📘 হাদিসের দর্পনে একালের চিত্র > 📄 যমানার পরিবর্তন

📄 যমানার পরিবর্তন


آخر ابن جرير في تهذيب الآثار: حدثني أبو حميد الحمصي أحمد بن المغيرة حدثنا عثمان بن سعيد عن محمد بن مهاجر حدثني الزبيدي عن الزهري عن عروة عن عائشة أنها قالت: يا ويح لبيد حيث يقول: ذهب الذين يعاش في أكنافهم . وبقيت في خلف كجلد الأجرب قالت عائشة: فكيف لو أدركت زماننا هذا! ثم قال الزهري: رحم الله عروة فكيف لو أدرك زماننا هذا! ثم قال الزبيدي: رحم الله الزهري فكيف لو أدرك زماننا هذا! قال محمد: وأنا أقول: رحم الله الزبيدي فكيف لو أدرك زماننا هذا! قال أبو حميد قال عثمان: ونحن نقول: رحم الله محمدا فكيف لو أدرك زماننا هذا قال ابن جرير قال لنا أبو حميد: رحم الله عثمان فكيف لو أدرك زماننا هذا! قال ابن جرير: رحم الله أحمد بن المغيرة فكيف لو أدرك زماننا هذا (أخرجه عبد الرزاق في مصنفه (٢٤٦/١١) وقال المعلق: أخرجه ابن المبارك عن معمر: صفحة ٦٠ رقم ١٨٣. ص). قال العبد الضعيف الجامع رحمه الله: جميعا ! فكيف لو ادركوا زماننا هذا...
'ইমাম যুহরী রহ. হযরত উরওয়া থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আয়েশা রাযি. একবার লাবীদ এর কবিতা পাঠ করেন,
যাদের ছায়ায় চলেছে জীবন, বিদায় নিয়েছে তারা আমি অকর্মা রয়ে গেলাম অযোগ্যদের পাড়ায়।
হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, বড় আশ্চর্যের কথা! লাবীদ নিজ যুগের লোকদের ব্যাপারে এমন বলেছে। সে যদি আমাদের যুগ প্রত্যক্ষ করতো তাহলে কী বলতো? হযরত উরওয়াহ রহ. বলেন, হযরত আয়েশা রা. এর ওপর আল্লাহ রহম করুন। তিনি যদি আমাদের যুগ পেতেন তাহলে কী বলতেন? ইমাম যুহরী রহ. বলেন, আল্লাহ তাআলা যুহরী রহ. এর ওপর রহম করুন। তিনি যদি আমাদের যুগ পেতেন তাহলে কী বলতেন? ইমাম যুহরী রহ. এর শাগরিদ যুবাইদী রহ. বলেন, আল্লাহ তাআলা যুবাইদী রহ. এর ওপর রহম করুন। তিনি যদি আমাদের যুগ পেতেন তাহলে কী বলতেন? যুবাইদী রহ. এর শাগরিদ মুহাম্মাদ বিন মুহাজির রহ. বলেন, আল্লাহ তাআলা যুবাইদী রহ. এর ওপর রহম করুন। তিনি যদি আমাদের যুগ পেতেন তাহলে কী বলতেন? মুহাম্মদ বিন মুহাজির রহ. এর শাগরিদ উসমান বিন সাঈদ রহ. বলেন, আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ বিন মুহাজির রহ. এর ওপর রহম করুন! তিনি যদি আমাদের যুগ পেতেন তাহলে কী বলতেন? উসমান রহ. এর শাগরিদ আবু হামীদ রহ. বলেন, আল্লাহ তাআলা উসমান রহ. এর ওপর রহম করুন! তিনি যদি আমাদের যুগ পেতেন তাহলে কী বলতেন? ইমাম ইবনে জারীর রহ. বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাদের উস্তাদ আবু হামীদ রহ. এর ওপর রহম করুন! তিনি যদি আমাদের যুগ পেতেন তাহলে কী বলতেন? অধম লেখক বলেন, আল্লাহ সুবহানু তাআলা তাদের সবার ওপর রহম করুন। যদি এ সকল বুযর্গরা আমাদের যুগ প্রত্যক্ষ করতেন তাহলে কী অবস্থা হতো?'

টিকাঃ
৮৪. কানযুল উম্মাল: ১৪/৫৭৮

📘 হাদিসের দর্পনে একালের চিত্র > 📄 কুরআনের মাধ্যমে সংশয় সৃষ্টিকারীদের প্রাদুর্ভাব

📄 কুরআনের মাধ্যমে সংশয় সৃষ্টিকারীদের প্রাদুর্ভাব


عن عمر بن الخطاب رضي الله عنه قال: انه سيأتي ناس يجادلونكم بشبهات القرآن فخذوهم بالسنن فان اصحاب السنن بكتاب الله.
'হযরত উমর বিন খাত্তাব রাযি. বর্ণনা করেন, অচিরেই এমন কিছু মানুষ আসবে যারা কুরআনের (ভুল ব্যাখ্যার) মাধ্যমে দীনের মধ্যে সংশয়-সন্দেহ সৃষ্টি করে ঝগড়া করবে। তাদের সুন্নাহর মাধ্যমে পাকড়াও করো। কারণ, সুন্নাহ (হাদিস) বিষয়ে অভিজ্ঞরা কিতাবুল্লাহর (বিশুদ্ধ ব্যাখ্যা) বিষয়ে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন।'

