📄 ৪.১.৩.৭ ড. আহমাদ সুবহী মানসূর
: (জন্ম ১৯৪৯) তিনি ১৯৪৯ সালের ১লা মার্চ মিশরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি আল-আযহার বিশ্ববিদ্যালয় হতে পিএইচ.ডি ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি আল-আযহারে প্রথমত শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। হাদীছ অস্বীকার করার দায়ে তাকে সেখান থেকে বহিস্কার করা হয়। ১৯৭৭ সাল হতে তিনি আল-কুরআনই ইসলামের একমাত্র উৎস; এই বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হন। সেই সময় হতেই তিনি হাদীছ বিরোধী তৎপরতার সাথে জড়িত। বহুদিন ধরে বিভিন্নভাবে প্রবন্ধ, পুস্তক, সেমিনার, সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে এই জঘন্য চিন্তা চেতনা সম্প্রসারণের কাজে তিনি লিপ্ত রয়েছেন। তিনি কিছুদিন যাবৎ মিশরের ইবন খালদুন সেন্টারে কর্মরত ছিলেন। সরকার উক্ত সেন্টার বিলুপ্ত করার পর, তিনি বহিষ্কৃত হয়ে আমেরিকাতে পাড়ি জমান। ২০০৪ সাল থেকে তিনি ইন্টারনেটে তার এই হাদীছ বিরোধী লেখনি চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি যে হাদীছকে অস্বীকার করেছেন, তার আল-মুসলিমূল আছী গ্রন্থটি হচ্ছে এর প্রামাণ্য দলিল।
📄 ৪.১.৩.৮ নাসর হামীদ আবূ যায়িদ
: (জন্ম ১৯৪৩) ১৯৪৩ সালের ১০ই জুলাই তিনি মিশরের এক সাধারণ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৯ সালে তিনি কায়রো বিশ্ববিদ্যালয় হতে পিএইচ.ডি ডিগ্রী লাভ করেন। তিনি মূলত: একজন ভাষা বিজ্ঞানী। প্রথমে কায়রো বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ছিলেন। জাপানের ওসাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কিছুদিন ভাষাতত্ত্বেরও শিক্ষকতা করেন। বর্তমানে তিনি হল্যান্ডের লিডেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন। এ ছাড়াও তিনি বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দেশের গবেষণামূলক প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত ছিলেন এবং বিভিন্ন পুরস্কারেও পুরস্কৃত হয়েছেন।
১৯৯৫ সালে যখন তিনি অধ্যাপক হওয়ার জন্য তার গবেষণাকর্ম নির্ধারিত পর্ষদে পাঠান, তখন তাকে অধ্যাপক পদ দেয়া হয় ঠিকই; তবে কয়েক সপ্তাহের মধ্যে তাকে কাফির বলে আখ্যায়িত করে, তাকে দেশ থেকে বহিষ্কৃত করা হয়। মূলত: তার এই গবেষণাকর্ম ছিলো ইসলামের মূল দর্শনের সাথে সাংঘর্ষিক। মিশরের খ্যাতনামা বিদ্বান যেমন আব্দুছ ছাবুর শাহীন, ড. মুহম্মদ বুলতাজী, ড. আহমাদ হায়কাল, ড. ইসমাঈল সালিম প্রমুখ ব্যক্তিত্বও তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন লেখা লেখেন। মূলত: আবূ যায়িদের অধিকাংশ লেখনীতে ইসলামের চিন্তা চেতনাকে আক্রমণ করা হয়েছে। বিশেষ করে তিনি আল-কুরআনকে সমালোচনার ক্ষেত্রে ইসলামী বিদ্বেষী পাশ্চাত্য মনীষীদের দ্বারা মারাত্মকভাবে প্রভাবিত ছিলেন। ইসলামের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়ার কারণে অনেক ইসলাম বিরোধী প্রতিষ্ঠান তাকে বিভিন্ন পদকে সম্মানিত করেছে। তিনি মূলত: কুরআনের মতই হাদীছকেও অস্বীকার করার ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন।