে ভাই, দেখ-আমি একজন মুসাফির। ভীষণ বিপদগ্রস্ত। নিরাশ্রয় হয়ে পড়েছি। ভাইরে আজ হয়তো তুমি আমাকে চিনতে পারবে না এবং আজ আমার একমাত্র ভরসা আল্লাহ্ আর তুমি, সত্যি বলছি, এ ছাড়া আমার আর কেন গতি আশ্রয় নেই। আমি আল্লাহ্ নামে তোমার কাছে একটা বকরি চাই। সে আল্লাহর নামে আমাকে একটা বকরি দাও যিনি তোমাকে দ্বিতীয়বার তোমার অন্ধ চোখকে দৃষ্টির উপহার দিয়েছিলেন। তোমার কাছ থেকে একটা বকরি পেলে নিজের উদ্দেশ্য সাধন করে ওই বকরিটাকে দিয়েই কোন মতে-সতে আমার সফর পুরা করব।
ভাল হয়ে যাওয়া অন্ধ বলল: হ্যাঁ, ভাই! মনে হয় যেন তোমার কথা ঠিকই। হ্যাঁ ভাই, তুমি ঠিকই বলছ, আমি তো অন্ধই ছিলাম। সর্বশক্তিমান রাহমানুর রাহীম আল্লাহ্ তা'আলা তাঁর খাস মেহেরবাণীর বদৌলতে আমার অন্ধ চোখে দৃষ্টি উপহার দিয়েছেন। আমার মনে আছে। একজন লোকের উছিলায় আমি এসব পেয়েছি। মনে হয় যেন সে লোকটি ... হ্যাঁ, সে লোকটা যেন তুমিই ছিলে। অনেক দিনের কথা তো পরিষ্কার মনে না হলেও একটু একটু মনে পড়ছে, চোখ ভাল হওয়ার সাথে সাথে তোমাকেই যেন আমি প্রথম দেখছিলাম। যদিও অনেক দিন পর খটকা লাগার কারণে বিশ্বাস হতে না চাইলেও অবিশ্বাসও করতে পারছিনা আসলেই সে তুমি ছাড়া আর কেউ নয়। সে যাক। মোট কথা আমি তোমার কেন কথারই অস্বীকার করে যাব না। আর কিছুই অস্বীকার করব না-আমার এ জীবনের উপর দিয়ে যত বড় ধরনের বিপদই আসুক না কেন। তুমি বিশ্বাস কর আমি ভাই অকৃতজ্ঞ বেঈমান নই। তুমি আমার কাছে মোটে একটা মাত্র বকরি চাচ্ছ কেন, তুমি নিজে বেছে যতটা খুশি নিয়ে যাও। তুমি ভাই বিশ্বাস কর আর নাই কর শোন এ দীর্ঘদিনের মধ্যে আমি বহুবার একথা ভেবেছি সে মানুষটা কোথায়? আচ্ছা যে আমার চোখে হাত বুলিয়েছিল এবং আমি সাথে সাথে দৃষ্টিশক্তি ফিরে পেয়ে ভালও হয়ে গিয়েছিলাম আর আমার জীবনে চলার জন্য দাবিও পূরণ করেছিল একটি বকির দিয়ে। তাকে আর দেখতে পেলাম না। আজ আমার মনে হচ্ছে সে আশা আমার মিটাল। যাক, সে তুমিই হবে- তুমি না হলে এমনভাবে ঠিক ঠিক একদম নির্ভুল কেউ বলতে পারত না এবং পারবেও না। কি ঠিক বলেছি না?
