📘 হাদিস নিয়ে বিভ্রান্তি > 📄 চতুর্থ বিভ্রান্তি : ছাহাবীদের হাদীছ বিমুখতা ও রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণে অবহেলা

📄 চতুর্থ বিভ্রান্তি : ছাহাবীদের হাদীছ বিমুখতা ও রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণে অবহেলা


বিভ্রান্তি : তাদের ভাষায়, ইসলামে হাদীছ গুরুত্বহীন বলেই ছাহাবীগণ রাদি আল্লাহু আনহুম হাদীছ চর্চা থেকে বিরত ছিলেন। তাঁরা রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণকেও গুরুত্ব দিতেন না। সুতরাং হাদীছ গুরুত্বহীন। একে তেমন গুরুত্ব না দিলেও চলে।
ভ্রান্তি অপনোদন ৪ এটি একটি ডাহা মিথ্যা কথা। বরং ছাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছকে মুখস্থ রাখা ও তা কার্যে পরিণত করাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতেন। তাঁর যে কোন কাজ ও কথাকে নিজেদের জীবনে বাস্তবায়নে তাঁরা ছিলেন খুবই তৎপর। তাঁরা রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর হাদীছকে যে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করতেন, প্রমাণ হিসাবে কিছু উদাহরণ এখানে উপস্থাপন করা হল-
ক. পালাক্রমে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহচর্য লাভের কর্মসূচী গ্রহণ: নিজের অন্য দায়দায়িত্ব ও কর্মব্যস্ততার কারণে একজন ছাহাবী রাদি আল্লাহুর পক্ষে সকল সময় রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সাহচর্য লাভ করা সম্ভবপর হত না। তাঁর সমগ্র কর্মকাণ্ডই ছিল ছাহাবীদের জন্য অনুকরণীয়। যাতে নিজেদের অনুপস্থিতির কারণে তাঁর কোন কাজকর্ম অগোচরে না থেকে যায়, সে জন্য ছাহাবীরা পালাক্রমে তাঁর সাহচর্য গ্রহণ করতেন। কেউ না কেউ তাঁর সাথে থাকার চেষ্টা করতেন। ইমাম আল বুখারী রাহিমাহুল্লাহ 'উমার ইবনুল খাত্তাব রাদি আল্লাহু 'আনহুর সূত্রে বর্ণনা করেন যে, তিনি বলেছেন-
عن عمر قال : كنت أنا وجار لي من الأنصار في بني أمية بن زيد وهي من عوالي المدينة وكنا نتناوب الترول على رسول الله صلى الله عليه وسلم ينزل يوما وأنزل يوما فإذا نزلت جئته بخبر ذلك اليوم من الوحي وغيره وإذا نزل فعل مثل ذلك .
'মদীনার একপ্রান্তে অবস্থিত বানু উমাইয়্যাহ ইবন যায়িদ গোত্রের আমার এক আনসার প্রতিবেশী ও আমি পালাক্রমে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নিকট যাওয়া আসা করতাম। আমি একদিন যেতাম, তিনি অন্যদিন যেতেন। আমি গেলে সেই দিনের ওহী ও রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সকল কাজ সম্পর্কে তাঁকে অবহিত করতাম। আর তিনি গেলে একই ভাবে তিনি সেই দিনের ওহী ও রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাজ সম্পর্কে আমাকে অবহিত করতেন।'১১৫ রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কার্যক্রম তথা হাদীছের কোন অংশ যাতে নিজেদের অগোচরে না থেকে যায়, সে বিষয়ে ছাহাবীগণ যে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করতেন এ ঘটনা তারই সুস্পষ্ট প্রমাণ। এরপরেও তাদের এ দাবীর কোন ভিত্তি রয়েছে কি?
খ. রাসূলুল্লাহ ছال্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুকরণে জুতা বর্জন: বর্ণিত হয়েছে-
عن أبي سعيد الخدري إن رسول الله صلى الله عليه وسلم صلى فخلع نعليه فخلع الناس نعالهم فلما انصرف قال لم خلعتم نعالكم؟ فقالوا: يا رسول الله رأيناك خلعت فخلعنا قال إن جبريل أتاني فأخبرني أن بهما خبثا.
