📄 ৪.১.৩.১ মাহমূদ আবূ রায়য়্যাহ
তিনি ছিলেন সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত একজন মিশরীয়। তিনি ইসলামের মূল উৎসের অন্যতম উৎস হাদীছকে অস্বীকারকারী। এ প্রসঙ্গে তিনি ১৯৫১ সালের এপ্রিল মাস হতে আর-রিসালাহ নামক একটি ম্যাগাজিনে ধারাবাহিকভাবে লেখা শুরু করেন। এটি পরবর্তীতে একটি বই আকারে প্রকাশিত হয়। এর শিরোনাম ছিল "আদওয়াউন 'আলাস্সুন্নাতিল মুহাম্মাদিয়াহ"। এ বইতে তিনি হাদীছ সংকলন সম্পর্কে কিছু আপত্তিকর কথাবার্তা তুলে ধরেন। এগুলো মূলত হাদীছ শাস্ত্রকে বিতর্কিত করতে ও এ বিষয়ে সন্দেহ সংশয় সৃষ্টিতে যথেষ্ট ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন-
ক. অলঙ্কার শাস্ত্রের কিংবদন্তি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু "আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছ হওয়া উচিত ছিল অলঙ্কারে পরিপূর্ণ। তা না হয়ে যেভাবে তা অলঙ্কারহীন অর্থ প্রকাশ করে, তা সত্যই আশ্চর্যজনক। এগুলো যে তাঁর ভাষায় বর্ণনা করা হয়নি, এটি তারই প্রমাণ। এগুলো যদি তাঁর ভাষায় বর্ণনা করা হত, তাহলে এমনটি হত না।৮০
খ. হাদীছ বর্ণনাকারীরা যে ভাবে হাদীছ বর্ণনা করেছেন, তাতে সন্দেহমুক্ত হয়ে প্রশান্ত চিত্তে হাদীছ গ্রহণ করা যায় না। কেননা তাঁদের বর্ণনা পদ্ধতিতে যথেষ্ট সন্দেহ ও সংশয়ের কারণ রয়েছে।৮১
গ. হাদীছই মুসলিম উম্মাহকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করেছে। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে যদি হাদীছ লেখা হত, তাহলে এমনি ভাবে মুসলিম উম্মাহ বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হওয়ার সুযোগ পেত না।৮২
ঘ. ছাহাবী রাদিআল্লাহু আনহুম ছিলেন সহজ সরল প্রকৃতির। ইয়াহুদী পন্ডিতদের ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত উপলব্ধি করার যোগ্যতা তাদের ছিল না। সেই সুযোগে তারা যথা ইচ্ছা হাদীছ জাল করেছে। তাঁরা এ জাল হাদীছটাকে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণী বলে চালিয়ে দিয়েছে।৮৩
এ ছিল হাদীছ শাস্ত্রকে বিতর্কিত ও একে সন্দেহ সংশয়ের ঘূর্ণাবর্তে নিক্ষেপের জন্য শাণিত অভিযোগের ভাষা। একটু সূক্ষ্মভাবে চিন্তা করলে এগুলো যে অসার, অযৌক্তিক এবং সত্যের অপলাপ ব্যতীত কিছু নয়, তা সহজেই বুঝা যায়। সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত যে, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অসংখ্য হাদীছ আজও অলঙ্কার শাস্ত্রের পথিকৃৎ হিসেবে বিরাজ করছে। সেজন্য তাঁর হাদীছ হুবহু বর্ণনা না করার কারণে, অলঙ্কারহীন হয়ে পড়েছে এ দাবী সত্য নয়। এর জাজ্জ্বল্য উদাহরণ হচ্ছে-
১. বর্ণিত হয়েছে-
عن سلمة عن أبيه قال : سمعت رسول الله صلى الله عليه و سلم يقول .... و من مات حتف أنفه وقع أجره على الله قال و إنها لكلمة ما سمعتها من أحد من العرب أول من رسول الله صلى الله عليه و سلم يعني بحتف أنفه على فراشه فقد وقع أجره على الله.
