📘 হাদিসের দর্পনে একালের চিত্র > 📄 শাসকদের ভুল সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ না করা

📄 শাসকদের ভুল সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ না করা


عن معاوية بن أبي سفيان أنه صعد المنبر يوم القيامة فقال عند خطبته: إنما المال مالنا والفيء فيئنا فمن شئنا أعطيناه ومن شئنا منعناه فلم يجبه أحد فلما كان الجمعة الثانية قال مثل ذلك فلم يجبه أحد فلما كان الجمعة الثالثة قال مثل مقالته فقام إليه رجل ممن حضر المسجد فقال : كلا إنما المال مالنا والفيء فيئنا فمن حال بيننا وبينه حاكمناه إلى الله بأسيافنا فنزل معاوية فأرسل إلى الرجل فأدخله فقال القوم: هلك الرجل ثم دخل الناس فوجدوا الرجل معه على السرير فقال معاوية للناس : إن هذا الرجل أحياني أحياه الله سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول : ( سيكون أئمة من بعدي يقولون ولا يرد عليهم يتقاسمون في النار كما تتقاحم القردة وإني تكلمت أول جمعة فلم يرد علي أحد فخشيت أن أكون منهم ثم تكلمت في الجمعة الثانية فلم يرد علي أحد فقلت في نفسي إني من القوم ثم تكلمت في الجمعة الثالثة فقام هذا الرجل فرد علي فأحياني أحياه الله.
'হযরত আমীরে মুআবিয়া রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি 'কামামার দিন' মিম্বরে তাশরিফ নিয়ে যান এবং খুতবার মাঝে বলেন, সম্পদ আমাদের, 'ফাই' (সন্ধিসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ) আমাদের। সুতরাং যাকে ইচ্ছা দিব আর যাকে ইচ্ছা দিব না। এজন্য কারো নিকট আমাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই। পরবর্তী জুমআয়ও অনুরূপ ঘোষণা করেন। ওই সময়ও কেউ প্রতিবাদ করেনি। তারপর তৃতীয় জুমআয়ও অনুরূপ ঘোষণা করেন। তখন উপস্থিত মুসল্লিদের একজন দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন এবং বলেন, কখনো এমন হতে পারে না! আমাদের সম্পদ আমাদের, আমাদের 'ফাই' আমাদের। সুতরাং এর মাঝে যে কেউ বাঁধা সৃষ্টি করবে তারবারীই হবে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী। হযরত মুআবিয়া রাযি. মিম্বর থেকে নেমে এলেন। জুমআর নামাজের পর ওই মুসল্লিকে নিজ কামরায় ডেকে পাঠান। লোকেরা পরস্পরে বলাবলি করতে লাগল-আজতো নির্ঘাত তার মৃত্যু! তারপর অন্যান্য লোকেরা হযরত আমীরে মুআবিয়া রাযি. এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে দেখেন, ওই লোক হযরত মুআবিয়া রাযি. এর সঙ্গে খাটে বসে আছেন। হযরত মুআবিয়া রাযি. তখন বলেন, সে তো আমাকে মৃত্যু থেকে বাঁচালো। আল্লাহ তাআলা তাকে দীর্ঘ হায়াত দান করুক। আমি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার পর কিছু শাসক উল্টা-পাল্টা বলবে। তবে কারো সাহস হবে না তাদের ভুল ধরার।- তারা সবাই জাহান্নামে প্রবেশ করবে যেভাবে বানর গর্তে প্রবেশ করে। হযরত মুআবিয়া রাযি. বলেন, আমি (পরীক্ষামূলক) প্রথম জুমআয় এমনটি বলেছি; কিন্তু কেউ আমার ভুল ধরেনি। আমার আশংকা হল-না জানি আমিও ওই সকল শাসকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাই। তারপর দ্বিতীয় জুমআয়ও এমনটি বলেছি। কেউ আমাকে ভুল ধরেনি। তখন আমি নিশ্চিত হলাম যে, আমিও ওই দলের অন্তর্ভুক্ত। তারপর তৃতীয় জুমআয়ও ওই কথাই বলি। তখন এই লোকটি দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করে। সুতরাং সে আমাকে বাঁচিয়েছে। আমিও দুআ করি আল্লাহ তাআলা তাকে বাঁচিয়ে রাখুক।'

