📘 হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা পরিচিতি > 📄 আদব বা আদিল

📄 আদব বা আদিল


عدل ‘আদল’ শব্দের অর্থ সোজা ও বক্রতাহীন রাস্তা, যেমন বলা হয় طريق عدل ‘সোজা রাস্তা’। পাপ পরিহারকারী ও সুস্থরুচি সম্পন্ন ব্যক্তি ন্যায় ও সোজা রাস্তার অনুসরণ করে, তাই তাকে ‘আদল’ বা ‘আদিল’ বলা হয়। عادل কর্তাবাচক বিশেষ্য, অর্থ ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি। হাদীসের পরিভাষায় দীনদারী ও সুস্থরুচিকে عدالة বলা হয়।
প্রখ্যাত আলেমদের সংজ্ঞাঃ
হাফেয ইবন হাজার রাহিমাহুল্লাহ ‘আদল’ এর সংজ্ঞা প্রসঙ্গে বলেন: ‘আদল’ ব্যক্তির মধ্যে এমন যোগ্যতা, যা তাকে তাকওয়া ও
রুচিবোধ আঁকড়ে থাকতে বাধ্য করে”। [আন-নুযহাহ: (পৃ. ৮৩)]।
মুহাদ্দিসগণের মতে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সাহাবীগণ কোন প্রকার মিথ্যার আশ্রয় নেননি। তাই তাদের সর্ব স্বীকৃত মত হচ্ছে- 'সকল সাহাবীই আ'দিল অর্থাৎ সত্যবাদী। সুতরাং, যে যে ব্যক্তি 'তাকওয়া' ও 'মরুওত' অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন তাকে আ'দিল বলে অর্থাৎ যিনি -
১/ হাদীস সম্পর্কে মিথ্যাবাদী বলে প্রতিপন্ন হননি,
২/ সাধারণ কাজ কারবার মিথ্যাবাদী বলে কখনো সাব্যস্ত হননি,
৩/ অজ্ঞাতনামা অপরিচিত অর্থাৎ দোষ গুণ বিচারের জন্য যার জীবনী জানা যায় নি এরূপ লোকও নন,
৪/ বে-আমল ফাসিকও নন, অথবা
৫/ বদ-এতেকাদ বিদাআতীও নন তাকে আ'দিল বলে।

📘 হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা পরিচিতি > 📄 আদালত

📄 আদালত


মানুষের ভিতরের যে আদিম শক্তি তাকে 'তাকওয়া' ও 'মরুওত' অবলম্বন করতে (এবং মিথ্যা আচরণ থেকে বিরত রাখতে) উদ্বুদ্ধ করে তাকে 'আদালত' বলে। 'তাকওয়া' অর্থে এখানে শিরক, বিদাআত ফিছক ও প্রকৃতি কবীরা এবং বারবার করা সগীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকাকে বুঝায়, 'মরুওত' সর্বপ্রকার
বদ রসম রেওয়াজ থেকে দূরে থাকাকে বুঝায়' যদিও তা মুবাহ হয়। যেমনঃ উদাহরণে পেশ করা মিসওয়াকের হাদীসে ইমাম বুখারীর উস্তাদ আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ইউসুফ, তার উস্তাদ মালিক, তার উস্তাদ আবুয যিনাদ এবং তার উস্তাদ আ'রাজ সবাই আদিল এবং একাধিক মুহাদ্দিস তাদের আদালত সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।
অতএব সনদে বিদ্যমান সকল রাবীর মধ্যে দ্বিতীয় শর্ত বিদ্যমান। উল্লেখ্য, সকল সাহাবী আদিল, কারণ তাদের আদালত প্রসঙ্গে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাক্ষী দিয়েছেন, তাদের সাক্ষীর পর কারো সাক্ষীর প্রয়োজন নেই। আরও বিস্তারিবত ভাবে বলা যায় যে, যে সুদৃঢ় শক্তি মানুষকে তাক্বওয়া ও মরুওওয়াত অবলম্বন করতে উদ্বুদ্ধ করে, তাকে আদালত বলে।
তাক্বওয়া অর্থে এখানে শিরক প্রভৃতি কবীরা গুণাহ্ এবং পুনঃ পুনঃ ছগীরা গুণাহ্ করা হতে, হাদীস শরীফ সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলা থেকে, সাধারণ কাজ-কারবারে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হওয়া থেকে, অপরিচিত হওয়া থেকে, বে-আমল-ফাসিক, বদ্‌ আক্বীদা ও বিদয়াতী আমল থেকেও বেঁচে থাকাকে বুঝায়। মরুওয়াত অর্থে অশোভন বা অভদ্রোচিত, অশালীন, অশ্লীল, কুরুচীসম্পন্ন এমনকি অপছন্দনীয় কথা ও কাজ হতে দূরে থাকাকে বুঝায়। যথা হাটে-বাজারে প্রকাশ্যে পানাহার করা বা রাস্তাঘাটে ইস্তিঞ্জা করা ইত্যাদি। এরূপ কার্য করেন এমন ব্যক্তির হাদীস সহীহ নয়।