'আবূ সা'ঈদ আল-খুদরী রাদি আল্লাহু 'আনহু সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম সাথীদের নিয়ে ছালাত আদায় করছিলেন। হঠাৎ তিনি জুতা খুলে ফেললেন। তাঁকে দেখে ছাহাবী রাদি আল্লাহু আনহুমও তাঁদের জুতা খুলে ফেললেন। ছালাত শেষ হলে তিনি ছাহাবীদেরকে বললেন, কোন্ কারণ তোমাদেরকে জুতা খুলতে বাধ্য করল? তাঁরা বললেন, আপনাকে আমরা জুতা খুলে ফেলতে দেখেছি। তখন তিনি বললেন, জিবরাইল আমাকে আমার জুতায় ময়লা রয়েছে বলে সংবাদ দিয়েছিলেন। '১১৬ ছাহাবীগণ রাসূলুল্লাহ ছال্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তথা তাঁর হাদীছ ও কাজকর্মকে অবমূল্যায়ন ও উপেক্ষা করেননি। বরং তাঁরা সন্দেহাতীত ভাবে তাঁর সকল কিছুকেই অনুকরণ করতেন তারই উজ্জ্বল উদাহরণ হচ্ছে, এ ঘটনা। এরপরেও কি হাদীছ বিদ্বেষীদের অভিযোগের কোন মূল্য রয়েছে?
গ. রাসূলুল্লাহ ছال্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আংটি পরিধান ও বর্জন: বর্ণিত হয়েছে যে-
عن عبد الله بن عمر رضي الله عنهما قال : كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يلبس خاتما من ذهب فنبذه فقال لا ألبسه أبدا فنبذ الناس خواتيمهم.
'রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম স্বর্ণের আংটি পরিধান করা শুরু করলে, আছহাব রাদি আল্লাহু আনহুমও তাঁদের আংটি স্বর্ণ দ্বারা বানিয়ে পরিধান শুরু করলেন। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তা নিক্ষেপ করলেন এবং যখন এ ঘোষণা দিলেন যে, আমি আর কখনো তা পরিধান করব না, তখন লোকেরাও তা নিক্ষেপ করলেন।১১৭ ছাহাবাহ রাদি আল্লাহু আনহুম হাদীছ বিমুখ ছিলেন ও রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণকে গুরুত্ব দিতেন না বলে যারা হাদীছের গুরুত্বকে ভূলুণ্ঠিত করার অপপ্রয়াস চালাচ্ছে তাদের দাবী একেবারেই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। তার নির্ভেজাল অনুকরণ ও আনুগত্যের এ রূপ অসংখ্য সত্য ঘটনা ছাহাবা রাদি আল্লাহু আনহুম যে তাঁর যথার্থ অনুসারী ছিলেন তার জ্বলন্ত প্রমাণ পেশ করে। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছকেও যে তারা খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে করতেন, এর আরো জ্বলন্ত উদাহরণ হচ্ছে-
১. রাত্রিতে মহিলাদের মাসজিদে আগমন বর্ণিত হয়েছে -
عن ابن عمر قال قال رسول الله صلى الله عليه وسلم لا تمنعوا النساء من الخروج إلى المساجد بالليل . فقال ابن لعبد الله بن عمر لا ندعهن يخرجن فيتخذنه دغلا. قال فزبره ابن عمر وقال أقول قال رسول الله - صلى الله عليه وسلم وتقول لا ندعهن
'ইবন 'উমার রাদিআল্লাহু আনহুমা সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমরা রাত্রিতে মহিলাদেরকে মাসজিদে আসতে বাধা দেবে না। 'আবদুল্লাহ ইবন 'উমারের ছেলে (এ কথা শুনে) বললেন, আমরা তাদেরকে বাইর হতে দেব না। কেননা তারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবে। তিনি তার মুখে থাপ্পড় দিয়ে বললেন, আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছ বলছি, আর তুমি বলছ, তাদেরকে আমরা বাইর হতে দেব না!'১১৮ রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছের বিরোধিতা করার কারণে ইবন 'উমার তাঁর ছেলেকে যে শক্ত ভাষায় সতর্ক করেছিলেন, আর তিনিও যে একথা শ্রবণের পর টু শব্দটিও করলেন না, এটা ছাহাবীদের রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছের প্রতি আনুগত্যেরই জাজ্জ্বল্য প্রমাণ।