ফেরেশতা সাথে সাথে বলে উঠলেন: হ্যাঁ! দেখলাম তিনজনের মধ্যে সত্যি তুমিই অকৃতজ্ঞ নও।
অন্ধ বলে উঠল: আমি ভাই গণ্ডমূর্খ মানুষ, মিথ্যা কথা বলব না; আমৃত্যুই আমি আল্লাহ্ রাসূলের আদেশ-নির্দেশ মেনে চলেছি এবং মেনে চলার ইচ্ছাপোষণ করে চলেছি-চলব। তুমিও আমার জন্য সে দো'আই কর। হ্যাঁ, ভাই! তুমিও বল- আজ আমার কিসের অভাব? কি, কোন কিছুর অভাব আছে? তবে কেন আমি অকৃতজ্ঞ হয়ে লোভে পড়ে আল্লাহ্র নাফরমানী করতে যাব এবং গুনাহাগার হব। বেঈমান হয়ে মরব কেন? শোন ভাই তুমি একটা বকরি নিও না। কেন ভাই একটা চাচ্ছ-যতটা তোমার ইচ্ছা তোমার মনে যত নিয়ে যাবার চায় নিয়ে নাও এবং যতটা তোমার ইচ্ছা রেখে যাবার রেখে যাও। আর যদি মনে কর সবগুলোই নিয়ে যাবার তো 'আলহামদুলিল্লাহ-সব তারিফ আল্লাহ্ তা'আলার, নিয়ে যাও, আমি এত খুশি হব ভাই, ভাষা নেই যে বর্ণনা করার নিজের কাছে দেয়ার মত যত জিনিস রয়েছে এর কোনটা থেকেই আমি তোমাকে মানা করব না। তোমার উসিলায় আমি আজ এ পর্যায়ে সম্মানের সাথে এসে পৌঁছেছি। তুমি আমার সব নিয়ে যাও। আমার এসবই তোমার। এস ভাই, এস আমার সাথে। হ্যাঁ, এখন তো আমি এ কথা আল্লাহ্র কসম খেয়ে বলতে পারি, তুমিই সে! ঠিক মত দাঁড়াও তোমাকে একটু ভাল করে তোমার সেদিনের পরশ বুলিয়ে দেয়া আলো দিয়ে দেখে-নেই, দেখি তো........ হ্যাঁ; তুমিই। এবার আমার শেষ কথা শোন তুমিই সে ব্যক্তি, অতএব সব নিয়ে যাও। এসবই তোমার। তুমি আমার সম্মানিত মেহমান, যতদিন ইচ্ছা নিজের বাড়ি মনে করে বেড়িয়ে যাও। আমি আজ কত সৌভাগ্যবান।
ফেরেশতা বললেন: ভাইরে, তুমি তোমার নিজের জিনিস তোমার নিজেরই কাছে রেখে দাও। আমার কোন জিনিসেরই দরকার নেই। আমি কিছুই চাইনা। আল্লাহ্ আমাকে পাঠিয়েছিলেন পরীক্ষা করার জন্য। শুধু তোমাদের তিন জনের পরীক্ষা নেয়ার ছিল, নিয়েছি। নেয়া আমার হয়েছে। এবার আমার বিদায়ের পালা। আল্লাহ্ তা'আলা তোমার উপর ভীষণ খুশি, তিনি খুবই সন্তুষ্ট হয়েছেন এবং ওদের সে দু'জনের উপর খুব নাখোশ অর্থাৎ ভীষণ অসন্তুষ্ট। একবার গিয়ে তোমার স্বচক্ষে দেখে এস এরা আগের মতই অবস্থায় এখন কুঠে আর টেকোর কিচ্ছু নেই।
কথা শেষ করেই ফেরেশতা আর কালবিলম্ব না করে তাঁর গন্তব্য পথে হঠাৎ উধাও হয়ে গেলেন। ভূতপূর্ব অন্ধ ফেরেশতার গমন পথের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থেকে তার নিজের মনেই বলে উঠল-হে আল্লাহ্! তোমার প্রেরিত মানুষটা আমার এখানে এসে একটু খেজুর তো দূরের কথা এক ফোঁটা পানি পর্যন্ত খেয়ে গেল না। তুমি আমার অপরাধ মার্জনা কর। ক্ষমা কর আমার গুনাহ। আমীন আল্লাহুম্মা আমীন!

