📄 মানুষের লেবাসে শয়তান
عن حذيفة رضي الله عنه قال : كان الناس يسألون رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الخير وكنت أسأله عن الشر مخافة أن يدركني قال : قلت : يا رسول الله إنا كنا في جاهلية وشر فجاءنا الله بهذا الخير فهل بعد هذا الخير من شر ؟ قال : « نعم « قلت : وهل بعد ذلك الشر من خير ؟ قال : « نعم وفيه دخن « . قلت : وما دخنه ؟ قال : « قوم يستنون بغير سنتي ويهدون بغير هديي تعرف منهم وتنكر « . قلت : فهل بعد ذلك الخير من شر ؟ قال : « نعم دعاة على أبواب جهنم من أجابهم إليها قذفوه فيها » . قلت : يا رسول الله صفهم لنا . قال : « هم من جلدتنا ويتكلمون بألسنتنا « . قلت : فما تأمرني إن أدركني ذلك ؟ قال : « تلزم جماعة المسلمين وإمامهم « . قلت : فإن لم يكن لهم جماعة ولا إمام ؟ قال : « فاعتزل تلك الفرق كلها ولو أن تعض بأصل شجرة حتى يدركك الموت وأنت على ذلك.
'হযরত হুযাইফা রাযি. বলেন, লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতো আর আমি অকল্যাণবিষয়ে জিজ্ঞাসা করতাম। এই ভয়ে যে, আমি যেন তাতে আক্রান্ত না হয়ে যাই। হুযাইফা রাযি. বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা একসময় মূর্খতা ও মন্দের মাঝে নিমজ্জিত ছিলাম। অতঃপর আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই কল্যাণ (অর্থাৎ দীন ইসলাম) দান করেছেন। তাহলে কি এই কল্যাণের পর পুনরায় অকল্যাণ আসবে? তিনি বলেন, হ্যাঁ আসবে। আমি বললাম, তার পরে কি কল্যাণ আসবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ আসবে। তবে তা হবে ধোঁয়াযুক্ত। আমি জিজ্ঞেস করলাম, সেই ধোঁয়া কী প্রকৃতির? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মানুষ আমার সুন্নত বর্জন করে অন্য তরীকা গ্রহণ করবে এবং আমার পথ ছেড়ে মানুষকে অন্য পথে পরিচালিত করবে। তখন তুমি তাদের মাঝে ভালো কাজও দেখতে পাবে এবং মন্দ কাজও দেখতে পাবে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, সেই কল্যাণের পরও কি অকল্যাণ আসবে? তিনি বলেন, হ্যাঁ! জাহান্নামের দরোজায় দাঁড়িয়ে কতিপয় আহ্বানকারী মানুষকে সেই দিকে আহ্বান করবে। যারা তাদের আহ্বানে সাড়া দিবে তাদেরকে তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করে ছাড়বে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তাদের পরিচয় যদি জানাতেন! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারা আমাদের মতোই মানুষ। এবং আমাদের ভাষায়ই কথা বলবে। আমি বললাম, আমি সেই অবস্থায় উপনিত হলে আমাকে কি নির্দেশ দিতেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুসলমানদের জামাত ও তাদের ইমামকে আঁকড়ে ধরবে। আমি বললাম, সে সময় যদি কোনো মুসলিম জামাত ও মুসলিম ইমাম না থাকে? তিনি বললেন, তাহলে তুমি বিচ্ছিন্ন সেসব দলকে পরিহার করবে, এতে যদি তোমাকে গাছের শিকড়ের আশ্রয়ও নিতে হয় তবে তা-ই করবে! এবং তুমি এই নির্জন একাকি অবস্থায়ই মৃত্যু পর্যন্ত কাটাবে। '
وفي رواية لمسلم : قال : يكون بعدي أئمة لا يهتدون بهداي ولا يستنون بسنتي وسيقوم فيهم رجال قلوبهم قلوب الشياطين في جثمان إنس . قال حذيفة : قلت : كيف أصنع يا رسول الله إن أدركت ذلك ؟ قال : تسمع وتطيع الأمير وإن ضرب ظهرك وأخذ مالك فاسمع وأطع.
