📄 হাকিম (حاكم)
যিনি সনদ ও মতনের সমস্ত বৃত্তান্তসহ সমস্ত হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে 'হাকিম' বলে। অর্থাৎ যিনি সব হাদীস আয়ত্ব করেছেন তাঁকে হাকিম বলা হয়।
📄 শায়খাইন (شيخين)
ইমাম বুখারী ও মুসলিমকে একত্রে 'শায়খাইন' বলে। (এখানে একটি কথা জেনে রাখা ভাল যে, খোলাফায়ে রাশেদীনের মধ্যে শায়খাইন বলতে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) ও হযরত ওমর (রাঃ) কেই বুঝায়। আরও বিস্তারিতভাবে বলা যায় যে, হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি ওনাদেরকে এক সঙ্গে শায়খাইন বলে। (কিন্তু খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম ওনাদের মধ্যে শায়খাইন বলতে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম এবং হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম ওনাদেরকে বুঝায়। এভাবে হানাফী ফিক্বাহে শায়খাইন বলতে হযরত ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত আবু ইউছুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি ওনাদেরকে বুঝায়)।
📄 সিয়াহ সিত্তাহ (ستة صحاح) / কুতুবে সিত্তা
যে ছয়খানা হাদীস গ্রন্থ ইসলামের ইতিহাসে অধিকতর বিশুদ্ধ বলে প্রমাণিত হয়েছে তাকে “সিহাহ্ সিত্তাহ” / কুতুবে সিত্তা বলে। এগুলি হচ্ছে –
১. সহীহুল বুখারী ২. সহীহুল মুসলিম ৩. আবু দাউদ ৪. তিরমিজী ৫. নাসাঈ ৬. ইবনে মাজাহ। কিন্তু মুসলিম বিশ্ব ষষ্ঠ নম্বরের হাদীস গ্রন্থ কোন খানা হবে এ নিয়ে বেশ মতভেদ আছে। বিশিষ্ট আলেমগণের অনেকেই ইবনে মাজাহর স্থলে ‘মুয়াত্তা ইমাম মালেক’ কে আবার কেউ কেউ ‘সুনানে দারেমীকে’ ই সেয়াহ সেত্তার শামীল করেন। অধিকন্তু আরও বলা যায় যে, সহীহুল, সহীহুল মুসলিম, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসাঈ ও ইবনু মাজাহ – হাদীস – এর এই ছয়খানা কিতাবকে এক সঙ্গে সিহাহ্ সিত্তাহ (صِحَّاحُ سِنّة) / কুতুবে সিত্তা বলে। এটাই প্রসিদ্ধ। কিন্তু বিশিষ্ট আলিমগণ ইবনু মাজাহ-এর স্থলে মুয়াত্তা ইমাম মালিক আবার কেউ কেউ সুনানে দারিমীকেও সিহাহ্ সিত্তাহ্ (صحَّاحُ سِنَّهُ) মধ্যে শামীল করেন।
আমাদের সমাজে ‘সিহাহ সিত্তাহ’ (সিহাহ সিত্তাহ পরিভাষাটি ভারতীয় ব্যবহার। এই ছয়টি গ্রন্থের গ্রহণযোগ্যতা সুপরিচিত। তবে গ্রন্থগুলি ‘সহীহ’ নয়। বরং ২টি গ্রন্থ সহীহ এবং বাকিগুলি সুনান। এজন্য মুহাদ্দিসগণের মধ্যে সুপরিচিত পরিভাষা হলো ‘আল কুতুবুস সিত্তা’ ‘পুস্তক ছয়টি’। ভারতীয় উপমহাদেশ ছাড়া অন্য কোথাও
