📄 সুনান বা মুসানাফ
যে হাদীস গ্রন্থে হাদীসকে বিষয়বস্তু অনুসারে সাজানো হয়েছে সেখানে কেবলমাত্র তাহারাত, নামায, রোযা, প্রভৃতি আহকামের হাদীসসমূহ সংগ্রহের দিকেই বেশী নজর দেয়া হয়েছে তাকে 'সুনান' বলে। যেমন সুনানে আবু দাউদ, সুনানে ইবনে মাজাহ, সুনানে দারিমী, মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবাহ, মুসান্নাফে আব্দুর রাযযাক প্রভৃতি।
📄 মুসনাদ (مسند)
(مُسْنَدٌ) কর্মবাচক বিশেষ্য, অর্থ সম্পৃক্ত ও মিলিত বস্তু। إسناد ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য থেকে উদ্গত। إسناد الشيء إلى الشيء অর্থ এক বস্তুকে অপর বস্তুর সাথে সম্পৃক্ত করা। কেউ
বলেন: سند ধাতু থেকে مسند উদ্গত। سند শব্দের অর্থ পাহাড়ের পাদদেশ থেকে উঁচু ভূমি।
আভিধানিক অর্থানুসারে এক বস্তুর সাথে মিলিত অপর বস্তুকে মুসনাদ বলা হয়। রাবী বা গ্রন্থকার থেকে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম পর্যন্ত মিলিত হাদীসকে 'মুসনাদ' বলা হয়। হাদীসসমূহকে সাহাবীদের নামানুসারে সাজানো হয়েছে এবং এক একজন সাহাবী বর্ণিত হাদীসসমূহকে একটি মাত্র হাদীস গ্রন্থে স্থান দেয়া হয়েছে - এমন হাদীসগ্রন্থকে 'মুসনাদ' বলে। যেমন - মুসনাদে ইমাম আহমদ বিন হাম্বল রহমতুল্লাহি আলাইহি, মুসনাদে তায়লাসী, মুসনাদে আবদ ইবনে হুমাইদ প্রভৃতি।
📄 মু’জাম (معجم)
যে কিতাবে হাদীস সমূহকে শায়খ অর্থাৎ উস্তাদ ওনাদের নাম অনুসারে (ওনাদের মর্যাদা বা বর্ণনাক্রমে) সাজানো হয়েছে তাকে মু'জাম বলে। যথা মু'জামে ইবনে কানে,' মু'জামে তাবারানী (মু'জামে কবীর, মু'জামে ছগীর, মু'জামে আওছাত) প্রভৃতি। শেষোক্ত মু'জাম তিনটি হযরত তাবারানী রহমতুল্লাহি আলাইহি উনার কর্তৃক রচিত। এতে তিনি হাদীস শরীফসমূহকে বর্ণনাক্রমে সাজিয়েছেন। এ মু'জাম নিয়মের প্রতিষ্ঠাতা হচ্ছেন হযরত ইবনে কানে' রহমতুল্লাহি আলাইহি।
📄 রিসালা (رسالة)
যে ক্ষুদ্র কিতাবে মাত্র এক বিষয়ের হাদীস সমূহকে একত্র করা হয়েছে তাকে রিসালা বা জুম্ বলে। যথা কিতাবুত্ তাওহীদ লি ইবনে খুযায়মা রহমতুল্লাহি আলাইহি। এতে শুধু তাওহীদ সম্পর্কিত হাদীস শরীফসমূহ একত্র করা হয়েছে। কিতাবুত্ তাফসীর লি সাঈদ ইবনে জুবায়ের রহমতুল্লাহি আলাইহি। এটাতে কেবল তাফসীর সংক্রান্ত হাদীসসমূহ জমা করা হয়েছে।