📘 হাদিস নিয়ে বিভ্রান্তি 📄 ৪.১.২.৪ মু’তাযিলাহ সম্প্রদায়

📄 ৪.১.২.৪ মু’তাযিলাহ সম্প্রদায়


হাদীছ অস্বীকার করার ক্ষেত্রে মু'তাযিলাহ সম্প্রদায় তিন শ্রেণীতে বিভক্ত।
ক. হাদীছুল মুতাওয়তির ও আহাদীছুল আহাদ উভয় প্রকার হাদীছই মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনার কারণে প্রত্যাখ্যাত।
খ. শুধু হাদীছুল আহাদই প্রত্যাখ্যাত।
গ. কাওলী হাদীছ মাত্রই প্রত্যাখ্যাত।
তারা মুহাদ্দিছগণকে তিরস্কার করে। আবূ হুরাইরা রাদি আল্লাহু 'আনহু হতে বর্ণিত হাদীছকে প্রত্যাখ্যাত মনে করে। উমার (রা) কে গালি দেয় এবং ইবন মাস'উদকে (রা) মিথ্যাবাদী বলে জানে। তারা মদ্যপায়ীর দণ্ডবিধি, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শাফা'আত ও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলাকে দর্শনের হাদীছসমূহকে অস্বীকার করে। এই সকল বিভ্রান্ত সম্প্রদায়ের কারণেই হাদীছ নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য যে, এই বিভ্রান্তি ত্রয়োদশ হিজরীর আগ পর্যন্ত তেমন ব্যাপকতা লাভ করেনি।
হাদীছ অস্বীকারকারীদের বিভ্রান্ত মতামতের সারাংশ নিম্নরূপ-
১. আল্লাহর কিতাব কুরআনই আমাদের জন্য যথেষ্ট।৭১
২. হাদীছ ওহী নয়।৭২
৩. হাদীছ সম্মানিত হওয়ার অনুপযুক্ত।৭৩
৪. হাদীছের অনুসরণ শিরকের অন্তর্ভুক্ত।৭৪
৫. হাদীছ কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক।৭৫
৬. হাদীছ রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে শারীআতের উৎস বলে বিবেচিত হত না।৭৬
৭. আল-কুরআনে যে হাদীছের বক্তব্য নেই, তা গ্রহণযোগ্য নয়।৭৭
৮. হাদীছ শুধু রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগেই অনুসরণযোগ্য ছিল, পরবর্তীতে নয়।৭৮

টিকাঃ
৭১. ড. খাদিম হুসায়িন ইলাহী বখশ, ২১১ পৃঃ
৭২. প্রাগুক্ত ২১৪ পৃঃ
৭৩. প্রাগুক্ত ১৫৫ পৃঃ
৭৪. হাবরী, মুহতাফা, আল-কাওলুল ফাছল, ২১৯ পৃঃ
৭৫. আল-মানার, নবম খ. ৫১৭ পৃঃ
৭৬. প্রাগুক্ত, ১০ খ. ২২৩ পৃঃ
৭৭. ড. খাদিম হুসায়িন ইলাহী বখশ, আল-কুআনিউন, তায়িফ, ১৪০৯ হিঃ, ১০৫ পৃঃ
৭৮. প্রাগুক্ত, ২২১

📘 হাদিস নিয়ে বিভ্রান্তি 📄 ৪.১.২.৫ বক্তব্য বিবৃত হাদীছ (القولي الحديث) অস্বীকারকারী সম্প্রদায়

📄 ৪.১.২.৫ বক্তব্য বিবৃত হাদীছ (القولي الحديث) অস্বীকারকারী সম্প্রদায়


কোন কোন সম্প্রদায় হাদীছকে দুই ভাগে ভাগ করেছে। যথা:-
ক. কর্ম বিবৃত হাদীছ ( الحديث الفعلي) : যে হাদীছে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কাজের বর্ণনা এসেছে, তাকে কর্ম বিবৃত হাদীছ বলে।
খ. বক্তব্য বিবৃত হাদীছ (الحديث القولي) : যেখানে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বক্তব্য উল্লেখ হয়েছে, তাকে বক্তব্য বিবৃত হাদীছ বলে।
তাদের নিকট হাদীছের সনদ যাই হোক না কেন হাদীছ যদি কর্ম বিবৃত হয়, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য। আর হাদীছের সনদ যতই উচ্চমানের হোক না কেন, তা বক্তব্য বিবৃত হলে তা কোন ভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। তারা মূলতঃ বক্তব্য বিবৃত হাদীছকে অস্বীকারকারী। একই ব্যক্তির কর্ম কেন্দ্রিক হাদীছ অনুসরণীয় আর বক্তব্য কেন্দ্রিক হাদীছ বর্জনীয় হওয়ার কোন যৌক্তিক কারণ আছে বলে মনে হয় না। দুই প্রকার হাদীছের মূলকেন্দ্র একই ব্যক্তি হওয়ার পরেও এ দুয়ের মধ্যে পার্থক্য সৃষ্টি মূলতঃ অমূলক। এটিও অন্য একটি বিভ্রান্তি। এরাও মূলত পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত।

📘 হাদিস নিয়ে বিভ্রান্তি 📄 ৪.১.২.৬ আহাদীছুল আহাদ (الأحاديث الآحاد) অস্বীকারকারী সম্প্রদায়

📄 ৪.১.২.৬ আহাদীছুল আহাদ (الأحاديث الآحاد) অস্বীকারকারী সম্প্রদায়


মুতাওয়াতির ঐ হাদীছকে বলা হয় যে হাদীছের বর্ণনাকারীর সংখ্যা এত বেশি যে, এতগুলো লোকের কোন একটি মিথ্যা হাদীছ বর্ণনার উপর একমত হওয়া অসম্ভব। এদের সংখ্যা সকল স্তরেই অনেক ছিল এবং সনদের শেষ পর্যায়ের বর্ণনাকারী সরাসরি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে দেখেই তাঁর থেকে শ্রবণ করেছেন যেমন-
من كذب علي متعمدا فليتبوأ مقعده من النار.
'যে ব্যক্তি আমার নামে মিথ্যা কথা বলল, সে জাহান্নামে তার বাসস্থান বানিয়ে নিল।'৭৯ হাদীছ অস্বীকারকারীদের কিছু ব্যক্তি শুধু এ মুতাওয়াতির হাদীছকে গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করেছেন, এ ব্যতীত সকল হাদীছকে এমনকি আহাদীছুল আহাদকেও অস্বীকার করেছেন। তবে কিছু ব্যক্তি আবার 'আকীদার সাথে সম্পর্কিত নয় এ রূপ খাধরুল আহাদকে অস্বীকার করেছেন অন্য হাদীছকে নয়। অর্থাৎ যে সকল খাবরুল আহাদ 'আকীদাহ বিষয়ক নয় তারা তা অস্বীকার করেন নি, শুধু 'আকীদাহ বিষয়ক খাবরুল আহাদকে অস্বীকার করেছেন। এ উভয় সম্প্রদায়ই মূলত বিভ্রান্ত।
খারিজী সম্প্রদায়ের সকল হাদীছ প্রত্যাখ্যান করার মতাদর্শে প্রভাবপুষ্ট একটি সম্প্রদায় পাক-ভারত-বাংলাদেশ উপমহাদেশেও শুধু হাদীছকে প্রত্যাখ্যান করেই ক্ষান্ত হয়নি, এ মতবাদের সম্প্রসারন ঘটানোর জন্য যুগ যুগ ধরে চেষ্টা সাধনা অব্যাহত রেখেছে। এ বিষয়ের সংক্ষিপ্ত আলোচনা এখানে উপস্থাপিত হলো।

টিকাঃ
৭৯. হাহীহ আল-বুখারী, ১খ., ৪০৪ পৃঃ

ফন্ট সাইজ
15px
17px