📘 হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা পরিচিতি > 📄 ওহীর প্রকারভেদ

📄 ওহীর প্রকারভেদ


বস্তুতঃ আল্লাহ তা'আলা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) -এর নিকট যে ওহী পাঠাতেন তা ছিল দু প্রকারের। প্রথম প্রকার ওহী কুরআন, যা তিনি আল্লাহর পক্ষ থেকে পাঠানো শব্দ ও অর্থসহ আক্ষরিকভাবে মুখস্থ করতেন, সাহাবীদেরকে মুখস্থ করাতেন এবং লিখাতেন। দ্বিতীয় প্রকার ওহীর মূল অর্থ, 'জ্ঞান' বা 'প্রজ্ঞা' আল্লাহ তাঁর উপর নাযিল করতেন। তিনি নিজের ভাষায় তা সাহাবীদেরকে বলতেন, শিক্ষা দিতেন, মুখস্থ করাতেন এবং কখনো কখনো লিখাতেন। কুরআন কারীমে বিভিন্ন স্থানে প্রথম প্রকার ওহীকে 'কিতাব' বা গ্রন্থ এবং দ্বিতীয় প্রকার ওহীকে 'হিকমাহ' বা প্রজ্ঞা বলে অভিহিত করা হয়েছে। একস্থানে মহান আল্লাহ বলেনঃ
لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولاً مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ
“আল্লাহ মুমিনদের প্রতি অবশ্য অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য থেকে তাদের নিকট রাসূল প্রেরণ করেছেন, যিনি তাঁর আয়াত তাদের নিকট আবৃত্তি করেন, তাদেরকে পরিশোধন করেন এবং কিতাব ও হিকমাহ তাদেরকে শিক্ষা দেন, যদিও তারা পূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তির মধ্যেই ছিল।”¹⁴。
সুতরাং, এই পুস্তক বা কিতাব হলো কুরআন করীম, যা হুবহু ওহীর শব্দে ও বাক্যে সংকলিত হয়েছে। আর হিকমাহ বা প্রজ্ঞা হলো ওহীর মাধ্যমে প্রদত্ত অতিরিক্ত প্রায়োগিক জ্ঞান যা হাদীস নামে সংকলিত হয়েছে। কাজেই ইসলামে ওহী দুই প্রকারঃ কুরআন ও হাদীস। ইসলামের এই দুই মূল উৎসকে রক্ষার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ওহীর জ্ঞানকে হুবহু নির্ভেজালভাবে সংরক্ষণের জন্য একদিকে কুরআন ও হাদীসকে হুবহু শাব্দিকভাবে মুখস্ত রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অপরদিকে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত নয় এমন কোনো কথাকে আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নামে বলতে কঠিনভাবে নিষেধ করা হয়েছে¹⁵। যেসব কথা আল্লাহ ও তাঁর

টিকাঃ
¹⁴ সূরা (৩) আল-ইমরান: ১৬৪ আয়াত। আরো দেখুন: সূরা বাকারা: ১২৯, ১৫১, ২৩১ আয়াত; সূরা নিসা: ১১৩ আয়াত; সূরা আহযাব ৩৪ আয়াত; সূরা জুমুআহ ২ আয়াত
¹⁵ হাদীসের নামে জালিয়াতি : ডঃ আব্দুল্লাহ খন্দকার জাহাঙ্গীর, পৃষ্ঠা নং – ১৯

📘 হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা পরিচিতি > 📄 কুরআন ও হাদীসের পার্থক্য