📘 হাদিসের গল্প > 📄 জীবন্ত কবর

📄 জীবন্ত কবর


তোমরা ইতিহাসের পাতায় আইয়ামে জাহেলিয়াত যুগের কত ঘটনাইনা পড়েছ। এ হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটেছিল মহানবী (স)-এর এক সাহাবীর ইসলাম পূর্ব জীবনে। মহানবী (স)-এর সান্নিধ্যে আসার পর এ ঘটনাটি তাঁর জীবনে এর অনুশোচনায় তাঁকে চরমভাবে বিপর্যস্ত করেছিল।
একদিন মহানবী (স) তাঁর এক সাহাবীকে উদ্দেশ্য করে জিজ্ঞেস করলেন, “তোমার ইসলাম গ্রহণ পূর্ব জীবনের কোন স্মরণীয় ঘটনা মনে আছে কি?” সাহাবী অত্যন্ত বিচলিত অবস্থায় বলল, “হ্যাঁ, মনে আছে, ইয়া রাসূলুল্লাহ (স)! সে হৃদয়বিদারক ঘটনার কথা মনে পড়লে এখন আমার বুক ফেটে যায়, অসহ্য যন্ত্রণা আর যাতনায় অস্থির হয়ে পড়ি, বেঁচে থাকার আর ইচ্ছা হয় না, দু'চোখ বেয়ে অনবরত পানি আসে আর ভাবি বিগত জীবনে আমি কি করলাম। মহানবী (স) বললেন তাহলে আমাকে বল সে ঘটনাটি। সাহাবী বলতে শুরু করলেন সে বিগত জীবনের বর্বোচিত ঘটনাটি। আমার সংসারে এগারটি মেয়ে শিশু জন্মেছিল। আমরা তখনকার সমাজে মেয়েদের জন্ম হওয়াটা খুবই খারাপ বলে ভাবতাম। ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনার সান্নিধ্যে আসার পর ‘মেয়ে জন্ম হওয়া আল্লাহ্র রহমত' একথা তো অপনিই বলেছেন? আপনি আরো বলেছেন, 'যদি কারোর দু-তিনটি মেয়ে হয় তাদের ভালভাবে দ্বীনের কথা শেখায আর ভাল পাত্রের সাথে বিয়ে দেয়, তাহলে সে ব্যক্তি জান্নাতী হবে। ইয়া রাসূলুল্লাহ (স) আপনার মুখে একথা শোনার পর থেকেই বারবার আমার সে বাচ্চা মেয়েগুলোর কথা মনে পড়লে এক অসহ্য যন্ত্রণায় ছটফট করি।” মহানবী সাহাবীকে বললেন এখন বল, তোমার সে এগারটি মেয়ে শিশুর কি হয়েছিল। সাহাবী বললেন “ইয়া রাসূলুল্লাহ! আপনি আমার জন্য দু'আ করুন, যেন এ অধমকে এর পাপের শাস্তি থেকে আল্লাহ্ মাফ করে দেন। এখন সে কথা মনে হলেই লোম খাড়া হয়ে যায়, কলিজা ফেটে যেতে চায়। আল্লাহ্ তোমাকে ক্ষমা করুন, ব্যাপারটা পরিষ্কার করে আমায় বল।" সাহাবী তাঁর বিগত দিনের ঘটনা আবারও বলতে লাগলেন "আমি এসব মেয়েগুলোকে এক এক করে জ্যান্ত মাটিতে কবর দিয়েছি। এ কাজগুলো যখন করেছিলাম; তখন আমি কাফের ছিলাম, আর এ যুলুম অত্যাচার করেছিলাম তখনই। ইস! এখন বুঝি কত উত্তম না হত, যদি আমার সে মেয়েগুলো থাকত। আমি তাদের ধর্মের কথা শিখাতাম। ভাল ছেলের সাথে বিয়ে দিতাম। বিনিময়ে পেয়ে যেতাম জান্নাত।” মহানবী (স)-সাহাবীকে জিজ্ঞেস করলেন, এ কাজগুলো করতে যেয়ে "কারোর উপর তখন তোমার কোন দয়ামায়ার উদয় হয়নি? সাহাবী বললেন না, ইয়া রাসূলুল্লাহ! কখনো কারোর উপর কোন দয়ামায়া আমার হয়নি। জ্যান্ত মেয়েদের মাটিতে পুঁতে দিতে আমার হাত একটুও কাঁপেনি আর বিবেকও কোন বাঁধা দেয়নি। কিন্তু মনে পড়ে, শেষ মেয়েটার জন্য কেমন যেন একটু মায়া হয়েছিল আমার মনে।" মহানবী (স) জিজ্ঞেস করলেন তা কি রকম?
"বিগত জীবনের সব কথাই এখন আমার চোখের সামনে ভাসছে বললেন সাহাবী। শেষ মেয়েটা যখন জন্মায়, তখন আমি সফরে ছিলাম আর সে সফরে এমনভাবে আটকে পড়েছিলাম যে, তাতে-সাত আট বছর কেটে যায়। সফর শেষে বাড়িতে ফিরে এসে দেখলাম, আমার ঘরে খেলা করছে খুবই সুন্দর ফুটফুটে এক শিশু কন্যা। একে দেখে আমি স্ত্রীকে জিজ্ঞেস করলাম, 'এ মেয়েটা কে এবং কার?' স্ত্রী বলল, 'এটা আমাদের এক প্রতিবেশীর মেয়ে। আমি একে চেয়ে এনেছি'। .... এ ভয়ে সে আমায় মিথ্যা বলেছিল যে, 'আমার নিজেরই মেয়ে' একথা আমি জানতে পারলে তাকেও যদি আমি পূর্বেকার মেয়েগুলোর মত জ্যান্ত মাটিতে কবর দিয়ে দেই। মহানবী (স) সাহাবীকে প্রশ্ন করলেন এরপর তুমি কিভাবে জানালে যে মেয়েটি ছিল তোমারই? সাহাবী বললেন, “বেশ কিছুদিন পর একথা জানতে পেরেছিলাম আমারই স্ত্রীর মুখে। মেয়েটি ছিল বেশ আদুরে যেমনি দেখতে সুন্দর, তেমনি মিষ্টি স্বভাবের। সে আমাকে তার সান্নিধ্য থেকে কোন সময় হাত ছাড়া করতে চাইত না। সব সময় কাছে-কাছেই থাকত আর মিষ্টি মিষ্টি কথা বলত। আমার হাত-পা টিপে দিত, আমার জন্য পানি এনে দিত, পাখা দিয়ে বাতাস করত, কচি-কচি হাতে আমার গলা জড়িয়ে ধরে চুমু এঁকে দিত মুখে, কপালে। ধীরে ধীরে বাচ্ছা মেয়েটির উপর আমারও মায়া বসে গেল। অর্থাৎ আমার স্নেহ তাকে পেয়ে বসল। তাকে ঘরে না দেখলে কেন কাজেই আমার মন বসত না। যখনই বাইরে থেকে আসতাম, তার জন্য নিয়ে আসতাম ভাল ভাল খাবার। তাকে খাওয়াতাম নিজে হাতে। বাচ্চাটির উপর আমার এমন টান দেখে একদিন স্ত্রী আমাকে বলল, ওগো, এটা যে আমাদেরই মেয়ে, তোমার ভয়ে এতদিন মিথ্যা বলে এসেছি।'.... এবার স্ত্রী সত্যি কথা বলল?' সে ভেবেছিল যে, মেয়েটির উপর আমার এখন খুব মায়া, ভালবাসা জন্মেছে। এখন তাকে আমি আর পূর্বেকার মেয়েগুলোর মত জ্যান্ত কবর দিব না এটাই ছিল আমার স্ত্রীর ধারণা।' কিন্তু কি বলব, ইয়া রাসূলুল্লাহ (স) কথাটা শোনামাত্রই আমার সারা শরীর জ্বলে উঠল আর আমাদের সমাজের চিত্রটা চোখে ভেসে উঠল।
মেয়ে জন্ম হওয়াটা আমরা বরদাসত করতে পারতাম না। আর আমি এর ব্যতিক্রম হই কি করে। রক্ত চড়ে গেল আমার মাথায় .....।' মহানবী (স) বললেন, তুমি একটু আগেই বললে তোমার খুব মায়া হয়েছিল আর এখন অন্য কথা, কারণটা কি? কারণটা এটাই, আমি মেয়েটিকে জেনেছিলাম অন্যের বলে। সে যে আমারই মেয়ে এত জানতাম না। এখন যখন জানতে পারলাম আমরই মেয়ে আমি সমাজে মুখ দেখাব কি করে এ ভয়ে বিগড়ে গেলাম। মহানবী (স) বললেন তোমরা মেয়ে শিশুদের পছন্দ করতে না কেন?' সাহাবী বললেন 'কারণ ছিল এটাই যে, মেয়েরা তো আমাদের কিছু রোজগার করে এনে দিতে পারবে না। লড়াইয়ের সময় আমাদের সাথে শামিল হয়ে তলোয়ার চালাতেও পারবে না। আবার তাকে বিয়ে দিতে হবে। সারাজীবন তাকে থাকতে হবে স্বামীর অধীনে। তাছাড়া আমরা নিজেদেরকে স্বশুর বলে পরিচয় দিতে খুবই লজ্জা পেতাম। আমরা বড়ই নির্বোধ ছিলাম! মহানবী (স) সাহাবীকে বললেন, তুমি সত্য কথাই বলছ। আল্লাহ্ তোমাকে বিগত দিনের কৃতকর্ম জন্য ক্ষমা করুন। এরপর কি করলে বল? তাই একদিন আমি স্ত্রীর অজান্তে মেয়েটিকে সাথে নিয়ে বাড়ী থেকে বের হলাম। সারাটা পথ সে বড় আদুরে গলায় খুব মিষ্টি মিষ্টি কথা বলতে বলতে আনন্দে চলল। তাকে নিয়ে আমি একটা জঙ্গলে ঢুকে শুরু করলাম গর্ত করতে। তা দেখে বাচ্চা মেয়েটি বলে উঠল, 'তুমি এখানে এসে গর্ত খুঁড়ছ কেন, আব্বা? আমি তার কথার জবাব দিলাম না। আপন মনে মাটি খুঁড়তেই থাকলাম। মেয়েটি গর্তের এক ধারে দাঁড়িয়ে দেখতে লাগল। আর আমার গায়ে যখন ধুলা মাটি পড়ছিল, সে তখন তার কচি হাতে আমার গা থেকে মাটি ঝেড়ে দিচ্ছিল আর বলেছিল, 'আর মাটি খুঁড়বে না আব্বা। তোমার কষ্ট হচ্ছে। তোমার সারা গায়ে ঘাম ভরে গেছে। তোমার পিঠে মাটি পড়ছে। আব্বা, তুমি বরং আমাকে গর্তে নামিয়ে দাও। আমি খুঁড়ে দিচ্ছি।' সাহাবী বললেন ইয়া রাসূলুল্লাহ! বাচ্চা মেয়েটির মুখে এমন কথা শুনে আমার অন্তরে একটু মায়া হল বটে কিন্তু তা ক্ষণিকের জন্য। আমি আপনাকে প্রকৃত পরিস্থিতির সত্যি কথাই বলছি, কাফের লোকেরা সাধারণত বড় কঠোর স্বভাবের হয়। আর আল্লাহ্ও তাদের অন্তরকে কঠোর করে দেন। পরকালের হিসেব-নিকেশের কথা বিশ্বাস করলে তো মনে আল্লাহ্র ভয় জাগবে, জাহান্নামের ভয় আসবে। আর আমিও যে তখন কাফের ছিলাম। আর এসব কথা মানার কোন প্রশ্নই উঠে না। কেবল পরিবারে, বংশে বা পাড়ায় যেসব রীতিনীতি চালু ছিল, সেগুলোই শুধু মেনে চলতাম।
এরপর শুনন কি হল। মেয়েটা কিছুক্ষণ পর আবার বলে উঠল, 'আব্বা, তুমি উঠে এস। তোমার ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। তুমি বড় ক্লান্ত হয়ে পড়েছ। এবার আমাকে নামিয়ে দাও। আমি মাটি খুঁড়ে দিচ্ছি। আর, তুমি ততক্ষণ জিরিয়ে নাও, আব্বা!' ইতোমধ্যে গর্তে করণীয় কাজের সবটাই সমাধা করলাম অর্থাৎ চাপা দেয়ার মত হয়ে গেল। 'আমি তাকে বললাম, ঠিক আছে, ... এ বলে আমি উপরে উঠে এলাম আর তাকে নামিয়ে দিলাম গর্তের ভিতর। মেয়েটি গর্তের ভিতর নামা মাত্রই উপর থেকে খুব চালু হাতে মাটি ফেলতে শুরু করলাম।' তোমার এ অবস্থা দেখে মেয়েটি কাঁদেনি বা কোন চীৎকারও করেনি জিজ্ঞেস করলন মহানবী (স)? সাহাবী বললেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ! আমাকে আর এ ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করবেন না। এবার কলিজা ফেটে যাচ্ছে। কিছুক্ষণ নীরব থেকে সাহাবী আবারো বলতে শুরু করলেন আমার সে প্রিয় বাচ্চাটি বারবার আকুল হয়ে বলতে লাগল- আব্বা? এ তুমি করছ কি, আমার সারা গায়ে মাটি যে ভরে যাচ্ছে। আব্বা, আমি যে দম আটকে মরে যাব, আমি দম আটকে মারা যাব ইত্যাদি। তখন আমাকে কোথায় পাবে, আব্বা! আমি যে তোমাকে খুব ভালবাসি, আব্বা!' 'মেয়েটি এসব কথা বলতে লাগল আর আমি উপর থেকে শুধু মাটি ফেলতেই থাকলাম। আর সে ব্যাকুল হয়ে চিৎকার করতেই থাকল। এরপরও আমার মনে কোন দয়া-মায়া বা ভাবনার উদয় হল না। এমনই এক উন্মাদনায় আমাকে পেয়ে বসল। মাটিই চাপিয়ে দিলাম। এক সময় মাথাটাও চলে গেল মাটির নীচে। মেয়েটির আর কোন চিৎকার শুনতে পেলাম না। তখন আমি আমার কর্তব্য কাজ সমাধা করতে পেরে মনে মনে গর্ব অনুভব করলাম। -হায়, হায়! কত নিষ্ঠুর ছিলাম আমি। কত যুলুমই না করেছি। এখন আমার একটিও মেয়ে নেই। আমি কেমন করে জান্নাতে যাব, ইয়া রাসূলুল্লাহ আমাকে বলুন। আমার জন্য দু'আ করুন। আমি তওবা করছি। মহানবী (স) সাহাবীকে বললেন, আল্লাহ্ তোমাকে মা'ফ করুন। যাও, আল্লাহর দরবারে কান্নাকাটি কর। মহিলা ও শিশুকন্যাদের হক পুরোপুরি আদায় কর। তাদেরকে হিফাযত কর। যদি তারা দিনের মধ্য সত্তরবারও ভুল করে, তবুও তাদের ক্ষমা করে দাও。'

📘 হাদিসের গল্প > 📄 ভক্তের পরীক্ষা

📄 ভক্তের পরীক্ষা


আরব দেশ। অন্ধকার যুগ।
মক্কার বিধর্মীদের মনে বড় দুশ্চিন্তা। তারা মহা ভাবনায় গেল। কত ঠাট্টা-বিদ্রুপ, কত ভয় দেখাল, তবু হযরত মুহাম্মদ (স) ইসলাম প্রচার বন্ধ করলেন না। মক্কার লোক অনেকে একে একে মুসলমান হয়ে যাচ্ছে। বিধর্মীদের মনে ক্রোধের মাত্রা বাড়িয়ে দিল। হিংসা-বিদ্বেষ তাদের মনে আগুন জ্বালিয়ে দিল, তারা সকলে মিলে পরামর্শ করল। স্থির করল, যেই মুসলমান হবে, তারই উপর অত্যাচার করা হবে।
বিধর্মীদের অন্যতম নেতা উমাইয়া প্রতিপত্তিশালী ব্যক্তি। টাকা-পয়সা আছে প্রচুর। কুরাইশদের মাঝে তার প্রভাবও আছে। উমাইয়া বসে বসে ভাবছে ইসলামের প্রচার কি করে রোধ করা যায়। যুলুম নির্যাতন করেও তো কোন ফল হচ্ছে না।
এমন সময় তাঁর কানে এল, 'আল্লাহ্ এক। আল্লাহ্ ছাড়া কোন উপাস্য নেই।'
উমাইয়া চমকে উঠল। তার বাড়ির ভিতর থেকে কে যেন এ কথা বলছে। উমাইয়া দৌড়ে ঘরে গেল। ঘরের ভিতরে যা দেখল, তাতে উমাইয়ার চক্ষু স্থির। তারই এক ক্রীতদাস এক মনে বলছে, "আল্লাহ্ এক। আল্লাহ্ ছাড়া আর কোন উপাস্য নেই।'
কি স্পর্ধা। তার ঘরে থেকে, তার ক্রীতদাসের এত সাহস। উমাইয়া ক্রোধে অগ্নিশিখার মত জ্বলে উঠল।
কে শোনে কার কথা। ক্রীতদাস আপন মনে জপতেই থাকে "আল্লাহ্ এক।"
শুরু হল এবার অত্যচার। কিন্তু শত অত্যচারেও ক্রীতদাসকে নিস্তব্ধ করা গেল না। উমাইয়া নির্যাতনের নতুন পথ বের করল। সে ক্রীতদাসের গলায় পশুর দড়ি বাঁধা হল। এরপর তাকে মক্কার বালকদের হাতে ছেড়ে দিল। বালকেরা তার গলার বাঁধনধরে মক্কার পথে পথে ঘুরল, হৈ-হৈ শব্দে তামাশা করল, টেনে হেঁচড়িয়ে, মেরে-পিটিয়ে তাকে আধমরা করল। এরূপ রং-তামাশায় অত্যাচার করে সন্ধ্যার সময় তাকে উমাইয়ার বাড়িতে দিয়ে গেল।
উমাইয়া তখন তার কাছে গিয়ে বলল, "এখনো সময় আছে। মুহাম্মদের ধর্ম ছেড়ে দে।”
এরূপ অত্যাচারের পরও ক্রীতদাস বলল, 'আল্লাহ্ এক, আল্লাহ্ এক' পরের দিন আবারও সে একই ধরনের অত্যাচার উৎপীড়ন।
এত অত্যাচারের পরও ক্রীতদাস মুহাম্মদ (স)-এর প্রচারিত ধর্ম ছাড়েনি।
