📘 হাদিসের গল্প > 📄 দর্জির বেশে জিব্রাঈল (আ)

📄 দর্জির বেশে জিব্রাঈল (আ)


"প্রত্যেক মুসলিম অন্তরে বাজিয়ে খুশীর বীণ বৎসর ভ্রমিয়া আবার আসিয়াছে সে দিন"-
তাই, আজ মিষ্টান্ন তৈরী করতে হবে বলে মা খুবই ব্যস্ত। সকাল থেকেই যাঁতায় গম ভাংতে আরম্ভ করে দিয়েছেন। কেননা সকালের মধ্যেই সব শেষ করতে হবে।
আট-দশ বছরের দুটি অবুঝ ভাই খেলা ছেড়ে মায়ের কাছে এসে আব্দারের সুরে বলতে লাগল আম্মা, তোমার কি আজ মনে নেই যে ঈদের দিন? একটি বার বাইরে দেখে এস না আম্মা, পাড়ার ছেলে-মেয়েরা নতুন নতুন জামা-কাপড় পরে কত আনন্দ করছে। আর আমাদের দুভাইকে যে এখনো কাপড় পরিয়ে দিচ্ছ না, আমরা বুঝি আজ ঈদগায় যাব না? একটু পরই ওরা ঈদগায় চলে যাবে। কই, তাড়াতাড়ি আমাদের নতুন জামা-কাপড় পরিয়ে দাও, আমরা দুভাইও ওদের সাথে খেলতে খেলতে ঈদগায় চলে যাই। আব্বা এলে তাঁকে পাঠিয়ে দিও, আমরা তাঁর সাথে বাড়ি চলে আসব।
মা সন্তানদের মাথায় ও পিঠে স্নেহের হাত বুলিয়ে চুমু খেয়ে বলল, এখনো ঈদগায় যাবার অনেক সময় বাকি আছে, বাবা। তোমরা বাইরে গিয়ে এদিক-ওদিক আরো কিছুক্ষণ ঘুরে বেড়িয়ে এস তো। এরপর তোমাদের নতুন জামা-কাপড় পরিয়ে দেব যদি এর মধ্যে তিনি এসে যান। মনে হয় ততক্ষণে তোমাদের আব্বাও এসে পড়বেন। দেখ, তিনি সাথে করে হয়তো সুন্দর সুন্দর জামা-কাপড়ও আনতে পারেন। তখন পরিয়ে দেব আর তোমরাও আব্বার সাথে ঈদগায়ে চলে যেও, কেমন? এবার যাও বাবা, যাও, বাইরে গিয়ে আর একটু ঘুরে এস। এর মধ্যে আমিও হাতের কাজটা সেরে নেই।
জ্বী, আচ্ছা। বড় ভাই বলল। তোমরা কেউ কিন্তু মিষ্টি না খেয়ে ঈদগায়ে যেও না। মা জানালেন। জী, আচ্ছা। হঠাৎ ছোট ভাই জিজ্ঞেস করে, আব্বা বুঝি আমাদের নতুন জামা আনতে গেছেন?
মা সন্তানদের বুকের মধ্যে শক্ত করে জড়িয়ে চুমু খেয়ে গোপনে চোখ মুছে ওদের দেখিয়ে হেসে বলল, বলছি তো বাবা তোমাদের নতুন জামা এখনো আসেনি; আসলেই পরিয়ে দেব। যাও বাবা যাও, বাইরে গিয়ে কিছুক্ষণ খেলাধুলা করে এস; এরপর সবি হবে।
মা কেবল আল্লাহ্ ওপর ভরসা করে সন্তানদের সান্ত্বনা আর প্রবোধ দিয়ে যাচ্ছিলেন। দুভাই নাচতে নাচতে বাইরে চলে গেল। মা আঁচলে চোখ মুছে জোর করে আপন কাজে মনোযোগ দিলেন। বের হবার কিছুক্ষণ যেতে না যেতেই আবার দুভাই ঘরে ঢুকে কাঁদতে-কাঁদতে বলতে লাগল, আম্মা ওরা আমাদের ওদের পরনের সব নতুন জামা-কাপড় দেখিয়ে বলছে, কিরে, আমাদের মত তোদের নতুন জামা-কাপড় নেই বুঝি? থাকলে কি আর পরতেন না! যা-যা, তোমাদের বাবা কেমন মানুষ, আর তোদের গায়ে নতুন কাপড় ওঠেনি। কি আশ্চর্য, ঈদের দিনে নতুন জামা-কাপড় তৈরী করে দেননি কেন রে? যা, তোদের মা'র কাছে গিয়ে বল আর আমাদের সাথে ঈদাগয় যাবি তো চল্। যা, শীগগীর নতুন জামা-কাপড় পরে আয়-যদি আমাদের সাথে যেতে চাস। আমরা এখানে এই যে দেখ দাঁড়াই।
এ বলে একটু থেকে, এরপর আবার, আম্মা, আমরা ওদের এত করে বললাম যে, আব্বা আমাদের জন্য নতুন জামা-কাপড় আনতে গেছেন, নিয়ে আসলেই গায়ে চড়িয়ে ঈদগায় আসব! কিন্তু ওরা শুনল না, আমাদের কথা বিশ্বাস করল না। এই যে আম্মা দেখ, ওরা ওখানে ওই যে খেজুর তলায় দাঁড়িয়ে আছে। আমরা নতুন জামা কাপড় পরে না যাওয়া পর্যন্ত নাকি ওরা ওখানেই অপেক্ষা করতে থাকবে। আব্বা এখনও আসছেন না কেন? আম্মা, আমাদের তাড়াতাড়ি নতুন জামা-কাপড় পরিয়ে দাও। আমরা ওদের সাথে ঈদগায়ে চলে যাই।
অবুঝ শিশুদের মুখে এ কথা শুনে মা আর নিজেকে স্থির রাখতে পারলেন না। কান্না থামিয়ে নেয়া এক মহা সমস্যা হয়ে দাঁড়াল। কিন্তু সন্তানেরা যে মাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে হা করে তাঁর মুখপানেই তাকিয়ে আছে। ধৈর্যহীনা মা আর ঠিক থাকতে পারলেন না, সন্তানদের শক্ত করে বুকে চেপে ফুঁপিয়ে কেঁদে উঠলেন।
পর মুহূর্তে নিজকে সামলিয়ে চোখ মুছে জোর করে মুখের ওপর হাসির একটু ঝলক ফেলে বলল, এখনো যে ঈদগায় যাবার সময় হয়নি, তোমরা এত ব্যস্ত হয়েছ কেন বাবা, নামাযের এখনো যে অনেক দেরি। এ অবসরে যাও-আরেকটু ঘুরে এস। আর খুঁজে এস তো বাবা, দেখ তো তোমাদের আব্বা কোথায় গেলেন! তাঁকে খুঁজে বের করে নিয়ে এস। এতক্ষণে আমিও হাতের বাকি কাজটা সেরে নেই, এ-ই আর একটু বাকি আছে, বাবা। তোমাদের আব্বা এলে দেখ, যদি তিনি নতুন জামা-কাপড় আনেন তাহলে তোমাদের আমি কত সুন্দর করে পরিয়ে দেব। এরপর তোমরা মিষ্টি খেয়ে আব্বার সাথে ঈদগায় যেয়ো, কেমন? জী, আচ্ছা। এস বাবা-এস।
