📄 ভিতর-বাহির মতানৈক্য
عن محمد بن سوقة قال: أتيت نعيم بن أبي هند فأخرج إلي صحيفة فإذا فيها: من أبي عبيدة بن الجراح ومعاذ بن جبل إلى عمر بن الخطاب،
سلام عليك، أما بعد فإنا عهدنا وأمر نفسك لك مهم، وأصبحت وقد وليت أمر هذه الأمة أحمرها وأسودها يجلس بين يديك الشريف والوضيع، والعدو والصديق، ولكل حصته من العدل، فأنت كيف أنت عند ذلك يا عمر! فإنا نحذرك يوما تعيي فيه الوجوه، وتجف فيه القلوب، وتقطع فيه الحجج بملك قهرهم بجبروته والخلق داخرون له، يرجون رحمته ويخافون عقابه، وإنا كنا نحدث أن أمر هذه الأمة سيرجع في آخر. زمانها أن تكون إخوان العلانية أعداء السريرة؛ وإنا نعوذ بالله أن ينزل كتابنا إليك سوى المنزل الذي نزل من قلوبنا، فإنا كتبنا به نصيحة والسلام عليك،
فكتب إليهما: من عمر بن الخطاب إلى أبي عبيدة ومعاذ بن جبل،
سلام عليكما، أما بعد! فإنكما كتبتما إلي تذكر أن أنكما عهد تماني وأمر نفسي لي مهم، فإني قد أصبحت وقد وليت أمر এই الأمة أحمرها وأسودها يجلس بين يدي الشريف والوضيع، والعدو والصديق، ولكل حصته من ذلك؛ وكتبتما فانظر كيف أنت عند ذلك يا عمرا وإنه لاحول ولاقوة عند ذلك لعمر إلا بالله، وكتبتما تحذراني মা حذرت به الأمم قبلنا، وقديما كان اختلاف الليل والنهار بآجال الناس يقربان كل بعيد ويبليان كل جديد، يأتيان بكل موعود حتى يصيران الناس إلى منازلهم من الجنة والنار؛ كتبتما تذكران أنكما تحدثان أن أمر هذه الأمة سيرجع في آخر زمانها أن تكون إخوان العلانية أعداء السريرة، ولستم بأولئك، هذا ليس بزمان ذلك، وإن ذلك زمان تظهر فيه الرغبة والرهبة، تكون رغبة بعض الناس إلى بعض لصلاح دنياهم، ورهبة بعض الناس من بعض؛ كتبتما به نصيحة تعظانى بالله أن أنزل كتابكما سوى المنزل الذي نزل من قلوبكما، فإنكما كتبتما به وقد صدقتما فلا تدعا الكتاب إلي، فإني لا غنى بي عنكما والسلام عليكما.
'হযরত মুহাম্মদ বিন সূকা বলেন, আমি নুআঈম বিন আবী হিন্দ এর খেদমতে হাজির হলাম, তখন তিনি আমাকে একটি চিঠি দেখালেন যাতে লিখা ছিল-
আবু উবাইদাহ বিন জাররাহ রাযি. ও মুআজ বিন জাবাল রাযি. এর পক্ষ থেকে উমর বিন খাত্তাব রাযি. এর প্রতি।
আসসালামু আলাইকুম!
আমরা আপনার দায়িত্বের স্পর্শকাতরতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এ উম্মতের সাদা-কালো সবার দায়িত্ব আপনার কাঁধে ন্যস্ত। আপনার কাছে সম্ভ্রান্ত-নিচ, বন্ধু-দুশমন সবাই আসবে। এদের প্রত্যেকেই আপনার নিকট তাদের ইনসাফ পাওয়ার হকদার। সুতরাং এখন দেখার বিষয় যে আপনি এদের সাথে কেমন আচরণ করেন? আমরা আপনাকে ওই দিন সম্পর্কে সর্তক করছি যেদিন চেহারা নত হয়ে যাবে, অন্তর শুকিয়ে যাবে। আল্লাহর প্রভাবে-প্রতিপত্তি ও দলিল-প্রমাণের সামনে সকল দলিল-প্রমাণ অকেজো প্রমাণিত হবে। সকল সৃষ্টি তাঁর সমানে নত হবে। সবাই তাঁর রহমতের আশা করতে থাকবে। তাঁর শাস্তির ভয়ে ভীত থাকবে। আমাদের নিকট এই হাদিস বর্ণনা করা হয়েছিল যে, শেষ যমানায় এই উম্মতের অবস্থা এমন হবে যে, মানুষ বহ্যিকভাবে ভাই-ভাই হয়ে থাকবে; তবে অন্তরে একে অপরের প্রতি শত্রুতা পুষবে। আমরা আপনাকে এই চিঠি শুধুই আপনার হিতাকাঙ্খি হিসাবে লিখেছি। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। এই চিঠিকে শুধু হিতকামনা ছাড়া আর অন্য কোনো ভাবে যেন ব্যাখ্যা না করা হয়।
হযরত উমর রাযি. জবাবে লিখেছেন, উমর বিন খাত্তাব রাযি. এর পক্ষ থেকে আবু উবাইদা রাযি. ও মুআজ রাযি. এর প্রতি।
আসসালামু আলাইকুম!