সিহাহ সিত্তা পরিভাষাটি প্রচলিত নয়) নামে প্রসিদ্ধ ৬ টি গ্রন্থের মধ্যে ২টি সহীহ গ্রন্থঃ "সহীহ বুখারী" ও "সহীহ মুসলিম” ছাড়া বাকি ৪টির সংকলক ও শুধুমাত্র সহীহ হাদীস বর্ণনা করবেন বলে কোনো সিদ্ধান্ত নেননি। তাঁরা তাঁদের গ্রন্থগুলিতে সহীহ হাদীসের পাশাপাশি অনেক দুর্বল ও বানোয়াট হাদীসও সংকলন করেছেন।
তবে তাঁদের গ্রন্থগুলির অধিকাংশ হাদীস নির্ভরযোগ্য হওয়ার কারণে পরবর্তী মুহাদ্দিসগণ সাধারণভাবে তাঁদের গ্রন্থগুলির উপর নির্ভর করেছেন, সাথে সাথে তাঁরা এসকল গ্রন্থে সংকলিত দুর্বল ও বানোয়াট হাদীস সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট বিধান প্রদান করেছেন। আল্লামা আবদুল হাই লাখনবী (১৩০৪ হি) এক প্রশ্নের উত্তরে লিখেছেনঃ 'এই চার গ্রন্থে সংকলিত সকল হাদীস সহীহ নয়। বরং এ সকল গ্রন্থে সহীহ, হাসান, যয়ীফ ও বানোয়াট সকল প্রকারের হাদীস রয়েছে। (আল আজইবাতুল ফাযিলা লিল আসইলাহ আল আশারাতিল কামিলা পৃ. ৬৬) ¹³⁴。
ইতোপূর্বে আমরা এ বিষয়ে শাহ ওয়ালীউল্লাহর (রহ) বিবরণ দেখেছি। আমরা দেখেছি যে, তিনি সুনানে আবী দাউদ, সুনানে নাসাঈ, সুনানে তিরমিযী: এই তিনটি গ্রন্থকে তৃতীয় পর্যায়ভুক্ত করেছেন, যে সকল গ্রন্থের হাদীসসমূহ মোটামুটি গ্রহণযোগ্য বলে প্রমাণিত হলেও সেগুলিতে কিছু অনির্ভরযোগ্য হাদীসও রয়েছে।
কিন্তু তিনি 'সুনান ইবনি মাজাহ'কে এই পর্যায়ে উল্লেখ করেননি।
এর কারণ হলো, ইমাম মুহাম্মদ ইবনু ইয়াজীদ ইবনু মাজাহ আল কাযবীনী (২৭৫ হি) সংকলিত 'সুনান' গ্রন্থটিকে অধিকাংশ মুহাদ্দিস প্রসিদ্ধ ও গ্রহণযোগ্য গ্রন্থের অন্তর্ভুক্ত করেননি। হিজরী ৭ম শতক পর্যন্ত মুহাদ্দিসগণ সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমের অতিরিক্ত এই তিনটি সুনান গ্রন্থকেই মোটামুটি নির্ভরযোগ্য এবং হাদীস শিক্ষা ও শিক্ষাদানের ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করতেন। ৫ম-৬ষ্ঠ হিজরী শতকের মুহাদ্দিস মুহাম্মাদ ইবনু তাহির মাকসিদী, আবুল ফাদল ইবনুল কাইসুরানী (৫০৭ হি) এগুলির সাথে সুনান ইবনু মাজাহ যোগ করেন। তাঁর এই মত পরবর্তী দুই শতাব্দী পর্যন্ত মুহাদ্দিসগণ গ্রহণ করেননি। ৭ম শতকের প্রখ্যাত মুহাদ্দিস আল্লামা ইবনুস সালাহ আবু আমর উসমান ইবনু আবদুর রাহমান (৬৪৩ হি), আল্লামা আবু যাকারিয়া ইয়াহইয়া ইবনু শারাফ আন-নাবাবী (৬৭৬ হি) প্রমুখ মুহাদ্দিস হাদীসের মূল উৎস হিসেবে উপরের ৫টি গ্রন্থের নাম উল্লেখ করেছেন। সুনানে ইবুন মাজাহ কে তাঁরা এর মাঝে গণ্য করেননি। পরবর্তী যুগের অনেক মুহাক্কিক আলিম এদের অনুসরণ করেছেন। অপরদিকে ইমাম ইবনুল আসীর মুবারাক ইবনু মুহাম্মাদ (৬০৬ হি) ও অন্য কতিপয় মুহাদ্দিস ৬ষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে ইমাম মালিকের মুআত্তাকে গ্রহণ করেছেন।
সুনান ইবনি মাজাহকে উপরের তিনটি সুনানের পর্যায়ভুক্ত করতে আপত্তির কারণ হলো ইমাম ইবনু মাজাহর সংকলন পদ্ধতি এই তিন গ্রন্থের মত নয়। উপরে তিন গ্রন্থের সংকলক মোটামুটি গ্রহণযোগ্য হাদীস সংকলনের উদ্দেশ্যে গ্রন্থ প্রনয়ণ করেছেন। বিষয়বস্তুর প্রয়োজনে কিছু যয়ীফ হাদীস গ্রহণ করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে সেগুলির দুর্বলতার কথা উল্লেখ করেছেন। পক্ষান্তরে ইমাম ইবনু মাজাহ তৎকালীন সাধারণ সংকলন পদ্ধতির অনুসরণ করেছেন।
আমরা দেখেছি যে, এ সকল যুগের অধিকাংশ সংকলক সনদসহ প্রচলিত সকল হাদীস সংকলন করতেন। এতে সহীহ, যয়ীফ, মাউদ্ সব প্রকারের হাদীসই তাঁদের গ্রন্থে স্থান পেত। সনদ বিচার ছাড়া হাদীসের নির্ভরতা যাচাই করা সম্ভব হতোনা। ইমাম ইবনু মাজাহও মূলত এই পদ্ধতি অনুসরণ করেছেন। তিনি সহীহ বা হাদীস সংকলনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেননি। তিনি সহীহ ও হাসান হাদীসের পাশাপাশি অনেক যয়ীফ ও কিছু মাউযূ বা বানোয়াট হাদীসও সংকলন করেছেন। তিনি এসকল যয়ীফ ও বানোয়াট হাদীসের ক্ষেত্রে কোনো মন্তব্য করেননি। ৮ম হিজরী শতক থেকে অধিকাংশ মুহাদ্দিস সুনানে ইবনি মাজাহকে ৪র্থ সুনান গ্রন্থ হিসেবে গণ্য করতে থাকেন। মুআত্তা ও সুনান ইবনি মাজাহ এর মধ্যে পার্থক্য হলো, মুআত্তা গ্রন্থের হাদীস সংখ্যা কম এবং এই গ্রন্থের সকল সহীহ হাদীস উপরের ৫টি গ্রন্থের মধ্যে সংকলিত। ফলে এই গ্রন্থটিকে পৃথকভাবে অধ্যয়ন করলে অতিরিক্ত হাদীস জানা
যাচ্ছেনা। পক্ষান্তরে সুনান ইবনি মাজাহ এর মধ্যে উপরের ৫টি গ্রন্থের অতিরিক্ত সহস্রাধিক হাদীস রয়েছে। এজন্যই পরবর্তী যুগের মুহাদ্দিসগণ এই গ্রন্থটিকে ৪র্থ সুনান হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