📄 কুরআন ও হাদীসের পার্থক্য


রাসূলের নামে সন্দেহাতীতভাবে প্রমানিত নয় সেসব কথা বলা বা প্রচার করা বা হাদীস নামে চালিয়ে দেয়া মানেই রাসূলের নামে মিথ্যা কথা প্রচার করা আর এর পরিণাম জাহান্নাম। এ প্রসঙ্গে রাসূল (সাঃ) এর একটি হাদীস উল্লেখ করা যায়। হাদীসটি নিম্নরূপঃ-
حَدَّثَنَا عَلِيُّ بْنُ الْجَعْدِ، قَالَ أَخْبَرَنَا شُعْبَةُ، قَالَ أَخْبَرَنِي مَنْصُورٌ، قَالَ سَمِعْتُ رِبْعِيَّ بْنَ حِرَاشٍ، يَقُولُ سَمِعْتُ عَلِيًّا، يَقُولُ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم " لاَ تَكْذِبُوا عَلَى، فَإِنَّهُ مَنْ كَذَبَ عَلَى فَلْيَلِجِ النَّارَ
আলী ইবনুল জা'দ (রহঃ) ... 'আলী (রাঃ) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, নবী বলেছেনঃ তোমরা আমার উপর মিথ্যারোপ করো না। কারণ আমার উপর যে মিথ্যারোপ করবে সে জাহান্নামে প্রবেশ করবে।¹⁶
আল কুরআনের উৎস যেমন আল্লাহ্ কর্তৃক অবতারিত ওহী তেমনি হাদীসের উৎস ওহীয়ে ইলাহী। যেমনঃ আল্লাহ বলেনঃ
وَأَنْزَلَ اللَّهُ عَلَيْكَ الْكِتٰبَ وَالْحِكْمَةَ وَعَلَّمَكَ مَا لَمْ تَكُنْ تَعْلَمُ
আল্লাহ্ তা'আলা তোমার উপর কিতাব এবং হিকমত অবতীর্ণ করেছেন¹⁷। এ আয়াতে বর্ণিত আল্লাহর তরফ থেকে অবতারিত কিতাব ও হিকমত কি? তার ব্যাখ্যার বিশিষ্ট তাবিয়ী হাসান বসরী (রহঃ) বলেন, কিতাব হচ্ছে আল কুরআন এবং হিকমত হলো আস্ সুন্নাহ বা হাদীস। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) নিজেও বলেনঃ তোমরা জেনে রাখ, আমাকে কুরআনের সাথে এর মত আরেকটি বিষয়ও দেয়া হয়েছে। (আবু দাউদ, দারিমী, ইবনে মাজাহ্)।
প্রখ্যাত তাবিয়ী হাসান ইবনে আতিয়াহ বলেন, জিবরাঈল (আঃ) সুন্নাহ নিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কাছে এরূপ অবতীর্ণ হতেন যেমন তিনি কুরআন নিয়ে তাঁর উপর নাযিল হতেন। এ প্রসঙ্গে আরও একজন প্রখ্যাত বিদ্বান হাফেয ইবনে কাসীর বলেছেনঃ সুন্নাহ্ তাঁর উপরে এরূপ নাযিল হত যেমন কুরআন নাযিল হত। কিন্তু হাদীস (জিবরাঈল মারফত) তিলাওয়াত করা হত না যেমন কুরআন তেলওয়াত করা হত। এ সমস্ত বর্ননা প্রমান করে কুরআনের উৎস যেমন আল্লাহর ওহী তেমনি হাদীসে-রাসূলের উৎস ওহীয়ে ইলাহী। সুতরাং, কুরআন ও হাদীস উভয়ই ওহীর উৎস হতে উৎসারিত হলেও এতদুভয়ের মধ্যে নানা দিক দিয়া পার্থক্য