টিকাঃ
৭৯. হায়াতুস সাহাবা: ২/৬৮

📘 হাদিসের দর্পনে একালের চিত্র > 📄 অযোগ্যদের শাসন

📄 অযোগ্যদের শাসন


عن رافع الطائي قال: صحبت أبا بكر في غزوة فلما قفلنا قلت: يا أبا بكر أوصني قال: أقم الصلاة المكتوبة لوقتها وأد زكاة مالك طيبة بها نفسك وصم رمضان، واحجج البيت، واعلم أن الهجرة في الإسلام حسن وأن الجهاد في الهجرة حسن ولا تكن أميرا، ثم قال: هذه الإمارة التي ترى اليوم سيرة قد أوشكت أن تفشو وتكثر حتى ينالها من ليس لها بأهل، وانه من يكن أميرا فإنه من أطول الناس حسابا وأغلظه عذابا، ومن لا يكون أميرا فإنه من أيسر الناس حسابا وأهونه عذابا لأن الأمراء أقرب الناس من ظلم المؤمنين، ومن يظلم المؤمنين فإنما يخفر الله هم جيران الله وهم عباد الله، والله إن أحدكم لتصاب شاة جاره أو بعير جاره فيبيت وارم العضل يقول: شاة جاري أو بعير جاري فإن الله أحق أن يغضب لجيرانه.
'হযরত রাফে আত-তায়ী রহ. বলেন, আমি এক যুদ্ধে হযরত আবু বকর রাযি. এর সাথে ছিলাম। ফিরে আসার সময় আমি বললাম, হে আবু বকর! আমাকে নসিহত করুন! তিনি বললেন, যথাসময়ে ফরজ নামাজ আদায় করবে। খুশি মনে নিজ সম্পদের জাকাত প্রদান করবে। রমজানের রোজা রাখবে এবং হজ্ব করবে। জেনে রেখো! হিজরত ইসলামের একটি সৌন্দর্য্য। আর হিজরতের সৌন্দর্য্য জিহাদ। তুমি শাসক হয়ো না। এরপর তিনি বললেন, আজ তোমরা রাজত্বের যে স্বভাব-চরিত্র দেখছো অচিরেই ত ছড়িয়ে পড়বে। এবং খুব ব্যাপক হবে। অবশেষে তা এমন লোকদের হাতে গিয়ে পড়বে যারা এর যোগ্য নয়। অথচ যে শাসক হবে তার হিসাব কঠিন হবে এবং শক্ত আজাব হবে। আর যে শাসক হবে না তার হিসাব তুলনামূলক সহজ হবে এবং আযাব হালকা হবে। কারণ শাসকরা মুসলমানদের ওপর জুলুম করার সুযোগ তুলনামূলক বেশি পান। আর যে মুসলমানের ওপর জুলুম করে সে আল্লাহর সঙ্গে কৃত ওয়াদা ভঙ্গ করে। ঈমানদার আল্লাহর প্রতিবেশী ও তাঁর বান্দা। তোমাদের কোনো প্রতিবেশীর ছাগল বা উট যদি আক্রান্ত হয়, তাহলে তুমি সারারাত 'আমার প্রতিবেশীর ছাগল, আমার প্রতিবেশীর উট' বলে হাপিত্যেশ করো! সুতরাং আল্লাহ তাআলা তাঁর কোনো প্রতিবেশীর কষ্টে হলে রাগ হওয়ার বেশি হকদার।'