টিকাঃ
৮৫. সুনানে দারামী:১/৪৭

📘 হাদিসের দর্পনে একালের চিত্র > 📄 কুরআনী দাওয়াতের মিথ্যা দাবিদার বেরুবে

📄 কুরআনী দাওয়াতের মিথ্যা দাবিদার বেরুবে


عن ابي قلابة قال: قال ابن مسعود: عليكم بالعلم قبل ان يقبض! وقبضه ان يذهب باصحابه عليكم بالعلم! فان احدكم لا يدري متى يفتقر إليه أو يفتقر إلى ما عنده انكم ستجدون اقواما يزعمون أنهم يدعونكم إلى كتاب الله وقد نبذوه وراء ظهورهم فعليكم بالعلم واياكم والتبدع! واياكم والتنطع واياكم والتعمق وعليكم بالعتيق.!
'হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. বর্ণনা করেন, ইলম বিদায় নেয়ার পূর্বে ইলম অর্জন করো। ইলম বিদায় নেয়ার অর্থ হল, আহলে ইলম (আলেম) বিদায় নিবে। খুব গুরুত্বের সাথে ইলম অর্জন করো। নিশ্চয় তোমাদের কেউ জানে না কখন ইলমের প্রয়োজন হয়। অথবা তার নিকট থাকা ইলম অন্যের প্রয়োজন হয়।
অচিরেই এমন কিছু মানুষ পাবে যাদের দাবি হবে যে, তারা তোমাদেরকে কুরআনের দাওয়াত দিচ্ছে। অথচ তারা কুরআনকে পশ্চাদে নিক্ষেপ করেছে। সুতরাং ইলমের ওপর দৃঢ় থাকো। তোমাদের উচিৎ বিদআত, অতিরঞ্জন ও অনর্থক চিন্তা-ভাবনা থেকে বেঁচে থাকা। তোমাদের দায়িত্ব হল, পূর্ববর্তীদের আর্দশ অনুসরণের ব্যাপারে দৃঢ়পদ থাকা।'

টিকাঃ
৮৬. সুনানে দারিমী:১/৫০

📘 হাদিসের দর্পনে একালের চিত্র > 📄 সুন্নাহর অপব্যাখ্যা

📄 সুন্নাহর অপব্যাখ্যা


عن عبد الله قال كيف أنتم إذا لبستكم فتنة يهرم فيها الكبير ويربوا فيها الصغير إذا ترك منها شيء قيل تركت السنة قالوا ومتى ذاك؟ قال: إذا ذهبت علماؤكم وكثرت جهلاؤكم وكثرت قراؤكم وقلت فقهاؤكم و كثرت أمراؤكم وقلت أمناؤكم والتمست الدنيا بعمل الأخرة وتفقه لغير الدين.
واخرج الامام مالك في جامع الصلواة: أن عبد الله بن مسعود قال لإنسان: إنك في زمان كثير فقهاؤه قليل قراؤه تحفظ فيه حدود القرآن وتضيع حروفه قليل من يسأل كثير من يعطي يطيلون فيه الصلواة ويقصرون الخطبة يبدؤن أعمالهم قبل أهوائهم وسيأتي على الناس زمان قليل فقهاؤه كثير قراؤه يحفظ فيه حروف القرآن وتضيع حدوده كثير من يسأل قليل من يعطي يطيلون فيه الخطبة ويقصرون الصلواة يبدون فيه أهواءهم قبل أعمالهم.
‘হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. বর্ণনা করেন, তখন তোমাদের কী অবস্থা হবে? যখন ফিত্না তোমাদের মাঝে ছড়িয়ে পড়বে। মধ্যবয়সীরা এতে বৃদ্ধ হয়ে যাবে, বাচ্চারা যুবক হয়ে যাবে; আর মানুষ এগুলোকে সুন্নত আখ্যা দেবে? যদি এগুলোকে ছেড়ে দেওয়া হয় তাহলে মানুষ বলবে-সুন্নত ছেড়ে দিয়েছে! আরজ করা হল, এমন কখন হবে? তিনি বললেন, যখন তোমাদের আলেমগণ বিদায় নিয়ে যাবে। মূর্খ ও ক্বারীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। ফকীহদের সংখ্যা হ্রাস পাবে। নেতাগোছের লোক বৃদ্ধি পাবে। বিশ্বস্ত লোক কম হবে। আখেরাতের আমলের মাধ্যমে দুনিয়ার চাওয়া-পাওয়া থাকবে। এবং দীন শেখা হবে দুনিয়ার স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে।'
মুয়াত্তা ইমাম মালেক রহ. এর এক বর্ণনায় এসেছে, হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. এক ব্যক্তিকে উপদেশচ্ছলে বলছিলেন, তোমরা এমন এক যুগ পাবে, যে যুগে ফকীহ বেশি ও ক্বারী কম হবে। সে যুগে কুরআনের হরফ উচ্চারণে খুব বাড়াবাড়ি হবে। ভিক্ষুক কমে যাবে, দাতা বেড়ে যাবে। নামাজ দীর্ঘ হবে, খুৎবা সংক্ষিপ্ত হবে। সে যুগে মানুষ আমলকে কৃপ্রবৃত্তির ওপর প্রধান্য দিবে। আরেক যুগ এমন আসবে, যে যুগে ফকীহ কম হবে, ক্বারী বেশী হবে। কুরআনের হরফের ব্যাপারে খুব যত্নবান হবে; তবে তার সীমা লঙ্ঘন করবে। ভিক্ষুক বেড়ে যাবে, দাতা কমে যাবে। খুৎবা দীর্ঘ হবে, নামাজ সংক্ষিত হবে। আমলের চেয়ে প্রবৃত্তির চাওয়া প্রাধান্য পাবে।

টিকাঃ
৮৭. সুনানে দারিমী:১/৫৮
৮৮. মুয়াত্তা মালেক: ১৬০

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00