📘 হাদিসের দর্পনে একালের চিত্র > 📄 বিরামহীন ফিৎনা

📄 বিরামহীন ফিৎনা


عن عبد الله بن عمرو رضي الله عنهما قال: كنا مع رسول الله صلى الله عليه وسلم في سفر فنزلنا منزلا فمنا من يصلح خباءه ومنا من ينتضل ومنا من هو في حشره إذ ناى منادى رسول الله صلى الله عليه وسلم الصلاة جامعة فاجتمعنا إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال انه لم يكن نبي قبلي الا كان حقا عليه ان يدل امته على خير ما يعلمه لهم وينذرهم شر ما يعلمه لهم وان امتكم هذه جعل عافيتها في اولها وسيصيب آخرها بلاء وامور تنكرونها وتجئ فتنة فيرقق بعضها بعضا وتجئ الفتنة فيقول المؤمن هذه مهلكتي ثم تنكشف وتجئ الفتنة فيقول المؤمن هذه هذه فمن احب ان يزحزح عن النار ويدخل الجنة فلتأته منيته وهو يؤمن بالله واليوم الآخر وليأت إلى الناس الذي يحب ان يؤتى إليه ومن بايع اماما فاعطاه صفقة يده وثمرة قلبه فليطعه ان استطاع.
'হযরত আব্দুল্লাহ বিন আমর রাযি. থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, আমরা এক সফরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সঙ্গে ছিলাম। আমরা এক স্থানে গিয়ে ছাউনি ফেলি। আমাদের কেউ তাবু টানাচ্ছিল আর কেউ তীরন্দাজির অনুশীলন করছিল। এমন সময় হঠাৎ নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের মুয়াজ্জিন ঘোষণা করল, নামাজের জন্য প্রস্তুত হও! আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের খেদমতে হাজির হলাম। নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম খুতবায় ইরশাদ করলেন, হে লোক সকল! আমার পূর্বে যেসকল নবী-রাসূল অতীত হয়েছেন তাদের দায়িত্ব ছিল নিজেদের উম্মতদেরকে যা মঙ্গল মনে করতেন বলে দেয়া এবং সে বিষয়ে সর্তক করা যেগুলো তাদের জন্য ক্ষতিকর মনে করতেন। সাবধান! শুনে রাখো! এই উম্মাহর প্রথম অংশ নিরাপদ থ াকবে আর অচিরেই শেষ ভাগে মসিবত ও ফিত্না বিরামহীন আসতেই থাকবে। এক ফিত্না আসবে তখন মুমিন বলবে, এটা আমাকে ধ্বংস করে দেবে। তারপর সেই ফিত্না শেষ হয়ে যাবে। এভাবে দ্বিতীয় ফিত্না আসবে। আর প্রত্যেক ফিত্নার ক্ষেত্রেই মুমিন ব্যক্তির এই আশংকা হবে যে, তা তাকে ধ্বংস করে দিবে। সুতরাং যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেতে চায় এবং জান্নাতে প্রবেশ করতে চায় তার উচিৎ আল্লাহ তাআলার ওপর ঈমান এবং পরকালে বিশ্বাস রাখা। মানুষের সঙ্গে এমন আচরণ করা যা সে নিজের জন্য পছন্দ করে। যে ব্যক্তি কোনো ঈমামের হাতে বাইয়াতবদ্ধ হবে এবং তাঁর আনুগত্যের প্রতিশ্রুতি দিবে- তার উচিৎ যথাসম্ভব তাঁর আনুগত্য করা। '

টিকাঃ
৭১. সহীহ মুসলিম:২/১২৬, নাসাঈ:২/১৪৮. ইবনে মাজাহ: ২৪৮, মুসনাদে আহমদ:২/১৯১

📘 হাদিসের দর্পনে একালের চিত্র > 📄 আল্লাহর জমিন সংকীর্ণ হয়ে যাবে

📄 আল্লাহর জমিন সংকীর্ণ হয়ে যাবে


عن ابي هريرة رضي الله عنه قال: قَالَ نَبِيُّ اللهِ صَلَّى الله عَلَيه وسَلَّم : يَنْزَلُ بِأُمَّتِي فِي آخِرِ الزَّمَانِ بَلاءُ شَدِيدٌ مِنْ سُلْطَانِهِمْ لَمْ يُسْمَعْ بَلاءُ أَشَدُّ مِنْهُ حَتَّى تَضِيقَ عَلَيْهِمُ الأَرْضُ الرَّحْبَةُ ، وَحَتَّى تُمْلأُ الْأَرْضُ جَوْرًا وَظُلْمًا ، لَا يَجِدُ الْمُؤْمِنُ مَلْجَأَ يَلْتَجِيُّ إِلَيْهِ مِنَ الظُّلْمِ ، فَيَبْعَثُ اللَّهُ عَزَّ وَجَلَّ رَجُلاً مِنْ عِتْرَتِي ، فَيَمْلأُ الأَرْضَ قِسْطًا وَعَدْلاً كَمَا مُلِئَتْ ظُلْمًا وَجَوْرًا ، يَرْضَى عَنْهُ سَاكِنُ السَّمَاءِ وَسَاكِنُ الْأَرْضِ ، لَا تَدَّخِرُ الْأَرْضُ مِنْ بَدْرِهَا شَيْئًا إِلَّا أَخْرَجَتْهُ ، وَلَا السَّمَاءُ مِنْ قَطْرِهَا إِلَّا صَبَّهُ اللَّهُ عَلَيْهِمْ مِدْرَارًا ، يَعِيشُ فِيهِمْ سَبْعًا ، أَوْ ثَمَانٍ ، أَوْ تِسْعًا.
'হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, শেষ যমানায় আমার উম্মতের ওপর শাসকবর্গের পক্ষ থেকে এমন বিপদ-মসিবত আসবে যে, তাদের জন্য আল্লাহর জমিন সংকীর্ণ হয়ে যাবে। ঐ সময় আমার বংশের এক ব্যক্তি (মাহদী আ.) কে আল্লাহ তাআলা প্রেরণ করবেন। তিনি জমিনে এমনভাবে ন্যায়-ইনসাফের শাসন প্রতিষ্ঠা করবেন যেভাবে ইতোপূর্বে অন্যায় ও জুলুমের শাসন কায়েম ছিল। ফলে জমিনের বাসিন্দারাও খুশি হবে এবং আসমানের অধিবাসীরাও খুশি হবে। তাঁর শাসনকালে জমিনে প্রচুর পরিমাণে শস্য উৎপন্ন হবে। আসমান থেকে বৃষ্টি বর্ষিত হবে। তিনি তাদের মাঝ সাত বা আট অথবা নয় বৎসর অবস্থান করবেন। '

টিকাঃ
৭২. দুররে মানছুর:৬/৫৮

📘 হাদিসের দর্পনে একালের চিত্র > 📄 ফিত্নায় আক্রান্ত অন্তর

📄 ফিত্নায় আক্রান্ত অন্তর


عن حذيفة سمعت رسول الله صلى الله عليه وسلم يقول: تعرض الفتن على القلوب كالحصير عوداً عوداً فأي قلب أشربها نكت فيه نكتة سوداء وأي قلب أنكرها نكت فيه نكتة بيضاء حتى تصير على قلبين على أبيض مثل الصفا فلا تضره فتنة ما دامت السماوات والأرض والآخر أسود مرباداً كالكوز مجخياً لا يعرف معروفاً ولا ينكر منكراً إلا ما أشرب من هواه.
'হযরত হুযাইফা রাযি. বলেন আমি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে বলতে শুনেছি, মানুষের অন্তরে ফিত্নাসমূহ এমনভাবে প্রবেশ করবে যেমনি চাটাইয়ের তৃণআঁশ একটির মধ্যে আরেটি প্রভিষ্ট করে বিছানো হয়। অতএব যে অন্তরে ফিত্না প্রবেশ করে (প্রত্যেক ফিত্নার পরিবর্তে) তাতে একটি কালো দাগ পড়ে। আর যে অন্তর তাকে প্রত্যাখ্যান করে (প্রত্যেক ফিত্না প্রত্যাখ্যান করার বিনিময়ে) তাতে একটি সাদা রেখা পড়ে। ফলে মানুষের অন্তরসমূহ দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে। এক প্রকার অন্তর হল মর্মর পাথরের মতো শ্বেত-শুভ্র যাকে আসমান-জমিন বহাল থাকা পর্যন্ত (অর্থাৎ কেয়ামত পর্যন্ত) কোনো ফিত্নাই ক্ষতি করতে পারবে না। দ্বিতীয় প্রকার অন্তর হল কয়লার মতো, যা কৃষ্ণকালো যেন উপুর হওয়া পাত্র। যাতে কিছুই ধারণ করার ক্ষমতা থাকে না। তা ভালোকে ভালো ও মন্দকে মন্দ জানার ক্ষমতা রাখেনা। ফলে কেবল তা ই গ্রহণ করে যা প্রবৃত্তির চাহিদামতো হয়। '