টিকাঃ
৮০. কানযুল উম্মাল: ৫/৭৫২

📘 হাদিসের দর্পনে একালের চিত্র > 📄 ভিতর-বাহির মতানৈক্য

📄 ভিতর-বাহির মতানৈক্য


عن محمد بن سوقة قال: أتيت نعيم بن أبي هند فأخرج إلي صحيفة فإذا فيها: من أبي عبيدة بن الجراح ومعاذ بن جبل إلى عمر بن الخطاب،
سلام عليك، أما بعد فإنا عهدنا وأمر نفسك لك مهم، وأصبحت وقد وليت أمر هذه الأمة أحمرها وأسودها يجلس بين يديك الشريف والوضيع، والعدو والصديق، ولكل حصته من العدل، فأنت كيف أنت عند ذلك يا عمر! فإنا نحذرك يوما تعيي فيه الوجوه، وتجف فيه القلوب، وتقطع فيه الحجج بملك قهرهم بجبروته والخلق داخرون له، يرجون رحمته ويخافون عقابه، وإنا كنا نحدث أن أمر هذه الأمة سيرجع في آخر. زمانها أن تكون إخوان العلانية أعداء السريرة؛ وإنا نعوذ بالله أن ينزل كتابنا إليك سوى المنزل الذي نزل من قلوبنا، فإنا كتبنا به نصيحة والسلام عليك،
فكتب إليهما: من عمر بن الخطاب إلى أبي عبيدة ومعاذ بن جبل،
سلام عليكما، أما بعد! فإنكما كتبتما إلي تذكر أن أنكما عهد تماني وأمر نفسي لي مهم، فإني قد أصبحت وقد وليت أمر এই الأمة أحمرها وأسودها يجلس بين يدي الشريف والوضيع، والعدو والصديق، ولكل حصته من ذلك؛ وكتبتما فانظر كيف أنت عند ذلك يا عمرا وإنه لاحول ولاقوة عند ذلك لعمر إلا بالله، وكتبتما تحذراني মা حذرت به الأمم قبلنا، وقديما كان اختلاف الليل والنهار بآجال الناس يقربان كل بعيد ويبليان كل جديد، يأتيان بكل موعود حتى يصيران الناس إلى منازلهم من الجنة والنار؛ كتبتما تذكران أنكما تحدثان أن أمر هذه الأمة سيرجع في آخر زمانها أن تكون إخوان العلانية أعداء السريرة، ولستم بأولئك، هذا ليس بزمان ذلك، وإن ذلك زمان تظهر فيه الرغبة والرهبة، تكون رغبة بعض الناس إلى بعض لصلاح دنياهم، ورهبة بعض الناس من بعض؛ كتبتما به نصيحة تعظانى بالله أن أنزل كتابكما سوى المنزل الذي نزل من قلوبكما، فإنكما كتبتما به وقد صدقتما فلا تدعا الكتاب إلي، فإني لا غنى بي عنكما والسلام عليكما.
'হযরত মুহাম্মদ বিন সূকা বলেন, আমি নুআঈম বিন আবী হিন্দ এর খেদমতে হাজির হলাম, তখন তিনি আমাকে একটি চিঠি দেখালেন যাতে লিখা ছিল-
আবু উবাইদাহ বিন জাররাহ রাযি. ও মুআজ বিন জাবাল রাযি. এর পক্ষ থেকে উমর বিন খাত্তাব রাযি. এর প্রতি।
আসসালামু আলাইকুম!
আমরা আপনার দায়িত্বের স্পর্শকাতরতার প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। এ উম্মতের সাদা-কালো সবার দায়িত্ব আপনার কাঁধে ন্যস্ত। আপনার কাছে সম্ভ্রান্ত-নিচ, বন্ধু-দুশমন সবাই আসবে। এদের প্রত্যেকেই আপনার নিকট তাদের ইনসাফ পাওয়ার হকদার। সুতরাং এখন দেখার বিষয় যে আপনি এদের সাথে কেমন আচরণ করেন? আমরা আপনাকে ওই দিন সম্পর্কে সর্তক করছি যেদিন চেহারা নত হয়ে যাবে, অন্তর শুকিয়ে যাবে। আল্লাহর প্রভাবে-প্রতিপত্তি ও দলিল-প্রমাণের সামনে সকল দলিল-প্রমাণ অকেজো প্রমাণিত হবে। সকল সৃষ্টি তাঁর সমানে নত হবে। সবাই তাঁর রহমতের আশা করতে থাকবে। তাঁর শাস্তির ভয়ে ভীত থাকবে। আমাদের নিকট এই হাদিস বর্ণনা করা হয়েছিল যে, শেষ যমানায় এই উম্মতের অবস্থা এমন হবে যে, মানুষ বহ্যিকভাবে ভাই-ভাই হয়ে থাকবে; তবে অন্তরে একে অপরের প্রতি শত্রুতা পুষবে। আমরা আপনাকে এই চিঠি শুধুই আপনার হিতাকাঙ্খি হিসাবে লিখেছি। আল্লাহ আমাদের হেফাজত করুন। এই চিঠিকে শুধু হিতকামনা ছাড়া আর অন্য কোনো ভাবে যেন ব্যাখ্যা না করা হয়।