২. হাদীহুই ছালাতসমূহের রাক'আতের সংখ্যা নির্দেশক বর্ণিত হয়েছে -
عمران بن حصين جالس فذكروا عنده الشفاعة فقال رجل من القوم يا أبا نجيد لتحدثونا بأحاديث ما نجد لها أصلا في القرآن، فغضب عمران بن حصين وقال الرجل قرأت القرآن؟ قال: نعم. قال وجدت فيه صلاة المغرب ثلاثا وصلاة العشاء أربعا وصلاة الغداء ركعتين والأولى أربعا والعصر أربعا؟ قال: لا. قال فعمن أخذتم هذا الشأن ألستم وأخذناه عن رسول الله صلى الله عليه وسلم؟
'ইমরান ইবন হুছাইন রাদিআল্লাহু আনহু বসা অবস্থায় ছিলেন। লোকেরা তাঁর নিকট শাফা'আতের প্রসংগ উল্লেখ করলেন। উপস্থিত জনগণ থেকে একজন বললেন, হে আবূ নুজায়ীদ, আপনি আমাদেরকে এ হাদীছ বলছেন, যার মূল আমরা কুরআনে পাই না। তখন 'ইমরান রাগান্বিত হয়ে ঐ ব্যক্তিকে বললেন, আপনি কি আল-কুরআন পাঠ করেছেন? তিনি বললেন, হ্যাঁ, তখন 'ইমরান বললেন, আপনি কি সেখানে 'ইশার ছালাত চার, মাগরিবের ছালাত তিন, ফজরের ছালাত দুই, জোহরের ছালাত চার এবং আছরের ছালাত চার রাক'আত করে পেয়েছেন? তিনি বললেন, না। ইমরান বললেন, আপনি এটি কার নিকট থেকে গ্রহণ করেছেন? আপনি কি এটা আমাদের নিকট থেকে গ্রহণ করেননি, যা আমরা রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে গ্রহণ করেছি?'১১৯ সুতরাং আছহাব রাদি আল্লাহু আনহুমের সময় কুরআনকেই মূল্যায়ন করে হাদীছকে উপেক্ষা করা হত, এ দাবী সঠিক নয়।
৩. পাথর নিক্ষেপ নিষিদ্ধকরণ আরো বর্ণিত হয়েছে-
عن عبد الله بن مغفل أنه رأى رجلا يخذف فقال له : لا تخذف فإن رسول الله صلى الله عليه وسلم نهى عن الخذف أو كان يكره الخذف وقال إنه لا يصاد به صيد ولا ينكأ به عدو ولكنها قد تكسر السن وتفقأ العين ثم رآه بعد ذلك يخذف فقال له أحدثك عن رسول الله صلى الله عليه وسلم أنه نهى عن الخذف أو كره الخذف وأنت تخذف ؟ لا أكلمك كذا وكذا !
""আবদুল্লাহ ইবন মুগাফফাল রাদি আল্লাহু 'আনহু এক ব্যক্তিকে ছোট পাথর নিক্ষেপ করতে দেখে বললেল, তুমি পাথর নিক্ষেপ করনা, কেননা রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম পাথর নিক্ষেপ করতে নিষেধ করেছেন, অথবা পাথর নিক্ষেপকে তিনি ঘৃণা করতেন। তিনি বলেছেন, এ দ্বারা কোন কিছু শিকার করাও যায় না এবং শত্রুও হত্যা করা যায় না, তবে এটি দাঁত ভেঙ্গে ফেলে এবং চক্ষু কানা করে দেয়। এর পরেও ঐ ব্যক্তি পাথর নিক্ষেপ করছিল। তখন তিনি বললেন, আমি তোমাকে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছ বলছি যে, তিনি এটাকে নিষেধ করেছেন অথবা তিনি এটাকে ঘৃণা করতেন, তারপরেও তুমি এটা করছ? আমি এরূপ কথা আর তোমাকে বলব না!'১২০ এ দ্বারা হাদীছ অবজ্ঞাকারীকে শক্ত ভাষায় সতর্ক করা হয়েছে। এ ঘটনাটি হাদীছকে গুরুত্ব দেয়ার ক্ষেত্রে আছাহাব রাদি আল্লাহু 'আনহুম যে শক্ত অবস্থানে ছিলেন তার প্রমাণ বহন করে।
আসল কথা হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ছাহাবীগণ রাদি আল্লাহু 'আনহুম হাদীছকে অত্যধিক গুরুত্ব দিতেন। হাদীছকে সম্মান করা, বাস্তবায়ন করা, সংরক্ষণ করা ও প্রচার করার ক্ষেত্রে তাদের একাগ্রতা ও আন্তরিকতার সামান্য ঘাটতি ছিল না। হাদীছের প্রতি তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন ছিল বিশিষ্ট কিছু ছাহাবী রাদি আল্লাহু 'আনহুমের বক্তব্যে তার পরিচয় পাওয়া যায়। যেমন-