টিকাঃ
৭৩. সহীহ মুসলিম:১/৮২

📘 হাদিসের দর্পনে একালের চিত্র > 📄 আমানত বিদায় নেবে

📄 আমানত বিদায় নেবে


عن حذيفة رضي الله عنه قال : حدثنا رسول الله صلى الله عليه وسلم حديثين رأيت أحدهما وأنا أنتظر الآخر : حدثنا :» إن الأمانة نزلت في جذر قلوب الرجال ثم علموا من القرآن ثم علموا من السنة " . وحدثنا عن رفعها قال : ينام الرجل النومة فتقبض الأمانة من قلبه أثرها مثل أثر الوكت ثم ينام النومة فتقبض فيبقى أثرها مثل أثر المجل كجمر دحرجته على رجلك فنفط فتراه منتبرا وليس فيه شيء ويصبح الناس يتبايعون ولا يكاد أحد يؤدي الأمانة فيقال : إن في بني فلان رجلا أمينا ويقال للرجل : ما أعقله وما أظرفه وما أجلده وما في قلبه مثقال حبة من خردل من إيمان .
‘হযরত হুযাইফা রাযি. বর্ণনা করেন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দুইটি হাদিস বর্ণনা করেন। একটির বাস্তবতা তো আমি নিজ চোখে দেখেছি। আর অপরটির অপেক্ষায় আছি। এক. নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আমানত মানুষের অন্তরের গভীরে অবতীর্ণ হয়। অতঃপর তারা কুরআন শিক্ষা গ্রহণ করে তারপর সুন্নাহ শিখে। দুই. আমানত উঠে যাওয়ার ব্যাপারে নবীজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, একসময় মানুষ নিদ্রা যাবে, এমতাবস্থায় তার অন্তর থেকে আমানত উঠিয়ে নেয়া হবে। তখন শুধু কালো দাগের ন্যায় একটি সাধারণ চিহ্ন বাকি থাকবে। অতঃপর মানুষ আবার নিদ্রা যাবে তখন আমানতের বাকি অংশটুকুও উঠিয়ে নেয়া হবে। ফলে ফোসকাসদৃশ চিহ্ন বাকি থাকবে যেমন জলন্ত অঙ্গার। তা তুমি নিজের পায়ের উপর রেখে রোমন্থন করলে সেখানটায় স্ফীত হয়। এটি স্ফীত দেখাবে, তবে তার ভেতর কিছুই নেই। সারাদিন মানুষ ক্রয়-বিক্রয় করবে, তবে কাউকে আমানত রক্ষাকারী পাবে না। তখন বলা হবে, অমুক গোত্রে একজন আমানতদার লোক আছে। আর কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে বলা হবে, সে কতই না বুদ্ধিমান! সে কতই না চতুর! সে কতই না নির্ভীক! (সে এমন, সে তেমন) অথচ তার অন্তরে সরিষান দানা পরিমাণও ঈমান নেই।‘

টিকাঃ
৭৪. মিশকাত শরীফ: ৪৬১, বুখারী শরীফ: ২/১০৪৯

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00