📄 সংশয়-৫ : হাদীছ ছহীহ-যঈফ নির্ণয় করা মুহাদ্দিছদের নিজস্ব ইজতিহাদী বিষয়
সুতরাং তা মানা অপরিহার্য নয়।
হাদীছ অস্বীকারকারী তুর্কী লেখক Mustafa İslamoglu (জন্ম: ১৯৬০খ্রি.) বলেন, 'ছহীহ হাদীছ হল মুহাদ্দিছদের ব্যক্তিগত মানদণ্ডে উত্তীর্ণ কিছু হাদীছ। এর মানে এই নয় যে, এগুলো সত্যিই রাসূলের হাদীছ। তার প্রমাণ হ'ল, ইমাম বুখারী যাদেরকে ছিকাহ বা শক্তিশালী হিসাবে উল্লেখ করেছেন এমন প্রায় ৬০০ রাবী থেকে ইমাম মুসলিম হাদীছ গ্রহণ করেননি। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, এগুলো সব মুহাদ্দিছদের ব্যক্তিগত মূল্যায়নের উপর ভিত্তি শীল। সুতরাং কারো ব্যক্তিগত মূল্যায়নের মাধ্যমে কোন চিরন্তন সত্য নির্ণিত হতে পারে না এবং তা মুসলিম উম্মাহ তর্কাতীতভাবে গ্রহণ করতে পারে না। তা করতে আমরা বাধ্যও নই। সুতরাং হাদীছকে অবশ্যই কুরআন দ্বারা যাচাই করতে হবে। ইতিপূর্বে ড. আহমাদ আমীন, মাহমূদ আবু রাইয়াহ, আসলাম জয়রাজপুরী প্রমুখ উপরোক্ত যুক্তিতে এবং জারাহ ও তা'দীলের ক্ষেত্রে মুহাদ্দিছদের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যকে উদাহরণ হিসাবে নিয়ে এসে মুহাদ্দিছদের গৃহীত নীতির প্রতি অনাস্থা জ্ঞাপন করেছেন।
পর্যালোচনা : মুহাদ্দিছদের হাদীছ সমালোচনা নীতিমালার প্রতি অনাস্থাসূচক বক্তব্য আধুনিক যুগে প্রাচ্যবিদদের মাধ্যমেই প্রথম শুরু হয়েছে। এর সাথে যোগ দিয়েছেন আধুনিকতাবাদী কিছু মুসলিম বিদ্বানও। কিন্তু হানাফী বিদ্বান ইবনুল হুমام (৮৬১হি.)-এর মন্তব্য থেকে বোঝা যায় পূর্বযুগেও এই ধারণার অস্তিত্ব ছিল। যেমন তিনি বলেন, 'ইমাম মুসলিম তাঁর গ্রন্থে অনেক এমন বর্ণনাকারীর বর্ণনা নিয়ে এসেছেন, যারা সমালোচনা মুক্ত নয়, আবার ছহীহ বুখারীতে সমালোচিত বর্ণনাকারীর বর্ণনা রয়েছে। সুতরাং বর্ণনাকারীদের বিষয়টি বিদ্বানদের ইজতিহাদের ওপরই আবর্তিত হয়।... হাদীছের হাসান, ছহীহ, যঈফ হওয়া সনদের ভিত্তিতে 'যান্নী' সিদ্ধান্ত মাত্র। সুতরাং বাস্তবে ছহীহটি ভুল হওয়া এবং যঈফটি ছহীহ হওয়ার সম্ভাবনা রাখে।
অপর হানাফী বিদ্বান যাফর আহমাদ উছমানী (১৯৭৪খ্রি.) বলেন, إن تضعيف الرجال وتوثيقهم وتصحيح الحديث وتحسينها أمر اجتهادي ولكل وجهة 'বর্ণনাকারীদেরকে যঈফ বা শক্তিশালী ঘোষণা করা এবং হাদীছকে ছহীহ বা হাসান আখ্যায়িত করার বিষয়টি ইজতিহাদী। প্রত্যেকেরই নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। তিনি এর ব্যাখ্যায় বলেন, 'কোন একজনের নিকট একটি হাদীছ ছহীহ হওয়ার অর্থ এমন নয় যে অপরজনের নিকটও হাদীছটি ছহীহ হবে, আবার কোন একজনের নিকট হাদীছটি যঈফ হওয়ার অর্থ অপরজনের নিকটও তা যঈফ হবে এমন নয়। ' এই বক্তব্যের টীকায় সমকালীন প্রসিদ্ধ হানাফী বিদ্বান আব্দুল ফাত্তাহ আবূ গুদ্দাহ (১৯৯৭খ্রি.) লিখেছেন, فإن دعواه الصحة والحسن في حديث لا تتأتي ولا تتمشي بدون Enter تقليده رأي المحدثين في ذلك فأي فرق بين تقليدهم وتقليد المجتهدين দাবী করে যে, কোন হাদীছ ছহীহ বা হাসান, তার পক্ষে এ হুকুম দেয়া সম্ভব নয় মুহাদ্দিছদের মতামতের অন্ধানুসরণ ব্যতীত। অতএব মুহাদ্দিছদের অন্ধানুসরণ এবং মুজতাহিদদের অন্ধানুসরণের মধ্যে পার্থক্য কোথায়?
