📄 দীনি বিষয়ে গলদ যুক্তিচিন্তার অপপ্রয়োগ
عن عبد الله رضى الله عنه قال: لا يأتى عليكم عام الا وهو شر من الذي كان قبله أما انى لست اعنى عاما اخصب من عام ولا اميرا خيرا من امير ولكن علمائكم وخياركم وفقهائكم، يذهبون، ثم لا تجدون منهم خلفاء، ويجئ قوم يقيسون الامر برأئهم.
'হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. বর্ণনা করেন, আগত বৎসর পূর্বের বৎসরের তুলনায় খারাপ হবে। আমার উদ্দেশ্য এই নয় যে, আগত বৎসর পূর্বের বৎসরের থেকে উৎপাদনে অধিক উর্বর হবে। এক আমীর অন্য আমীর থেকে উত্তম হবে; বরং আমার উদ্দেশ্য হলো, আলেম, নেককার ও ফক্বীহগণ একে একে বিদায় নিয়ে যাবেন। তোমরা এঁদের স্থালাভিষিক্ত কাউকে পাবেনা। এবং (দুর্ভিক্ষের এ সময়ে) এমন কিছু লোক আসবে, যারা মানুষকে নিজের মতো করে মাসআলা বলবে (শরয়ী দলীল-প্রমাণের তোয়াক্কা করবে না) ।
টিকাঃ
৮৯. সুনানে দারিমী:১/৫৮
📄 নতুন কিছুর আবিষ্কারক বলে খ্যাতি অর্জনের লালসা
عن زيد بن عميرة وكان من أصحاب معاذ بن جبل أخبره قال كان لا يجلس مجلسا للذكر حين يجلس إلا قال: الله حكم قسط هلك المرتابون! قال معاذ بن جبل يوما إن من ورائكم فتنا يكثر فيها المال ويفتح فيها القرآن حتى يأخذه المؤمن والمنافق والرجل والمرأة والصغير والكبير والعبد والحر فيوشك قائل أن يقول: ما للناس لا يتبعوني وقد قرأت القرآن؟ ما هم بمتبعي حتى أبتدع لهم غيره! فإياكم وما ابتدع! فإن ما ابتدع ضلالة وأحذركم زيغة الحكيم! فإن الشيطان قد يقول كلمة الضلالة على لسان الحكيم وقد يقول المنافق كلمة الحق. قال: قلت لمعاذ: ما يدريني - رحمك الله - إن الحكيم قد يقول كلمة الضلالة وإن المنافق قد يقول كلمة الحق؟ قال: بلى! اجتنب من كلام الحكيم المشتهرات (وفي رواية : المشتبهات) التي يقال لها: ما هذه؟ ولا يثنينك ذلك عنه فإنه لعله أن يراجع وتلق الحق إذا سمعته فإن على الحق نورا.
'ইয়াজিদ বিন উমাইরাহ রহ.-যিনি হযরত মুআজ রাযি. এর শাগরিদ- তিনি বর্ণনা করেন, হযরত মুআজ রাযি. যখনই নসিহত করতে বসতেন তখন একথাগুলো অবশ্যই বলতেন-আল্লাহ তাআলা ফয়সালাকারী, ইনসাফকারী। যে ব্যক্তি এতে সন্দেহ করবে সে ধ্বংস হবে। মুআজ রাযি. একবার বলেন, তোমাদের পরে অনেক ফিৎনার উদ্ভব হবে। সে যুগে সম্পদের প্রাচুর্য হবে। কুরআন কারীম সবার জন্য উন্মুক্ত হবে, যা দ্বারা মুমিনও প্রমাণ পেশ করবে, মুনাফিকও প্রমাণ পেশ করবে। পুরুষ ও প্রমাণ পেশ করবে, নারীও প্রমাণ পেশ করবে। ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন সবাই প্রমাণ পেশ করবে। সেদিন দূরে নয় যে, কেউ বলে বসবে, 'মানুষের কী হলো? আমি কুরআন পড়েছি; তবু কেনো মানুষ আমার অনুসরণ করছে না? (সে ভাববে) মানুষ ততক্ষণ আমার অনুসরণ করবে না যতক্ষণ না আমি তাদের সামনে নতুন কোনো বিষয় পেশ করি! (হযরত মুআবিয়া রাযি. বলেন) সুতরাং (দীনের মাঝে) নতুনত্ব আবিস্কার করা থেকে বিরত থাকো। কারণ এমন নতুনত্ব পথ ভ্রষ্টতা। আমি তোমাদের আলেমদের পদস্খলনের ব্যাপারে সাবধান করছি। কেননা, শয়তান কখনো আলেমের মুখ দিয়েও বিভ্রান্তিমূলক কথা বের করে। আবার কখনো মুনাফিকও সত্য কথা বলে। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি মুআবিয়া রাযি. কে বললাম, আমি কিভাবে বুঝবো যে আলেম ভ্রান্ত কথা বলছে এবং মুনাফিক সত্য কথা বলছে? (হক-বাতিল চেনার মাপকাঠি কী হবে?) তিনি বললেন, হ্যাঁ! (আমি বলছি) আলেমের সন্দেহযুক্ত এমন কথা থেকে বিরত থাকো যে ব্যাপারে (সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের পক্ষ থেকে) বলা হয় 'এটা কেমন কথা?' (এমন হলে বুঝে নাও-এটা ভুল) তবে শুধু এই ভুলের ওপর ভিত্তি করে তাঁর থেকে বিমুখ হওয়া যাবে না। কারণ, হতে পারে তিনি নিজের ভুল থেকে ফিরে এসেছেন! (হ্যাঁ, সত্য প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পরও যদি সে নিজের ভুলের ওপর অবিচল থাকে-তাহলে এমন ব্যক্তি আলেম নয়। (বরং মূর্খ জাহেল।) আর সত্য কথা যে কারো থেকে শোনো, তা গ্রহণ করো। কারণ-হক আলোকময়। '
টিকাঃ
৯০. আবু দাউদ:৬৩৩
📄 কুরআনের মুহকাম আয়াত বর্জন করে মুতাশাবেহ আয়াতের অনুসরণ
عن عائشة رضي الله عنها قالت: تلا رسول الله صلى الله عليه وسلم { هو الذي أنزل عليك الكتاب منه آيات محكمات وقرأ الى : وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ. قالت: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم: إذا رأيتم الذين يتبعون ما تشابه منه فاولئك الذين سماهم الله فاحذروهم.
'হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, নবীজ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কুরআনের এই আয়াত পাঠ করলেন-
هُوَ الَّذِي أَنزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ ...... وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ
“তিনিই আপনার ওপর কিতাব নাজিল করেছেন যার কিছু আয়াত মুহকাম....কিন্তু জ্ঞানীগণ ব্যতীত কেউ তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করে না।"
হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, অতঃপর নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, যখন তুমি দেখবে-মুসলিমের বর্ণনায়- তোমরা দেখবে সেসব লোককে, যারা কুরআনের মুহকাম আয়াত ছেড়ে মুতাশাবেহ আয়াতের অনুসরণ করছে-ধরে নিবে তারাই সেই সব লোক (বাঁকা হৃদয়বিশিষ্ট বলে) আল্লাহ যাদের নাম করেছেন। সুতরাং তাদের থেকে সর্তক থেকো।"
পূর্ণ আয়াতটি হলো- هُوَ الَّذِي أَنْزَلَ عَلَيْكَ الْكِتَابَ مِنْهُ آيَاتٌ مُحْكَمَاتٌ هُنَّ أُمُّ الْكِتَابِ وَأُخَرُ مُتَشَابِهَاتٌ فَأَمَّا الَّذِينَ فِي قُلُوبِهِمْ زَيْغٌ فَيَتَّبِعُونَ مَا تَشَابَهَ مِنْهُ ابْتِغَاءَ الْفِتْنَةِ وَابْتِغَاءَ تَأْوِيلِهِ وَمَا يَعْلَمُ تَأْوِيلَهُ إِلَّا اللَّهُ وَالرَّاسِخُونَ فِي الْعِلْمِ يَقُولُونَ آمَنَّا بِهِ كُلُّ مِنْ عِنْدِ رَبِّنَا وَمَا يَذَّكَّرُ إِلَّا أُولُو الْأَلْبَابِ.
“তিনিই আপনার প্রতি কিতাব নাজিল করেছেন। তাতে কিছু আয়াত রয়েছে সুস্পষ্ট, সেগুলোই কিতাবের আসল অংশ। আর অন্যগুলো রূপক। সুতরাং যাদের অন্তরে কুটিলতা রয়েছে, তারা অনুসরণ করে ফিৎনা বিস্তার এবং অপব্যাখ্যার উদ্দেশে তন্মধ্যেকার রূপকগুলোর। আর সেগুলোর ব্যাখ্যা আল্লাহ ব্যতীত কেউ জানে না। আর যারা জ্ঞানে সুগভীর, তারা বলেন, আমরা এর প্রতি ঈমান এনেছি। এই সবই আমাদের পালনকর্তার পক্ষ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে। আর বোধশক্তি সম্পন্নোরা ছাড়া অন্য কেউ শিক্ষা গ্রহণ করে না।”
টিকাঃ
৯১. মিশকাত শরীফ: ২৮
৯২. সূরা আলে ইমরান: ৭
📄 উদরপূর্তি ও নির্বুদ্ধিতার ফল সুন্নাহ অস্বীকার
عن مقداد بن معد يكرب رضي الله عنه قال: قال رسول الله صلي الله عليه وسلم: الآ! اني اوتيت القرآن ومثله معه الآ! يوشك رجل شعبان على اريكته يقول: عليكم بهذا القرآن! فما وجدتم فيه من حلال فاحلوه وما وجدتم فيه من حرام فحرموه وان ما حرم رسول الله صلي الله عليه وسلم كما حرم الله...
'হযরত মিকদাদ বিন মাদীকারুবা রাযি. বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, জেনে রাখো! আমাকে কুরআন দেওয়া হয়েছে এবং সঙ্গে তার অনুরূপও। (অনুসরণীয় অহী) এবং আরো (দেওয়া হয়েছে যাকে “সুন্নাহ” বলা হয়)। জেনে রাখো! অচিরেই এমন সময় আসবে, যখন কোনো উদরপূর্ণ লোক স্বীয় গদিতে বসে বলবে, তোমরা শুধু এই কুরআনকেই গ্রহণ করো। তাতে যা কিছু হালাল পাবে তা হালাল মনে করবে এবং যা হারাম পাবে তাকে হারাম মনে করবে! (কুরআন বুঝার জন্য সুন্নাহর আশ্রয় নেবে না) অথচ (এটা সোজাসাপ্টা বিষয় যে) নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা হারাম করছেন তা আল্লাহর নির্দেশনা মোতাবেকই হারাম করেছেন।) তাই রাসূল স. যা হারাম করেছেন তা আল্লাহ তাআলা যা হারাম করেছেন তার মতোই অনুসরণযোগ্য। (তবে অহংকার ও নির্বুদ্ধিতার কারণে এ সহজ বিষয়টা তারা বুঝতে অক্ষম)।