হযরত উমর রাযি. জবাবে লিখেছেন, উমর বিন খাত্তাব রাযি. এর পক্ষ থেকে আবু উবাইদা রাযি. ও মুআজ রাযি. এর প্রতি।
আসসালামু আলাইকুম!
হামদ-সালাতের পর, আপনাদের চিঠি পেয়েছি। যাতে আপনারা উল্লেখ করেছেন, আপনারা আমাকে দায়িত্বের ব্যাপারে সর্তক করেছেন যে, এই উম্মতের শেতাঙ্গ-কৃ ষ্ণাঙ্গ, বন্ধু-দুশমন সবাই আপনার কাছে আসবে এবং প্রত্যেকেই যেন ইনসাফের সাথে যথাযথ প্রাপ্য পায়। আপনারা লিখেছেন-এখন দেখার বিষয় যে আমি এদের সঙ্গে কেমন আচরণ করি।
(উত্তরে আরজ করছি) এমতাবস্থায় মন্দ থেকে বেঁচে হকের ওপর অবিচল থাকার জন্য আল্লাহর তাওফিক ছাড়া ভিন্ন কিছু নেই। আপনারা আমাকে এ বিষয়েও সর্তক করেছেন, যে বিষয়ে প্রথম যুগের উম্মতদেরকে সর্তক করা হয়েছিল। পূর্বযুগ থেকেই রাত-দিনের পরিবর্তনের মাধ্যমে মানুষের জীবনের মেয়াদ ফুরিয়ে আসার ধারা চলে আসছে। দিন-রাত দূরকে নিকটে, নতুনকে পুরাতন করে দেয়। প্রত্যেক প্রতিশ্রুত জিনিসকে গন্তব্যে ধাবিত করে। এ ধারা অবিরাম চলবে, এভাবে মানুষ নিজ নিজ গন্তব্যে পৌঁছে যাবে-জান্নাতে বা জাহান্নামে।
আপনারা আমাকে অবহিত করে লিখেছেন যে, শেষ যমানায় এই উম্মতের এমন অবস্থা হবে, গড়নে-গঠনে মানুষ হয়ে থাকবে-তবে অন্তরে একে অপরের প্রতি শত্রুতা রাখবে। নিশ্চিত থাকুন! না আপনারা সেসব মানুষ, না এটা ঐ যমানা। এটা সেই যুগের কথা, যখন ভয় ও লোভ ব্যাপক হবে। একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক হবে দুনিয়ার স্বার্থে।
আপনারা লিখেছেন-এই চিঠি শুধু মাত্র আমার হিতাকাঙ্খি হিসেবেই পাঠিয়েছেন। এ-চিঠি যেন অন্য কোনো খাতে প্রয়োগ না করা হয়। অবশ্যই আপনারা সত্য লিখেছেন। এর ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক। আমি আপনাদের কল্যাণকর পরামর্শ থেকে অমুখাপেখী না। আসসালামু আলাইকুম!'

টিকাঃ
৮১. কানযুল উম্মাল: ১৬/১৬০, মুসান্নাফে ইবনে আবি শাইবা:১৩/২৬৬

📘 হাদিসের দর্পনে একালের চিত্র > 📄 দাজ্জালের দল

📄 দাজ্জালের দল


عن حذيفة بن اليمان عن النبي صلى الله عليه وسلم: سيكون في آخر الزمان قوم يقولون لا قدر فإن مرضوا فلا تعودوهم وإن ماتوا فلا تشهدوهم فإنهم شيعة الدجال وحق على الله عز وجل أن يلحقهم به.
'হযরত হুযাইফা বিন ইয়ামান রাযি. থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, শেষ যমানায় কিছু লোক আসবে যারা বলবে- তাক্বদীর কোন বিষয় নয়। তারা যদি অসুস্থ হয় তাহলে তাদের সেবা করতে যেয়ো না। তারা যদি মারা যায় তাহলে তাদের জানাযায় যেয়ো না। কারণ তারা দাজ্জালের দল। আল্লাহ তাআলার দায়িত্ব তাদেরকে দাজ্জালের সঙ্গে মিলিয়ে দেয়া।

টিকাঃ
৮২. মুসনাদে আবু দাউদ-২/৫৮

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00