মা তাঁর মনকে খুব শক্ত করে সন্তানদের সান্ত্বনা দিলেন বটে, কিন্তু সন্তানদের মুখের দিকে তাকাতেই দুচোখে জোয়ারের স্রোত নেমে এল। সন্তানেরা আবার ধরে ফেলে এ ভয়ে মা সে কামরা থেকে অন্য কামরায় পাগলিনীর মত ছুটে বেরিয়ে গেলেন।
অবুঝ দুটি ভাই কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পরমুহূর্তেই 'আম্মা' 'আম্মা' ডাকতে ডাকতে মায়ের কামরায় গিয়ে হাজির হল। বলল: আম্মা, আমরা আব্বাকে খুঁজে আনব? হ্যাঁ, যাও। কান্না জড়িত কণ্ঠে মা শুধু এ দুটি শব্দই বলতে পারলেন। সরল অকপট শিশু ভ্রাতৃদ্বয় মায়ের কথায় বাইরে বেরিয়ে এল। কোথা যাই বড় ভাই আফসোস করে বলল।
ভাইয়া, আব্বা কোথায় গেছেন? ছোট ভাই তার বড় ভাইয়ের সুডোল বাহু চেপে ধরে নিজের দিকে আকর্ষণ করে জিজ্ঞেস করল। বলতে পারিনা। বড় ভাই বলল, চল, এদিক-ওদিক ঘুরে আসি। ছোট ভাইয়ের কাঁধের ওপর একটা হাত ফেলে বাবার সন্ধানে বড় ভাই বাইরে বেরিয়ে পড়ল।
এদিকে মা তাঁর মনের ব্যথা দূর করার আর কোন উপায় খুঁজে না পেয়ে আগের চাইতেও বেশী অধৈর্য হয়ে উঠলেন। কি করে এ অবুঝ শিশুদের কাছে বলবেন, আজ তোমাদের নতুন জামা-কাপড় পরিয়ে দেয়ার মত ক্ষমতা কিংবা সামর্থ আমাদের যে নেই। তবু কি করে ওদের সান্ত্বনা দেয়া যায়? আর আজ ওরা সান্ত্বনাই বা মানবে কেন? আজ যে ঈদের দিন! আল্লাহ্! আল্লাহ্, তুমি ছাড়া আজ আর কোন উপায় নেই। ঈদের যে মিষ্টি করছি, তাও দীর্ঘ দিন ধরে খাবার থেকে একটু একটু করে জমা থেকে। যেটুকু গম আজকের এ ঈদের দিনের জন্য এত দিনে সঞ্চয় করেছিলাম-তাই দিয়ে হালুয়া-রুটি তৈরি করে দিয়ে দেব। কিন্তু নতুন জামা-কাপড় কোথা থেকে আনব! আল্লাহ্, আজ তুমি এ শিশু-সন্তানের মায়ের মাথার ওপর এ পাহাড় কেন তুলে ধরলে? আমি এ দুটি সন্তানের মা, আর আল্লাহ্! তুমি সবার মনের অবস্থা বুঝ। আমি এ দুটি মাসুম সন্তানের কি করে বুঝ দেব, আল্লাহ্-আল্লাহ্ তুমি দাতা, দয়ালু, সর্বশক্তিমান। মিথ্যা, ধোঁকা মহাপাপ জেনেও কচি-কচি দুটি শিশুকে মিথ্যা প্রবোধ আর মিথ্যা সান্ত্বনা দিয়ে ভুগাচ্ছি। কিন্তু এবার এলে কি করব, কি বলব? বল, বল আল্লাহ্! আল্লাহ্, তুমি আমার গরীব স্বামীর কথা জান, তাঁর গরিবীর কথা অবগত আছ, আল্লাহ্। হে রাহমানুর রাহীম! বলতে বলতে রান্না ঘরে ঢুকে জোরে যাঁতা চালাতে শুরু করলেন।
যাঁতা চলার ঘর্ঘর শব্দ ছাড়িয়ে মাতৃ-হৃদয়ের হাহাকার ধ্বনি ভেসে আসতে লাগল। চোখ মোছার সাথে সাথে যদিও মিষ্টি তৈরী করার কাজ জোরে এগিয়ে চলে কিন্তু সমাপ্তির কাছাকাছি এসে বিপদও দেখা দেয়। এই রে সেরেছে এবার মাথার ওপর পাহাড় ভেংগে পড়েছে! অর্থাৎ অবুঝ ভাই দুটি ভাই হাঁপাতে হাঁপাতে মায়ের কাছটিতে এসে ঘেঁষে দাঁড়াল। আম্মা, আম্মা! বল বাবা, বল।
জাগতিক আরাম-আয়েশে তাঁর মা নিজের সাজসজ্জা অথবা সুখ-শান্তির জন্য কখনো আকাঙ্ক্ষিতা হতেন না, স্বামীর দারিদ্র্যের কথা ভেবে সদাই তুষ্ট থাকতেন। কিন্তু আজ অবুঝ কচি এ দুটি সন্তানের সময়োচিত আব্দারে ধৈর্যের বাঁধ টুটে গেল। তিনি তাড়াতাড়ি নিজকে সামলিয়ে সন্তানদের কোলে তুলে নিয়ে, ঠোঁটের ওপর একটু হাসির রেখা ফুটিয়ে ওদের কপালে চুমু খেয়ে বললেন-বল বাবা, বল কি? বলে দুহাতে চোখ রগড়াতে আরম্ভ করে দিলেন দেখাদেখি ছোট ভাইটিও তার অনুকরণ করল।
দেখ বাবারা-সময় মত তিনি চলে আসবই। এই যে, এদিকে দেখ-আমার গম পেষা প্রায় শেষ। তোমাদের জন্য ভাল ভাল মিষ্টি তৈরী করে দিচ্ছি। তোমরা খেয়ে ঈদগায় যেও।
বলে মা দুভাইকে বুকে চেপে ধরে ক্ষণিকের সান্ত্বনার জন্য ফিক্ করে একটু হেসে আদর করে বলল, একটু বস বাবা, এখনই মিষ্টি তৈরী হয়ে যাবে। কিন্তু আমাদের নতুন জামা? ছোট ভাই চোখ রগড়াতে রগড়াতে হঠাৎ জিজ্ঞেস করে বসল। মা চমকে উঠে হঠাৎ বলে উঠলেন, হ্যাঁ, এই যে বাবা; এই হ্যাঁ, তোমরা আরেকটা কাজ করে এস তো, বাবা। দুভাই এক সাথে মায়ের মুখের দিকে ছলছল চোখে তাকিয়ে বলে উঠল, বলুন, কি আম্মা! তোমরা তো কেউ এখনো গোসল করনি? মা জিজ্ঞেস করলেন। জ্বী-না। এক সাথে দুভাই বলে উঠল।
কচি শিশুদের সাথে ছলনা করতে মায়ের প্রাণে শুধু আঘাতই হানছিল না, মমতার আগুন দাউ-দাউ করে জ্বলেও উঠছিল। তবু তিনি হাসির সাথে বললেন, বলছ কি, এখনো গোসল সারনি? গোসল না করে বুঝি কেউ ঈদগায় যায়? যাও, তাড়াতাড়ি গোসলটা সেরে এস তো বাবা।
জ্বী, আচ্ছা। দুভাই এক সাথে বলে উঠল, আমরা যাই আম্মা! আপনি সব ঠিকঠাক করুন গিয়ে। ততক্ষণে আমরা চটপট গোসলটা সেরে আসছি। দুভাই নাচতে নাচতে বেরিয়ে যাচ্ছিল, মা দোআ করে বলল, যাও বাবা যাও, আল্লাহ্ হাফেয।
ওরা তো চলে গেল। কিন্তু এদিকে মায়ের প্রাণে মহাচিন্তা এসে বাসা বাঁধে, যেন মা অতল সাগর তলে ক্রমান্বয়েই তলিয়ে যাচ্ছেন!