আবুল আ'লা মওদূদী (১৯৭৯খ্রি.)-ও অনুরূপ মত প্রকাশ করে বলেন, 'মুহাদ্দিছ বিদ্বানগণের খিদমত সর্বস্বীকৃত। এতে কোন কথা নেই। কথা কেবল এ বিষয়ে যে, পুরোপুরিভাবে তাঁদের উপরে ভরসা করা কতটুকু সঠিক হবে। হাজার হৌক তাঁরা তো ছিলেন মানুষই। অতএব কিভাবে আপনি একথা বলতে পারেন যে, তাঁরা যে হাদীছকে 'ছহীহ' সাব্যস্ত করেছেন, আসলেই সেটা ছহীহ? অধিকন্তু যার কারণে তাদের মধ্যে হাদীছের বিশুদ্ধতা সম্পর্কে সর্বোচ্চ ধারণার সৃষ্টি হয়, সেটি হ'ল রেওয়ায়াতের (বর্ণনার) দৃষ্টিকোণ, দিরায়াতের (যুক্তি গ্রাহ্যতার) দৃষ্টিকোণ নয়। তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ছিল বেশীর বেশী সাংবাদিকের দৃষ্টিভঙ্গি, ফিকহ বা তাৎপর্য অনুধাবন তাদের বিষয়বস্তু ছিল না। নিচে এই মতাবলম্বীদের ভ্রান্ত দৃষ্টিভঙ্গি খণ্ডন করা হ'ল।
ক. হাদীছ সংগ্রহ, সংকলন এবং সার্বিক বিচার-বিশ্লেষণের পর সর্বশেষ স্তর হ'ল, তার ওপর হুকুম আরোপ করা। আর তা হ'ল হাদীছটিকে ছহীহ বা যঈফ সাব্যস্ত করা। এটি নিঃসন্দেহে ইজতিহাদী বিষয়, কিন্তু মনে রাখতে হবে যে, এই ইজতিহাদ তথাকথিত ব্যক্তিগত মানদণ্ড বা অভিরুচির ওপর নির্ভরশীল নয়, বরং হাদীছের ইসনাদ ও মতনের উপর সুদীর্ঘ গবেষণার নিয়মতান্ত্রিক ও প্রমাণনির্ভর সিদ্ধান্ত, যার পিছনে রয়েছে হাজারো বিদ্বানের কঠোর সাধনা এবং সীমাহীন কায়িক ও মানসিক পরিশ্রম। এজন্য তাদের গবেষণা ও তার ফলাফলের ওপর বিদ্বানগণ একবাক্যে ঐক্যমত পোষণ করেছেন এবং তা আমলযোগ্য দলীল হিসাবে গ্রহণ করেছেন। মুহাদ্দিছদের গবেষণা পদ্ধতি ছিল অত্যন্ত সূক্ষ্ম, নির্মোহ এবং নিয়মতান্ত্রিক। কোন বিজ্ঞ ব্যক্তির পক্ষে তাদের গৃহীত নীতিমালার গভীরতা, সক্ষমতা এবং সুদৃঢ়তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। মানবেতিহাসে এর চেয়ে কোন নিরাপদ এবং শ্রেষ্ঠ নীতিমালা অদ্যাবধি আবিষ্কৃত হয়নি। যা সমালোচনামূলক গবেষণাধারা (Critical Study)-এর সর্বোচ্চতম নমুনা প্রতিষ্ঠা করেছে। আমেরিকান গবেষক এরিক ডিকেনসন (জন্ম: ১৯৬১খ্রি.) ইবনু আবী হাতেম (৩২৭হি.) সংকলিত الجرح والتعديل গ্রন্থের ভূমিকা تقدمة المعرفة বিস্তারিত পর্যালোচনার পর তিনি হাদীছ সমালোচনা শাস্ত্রের সূক্ষ্মতা লক্ষ্য করে বিমোহিত হন। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন যে, 'সত্যিই যদি ছহীহ হাদীছ থেকে থাকে, তবে এটা সুনিশ্চিতভাবে বলা যায় যে, মুহাদ্দিছগণ ছহীহ হাদীছগুলো চিহ্নিত করতে সম্ভাব্য সর্বোত্তম পন্থাই উদ্ধাবন করেছিলেন।'
খ. মুহাদ্দিছদের এই গবেষণাধারাকে বুঝতে হ'লে প্রথমে জানতে হবে যে, কী কী বৈশিষ্ট্যের কারণে তারা শ্রেষ্ঠত্ব এবং নির্ভরযোগ্যতা অর্জন করেছিলেন। যেমন:
সততা: ওয়াকী' ইবনুল জারাহ (১৯৮হি.) বলেন, هذه صناعة لا يرتفع فيها إلا صادق منه “এটি এমন একটি শাস্ত্র যাতে সত্যবাদী ছাড়া কেউ টিকে থাকতে পারে না।” এই গুণাবলী অর্জনে যে আল্লাহভীতি, ন্যায়নিষ্ঠা, যাবতীয় পাপ থেকে বেঁচে থাকা, আমানতদারিতা, আল্লাহর দ্বীনকে সঠিকভাবে হেফাযত করার জন্য সুতীব্র দায়বোধ প্রয়োজন ছিল তা মুহাদ্দিছ বিদ্বানগণ যথাযথভাবে সংরক্ষণ করতেন। দ্বীনের পথে মানুষের সবচেয়ে বড় সম্পদ হ'ল সততা ও সত্যবাদিতা, নতুবা মানুষের কাছে কখনও বিশ্বস্ততা অর্জন করা সম্ভব নয়। আর-রাগিব আল-আস্ফাহানী (৫০২হি.) বলেন, هو أصل المحمودات وركن النبوات ونتيجة التقوى ولولاه لبطلت أحكام الشرائع '(সত্যবাদিতা) হ'ল সকল প্রশংসনীয় বিষয়ের মূল, নবুওয়াতের ভিত্তি এবং আল্লাহভীতির ফলশ্রুতি। যদি সত্যবাদিতা না থাকত তবে শরী'আতের সমন্ত বিধানসমূহ অকার্যকর হয়ে যেত। এজন্যই আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَتَّقُوا اللَّهَ وَكُونُوا مَعَ الصَّادِقِينَ 'হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সত্যবাদীদের অন্তর্ভুক্ত হও।' মুহাদ্দিছগণকে আল্লাহ তাঁর দ্বীনের সংরক্ষণের জন্যই সম্ভবত সততার মূর্ত প্রতীকে পরিণত করেছিলেন।
খতীব আল-বাগদাদী (৪৬৩হি.) তাঁর 'আল-জামি' লি আখলাক্বির রাবী' গ্রন্থে এরূপ অনেক উদাহরণ নিয়ে এসেছেন। যেমন ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন إِنِّي لَأُحَدِّثُ بِالْحَدِيثِ فَأَسْهَرُ لَهُ مَخَافَةَ أَنْ أَكُونَ قَدْ أَخْطَأْتُ (২০০হি.) বলেন, فيه 'আমি হাদীছ বর্ণনা করি আর রাতে বিনিদ্র থাকি এই ভয়ে যে, আমি তাতে কোন ভুল করে ফেললাম কি না। শু'বা (১৬০হি.) বলেন, আমি সুলায়মান আত-তায়মীর চেয়ে সত্যবাদী আর কাউকে দেখিনি। যখন তিনি কোন হাদীছ বর্ণনা করতেন, তাঁর চেহারা পরিবর্তন হয়ে যেত।
