📄 মুনকাতে (منقطع)
২) مُنْقَطِعُ (মুনকাতে): যে হাদীস এর সনদের মধ্যে কোন স্তরের কোন রাবীর নাম বাদ পড়েছে তাকে হাদীসে মুনকাতে বলে। আর এ বাদ পড়াকে বলা হয় ইনকিতা। এ হাদীস প্রধানত দুই প্রকার মুরসাল ও মুয়াল্লাক।
ক) مُرْسَلٌ (মুরসাল): مُرْسَلٌ এর আভিধানিক অর্থ মুক্ত করা ও ছেড়ে দেওয়া। মূলতঃ মুরসাল শব্দটি ইরসাল থেকে উদ্ভূত যার অর্থ
হল খুলে দেওয়া, ছেড়ে দেওয়া, মুক্ত করা এবং মুরসালের অর্থ হয় এই যে, মুক্ত, খোলা, পরিত্যক্ত, পরিত্যাজ্য ইত্যাদি। উসূলে হাদীসের পরিভাষায় মুরসাল বলা হয় ঐ সকল হাদীসসমূহকে যার সনদের শেষের দিকে তাবিঈ এর পরবর্তী পর্যায়ের সাহাবীর নাম বাদ পড়েছে। এরুপ করাকে ইরসাল বলা হয়। যেমন কোন তাবিঈ তার শায়খের নাম উল্লেখ না করে বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এমনটি করেছেন।
আল্লামা হাফিয বিন আসকালানী (রহঃ) বলেন, সনদের শেষ বর্ণনাকারী যদি বাদ পড়ে যায়, তথা তাবিঈর নাম যদি সনদ থেকে বাদ পড়ে তাহলে ঐ হাদীসটি মুরসাল হিসেবে গণ্য করা হবে। শায়খ আব্দুস সাত্তার আবু গুদ্দাহ সংজ্ঞায় বলেনঃ
ومرسل من فوق تابع سقط = وقل غريب ما روی راو فقط
"আর মুরসাল - তাবে'ঈর উপর থেকে যার রাবী বাদ পড়েছে। আর বল গরীব - যা শুধু একজন রাবী বর্ণনা করেছে"। এ সংজ্ঞানুসারে কোনো প্রশ্ন থাকে না, সাহাবীর সাথে তাবে'ঈ বাদ পড়ুক কিংবা সাহাবীর সনদ থেকে সাহাবী বাদ পড়ুক, সকল প্রকার তার অন্তর্ভুক্ত। অতএব নবী সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে সরাসরি তাবে'ঈর বর্ণিত হাদীস মুরসাল। হোক তা বাণী, কিংবা কর্ম
কিংবা সমর্থন কিংবা কোনো বিশেষণ। ইমাম নববী (রহঃ) বলেন,
ঐ হাদীস হল মুরসাল যা কোণ তাবিঈ, সাহাবীর মাধ্যম ছাড়া সরাসরি রাসূল পর্যন্ত সংবাদ দিয়েছেন।
উদাহরণঃ
وَحَدَّثَنِي أَبُو الطَّاهِرِ، وَحَرْمَلَةُ بْنُ يَحْيَى، - وَاللَّفْظُ لِحَرْمَلَةَ - قَالَا أَخْبَرَنَا ابْنُ وَهْبٍ أَخْبَرَنِي يُونُسُ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، أَخْبَرَنِي عَامِرُ بْنُ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصِ، أَنَّ أَبَا سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ قَالَ نَهَانَا رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم عَنْ بَيْعَتَيْنِ وَلِبْسَتَيْنِ نَهَى عَنِ الْمُلَامَسَةِ وَالْمُنَابَذَةِ فِي الْبَيْعِ وَالْمُلَامَسَةُ لَمْسُ الرَّجُلِ ثَوْبَ الْآخَرِ بِيَدِهِ بِاللَّيْلِ أَوْ بِالنَّهَارِ وَلَا يَقْلِبُهُ إِلَّا بِذَلِكَ وَالْمُنَابَدَّةُ أَنْ يَنْبِذُ الرَّجُلُ إِلَى الرَّجُلِ بِثَوْبِهِ وَيَنْبِذَ الْآخَرُ إِلَيْهِ ثَوْبَهُ وَيَكُونُ ذَلِكَ بَيْعَهُمَا مِنْ غَيْرِ نَظَرٍ وَلَا تَرَاضٍ