এবার ওরা যখন আসবে আর তলব করে বসবে, 'আমাদের নতুন জামা-কাপড় পরিয়ে দাও, আমরা ঈদগায় যাব তখন আমি কি করব?
মায়ের মন আর তখন পাষাণ দড়িতে বেঁধে রাখতে পারলেন না! বাঁধ ভেংগে গেল, তিনি হাউমাউ করে কেঁদে উঠে সিজদায় চলে গেলেন: হে আল্লাহ্! তুমি এ উপায়হীনার উপায় করে দাও। তুমি বিনে আমার আর কেউ নেই, আল্লাহ্! এ অবস্থায় তুমি আমাকে মুক্তি দাও আল্লাহ্, মুক্তি দাও!
এরপর তিনি উম্মাদিনীর মত বলতে আরম্ভ করলেন: আল্লাহ্, নিশ্চয়ই তুমি সন্তানের মায়ের মন বুঝতে পার। তিন-তিন বার তো দুটি নিষ্পাপ অবুঝ শিশুকে ধোঁকা দিয়ে রক্ষা পেয়েছি। কিন্তু এবার বল, আমি কি করে মানাব, কি বলে বোঝাব?
তুমি আমাকে তা বলে দাও আল্লাহ্! হে আল্লাহ্! তুমি আমাকে বাঁচাও। তুমি সর্বশক্তিমান, তোমাকে দিয়ে না হয় এমন কোন কাজই নেই; তুমি সব পার আল্লাহ্। বলে এমন এক অদ্ভুত শব্দে চিৎকার করে উঠলেন; তুমি সব পার আল্লাহ্! ওদিকে নেচে-খেলে গোসল হয়ে গেল দুভাইয়ের। গোসল সেরে দুভাই সোজা বাড়ি দিকে রওনা দিল এবং কিছুক্ষণের মধ্যে খুশি মনে গলাগলি অবস্থায় বাড়ি এসে হাজিরও হল। আম্মা, আম্মা, ও আম্মা! মায়ের কাছে থেকে কোন প্রতি উত্তর এল না।
ছোট ভাই ছল চোখে বড় ভাইয়ের মুখের দিকে তাকাল, মা কথা বলছে না কেন, ভাইয়া? ঘুমিয়ে গেছেন বুঝি। বলে, বড় ভাই তার ছোট ভাইকে নিজের বুকের দিকে টেনে বলল, একটু দাঁড়াও দেখি। মাকে জাগাবার জন্য যেই হাত বাড়িয়েছে, খট্ খট্....... খ.... ট...শব্দ। দরজার ওপর করাঘাত হল। কে? বড় ভাই চিৎকার করে জিজ্ঞেস করল।
কোন প্রতি উত্তর হল না। ব্যাপার কি!
ছোট ভাই ভয়ে বড় ভাইকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরতেই আবার খট্ খট্ খট্.... খ....ট্ খট্ শব্দ .... করাঘাতের শব্দ তীব্র হয়ে উঠল।
আম্-মা, আম্মা ও আম্-মা-আ! মায়ের তরফ থেকেও কোন সাড়া শব্দ নেই। খট্ খট্ .... খট্ শব্দ.. ঝ.. ন্। কে এল?
ঝন্ ঝন্ ঝন্ ...ঝ-ন...ঝ... নাৎ ঝন!
আবার করাঘাতের সাথে কড়া নাড়ার শব্দও যে হচ্ছে। ব্যাপার কি? কে এসেছে? কেন এসেছে?
দুভাই ভীষণ ভয় পেয়ে গেল। ওদের জানা আছে যে, কোন আত্মীয়-স্বজন বা বাড়ির লোক অথবা পাড়াপড়শীর বাড়ি থেকে কেউ এলে দরজায় আঘাত বা শব্দ করে না; বরং সালামের মাধ্যমে আগমন সংবাদ জ্ঞাত করায়। কিন্তু? দেখছি সবই উলট-পাল্টা-
একটু ভেবে ছোট ভাইকে জড়িয়ে বলে উঠল, ব্যাপার কি? মা-ও দেখি সাড়া শব্দ করে না!
ভয়ে ভয়ে, কিন্তু খুবই সাহসের সাথে দরজার কাছে এসে দাঁড়াল খট্ খট্ .... খ......ব্দ,
আবার দরজায় করাঘাত হল। ঘা হতেই দুভাই কয়েক পা পিছিয়ে আসে এবং খুবই জোরের সাথে ভীষণ চীৎকার মেরে জিজ্ঞেস করল, কে? কে? কে দরজায়?
আমি দরজি। দরজা খুলুন। দর্-জি কেন?
দুভাইয়ের চোখগুলো ছানাবড়া হয়ে গেল।
হ্যাঁ, আমি দরজি; দরজা খুলুন। আমি আপনাদের জন্য নতুন জামা-কাপড় নিয়ে এসেছি এই যে নিয়ে যান।
দরজি! আর কাল বিলম্ব না করে দরজার খিল দুভাই মিলে এক সাথে খট্ শব্দের সাথে খুলে দিল। সামনেই একজন সুপুরুষকে অনেকগুলো নতুন জামা-কাপড় নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে দেখতে পেয়ে মুহূর্তের জন্য অবাক হয়ে গেল।
দরজি কাপড়গুলো ওদের দিকে এগিয়ে দিতেই বড় ভাই সবগুলো কাপড় দরজির হাত থেকে বাজ পাখির মত ছোঁ মেরে, আরেক হাতে ছোট ভাইকে চেপে ধরে এক ছুটে মায়ের কাছে এসে হাজির হল। তখন মায়ের হুঁশ পুরোপুরি না হলেও বার আনা ফিরে এসেছে। মা সংজ্ঞা পেয়ে উঠে বসে গোপনে গোপনে কাঁদছিলেন।
আম্মা, আম্মা, এই যে দেখ, দর্জি আমাদের জন্য কত সুন্দর সুন্দর নতুন জামা-কাপড় তৈরী করে এনেছেন। তাড়াতাড়ি আমাদের পরিয়ে দাও; আম্মা, আমরা ঈদগাহে চলে যাই। বড় ভাইয়ের কথা শুনে ছোট ভাইও সে সাথে সায় দিল- হ্যাঁ, তাড়াতাড়ি করেন আম্মা! পরে গেলে নামায পাব না। মা আশ্চর্যান্বিতা হয়ে মুহূর্তের জন্য সন্তানদের প্রতি তাকিয়ে ওদের বুকে চেপে হাউমাউ করে কেঁদে উঠলেন এবং পর মুহূর্তেই সন্তানদের ছেড়ে দিয়ে সোজা সিজদায় পড়ে বলে উঠলেন, আল্লাহ্! তোমার অপার মহিমা কে বুঝতে পারে!