সালামাহ তাঁর পিতা সূত্রে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু "আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি বলেন, ... যে ব্যক্তি তার নাককে ধ্বংস করে মৃত্যুমুখে পতিত হয়, তার ছাওয়াব আল্লাহর উপরেই বর্তায়। বর্ণনাকারী বলেন, এটি এমন একটি বাক্য, যা আমি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু "আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পূর্বে আরবদের কারো নিকট হতে শুনিনি; যার (আলঙ্কারিক) অর্থ হচ্ছে, যে ব্যক্তি তার বিছানায় মারা যায়, আল্লাহ তারও ছাওয়াব দেবেন।"৮৪ এখানে তাঁর এ বাণী যে কোন মাপকাঠিতে উচ্চ অলঙ্কারে সুসজ্জিত তাতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। সুতরাং তাঁর বাক্যে কোন অলঙ্কার নেই, এটি ডাহা মিথ্যা কথা।
২. আরো বর্ণিত হয়েছে-
عن كثير بن عباس قال رسول الله صلى الله عليه و سلم الآن حمي الوطيس.
রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু "আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, এখন তন্দুর উত্তপ্ত হয়েছে।"৮৫ হুনাইনের যুদ্ধে যখন প্রচন্ড যুদ্ধ শুরু হয় সে সময় রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ কথাটি বলেছিলেন। এর আসল অর্থ হচ্ছে, 'এখন প্রচন্ড যুদ্ধ শুরু হয়েছে'। এটিও রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উচ্চাঙ্গের আলঙ্কারিক বাক্যগুলোর মধ্যে একটি।
৩. আরো বর্ণিত হয়েছে-
... قال حذيفة: قلت يا رسول الله هل بعد هذا الشر خير قال هدنة على دخن قال قلت يا رسول الله هدنة على دخن ما هي قال لا ترجع قلوب أقوام على الذي كانت عليه.
...হুযাইফা রাদিআল্লাহু আনহু বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বললাম, এ খারাপের পরে কি কোন ভালো রয়েছে? তিনি বললেন, 'সন্ধি নষ্ট হয়েছে'। 'আমি বললাম এর অর্থ কি? তিনি বললেন, 'সম্প্রদায়ের লোকদের আত্মা কক্ষনো পূর্ব অবস্থায় ফিরে আসবে না।৮৬ هدنة على دخن ৮৭ এর আসল অর্থ হচ্ছে, ধোঁয়া যেমন খাদ্যকে নষ্ট করে দেয়, তেমনি সন্ধি নষ্ট হয়ে গেছে। যা মূলত খারাপকেই ইঙ্গিত করে, যা অলঙ্কারের দিক থেকে উত্তীর্ণ একটি বাক্য বিশেষ। এ বাক্যটি মূলত রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু "আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছে যে আলঙ্কারিক বাক্য বিরাজমান তারই উজ্জ্বল সাক্ষী। এমনি অসংখ্য হাদীছ রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম- এর আরবী ভাষার অলঙ্কার শাস্ত্রের উদাহরণ হিসেবে বিরাজ করছে। সুতরাং মাহমূদ আবূ রায়য়্যাহর দাবী, হাদীছ রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু "আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ভাষায় বর্ণিত হলে সেখানে অলঙ্কার পরিলক্ষিত হত, যা বর্তমানে নেই; এ দাবী সত্য নয়। বরং অলঙ্কারপূর্ণ এ সব হাদীছ এ কথারই প্রমাণ বহন করে যে, অধিকাংশ হাদীছই রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু "আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ভাষায়ই বর্ণিত হয়েছে।
তার ভাষায়, হাদীছ বর্ণনাকারীরা যেভাবে হাদীছ বর্ণনা করেছেন, তাতে সন্দেহমুক্ত হয়ে প্রশান্ত চিত্তে হাদীছ গ্রহণ করা যায় না; এটি একটি অবান্তর দাবী মাত্র। ইসলামের বিদগ্ধ মুহাদ্দিছ রাহিমাহুল্লাহ সূক্ষ্ম মানদণ্ড নির্ধারণ পূর্বক তার আলোকে যাচাই বাছাই করে সকল ছাহীহ হাদীছকে জাল হাদীছ থেকে পৃথক করেছেন। তাঁদের সংকলিত এ ছাহীহ হাদীছ সমূহের গ্রন্থরাজিও আমাদের মাঝে বিরাজমান। এমনকি দুর্বল সনদের হাদীছগুলোও চিহ্নিত হয়েছে, জাল হাদীছ দ্বারা যাতে কেউ বিভ্রান্ত না হয়, সে জন্য জাল হাদীছসমূহকে বিভিন্ন গ্রন্থে একত্রিতও করা হয়েছে। এর পরেও হাদীছ বর্ণনাকারীরা যে ভাবে হাদীছ বর্ণনা করেছেন, তাতে সন্দেহমুক্ত হওয়া যায় না, এ অজুহাতে বিশুদ্ধ হাদীছকেও বর্জন করা, একেবারেই অযৌক্তিক নয় কি?