আবু সাঈদ খুদ্রী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম দু'প্রকার ক্রয়-বিক্রয় এবং দু'ধরনের কাপড় পরিধান করতে নিষেধ করেছেন। ক্রয়-বিক্রয়ের মধ্যে মোলামাসা ওমোনাবাযা করতে নিষেধ করেছেন। ... মোলামাসা হচ্ছে এই যে, এক ব্যক্তি (ক্রেতা) অপর ব্যক্তির (বিক্রেতার) কাপড় রাত্রে অথবা দিনের বেলায় নিজ হাতে স্পর্শ করা এবং তা ভালোভাবে উল্টে-পাল্টে না দেখা। আর মোনাবাযা হচ্ছে এই যে, এক ব্যক্তি অপর ব্যক্তির দিকে এবং অপর ব্যক্তি এই ব্যক্তির দিকে নিজ নিজ কাপড়
নিক্ষেপ করবে। এভাবে না দেখেই এবং পরস্পরের সম্মতি ব্যতিরেকেই ক্রয়-বিক্রয় উভয়ের জন্য বাধ্যতামূলক হয়ে যাবে।
وَحَدَّثَنِيهِ عَمْرُو النَّاقِدُ، حَدَّثَنَا يَعْقُوبُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ بْنِ سَعْدٍ، حَدَّثَنَا أَبِي، عَنْ صَالِحٍ، عَنِ ابْنِ شِهَابٍ، بِهَذَا الْإِسْنَادِ .
সহীহ মুসলিম :: খন্ড ১০ :: হাদীস ৩৬১৩, কিতাবুল বুয়ু (ব্যবসা-বানিজ্য) অধ্যায়¹⁶⁷। ইবনে শিহাব থেকে এই সনদ সূত্রে উপরের হাদীস বর্ণিত হয়েছে।
সুতরাং, উপরোক্ত হাদীসটি ইমাম মুসলিম তার সহীহ গ্রন্থে ক্রয়-বিক্রয় সংক্রান্ত অধ্যায় হাদীসটি উদ্ধৃত করেছেন। তিনি বলেন, আমাকে হাদীস বর্ণনা করেছেন মুহাম্মদ ইবন রাবী, তিনি বলেন, আমাদের নিকট হাদীস বর্ণনা করেছেন হুজাইন, তিনি লাইস, তিনি আকীল থেকে, তিনি ইবন শিহাব থেকে, তিনি সাঈদ ইবন মুসাইবি থেকে রিওয়ায়াত করে বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আমাদের মুযবানা পদ্বতিতে ক্রয়-বিক্রয় করতে নিষেধ করেছেন। এই হাদীসে সাঈদ ইবন মুসাইবি একজন প্রবীণ তাবিঈ। তিনি এখানে সাহাবীর নাম উল্লেখ না করে হাদীসটি বর্ণনা করেছেন। এটি একটি মুরসাল হাদীস। সুতরাং, যে হাদীসে সনদের ইনকিতা শেষের দিকে হয়েছে অর্থাৎ সাহাবায়ে কিরাম রাদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ওনাদের নাম
মুবারকই বাদ পড়েছে এবং স্বয়ং তাবিয়ী রহমতুল্লাহি আলাইহি তিনি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ওনার নাম মুবারক করে হাদীস বর্ণনা করেছেন তাকে হাদীসে মুরসাল বলে।
