📄 মসজিদে বসে অহংকার করা
عن أنس قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تقوم الساعة حتى يتباهى الناس في المساجد.
'হযরত আনাস বিন মালেক রাযি. থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ততক্ষন পর্যন্ত কেয়ামত কয়েম হবে না যতক্ষন পর্যন্ত লোকেরা মসজিদে (মসজিদে বসে বা মসজিদ নিয়ে) অহংকার না করবে। '
টিকাঃ
১৩. ইবনে মাজাহ:৫৪, নাসাঈ-১/১১২
📄 দুটি জাহান্নামি দল
عنْ أَبِي هُرَيْرَةَ ، قَالَ : قَالَ رَسُولُ اللهِ صلى الله عليه وسلم : صِنْفَانِ مِنْ أَهْلِ النَّارِ لَمْ أَرَهُمَا ، قَوْمٌ مَعَهُمْ سِيَاطٌ كَأَذْنَابِ الْبَقَرِ يَضْرِبُونَ بِهَا النَّاسَ ، وَنِسَاءُ كَاسِيَاتٌ عَارِيَاتُ مَائِلَاتٌ مُمِيلاتُ رُؤُوسُهُنَّ كَأَمْثَالِ أَسْنِمَةِ الْبُخْتِ الْمَائِلَةِ ، لَا يَدْخُلْنَ الْجَنَّةَ وَلا يَجِدْنَ رِيحَهَا، وَإِنَّ رِيحَهَا لَتُوجَدُ مِنْ كَذَا وَكَذَا.
'হযরত আবু হুরায়রা রাযি. থেকে বর্ণিত নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, দুটি জাহান্নামি দল এমন যাদেরকে আমি দেখিনি। (পরবর্তী সময়ে আত্মপ্রকাশ করবে।) একদলের হাতে ষাড়ের লেজ সদৃশ চাবুক থাকবে। যা দ্বারা তারা মানুষকে অন্যায়ভাবে প্রহার করবে। আরেকদল এমন নারীদের যারা নামে মাত্র পোশাক পরিধান করবে (যেহেতু পোশাক খুব পাতলা বা সতর ঢাকতে যথেষ্ট নয় এজন্য) বাস্তবে তারা উলঙ্গ। (লোকদের দেহের প্রদর্শনী এবং পোশাকের ফ্যাশন দ্বারা নিজের প্রতি) আকৃষ্ট কারী। (নিজেও পুরুষের সঙ্গে মেলামেশার প্রতি) ধাবিত। তাদের মাথা (ফ্যাশনের কারনে) বুখতি উটের পিঠের কুঁজের মতো। এমন নারী না জান্নাতে প্রবেশ করবে, না জান্নাতের খোশবু তাদের কপালে জুটবে। অথচ জান্নাতের খোশবু দূর দূর থেকেও পাওয়া যাবে।
টিকাঃ
১৪. সহীহ মুসলিম: ২/২০৫
📄 মুসলিম বিশ্বের পতন ও তার কারণ
عن ثوبان قال: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم " يوشك الأمم أن تداعى عليكم كما تداعى الأكلة إلى قصعتها « فقال قائل ومن قلة نحن يومئذ ؟ قال « بل أنتم يومئذ كثير ولكنكم غثاء ( ما يحمله السيل من وسخ ) كغثاء السيل ولينزعن الله من صدور عدوكم المهابة منكم وليقذفن الله في قلوبكم الوهن « فقال قائل يارسول الله وما الوهن ؟ قال « حب الدنيا وكراهية الموت.»
'হযরত ছাওবান রাযি. থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, সে সময় অতি নিকটে যখন কাফেররা তোমাদের নিঃশেষ করে দেয়ার জন্যে (সম্মিলিতভাবে ষড়যন্ত্র করবে) এবং একে অপরকে এমনভাবে আহ্বান করবে যেভাবে দস্তারখানে সুস্বাদু খানার প্রতি একে অপরকে আহ্বান করা হয়।
কেউ আরজ করল, হে আল্লাহর রাসূল! আমরা সংখ্যায় কম হওয়ার কারণে এ অবস্থা হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, না; বরং তোমরা ঐ সময়ে সংখ্যায় অনেক হবে। তবে তোমরা স্রোতের আবর্জনার মতো অকাজের হবে। আর তোমাদের শত্রুর অন্তর থেকে তোমাদের ভয়-ভীতি দূর করে দেবেন এবং তোমাদের অন্তরে ঢেলে দেবেন কাপুরুষতা। কেউ আরজ করল, হে আল্লাহর রাসূল! কাপুরুষতা দ্বারা কী উদ্দেশ্য? নবী স. ইরশাদ করেন, দুনিয়ার মুহাব্বত এবং মৃত্যুর ভয়ই হলো কাপুরুষতা।'
টিকাঃ
১৫. আবু দাউদ: ৫৯০
📄 অযোগ্য উম্মত
عن عبدالله بن مسعود أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال ما من نبي بعثه الله في أمة قبلي إلا كان له من أمته حواريون وأصحاب يأخذون بسنته ويقتدون بأمره ثم إنها تخلف من بعدهم خلوف يقولون مَا لَا يَفْعَلُونَ وَيَفْعَلُونَ مَا لَا يُؤْمَرُونَ فَمَنْ جَاهَدَهُمْ بِيَدِهِ فَهُوَ مُؤْمِنٌ وَلَيْسَ وَرَاءَ ذَلِكَ مِنَ الْإِيمَانِ حَبَّةُ خَرْدَلٍ.
'হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসউদ রাযি. থেকে বর্ণিত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ইরশাদ করেন, আমার পূর্বে যে নবীকেই আল্লাহ তাআলা তাঁর উম্মতের মাঝে পাঠিয়েছেন; নবীর জন্য সেই উম্মতের মাঝে কিছু খালেস-নিষ্ঠাবান সঙ্গী ছিল। যারা নবীর আদর্শের অনুসরণ-অনুকরণ করতো এবং তাঁর নির্দেশ যথাযথ পালন করতো। তারপর এমন একটি প্রজন্ম আসে তারা যা বলে তা করে না এবং যা আদেশ করা হয় তার বিপরীত করে। (এমনিভাবে এই উম্মতের মাঝেও এমন একটি প্রজন্ম আসবে যারা ইসলামের নাম নিবে ঠিক; কিন্তু কাজ তার বিপরীত করবে।) সুতরাং যে ব্যক্তি (সক্ষমতার শর্তে) হাতের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে, সে মুমিন। জবানের মাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে জিহাদ করবে, সেও মুমিন। এবং যারা তাদের বিরুদ্ধে অন্তর দ্বারা জিহাদ করবে (অর্থাৎ তাদের মন্দকাজ কে অন্তত অন্তর দ্বারা ঘৃণা করে) সেও (দুর্বল) মুমিন। এস্তরের নিচে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমানও নেই।'
টিকাঃ
১৬. সহীহ মুসলিম শরীফ: ১/৫৬