হাদীছ রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে লেখা না হওয়ার কারণে মুসলিম উম্মাহ বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়েছে, মাহমূদ আবূ রায়য়্যার এ দাবীটিও অসার। অনেক হাদীছ রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে যে লেখা হয়েছে ইতোপূর্বে আমরা তার স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করেছি। আর হাদীছ রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু "আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে লেখা না হওয়ার কারণে মুসলিম উম্মাহ বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত হয়েছে, এ কথার ঐতিহাসিক কোন ভিত্তি নেই। বরং সর্বজন বিদিত সত্য কথা হচ্ছে, হাদীছ বিরোধী পক্ষই এ উম্মাহকে শতধা বিভক্ত করে ছেড়েছে। বিশুদ্ধ হাদীছের চেয়ে 'আকল ও বিবেক বুদ্ধিকে বেশি বেশি প্রাধান্য দেয়ায় তারাই এ উম্মাহকে ভিন্ন ভিন্ন দলে বিভক্ত করে ফেলেছে। সুতরাং তার এ দাবী অলীক।
ছাহাবী রাদিআল্লাহু আনহুম সহজ সরল প্রকৃতির ছিলেন বলেই ইয়াহুদীরা জাল হাদীছ প্রণয়য়ের সুযোগ নিয়েছে এবং ছাহাবী রাদিআল্লাহু আনহুম প্রতারিত হয়েছেন, এটিও একটি অবান্তর দাবী। ঐতিহাসিকভাবেই স্বীকৃত যে, 'উমার ইবনুল খাত্তাব, 'আমর ইবনুল 'আছ, 'আলী ইবন আবী তালিব, 'আবদুল্লাহ ইবন 'আব্বাস, 'আবদুর রাহমান ইবন 'আউফ প্রমুখ ছাহাবী রাদিআল্লাহু আনহুম সহ এরূপ অগণিত ছাহাবী বিজ্ঞ, প্রাজ্ঞ, দূরদর্শী ছিলেন। এদের বিচক্ষণ কর্ম তৎপরতা ও দায়িত্ববোধের কারণেই অল্প দিনের ব্যবধানে সমগ্র পৃথিবীর অর্ধেক অংশ মুসলিমদের অধীনতা স্বীকার করেছিল, এটা সর্বজন বিদিত ইতিহাস হওয়ার পরেও ছাহাবীদের নির্বুদ্ধিতাকে কাজে লাগিয়ে ইয়াহুদীরা হাদীছ জাল করার সুযোগ লাভে সক্ষম হয়েছিল এ অভিযোগ কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না। বরং আল-কুরআন দ্বারাই প্রমাণিত যে, কাফিরদের ব্যাপারে শক্ত অবস্থান অবলম্বন ও সচেতন থাকাই ছিল ছাহাবী রাদি আল্লাহু আনহুমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সুতরাং যুক্তিতর্ক, বাস্তবতা, ঐতিহাসিক দৃষ্টিভংগি সকল দিক থেকেই আবু