ইমাম ইবনু মাজাহ এর সুনান গ্রন্থে মোট ৪৩৪১টি হাদীস সংকলিত হয়েছে। তন্মধ্যে প্রায় তিন হাজার হাদীস উপরের পাঁচটি গ্রন্থে সংকলিত। বাকী প্রায় দেড় হাজার হাদীস অতিরিক্ত। ৯ম হিজরী শতকের মুহাদ্দিস আল্লামা আহমদ ইবনু আবী বাকর আল-বৃসীরী (৮৪০ হি) ইবনু মাজাহর এ সকল অতিরিক্ত হাদীসের সনদ আলোচনা করেছেন¹³⁵। আল্লামা বৃসীরী ১৪৭৬ টি হাদীসের সনদ আলোচনা করেছেন, যেগুলি উপরের ৫টি গ্রন্থে সংকলিত হয়নি, শুধুমাত্র ইবনু মাজাহ সংকলন করেছেন। এগুলির মধ্যে প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ সহীহ বা হাসান হাদীস এবং প্রায় এক তৃতীয়াংশ হাদীস যয়ীফ। এগুলির মধ্যে প্রায় অর্ধশত হাদীস মাউযূ বা বানোয়াট বলে উল্লেখ করেছেন মুহাদ্দিসগণ। (ইবনুল কাউসূরানী, শুরুতুল আইম্মাহ আস-সিত্তাহ পৃ. ১৩, ২৪-২৬)¹³⁶。
নিম্নে সিয়াহ সিত্তা ও তার সংকলক বৃন্দের পুরো নাম, জন্ম ও মৃত্যু সন দেয়া হল।
| ক্রঃ নং: | গ্রন্থের নাম | সংকলকের নাম | জন্ম | ওফাত | জীবন কাল | হাদীস সংখ্যা |
| :--- | :--- | :--- | :--- | :--- | :--- | :--- |
| ০১ | সহীহ বুখারী | মুহাম্মদ ইবনে ইসমাঈল ইবনে ইবরাহীম ইবনে মুগীরা | ১৯৪ হিজরী | ২৫৬ হিজরী | ৬২ বছর | ৭৩৯৭টি |
| ০২ | সহীহ মুসলিম | মুসলিম ইবনে হাজ্জাজ আল কুশায়রী আল নিশাপুরী | ২০৪ হিজরীতে নিশাপুরে | ২৬১ হিজরী | ৫৭ বছর | ৪০০০টি |
| ০৩ | জামে আত তিরমিযী | আবু ঈসা মুহাম্মদ ইবনে ঈসা ইবনে আওরাতা আত-তিরমিযী | ২০৯ হিজরীতে খোরাসানের তিরমিযী শহরে | ২৭৯ হিজরী | ৭০ বছর | ৩৮১২টি |
| ০৪ | সুনানে আবু দাউদ | আবু দাউদ সুলায়মান ইবনে আশআশ ইবনে ইসহাক | ২০২ হিজরীতে সীস্তান নামক স্থানে | ২৭৫ হিজরী | ৭৩ বছর | ৪৮০০টি |
| ০৫ | সুনানে নাসাঈ | ইমাম আবু আবদুর রহমান আহমদ ইবনে শুআইব ইবনে আলী আল খোরাসানী আন-নাসায়ী | ২১৫ হিজরী নাসা শহরে | ৩০০ হিজরী | ৮৮ বছর | ৫৭৬১ টি |
| ০৬ | সুনানে ইবনে মাযাহ | আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে ইয়াযীদ ইবনে আবদুল্লাহ ইবনে মাযাহ আল কাযবীনি | ২১৭ হিজরীতে কাসবীন শহরে | ২৭৩ হিজরী | ৬৪ বছর | ৪৩৪৯টি |
টিকাঃ
¹³⁴ আল আজইবাতুল ফাযিলা লিল আসইলাহ আল আশারাতিল কামিলা পৃ. ৬৬
¹³⁵ হাদীসের নামে জালিয়াতি - ডঃ খন্দকার আব্দুল্লাহ জাহাঙ্গীর স্যারের বই থেকে কিছুটা সংগ্রহীত ও ঈষৎ পরিবর্তীত
¹³⁶ ইবনুল কাউসূরানী, শুরুতুল আইম্মাহ আস-সিত্তাহ পৃ. ১৩, ২৪-২৬
📄 সিয়াহ সিত্তা (ستة صحاح) বলা কতটুকু সঠিক?