এবার উমাইয়া ক্রুদ্ধ হয়ে কঠোরতম অত্যাচার আরম্ভ করল। দুপুরবেলা আরবের মরুভূমি গরমে আগুন হয়ে উঠে। উমাইয়া সে তপ্ত বালুর উপর তাকে চিৎ করে শোয়াল। যাতে সে কোন পাশে ফিরতে না পারে, সে জন্য বুকের উপর ভারী পাথর রাখল।
পিঠের নীচে তপ্ত বালু আর চোখে মুখে দুপুরের রৌদ্র, পাশ ফিরবার কোন উপায় নেই। এমন অবস্থায় ক্রীতদাস যখন প্রায় চৈতন্য হারিয়েছে, তখন সেখানে উমাইয়া এল। বলল, "এখনও সময় আছে, মুহাম্মদ এর ধর্ম ছাড়, তোকে ছেড়ে দিই।'
সে অর্ধচেতন অবস্থাতেও ক্রতীদাসটি চিৎকার করে উঠল "আহাদ। আহাদ। আল্লাহ্ এক, আল্লাহ্ এক।"
উমাইয়া হতাশ হয়ে তার আহার বন্ধ করে দিল। তাকে একটা ছোট কামরাতে আবদ্ধ করে রাখল, সেখানে তার হাত পিঠ-মোড়া দিয়ে বেঁধে বেদম প্রহার করতে লাগল। নিদারুণ বেত্রাঘাতে তার গায়ের চামড়া ছিঁড়ে রক্ত বের হতে লাগল। তখনও সে বলেছে, "আহাদ। আহাদ।"
একদিন শেষ রাতে হযরত আবু বকর (রা) সে পথ দিয়ে চলেছেন। তিনি সে ক্রীতদাসের করুন ক্রন্দন শুনলেন। সে অসহায়ের উপর নিষ্ঠুর অত্যাচারের কথা শুনে তিনি শিহরিয়ে উঠলেন। পরদিন সকাল বেলা তিনি উমাইয়ার সাথে দেখা করলেন। আরবে তখনও দাস ক্রয়-বিক্রয় হত। তিনি উমাইয়াকে উপযুক্ত মূল্য দিয়ে দাসটিকে কিনে আনলেন। বাড়ীতে এনে তিনি সে পরম সত্যনিষ্ঠ ক্রীতদাসটিকে মুক্তি দিলেন।
কে এ ক্রীতাদাস, যিনি এমন অমানুষিক অত্যাচারে পরও সত্য ধর্মকে ছাড়েন নাই! জগতের কোন বাধা-বিপত্তিই যাকে আল্লাহ্ পথ থেকে সরাতে পারে নাই? ইনি ভক্তকূল চূড়ামণি হযরত বেলাল (রা)। ইসলাম জগতের প্রথম মুয়াজ্জিন。

📘 হাদিসের গল্প > 📄 নবী ও বিড়াল

📄 নবী ও বিড়াল


বিড়াল বড় আদরের প্রাণী। খাওয়ার সময় সে আশে-পাশে ঘোরে। কিছু না পেলে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকায়, না হলে ম্যাও ম্যাও করে। আর পেলে তৃপ্তির সাথে খায় আর লেজ নাড়ে।
বিড়াল মানুষের কাছে কাছে থাকতে চায়। পোষা বিড়াল কোলে উঠে বসে। বিড়াল রাতে মানুষের সাথে ঘুমাতে খুবই ভালবাসে। প্রায় দেখা যায়, পায়ের কাছে শুয়ে আছে, লাথি খেয়েও সরে না; মিউ-মিউ করে কেঁদে কেঁদে আবার কাছে ভিড়ে।
ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা বিড়ালকে খুবই আদর করে। অনেকে পোষা বিড়ালকে 'মিনি' বলেও ডাকে। আমাদের নবীজীও বিড়ালকে ভালবাসতেন। বিড়ালকে তিনি গায়ে-পিঠে হাত বুলিয়ে আদর করতেন, সামনে বসিয়ে খাওয়াতেন। তাঁকে দেখামাত্র বিড়াল ম্যাও ম্যাও করে তাঁর দৃষ্টি আকর্ষণ করত।
কেবল নবীজী কেন, তাঁর অনেক সাহাবীও বিড়ালকে ভালবাসতেন। হযরত আবু হোরায়রা ছিলেন রাসূল (স)-এর এক অন্যতম প্রিয় সাহাবী। তিনি কিছু শুনলে তা কখনো ভুলতেন না। রাসূলের কথা শোনা মাত্র তিনি মুখস্ত করতেন এবং লিখে রাখতেন। তিনি সবচেয়ে বেশি হাদীস বর্ণনা করেছেন।
আবু হোরায়রার বাড়ী ছিল মদীনা থেকে অনেক দূরে। সত্যের ডাক সেখানে পৌঁছলে, তিনি মদীনায় এলেন। আসার সময় বাড়ির জিনিসপত্র প্রায় সব কিছুই ফেলে এলেন, সাথে শুধু নিয়ে এলেন একটি বিড়াল।
এ আবার কি রকম কাণ্ড? কিন্তু প্রাণে যাদের দরদ থাকে, তাঁরাই এমন কাজ করেন। ঘরের দামী দামী আসবাব তো প্রাণহীন -জড় পদার্থ। এগুলো ফেলে এলে এরা ব্যথা পাবে না। কিন্তু বিড়াল ত জড় পদার্থ নয়, এর প্রাণ আছে; আর তাই তার ব্যথাও আছে। তাকে ফেলে এলে দুঃখ পাবে, কাঁদবে। তাই আবু হোরায়রা একে সাথে নিয়ে এলেন।
বিড়ালের প্রতি তাঁর দরদ দেখে অনেকেই হাসি-ঠাট্টা করল। কিন্তু নবীজী একটি মূক প্রাণীর প্রতি আবু হোরায়রার দরদ দেখে খুশি হলেন।
আমাদের প্রিয়নবীর একটি মাত্র চাদর ছিল। রাতের বেলায় তিনি চাদরটি গায়ে দিয়ে ঘুমাতেন। আর দিনের বেলা এটিই গায়ে দিয়ে বের হতেন।
আরব দেশে দিনের বেলা প্রচণ্ড গরম। রাতের বেলা ভীষণ শীত। শীতকালে রাতের বেলা হাড়-কাঁপানো শীত।
আমাদের নবীজী শেষ রাতে জেগে উঠতেন। নবী হওয়ার আগেও শেষ রাতে তিনি জেগে থাকতেন। তারার মেলা দেখতেন। গাছপালা আকাশ-বাতাস কি করে হল তা ভাবতেন।
খুব ভোরেই নবীজী মসজিদে আসতেন। তাহাজ্জুদ পড়তেন। সুবহি সাদিকের সময় মসজিদে যাওয়া ছিল তাঁর জীবনের অভ্যাস। একা নবীজী নন, তাঁর সাহাবারাও প্রায় সকলেই সুবহি সাদিকের সময় সমজিদে উপস্থিত হতেন। কারণ এটা ছিল ইবাদত কবুলের সময়।
কাফেররা কাজ করত নবীর উল্টা। তারা গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকত, হৈ-চৈ করত, আর সকাল বেলা ঘুমাত। এ অভ্যাসটা এখন মুসলমান সমাজের মধ্যে প্রায় পরিবারেই ব্যাপকভাবে পরিলক্ষিত হয়।
আমাদের নবী একদিন শেষ রাতে মসজিদে যাওয়ার জন্য তৈরি হলেন। গায়ে দেয়ার জন্য চাদরটি ধরলেন। কিন্তু দেখলেন, চাদরের এক কোণে শুয়ে আছে একটি বিড়াল।
চাদরটা তিনি অতি সহজেই টেনে নিতে পারতেন। কিন্তু তাতে হয়ত বিড়ালটির ঘুম ভেঙ্গে যেত। বিড়ালের ঘুম ভাঙাতে তাঁর ইচ্ছা হল না। তিনি দাঁড়িয়ে রইলেন। এদিকে সুবহি সাদিক শেষ হয়ে ফযরের নামাযের সময় হয়ে এল। তখনও বিড়ালটির ঘুম ভাঙল না। ফযরের নামাযের সময় হয়ে এল। ফযরের নামাযের জন্য সাহাবারা তাঁরই অপেক্ষা করছেন। তিনি মসজিদে গেলে এক সাথে জামাত হবে। তাই না গেলেও নয়।
কিন্তু বিড়ালটা যে অঘোরে ঘুমাচ্ছে। উঠার কোন লক্ষণই দেখা যায় না। রাসূল (স) কোন দিন কাউকে কোন কষ্ট দেননি। ঘুম ভাঙ্গাবার মত কষ্টও না। বিড়ালটার ঘুম নষ্ট করতেও তাঁর মন চাইল না।
বড় চিন্তায় পড়লেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তিনি কি করলন? এমন এক কাজ করলেন, যা শুনলে অবাক হতে হয়। তিনি একটি ছুরি হাতে নিলেন। চাদরের যে কোণে বিড়ালটি ঘুমিয়েছিল, এ কোণটাই কেটে ফেললেন। এরপর কাটা চাদরটা গায়ে দিয়ে মসজিদে গেলেন। কিন্তু তখনো বিড়ালটার ঘুম আর ভাঙালেন না。

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00