রায়য়্যাহর অভিযোগ ভিত্তিহীন ও মিথ্যা। তিনি মূলত ইসলাম বিদ্বেষীদের হাতের ক্রীড়নক হয়েই ইসলামের দ্বিতীয় উৎস হাদীছের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন, ইসলাম বিদ্বেষীদের হাতে নিজের মস্তিষ্ক বিক্রয় করার কারণে তিনি এ সব আজেবাজে ভিত্তিহীন কথাবার্তা উপস্থাপন করতে পেরেছেন। তার এ ভ্রান্ত মতবাদ সম্পর্কে সকলের সচেতন থাকা উচিত।
টিকাঃ
৮০. মাহমুদ আবু রায়য়্যাহ, আদওয়াউন 'আলাস্সুন্নাতিল মুহাম্মাদিয়্যাহ, কায়রো, ১৯৯৪, ১৯ পৃঃ
৮১. প্রাগুক্ত ২৫৮ পৃঃ
৮২. প্রাগুক্ত ২৬৯ পৃঃ
৮৩. প্রাগুক্ত ১৪৭ পৃঃ
৮৪. আল-হাকিম ২খ. ৯৭পৃঃ
৮৫. আহমাদ, ৩ খ. ২৯৮ পৃঃ
৮৬. হাহীহ মুসলিম ৩ খ. ১৩৯৮ পৃঃ
৮৭. ইবন হিব্বান, ১৩খ.২৯৯ পৃঃ
📄 ৪.১.৩.২ আত-তাবীব মুহাম্মাদ তাওফীক (মৃত্যু : ১৩৩৮ হিঃ)
তিনি পেশাগত দিক থেকে একজন ডাক্তার ছিলেন। তিনিও হাদীছকে অস্বীকার করতেন। এ প্রসঙ্গে মিশরের 'আল-মানার' পত্রিকায় “আল-ইসলাম হুওয়াল কুরআনুল কারীম ওয়াহদাহু” শিরোনামে তাঁর একটি প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়। সেখানে তিনি হাদীছের বিরুদ্ধে শক্ত ভাষায় বিষোদগার করেন। তাঁর লেখার সংক্ষিপ্ত সারু হচ্ছে-
ক. হাদীছ সন্দেহাতীত নয়। বরং সন্দেহযুক্ত। আর সন্দেহযুক্ত কোন কিছু আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং হাদীছও গ্রহণযোগ্য নয়।৮৮
খ. হাদীছে মিথ্যা ও জাল অনুপ্রবেশ করেছে। মিথ্যা ও জাল কোন কিছু ইসলামের উৎস হতে পারেনা। গবেষকদের মতে জাল হাদীছের সংখ্যা, বিশুদ্ধ হাদীছের চেয়ে বেশি। এটা কি বিবেকসম্মত যে, আল্লাহ বিশ্ব নিখিলের জীবন বিধানকে এ কিছুর উপর ভিত্তি দান করলেন যার সত্য মিথ্যা নিরূপণ করা অসম্ভব।৮৯ আসলে তার এ দাবী অযৌক্তিক। বিশুদ্ধ হাদীছ যে সন্দেহাতীতভাবেই বিশুদ্ধ তা আমরা ইতোপূর্বে আলোচনা করেছি। বিজ্ঞানসম্মতভাবে বিদগ্ধ মুহাদ্দিছগণ জাল হাদীছ থেকে বিশুদ্ধ হাদীছতে স্পষ্টাকারে বেছে পৃথক করেছেন, আমাদের নিকট বিশুদ্ধ হাদীছে গ্রন্থাবলীই তার জাজ্জ্বল্য প্রমাণ। এর পরেও তার এ অসার বক্তব্যের কোন মূল্য রয়েছে কি?
টিকাঃ
৮৮. আল মানার, ৯ম খন্ড, ৯-১০ পৃষ্ঠা
৮৯. আল-মানার, ৯ম খন্ড, ৫১৬ পৃ.
