📄 ফিত্নায় আক্রান্ত অন্তর
عن حذيفة سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: تعرض الفتن على القلوب كالحصير عوداً عوداً فأي قلب أشربها نكت فيه نكتة سوداء وأي قلب أنكرها نكت فيه نكتة بيضاء حتى تصير على قلبين على أبيض مثل الصفا فلا تضره فتنة ما دامت السماوات والأرض والآخر أسود مرباداً كالكوز مجخياً لا يعرف معروفاً ولا ينكر منكراً إلا ما أشرب من هواه.
'হযরত হুযাইফা রাযি. বলেন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, মানুষের অন্তরে ফিত্নাসমূহ এমনভাবে প্রবেশ করবে যেমনি চাটাইয়ের তৃণআঁশ একটির মধ্যে আরেটি প্রভিষ্ট করে বিছানো হয়। অতএব যে অন্তরে ফিত্না প্রবেশ করে (প্রত্যেক ফিত্নার পরিবর্তে) তাতে একটি কালো দাগ পড়ে। আর যে অন্তর তাকে প্রত্যাখ্যান করে (প্রত্যেক ফিত্না প্রত্যাখ্যান করার বিনিময়ে) তাতে একটি সাদা রেখা পড়ে। ফলে মানুষের অন্তরসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক প্রকার অন্তর হল মর্মর পাথরের মতো শ্বেত-শুভ্র যাকে আসমান-জমিন বহাল থাকা পর্যন্ত (অর্থাৎ কেয়ামত পর্যন্ত) কোনো ফিত্নাই ক্ষতি করতে পারবে না। দ্বিতীয় প্রকার অন্তর হল কয়লার মতো, যা কৃষ্ণকালো যেন উপুর হওয়া পাত্র। যাতে কিছুই ধারণ করার ক্ষমতা থাকে না। তা ভালোকে ভালো ও মন্দকে মন্দ জানার ক্ষমতা রাখেনা। ফলে কেবল তা ই গ্রহণ করে যা প্রবৃত্তির চাহিদামতো হয়। '
টিকাঃ
৭৩. সহীহ মুসলিম:১/৮২
📄 আমানত বিদায় নেবে
عن حذيفة رضي الله عنه قال : حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثين رأيت أحدهما وأنا أنتظر الآخر : حدثنا :» إن الأمانة نزلت في جذر قلوب الرجال ثم علموا من القرآن ثم علموا من السنة " . وحدثنا عن رفعها قال : ينام الرجل النومة فتقبض الأمانة من قلبه أثرها مثل أثر الوكت ثم ينام النومة فتقبض فيبقى أثرها مثل أثر المجل كجمر دحرجته على رجلك فنفط فتراه منتبرا وليس فيه شيء ويصبح الناس يتبايعون ولا يكاد أحد يؤدي الأمانة فيقال : إن في بني فلان رجلا أمينا ويقال للرجل : ما أعقله وما أظرفه وما أجلده وما في قلبه مثقال حبة من خردل من إيمان .