১. আবূ বাকর আছ-ছিদ্দীক রাদি আল্লাহু 'আনহু তিনি বলেন-
" لست تاركاً شيئاً كان رسول الله صلى الله عليه وسلم يعمل به ، إلا عملت به فإني أخشى إن تركت شيئاً من أمره أن أزيغ . "
'রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা আমল করতেন, আমি তা থেকে কিছুই বর্জন করি না, বরং তা আমল করি। আমি ভয় করি যে, যদি আমি এ থেকে কিছু পরিহার করি, তাহলে আমি পথভ্রষ্ট হব।'১২১
২. উমার ইবনুল খাত্তাব রাদি আল্লাহু 'আনহু তিনি আল-হাজরুল আসওয়াদ চুম্বন করার সময় যে ঐতিহাসিক বাণীটি উচ্চারণ করেন তা মূলত রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছ ও সুন্নাহ পালনে তাঁর দৃঢ়তার কথা স্পষ্ট করে তুলেছে। তিনি বলেন-
إني أعلم أنك حجر لا تضر ولا تنفع ولولا أني رأيت النبي صلى الله عليه و سلم يقبلك ما قبلتك.
'আমি জানি তুমি একটি পাথর মাত্র, ভালমন্দ কিছুই করতে পারো না, আমি যদি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তোমাকে চুম্বন করতে না দেখতাম, তাহলে আমিও তোমাকে চুম্বন করতাম না।''১২২
৩. 'আলী ইবন আবি তালিব রাদি আল্লাহু 'আনহু তিনি বলেন-
ألا إني لست بنبي ولا يوحى إلي ولكني أعمل بكتاب الله وسنة نبيه صلى الله عليه وسلم ما استطعت.
'সাবধান, আমি নবী নই। আমার নিকট ওহীও আসে না। তবে আমি আল্লাহর কিতাবকে এবং নবী ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাহকে যথাসাধ্য আমল করার চেষ্টা করি। ১১২৩
উল্লেখ্য যে, শুধু আছহাব রাদি আল্লাহু 'আনহুই নন বরং আছহাব রাদি আল্লাহু 'আনহুমের একান্ত অনুগামী তাবি'ঈ রাহিমাহুল্লাহও হাদীছ পরিপালনে ছিলেন খুবই অগ্রসর। তাঁদের কিছু বক্তব্যও এখানে উপস্থাপন করা যায়-
১. কাতাদাহ ইবন দি'আমাহ রাহিমাহুল্লাহ (১১৭ হি.) তিনি বলেন-
والله ما رغب أحد عن سنة نبيه صلى الله عليه و سلم إلا هلك فعليكم بالسنة وإياكم والبدعة..
'আল্লাহর শপথ, কোন ব্যক্তি তার নবী আলাইহিস সালামের সুন্নাহ থেকে বিমুখ হলে সে অবশ্যই ধ্বংস হবে। তোমরা শক্তভাবে সুন্নাহকে ধারন করবে এবং বিদ'আতকে প্রত্যাখ্যান করবে। ১২৪
২. ইবন শিহাব আয-যুহরী রাহিমাহুল্লাহ (১২৪ হি.) বর্ণিত হয়েছে-
عن ابن شهاب بلغنا عن رجال من أهل العلم أنهم كانوا يقولون الاعتصام بالسنة نجاة.
'ইবন শিহাব রাহিমাহুল্লাহ বলেন, বিদ্বানদের কিছু ব্যক্তি হতে আমাদেরকে পৌছানো হয়েছে যে, 'তারা বলতেন, সুন্নাহকে শক্তভাবে ধারণ করার মধ্যে রয়েছে মুক্তি। '১২৫ আইম্মায়ি মুজতাহিদীনও হাদীছের মর্যাদার ব্যাপারে সচেতন ছিলেন। কেউ কস্মিনকালেও হাদীছের বিরুদ্ধে কোন কিছু সহ্য করেন নি। আবূ হানিফা (১৫০ হি.) রাহিমাহুল্লাহ প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে-
كان الإمام أبو حنيفة يقول اياكم والقول في دين الله تعالى بالرأي عليكم باتباع السنة فمن خرج عنها ضل ودخل عليه مرة رجل من أهل الكوفة والحديث يقرأ عنده فقال الرجل دعونا من هذه الأحاديث فزجره أبو حنيفة أشد الزجر وقال له لولا السنة ما فهم احد منا كان يقول لم تزل الناس في صلاح ما دام فيهم من يطلب الحديث فإذا طلبوا العلم بلا حديث فسدوا.