বিদ্যমান। এর বিস্তারিত আলোচনা পেশ করা আবশ্যক যা নিম্নে উপস্থাপন করা হলোঃ-
কুরআন মজীদ এক অপূর্ব মু'জিযা। এটি কেবল শব্দ, ভাষা ও সাহিত্যের দিক দিয়েই মু'জিযা নয়; এর বিষয়বস্তু, আলোচন্য বিষয়ের ব্যাপকতা, প্রসারতা, গভীরতা ও সূক্ষ্মতা এবং এর উপস্থাপিত মানব কল্যাণকর পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থাও এক অপূর্ব ও চরম বিস্ময়কর মু'জিযা। প্রথম গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বোত্তম কালাম হচ্ছে কুরআন মজীদ, এটির অলৌকিক বৈশিষ্ট্যের কারণে কুরআন মজীদ কালজয়ী, সর্বপ্রকার পরিবর্তণ, পরিবর্ধন ও সংশোধন-সংযোজন হতে চিরসুরক্ষিত এবং বিনা অযুত তা স্পর্শ ও পাঠ করা হারাম।
নামাযে এটি সুনির্দিষ্টভাবে পাঠ করা অবশ্য কর্তব্য। কিন্তু হাদীসসমূহ কুরআনের ন্যায় কোন মু'জিযা নয় বরং হাদীসের মূল কথাটিই শুধ ওহীর মাধ্যমে হযরতের স্বচ্ছ ও পবিত্র হৃদয়পটে প্রতিফলিত হয়েছে। তিনি নিজ ভাষায় তা জনসমক্ষে পেশ করেছন।
এজন্য এর ভাষা' মতলু' নয়; হাদীসের ভাষা ও শব্দের তিলাওয়ারত করা বাধ্যতামূল নয় বরং এর মূল বক্তব্য ও ভাবধারা অনুসরণ করার জন্যই শরীয়াতে নির্দেশ দান করা হয়েছে। এই কারণেই এটিকে 'ওহীয়ে গায়ের মতলু' নামে অভিহিত করা হয়। কিন্তু কুরআন মজীদের ভাব-শব্দ সব কিছুই আল্লাহর, আল্লাহর নিকট হতে অবতীর্ণ। তাই এ প্রসঙ্গে আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী
লিখেছেন, "ওহীয়ে 'মতলু' হচ্ছে কুরআন মজীদ। অপর প্রকার ওহী রাসূলে করীম (সাঃ) হচ্ছে (বর্ণনাকারীদের সূত্রে) বর্ণিত। আল্লামা মুহাম্মদুরল মাদানী লিখেছেন, "কুরআন হাদীসের পারস্পরিক কার্থক্য ছয়টি দিক দিয়া বিবেচ্য। প্রথম, কুরআন অলৌকিক বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মু'জিযা' হাদীস তা নয়।
দ্বিতীয়, কুরআন পাঠ না হলে নামায বিশুদ্ধ হয় না, হাদীস সেরূপ নয়।
তৃতীয়, কুরআন ও এর সামান্য অংশও কেউ অস্বীকার করলে সে নিশ্চিত কাফির হয়ে যায়, কিন্তু বিশেষ কারণের ভিত্তিতে বিশেষ কোন হাদীস মেনে নিতে অস্বীকৃত হলে কাফির হতে হয় না।