তাঁর বুঝতে কোন কষ্ট হল না যে, নতুন জামা-কাপড় নিয়ে যিনি দরজির বেশে এসেছেন, আসলে তিনি দর্জি নন, নিশ্চয়ই তিনি যে আল্লাহ্রই একজন প্রেরিত পুরুষ-এতে কোন সন্দেহ নেই, নিঃসন্দেহে। তিনি সিজদা থেকে উঠে তাড়াতাড়ি বললেন, যাও তো বাবা, যাও তাঁকে আমার সালাম পৌঁছে দিয়ে বল, তিনি যেন আজ আমাদের বাড়ি বেড়িয়ে যান।
তখন কি আর এদের সালাম পৌঁছে দেয়ার কথা মনে আছে? নতুন জামা-কাপড়ের আনন্দে ওরা দুভাই আত্মহারা, দিশেহারা।
এ অবস্থা দেখে মা ওদের মাথায় ও পিঠে হাত বুলিয়ে কোলে তুলে নিয়ে আদর করে কপালে চুমু খেয়ে এরপর অনুযোগ করে বললেন ছি বাবা, এখনো যাওনি? দরজি সাহেব মনে মনে কি ভাববেন! নিশ্চয়ই তিনি মনে করবেন এ বাড়ির লোকগুলো কি অভদ্র। মেহমান ঘরের দ্বারে দাঁড়িয়ে আছে আর তোমরা এখানে আনন্দ করছ। তোমরা তাঁকে ভুলে গেলে এরই মধ্যে? এ নেহাত অন্যায় অসামাজিক। তাড়াতাড়ি তাঁকে সালাম পৌঁছে দাও আর আজ আমাদের এখানে মেহমান হতে বল। যাও, বাবা তাঁকে যত্ন করে বৈঠকখানায় বসাও গিয়ে।
এবার আর বিলম্ব না করে দুভাই চম্পট দরজার কাছে এল-দরজি তখন ঘোড়ার পিঠে চেপে বাড়ি ছেড়ে বেশ অনেক দূরের পথে চলে গেলেন।
তখন দুভাই এক সাথে চিৎকার করে ডেকে উঠল, দর্জি সাহেব, ও দরজি সাহেব- আম্মা আপনাকে সালাম জানিয়েছেন। তাড়াতাড়ি ফিরে আসুন। আজ আমাদের বাড়িতে আপনার দাওয়াত। আসুন, তাড়াতাড়ি ফিরে আসুন, আমরা বৈঠকখানার দরজা খুলে দিচ্ছি।
অনেক দূরে থেকে বাতাসের সাথে প্রতি উত্তর ভেসে এল-আপনাদের আম্মা ও আব্বাকে আমার সালাম পৌঁছে দেবেন। অন্য সময় বেড়ানো যাবে-আস্সালামু আলাইকুম।
দুভাই দৌড়ে এসে তাদের মাকে সব জানাল, আম্মা, দরজি তোমাকে আর আব্বাকে....
হঠাৎ বাধা দিয়ে মা বলে উঠলেন, আদবের সাথে কথা বলতে হয় বাবা, বল দরজি সায়েব। হ্যাঁ, এরপর বলে যাও যা বলছিলে। বলল দরজি সায়েব তোমাকে আর আব্বাকে সালাম জানিয়ে ঘোড়ায় চড়ে ওই যে দেখে যাও, অই দিকে চলে যাচ্ছেন। শীগগীর এস, তাঁকে দেখবে। দেখবে তো তাড়াতাড়ি এদিকে এস। আর এ জানালা পথে দেখে যাও, তাড়াতাড়ি এস-আম্মা। দেরি করলে আর দেখতে পাবে না। দরজি সাহেব দেখতে কি সুন্দর! এস না, আম্মা, দেখবে!
মা যখন সন্তানদের কথায় জানালার ধারে এসে দাঁড়িয়ে বাইরের দিকে দৃষ্টি ফেললেন, কি দেখলেন?
দেখতে পেলেন, এক জ্যোতিস্মান সুপুরুষ, তিনি আকাশের দিকে উড়ে যাচ্ছেন। আর তাঁর দেহের আলোক চারদিকে ছড়িয়ে সূর্যের রশ্মিকে হীন করে দিয়েছে।
দেখতে দেখতে অশ্বারোহী কোথায় যে অদৃশ্য হয়ে গেলেন, তাঁকে আর দেখা গেল না, মা তন্ময় হয়ে তাই ভাবছিলেন।
এমনি মুহূর্তে এক সাথে চিৎকার করে দুভাই ডেকে উঠল, আম্মা আম্মা, দেখ, ওই যে আব্বা আসছেন, দেখ! দূরে ওদের আব্বাকে দ্রুত পায়ে হেঁটে আসতে দেখা গেল।
মা সন্তানদের সাথে করে ভেতরে কামরায় এলেন এবং ওদের গায়ে নতুন জামা-কাপড় চড়িয়ে দিতে লাগলেন-তাঁর গাল বেয়ে খুশির অশ্রু বয়ে যাচ্ছিল। আম্মা, আম্মা! তুমি কাঁদছ কেন? দুভাই এক সাথে অবাক-বিস্ময়ে প্রশ্ন করল। মা বলল, বাবা আমি কেন কাঁদছি, তা তোমরা বুঝবে না;
এখনো তোমাদের সে বয়স হয়নি। কিন্তু আজ থেকে কেবল এটুকুই জেনে রেখ-একটি মুহূর্তের জন্যও যেন আল্লাহ্ তা'আলাকে ভুলবে না, বাবা। আল্লাহকে যে সব সময় স্মরণ করে রাখবে, সে কোনদিন বিপদে পড়বে না। এ ছোট্ট বাণীটি সব সময়ের জন্য যদি স্মরণ কর তোমাদের মনের মধ্যে গেঁথে রাখ, জীবনে যত দিন বেঁচে আছ, তাঁকে যদি মুহূর্তের জন্যও না ভুল' তা হলে দেখবে, আল্লাহ্ও সব সময় তোমাদের প্রতি সুনজর রাখবেন। তিনি কখনো কঠিন বিপদে ফেলবেন না বুঝলে বাবারা?
মা তাঁর সন্তানদের উপদেশ দিয়ে যাচ্ছিলেন আর সে সাথে নতুন জামা-কাপড়ে সাজিয়ে দিচ্ছিলেন- সাজান শেষ হল। এরপর সুরমাদানি এনে ছোট্টটিকে লাগিয়ে বড়টিকে তা থেকে যেই লাগাতে লাগলেন, এমন সময় দোরের বাইরে থেকে আওয়াজ এল, আসসালামু আলায়কা ইয়া ফাতিমাতু-জোহরা।
ওয়া আলাইকুমুস সালাম ইয়া আলী কারা মাল্লাহু ওয়াজহাহু। ভেতর থেকে হযরত ফাতিমা জোহরা রাদিআল্লাহু তা'আলা আনহা জবাব দিলেন।
আব্বা এসেছেন রে আব্বা এসেছেন। ছোট্ট ভাইটি এক দৌড়ে বেরিয়ে এল।।
বড়টি যেতে চাইলেও মা থামিয়ে দিলেন এ জন্য যে, তখনো সুরমাটা লাগানো শেষ হয়নি। মা হঠাৎ রেগে উঠলেন, বস। শেষ হয়ে যাক।
ছোট ভাই আব্বার হাত ধরে যখন ভেতরে এল, তখন বড় ভাইয়ের চোখে সুরমা লাগানো শেষ হয়েছে।
এ কি! এত নতুন জামা-কাপড় এল কোথা থেকে?