📄 ৪.১.৩.৩ ডক্টর ইসমাঈল আদহাম (মৃত্যু : ১৯৫০)
তুরস্কের বংশোদ্ভূত এ লেখক মস্কো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ডক্টরেট ডিগ্রী লাভ করেন। 'মাছাদিরুত তারিকুল ইসলামী' শীর্ষক প্রবন্ধে তিনি হাদীছ বর্জনের বক্তব্য স্পষ্ট করে উল্লেখ করেন।৯০ তাঁর ভাষায়- ছাহীহ গ্রন্থসমূহে যে সমস্ত হাদীছ একত্রিত হয়েছে তার ভিত্তি সুদৃঢ় নয়। বরং এগুলো সন্দেহ ও সংশয়পূর্ণ। উল্লেখ্য যে, মুহাদ্দিছদের নিরলস প্রচেষ্টা, যুক্তিযুক্ত ও যথার্থ পদ্ধতি এবং বিজ্ঞানসম্মত পন্থা অবলম্বনের কারণে এখন সন্দেহযুক্ত হাদীছ একেবারেই পৃথক করা সম্ভব হয়েছে। সুতরাং হাদীছ সন্দেহযুক্ত সন্দেহে সকল হাদীছ বর্জন করা কোনভাবেই যুক্তিযুক্ত নয়।
টিকাঃ
৯০. আস-সিবা'ঈ ড., আস-সুন্নাতু ওয়া মাকানাতুহা ফিত তাশরীঈল ইসলামী, বায়রূত, ১৯৭৬, ২৭৩ পৃঃ
📄 ৪.১.৩.৪ কবি আহমাদ যাকী আবূ শাদী (মৃত্যু : ১৯৫৫)
মিশরীয় এ কবি তাঁর 'ছাওরাতুল ইসলাম' শীর্ষক গ্রন্থে হাদীছ সম্পর্কে খুবই আপত্তিকর কিছু কথা-বার্তা উত্থাপন করেন। মিথ্যার ছড়াছড়িতে পরিপূর্ণ এ বইটি। এ বইতে তিনি হাদীছ ও হাদীছ সংকলকদের কঠোর ভাষায় বিদ্রুপ করেছেন। যেমন তার ভাষায়-
ক. সুনানু ইবনু মাজাহ, আল-বুখারী এবং সমগ্র হাদীছের গ্রন্থসমূহ এমন সব হাদীছ ও সংবাদে পরিপূর্ণ, যা কোন বিবেক ছাহীহ বলে গ্রহণ করতে পারে না। এর অধিকাংশই ইসলাম, মুসলিম ও নবীদের নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপে পরিপূর্ণ, যা রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু "আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছ বলে আমরা কখনোই গ্রহণ করতে পারি না।"১১
খ. আবূ হুরাইরা, আনাস ইবন মালিক ও আব্দুল্লাহ ইবন 'আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুম- প্রত্যেকেই হাদীছ জাল করে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নামে চালিয়ে দিয়েছেন। তাঁরা পাশ্চাত্যের ইসরাঈলিয়াত দ্বারা প্রভাবিত।১২ আসলে আবূ শাদীর এ কথাগুলো ডাহা মিথ্যা কথা। এ সব প্রখ্যাত ছাহাবী রাদি আল্লাহু আনহুম জাল হাদীছ রচনা করেছেন, তারা ইসলাম, মুসলিম ও নবীদের নিয়ে ঠাট্টা বিদ্রুপ করেছেন এর কি কোন প্রমাণ রয়েছে? এ সব অভিযোগ অসত্য, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। তাঁদের ব্যাপারে এ অযৌক্তিক বিষোদগার শুধু ইসলামের দুশমনদের পক্ষ থেকেই সম্ভব, যার উত্তর দেয়ারও প্রয়োজন আছে বলে মনে হয় না।
টিকাঃ
১১. ছাওরাতুল ইসলাম, বায়রূত, তা.বি, ২৫ পৃঃ
১২. প্রাগুক্ত পৃ: ৬৩