'আর মুসলিম শরীফের এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমার পরে এমন এমন ইমাম ও বাদশাহর আবির্ভাব ঘটবে যারা আমার নির্দেশিত পথে চলবে না এবং আমার সুন্নাহকে আমলে নিবে না। আবার তাদের মাঝেও এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা গায়ে-গঠনে এবং চেহারা-সুরতে মানুষই হবে; তবে তাদের অন্তরসমূহ হবে শয়তানের মতো। হযরত হুযাইফা রাযি. বলেন, আমি আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি সেই অবস্থার সম্মুখিন হই তাহলে আমার কী করণীয়? তিনি বললেন, তোমার আমীর (বৈধ বিষয়ে) যা বলবেন তা মানবে এবং তার আনুগত্য করবে। যদিও তোমার পৃষ্ঠে আঘাত করা হয় এবং তোমার মাল-সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়। তবুও তার নির্দেশ মানবে এবং তার আনুগত্য করবে।’
টিকাঃ
৭৫. মিশকাত শরীফ:৪৬১, বুখারী শরীফ: ২/১০৪৯
৭৬. মিশকাত শরীফ: ৪৬২
📄 বদ আমলের ফল
عن زياد بن لبيد قال : ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم شيئا فقال : ) وذاك عند أوان ذهاب العلم ، قال : قلت : يا رسول الله! كيف يذهب العلم ونحن نقرأ القرآن ونقرئه أبناءنا ويقرئه أبناؤنا أبناءهم إلى يوم القيامة ؟ قال : « ثكلتك أمك زياد ، إن كنت لاراك من أفقه رجل بالمدينة، أو ليس هذه اليهود والنصاري يقرأون التوراة والانجيل ، لا يعملون بشئ مما فيهما».
'হযরত যিয়াদ বিন লাবিদ রাযি. বলেন, একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভয়াবহ কোনো বিষয়ের আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, এটা ইলম উঠে যাওয়ার সময় সংঘটিত হবে। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ইলম কিভাবে উঠে যাবে, অথচ আমরা নিজেরা কুরআন শিখছি এবং আমাদের সন্তানদেরও শিক্ষা দিচ্ছি। অতঃপর আমাদের সন্তানরা কেয়ামত পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতা বহাল রাখবে। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যিয়াদ! তোমার জননী তোমাকে হারাক! (তুমি মরে যাও) আমিতো তোমাকে মদিনার একজন জ্ঞানী মনে করতাম। (তবে আশ্চর্যের বিষয় তুমি এতটুকুও বুঝো না? আখের, ইলম উঠে যাওয়ার ব্যাপারে আশ্চর্যের কী আছে?) ইহুদী-খ্রিষ্টানরাও তো তাওরাত, ইনজিল পড়েছে; কিন্তু তারা তার উপর আমল করে না। (এই বদ আমলের কারণেই এ উম্মতও অহীর বরকত থেকে বঞ্চিত হবে'
টিকাঃ
৭৭. মিশকাত শরীফ: ৩৮
📄 মতবিরোধের কুফল
اخرجه البيهقي عن بن إسحاق في خطبة أبي بكر رضي الله عنه يومئذ قال: وإنه لا يحل أن يكون للمسلمين أميران فإنه مهما يكن ذلك يختلف أمرهم وأحكامهم وتتفرق جماعتهم ويتنازعوا فيما بينهم هنالك تترك السنة وتظهر البدعة وتعظم الفتنة وليس لأحد على ذلك صلاح.