‘হযরত হুযাইফা রাযি. বর্ণনা করেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইটি হাদিস বর্ণনা করেন। একটির বাস্তবতা তো আমি নিজ চোখে দেখেছি। আর অপরটির অপেক্ষায় আছি। এক. নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমানত মানুষের অন্তরের গভীরে অবতীর্ণ হয়। অতঃপর তারা কুরআন শিক্ষা গ্রহণ করে তারপর সুন্নাহ শিখে। দুই. আমানত উঠে যাওয়ার ব্যাপারে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একসময় মানুষ নিদ্রা যাবে, এমতাবস্থায় তার অন্তর থেকে আমানত উঠিয়ে নেয়া হবে। তখন শুধু কালো দাগের ন্যায় একটি সাধারণ চিহ্ন বাকি থাকবে। অতঃপর মানুষ আবার নিদ্রা যাবে তখন আমানতের বাকি অংশটুকুও উঠিয়ে নেয়া হবে। ফলে ফোসকাসদৃশ চিহ্ন বাকি থাকবে যেমন জলন্ত অঙ্গার। তা তুমি নিজের পায়ের উপর রেখে রোমন্থন করলে সেখানটায় স্ফীত হয়। এটি স্ফীত দেখাবে, তবে তার ভেতর কিছুই নেই। সারাদিন মানুষ ক্রয়-বিক্রয় করবে, তবে কাউকে আমানত রক্ষাকারী পাবে না। তখন বলা হবে, অমুক গোত্রে একজন আমানতদার লোক আছে। আর কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে বলা হবে, সে কতই না বুদ্ধিমান! সে কতই না চতুর! সে কতই না নির্ভীক! (সে এমন, সে তেমন) অথচ তার অন্তরে সরিষান দানা পরিমাণও ঈমান নেই।‘
টিকাঃ
৭৪. মিশকাত শরীফ: ৪৬১, বুখারী শরীফ: ২/১০৪৯
📄 মানুষের লেবাসে শয়তান
عن حذيفة رضي الله عنه قال : كان الناس يسألون رسول الله صلى الله عليه وسلم عن الخير وكنت أسأله عن الشر مخافة أن يدركني قال : قلت : يا رسول الله إنا كنا في جاهلية وشر فجاءنا الله بهذا الخير فهل بعد هذا الخير من شر ؟ قال : « نعم « قلت : وهل بعد ذلك الشر من خير ؟ قال : « نعم وفيه دخن « . قلت : وما دخنه ؟ قال : « قوم يستنون بغير سنتي ويهدون بغير هديي تعرف منهم وتنكر « . قلت : فهل بعد ذلك الخير من شر ؟ قال : « نعم دعاة على أبواب جهنم من أجابهم إليها قذفوه فيها » . قلت : يا رسول الله صفهم لنا . قال : « هم من جلدتنا ويتكلمون بألسنتنا « . قلت : فما تأمرني إن أدركني ذلك ؟ قال : « تلزم جماعة المسلمين وإمامهم « . قلت : فإن لم يكن لهم جماعة ولا إمام ؟ قال : « فاعتزل تلك الفرق كلها ولو أن تعض بأصل شجرة حتى يدركك الموت وأنت على ذلك.
'হযরত হুযাইফা রাযি. বলেন, লোকেরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে কল্যাণ সম্পর্কে প্রশ্ন করতো আর আমি অকল্যাণবিষয়ে জিজ্ঞাসা করতাম। এই ভয়ে যে, আমি যেন তাতে আক্রান্ত না হয়ে যাই। হুযাইফা রাযি. বলেন, আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা একসময় মূর্খতা ও মন্দের মাঝে নিমজ্জিত ছিলাম। অতঃপর আল্লাহ তাআলা আমাদেরকে এই কল্যাণ (অর্থাৎ দীন ইসলাম) দান করেছেন। তাহলে কি এই কল্যাণের পর পুনরায় অকল্যাণ আসবে? তিনি বলেন, হ্যাঁ আসবে। আমি বললাম, তার পরে কি কল্যাণ আসবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ আসবে। তবে তা হবে ধোঁয়াযুক্ত। আমি জিজ্ঞেস করলাম, সেই ধোঁয়া কী প্রকৃতির? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মানুষ আমার সুন্নত বর্জন করে অন্য তরীকা গ্রহণ করবে এবং আমার পথ ছেড়ে মানুষকে অন্য পথে পরিচালিত করবে। তখন তুমি তাদের মাঝে ভালো কাজও দেখতে পাবে এবং মন্দ কাজও দেখতে পাবে। আমি জিজ্ঞাসা করলাম, সেই কল্যাণের পরও কি অকল্যাণ আসবে? তিনি বলেন, হ্যাঁ! জাহান্নামের দরোজায় দাঁড়িয়ে কতিপয় আহ্বানকারী মানুষকে সেই দিকে আহ্বান করবে। যারা তাদের আহ্বানে সাড়া দিবে তাদেরকে তারা জাহান্নামে নিক্ষেপ করে ছাড়বে। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! তাদের পরিচয় যদি জানাতেন! রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, তারা আমাদের মতোই মানুষ। এবং আমাদের ভাষায়ই কথা বলবে। আমি বললাম, আমি সেই অবস্থায় উপনিত হলে আমাকে কি নির্দেশ দিতেন? রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, মুসলমানদের জামাত ও তাদের ইমামকে আঁকড়ে ধরবে। আমি বললাম, সে সময় যদি কোনো মুসলিম জামাত ও মুসলিম ইমাম না থাকে? তিনি বললেন, তাহলে তুমি বিচ্ছিন্ন সেসব দলকে পরিহার করবে, এতে যদি তোমাকে গাছের শিকড়ের আশ্রয়ও নিতে হয় তবে তা-ই করবে! এবং তুমি এই নির্জন একাকি অবস্থায়ই মৃত্যু পর্যন্ত কাটাবে। '
وفي رواية لمسلم : قال : يكون بعدي أئمة لا يهتدون بهداي ولا يستنون بسنتي وسيقوم فيهم رجال قلوبهم قلوب الشياطين في جثمان إنس . قال حذيفة : قلت : كيف أصنع يا رسول الله إن أدركت ذلك ؟ قال : تسمع وتطيع الأمير وإن ضرب ظهرك وأخذ مالك فاسمع وأطع.