এই সততা বজায় রাখার প্রতিজ্ঞা থেকেই তাঁরা 'ইসনাদ' ব্যবস্থার ওপর অত্যন্ত গুরুত্বারোপ করেছিলেন। ইবনু সীরীন বলেন, كان في الزمان الأول لا يسألون عن الإسناد، فلما وقعت الفتنة، سألوا عن الإسناد যুগে তারা ইসনাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করত না। কিন্তু যখন ফিতনা সংঘটিত হ'ল, তখন তারা ইসনাদ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করতে লাগল। ফলে এই সততার চর্চা ইলমুল হাদীছের সর্বত্র কঠোরভাবে চর্চিত হয়েছে, যা মুহাদ্দিছ বিদ্বানদের বিশ্বাসযোগ্যতাকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।
বস্তুনিষ্ঠতা ও আমানতদারিতা: মুহাদ্দিছদের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল বস্তুনিষ্ঠতা। ফলে কোন প্রকার বহিরাগত চাপ বা ব্যক্তিগত অনুরাগ কিংবা বিরাগ তাদেরকে পথচ্যুত করতে পারেনি। এই নিখাঁদ বস্তুনিষ্ঠতা বজায় রাখতে তাঁদের গৃহীত পদ্ধতিসমূহ ছিল - (ক) ইসনাদ সংরক্ষণ। (খ) বর্ণনাকারীদের প্রকৃত অবস্থা সাধ্যমত পুংখানুপুংখ যাচাই করা। (গ) আহকামগত হাদীছের ক্ষেত্রে বিতর্কের ঊর্ধ্বে থাকার জন্য তারা এমন বর্ণনাকারীকে কেবল গ্রহণযোগ্য মনে করেছিলেন যারা সকল প্রকার অভিযোগ থেকে মুক্ত। (ঘ) তারা কারো প্রতি অনুরাগ বা বিরাগের বশবর্তী হয়ে মতামত প্রকাশ করতেন না এবং সত্য প্রকাশে কখনও ভয় পেতেন না। এমনকি নিজের পিতা ও ভাইয়ের বিরুদ্ধেও তারা 'জারাহ' (সমালোচনা) করতে দ্বিধা করতেন না। (ঙ) তাঁরা এমন কোন ব্যক্তির সমালোচনা গ্রহণ করতেন না, যারা তার সাথী বা সমসাময়িক, বিশেষত যারা হিংসাবশত সাথীদের ব্যাপারে কোন কথা বলতে পারেন। এ সকল কঠোর নীতি অবলম্বনের মাধ্যমে তাঁদের একটিই উদ্দেশ্য ছিল যেন ইসলামী শরী'আহ্বর মধ্যে কোন বাতিলের অনুপ্রবেশ না ঘটতে পারে। আর ঘটলেও তা যেন সহজে চিহ্নিত করা যায়।
ধৈর্য এবং অধ্যাবসায় : হাদীছ একত্রিত করা এবং তা সঠিকভাবে সংরক্ষণ করার জন্য মুহাদ্দিছগণ যে অস্বাভাবিক পরিশ্রম করেছেন, পৃথিবীর অন্য কোন শাস্ত্রে তার নযীর পাওয়া যায় না। কখনও একটি মাত্র হাদীছ সংগ্রহের জন্য তারা একটি দেশ সফর করতেন। এরূপ অসংখ্য ঘটনা হাদীছ শাস্ত্রের ইতিহাসে লিপিবদ্ধ রয়েছে। ইবনুল মুসাইয়িব (৯৪হি.) বলেন, إني كنت لأسير الأيام والليالي في طلب الحديث الواحد হাদীছ সংগ্রহের জন্য দিন-রাত সফর করতাম। ইমাম বুখারী (২৫৬হি.) হাদীছ সংগ্রহের অভিযানে মাত্র ২১ বছর বয়সেই আরব ও খোরাসানের প্রায় সমস্ত শহর পরিভ্রমণ করেন। এমন পরিশ্রম, ধৈর্য ও অধ্যাবসায়ের নযীর দেখিয়েছিলেন হাদীছ শাস্ত্রের অন্য ইমামগণও।
সাধারণ জীবনযাপন ও পরহেযগারিতা : মুহাদ্দিছ বিদ্বানগণ কালিমামুক্ত, পবিত্র জীবন যাপন করতেন। তারা নিজেদের পরহেযগারিতা অক্ষুণ্ণ রাখতে পারতপক্ষে কখনও শাসকদের নিকটবর্তী হ'তেন না এবং তাদের দারস্থও হ'তেন না। হাম্মাদ ইবনু সালামাহ (১৬৭হি.) বলতেন, যদি কোন শাসক তোমাকে আহ্বান করে সূরা ইখলাছ পাঠের জন্য, তবুও তার কাছে যেও না। তারা শাসকদের উপহারও ফেরৎ দিতেন যার শত শত নযীর রয়েছে। তারা শাসকের সাথে সম্পর্ক রাখা বা তাদের উপহার গ্রহণ করাকে ফিতনা মনে করতেন এবং দুনিয়াদারীর প্রতি আকর্ষণসৃষ্টির কারণ মনে করতেন। এই আপোষহীন মনোভাব তাঁরা জীবনের সর্বক্ষেত্রে বজায় রাখতেন।
বিজ্ঞানভিত্তিক নীতিমালা অনুসরণ: জাল হাদীছ চিহ্নিত করার জন্য প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা হিসেবে মুহাদ্দিছ বিদ্বানগণ বিশেষ পদ্ধতি অবলম্বন করে হাদীছ সংগ্রহ, সংকলন ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ শুরু করেন। তাঁরা প্রণয়ন করেছিলেন ইলমুল ইসনাদ, ইলমুল মতন, ইলমুর রিওয়ায়াহ, ইলমু রিজালিল হাদীছ, ইলমুল জারাহ ওয়াত তা'দীল, ইলমু ঈলালিল হাদীছ, ইলমু মুস্তালাহিল হাদীছের মত হাদীছ সমালোচনা শাস্ত্রের কঠোর নিয়মতান্ত্রিক হাতিয়ার। * একটি মাত্র হাদীছকে বিশুদ্ধভাবে সংগ্রহের জন্য তারা যে অমানুষিক পরিশ্রম করতেন, তা ইতিহাসের পাতায় কিংবদন্তী হয়ে আছে।
সুতরাং এ সকল বৈশিষ্ট্য থেকে আমরা স্পষ্ট বুঝতে পারি যে, সাধারণ অন্য যে কোন শাস্ত্রের বিশেষজ্ঞ এবং গবেষকদের চেয়ে হাদীছ গবেষকদের অবস্থান ছিল অনেক ঊর্ধ্বে। আল্লাহ তাঁদেরকে যেন এই দ্বীনের হেফাযতের জন্য আলাদাভাবে প্রস্তুত করেছিলেন। ইবনু তায়মিয়া (৭২৮হি.) বলেন, 'প্রতিটি শাস্ত্রের জন্য বিশেষ লোক রয়েছে, যারা সে ব্যাপারে বিশেষজ্ঞ। তবে মুহাদ্দিছগণ হ'লেন তাদের সবার চেয়ে উঁচু মর্যাদায় অধিষ্ঠিত। তারা সর্বাধিক সত্যবাদী, সর্বোচ্চ মর্যাদার অধিকারী এবং সর্বাধিক ধর্মপ্রাণ। তারা বর্ণনাকারীদের জারাহ ও তা'দীলের ক্ষেত্রে আমানতদারিতা, সত্যবাদিতা বজায় রাখা এবং এ ব্যাপারে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতায় ছিলেন অনেক উচ্চস্থানীয়। যদিও তাদের মধ্যে জ্ঞানে এবং ন্যায়পরায়ণতায় স্তরভেদ ছিল যেমনটি সকল জ্ঞানের ক্ষেত্রে হয়ে থাকে।