জগত-প্রসিদ্ধ আসহাবে সুফ্ফার মুজাহিদের পূর্ণতম ও পহেলা আদর্শ সুলতানুল্ আউলিয়া হায়দরে কাররার বিশ্ব কবি শ্রেষ্ঠ হযরত আলী মুরতাজা কাররামাল্লাহু ওয়াজহাহু মউলাউল মু'মিনীন আশ্চর্যান্বিত হয়ে জিজ্ঞেস করলেন, এগুলো কে এনে দিল?
তখন দুভাই মিলে মা ও বাবাকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ প্রকাশ করছিল।
হযরত ফাতিমা জোহরা রাদিআল্লাহু তা'আলা আনহা সন্তানদের হৈ-হল্লা থেকে থামতে বলে হযরত 'আলী রাদিআল্লাহু তা'আলা আন্‌হুর কাছে সমস্ত ঘটনা খুলে বললেন। হযরত 'আলী কারামাল্লাহু ওয়াজহাহু একথা শোনামাত্রই সিজদায় চলে গেলেন: আল্লাহ্ তুমি কি না করতে পার? আল্লাহ্ তুমি অপার, তুমি অসীম, তুমি অনন্ত, তুমি করুণাকার, সর্বশক্তিমান।
সিজদা থেকে সিক্ত আঁখিতে উঠে হযরত ফাতিমা জোহরাকে সম্বোধন করে বললেন, ওদের জন্য নতুন জামা-কাপড় নিয়ে দরজির বেশে যিনি এসেছিলেন, তাঁকে তুমি জান, চিনতে পেরেছ তিনি কে? জ্বী-না! হযরত ফাতিমা জোহরা (রাঃ) বললেন, তবে তিনি যে আল্লাহ্রই প্রেরিত কেন ফেরেশতা নিঃসন্দেহে বলা যায়; তাতে কোনই সন্দেহ নেই! যদিও এ আমরা নিজের ধারণা।
হ্যাঁ, আল্লাহ্র মহিমা দেখ-তিনি হযরত জিব্রাঈল আলাইহিস্ সালাম।
হযরত ফাতিমা জোহরা (রা)-এর কণ্ঠ থেকে হঠাৎ চিৎকারের সাথে বেরিয়ে এল, আল্লাহু আকবার! বলেই সাথে সাথে তিনি সিজদায় পড়ে গেলেন।
দেখাদেখি দুভাই হযরত হাসান ও হযরত হোসাইন (রা) মায়ের পাশে গিয়ে ঠিক মায়েরই হুবহু অনুকরণ করল।

📘 হাদিসের গল্প > 📄 পরশ পাথর

📄 পরশ পাথর


মক্কা বিজিত।
সাফা পর্বতের উপত্যকায় বসে আছেন রাসূলুল্লাহ (স)। দলে দলে পুরুষেরা এসে ইসলাম দীক্ষা নিচ্ছে। মিথ্যা ছেড়ে সত্য গ্রহণ করেছে। এখন দীক্ষা গ্রহণ চলেছে মহিলাদের! মক্কার মেয়েরা বেরিয়ে এসেছে। কাপড়ে মুখ ঢেকে হাজির হয়েছে নবীজির সামনে। কাল যারা ছিল অর্ধ উলঙ্গ, আজ তারা আবরু ফিরে পেয়েছে। ফিরে পেয়েছে সম্ভ্রম। কত পরিবর্তন এক দিনে! ভাবা যায় না!
মহিলাদের ভীড়ের মধ্যে কাপড়ে মুখ ঢেকে এল একজন। ভয়ে দুরু দুরু বুক। ভীষণ শংকিত সে। হযরত চিনতে পারলে তার কঠিন সাজা হয় যাবে। এতে কোন সন্দেহ নেই। যে কোন মুহূর্তে ঘটে যেতে পারে ঘটনাটা। কঠিন অপরাধে অপরাধী সে। এমন অপরাধ, যা কোন মহিলা করেনি আজ পর্যন্ত। যত দিন পৃথিবী থাকবে, হয়ত এমন ঘৃণ্য কাজ আর করবেও না কেউ।
ভীড়ের মধ্যে আত্মগোপন করে এগুতে এগুতে আজ কত কথাই না মনে পড়েছে তার। বদর যুদ্ধ। ওহুদ যুদ্ধ। আর এসব যুদ্ধে তার ভূমিকা, বিশেষ করে ওহুদ যুদ্ধে সে যে পাপ করেছে, পৃথিবীতে এর কোন দ্বিতীয় নজির নেই। সবই মনে পড়ছে তার। মুসলমান সৈনিকরা একে একে লুটিয়ে পড়ছে। হেরেই যাচ্ছে এরা। যুদ্ধ থেকে যেয়ে মাঠে নামল সে তার দলবল নিয়ে। মক্কা থেকে যত মহিলা এসেছিল সবাইকে সাথে নিল।
এরপর মাঠে নেমে শুরু করল তার পৈশাচিক কার্যকলাপ। আহত যে সব মুসলমান সৈনিক তখনও বেঁচেছিল, তরবারির আঘাতে হত্যা করল তাদের। এরপর সে মৃত সৈনিকদের কান কাটল। নাক কাটল। চোখ উঠাল। শেষে গেল শহীদ হামযার কাছে। এ হামযা (রা)-কে হত্যা করার জন্য এক হাবশী ক্রীতদাসকে নিযুক্ত করেছিল। নাম তার ওয়াশি। শহীদ হামযার কাছে গিয়ে তাঁরও নাক-কান কাটল। চোখ উঠাল। এরপর সেগুলো গেঁথে মালা বানাল। গলায় পরল এরপর। পায়ের মল করল। নিজে পরল। সঙ্গীদের পরাল। অবশেষে শহীদ হামযার দিকে তাকিয়ে থাকল কিছুক্ষণ। পা দিয়ে নেড়ে-নেড়ে দেখল একটু। এরপর হঠাৎ মৃত হামযার বুকের ওপর চড়ে বসল সে। ঠিক যেন হিংস্র পশু। বন্য বাঘিনী।
উম্মাদিনীর মত চিৎকার করতে করতে সে হামযা (রা)-এর বুকটা চিরে দু ফাঁক করে ফেলল। ভিতরে হাত দিয়ে কলিজা টেনে বের করে আনল উম্মাদিনীর মত। সে কলিজা দুহাতে ধরে মুখে দিল। এরপর চিবুতে শুরু করল। প্রতিহিংসায় মেতে উঠল মৃত হামযা (রা)-কে নিয়ে। ঠিক জঙ্গলের জন্তুর মত। দাঁতাল শূকরের মত। বন্য বাঘিনীর মত।
হযরত হামযা (রা) ছিলেন রাসূলুল্লাহ (স)-এর চাচা। পরে এ বিকলাঙ্গ দেহ দেখে অত্যন্ত মর্মাহত হয়েছিলেন নবীজী। তিনি খুবই ব্যথা পেয়েছিলেন মনে। চোখ মুছতে মুছতে চলে এসেছিলেন।
আজ সে উন্মদিনী মহিলা চলছে রাসূলুল্লাহ (স)-এর সামনে কাপড়ে মুখ ঢেকে। আত্মগোপন করে। না এসে উপায় নেই। মক্কা বিজিত। আজ তারা পরাজিত। বাঁচার শেষ চেষ্টা করতে এসেছে সে। ইসলামের দীক্ষা নিলে যদি রেহাই পায়। যদি বাঁচে। কিন্তু এর আগে যদি চিনতে পারে হযরত মুহাম্মদ (স) তা হলেই সর্বনাশ। সাথে-সাথে হত্যা। এতে কোন সন্দেহ নেই। অন্তত সে যা পাপ করেছে এ সাজাই হওয়া উচিত।
উতবার কন্যা সে। আবু সুফিয়ানের স্ত্রী। নাম তার হিন্দা। কাপড়ে মুখ ঢেকে হিন্দা এগিয়ে চলল রাসূলুল্লাহ (স)-এর দিকে। না গিয়ে উপায় নেই। দীক্ষা দান করেছিলেন হযরত উমর (রা)। কিন্তু ঘটনাগুলো ঘটছিল নবী (স)-এর সামনে। তিনি বসেছিলেন। হিন্দা ধীরে-ধীরে এগুচ্ছিল তাঁর দিকে। অত্যন্ত ভীত। অত্যন্ত শঙ্কাতুর। জীবন মরণের সন্ধিক্ষণে! বাঁচা অথবা মরা। কি হবে সে নিজেও জানে না। কিন্তু এছাড়া আর কোন উপায় নেই। পথ নেই কোন। সবকিছুই নির্ভর করছে রাসূলুল্লাহ (স)-এর উপর। শেষ পর্যন্ত তাকে চিনেই ফেললেন হযরত মুহাম্মদ (স)। বললেন, আরে সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা না?