মুরসাল বর্ণনার কয়েকটি কারণঃ
১. কখনো রাবী একাধিক মুহাদ্দিস থেকে হাদীস শ্রবণ করেন, যাদের আদালত ও যবত সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত, এরূপ অবস্থায় তিনি শায়খদের উপর নির্ভর করে মুরসাল বর্ণনা করেন। যেমন ইবরাহিম নাখঈ (রহঃ) ইবন মাসউদ (রাঃ) থেকে এভাবে বর্ণনা করতেন।
২. কখনো রাবী নিজ শায়খের নাম ভুলে যান, কিন্তু হাদীস স্মরণ থাকে, ফলে তিনি মুরসাল বর্ণনা করেন।
৩. কখনো রাবী উপদেশ হিসেবে, বা বিতর্কের সময় বা ফতোয়ার ক্ষেত্রে বা ওয়াজের মজলিসে হাদীস বর্ণনা করেন, তাই সনদের প্রতি বিশেষ নজর দেন না, মতন স্পষ্ট বলেন, বিশেষ করে শ্রোতাদের সামনে বক্তার শায়খ নির্দিষ্ট থাকলে এরূপ করা হয়।
৪. কখনো দুর্বল রাবীর কারণে মুরসাল বর্ণনা করা হয়।
৫. ক্ষতির আশঙ্কা কিংবা হাদীস গ্রহণ করা হবে না ভেবে মুরসাল বর্ণনা করা হয়।
৬. কখনো রাবীর সন্দেহ হয় যে, হাদীসটি মুসনাদ না মুরসাল, এমতাবস্থায় মুসনাদ হলেও তিনি মুরসাল বলেন, যেমন ইমাম মালিক প্রমুখ থেকে এরূপ শ্রুতি রয়েছে।
৭. ইমাম মুসলিম বলেনঃ কখনো রাবী নিজের মধ্যে আগ্রহের অভাবে সনদবিহীন মতন উল্লেখ করেন, আবার যখন উদ্যমতা ফিরে পান শায়খকে স্পষ্ট বলে দেন।
মুরসাল হাদীসের প্রকারভেদঃ এই ধরনের হাদীস পাঁচ ধরনের হয়ে থাকে যা হলঃ
১। সাহাবা কর্তৃক ইরসাল
২। তাবিঈ কর্তৃক ইরসাল
৩। তাবী-তাবিঈ কর্তৃক ইরসাল
৪। তাবী-তাবিঈ পরবর্তী যুগ কর্তৃক ইরসাল
৫। সনদের ভিন্নতা
এখানে সকল প্রাকারের মুরসাল হাদীসের বর্ণনা নিম্নে উল্লেখ করা হলঃ
১। সাহাবা কর্তৃক ইরসালঃ এটি এই ধরনের ইরসাল যেখানে এক সাহাবা অন্য কোন সাহাবাদের থেকে হাদীসটি বর্ণনা করেছে। আর তারা হাদীসটিকে এমনভাবে বলেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরুপ বলেছেন অথবা এরুপ বলতে শুনেছি কিন্তু যেই সাহাবার কাছে থেকে বর্ণনা করেছেন তার নাম উল্লেখ করেন নাই। যেমন আবু হুরায়রা (রাঃ) হিজরীর ৬ষ্ঠ-৭ম সনে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিলেন। কিন্তু তিনি তার আগে হিজরতের ইতিহাস বর্ণনা করেছেন। হাফেয ইবন হাজার রাহিমাহুল্লাহ্ বলেনঃ "এ জাতীয় হাদীসগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে, তাতে দেখা গেছে যে, কোনো সাহাবী আহকাম সংক্রান্ত কোনো হাদীস দুর্বল তাবে'ঈ থেকে গ্রহণ করেননি"¹⁶⁸。