'ইমাম বায়হাকী রহ. ইবনে ইসহাক রহ. এর রেওয়ায়েত বর্ণনা করেন, আবু বকর সিদ্দীক রাযি. (ছাকিফায়ে বনী সায়িদাহর দিন) এও বলেছেন যে, এটা তো কোনোভাবেই উচিৎ নয় যে, মুসলমানদের 'আমীর' দুইজন হবে। কারণ এমনটি হলে, বিচার-আচার লেনদেনে মতোবিরোধ হবে। মুসলমানদের ঐক্যে বিচ্ছিন্নতা সৃষ্টি হবে। এবং তাদের মাঝে ঝগড়া-ফাসাদ হবে। আর তখন সুন্নত বর্জন করা হবে। বেদআত প্রকাশ পাবে। শুধু তাই নয়; ফিত্না বিরাট আকার ধারণ করবে। এ অবস্থা কারো জন্যই কল্যাণকর নয়।
টিকাঃ
৭৮. হায়াতুস সাহাবা: ২/১
📄 শাসকদের ভুল সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ না করা
عن معاوية بن أبي سفيان أنه صعد المنبر يوم القيامة فقال عند خطبته: إنما المال مالنا والفيء فيئنا فمن شئنا أعطيناه ومن شئنا منعناه فلم يجبه أحد فلما كان الجمعة الثانية قال مثل ذلك فلم يجبه أحد فلما كان الجمعة الثالثة قال مثل مقالته فقام إليه رجل ممن حضر المسجد فقال : كلا إنما المال مالنا والفيء فيئنا فمن حال بيننا وبينه حاكمناه إلى الله بأسيافنا فنزل معاوية فأرسل إلى الرجل فأدخله فقال القوم: هلك الرجل ثم دخل الناس فوجدوا الرجل معه على السرير فقال معاوية للناس : إن هذا الرجل أحياني أحياه الله سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول : ( سيكون أئمة من بعدي يقولون ولا يرد عليهم يتقاسمون في النار كما تتقاحم القردة وإني تكلمت أول جمعة فلم يرد علي أحد فخشيت أن أكون منهم ثم تكلمت في الجمعة الثانية فلم يرد علي أحد فقلت في نفسي إني من القوم ثم تكلمت في الجمعة الثالثة فقام هذا الرجل فرد علي فأحياني أحياه الله.
'হযরত আমীরে মুআবিয়া রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি 'কামামার দিন' মিম্বরে তাশরিফ নিয়ে যান এবং খুতবার মাঝে বলেন, সম্পদ আমাদের, 'ফাই' (সন্ধিসূত্রে প্রাপ্ত সম্পদ) আমাদের। সুতরাং যাকে ইচ্ছা দিব আর যাকে ইচ্ছা দিব না। এজন্য কারো নিকট আমাদের কোনো জবাবদিহিতা নেই। পরবর্তী জুমআয়ও অনুরূপ ঘোষণা করেন। ওই সময়ও কেউ প্রতিবাদ করেনি। তারপর তৃতীয় জুমআয়ও অনুরূপ ঘোষণা করেন। তখন উপস্থিত মুসল্লিদের একজন দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করেন এবং বলেন, কখনো এমন হতে পারে না! আমাদের সম্পদ আমাদের, আমাদের 'ফাই' আমাদের। সুতরাং এর মাঝে যে কেউ বাঁধা সৃষ্টি করবে তারবারীই হবে চূড়ান্ত ফয়সালাকারী। হযরত মুআবিয়া রাযি. মিম্বর থেকে নেমে এলেন। জুমআর নামাজের পর ওই মুসল্লিকে নিজ কামরায় ডেকে পাঠান। লোকেরা পরস্পরে বলাবলি করতে লাগল-আজতো নির্ঘাত তার মৃত্যু! তারপর অন্যান্য লোকেরা হযরত আমীরে মুআবিয়া রাযি. এর খেদমতে উপস্থিত হয়ে দেখেন, ওই লোক হযরত মুআবিয়া রাযি. এর সঙ্গে খাটে বসে আছেন। হযরত মুআবিয়া রাযি. তখন বলেন, সে তো আমাকে মৃত্যু থেকে বাঁচালো। আল্লাহ তাআলা তাকে দীর্ঘ হায়াত দান করুক। আমি নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, আমার পর কিছু শাসক উল্টা-পাল্টা বলবে। তবে কারো সাহস হবে না তাদের ভুল ধরার।- তারা সবাই জাহান্নামে প্রবেশ করবে যেভাবে বানর গর্তে প্রবেশ করে। হযরত মুআবিয়া রাযি. বলেন, আমি (পরীক্ষামূলক) প্রথম জুমআয় এমনটি বলেছি; কিন্তু কেউ আমার ভুল ধরেনি। আমার আশংকা হল-না জানি আমিও ওই সকল শাসকদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাই। তারপর দ্বিতীয় জুমআয়ও এমনটি বলেছি। কেউ আমাকে ভুল ধরেনি। তখন আমি নিশ্চিত হলাম যে, আমিও ওই দলের অন্তর্ভুক্ত। তারপর তৃতীয় জুমআয়ও ওই কথাই বলি। তখন এই লোকটি দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করে। সুতরাং সে আমাকে বাঁচিয়েছে। আমিও দুআ করি আল্লাহ তাআলা তাকে বাঁচিয়ে রাখুক।'
টিকাঃ
৭৯. হায়াতুস সাহাবা: ২/৬৮