📘 হাদিসের দর্পনে একালের চিত্র > 📄 কুরআনী দাওয়াতের মিথ্যা দাবিদার বেরুবে

📄 কুরআনী দাওয়াতের মিথ্যা দাবিদার বেরুবে


عن ابي قلابة قال: قال ابن مسعود: عليكم بالعلم قبل ان يقبض! وقبضه ان يذهب باصحابه عليكم بالعلم! فان احدكم لا يدري متى يفتقر إليه أو يفتقر إلى ما عنده انكم ستجدون اقواما يزعمون أنهم يدعونكم إلى كتاب الله وقد نبذوه وراء ظهورهم فعليكم بالعلم واياكم والتبدع! واياكم والتنطع واياكم والتعمق وعليكم بالعتيق.!
'হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. বর্ণনা করেন, ইলম বিদায় নেয়ার পূর্বে ইলম অর্জন করো। ইলম বিদায় নেয়ার অর্থ হল, আহলে ইলম (আলেম) বিদায় নিবে। খুব গুরুত্বের সাথে ইলম অর্জন করো। নিশ্চয় তোমাদের কেউ জানে না কখন ইলমের প্রয়োজন হয়। অথবা তার নিকট থাকা ইলম অন্যের প্রয়োজন হয়।
অচিরেই এমন কিছু মানুষ পাবে যাদের দাবি হবে যে, তারা তোমাদেরকে কুরআনের দাওয়াত দিচ্ছে। অথচ তারা কুরআনকে পশ্চাদে নিক্ষেপ করেছে। সুতরাং ইলমের ওপর দৃঢ় থাকো। তোমাদের উচিৎ বিদআত, অতিরঞ্জন ও অনর্থক চিন্তা-ভাবনা থেকে বেঁচে থাকা। তোমাদের দায়িত্ব হল, পূর্ববর্তীদের আর্দশ অনুসরণের ব্যাপারে দৃঢ়পদ থাকা।'

টিকাঃ
৮৬. সুনানে দারিমী:১/৫০

📘 হাদিসের দর্পনে একালের চিত্র > 📄 সুন্নাহর অপব্যাখ্যা

📄 সুন্নাহর অপব্যাখ্যা


عن عبد الله قال كيف أنتم إذا لبستكم فتنة يهرم فيها الكبير ويربوا فيها الصغير إذا ترك منها شيء قيل تركت السنة قالوا ومتى ذاك؟ قال: إذا ذهبت علماؤكم وكثرت جهلاؤكم وكثرت قراؤكم وقلت فقهاؤكم و كثرت أمراؤكم وقلت أمناؤكم والتمست الدنيا بعمل الأخرة وتفقه لغير الدين.
واخرج الامام مالك في جامع الصلواة: أن عبد الله بن مسعود قال لإنسان: إنك في زمان كثير فقهاؤه قليل قراؤه تحفظ فيه حدود القرآن وتضيع حروفه قليل من يسأل كثير من يعطي يطيلون فيه الصلواة ويقصرون الخطبة يبدؤن أعمالهم قبل أهوائهم وسيأتي على الناس زمان قليل فقهاؤه كثير قراؤه يحفظ فيه حروف القرآن وتضيع حدوده كثير من يسأل قليل من يعطي يطيلون فيه الخطبة ويقصرون الصلواة يبدون فيه أهواءهم قبل أعمالهم.
‘হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. বর্ণনা করেন, তখন তোমাদের কী অবস্থা হবে? যখন ফিত্না তোমাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে। মধ্যবয়সীরা এতে বৃদ্ধ হয়ে যাবে, বাচ্চারা যুবক হয়ে যাবে; আর মানুষ এগুলোকে সুন্নত আখ্যা দেবে? যদি এগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে মানুষ বলবে-সুন্নত ছেড়ে দিয়েছে! আরজ করা হল, এমন কখন হবে? তিনি বললেন, যখন তোমাদের আলেমগণ বিদায় নিয়ে যাবে। মূর্খ ও ক্বারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। ফকীহদের সংখ্যা হ্রাস পাবে। নেতাগোছের লোক বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বস্ত লোক কম হবে। আখেরাতের আমলের মাধ্যমে দুনিয়ার চাওয়া-পাওয়া থাকবে। এবং দীন শেখা হবে দুনিয়ার স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে।'
মুয়াত্তা ইমাম মালেক রহ. এর এক বর্ণনায় এসেছে, হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. এক ব্যক্তিকে উপদেশচ্ছলে বলছিলেন, তোমরা এমন এক যুগ পাবে, যে যুগে ফকীহ বেশি ও ক্বারী কম হবে। সে যুগে কুরআনের হরফ উচ্চারণে খুব বাড়াবাড়ি হবে। ভিক্ষুক কমে যাবে, দাতা বেড়ে যাবে। নামাজ দীর্ঘ হবে, খুৎবা সংক্ষিপ্ত হবে। সে যুগে মানুষ আমলকে কৃপ্রবৃত্তির ওপর প্রধান্য দিবে। আরেক যুগ এমন আসবে, যে যুগে ফকীহ কম হবে, ক্বারী বেশী হবে। কুরআনের হরফের ব্যাপারে খুব যত্নবান হবে; তবে তার সীমা লঙ্ঘন করবে। ভিক্ষুক বেড়ে যাবে, দাতা কমে যাবে। খুৎবা দীর্ঘ হবে, নামাজ সংক্ষিত হবে। আমলের চেয়ে প্রবৃত্তির চাওয়া প্রাধান্য পাবে।