চতুর্থ, কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার জন্য আল্লাহ ও রাসূলের মাঝখানে জিব্রাঈলের মধ্যস্থতা, অপরিহার্য; হাদীসের জন্য এটি জরুরী নয়।
পঞ্চম, কুরআনের প্রতিটি শব্দ ও কথা আল্লাহর নিজস্ব, হাদীসের শব্দ ও ভায়া রাসূলের নিজের এবং
ষষ্ঠ, কুরআন অযু ও পবিত্রতার সাথে স্পর্শ করা কর্তব্য, বিনা অযুতে স্পর্শ করা যায় না। হাদীস সম্পর্কে এরূপ কোন নির্দেশ নেই। অন্য কথায় চিঠি ও মৌখিক পয়গামের মধ্যে যে পার্থক্য, কুরআন ও হাদীসের মধ্যেও অনুরূপ পার্থক্য বলা যায়।
লোক মারফত মৌখিক পয়গম প্রেরণের ক্ষেত্রে মূল কথাটিই মুখ্য, ভাষা বা শব্দের তারতম্যে কিছুই আসে যায় না। কিন্তু চিঠির ব্যাপারটি এরূপ নয়।
প্রথমত এটি চিঠি প্রেরকের নিজস্ব মর্জি অনুযায়ী রচিত হয় এবং দ্বিতীয়ত এটিতে নিজ মত ও উদ্দেশ্য অনুযায়ী পূর্ণ ভাব প্রকাশক ভাষা ও শব্দ প্রয়োগ হয়ে থাকে। কিন্তু মৌখিক কথা প্রেরণ শব্দ ও ভাষার সেই বাধ্যবাধকতা থাকে না।
কুরআন ও হাদীসের স্বকীয় বৈশিষ্ট্যে যদিও এইরূপ পার্থক্য রয়েছে- কুরআনকে মনে করা যায় আল্লাহর নিজ লিখিত চিঠি আর হাদীস হচ্ছে আল্লাহর মৌখিক পয়গাম; কিন্তু সেই সেঙ্গ এই কথাও মনে রাখা আবশ্যক যে, আল্লাহরর এই 'চিঠি' ও 'মৌখিক পয়গাম' উভয়েরই মুখপাত্র হচ্ছেন বিশ্বনবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)।
এই কারণে তাঁর নিকট হতে আল্লাহর লিখিত চিঠি (কুরআন) গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে তাঁর মৌখিক পয়গাম (হাদীস) ও জেনে নেয়া একান্ত আবশ্যক। আল্লাহর প্রেরিত এই দুটি জিনিসই পরস্পর ওতপ্রোতভাবে জড়িত। একটিকে বাদ দিয়া অপরটি গ্রহণ করলে মূল উদ্দেশ্যই বিনষ্ট হতে বাধ্য। কেননা হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) বলেছেনঃ আমি যখন কোন হাদীস বর্ণনা করি, তখন তোমাদের নিকট এর কুরআন সমর্থিত হওয়ারই সংবাদ প্রকাশ
করি। ইবনে যুবায়র বলেছেনঃ আমার নিকট যে হাদীসই পৌঁছেছে আমি আল্লাহর কিতাবে এর সমর্থন ও এটির সত্যতার প্রমাণ পেয়েছি। শরীয়াতের ইমামগণের সর্বসম্মত মত হলঃ সমগ্র সুন্নাত ও হাদীস কুরআনেরই ব্যাখ্যা।
যাই হোক, কুরআন মাজীদ ও হাদীস সম্বন্ধে নিম্নে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ-