গ. হাদীছ শাস্ত্রে গৃহীত নীতিমালাকে মুহাদ্দিছদের ইজতিহাদী সিদ্ধান্ত বলার সুযোগ নেই। কেননা এতে ধারণা বা কল্পনার স্থান নেই, বরং তা প্রত্যক্ষ দর্শন (مشاهدات) কিংবা শ্রবণ (مسموعات)-এর ওপর নির্ভরশীল জ্ঞান। যে সকল শর্তারোপ করা হয়েছে যেমন- সনদের অবিচ্ছিন্নতা, রাবীদের শক্তিশালী হওয়া, বর্ণনাকারী এবং যার নিকট থেকে বর্ণনা করা হচ্ছে, তারা সমসাময়িক যুগের হওয়া এবং তাদের মধ্যে সাক্ষাৎ হওয়া, হাদীছ শ্রবণ করা প্রভৃতি শর্তসমূহ সবই পঞ্চেন্দ্রিয় দ্বারা উপলব্ধিযোগ্য ও প্রত্যক্ষ জ্ঞান। এছাড়া মুহাদ্দিছগণ বর্ণনাকারীদের অবস্থা বর্ণনার জন্য জারাহ ও তা'দীলের যে সকল শব্দ ব্যবহার করেছেন, তা অধিকাংশই প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, ধারণার বশবর্তী হয়ে কিংবা ক্বিয়াস করে বলেন না। উদাহরণস্বরূপ রাসূল (ছা.)-এর সত্যবাদিতা এমনই সুনিশ্চিত বিষয় ছিল যে, কাফিররাও তীব্র শত্রুতা সত্ত্বেও তা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছিল। এর পক্ষে তাদের দলীল ছিল এই যে, রাসূল (ছা.) কখনও মিথ্যা বলেননি। সুতরাং জারাহ ও তা'দীল কোন ধারণানির্ভর জ্ঞান নয়, বরং প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতা নির্ভর জ্ঞান, যা অকাট্য। তেমনিভাবে কোন বর্ণনাকারীর বর্ণিত হাদীছ অপর বর্ণনাকারীদের বিরোধী হওয়ার বিষয়টিও সুস্পষ্ট, এতে কোন ধারণার অবকাশ নেই। কোন ছহীহ হাদীছের মধ্যে গোপন ত্রুটি না থাকার শর্তারোপ করা একটি নেতিবাচক শর্ত। এটিও ধারণার মাধ্যমে জানা যায় না বরং তা বাস্তব অভিজ্ঞতার মুখাপেক্ষী। অতএব হাদীছ শাস্ত্র কারও ব্যক্তিগত চিন্তানির্ভর জ্ঞান নয় বরং বিজ্ঞানভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ একটি শাস্ত্রের নাম।
ঘ. একজন মুহাদ্দিছ এবং একজন ফক্বীহের ইজতিহাদ এক নয়। কারণ একজন ফক্বীহ যখন কোন মাসআলা নির্ণয় করেন, তখন তিনি তাঁর গৃহীত সিদ্ধান্তকে কখনও চূড়ান্ত ঘোষণা করেন না এবং তার ওপর আমল করা অন্যদের জন্য ওয়াজিবও বলেন না। কিন্তু একজন মুহাদ্দিছ যখন কোন হাদীছ ছহীহ বলে চিহ্নিত করেন, তখন ইসনাদ এবং অন্যান্য প্রমাণাদির ভিত্তিতে তার ওপর আমল করা ওয়াজিব হয়ে যায়। এই বিষয়ে বিদ্বানদের মাঝে কোন বিতর্ক নেই। যারা উভয় ইজতিহাদকে এক দৃষ্টিতে দেখেন তাঁরা অবশ্যই জানেন যে, একজন সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত বর্ণনাকারীর বর্ণনার ওপর আস্থা রাখা একটি সর্বসম্মত বিষয়। এতে পৃথিবীর কোন বিবেকসম্পন্ন মানুষের মাঝে কোন দ্বন্দ্ব নেই। কুরআনেই বলা হয়েছে যে দু'জন ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীর সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিচারক ফয়ছালা করবেন। সুতরাং মুহাদ্দিছের ইজতিহাদ কোন ব্যক্তিগত রায়ের নাম নয়। এই দৃষ্টিকোণ থেকেই বিদ্বানগণ বলেছেন যে, إذا صح الحديث فهو مذهبي 'যখন কোন (বিষয়ে) হাদীছ ছহীহ পাওয়া যাবে, তখন সেটিই আমরা মাযহাব।' বিদ্বানগণ এজন্য যঈফ হাদীছকেও কিয়াসের ওপর অগ্রাধিকার দিতেন। কেননা কোন হাদীছ মূলগতভাবে অকাট্য, কিন্তু তাতে সন্দেহের অনুপ্রবেশ ঘটে বর্ণনাকারীদের কারণে। আর ক্বিয়াস হ'ল মূলগতভাবেই ধারণানির্ভর। সুতরাং মুহাদ্দিছের ইজতিহাদ এবং ফকীহের ইজতিহাদের প্রকৃতি নিঃসন্দেহে ভিন্ন। ইবনু তায়মিয়া (৭২৮হি.) বলেন, 'যদি দু'জন ফক্বীহ কোন দ্বীনের কোন শাখাগত বিষয়ে পরস্পর মতভেদ করেন, তখন বিতর্ককারীর জন্য দলীল প্রতিষ্ঠিত হয় না; তবে হাদীছ ব্যতীত, যে হাদীছটি সম্পর্কে সে জানে যে, হাদীছটি দলীলযোগ্য কিংবা কোন মুহাদ্দিছ তাকে ছহীহ বলেছেন। এই মন্তব্য থেকে প্রমাণিত হয় যে, ফক্বীহের রায় দ্বারা দলীল প্রতিষ্ঠিত হয় না, কিন্তু মুহাদ্দিছের রায় দ্বারা দলীল প্রতিষ্ঠিত হয়। সুতরাং উভয়ের ইজতিহাদের মাঝে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে।
৬. যদি মুহাদ্দিছদের প্রচেষ্টা ব্যক্তিগত মানদণ্ড মোতাবেক বা ইজতিহাদী না হয়, তবে তাদের মধ্যে কোন হাদীছ সম্পর্কে ছহীহ বা যঈফ রায় প্রদানে পারস্পারিক মতভেদ কেন দেখা দেয়?-এ প্রশ্নের জবাবে কয়েকটি কারণ উল্লেখ করা যায়। যেমন:
(১) কিছু হাদীছের দু'টি সূত্র রয়েছে। একটি ছহীহ, অপরটি যঈফ। যখন এক মুহাদ্দিছের নিকট হাদীছটি যইফ সূত্র থেকে পৌঁছায় তখন তাকে যঈফ আখ্যা দেন; আর যখন ছহীহ সূত্রে পৌঁছায় তখন তাকে ছহীহ আখ্যা দেন।
(২) দু'জন মুহাদ্দিছের উভয়ের নিকট হাদীছটি যঈফ সূত্রে পৌঁছানোর পর একজন হাদীছটির সপক্ষে শাওয়াহিদ পেলে তাকে ছহীহ ঘোষণা করেন। অপরপক্ষে যিনি শাওয়াহিদের সন্ধান পান নি, তিনি হাদীছটিকে ছহীহ ঘোষণা করেন নি। মুহাদ্দিছগণ এই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে কোন হাদীছকে যখন 'হাসান লি যাতিহি' অথবা 'হাসান লি গায়রিহি' আখ্যা দিয়ে থাকেন।