'আল-ইমাম আবূ হানিফাহ রাহিমাহুল্লাহ বলতেন, 'দীনের প্রসঙ্গে মতামতের ভিত্তিতে কিছু বলা থেকে বিরত থাকুন। সুন্নাহর অনুসরণ আপনাদের উপর অত্যাবশ্যক।' এক সময় কুফা হতে এসে এক ব্যক্তি তাঁর নিকট এমন সময় প্রবেশ করল যে, তাঁর নিকট হাদীছ পঠিত হচ্ছিল। সেই ব্যক্তি বলল, এইসব হাদীছ থেকে আমাদেরকে মুক্ত করুন। তখন আবূ হানিফাহ রাহিমাহুল্লাহ প্রচন্ড আকারে ধমক দিলেন এবং বললেন, সুন্নাহ না থাকলে আমাদের কেউ আল-কুরআন বুঝবে না। তিনি বলতেন, 'মানুষ যতক্ষণ হাদীছ চর্চা করবে, ততক্ষণ তারা সফলতা লাভ করবে। যখন হাদীছ বাদ দিয়ে অন্য ইলম অন্বেষণ করবে, সঠিক ইসলামের দরজা তাদের থেকে বন্ধ হয়ে যাবে। ১১২৬
আল-ইমাম মালিক রাহিমাহুল্লাহ বলেন-
ما من أحد إلا ومأخوذ من كلامه ومردود عليه إلا رسول الله صلى الله عليه و سلم
'যে কোন ব্যক্তির কথা গ্রহণ করলে তা প্রত্যাখ্যাত হতেও পারে, শুধু রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা ব্যতীত। '১২৭
আল-ইমাম শাফি' (২০৪ হি.) রাহিমাহুল্লাহ বলেন-
وليس ينبغي في سنة رسول الله صلى الله عليه و سلم إلا اتباعها بفرض الله عز و جل.
'আল্লাহ আযযা ওয়া জাল্লার পক্ষ থেকে ফরজ হওয়ার কারণে রাসূলুল্লাহ ছال্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্য করা ব্যতীত অন্য কিছু করনীয় নেই।'১২৮ তিনি আরো বলেন-
أجمع المسلمون على أن من استبان له سنة عن رسول الله صلى الله عليه وسلم لم يحل له أن يدعها لقول أحد.
'মুসলিমগণ এই বিষয়ের উপর ইজমা' করেছে যে, রাসূলুল্লাহ ছال্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাত প্রকাশিত হওয়ার পর অন্য কারো জন্য তা প্রত্যাখ্যান করা হালাল হবে না।১২৯
আল-ইমাম আহমাদ রাহিমাহুল্লাহ বলেন-
من ردّ حديث رسول الله صلى الله عليه وسلم فهو على شفا هلكة.
'যে ব্যক্তি হাদীছ প্রত্যাখ্যান করে সে ধ্বংস হওয়ার কিনারায় অবস্থান করে। '১৩০ তিনি আরো বলেন-
لا تقلد في دينك أحداً من هؤلاء، ما جاء عن النبي صلى الله عليه وسلم وأصحابه فخذ به.
'দীনের ব্যাপারে ওদের অন্ধানুকরণ করো না। নবী আলায়হিস সালাম ও তার ছাহাবীগণ রাদি আল্লাহু 'আনহুম যা নিয়ে এসেছেন তাকে অনুসরণ কর।'১৩১ আল-হাসান ইবনু আলী আল বিহারী (৩২৯ মৃ.) রাহিমাহুল্লাহ বলেন-
إذا سمعت الرجل يطعن على الآثار ولا يقبلها ، أو ينكر شيئاً من أخبار رسول الله صلى الله عليه وسلم فاتهمه على الإسلام ، فإنه رديء المذهب و القول القرآن أحوج إلى السنة من السنة إلى القرآن ....