টিকাঃ
¹⁶ ইলম বা জ্ঞান অধ্যায় :: সহিহ বুখারী :: খন্ড ১ :: অধ্যায় ৩ :: হাদীস ১০৮
¹⁷ সূরা নিসা, আয়াত – ১১৩
¹⁸ রাহে আমাল – আল্লামা জলীল আহসান নদভী (রহঃ), অনুবাদ প্রফেসর ডঃ এ, বি, এম সিদ্দিকুর রহমান, পৃষ্ঠা নং – ৩৫ – ৩৬।

📘 হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা পরিচিতি > 📄 কুরআন মজীদ

📄 কুরআন মজীদ


কুরআন মাজীদঃ (আরবী: القرآن আল্-কুর'আন্‌) ইসলামী ইতিহাস অনুসারে দীর্ঘ তেইশ বছর ধরে খণ্ড খণ্ড অংশে এটি ইসলামের নবী মুহাম্মাদের নিকট অবতীর্ণ হয়। কুরআনে সর্বমোট ১১৪টি সূরা আছে। আয়াত বা পঙক্তি সংখ্যা ৬,২৩৬ টি। এটি মূল আরবী ভাষায় অবর্তীর্ণ হয়। মুসলিম চিন্তাধারা অনুসারে কুরআন ধারাবাহিকভাবে অবর্তীর্ণ ধর্মীয় গ্রন্থগুলোর মধ্যে সর্বশেষ এবং গ্রন্থ অবতরণের এই ধারা ইসলামের প্রথম বাণীবাহক আদম থেকে শুরু হয়। কুরআনে অনেক ঐতিহাসিক ঘটনার উল্লেখ রয়েছে যার সাথে বাইবেলসহ অন্যান্য ধর্মীয়গ্রন্থের বেশ মিল রয়েছে, অবশ্য অমিলও কম নয়। তবে কুরআনে কোনও ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা নেই।¹⁹
ইসলামী ভাষ্যমতে কুরআন অপরিবর্তনীয় এবং এ সম্পর্কে মুসলিমরা কুরআনের যে আয়াতের কথা উল্লেখ করে থাকে তা হলঃ
إِنَّا نَحْنُ نَزَّلْنَا الذِّكْرَ وَإِنَّا لَهُ لَحَافِظُونَ
"আমি সয়ং এ উপদেশ গ্রন্থ নাযিল করেছি এবং আমি নিজেই এর সংরক্ষক"²⁰।
আলোচ্য আয়াতের ব্যাখ্যায় বলা যায় যে, এই বাণী, যার বাহককে তোমরা পাগল বলছো, আমিই তা অবতীর্ণ করেছি, তিনি নিজে তা তৈরী করেননি। তাই এ গালি তাঁকে দেয়া হয়নি বরং আমাকে দেয়া হয়েছে। আর তোমরা যে এ বাণীর কিছু ক্ষতি করতে পারবে তা ভেবো না। এটি সরাসরি আমার হেফাজতে রয়েছে। তোমাদের চেষ্টায় একে বিলুপ্ত করা যাবে না। তোমরা একে ধামাচাপা দিতে চাইলেও দিতে পারবে না। তোমাদের আপত্তি ও নিন্দাবাদের ফলে এর মর্যাদাও কমে যাবে না। তোমরা ঠেকাতে চাইলেও এর দাওয়াতকে ঠেকাতে পারবে না। একে বিকৃত বা এর মধ্যে পরিবর্তন সাধন করার সুযোগও তোমরা কেউ কোনদিন পাবে না²¹।

টিকাঃ
¹⁹ হাদীস সংকলনের ইতিহাস, মাওলানা আব্দুর রহীম, খায়রুন প্রকাশনী।
²⁰ সূরা হিজর, আয়াত নং – ৯
²¹ সাইয়েদ আবুল আলা মওদূদী, তাফহীমূল কুরআন, আধুনিক প্রকাশনী, বাংলা বাজার, ঢাকা