(৩) দু'জন মুহাদ্দিছের উভয়ই যঈফ হাদীছটির পক্ষে শাওয়াহিদ পেয়েছেন, কিন্তু একজন হাদীছটির একটি বিশেষ সনদ ও মতনকে যঈফ ঘোষণা করেছেন। এজন্য সুনানুত তিরমিযীতে দেখা যায়, غريب بهذا اللفظ 'হাদীছটি এই শব্দে দুর্বল।'
(৪) কোন একজন হাদীছটি এই জন্য যঈফ আখ্যা দিয়েছেন যখন তিনি দেখেছেন যে, একজন ইমাম হাদীছটির কোন বর্ণনাকারীকে ত্রুটিপূর্ণ বলেছেন। অথচ সেই ইমাম পুনরায় অধিক বিশ্লেষণের পর তাঁর মন্তব্য থেকে সরে এসেছেন, যা এই মুহাদ্দিছ অবগত ছিলেন না।
চ. জারাহ ও তা'দীলের ক্ষেত্রে মতভেদের জবাবে কয়েকটি কারণ বর্ণনা করা যায়। যেমন:
(১) কোন ইমাম একজন বর্ণনাকারীর অবস্থা পর্যালোচনার পর তার মধ্যে এমন কিছু পাননি যে, তাকে ত্রুটিপূর্ণ ঘোষণা করা যায়। কিন্তু পরবর্তীতে সেই বর্ণনাকারীর আচরণে পরিবর্তন আসে। ফলে সেই একই ইমাম তাকে ত্রুটিপূর্ণ ঘোষণা করেন। কিন্তু সেই ইমামের ছাত্ররা তাদের ওস্ত াদের উভয় কথাটি শ্রবণ করেছিলেন। ফলে যারা তাঁকে 'তা'দীল' করতে শুনেছিলেন তারা উক্ত বর্ণনাকারীকে শক্তিশালী বলেছেন। আর যারা 'জারাহ' করতে বা ত্রুটিপূর্ণ বলতে শুনেছিলেন তারা উক্ত বর্ণনাকারীকে দুর্বল বলেছেন। অথচ এই ছাত্ররা দু'টি ভিন্ন সময়ে ওস্তাদের নিকট থেকে শুনেছিলেন। এমন একজন রাবী ছিলেন আব্দুল্লাহ ইবনু লাহি'আহ (১৭৫হি.)। যিনি প্রথমে ছিকাহ রাবী হিসাবেই পরিগণিত হ'তেন। কিন্তু তাঁর লাইব্রেরীতে আগুন লেগে সকল কিতাব পুড়ে যায়। ফলে তাঁর স্মৃতিশক্তি থেকে হাদীছ বর্ণনা করতে গিয়ে অনেক ভুল করেন এবং যঈফ হিসাবে গণ্য হ'তে থাকেন।
(২) কখনও কোন ইমাম বর্ণনাকারী সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারেননি এবং তাঁর জ্ঞান মোতাবেক বর্ণনাকারীকে ত্রুটিপূর্ণ পান নি। কিন্তু অপর একজন ইমাম তার সম্পর্কে অধিক অবগত ছিলেন এবং তাকে ত্রুটিপূর্ণ আখ্যা দিয়েছেন।
(৩) মানুষ হিসাবে প্রত্যেকেই সমান জ্ঞান ও মর্যাদার অধিকারী নয়। কিছু কমবেশী থাকেই। এমনকি নবীদের মধ্যে এমন তফাৎ ছিল। তেমনিভাবে মুহাদ্দিছদের মধ্যেও সব ধরণের ব্যক্তি ছিলেন। যাদের কেউ ছিলেন নরমপন্থী, কেউ মধ্যমপন্থী আবার কেউ কট্টরপন্থী। ফলে ইমাম আল-ই'জলী, ইবনু হিব্বান অপরিচিত রাবীদের ছিকাহ ঘোষণা করা বিষয়ে নরমপন্থা অবলম্বন করেছেন। অনুরূপভাবে ইমাম তিরমিযী এবং ইমাম হাকিমও রাবীদের প্রতি অধিক সুধারণা রাখতেন। অপরদিকে ইমাম আহমাদ, ইমাম দারাকুলী, ইবনু আদী প্রমুখ ছিলেন মধ্যমপন্থী। আবার ইয়াহইয়া ইবনু সাঈদ, ইয়াহইয়া ইবনু মাঈন, আবূ হাতিম আর-রাগী, ইমাম নাসাঈ প্রমুখ জারাহ করার ক্ষেত্রে অতিশয় কট্টরপন্থা এবং সতর্কতা অবলম্বন করতেন।
এ সকল কারণে রাবীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য কিছু হয়েছে। কিন্তু বিভক্তি নিরসন এবং সমন্বয় সাধনের জন্য মুহাদ্দিছগণ যথাযথ নীতি অবলম্বন করেছেন। 'জারাহ মুফাস্সার' (ত্রুটির বিস্তারিত বিবরণ), 'তা'দীল মুফাস্সার' (ন্যায়পরায়ণতার বিস্তারিত বিবরণ) প্রভৃতি পরিভাষা এজন্যই সৃষ্টি করা হয়েছে। সুতরাং জারাহ ও তা'দীলের ক্ষেত্রে মতভেদ থাকলেও তা নিষ্পত্তির জন্য মুহাদ্দিছদের নিকট নিয়মতান্ত্রিক ব্যবস্থাপনাও রয়েছে।
ছ. ইমাম বুখারী যাদের নিকট থেকে হাদীছ গ্রহণ করেছেন, এমন ছয়শ মুহাদ্দিছ থেকে ইমাম মুসলিম হাদীছ গ্রহণ করেন নি- এই মন্তব্য মুহাদ্দিছদের নীতি সম্পর্কে অজ্ঞতার ফসল। মুহাদ্দিছগণ সর্বদা চাইতেন উচ্চতর সনদে হাদীছ বর্ণনা করার জন্য। অথবা ইতিপূর্বে যে সনদ থেকে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে, তা ভিন্ন অন্য কোন সনদে হাদীছটি বর্ণনা করার জন্য। এতে সূত্র সংখ্যা যত বৃদ্ধি পাবে, হাদীছটির নিশ্চয়তাও তত বৃদ্ধি পাবে। সুতরাং ইমাম বুখারী গৃহীত ছয় শত মুহাদ্দিছ থেকে ইমাম মুসলিম হাদীছ বর্ণনা না করার অর্থ এই নয় যে, তিনি তাদের পরিত্যাজ্য মনে করেছেন। যেমন ইমাম বুখারী তাঁর গ্রন্থে ইমাম শাফেঈ থেকে একটি হাদীছও বর্ণনা করেন নি। এর অর্থ এই নয় যে তিনি তাঁকে পরিত্যাজ্য মনে করেছেন। বরং সনদের উচ্চতা সন্ধান কিংবা নতুন নতুন সনদ সন্ধানের জন্য তাঁরা অনেক সময় পূর্ব উদ্ধৃত বর্ণনাকারীদের সনদ পুনরাবৃত্তি করতেন না।
জ. ড. আহমাদ আমীন সহ কতিপয় লেখক জারাহ-তা'দীলের এই মতভেদকে মুহাদ্দিছদের মাযহাবী দ্বন্দ্ব ও মতপার্থক্যের ফলাফল হিসাবে আখ্যা দিয়েছেন। এর জবাবে আস-সিবাঈ (১৯৫৬খ্রি.) বলেন, জারাহ ও তা'দীল কখনও ব্যক্তিগত বিরোধ কিংবা মাযহাবী মতপার্থক্যের ওপর ভিত্তিশীল ছিল না। মুহাদ্দিছগণ শুধু মাযহাবী গোঁড়ামির কারণে কখনও বিরোধী ফিরকাসমূহের রাবীদের প্রত্যাখ্যান করেন না। তাদের মতপার্থক্যের ভিত্তি ছিল কেবলমাত্র রাবীর সত্যবাদিতা ও মিথ্যাবাদিতা, ন্যায়পরায়ণতা ও ফাসিকী এবং তার সংরক্ষণ ক্ষমতা এবং ভুলপ্রবণতা সম্পর্কে তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির পার্থক্য। এজন্য দেখা যায় হাদীছের কিতাব সমূহে এমনকি ছহীহাইন গ্রন্থদ্বয়েও অনেক বিদআতী ব্যক্তির বর্ণনা গ্রহণ করা হয়েছে, কেননা তাদের সত্যবাদিতা প্রমাণিত হয়েছে। অর্থাৎ বিদ'আতী হওয়া সত্ত্বেও তাদের বর্ণনা প্রত্যাখ্যান করা হয় নি। যেমন: খারিজী রাবী ঈমরান ইবনু হিত্ত্বান (৮৪হি.) এবং শী'আ রাবী আবান ইবনু তাগাল্লুব (১৪১হি.)। সুতরাং জারাহ-তা'দীলের পশ্চাতে কোন মাযহাবী বিদ্বেষ, দুরভিসন্ধি বা ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থের কোন বিষয় ছিল না।