একেবারেই বাকহারা হয়ে গেল হিন্দা। কোন রকমে মাথা নেড়ে সায় দিল সে। এরপর চুপচাপ দাঁড়িয়ে রইল কিছুক্ষণ। অবশেষে যেন নিতান্ত জীবনের তাগাদায় কিছু শক্তি সঞ্চয় করে আর্তনাদ করে উঠল, যার হবার হয়ে গেছে আপনি আমায় ........।
আর কিছু বলতে পারল না সে। দয়াল নবী (স) হিন্দার মনোভাব উপলব্ধি করলেন। এরপর মমতাভরা কণ্ঠে বললেন, কোন ভয় নেই-যাও তোমাকে আমি ক্ষমা করলাম।
সামান্য একটা কথা। কিন্তু তুমুল আলোড়ন সৃষ্টি করল তার অন্তরে। রাসূল (স) আমাকে ক্ষমা করলেন, আমার মত পাপিনীকে ক্ষমা করলেন তিনি? এক কথায়? কোন দ্বিধা না করেই? কাপড়ের আড়াল থেকে সে তাকাল রাসূলুল্লাহ (স)-এর মুখের দিকে। শান্ত আর স্নিগ্ধ সে মুখ। পবিত্র আর উজ্জ্বল সে মুখ। কোন দ্বেষ নেই। নেই কোন প্রতিহিংসা। পবিত্রতায় দীপ্তিময়। অনন্ত জ্যোতির্ময়!
তার মনের গভীর থেকে একটা প্রশ্ন বেরিয়ে এসে খাড়া হয়ে দাঁড়াল তার বিবেকের সামনে। এ মানুষটির সাথে শত্রুতা করে এসেছি এতকাল!
যতই ভাবে, ততই বিগলিত হতে থাকে। শিখায় মোম যেমন গলে-গলে পড়ে। কঠিন হৃদয় নারী তেমনি নরম হতে থাকে, মোমের মত গলতে থাকে। যন্ত্রণায় আর আত্ম-পীড়নে। ভিতরটা পরিষ্কার হতে থাকে ধীরে-ধীরে। সুবহি সাদিকের আলোয় পৃথিবীর অন্ধকার যেমন কেটে যায় তেমনি। পলকে পরিষ্কার। শত্রু এখন মিত্রে পরিণত হয়েছে। দুশমন এখন দোস্ত। সামান্য কিছু পরে গভীর আবেগ ফুটে উঠল হিন্দার গলায়।
আবেগের উচ্ছল কণ্ঠে সে বলল: ইয়া রাসূলুল্লাহ (স)! কিছুক্ষণ আগে পর্যন্ত আপনার তাঁবুর চেয়ে কোন ঘৃণ্য তাঁবু আমার কাছে ছিল না। আর এখন পৃথিবীতে কোন তাঁবুই আপনার তাঁবুর চেয়ে আমার কাছে অধিকতর প্রিয় নয়। যারা শুনল, অবাক হয়ে গেল। এযে হিন্দার কণ্ঠস্বর? যেন জীবনের ওপার থেকে ভেসে আসছে এ স্বর। পবিত্র আযানের মত।
পরশ পাথরের ছোঁয়ায় হিন্দা এমন সোনায় পরিণত হয়েছে। এ ছোঁয়ায় সব কিছুই সোনা হয়। বেদুঈন, ইহুদী, কুরাইশ এবং তাবত মানুষ এবং হিন্দাও!