📘 হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা পরিচিতি > 📄 যব্‌ত (ضبط) ও যাবিত (ضابط)

📄 যব্‌ত (ضبط) ও যাবিত (ضابط)


ضبط ক্রিয়াবিশেষ্য, আভিধানিক অর্থ নিয়ন্ত্রণ। এ থেকে যিনি শায়খ থেকে হাদীস শ্রবণ করে নিজের নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হন, তাকে ضابط বলা হয়।
'যাবিত' কর্তাবাচক বিশেষ্য, অর্থ সংরক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণকারী। যবত হলো সেই শক্তি যা মানুষের শ্রুত ও লিখিত জিনিসের বিন্যাস থেকে রক্ষা করে অর্থাৎ স্মৃতিপটে জাগরিত করে হুবহু যখন তখন অপরের নিকট পৌছাতে পারে।
যবত )ضبط( এর পারিভাষিক অর্থ: শায়খ থেকে শ্রবণ করা হাদীস হ্রাস, বৃদ্ধি ও বিকৃতি ব্যতীত অপরের নিকট পৌঁছে দেওয়াই যবত। যবত দুই অবস্থায় থাকা জরুরীঃ শ্রবণ করার সময় ও বর্ণনা করার সময়।
শ্রবণ করার সময় দ্বাবত যেমন, শায়খের হাদীস মনোযোগসহ শ্রবণ করা ও তার মুখ নিঃসৃত প্রতিটি শব্দ যথাযথ সংরক্ষণ করা। এ প্রকার যবতকে ضبط عند التحمل বলা হয়, অর্থাৎ হাদীস গ্রহণ করার সময় দ্বাবত। বর্ণনা করার সময় দ্বাবত যেমন, শায়খ থেকে শ্রবণকৃত হাদীস রাবির নিকট কোনো প্রকার হ্রাস, বৃদ্ধি ও বিকৃতি ব্যতীত বর্ণনা করা, ভুল হলেও কম। এ প্রকার যবতকে ضبط عند الأداء বলা হয়, তথা বর্ণনা করার সময় যবত। এ দুই অবস্থায়
দাবত সম্পন্ন রাবিকে যাবিত (ضابط) বলা হয়। বিষয়টি উদাহরনের মাধ্যমে উপস্থাপন করা যেতে পারেঃ
আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ
( أَقْرَأْ بِاسْمِ رَبِّكَ الَّذِي خَلَقَ ١ خَلَقَ الْإِنسَنَ مِنْ عَلَقٍ ٢ أَقْرَأْ وَرَبُّكَ الْأَكْرَمُ 3 الَّذِي عَلَّمَ بِالْقَلَمِ ٤ ) [العلق: ١, ٤]
"পড় তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন। তিনি সৃষ্টি করেছেন মানুষকে আলাক থেকে। পড়, আর তোমার রব মহামহিম। যিনি কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন”। [সূরা আলাক: (১-৪)]
আল্লাহ তা'আলা এ আয়াতে প্রথম বলেছেন পড়, অতঃপর বলেছেনঃ "যিনি কলম দ্বারা শিক্ষা দিয়েছেন”। অর্থাৎ তোমরা স্মৃতি শক্তি থেকে পড়, যদি স্মৃতি শক্তিতে না থাকে, তাহলে তোমার লিখনি থেকে পড়। সুতরাং উপরোক্ত আলোচনা থেকে আমরা 'যবত' ও 'যাবিত' দু'টি শব্দ বুঝতে পারলাম।

📘 হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা পরিচিতি > 📄 সিকায় (ثقة)

📄 সিকায় (ثقة)


যে ব্যক্তির মধ্যে আ'দল গুণ পরিপূর্ণভাবে পাওয়া যাবে তাকে 'সিকাহ' বলে। অর্থাৎ যে ব্যক্তির মধ্যে আদালত ও যবত উভয় গুণ পূর্ণভাবে বিদ্যমান তাকে সিক্কাহ্ রাবী বলে।
উদাহরণে পেশকৃত মিসওয়াকের হাদীসে সকল রাবি সিকাহ। তাদের বিরোধিতা করে তাদের চেয়ে অধিক সেকাহ রাবি কোনো হাদীস বর্ণনা করেনি।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00