📄 হাফিয (حافظ)
যিনি সনদ ও মতনের বৃত্তান্ত সহ এক লক্ষ হাদীস আয়ত্ব করেছেন তাঁকে হাফিয বলা হয়।
বিশদভাবে বলা যায় যে, যিনি সনদ ও মতনের সমস্ত বৃত্তান্ত সহ প্রায় একলক্ষ হাদীস আয়ত্ত বা মুখস্ত করেছেন তাকে 'হাফিয' বা 'হাফিযে হাদীস' বলে।
হাদীসের প্রসিদ্ধ হাফিয (حافظ) গণঃ
(১) হজরত আবু হুরায়রা (রা.): (আবদুর রহমান): ৭৮ বছর বয়সে ৫৯ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তার বর্ণিত বা
রিওয়ায়াতকৃত হাদীসের সংখ্যা ৫৩৭৪ এবং তার ছাত্র সংখ্যা ৮০০ পর্যন্ত।
(২) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.): ৭১ বছর বয়সে ৬৮ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তার রিওয়ায়াতকৃত হাদীসের সংখ্যা ১৬৬০।
(৩) হজরত আয়েশা সিদ্দিকা (রা.): ৬৭ বছর বয়সে ৫৮ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তার রিওয়ায়াতকৃত হাদীসের সংখ্যা ২২১০।
(৪) হজরত আবদুল্লাহ ইবনে উমার (রা.): ৭৪ বছর বয়সে ৭৩ হিজরিতে ইন্তেকাল করেন। তার বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ১৬৩০।
(৫) হজরত জাবির ইবনে আবদুল্লাহ (রা.): ৯৪ বছর বয়সে ৭৮ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তার রিওয়ায়াতকৃত হাদীসের সংখ্যা ১৫৬০।
(৬) হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.): ১০৩ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। তার রিওয়ায়াতকৃত হাদীসের সংখ্যা ১২৮৬।
(৭) হজরত আবু সাঈদ খুদরী (রা.): ৮৪ বছর বয়সে ৭৪ হিজরীতে ইন্তেকাল করেন। তার বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ১১৭০।
এই কজন মহান সাহাবীর প্রত্যেকেরই এক হাজারের অধিক হাদীস মুখস্থ ছিল। তাছাড়া হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর ইবনুল আস (মৃঃ ৬৩ হিজরী), হজরত আলী (মৃঃ ৪০ হিজরী) এবং উমার ফারুক (মৃঃ ২৩ হিজরী) রাদিয়াল্লাহু আনহুম সেসব সাহাবীর অন্তর্ভুক্ত যাদের বর্ণিত হাদীসের সংখ্যা ৫০০ থেকে এক হাজারের মধ্যে। অনুরূপভাবে হজরত আবু বকর (মৃঃ ১৩ হিজরী), হজরত উসমান (মৃঃ ৩৬ হিজরী), হজরত উম্মে সালমা (মৃঃ ৫৯ হিজরী), হজরত আবু মূসা আশআরী (মৃঃ ৫২ হিজরী), হজরত আবু যার গিফারি (মৃঃ ৩২ হিজরী), হজরত আবু আইয়ুব আনছারি (মৃঃ ৫১ হিজরী) রাদিআল্লাহু আনহুম থেকে একশতের অধিক এবং পাঁচশতের কম হাদীস বর্ণিত আছে।
রসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের হাদীস ১৪শ' বছর পরও আমাদের মাঝে আলোকবিস্তার করছে হাদীসের মহান হাফেজদের কারণে। তাদের কাছ থেকে যারা হাদীস সংগ্রহ করেছেন তাদের ভূমিকাও এক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। এসব মহান ব্যক্তি হিকমাত ও হেদায়াতের এই উৎসকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যে মেহনত করেছেন তা অতুলনীয়।
📄 হুজ্জাত (حجة)
যিনি সনদ ও মতনের সমস্ত বৃতান্ত সহ তিন লক্ষ হাদীস মুখস্ত করেছেন বা আয়ত্ত করেছেন তাকে 'হুজ্জাত' বা 'হুজ্জাতুল ইসলাম' বলে।
📄 হাকিম (حاكم)
যিনি সনদ ও মতনের সমস্ত বৃত্তান্তসহ সমস্ত হাদীস আয়ত্ত করেছেন তাকে 'হাকিম' বলে। অর্থাৎ যিনি সব হাদীস আয়ত্ব করেছেন তাঁকে হাকিম বলা হয়।
📄 শায়খাইন (شيخين)
ইমাম বুখারী ও মুসলিমকে একত্রে 'শায়খাইন' বলে। (এখানে একটি কথা জেনে রাখা ভাল যে, খোলাফায়ে রাশেদীনের মধ্যে শায়খাইন বলতে হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ) ও হযরত ওমর (রাঃ) কেই বুঝায়। আরও বিস্তারিতভাবে বলা যায় যে, হযরত ইমাম বুখারী রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত ইমাম মুসলিম রহমতুল্লাহি আলাইহি ওনাদেরকে এক সঙ্গে শায়খাইন বলে। (কিন্তু খুলাফায়ে রাশিদীন আলাইহিমুস সালাম ওনাদের মধ্যে শায়খাইন বলতে হযরত আবু বকর ছিদ্দীক্ব আলাইহিস সালাম এবং হযরত উমর ফারুক আলাইহিস সালাম ওনাদেরকে বুঝায়। এভাবে হানাফী ফিক্বাহে শায়খাইন বলতে হযরত ইমাম আবু হানীফা রহমতুল্লাহি আলাইহি ও হযরত আবু ইউছুফ রহমতুল্লাহি আলাইহি ওনাদেরকে বুঝায়)।