📘 হাদিসের গল্প > 📄 নামাযী

📄 নামাযী


যুদ্ধের দামামা বেজে উঠল। সূর্যের আলোয় শত্রুর খোলা তরবারি চিকচিক করে উঠল। মুসলিম সেনারাও তৈরী চলল যুদ্ধের জন্য। আল্লাহু আকবার ধ্বনিতে আকাশ-বাতাস কাঁপিয়ে তুলল। যুদ্ধ শুরু হল। তুমুল যুদ্ধ।
মুসলমানরা লড়ছে ন্যায় প্রতিষ্ঠার জন্য। মিথ্যার অভিশাপকে দূরীভূত করার জন্য। রাজ্য জয়ের কোন লিপ্সা, সম্পদ আহরণের কোন লোভ তাঁদের নেই। মুসলমানরা জান-প্রাণ দিয়ে লড়ছে। সত্য-মিথ্যার এ যুদ্ধে তাঁদের জয়ী হতেই হবে।
উভয় দলে যুদ্ধ চলছে পুরোদমে। এরই মধ্যে এক অঘটন ঘটে গেল। কোথা থেকে এক তীর এসে বিঁধল হযরত আলী (রা)-এর পায়ে। ক্ষতস্থান দিয়ে দরদর করে রক্ত বের হতে লাগল। তীরটি বিষাক্ত। অসহ্য যন্ত্রণায় হযরত আলী (রা) চিৎকার করে উঠলেন। দূর থেকে সংগী-সাথীরা হযরত আলী (রা)-এর এ অবস্থা দেখলেন। তাঁরা ছুটে এলেন হযরত আলী (রা)-এর কাছে। কিন্তু কার সাধ্য আছে পা থেকে তীর টেনে বের করে। যন্ত্রণায় তিনি ছটফট করেছেন। পায়ে একটু হাত লাগলেই শিউরে উঠেন যন্ত্রণায়। উঃ আঃ চীৎকার করে উঠেন। সাহাবাগণ পড়ে গেলেন মহা সমস্যায়। এখন তাঁরা কি করেন? তীর বের না করলে রক্ত বন্ধ হবে না। ব্যথাও যাবে না। এদিকে তাঁর যন্ত্রণা দেখে কেউ তীর বের করতেও সাহস পেলেন না।
মহানবী (স)-ও সেখানে উপস্থিত। তিনি সব কিছুই দেখছিলেন। তিনি বুঝলেন এভাবে তাঁর পা থেকে তীর বের করা যাবে না। তিনি কয়েকজন সাহাবাকে ডাকলেন। একটু দূরে নিয়ে আস্তে আস্তে বলল- নামাযের সময় হোক। নামাযে দাঁড়ালেই তোমরা তীরটা বের করে নেবে।
সাহাবাগণ রাসূলের পরামর্শ মেনে নিলেন। সবাই চলে গেলেন যার যার কাজে। নামাযের সময় হল। সবাই চলল নামাযের জন্য। হযরত আলী (রা)ও বসে নেই। মুয়াজ্জিনের আযান ধ্বনি শোনার সাথে সাথেই তিনি ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। ভুলে গেলেন সমস্ত ব্যথার কথা। এখনি জামাত শুরু হবে। হযরত আলী (রা) তাড়াতাড়ি তৈরী হয়ে চললেন। অন্যান্য সাহাবীর সাথে একই কাতারে নামাযে শামিল হবেন।
অসহ্য যন্ত্রণায় এতক্ষণ যিনি উহঃ উহঃ আহঃ করছিলেন, আর এ মুহূর্তেই তিনি যেন একেবারে সুস্থ হয়ে উঠলেন। নামাযের প্রতি হযরত আলী (রা)-এর আকর্ষণ এতই ছিল প্রবল। নামাযের সময় তিনি যেন একেবারে অন্য জগতের মানুষ হয়ে যেতেন। ভুলে যেতেন সমস্ত দুঃখ-কষ্ট, জ্বালা-যন্ত্রণার কথা, দুনিয়ার কথা।
সবাই নামায পড়ছেন, শুধু মাত্র কয়েকজন সাহাবা দাঁড়িয়ে রয়েছেন পিছনে। তাঁদের মন তখন অস্থির চঞ্চল। ডর-ভয়ও রয়েছে যথেষ্ট। কিন্তু উপায় নেই। এ সুযোগেই তীর বের করে নিতে হবে।
একজন সাহাবা ধীর পায়ে এগিয়ে গেলেন আলী (রা)-এর দিকে। বেশ শক্তভাবে তীরটা পায়ে বিঁধেছে। আস্তে ধীরে টান দিলে চলবে না। তীরের মাথা ধরে সাহাবী সজোরে মারলেন এক টান। টানের চোটে পায়ের মাংস ছিঁড়ে বেরিয়ে এল। ফিনকি দিয়ে ছুটল আবারো তাজা রক্ত।
হযরত আলী (রা) তখনও নামায পড়ছেন। উঃ-আঃ কোন শব্দই করলেন না। একটু নড়লেনও না। নামাযের মধ্যে যে এতসব কাণ্ড ঘটে গেছে, তিনি এর কিছুই টেরও পেলেন না।
হযরত আলী (রা)-এর এমন অবস্থা দেখে সাহাবাগণ অবাক হল। এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকলেন তাঁর দিকে। মনে মনে ভাবলেন, অদ্ভুত মানুষ হযরত আলী (রা)। একটু আগেও যন্ত্রণায় ছটফঠ করছিলেন। তীরে কেউ হাত দিলেই ভয়ে শিউরে উঠতেন। অথচ নামাযের সময় ব্যথা-বেদনার কথা একদম ভুলেই গেলেন। এমনকি তীর বের করার সময়কার যন্ত্রণাও অনুভব করলেন না। মানুষ কি এত আপন ভোলা হয়ে নামায পড়তে পারে? নিজের সুখ-দুঃখ ভাল-মন্দের কথা ভুলে গিয়ে নামাযে এত মনোযোগী হতে পারে? সাহাবাগণ ভাবছিলেন এমনি আরো অনেক কথা।
হযরত আলী (রা) নামায পড়া শেষ করলেন। ততক্ষণে রক্তে তাঁর জামা-কাপড় ভিজে গেছে। তিনি শরীরে একটু ভেজা অনুভব করলেন। তাকিয়ে দেখলেন তাঁর পায়ে তীর নেই। তিনি একটু অবাক হলেন। সংগী-সাথীগণকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করলেন।
সাহাবাগণ বললেন, নামাযের সময় আপনার পা থেকে তীর বের করে নেয়া হয়েছে। তখন তাঁর মুখে হাসির রেখা ফুটে উঠল।

📘 হাদিসের গল্প > 📄 মহৎ জীবন

📄 মহৎ জীবন


মহানবী (স) ছিলেন আদর্শ মানুষ। তাঁর মহৎ চরিত্র ছিল সকল গুণের আধার। মানুষের সাথে কথাবার্তা ও আচার ব্যবহারে তিনি ছিলেন খুবই অমায়িক এবং উদার। কেউ মনে আঘাত পেতে পারে, এরূপ কোন কথা কখনো বলতেন না। মধুর ব্যবহারে তিনি সকলের মন জয় করতেন। এজন্য শত্রু-মিত্র সকলেই তাঁকে সম্মান করত।
মহানবী (স) দুনিয়ায় এসেছিলেন মানুষকে সৎপথ দেখাবার জন্য। কি করে মানুষ প্রকৃত ভাল মানুষ হয়ে চলতে পারে, সে শিক্ষা দেয়ার জন্যই আল্লাহ্ তায়ালা তাঁকে দুনিয়ায় পাঠিয়েছেন। তাই তাঁর প্রত্যেকটি কাজ ও আচার ব্যবহারে আমরা অতুলনীয় শিক্ষালাভ করি এবং একেই আমরা সুন্নাত বা আদর্শরূপে গ্রহণ করি।
এখানে তাঁর জীবনের কয়েকটি বিষয় উল্লেখ করব। এ থেকে তাঁর মহত্ত্ব ও উদারতা সম্পর্কে তোমরা কিছুটা ধারণা করতে পারবে।
মদীনার কাছাকাছি জহীর নামে এক ব্যক্তি পল্লীতে বাস করত। গ্রাম থেকে সে তরি-তরকারী, শাক-সবজি কাঁধে করে বয়ে এনে মদীনায় এক রাস্তার পাশে দোকান করে বিক্রি করত। সে ছিল যেমন কাল, তেমনি কুৎসিত। সবাই তাকে ঘৃণা করত, কেউ তার কাছ ঘেঁষতে চাইত না। কিন্তু মহানবী (স) তার দোকান থেকে কেনাকাটা করতেন এবং অবসর সময়ে তার পাশে বসে নানান কথাবার্তা বলতেন। সবাই দেখে তাজ্জব হয়ে যেত। শুধু তাই নয়, জহীর যখন তার জিনিসপত্র বিক্রি করে বাড়ি যেত, তখন মহানবী (স) স্বয়ং সারা শহরে ঘুরে ঘুরে জহীরের জন্য সে সব জিনিস সংগ্রহ করতেন। এভাবে গ্রামের জিনিস এনে শহরে, আর শহরের জিনিস গ্রামে বেচাকেনা করে জহীর বেশ সম্পদের মালিক হল।
মহানবী (স) তাকে দেখিয়ে বলতেন: জহীর আমাদের গ্রাম আর আমি জহীরের শহর। এজন্য জহীরের আনন্দের কোন সীমা ছিল না। মহানবী (স)-এর ভালবাসা আর নেক সোহবত পেলে কার না আনন্দ হয়, বল! একদিন সে মহানবী (স)-কে জিজ্ঞেস করল: হে নবী (স)! আমি এত কুৎসিত যে, দুনিয়ায় সবাই আমাকে দেখে ঘৃণা করে অথচ আপনি আমাকে এত ভালবাসেন কেন?