হুকুমঃ উক্ত হাদীস সার্বজনীনভাবে গ্রহণযোগ্য। কারণ শায়খ সাহাবী রাসূলুল্লহ (সাঃ) থেকে হাদীসটি শুনেছেন আর তাদেরকে সর্বোত্তম বলা হয়েছে।
২। তাবীঈ কর্তৃক ইরসালঃ এই হাদীস বর্ণনা করার সময় কোন তাবীঈ সাহাবীর নাম উল্লেখ করতে ভুলে গিয়েছেন। এর কারণ হল এই যে, হাদীসটি এতটা প্রসিদ্ধি লাভ করেছে এবং সেই সাহাবী এতটা জনপ্রিয় যে, তাই সাহাবার নাম আর উল্লেখ করতে প্রয়োজন হয় নাই। সেই তাবিঈ এই কথা এভাবে বলেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এরূপ বলেছেন অথবা এরূপ বলতে শুনেছি।
হুকুমঃ এই ধরনের মুরসাল হাদীস গ্রহণযোগ্য হবে কারণ তাবিঈগণ আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের নিকট অধিক মর্যাদাবান।
৩। তাবী-তাবীঈ কর্তৃক ইরসালঃ এখানে হাদীসটি সুপরিচিতি হওয়ার ফলে সাহাবী তাবীঈ এর নাম উল্লেখ করেন নাই।
হুকুমঃ এই ধরনের ইরসালের ব্যাপারে জুমহুর উলামাগণ নীরবতা অবলম্বন করেছেন। তবে যদি এটা জানা যায় যে, কোন নির্ভরযোগ্য রাবী থেকে তা বর্ণনা করেছে তাহলে তা গ্রহণযোগ্য হবে অন্যথায় তা হবে না।
৪। তাবী-তাবীঈ পরবর্তী যুগ কর্তৃক ইরসালঃ যদি এই ইরসাল তা তাবি বা তাবিঈ পরবর্তী যুগে কেউ করে থাকে। তারা হাদীসটিকে
এভাবে বলবে, রাসূলুয়ল্লাহ (সাঃ) এরূপ বলেছেন অথবা এরূপ বলতে শুনেছি।
হুকুমঃ এই হাদীসের বিশুদ্ধতা নিয়ে ইমামদের ভিতর মতবিরোধ দেখা দেয়। কারও মতে তা গ্রহণযোগ্য আবার কারও মতে তা গ্রহণযোগ্য নয়। যেমনঃ ইমাম আবুল হাসান কারখী (রহঃ) বলেন, বর্ণনাকারীর ইরসালের দ্বারা এটি প্রতীয়মান হয় যে, তিনি হাদীসটির সনদের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে নিশ্চিত।
৫। সনদের ভিন্নতাঃ যে হাদীসে এক সনদে মুরসাল আর অন্য সনদে তা মুসনাদ এমন হতে পারে। যেমনঃ রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, মেয়ের সম্মতি ছাড়া বিবাহ হয় না।
হুকুমঃ এই হাদীসের হুকুম হল তা গ্রহণযোগ্য হবে।
মুরসাল হাদীসের হুকুমঃ
ইমাম মুসলিম (রহঃ) বলেন: "আমাদের ও আহলে ইলমদের দৃষ্টিতে মুরসাল দলিল নয়"¹⁶⁹। ইমাম শাফেঈ¹⁷⁰ (রহঃ) কয়েকটি শর্তে
মুরসাল গ্রহণ করেছেন, তন্মধ্যে কতক রাবী ও কতক মতনের সাথে সম্পৃক্ত।
রাবীর সাথে সম্পৃক্ত তিনটি শর্তঃ
১. ইরসালকারী রাবির সেকাহ হওয়া।
২. রাবীর বড় তাবে'ঈ থেকে বর্ণনা করা।
৩. ইরসালকারী রাবির সেকাহ শায়খ থেকে গ্রহণ করা।
মতনের সাথে সম্পৃক্ত চারটি শর্তঃ
১. মুরসাল মতন অপর কোনো সহী সনদে বর্ণিত হওয়া।
২. মুরসাল মতন অপর তাবে'ঈ থেকে মুরসাল বর্ণিত হওয়া।