ঝ. বিদ্বানদের গৃহীত জারাহ ও তা'দীলের নীতিমালা যদি কেউ অধ্যয়ন করেন তবে স্পষ্ট বুঝতে পারবেন যে, জারাহ-তা'দীলের ক্ষেত্রে যে কারো মন্তব্য সরাসরি গৃহীত হয় না। যে সকল বিদ্বানের মন্তব্যকে গ্রহণযোগ্য মনে করা হয় তাদের মধ্যেও স্তরভেদ করা হয়েছে- (১) কট্টরপন্থী (২) মধ্যমপন্থী এবং (৩) নরমপন্থী। সুতরাং যখন কোন মন্তব্য পরস্পরবিরোধী হয়, তখন সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মাধ্যমে তার মধ্যে কোনটি অগ্রাধিকারযোগ্য তা চিহ্নিত করার ব্যবস্থা রয়েছে। তাছাড়া প্রতিটি ক্ষেত্রে এত সূক্ষ্ম নীতিমালার ব্যবহার করা হয়েছে যে, কেউ কোন ব্যক্তিগত উদ্দেশ্যে মন্তব্য করলেও তা সহজেই চিহ্নিত করা সম্ভব। এজন্য আয-যাহাবী (৭৪৮হি.) মন্তব্য করেন, لم يجتمع اثنان من علماء هذا الشأن قط على توثيق ضعيف، ولا على تضعيف ثقة
(জারাহ ও তা'দীল) বিদ্বানদের মধ্যে এমন দু'জন বিদ্বানকে পাওয়া যাবে না যারা কোন দুর্বল রাবীকে নির্ভরযোগ্য কিংবা কোন শক্তিশালী রাবীকে যঈফ সাব্যস্ত করার ব্যাপারে একমত হয়েছেন। অর্থাৎ কোন ব্যক্তি যদি বাস্তবে 'যঈফ' হয়ে থাকেন তবে তার ব্যাপারে এমন দু'জন বিদ্বান পাওয়া যাবে না যারা তাকে বাস্তবতার বিপরীতে 'নির্ভরযোগ্য' বলেছেন, আবার যদি কোন ব্যক্তি বাস্তবে 'ছিকাহ' বা শক্তিশালী হয়ে থাকেন, তবে এমন দু'জন বিদ্বান পাওয়া যাবে না যারা বাস্তবতার বিপরীতে তাকে 'যঈফ' বলেছেন। সুতরাং কোন ক্ষেত্রে যদি মতভেদ হয়েও থাকে, তবে সেখানে সঠিক মতটিও চিহ্নিত করার ব্যবস্থাপনা রয়েছে।
অতএব এ কথা নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে যে, মুহাদ্দিছদের মধ্যে হাদীছ গ্রহণের মৌলিক শর্তাবলীসমূহ নিয়ে কোন মতভেদ নেই। যে সব মতভেদ রয়েছে, তা শাখাগত মতভেদ এবং সমাধানযোগ্য। আর তারা যে সকল হাদীছকে ছহীহ বলেন তা মৌলিক সকল শর্ত পূরণ করার পরই ছহীহ হিসাবে আখ্যায়িত হয়। এতে কারও কোন ব্যক্তিগত মতের স্থান নেই যে তাকে ইজতিহাদী মত আখ্যায়িত করে পরিত্যাগ করার সুযোগ রয়েছে, যেমনটি অনেকে ধারণা করে থাকেন। কেননা তা সুস্পষ্ট দলীলের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। কোন ক্ষেত্রে অধিকতর শক্তিশালী দলীল উপস্থিত হওয়ার কারণে পূর্ববর্তী মুহাদ্দিছদের সিদ্ধান্ত ভুলও প্রমাণিত হ'তে পারে। সেক্ষেত্রে শক্তিশালী দলীলেরই অনুসরণ করতে হবে, যদি কেউ পরবর্তীতে তা চিহ্নিত করতে পারেন। অর্থাৎ হাদীছ শাস্ত্র পুরোটাই দলীলের ওপর প্রতিষ্ঠিত। এখানে কোন মুহাদ্দিছ বা ইমামের অন্ধানুসরণ করা হয় না যদি তার ভুল প্রমাণিত হয়, এমনকি তিনি যদি ইমাম মালিকের মত বিখ্যাত মুহাদ্দিছও হন। আর এই দলীলের মজবুত ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত থাকার কারণেই অদ্যাবধি হাদীছ গবেষণা সুনির্দিষ্ট নীতি মোতাবেক চলমান রয়েছে। মুহাম্মাদ নাছিরুদ্দীন আল-আলবানী (১৯৯৯খ্রি.), শু'আইব আল-আরনাউত্ব প্রমুখ মুহাদ্দিছদের নিরবচ্ছিন্ন হাদীছ গবেষণা এর পক্ষে জোরালো সাক্ষ্য প্রদান করে।
ঞ. আবুল আ'লা মওদূদী প্রমুখ ব্যক্তিত্বগণ মুহাদ্দিছদের প্রতি যে যুক্তিতে অনাস্থা প্রকাশ করেছেন, তা কোন ইলমী দৃষ্টিকোণ থেকে বলেন নি, বরং ব্যক্তিগত কিছু দৃষ্টিভঙ্গি পেশ করেছেন মাত্র। তাঁদের এই সন্দেহের জবাবে ছানাউল্লাহ অমৃতসরী (১৯৪৮খ্রি.) বলেন, যদি কোন বিচারক আদালতে কোন আসামীর বিরুদ্ধে সাক্ষীদের মতামত বিশ্লেষণ করার পর আসামীকে দোষী সাব্যস্ত করেন এবং শাস্তি প্রদান করেন, সেক্ষেত্রে এ কথা বলা কি যুক্তিসংগত হবে যে, এই সাক্ষীদের মতামত প্রবল ধারণাভিত্তিক এবং এতে ভুলের সম্ভাবনা আছে, সুতরাং আদালতের এই বিচার গ্রহণযোগ্য নয়? দ্বিতীয়ত, কাউকে যদি বিচারকের দায়িত্ব দেয়া হয়, তাহ'লে তিনি চুরি, যেনা, হত্যা প্রভৃতি অপরাধে আসামীদের বিচারকার্য কিসের ভিত্তিতে পরিচালনা করবেন? সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে না কি নিজস্ব বুদ্ধিবৃত্তি ও অভিরুচির ভিত্তিতে? নিঃসন্দেহে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে। কেননা আল্লাহর আইনেও যেমন বিচারকার্য সাক্ষ্য-প্রমাণ ব্যতীত গ্রহণযোগ্য নয়, তেমনি পৃথিবীর কোন আইনেও সাক্ষ্য-প্রমাণ ব্যতীত নিজস্ব বুদ্ধি-বিবেচনার কোন মূল্য নেই। ঠিক একইভাবে মুহাদ্দিছদের নীতিমালাও সর্বজনগ্রাহ্য সাক্ষ্য আইনের মত নীতিমালার ভিত্তিতে পরিচালিত। এখানে ব্যক্তির নিজস্ব বুদ্ধি-বিবেচনা প্রয়োগের সুযোগ নেই। বরং মুহাদ্দিছদের নীতিমালা সাক্ষ্য আইনের চেয়ে অনেক বেশী কঠিন এবং শক্তিশালী। কেননা বহু সাক্ষী আছে যারা মিথ্যা সাক্ষ্য প্রদান করে থাকে। কিন্তু মুহাদ্দিছরা কেবল বর্ণনাকারীকে বিশ্বস্ত পেলেই তার বর্ণনার উপর নির্ভর করতেন না। বরং নানা দিক থেকে বর্ণনাকারী ও তার বর্ণনা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়ার পরই তা গ্রহণ করতেন।