'আর মুসলিম শরীফের এক বর্ণনায় এসেছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, আমার পরে এমন এমন ইমাম ও বাদশাহর আবির্ভাব ঘটবে যারা আমার নির্দেশিত পথে চলবে না এবং আমার সুন্নাহকে আমলে নিবে না। আবার তাদের মাঝেও এমন কিছু লোকের আবির্ভাব ঘটবে যারা গায়ে-গঠনে এবং চেহারা-সুরতে মানুষই হবে; তবে তাদের অন্তরসমূহ হবে শয়তানের মতো। হযরত হুযাইফা রাযি. বলেন, আমি আরজ করলাম, হে আল্লাহর রাসূল! যদি আমি সেই অবস্থার সম্মুখিন হই তাহলে আমার কী করণীয়? তিনি বললেন, তোমার আমীর (বৈধ বিষয়ে) যা বলবেন তা মানবে এবং তার আনুগত্য করবে। যদিও তোমার পৃষ্ঠে আঘাত করা হয় এবং তোমার মাল-সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়। তবুও তার নির্দেশ মানবে এবং তার আনুগত্য করবে।’
টিকাঃ
৭৫. মিশকাত শরীফ:৪৬১, বুখারী শরীফ: ২/১০৪৯
৭৬. মিশকাত শরীফ: ৪৬২
📄 বদ আমলের ফল
عن زياد بن لبيد قال : ذكر رسول الله صلى الله عليه وسلم شيئا فقال : ) وذاك عند أوان ذهاب العلم ، قال : قلت : يا رسول الله! كيف يذهب العلم ونحن نقرأ القرآن ونقرئه أبناءنا ويقرئه أبناؤنا أبناءهم إلى يوم القيامة ؟ قال : « ثكلتك أمك زياد ، إن كنت لاراك من أفقه رجل بالمدينة، أو ليس هذه اليهود والنصاري يقرأون التوراة والانجيل ، لا يعملون بشئ مما فيهما».
'হযরত যিয়াদ বিন লাবিদ রাযি. বলেন, একবার নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ভয়াবহ কোনো বিষয়ের আলোচনা করতে গিয়ে বলেন, এটা ইলম উঠে যাওয়ার সময় সংঘটিত হবে। তখন আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসূল! ইলম কিভাবে উঠে যাবে, অথচ আমরা নিজেরা কুরআন শিখছি এবং আমাদের সন্তানদেরও শিক্ষা দিচ্ছি। অতঃপর আমাদের সন্তানরা কেয়ামত পর্যন্ত এই ধারাবাহিকতা বহাল রাখবে। তখন নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, যিয়াদ! তোমার জননী তোমাকে হারাক! (তুমি মরে যাও) আমিতো তোমাকে মদিনার একজন জ্ঞানী মনে করতাম। (তবে আশ্চর্যের বিষয় তুমি এতটুকুও বুঝো না? আখের, ইলম উঠে যাওয়ার ব্যাপারে আশ্চর্যের কী আছে?) ইহুদী-খ্রিষ্টানরাও তো তাওরাত, ইনজিল পড়েছে; কিন্তু তারা তার উপর আমল করে না। (এই বদ আমলের কারণেই এ উম্মতও অহীর বরকত থেকে বঞ্চিত হবে'
টিকাঃ
৭৭. মিশকাত শরীফ: ৩৮