আমরা বুখারী, মুসলিম, আবুদাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ এসব মহামতি ইমামদের হাদীস গ্রন্থ গুলিকে ছিহাহ সিত্তাহ বলে থাকি। যার অর্থ হাদীসের ছয়টি সহীহ কিতাব। আসলে কি এ ছয় খানি কিতাবই সহীহ হাদীসের কিতাব? একমাত্র সহীহ হাদীসের কিতাব বলতে বুখারী ও মুসলিমকে বুঝানো হয়। যে দুটিকে একত্রে ছহীহায়েন বলা হয়। এই দুই কিতাবের সাথে অনেক বিদ্বান মুওয়াত্ত্বা মালিককেও শামিল করেছেন। এর বাইরে কোন কিতাবই নিরঙ্কুশ সহীহ হাদীসের কিতাব নয়। বরং সব হাদীর বিতাবেই সহীহ-যঈফ মিশ্রিত রয়েছে। আবুদাউদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনে মাজাহ এ চারটি কিতাবে যঈফ হাদীস মিশ্রিত রয়েছে। সুতরাং এগুলিকে বুখারী ও মুসলিমের সাথে মিলিয়ে ছিহাহ সিত্তাহ বলা ঠিক নয়। এমন কি সহীহ বুখারী মুসলিম ছাড়া অন্যান্য হাদীসের কিতাবের সংকলকগণ তাদের কিতাবগুলোকে সহীহ হিসেবেও নাম করণ করেন নি। যদিও অনেক আলেম এগুলোর মধ্যে অধিকাংশ হাদীস সহীহ হওয়ার উপর ভিত্তি করে সিহাহ সিত্তাহ বলেছেন।
বিদ্বানদের গণনা মতে ঐ চারটি কিতাবে যঈফ হাদীসের সংখ্যা তিন হাযারের ঊর্ধ্বে রয়েছে। যেমন মুহাদ্দিস আলবানী (রহঃ) এর চারটি যঈফ গ্রন্থ অবলম্বনে বলা যায়-
• নাসাঈতে যঈফ হাদীসের সংখ্যা প্রায় ৪৪০ টি • আবুদাউদে যঈফ হাদীসের সংখ্যা প্রায় ১১২৭ টি • তিরমিযীতে যঈফ হাদীসের সংখ্যা প্রায় ৮২৯ টি • ইবনু মাজাহহে যঈফ হাদীসের সংখ্যা প্রায় ৯৪৮ টি
মোট = ৩৩৪৪ টি
এই চার খানা কিতাবকে পুরোপুরিভাবে সহীহ হাদীসের সংকলন জ্ঞান করার কারণেই আমরা এগুলোর মধ্যে সন্নিবেশিত হাদীসগুলিকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করি না বা করার প্রয়োজন মনে করি না। অথচ এটি একটি মারাত্মক ভুল। আল্লামা মোহাম্মাদ বিন ইবরাহীম ইয়ামানী বলেন: সুনানে ইবনে মাজাহ আবুদাউদ ও নাসাঈর পরবর্তী পর্যায়ের গ্রন্থ। উহার হাদীসসমূহে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালানো আবশ্যক। উহাতে ফযীলত সংক্রান্ত অধ্যায়ে একটি মওযূ হাদীস রয়েছে। (হাদীস সংকলনের ইতিহাস, (ইফাবা, ১৯৯২), পৃঃ ৫৬১। গৃহীত: ত্বানক্বীহুল আনওয়ার)।
উপরোক্ত চারখানা বিতাবের বাইরেও এমন অনেক কিতাব রয়েছে যার বেশীর ভাগ হাদীস সহীহ। যেমন সহীহ ইবনু খুযায়মা, সহীহ ইবনু হিব্বান প্রভৃতি। মোটকথা, হাদীসের প্রসিদ্ধ চয় খানা বিতাবকে ছিহাহ সিত্তাহ না বলে কুতুবু সিত্তাহ বা সহীহাইন ও সুনানে আরবাআহ বলা উচিত। প্রকাশ থাকে যে, অনেকে মনে
করেন, যঈফ হাদীস ফযীলতের ক্ষেত্রে গ্রহণযোগ্য। তাদের এ ধারণা সঠিক নয়। বরং ফযীলত ও আহকাম সর্বক্ষেত্রেই যঈফ হাদীস বর্জনীয়। এটিই মুহাক্কেক্বীন বিদ্বানদের চূড়ান্ত ফায়সালা। আল্লামা জামালুদ্দীন ক্বাসেমী বলেন, ইমাম বুখারী, মুসলিম, ইয়াহইয়া ইবনে মঈন, ইবনুল আরাবী, ইবনে হাযম এবং ইবনু তাইময়াহ প্রমুখ মনীষীগণ বলেন, ফযীলত কিংবা আহকাম কোন ব্যাপারেই যঈফ হাদীস আমল যোগ্য নয়। (ফাওয়ায়েদুত্ তাহদীস পৃঃ ৯৫)।