দ্বিতীয়ত, যদি এই মতের প্রবক্তাগণের দাবী অনুযায়ী হাদীছ ছহীহ ও যঈফ নির্ধারণের জন্য যদি 'ব্যক্তিগত অভিরুচি' ব্যবহার করা হয়, তবে বিশেষ কোন ব্যক্তির অভিরুচিকে তারা গ্রহণযোগ্য মনে করবেন? এই অভিরুচির কায়দা-কানুন কী হবে? কেননা একজনের অভিরুচি অপরজনের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হওয়াই স্বাভাবিক। ব্যক্তি ও পরিবেশ ভেদে প্রতিটি যুগে এই অভিরুচির পরিবর্তন হবেই। সুতরাং এই দাবী গ্রহণ করা হ'লে হাদীছসমূহ মানুষের ব্যক্তিগত অভিরুচির ফাঁদে আটকা পড়ে সব নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে এবং ইতিহাসের সম্পদে পরিণত হবে। শুধু তাই নয়, সেক্ষেত্রে ইসলামের মধ্যে বিভিন্ন দল ও মতের দ্বন্দ্বকে কেবল প্রত্যেকের 'ব্যক্তিগত অভিরুচি' বলে বৈধতা প্রদান করতে হবে। সুতরাং কেউ কাউকে বলতে পারবে না যে, অমুক কর্মটি বৈধ নয়, কেননা সেটি হাদীছের খেলাফ। কেননা প্রত্যেকেই যার যার অভিরুচি মোতাবেক স্বাধীনভাবে হাদীছ গ্রহণ করবেন এবং বর্জন করবেন। যেহেতু কার অভিরুচি সঠিক না ভুল, তা নির্ণয়ের কোন সুনির্দিষ্ট মানদণ্ড নেই। মাওলানা আবুল আ'লা মওদূদী নিজেই এই বাস্তবতা স্বীকার করেছেন। সুতরাং এই মত একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়।
আমরা বলব, এই মতের প্রবক্তাদের বক্তব্য কুরআনে বর্ণিত মুশরিকদের এই দাবীর মতই যেখানে বলা হয়েছে- قَالُوا مَا أَنْتُمْ إِلَّا بَشَرٌ مِثْلُنَا وَمَا أَنْزَلَ الرَّحْمَنُ مِنْ شَيْءٍ إِنْ أَنتُمْ إِلَّا تَكْذِبُونَ
আমাদের মতই মানুষ। আর পরম করুণাময় তো কিছুই অবতীর্ণ করেন নি। তোমরা শুধু মিথ্যেই বলছ’। অর্থাৎ মুশরিকরা যেমন নবীদেরকে মিথ্যুক বলতে চেয়েছে এই যুক্তিতে যে তারাও তাদের মত মানুষ, ঠিক একইভাবে তারাও মুহাদ্দিছগণের ভুল হওয়াকে অপরিহার্য করতে চাইছেন, এই যুক্তিতে যে তাঁরাও মানুষ। আর এই সম্ভাবনার কারণে মুহাদ্দিছরা দলীলভিত্তিক সুনির্দিষ্ট নীতিমালার আলোকে কোন হাদীছ ছহীহ ও যঈফ নির্ণয় করার পরও তাঁরা দাবী করেন যে, এগুলি তাদের নিকট বিশ্বাসযোগ্য নয়। আমাদের প্রশ্ন হ'ল, এছাড়া আর কোন নীতিমালা অবলম্বন করলে তারা এর প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করবেন? যদি তাঁদের দাবী মোতাবেক 'ব্যক্তিগত অভিরুচি' ভিত্তিক কোন বিকল্প নীতিমালা সত্যিই থেকে থাকে, তবে তার অস্তিত্ব কোথায়? যদি সত্যিই এমন ব্যবস্থাপনা যুক্তিসঙ্গত ও নিরাপদ হ'ত, তবে মুহাদ্দিছগণ নিশ্চিতভাবে তা অবলম্বন করতেন। কেননা হাদীছ সঠিকভাবে সংরক্ষণের জন্য এমন কোন উপায় নেই, যা তারা ব্যবহার করেন নি।
টিকাঃ
৩৭৫. দ্র. তাঁর ব্যক্তিগত ওয়েবসাইট- www.mustafaislamoglu.com.
৩৭৬. ড. আহমাদ আমীন, যুহাল ইসলাম, ২য় খণ্ড, পৃ. ১১৭-১১৮; ঐ, ফাজরুল ইসলাম, পৃ. ২১৭।
৩৭৭. মাহমূদ আবূ রাইয়াহ, আযওয়াউন আলাস সুন্নাহ আন-নাবাভিয়াহ, পৃ. ৩৩৩-৩৩৪।
৩৭৮. আসলাম জয়রাজপুরী, মাক্কামে হাদীছ, পৃ. ১২৭, ১৩৩-১৩৫।
৩৭৯. وقد أخرج مسلم عن كثير في كتابه ممن لم يسلم من غوائل الجرح وكذا في ٥٩٥ البخاري جماعة تكلم فيهم فدار الأمر في الرواة على اجتهاد العلماء فيهم... فإن وصف الحسن والصحيح والضعيف إنما هو باعتبار السند ظنا، أما في الواقع فيجوز غلط الصحيح وصحة الضعيف -ইবনুল হুমাম, ফাতহুল কাদীর, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪৪৫-৪৪৬।
৩৮০. যাফর আহমাদ ওছমানী, কাওয়াইদুন ফী উলুমিল হাদীছ, পৃ. ৪৯।
৩৮১. তদেব, পৃ. ৫৫।
৩৮২. তদেব।
৩৮৩. সাইয়িদ আবুল আ'লা মওদূদী, তাফহীমাত, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৫৬।
৩৮৪. In the end, I think, any estimation of the efficacy of hadith criticism as a means for authenticating hadith must turn on the question of whether there were any authentic hadith at all. If there were, it must be granted that the critics devised the best possible means for identifying them. See: Eerik Dickinson, The Development of Early Muslim Hadith Criticism, p. 125-126.