'যখন তুমি কোন ব্যক্তিকে দেখবে যে, সে আছারকে তিরস্কার করছে এবং সে তা গ্রহণ করছে না অথবা রাসূলুল্লাহ ছال্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছকে অস্বীকার করছে সে মূলত ইসলামকেই অভিযুক্ত করছে। কেননা সে তার পন্থাগত দিক ও বক্তব্যগত দিক থেকে নিম্নমানের। হাদীছ হাদীছের যতটুকু মুখাপেক্ষী কুরআন তা থেকেও হাদীছের বেশি মুখাপেক্ষী। ১৩২
সুতরাং হাদীছ সংক্রান্ত বিষয়ে আছহাব রাদি আল্লাহু 'আনহুম তাবি'ঈ, আইম্মা ও সালাফি সালিহীনের অবস্থান অত্যন্ত স্পষ্ট। তাঁরা কক্ষনো হাদীছকে প্রত্যাখ্যান করেননি বরং সকল সময় হাদীছকে নিজেরাও অনুকরণ করতেন অন্যদেরকেও তা অনুকরণের উপদেশ দিতেন।
এমনি আরো অসংখ্য প্রমাণ রয়েছে যে, ছাহাবী রাদিআল্লাহু আনহুম ও অন্যান্য আলিমগণ রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছ পরিপালনে ছিলেন বদ্ধপরিকর ও আপোসহীন। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আছহাব রাদি আল্লাহু 'আনহুম তাঁর হাদীছ অনুসরণের ক্ষেত্রে অবহেলা করতেন এটা ডাহা মিথ্যাচার বই কিছু নয়। সুতরাং হাদীছ বিদ্বেষীদের দাবী, আছহাব রাদিআল্লাহু আনহুম হাদীছকে গুরুত্ব দিতেন না; এটা একেবারেই অসত্য।

টিকাঃ
১১৫. ছাহীহ আল-বুখারী, ১খ. ৪৬ পঃ.
১১৬. আহমাদ, ৩খ. ২০পৃ.; আল-হাকিম, ১খ. ১৩৫পৃ.
১১৭. ছাহীহ আল বুখারী, ৫খ. ২২০৩ পৃ.
১১৮. ছাহীহ মুসলিম, ১খ. ৩২৭পৃ.; আত-তিরমিযী, ২খ, ৪৫৯পৃ.
১১৯. আত-তাবারানী আল-মু'জামুল কাবীর, আল-মাওছিল, ১৪০৪ হি. ১৮খ. ২১৯পৃঃ
১২০. ছাহীহ আল বুখারী, ৫খ., ২০৮৮পৃ.:
১২১. হাহীহ আল বুখারী, ৩খ. ১১২৬ পৃঃ, আল-বাইহাকী, ৬খ. ৩০১ পৃঃ
১২২. ছাহীহ আল-বুখারী, ২খ. ৫৭৯ পৃঃ, ছাহীহ মুসলিম, ৪খ. ৪৪ পৃঃ, আহমাদ, ১খ. ২৫৭ পৃঃ
১২৩. আহমাদ, ২খ. ৪৬৯ পৃঃ, আল-হাকীম, ৩খ. ১৩২ পৃঃ
১২৪. আস-সুযুতি, মিফতাহুল জান্নাতি ফিল-ইহাতিজাজি বিসসুন্নাহ মাদুনাহ, ১৩৯৯ হিঃ ১খ. ৭০ পৃঃ
১২৫. আল-লালকায়ী, হিবাতুল্লাহ ইবনুল হাসান, শারহু উছুলুল ই'তিকাদি আহলিস সুন্নাতি ওয়াল জামায়াহ, রিয়াদ ১৪০২ হি. ১খ. ৯৫ পৃঃ
১২৬. আল-ইরাকী আব্দুর রাহীম, আল-মুসতাখরাজ আলাল মুসতাদরাক, তাবি ১৫ পৃঃ
১২৭. আদ-দিহলভী, আহমাদ ইবন আব্দির রাহীম,, ইকদুজ জায়য়িদ ফি আহকামিল ইজতিহাদ ওয়াত- তাকলীদ কাহিরাহ ১৩৮৫ হি. ৩২ পৃঃ
১২৮. ইবন কাইয়্যিম, হাশিয়াতু আলা সুনানী আবী দাউদ, বায়রূত, ১৪১৫ হি. ১৩খ. ৪৫ পৃঃ
১২৯. যীনু, মুহাম্মদ ইবন জামীল, তাওজীহাতুন ইসলামিয়াতুন ফিল ইছলাহিল ফারকি ওয়াল মুজতামাহ, সাউদী আরব, ১৪১৮ হি. ১৪০ পৃঃ