টিকাঃ
৮৭. সুনানে দারিমী:১/৫৮
৮৮. মুয়াত্তা মালেক: ১৬০

📘 হাদিসের দর্পনে একালের চিত্র > 📄 দীনি বিষয়ে গলদ যুক্তিচিন্তার অপপ্রয়োগ

📄 দীনি বিষয়ে গলদ যুক্তিচিন্তার অপপ্রয়োগ


عن عبد الله رضى الله عنه قال: لا يأتى عليكم عام الا وهو شر من الذي كان قبله أما انى لست اعنى عاما اخصب من عام ولا اميرا خيرا من امير ولكن علمائكم وخياركم وفقهائكم، يذهبون، ثم لا تجدون منهم خلفاء، ويجئ قوم يقيسون الامر برأئهم.
'হযরত ইবনে মাসউদ রাযি. বর্ণনা করেন, আগত বৎসর পূর্বের বৎসরের তুলনায় খারাপ হবে। আমার উদ্দেশ্য এই নয় যে, আগত বৎসর পূর্বের বৎসরের থেকে উৎপাদনে অধিক উর্বর হবে। এক আমীর অন্য আমীর থেকে উত্তম হবে; বরং আমার উদ্দেশ্য হলো, আলেম, নেককার ও ফক্বীহগণ একে একে বিদায় নিয়ে যাবেন। তোমরা এঁদের স্থালাভিষিক্ত কাউকে পাবেনা। এবং (দুর্ভিক্ষের এ সময়ে) এমন কিছু লোক আসবে, যারা মানুষকে নিজের মতো করে মাসআলা বলবে (শরয়ী দলীল-প্রমাণের তোয়াক্কা করবে না) ।

টিকাঃ
৮৯. সুনানে দারিমী:১/৫৮

📘 হাদিসের দর্পনে একালের চিত্র > 📄 নতুন কিছুর আবিষ্কারক বলে খ্যাতি অর্জনের লালসা

📄 নতুন কিছুর আবিষ্কারক বলে খ্যাতি অর্জনের লালসা


عن زيد بن عميرة وكان من أصحاب معاذ بن جبل أخبره قال كان لا يجلس مجلسا للذكر حين يجلس إلا قال: الله حكم قسط هلك المرتابون! قال معاذ بن جبل يوما إن من ورائكم فتنا يكثر فيها المال ويفتح فيها القرآن حتى يأخذه المؤمن والمنافق والرجل والمرأة والصغير والكبير والعبد والحر فيوشك قائل أن يقول: ما للناس لا يتبعوني وقد قرأت القرآن؟ ما هم بمتبعي حتى أبتدع لهم غيره! فإياكم وما ابتدع! فإن ما ابتدع ضلالة وأحذركم زيغة الحكيم! فإن الشيطان قد يقول كلمة الضلالة على لسان الحكيم وقد يقول المنافق كلمة الحق. قال: قلت لمعاذ: ما يدريني - رحمك الله - إن الحكيم قد يقول كلمة الضلالة وإن المنافق قد يقول كلمة الحق؟ قال: بلى! اجتنب من كلام الحكيم المشتهرات (وفي رواية : المشتبهات) التي يقال لها: ما هذه؟ ولا يثنينك ذلك عنه فإنه لعله أن يراجع وتلق الحق إذا سمعته فإن على الحق نورا.
'ইয়াজিদ বিন উমাইরাহ রহ.-যিনি হযরত মুআজ রাযি. এর শাগরিদ- তিনি বর্ণনা করেন, হযরত মুআজ রাযি. যখনই নসিহত করতে বসতেন তখন একথাগুলো অবশ্যই বলতেন-আল্লাহ তাআলা ফয়সালাকারী, ইনসাফকারী। যে ব্যক্তি এতে সন্দেহ করবে সে ধ্বংস হবে। মুআজ রাযি. একবার বলেন, তোমাদের পরে অনেক ফিৎনার উদ্ভব হবে। সে যুগে সম্পদের প্রাচুর্য হবে। কুরআন কারীম সবার জন্য উন্মুক্ত হবে, যা দ্বারা মুমিনও প্রমাণ পেশ করবে, মুনাফিকও প্রমাণ পেশ করবে। পুরুষ ও প্রমাণ পেশ করবে, নারীও প্রমাণ পেশ করবে। ছোট-বড়, স্বাধীন-পরাধীন সবাই প্রমাণ পেশ করবে। সেদিন দূরে নয় যে, কেউ বলে বসবে, 'মানুষের কী হলো? আমি কুরআন পড়েছি; তবু কেনো মানুষ আমার অনুসরণ করছে না? (সে ভাববে) মানুষ ততক্ষণ আমার অনুসরণ করবে না যতক্ষণ না আমি তাদের সামনে নতুন কোনো বিষয় পেশ করি! (হযরত মুআবিয়া রাযি. বলেন) সুতরাং (দীনের মাঝে) নতুনত্ব আবিস্কার করা থেকে বিরত থাকো। কারণ এমন নতুনত্ব পথ ভ্রষ্টতা। আমি তোমাদের আলেমদের পদস্খলনের ব্যাপারে সাবধান করছি। কেননা, শয়তান কখনো আলেমের মুখ দিয়েও বিভ্রান্তিমূলক কথা বের করে। আবার কখনো মুনাফিকও সত্য কথা বলে। (বর্ণনাকারী বলেন) আমি মুআবিয়া রাযি. কে বললাম, আমি কিভাবে বুঝবো যে আলেম ভ্রান্ত কথা বলছে এবং মুনাফিক সত্য কথা বলছে? (হক-বাতিল চেনার মাপকাঠি কী হবে?) তিনি বললেন, হ্যাঁ! (আমি বলছি) আলেমের সন্দেহযুক্ত এমন কথা থেকে বিরত থাকো যে ব্যাপারে (সংখ্যাগরিষ্ঠ আলেমের পক্ষ থেকে) বলা হয় 'এটা কেমন কথা?' (এমন হলে বুঝে নাও-এটা ভুল) তবে শুধু এই ভুলের ওপর ভিত্তি করে তাঁর থেকে বিমুখ হওয়া যাবে না। কারণ, হতে পারে তিনি নিজের ভুল থেকে ফিরে এসেছেন! (হ্যাঁ, সত্য প্রকাশ হয়ে যাওয়ার পরও যদি সে নিজের ভুলের ওপর অবিচল থাকে-তাহলে এমন ব্যক্তি আলেম নয়। (বরং মূর্খ জাহেল।) আর সত্য কথা যে কারো থেকে শোনো, তা গ্রহণ করো। কারণ-হক আলোকময়। '

টিকাঃ
৯০. আবু দাউদ:৬৩৩

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00