৩৮৫. খত্বীব আল-বাগদাদী, আল-জামি' লি আখলাক্কির রাবী, ২য় খণ্ড, পৃ. ৭।
৩৮৬. আর-রাগিব আল-আস্ফাহানী, আয-যারী'আতু ইলা মাকারিমিশ শারী'আহ (কায়রো: দারুস সালাম, ২০০৭খ্রি.), পৃ. ১৯৩।
৩৮৭. সূরা আত-তাওবাহ, আয়াত: ১১৯।
৩৮৮. খত্বীব আল-বাগদাদী, আল-জামি' লি আখলাক্কির রাবী, ২য় খণ্ড, পৃ. ১০।
৩৮৯. খত্বীব আল-বাগদাদী, আল-জামি' লি আখলাক্কির রাবী, ২য় খণ্ড, পৃ. ৯।
৩৯০. ইবনু রজব, শারহু ইলালিত তিরমিযী, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৫৪।
৩৯১. আয-যাহাবী, তাযকিরাতুল হুফ্ফায, ১ম খণ্ড, পৃ. ৪৫।
৩৯২. আয-যাহাবী, সিয়ারু আ'লামিন নুবালা, ১২শ খণ্ড, পৃ. ৩৯৪, ৪০৭।
৩৯৩. আয-মিযী, তাহযীবুল কামাল, ৭ম খণ্ড, পৃ. ২৬৬।
৩৯৪. মুহাম্মাদ আলী ক্বাসিম আল-উমরী, দিরাসাতুন ফী মানহাজিন নাক্বদ ইন্দাল মুহাদ্দিছীন (জর্ডান: দারুন নাফাইস, ২০০০খ্রি.), পৃ. ৩৬২-৩৬২।
৩৯৫. ছিদ্দীক হাসান খান কনৌজী, আল-হিত্তাহ ফি যিকরিস সিহাহ আস-সিত্তাহ, পৃ. ১৪২; মুহাম্মাদ আব্দুর রহীম, হাদীস সংকলনের ইতিহাস, পৃ. ৪২৯।
৩৯৬. খতীব আল-বাগদাদী, আর-রিহলাহ ফী তালাবিল হাদীছ (বৈরূত: দারুল কুতুব আল-ইলমিয়াহ, ১৩৯৫হি), পৃ. ১১৯, ১২৭, ১৯৫; ঐ, আল কিফায়াহ ফী ইলমির রিওয়ায়াহ, পৃ. ৪০২।
৩৯৭. فلكل علم رجال يعرفون به والعلماء بالحديث أجل هؤلاء قدرا ، وأعظمهم ٥٥٩٠ صدقا، وأعلاهم منزلة، وأكثر دينا، وهم من أعظم الناس صدقا وأمانة، وعلما وخبرة، فيما يذكرونه عن الجرح والتعديل .... كان بعضهم أعلم بذلك من بعض، وبعضهم أعدل من بعض في وزن كلامه، كما أن الناس في سائر العلوم كذلك ইবনু তায়মিয়া, মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাভিয়াহ (রিয়াদ: ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু সউদ ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৮৬খ্রি.), ৭ম খণ্ড, পৃ. ৩৪-৩৫।
৩৯৮. ইবনুছ ছালাহ, মুকাদ্দামাতু ইবনুছ ছালাহ, পৃ. ২৮।
৩৯৯. দ্র. আব্দুস সালাম আল-মুবারাকপুরী, সীরাতুল ইমাম আল-বুখারী, পৃ. ৩৫১-৩৫২।
৪০০. ইবনু তায়মিয়া, মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাভিয়াহ, ৭ম খণ্ড, পৃ. ৩০২।
৪০১. দ্র. আব্দুস সালাম আল-মুবারাকপুরী, সীরাতুল ইমাম আল-বুখারী, পৃ. ৩৫৩।
৪০২. অদেব, পৃ. ৩৫৩-৩৫৪।
৪০৩. আস-সাখাভী, ফাতহুল মুগীছ, ৪র্থ খণ্ড, পৃ. ৩৬০।
৪০৪. আস-সিবাঈ, আস-সুন্নাতু ওয়া মাকানাতুহা, পৃ. ২৬৭-২৬৮।
৪০৫. ইবনু হাজার আল-আসকালানী, নুযহাতুন নাযার, পৃ. ১৩৮।
৪০৬. মুহাম্মাদ মুরতাযা ইবনু আয়েশ মুহাম্মাদ, আশ-শায়খ ছানাউল্লাহ আল-অমৃতসরী ওয়া জুহুদুহুদ দা 'আভিয়াহ (অপ্রকাশিত এম.এ. থিসিস) (রিয়াদ: ইমাম মুহাম্মাদ ইবনু সউদ বিশ্ববিদ্যালয়, ১৯৯৬খ্রি.), পৃ. ২৮৭-২৯০।
৪০৭. জালালুদ্দীন আস-সুয়ূত্বী, তাদরীবুর রাবী, ১ম খণ্ড, পৃ. ৩৯০।
৪০৮. মুহাম্মাদ মুরতাযা, আশ-শায়খ ছানাউল্লাহ আল-অমৃতসরী ওয়া জুহুদুহুদ দা'আভিয়াহ, পৃ. ২৯০।
৪০৯. সূরা ইয়াসীন, আয়াত: ১৫।
৪১০. ইবনু তাইমিয়া (৭২৮হি.) ইসনাদ এবং রেওয়ায়েত ভিত্তিক মুহাদ্দিছদের নীতিমালার প্রতি আনাস্থাশীল তৎকালীন রাফিযীদের অবস্থান সম্পর্কে যা বলেছিলেন, তা এই মতাবলম্বীদের সাথে অনেকটা মিলে যায়। তিনি বলেন, وهم في ذلك شبيه باليهود والنصارى، فإنه ليس لهم إسناد والإسناد من خصائص هذه الأمة، وهو من خصائص الإسلام، ثم هو في الإسلام من خصائص أهل السنة. والرافضة من أقل الناس عناية ، إذ كانوا لا يصدقون إلا بما يوافق أهواءهم، وعلامة كذبه أنه يخالف هواهم। দ্র. ইবনু তাইমিয়া, মিনহাজুস সুন্নাহ আন-নাবাভিয়াহ, ৭ম খণ্ড, পৃ. ৩৭।