৩. মুরসাল মতনের স্বপক্ষে কোনো সাহাবীর বাণী থাকা।
৪. সাধারণ আলেমের ফতোয়া মুরসাল মোতাবেক হওয়া।
)খ( مُعَلِّق )মুয়াল্লাক( : মু'আল্লাক এর আভিধানিক অর্থ ঝুলন্ত। কোনো বস্তু উপর থেকে ঝুলে নিচ থেকে মাটি স্পর্শ না করলে 'মু'আল্লাক' বলা
হয়। যে হাদীস - এর সনদের ইনকিতা প্রথম দিকে হয়েছে অর্থাৎ সাহাবায়ে কিরাম রদ্বিয়াল্লাহু তায়ালা আনহুম ওনাদের পর এক বা একাধিক নাম বাদ পড়েছে তাকে 'মুয়াল্লাক' বলে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। মু'আল্লাকের সংজ্ঞা প্রসঙ্গে হাফেয ইবন হাজার রাহিমাহুল্লাহ্ বলেনঃ "সনদের শুরু থেকে এক বা একাধিক রাবিকে অনুল্লেখ করা হলে মু'আল্লাক বলা হয়, সকল রাবি অনুল্লেখ থাকলেও মু'আল্লাক"।
কোন কোন গ্রন্থকার কোন কোন হাদীস - এর পূর্ণ সনদকে বাদ দিয়ে কেবল মূল হাদীসটিকেই বর্ণনা করেছেন। এরূপ করাকে তা'লীক বলে। কখনও কখনও তা'লীক রূপে বর্ণিত হাদীসকেও তা'লীক বলে।
ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কিতাবে এরূপ বহু তা'লীক রয়েছে। কিন্তু অনুসন্ধানে দেখা গেছে যে, ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ওনার সমস্ত তা'লীকেরই মুত্তাসিল সনদ রয়েছে। অপর সংকলনকারী উনারা এই সমস্ত তা'লীক মুত্তাসিল সনদ সহকারে বর্ণনা করেছেন।
মু'আল্লাকের হুকুমঃ মু'আল্লাক একপ্রকার দুর্বল হাদীস।
টিকাঃ
¹⁶⁷ সহীহ মুসলিম :: খন্ড ১০ :: হাদীস ৩৬১৩, কিতাবুল বুয়ু (ব্যবসা-বানিজ্য) অধ্যায়
¹⁶⁸ জাওয়াহিরুস সুলাইমানিয়াহ: (২১৯)
¹⁶⁹ ইমাম নববির ব্যাখ্যা সম্বলিত মুসলিম: (১/১৩২)
¹⁷⁰ আর-রিসালাহ: (৪৬১-৪৭০), জাওয়াহিরুস সুলাইমানিয়া থেকে সংগৃহীত: (২২৩)
📄 মুদাল্লাস (مدلس)
)৩( مُدَلِّسٌ )মুদাল্লাস(: مُدَلِّسٌ শব্দটি تدليس থেকে গৃহীত, যার ধাতু دلسة অর্থ অন্ধকার। যে হাদীস এর রাবী নিজের প্রকৃত শায়খ (উস্তাদ) উনার নাম না করে উনার উপরস্থ শায়খ উনার নামে এভাবে হাদীস বর্ণনা করেছেন যাতে মনে হয় যে, তিনি নিজেই এটা উপরস্থ শায়খ উনার নিকট শুনেছেন অথচ তিনি নিজে এটা শুনেননি (বরং ওনার প্রকৃত উস্তাদ উনার নিকটই এটা শুনেছেন) সে হাদীসকে হাদীসে মুদাল্লাস বলে। এরূপ করাকে তাদলীস বলে। আর যিনি এরূপ করেছেন উনাকে মুদাল্লিস বলে। মুদাল্লিসের হাদীস গ্রহণযোগ্য নয়। যে পর্যন্ত না তিনি একমাত্র ছিকাহ রাবী হতেই তাল্লীস করেন বলে সাব্যস্ত হয় অথবা তিনি এটা আপন শায়খ উনার নিকট শুনেছেন বলে পরিস্কারভাবে বলে দেন।