হামদ-সালাতের পর, আপনাদের চিঠি পেয়েছি। যাতে আপনারা উল্লেখ করেছেন, আপনারা আমাকে দায়িত্বের ব্যাপারে সর্তক করেছেন যে, এই উম্মতের শেতাঙ্গ-কৃ ষ্ণাঙ্গ, বন্ধু-দুশমন সবাই আপনার কাছে আসবে এবং প্রত্যেকেই যেন ইনসাফের সাথে যথাযথ প্রাপ্য পায়। আপনারা লিখেছেন-এখন দেখার বিষয় যে আমি এদের সঙ্গে কেমন আচরণ করি।
(উত্তরে আরজ করছি) এমতাবস্থায় মন্দ থেকে বেঁচে হকের ওপর অবিচল থাকার জন্য আল্লাহর তাওফিক ছাড়া ভিন্ন কিছু নেই। আপনারা আমাকে এ বিষয়েও সর্তক করেছেন, যে বিষয়ে প্রথম যুগের উম্মতদেরকে সর্তক করা হয়েছিল। পূর্বযুগ থেকেই রাত-দিনের পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের জীবনের মেয়াদ ফুরিয়ে আসার ধারা চলে আসছে। দিন-রাত দূরকে নিকটে, নতুনকে পুরাতন করে দেয়। প্রত্যেক প্রতিশ্রুত জিনিসকে গন্তব্যে ধাবিত করে। এ ধারা অবিরাম চলবে, এভাবে মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে যাবে-জান্নাতে বা জাহান্নামে।
আপনারা আমাকে অবহিত করে লিখেছেন যে, শেষ যমানায় এই উম্মতের এমন অবস্থা হবে, গড়নে-গঠনে মানুষ হয়ে থাকবে-তবে অন্তরে একে অপরের প্রতি শত্রুতা রাখবে। নিশ্চিত থাকুন! না আপনারা সেসব মানুষ, না এটা ঐ যমানা। এটা সেই যুগের কথা, যখন ভয় ও লোভ ব্যাপক হবে। একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক হবে দুনিয়ার স্বার্থে।
আপনারা লিখেছেন-এই চিঠি শুধু মাত্র আমার হিতাকাঙ্খি হিসেবেই পাঠিয়েছেন। এ-চিঠি যেন অন্য কোনো খাতে প্রয়োগ না করা হয়। অবশ্যই আপনারা সত্য লিখেছেন। এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক। আমি আপনাদের কল্যাণকর পরামর্শ থেকে অমুখাপেখী না। আসসালামু আলাইকুম!'
টিকাঃ
৮১. কানযুল উম্মাল: ১৬/১৬০, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা:১৩/২৬৬
📄 দাজ্জালের দল
عن حذيفة بن اليمان عن النبي صلى الله عليه وسلم: سيكون في آخر الزمان قوم يقولون لا قدر فإن مرضوا فلا تعودوهم وإن ماتوا فلا تشهدوهم فإنهم شيعة الدجال وحق على الله عز وجل أن يلحقهم به.
'হযরত হুযাইফা বিন ইয়ামান রাযি. থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, শেষ যমানায় কিছু লোক আসবে যারা বলবে- তাক্বদীর কোন বিষয় নয়। তারা যদি অসুস্থ হয় তাহলে তাদের সেবা করতে যেয়ো না। তারা যদি মারা যায় তাহলে তাদের জানাযায় যেয়ো না। কারণ তারা দাজ্জালের দল। আল্লাহ তাআলার দায়িত্ব তাদেরকে দাজ্জালের সঙ্গে মিলিয়ে দেয়া।
টিকাঃ
৮২. মুসনাদে আবু দাউদ-২/৫৮
📄 দীনের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে অস্বীকার করা
عن ابن عباس رضي الله عنهما قال: قال عمر بن الخطاب رضي الله عنه: انه سيكون أناس يكذبون بالدجال ويكذبون بطلوع الشمس من مغربها ويكذبون بعذاب القبر ويكذبون بالشفاعة ويكذبون بقوم يخرجون من النار بعدما امتحشوا.