১৩০. আলী ইবন নায়িফুস শাহুদ, মাওসু'আতুত দিফা আনির রাসূলুল্লাহ হ. ৪খ. ১৩৯ পৃঃ
১৩১. প্রাগুক্ত
১৩২. আল-বিহারী, হাসান ইবনু 'আলী, শারহিস কিতাবসি সুন্নাহ, দাম্মাম, ১৮০৭ হিঃ, ৩৫ পৃঃ

📘 হাদিস নিয়ে বিভ্রান্তি > 📄 পঞ্চম বিভ্রান্তি : জাল হাদীছের ছড়াছড়ি

📄 পঞ্চম বিভ্রান্তি : জাল হাদীছের ছড়াছড়ি


বিভ্রান্তি: তাদের ভাষায়, জাল হাদীছের এত বেশি প্রচলন হয়েছে যে, আসল হাদীছ খুঁজে পাওয়াই দুষ্কর, সেজন্য ছাহীহ হাদীছের দুষ্প্রাপ্যতার কারণে হাদীছ অনুসরণ অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
অপনোদন : তাদের এ দাবী মোটেও সঠিক নয়। হ্যাঁ, বিপুল সংখ্যক জাল হাদীছ সৃষ্টি হয়েছে সন্দেহ নেই। তবে ইসলামের বিদগ্ধ মুহাদ্দিছিন রাহিমাহুমুল্লাহ বিজ্ঞানসম্মত ও সূক্ষ্ম মানদণ্ড নির্ধারণ পূর্বক তার আলোকে যাচাই বাছাই করে সকল ছাহীহ হাদীছকে জাল হাদীছ থেকে পৃথক করেছেন। তাঁদের সংকলিত এ ছাহীহ হাদীছসমূহের গ্রন্থরাজিও আমাদের মাঝে বিরাজমান। এমনকি দুর্বল সনদের হাদীছগুলোও চিহ্নিত হয়েছে, জাল হাদীছ দ্বারা যাতে কেউ বিভ্রান্ত না হয় সে জন্য জাল হাদীছ সমূহকে বিভিন্ন গ্রন্থে একত্রিতও করা হয়েছে। এর পরেও জাল হাদীছের বাহানা উত্থাপন করে আসল হাদীছকে বর্জন করা একেবারেই অযৌক্তিক।

📘 হাদিস নিয়ে বিভ্রান্তি > 📄 ষষ্ঠ বিভ্রান্তি : হাদীছের বর্ণনা শব্দভিত্তিক না হয়ে অর্থভিত্তিক হওয়ার অনুমোদন

📄 ষষ্ঠ বিভ্রান্তি : হাদীছের বর্ণনা শব্দভিত্তিক না হয়ে অর্থভিত্তিক হওয়ার অনুমোদন


বিভ্রান্তি : কুরআনের ভাষা পরিবর্তন অবৈধ। পক্ষান্তরে হাদীছের বর্ণনা অর্থ ভিত্তিক (روایة بالمعنی) হলেও তা অনুমোদিত। সেজন্য অনেক সময় হাদীছ বর্ণনাকারী সঠিক শব্দ প্রয়োগ করতে ব্যর্থ হওয়ায় হাদীছের ভাবার্থ পরিবর্তন হয়ে ভুল অর্থ প্রকাশ হওয়ার যথেষ্ট আশংকা থাকে, এতে হাদীছের বিশুদ্ধতা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়াই স্বাভাবিক। বিশুদ্ধতার ক্ষেত্রে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার কারণে হাদীছ অনুসরণের অপরিহার্যতা অযৌক্তিক।
অপনোদন: ইসলামের বিদগ্ধ মনীষীগণ হাদীছকে হুবহু শব্দ অপরিবর্তিত রেখে বর্ণনা করাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। তবে সীমিত পর্যায়ে শর্ত সাপেক্ষে বিশেষ বিশেষ নিয়মনীতি অনুসৃত হলে, অর্থভিত্তিক বর্ণিত হাদীছ বর্ণনাকেও অনুমোদন করেছেন। সেক্ষেত্রে বর্ণনাকারীর জন্য যে সমস্ত শর্ত অপরিহার্য করা হয়েছে, তাতে হাদীছ অর্থভিত্তিক বর্ণিত হলেও মূল অর্থ পরিবর্তিত হওয়ার কোন