📘 হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা পরিচিতি > 📄 সিয়াহ সিত্তা (ستة صحاح) বলা কতটুকু সঠিক?

📄 সিয়াহ সিত্তা (ستة صحاح) বলা কতটুকু সঠিক?


আমরা বুখারী, মুসলিম, আবুদাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ এসব মহামতি ইমামদের হাদীস গ্রন্থ গুলিকে ছিহাহ সিত্তাহ বলে থাকি। যার অর্থ হাদীসের ছয়টি সহীহ কিতাব। আসলে কি এ ছয় খানি কিতাবই সহীহ হাদীসের কিতাব? একমাত্র সহীহ হাদীসের কিতাব বলতে বুখারী ও মুসলিমকে বুঝানো হয়। যে দুটিকে একত্রে ছহীহায়েন বলা হয়। এই দুই কিতাবের সাথে অনেক বিদ্বান মুওয়াত্ত্বা মালিককেও শামিল করেছেন। এর বাইরে কোন কিতাবই নিরঙ্কুশ সহীহ হাদীসের কিতাব নয়। বরং সব হাদীর বিতাবেই সহীহ-যঈফ মিশ্রিত রয়েছে। আবুদাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ এ চারটি কিতাবে যঈফ হাদীস মিশ্রিত রয়েছে। সুতরাং এগুলিকে বুখারী ও মুসলিমের সাথে মিলিয়ে ছিহাহ সিত্তাহ বলা ঠিক নয়। এমন কি সহীহ বুখারী মুসলিম ছাড়া অন্যান্য হাদীসের কিতাবের সংকলকগণ তাদের কিতাবগুলোকে সহীহ হিসেবেও নাম করণ করেন নি। যদিও অনেক আলেম এগুলোর মধ্যে অধিকাংশ হাদীস সহীহ হওয়ার উপর ভিত্তি করে সিহাহ সিত্তাহ বলেছেন।
বিদ্বানদের গণনা মতে ঐ চারটি কিতাবে যঈফ হাদীসের সংখ্যা তিন হাযারের ঊর্ধ্বে রয়েছে। যেমন মুহাদ্দিস আলবানী (রহঃ) এর চারটি যঈফ গ্রন্থ অবলম্বনে বলা যায়-
• নাসাঈতে যঈফ হাদীসের সংখ্যা প্রায় ৪৪০ টি • আবুদাউদে যঈফ হাদীসের সংখ্যা প্রায় ১১২৭ টি • তিরমিযীতে যঈফ হাদীসের সংখ্যা প্রায় ৮২৯ টি • ইবনু মাজাহহে যঈফ হাদীসের সংখ্যা প্রায় ৯৪৮ টি
মোট = ৩৩৪৪ টি
এই চার খানা কিতাবকে পুরোপুরিভাবে সহীহ হাদীসের সংকলন জ্ঞান করার কারণেই আমরা এগুলোর মধ্যে সন্নিবেশিত হাদীসগুলিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি না বা করার প্রয়োজন মনে করি না। অথচ এটি একটি মারাত্মক ভুল। আল্লামা মোহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ইয়ামানী বলেন: সুনানে ইবনে মাজাহ আবুদাউদ ও নাসাঈর পরবর্তী পর্যায়ের গ্রন্থ। উহার হাদীসসমূহে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো আবশ্যক। উহাতে ফযীলত সংক্রান্ত অধ্যায়ে একটি মওযূ হাদীস রয়েছে। (হাদীস সংকলনের ইতিহাস, (ইফাবা, ১৯৯২), পৃঃ ৫৬১। গৃহীত: ত্বানক্বীহুল আনওয়ার)।
উপরোক্ত চারখানা বিতাবের বাইরেও এমন অনেক কিতাব রয়েছে যার বেশীর ভাগ হাদীস সহীহ। যেমন সহীহ ইবনু খুযায়মা, সহীহ ইবনু হিব্বান প্রভৃতি। মোটকথা, হাদীসের প্রসিদ্ধ চয় খানা বিতাবকে ছিহাহ সিত্তাহ না বলে কুতুবু সিত্তাহ বা সহীহাইন ও সুনানে আরবাআহ বলা উচিত। প্রকাশ থাকে যে, অনেকে মনে
করেন, যঈফ হাদীস ফযীলতের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। তাদের এ ধারণা সঠিক নয়। বরং ফযীলত ও আহকাম সর্বক্ষেত্রেই যঈফ হাদীস বর্জনীয়। এটিই মুহাক্কেক্বীন বিদ্বানদের চূড়ান্ত ফায়সালা। আল্লামা জামালুদ্দীন ক্বাসেমী বলেন, ইমাম বুখারী, মুসলিম, ইয়াহইয়া ইবনে মঈন, ইবনুল আরাবী, ইবনে হাযম এবং ইবনু তাইময়াহ প্রমুখ মনীষীগণ বলেন, ফযীলত কিংবা আহকাম কোন ব্যাপারেই যঈফ হাদীস আমল যোগ্য নয়। (ফাওয়ায়েদুত্ তাহদীস পৃঃ ৯৫)।

📘 হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা পরিচিতি > 📄 সহীহাইন

📄 সহীহাইন


হাদীস শাস্ত্রে বোখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফের স্থান সর্ব উচ্চে। তাই বোখারী শরীফ ও মুসলিম শরীফকে একত্রে 'সহীহাইন' বলে।

📘 হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা পরিচিতি > 📄 সুনানে আরবাআ

📄 সুনানে আরবাআ


সিয়াহ সিত্তাহ'র অন্তর্গত অপর চারখানি হাদীস গ্রন্থ (আবু দাউদ, তিরমিজী, নাসাঈ ও ইবনে মাজাহ) কে এক সঙ্গে 'সুনানে আরবা' বলে।

📘 হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা পরিচিতি > 📄 মুতাআখ্খেরূন আলাইহি (عليه آخره)

📄 মুতাআখ্খেরূন আলাইহি (عليه آخره)


যদি কোন হাদীস একই সাহাবীর নিকট হত ইমাম বুখারী ও মুসলিম উভয় গ্রহণ করে থাকেন তবে সেই হাদীসকে 'মুত্তাফাকুন আলাইহি' বলে। আরও বিস্তারিতভাবে বলা যায় যে, যে হাদীসকে একই সাহাবী হতে হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি
উভয়ে গ্রহণ করেছেন তাকে হাদীসে মুত্তাফাকুন আলাইহি বা ঐক্যসম্মত হাদীস বলে।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00