'হযরত ইবনে আব্বাস রাযি. বর্ণনা করেন হযরত উমর রাযি. বলেছেন, অচিরেই কিছু মানুষ আসবে যারা দাজ্জালের আগমনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে। কেয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদয় হওয়াকে অস্বীকার করবে। কবরের শাস্তিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করবে, সুপারিশকে অস্বীকার করবে। হাউজে কাউসারকে অস্বীকার করবে। জাহান্নামে জ্বলে-পুড়ে অবশেষে কিছু মানুষ মুক্তি পাবে এমন আকীদাকে অস্বীকার করবে। '
টিকাঃ
৮৩. মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক, মুসান্নাফে ইবনে আবী শায়বা, ইবনে মাজাহ, কানযুল উম্মাল: ১/৩৮৭
📄 যমানার পরিবর্তন
آخر ابن جرير في تهذيب الآثار: حدثني أبو حميد الحمصي أحمد بن المغيرة حدثنا عثمان بن سعيد عن محمد بن مهاجر حدثني الزبيدي عن الزهري عن عروة عن عائشة أنها قالت: يا ويح لبيد حيث يقول: ذهب الذين يعاش في أكنافهم . وبقيت في خلف كجلد الأجرب قالت عائشة: فكيف لو أدركت زماننا هذا! ثم قال الزهري: رحم الله عروة فكيف لو أدرك زماننا هذا! ثم قال الزبيدي: رحم الله الزهري فكيف لو أدرك زماننا هذا! قال محمد: وأنا أقول: رحم الله الزبيدي فكيف لو أدرك زماننا هذا! قال أبو حميد قال عثمان: ونحن نقول: رحم الله محمدا فكيف لو أدرك زماننا هذا قال ابن جرير قال لنا أبو حميد: رحم الله عثمان فكيف لو أدرك زماننا هذا! قال ابن جرير: رحم الله أحمد بن المغيرة فكيف لو أدرك زماننا هذا (أخرجه عبد الرزاق في مصنفه (٢٤٦/١١) وقال المعلق: أخرجه ابن المبارك عن معمر: صفحة ٦٠ رقم ١٨٣. ص). قال العبد الضعيف الجامع رحمه الله: جميعا ! فكيف لو ادركوا زماننا هذا...
'ইমাম যুহরী রহ. হযরত উরওয়া থেকে বর্ণনা করেন, হযরত আয়েশা রাযি. একবার লাবীদ এর কবিতা পাঠ করেন,
যাদের ছায়ায় চলেছে জীবন, বিদায় নিয়েছে তারা আমি অকর্মা রয়ে গেলাম অযোগ্যদের পাড়ায়।
হযরত আয়েশা রাযি. বলেন, বড় আশ্চর্যের কথা! লাবীদ নিজ যুগের লোকদের ব্যাপারে এমন বলেছে। সে যদি আমাদের যুগ প্রত্যক্ষ করতো তাহলে কী বলতো? হযরত উরওয়াহ রহ. বলেন, হযরত আয়েশা রা. এর ওপর আল্লাহ রহম করুন। তিনি যদি আমাদের যুগ পেতেন তাহলে কী বলতেন? ইমাম যুহরী রহ. বলেন, আল্লাহ তাআলা যুহরী রহ. এর ওপর রহম করুন। তিনি যদি আমাদের যুগ পেতেন তাহলে কী বলতেন? ইমাম যুহরী রহ. এর শাগরিদ যুবাইদী রহ. বলেন, আল্লাহ তাআলা যুবাইদী রহ. এর ওপর রহম করুন। তিনি যদি আমাদের যুগ পেতেন তাহলে কী বলতেন? যুবাইদী রহ. এর শাগরিদ মুহাম্মাদ বিন মুহাজির রহ. বলেন, আল্লাহ তাআলা যুবাইদী রহ. এর ওপর রহম করুন। তিনি যদি আমাদের যুগ পেতেন তাহলে কী বলতেন? মুহাম্মদ বিন মুহাজির রহ. এর শাগরিদ উসমান বিন সাঈদ রহ. বলেন, আল্লাহ তাআলা মুহাম্মাদ বিন মুহাজির রহ. এর ওপর রহম করুন! তিনি যদি আমাদের যুগ পেতেন তাহলে কী বলতেন? উসমান রহ. এর শাগরিদ আবু হামীদ রহ. বলেন, আল্লাহ তাআলা উসমান রহ. এর ওপর রহম করুন! তিনি যদি আমাদের যুগ পেতেন তাহলে কী বলতেন? ইমাম ইবনে জারীর রহ. বলেন, আল্লাহ তাআলা আমাদের উস্তাদ আবু হামীদ রহ. এর ওপর রহম করুন! তিনি যদি আমাদের যুগ পেতেন তাহলে কী বলতেন? অধম লেখক বলেন, আল্লাহ সুবহানু তাআলা তাদের সবার ওপর রহম করুন। যদি এ সকল বুযর্গরা আমাদের যুগ প্রত্যক্ষ করতেন তাহলে কী অবস্থা হতো?'
টিকাঃ
৮৪. কানযুল উম্মাল: ১৪/৫৭৮