📘 হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা পরিচিতি > 📄 রিজাল

📄 রিজাল


হাদীসের রাবী সমষ্টিকে ‘রিজাল’ বলে।

📘 হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা পরিচিতি > 📄 আসমউর রিজাল (الرجال اسماء)

📄 আসমউর রিজাল (الرجال اسماء)


যে শাস্ত্রে রাবীদের জীবন বৃত্তান্ত বর্ণনা করা হয়েছে তাকে ‘আসমাউর রিজাল’ বলে। আসমাউর রেজাল সম্পর্কে ডঃ স্প্রেনগার তার "লাইফ অব মুহাম্মদ।” গ্রন্থের ভূমিকায় লিখেছেনঃ- "দুনিয়ায় এমন কোন জাতি দেখা যায়নি এবং আজও নেই যারা মুসলমানদের ন্যায় ‘আসমাউর রেজালের’ বিরাট তত্ত্ব ভান্ডার আবিষ্কার করেছে। আর এর বদৌলতে আজ পাঁচ লাখ লোকের বিবরণ জানা যেতে পারে।” (হাদীসের পরিচয়, সুহৃদ প্রকাশন)।

📘 হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা পরিচিতি > 📄 আদব বা আদিল

📄 আদব বা আদিল


عدل ‘আদল’ শব্দের অর্থ সোজা ও বক্রতাহীন রাস্তা, যেমন বলা হয় طريق عدل ‘সোজা রাস্তা’। পাপ পরিহারকারী ও সুস্থরুচি সম্পন্ন ব্যক্তি ন্যায় ও সোজা রাস্তার অনুসরণ করে, তাই তাকে ‘আদল’ বা ‘আদিল’ বলা হয়। عادل কর্তাবাচক বিশেষ্য, অর্থ ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি। হাদীসের পরিভাষায় দীনদারী ও সুস্থরুচিকে عدالة বলা হয়।
প্রখ্যাত আলেমদের সংজ্ঞাঃ
হাফেয ইবন হাজার রাহিমাহুল্লাহ ‘আদল’ এর সংজ্ঞা প্রসঙ্গে বলেন: ‘আদল’ ব্যক্তির মধ্যে এমন যোগ্যতা, যা তাকে তাকওয়া ও
রুচিবোধ আঁকড়ে থাকতে বাধ্য করে”। [আন-নুযহাহ: (পৃ. ৮৩)]।
মুহাদ্দিসগণের মতে হাদীস বর্ণনার ক্ষেত্রে সাহাবীগণ কোন প্রকার মিথ্যার আশ্রয় নেননি। তাই তাদের সর্ব স্বীকৃত মত হচ্ছে- 'সকল সাহাবীই আ'দিল অর্থাৎ সত্যবাদী। সুতরাং, যে যে ব্যক্তি 'তাকওয়া' ও 'মরুওত' অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন তাকে আ'দিল বলে অর্থাৎ যিনি -
১/ হাদীস সম্পর্কে মিথ্যাবাদী বলে প্রতিপন্ন হননি,
২/ সাধারণ কাজ কারবার মিথ্যাবাদী বলে কখনো সাব্যস্ত হননি,
৩/ অজ্ঞাতনামা অপরিচিত অর্থাৎ দোষ গুণ বিচারের জন্য যার জীবনী জানা যায় নি এরূপ লোকও নন,
৪/ বে-আমল ফাসিকও নন, অথবা
৫/ বদ-এতেকাদ বিদাআতীও নন তাকে আ'দিল বলে।

📘 হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা পরিচিতি > 📄 আদালত

📄 আদালত


মানুষের ভিতরের যে আদিম শক্তি তাকে 'তাকওয়া' ও 'মরুওত' অবলম্বন করতে (এবং মিথ্যা আচরণ থেকে বিরত রাখতে) উদ্বুদ্ধ করে তাকে 'আদালত' বলে। 'তাকওয়া' অর্থে এখানে শিরক, বিদাআত ফিছক ও প্রকৃতি কবীরা এবং বারবার করা সগীরা গুনাহ থেকে বেঁচে থাকাকে বুঝায়, 'মরুওত' সর্বপ্রকার
বদ রসম রেওয়াজ থেকে দূরে থাকাকে বুঝায়' যদিও তা মুবাহ হয়। যেমনঃ উদাহরণে পেশ করা মিসওয়াকের হাদীসে ইমাম বুখারীর উস্তাদ আব্দুল্লাহ ইব্‌ন ইউসুফ, তার উস্তাদ মালিক, তার উস্তাদ আবুয যিনাদ এবং তার উস্তাদ আ'রাজ সবাই আদিল এবং একাধিক মুহাদ্দিস তাদের আদালত সম্পর্কে সাক্ষ্য প্রদান করেছেন।
অতএব সনদে বিদ্যমান সকল রাবীর মধ্যে দ্বিতীয় শর্ত বিদ্যমান। উল্লেখ্য, সকল সাহাবী আদিল, কারণ তাদের আদালত প্রসঙ্গে আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম সাক্ষী দিয়েছেন, তাদের সাক্ষীর পর কারো সাক্ষীর প্রয়োজন নেই। আরও বিস্তারিবত ভাবে বলা যায় যে, যে সুদৃঢ় শক্তি মানুষকে তাক্বওয়া ও মরুওওয়াত অবলম্বন করতে উদ্বুদ্ধ করে, তাকে আদালত বলে।
তাক্বওয়া অর্থে এখানে শিরক প্রভৃতি কবীরা গুণাহ্ এবং পুনঃ পুনঃ ছগীরা গুণাহ্ করা হতে, হাদীস শরীফ সম্পর্কে মিথ্যা কথা বলা থেকে, সাধারণ কাজ-কারবারে মিথ্যাবাদী সাব্যস্ত হওয়া থেকে, অপরিচিত হওয়া থেকে, বে-আমল-ফাসিক, বদ্‌ আক্বীদা ও বিদয়াতী আমল থেকেও বেঁচে থাকাকে বুঝায়। মরুওয়াত অর্থে অশোভন বা অভদ্রোচিত, অশালীন, অশ্লীল, কুরুচীসম্পন্ন এমনকি অপছন্দনীয় কথা ও কাজ হতে দূরে থাকাকে বুঝায়। যথা হাটে-বাজারে প্রকাশ্যে পানাহার করা বা রাস্তাঘাটে ইস্তিঞ্জা করা ইত্যাদি। এরূপ কার্য করেন এমন ব্যক্তির হাদীস সহীহ নয়।

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00