📘 হাদীস শাস্ত্রের পরিভাষা পরিচিতি > 📄 কুরআনের উৎপত্তি

📄 কুরআনের উৎপত্তি


আরবী ব্যাকরণে কুরআন শব্দটি মাসদার তথা ক্রিয়াবাচক বিশেষ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এটি قرأ করা'আ ক্রিয়া পদ থেকে এসেছে যার অর্থ পাঠ করা বা আবৃত্তি করা। এই ক্রিয়াপদটিকেই কুরআন নামের মূল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়”। এই শব্দটির মিটার বা "মাসদার" (الوزن) হচ্ছে غفران তথা "গুফরান"। এর অর্থ হচ্ছে অতিরিক্ত ভাব, অধ্যবসায় বা কর্ম সম্পাদনার মধ্যে একাগ্রতা।
উদাহরণস্বরুপ, غفر নামক ক্রিয়ার অর্থ হচ্ছে "ক্ষমা করা"; কিন্তু এর আরেকটি মাসদার রয়েছে যার যা হলো غفران, এই মাসদারটি মূল অর্থের সাথে একত্রিত করলে দাঁড়ায় ক্ষমা করার কর্মে বিশেষ একাগ্রতা বা অতি তৎপর বা অতিরিক্ত ভাব। সেদিক থেকে কুরআন অর্থ কেবল পাঠ করা বা আবৃত্তি করা নয় বরং আরেকটি অর্থ হচ্ছে একাগ্র ভঙ্গীতে পাঠ বা আবৃত্তি করা।
কুরআনের মধ্যেও এই অর্থেই কুরআন শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। কুরআনের সূরা আল-কিয়ামাহ্ (৭৫ নং সূরা) ১৮ নং আয়াতে এই শব্দটি উল্লেখিত আছেঃ
فَإِذَا قَرَأْنَاهُ فَاتَّبِعْ قُرْآنَهُ²²
অতঃপর, আমি যখন তা পাঠ করি (কুরা'নাহু), তখন আপনি সেই পাঠের (কুরআ'নাহ্) অনুসরণ করুন। অবশ্য এ নিয়ে সংশয় রয়েছে যে, এই শব্দটি আসলেই আরবি ভাষার মূল থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে নাকি সিরিয়াক থেকে এসেছে। এই সংশয়টি প্রথম উত্থাপন করেন জার্মান সেমিটিক বিশেষজ্ঞ থিওডর নোলদেকে। তিনি ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে Geschichte des Qorâns (কুরআনের ইতিহাস) নামীয় গ্রন্থে উল্লেখ করেন যে আরবী কুরআন শব্দটি সিরিয়াক ভাষায় ব্যবহৃত বিশেষ্য পদ qeryānā (কেরিয়ানা) থেকে এসে থাকতে পারে। সিরিয়াক ভাষার এই শব্দটি আবার সিরিয়াক ক্রিয়াপদ √q থেকে উৎপত্তি লাভ করেছে যার অর্থ পাঠ করা বা আবৃত্তি করা। নোলদেকের উদ্ধৃতি উল্লেখ করা যেতে পারে - "পাঠ কর"-এর মতো একটি ক্রিয়াপদ প্রাক-সেমিটীয় হতে পারে না, আমরা ধারণা করতে পারি শব্দটি আরবিতে প্রবেশ করেছে, খুব সম্ভবত উত্তরাঞ্চলের কোনো ভাষা থেকে... যেহেতু সিরিয়াক ভাষায় קרא নামক ক্রিয়া এবং "কেরিয়ানা" নামীয় একটি বিশেষ্যও রয়েছে যার অর্থ ἀνάγνωσις (পাঠ করা) এবং ἀνάγνωσμα (ভাষণ) উভয়টিই হতে পারে, এবং উপর্যুক্ত সকল
ধারণার কারণেই এই সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায় যে, কুরআন আরবি ভাষার নিজসৃষ্ট কোনো শব্দ নয় যার অর্থ একই রকম হতে পারে, বরং এটি সিরিয়াক ভাষা থেকে ধার করা শব্দ হতে পারে যা ful'an ধরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠা পেয়ে থাকবে। এ সম্পর্কে সবচেয়ে আধুনিক মতগুলোর মধ্যে রয়েছে ক্রিস্টোফ লুক্সেনবার্গ কর্তৃক প্রদত্ত মত। লুক্সেনবার্গের মতে কুরআন প্রকৃতপক্ষে একটি সিরিয়াক লেকশনারী ছিলো।

টিকাঃ
²² BYU Studies, vol. 40, number 4, 2001. Page 52
সূরা আল-কিয়ামাহ্ (৭৫ নং সূরা) ১৮ নং আয়াত
Payne Smith, Jessie (Ed.) (1903). A compendious Syriac dictionary founded upon the Thesaurus Syriacus of R. Payne Smith. Oxford University Press, reprinted in 1998 by Eisenbraums. ISBN 1-57506-032-9. Page 516, 519
Now read a word such as culture "can not be the Primal Semites, we may assume that it has migrated into Arabia, and qeryānā although probably from the North ... Now the Syrian קרא next to the verb, the noun, in ἀνάγνωσις the double meaning (reading, reading aloud) and ἀνάγνωσμα (reading, reading), it gains in connection with the same Erörteten, the presumption of Wahrscheinlichkkeit that the term non-Arab Qoran is a development from the equivalent infinitives, but a borrowing from that Syria's words at the same time align with the type Fulan. "Noldeke
Christoph Luxenberg (2004) -- Die Syro-Aramäische Lesart des Koran: Ein Beitrag zur Entschlüsselung der Koransprache. Berlin: Verlag Hans Schiler. 20054 ISBN 3-89930-028-9. Page 81-84.

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00