📄 সুনানে আরবাআ
সিয়াহ সিত্তাহ'র অন্তর্গত অপর চারখানি হাদীস গ্রন্থ (আবু দাউদ, তিরমিজী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ) কে এক সঙ্গে 'সুনানে আরবা' বলে।
📄 মুতাআখ্খেরূন আলাইহি (عليه آخره)
যদি কোন হাদীস একই সাহাবীর নিকট হত ইমাম বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রহণ করে থাকেন তবে সেই হাদীসকে 'মুত্তাফাকুন আলাইহি' বলে। আরও বিস্তারিতভাবে বলা যায় যে, যে হাদীসকে একই সাহাবী হতে হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি
উভয়ে গ্রহণ করেছেন তাকে হাদীসে মুত্তাফাকুন আলাইহি বা ঐক্যসম্মত হাদীস বলে।
📄 সহীহায়নের বাইরেও সহীহ হাদীস রয়েছে
বুখারী ও মুসলিম শরীফ সহীহ হাদীসের কিতাব। কিন্তু সমস্ত সহীহ হাদীসই যে বুখারী ও মুসলিমে রয়েছে তা নয়। নিম্নে ইমাম বুখারী ও ইমাম মুসলিম (রহঃ) এর মতামত তুলে ধরা হলোঃ-
ইমাম বুখারী (রঃ) বলেছেনঃ 'আমি আমার এ কিতাবে সহীহ ব্যাতীত কোন হাদীসকে স্থান দেই নাই এবং বহু সহীহ হাদীসকে আমি বাদও দিয়েছি।' এইরূপে ইমাম মুসলিম (রঃ) বলেনঃ 'আমি এ কথা বলি না যে, এর বাইরে যে সকল হাদীস রয়েছে সেগুলি সমস্ত যইফ।'
কাজেই এ দুই কিতাবের বাইরেও সহিহ হাদীস ও সহীহ কিতাব রয়েছে। শায়খ আবদুল হক মুহাদ্দিস দেহলবীর (রঃ) মতে সিহাহ সিত্তাহ, মুওয়াত্তা ইমাম মালিক ও সুনান দারিমী ব্যাতীত নিম্নোক্ত কিতাবসমূহও সহীহ (যদিও বুখারী ও মুসলিমের পর্যায়ের নয়)।
১. সহীহ ইবন খুযায়মা - আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মাদ ইবন ইসহাক (৩১১ হি.)
২. সহীহ ইবন হিব্বান - আবু হাতিম মুহাম্মাদ ইবন হিব্বান (৩৫৪ হি.)
৩. আল-মুসতাদরাক – হাকিম-আবু আবদুল্লাহ নিশাপুরী (৪০২ হি.)
৪. আল-মুখতারা – যিয়াউদ্দীন আল-মাকদিসী (৭০৪ হি.)
৫. সহীহ আবু আ'ওয়ানা – ইয়াকুব ইবন ইসহাক (৩১১ হি.)
৬. আল-মুনতাকা – ইবনুল জারুদ আবদুল্লাহ ইবন আলী।
এতদ্ব্যতীত মুহাম্মদ ইবন মুহাম্মদ রাজা সিন্ধি (২৮৬হি) এবং ইবন হাযম জাহিরীর (৪৫৬ হি)-ও এক একটি সহীহ কিতাব রয়েছে বলে কোন কোন কিতাবে উল্লেখ দেখা যায়। কিন্তু পরবর্তী মুহাদ্দিসগণ এগুলিকে সহীহ বলে গ্রহণ করেছেন কি না বা কোথাও এগুলির পাণ্ডুলিপি বিদ্যমান আছে কি না তা জানা যায় নাই।
হাদীসের সংখ্যাঃ হাদীসের মূল কিতাবসমূহের মধ্যে ঈমান আহমদ ইবন হাম্বলের মুসনাদ একটি বৃহৎ কitাব। এতে ৭ শত সাহাবী কর্তৃক বর্ণিত পুনরুল্লেখ (তাকরার) সহ মোট ৪০ হাজার এবং 'তাকরার' বাদ ৩০ হাজার হাদীস রয়েছে। শায়খ আলী মুত্তাকী জৌনপুরীর মুনতাখাবু কানযিল উমমাল-এ ৩০ হাজার এবং মূল কানযুল উমমাল-এ (তাকরার বাদ) মোট ৩২ হাজার হাদীস রয়েছে।
অথচ এই কিতাব বহু মূল কিতাবের সমষ্টি। একমাত্র হাসান আহমদ সমরকান্দীর 'বাহরুল আসানীদ' কিতাবেই এক লক্ষ হাদীস রয়েছে বলে বর্ণিত আছে। মোট হাদীসের সংখ্যা সাহাবা ও তাবিঈনের আসারসহ সর্বমোট এক লক্ষের অধিক নয় বলে মনে হয়। এর মধ্যে সহীহ হাদীসের সংখ্যা আরও কম। হাকিম আবু আবদুল্লাহ নিশাপুরীর মতে প্রথম শ্রেণীর সহীহ হাদীসের সংখ্যা ১০ হাজারেরও কম। সিহাহ সিত্তায় মাত্র পৌনে ছয় হাজার হাদীস রয়েছে। এর মধ্যে ২৩২৬ টি হাদীস মুত্তাফাকু আলায়হী। তবে যে বলা হয়ে থাকেঃ হাদীসের বড় বড় ইমামের লক্ষ লক্ষ হাদীস জানা ছিল, তাঁর অর্থ এই যে, অধিকাংশ হাদীসের বিভিন্ন সনদ রয়েছে। (এমনকি শুধু নিয়্যাত সম্পর্কীয় হাদীসটিরই ৭ শতের মত সনদ রয়েছে- তাদবীন, ৫৪ পৃষ্ঠা দ্রষ্টব্য) অথচ আমাদের মুহাদ্দিসগণ যে হাদীসের যতটি সনদ রয়েছে সেটিকে তত সংখ্যক হাদীস বলে গণ্য করেন।