সুযোগ নেই। হাদীছ অর্থ ভিত্তিক বর্ণনার জন্য অনিবার্য শর্ত হচ্ছে, বর্ণনাকারীকে বিশুদ্ধ আরবী ভাষার শব্দার্থ, শব্দচয়ন পদ্ধতি, সমার্থবোধক শব্দজ্ঞান, স্থান-কাল-পাত্র ভেদে শব্দার্থ পরিবর্তনের নিয়মনীতি, শব্দালংকার, বাক্য বিন্যাস, প্রভৃতি বিষয়ে পারদর্শী হতে হবে। উল্লেখ্য যে, এ শর্ত পূর্ণ না হলে কোন বর্ণনাকারীর জন্য অর্থের আলোকে হাদীছ বর্ণনা বৈধ নয়। এ শর্ত পূরণ হলে হাদীছের অর্থ বিকৃত হওয়ার আশংকা একেবারেই থাকে না। এ প্রসংগে আয়িশা রাদিআল্লাহু 'আনহা এর বর্ণনা উল্লেখ করা যায়। যেমন বর্ণিত হয়েছে-
عن هشام بن عروة عن أبيه قال قالت لي عائشة رضي الله عنها يا بني أنه يبلغنى أنك تكتب عنى الحديث تعود فتكتبه فقلت لها أسمعه منك على شيء ثم أعود فأسمعه على غيره فقالت هل تسمع في المعنى خلافا؟ قلت لا، قالت لا بأس بذلك.
'হিশাম ইবন 'উরওয়াহ তাঁর পিতা সূত্রে বর্ণনা করেন যে, আয়িশা রাদিআল্লাহু 'আনহা 'উরওয়াহ ইবনুয যুবাইর রাদিআল্লাহু 'আনহুকে বললেন যে, হে বৎস, আমাকে জানানো হয়েছে যে, তুমি আমার থেকে হাদীছ শুনে তা লিখে থাক; পরবর্তীতে এই একই হাদীছ পুনরায়ও লিখ? তিনি বললেন, হ্যাঁ, আমি আপনার থেকে হাদীছ শুনি এবং পরে তা আপনার থেকে অন্য শব্দেও শুনে থাকি। আয়িশা রাদিআল্লাহু আনহা বললেন- তুমি কি এ দুইয়ের অর্থের মধ্যে কোন পার্থক্য দেখ? তিনি বললেন, না। তখন আয়িশা রাদিআল্লাহু আনহা বললেন, তাহলে কোন ক্ষতি নেই।'১০০ সুতরাং হাদীছের হুবহু শব্দ বর্ণনা না করে, অর্থ বর্ণনা করলে হাদীছের মূল অর্থের বিকৃতি ঘটতে পারে এ অভিযোগ যথাযথ নয়। সে জন্য এ ভ্রান্ত অভিযোগের উপর ভিত্তি করে হাদীছ অস্বীকার করা একেবারেই অযৌক্তিক।
আসলে হাদীছ অস্বীকার করার কুমন্ত্রনা ইসলামী শারী'আহকে ধ্বংস করার জঘন্য ষড়যন্তকারী ইসলাম বিদ্বেষীদের সৃষ্টি। যারা ঈমান বিধ্বংসী এ ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা দিয়ে, অযৌক্তিক ও বাস্তবতা বর্জিত কিছু দলীল প্রমাণাদি উপস্থাপন করে, এর পক্ষে সাফাই গাইতে ব্যস্ত তারা মূলত বিভ্রান্তিতেই নিপতিত রয়েছে। মোটকথা, তাদের এ চিন্তা চেতনার কোন ভিত্তি নেই, তারা মূলত কুরআন, হাদীছ, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। তাদের ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহর সতর্ক থাকা অপরিহার্য।

টিকাঃ
১০০. আল-খাতীব আল-বুগদাদী, আল-কিফায়াতু ফি 'ইলমির রিওয়ায়াহ, মদীনাহ মুনাওয়ারাহ, তাবি., ১খ. ২০৫ পৃঃ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00