মহানবী (স) হেসে বললেন: মানুষের চোখে তুমি কাল এবং কুৎসিত হতে পার, কিন্তু আল্লাহ্ চোখে তুমি সুন্দর এবং তুমি আল্লাহ্ প্রিয়।
অতএব, কাল কুৎসিত, অন্ধ-আতুর কাউকেই ঘৃণা করতে নেই। সকলকেই আল্লাহ্র বান্দা আর আল্লাহ্র রাসূল (স) সকল মানুষকেই ভালবাসার শিক্ষা দিয়ে গেছেন।
যায়েদ ছিল প্রিয় নবী (স)-এর ভৃত্য। আমরা চাকর-বাকরদের যেমন ঘৃণার চোখে দেখি, তিনি কখনো তাদেরকে সেরূপ চোখে দেখতেন না। তিনি নিজের কাজ সব নিজেই করতেন। কাপড় ধোয়া, ঘর ঝাড় দেয়া, জুতা পরিস্কার করা, কাপড় সেলাই করা থেকে শুরু করে বড় বড় কাজ পর্যন্ত সবকিছুই তিনি নিজের হাতে করতেই পছন্দ করতেন। ভৃত্যকে তিনি কখনো চাকরের মত মনে করতেন না, তাকেও নিজের একজন ভাইয়ের মতই দেখতেন। কোন কোন সময় তিনি তাঁর ভৃত্যের সেবা যত্ন গ্রহণ করতেন। বিনিময়ে আবার তারও সেবা-যত্ন করতেন নিজ হাতে। কেননা, চাকরের সেবা-যত্ন পাওয়ার অধিকার যেমনি মনিবের রয়েছে, মানুষ হিসেবে চাকরের আবার তেমনই সেবাযত্ন পাওয়ার অধিকার আছে। বিদায় হজ্বের বাণীতে তিনি ঘোষণা করেছেন: "তোমরা যা খাবে, যা পরবে, তোমাদের দাস-দাসীকেও ঠিক তাই খেতে দেবে এবং তাই পরতে দেবে।"
মহানবী (স) তাঁর ভৃত্যের প্রতি কিরূপ ব্যবহার করতেন, তা তারই মুখ থেকে শোনা যাক। যায়েদ বলেছেন: আল্লাহ্র কসম, আমি মহানবী (স)-এর যতটুকু সেবা করেছি, মহানবী (স) আমার সেবা করেছেন এরও অধিক। দশ বছর কাল আমি তাঁর গোলাম ছিলাম। এ সুদীর্ঘ সময়ের মধ্যে একটি বারও তিনি আমার উপর রাগ করেন নাই এবং আমার কোন কাজে অসন্তোষও প্রকাশ করেন নাই।
কত মহৎ এবং উদার ছিলেন তিনি। চাকর বাকর এবং অন্য মানুষের প্রতি কিরূপ আচরণ করতে হবে এ থেকেই আমরা তাঁর শিক্ষা পেতে পারি।
খন্দকের যুদ্ধের সময়কার ঘটনা। মহানবী (স) খবর পেলেন, মক্কার কাফেরগণ বিশাল সৈন্য বাহিনী নিয়ে মদীনা আক্রমণ করতে আসছে। মহানবী (স) চিন্তিত হলেন। সকল মুসলমানকে নিয়ে তিনি আলোচনায় বসলেন। যুবকেরা সবাই অগ্রসর হয়ে কাফেরদের সাথে যুদ্ধ করার প্রস্তাব দিলেন। কিন্তু যাঁরা বয়স্ক, তাঁরা মদীনায় থেকে চারদিকে পরিখা খনন করে শত্রুদের আক্রমণ প্রতিহত করার পরামর্শ দিলেন। মহানবী (স) তাঁদের কথাই মেনে নিলেন।
পরিখা খনন করার কাজ শুরু হল। মুসলমানরা প্রতি দশজনের এক একটি দলে বিভক্ত হয়ে মাটি কাটতে লাগলেন। হযরত বেলাল (রা)-এর দলে ছিল নয় ব্যক্তি। রাসূলুল্লাহ (স) তাঁর কাছে গিয়ে বললেন : বেলাল, তোমার দলে কজন? হযরত বেলাল (রা) বললেন, নয় জন।
মহানবী (স) বললেন, আমাকে তোমাদের দশম ব্যক্তি করে নাও! হযরত বেলাল অসম্মতি জানালেন। না, তা কি করে হয়? মহানবী (স) মাটি কাটবেন এটা কি কখনো হতে পারে? কিন্তু মহানবী (স) নাছোড়বান্দা। তিনি কেবল মাটি কাটবেন না, মাটি বয়েও নেবেন। অগত্যা হযরত বেলাল (রা) তাঁকে দলে নিয়ে এক টুকরি মাটি তাঁর মাথায় তুলে দিলেন। মহানবী (স) বললেন : আরেক টুকরি দাও। হযরত বেলাল (রা) বললেন-তা কেন, ইয়া রাসূলুল্লাহ, সবাইতো এক টুকরি করে নিচ্ছে, আপনি কেন দুই টুকরি নেবেন?
মহানবী (স) বললেন, আমি তোমাদের মতই মানুষ, তাই এক টুকরি নিয়েছি, কিন্তু আমার উপরে নবুওয়তের দায়িত্ব রয়েছে, সে জন্য আমাকে অতিরিক্ত আর এক টুকরি নিতে হবে।
হযরত বেলাল (রা) আর কি করবেন! অতিরিক্ত আর এক টুকরি মাটি রাসূলুল্লাহ (স) মাথায় তুলে দিলেন। এক সাথে দুই টুকরি মাটি মাথায় নিয়ে হেঁটে চলেছেন মহানবী (স)।
দুনিয়ায় এমন দৃষ্টান্ত কোথাও লক্ষ্য করেছ? আমাদের প্রিয়নবী (স) অহংকার আর পদমর্যাদা কাকে বলে জানতেন না। অহংকার আর পর্দমযাদা মূলে কুঠারাঘাত করে জগতে সমান মানবিক অধিকার প্রতিষ্ঠার উজ্জ্বল নিদর্শন প্রতিষ্ঠা করে গেছেন তিনি। এমন কি, নবী হিসেবেও তিনি কোন অতিরিক্ত মর্যাদা দাবী করেন নাই বরং নবী হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করেছেন। এমন মহৎ আর তুলনাহীন চরিত্রের মানুষকে কে না শ্রদ্ধা করবে বল?

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00