📄 ৪.১.২.১ শি’আহ সম্প্রদায়
আহলিল বায়িতের বাইরের কেউ খালীফাহ হতে পারে না, শি'আহ সম্প্রদায়ের এই 'আকীদাহ বিশ্বাস লালিত হওয়ার কারণে যারাই আবূ বাকর, 'উমার, 'উছমান রাদি আল্লাহু 'আনহুমের খিলাফাতকে মেনে নিয়েছিলেন তাদের হাদীছ তারা গ্রহণ করে না। কেননা এরা হচ্ছে, তাদের দৃষ্টিতে কাফির। সেজন্য অধিকাংশ ছাহাবীদের বর্ণিত হাদীছগুলোকে তারা অস্বীকার করেছেন। সুতরাং বলা যায়, তারা অধিকাংশ হাদীছ অস্বীকারকারী হলেও, তাদের পছন্দনীয় কিছু ছাহাবীর সামান্য সংখ্যক হাদীছ গ্রহণ করেছে যার সংখ্যা একেবারেই নগন্য। সমুদয় হাদীছকে তারা অস্বীকার করে নি। আহলিল বায়িতের রাবীদের সূত্রে বর্ণিত হাদীছই শুধু তাদের নিকট গ্রহণযোগ্য; সেজন্য তারা আছ-ছাদিক তার পিতা বাকির হতে, তিনি তার পিতা যাইনুল 'আবিদীন হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দৌহিত্র আল-হুসায়িন রাদিআল্লাহু আনহু হতে, তিনি তার পিতা 'আলী রাদিআল্লাহু আনহু হতে, তিনি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত হাদীছই গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচনা করে। অন্য কোন ছাহাবীর হাদীছ নয়।
📄 ৪.১.২.২ রাফিদী সম্প্রদায়
রাফিদী হচ্ছে শি'আহদের একটি উপ-সম্প্রদায়। হাদীছ অস্বীকারকারী হিসেবে তারাও শি'আহদের মতই। তবে তাদের ভূমিকা এ ক্ষেত্রে মূল শি'আহদের থেকে আরো জঘন্য। তারা মূল শি'আহদের মত কিছু ছাহাবীর বর্ণিত হাদীছ গ্রহণ করলেও অধিকাংশ ছাহাবী বর্ণিত হাদীছ অস্বীকার করার সাথে সাথে অসংখ্য জাল হাদীছ নিজেরাই প্রণয়ন করে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছ বলে চালিয়ে দিয়েছে। হাদীছ শাস্ত্রকে বিতর্কিত করার ক্ষেত্রে তাদের এ জঘন্য ষড়যন্ত্র যথেষ্ট নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
📄 ৪.১.২.৩ খারিজী সম্প্রদায়
ইজতিহাদী ভুল বুঝাবুঝির কারণে আলী রাদিআল্লাহু আনহু ও মু'আবিয়া রাদিআল্লাহু আনহু এর মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ সংঘটিত হয়। পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে এ সমস্যা নিষ্পত্তি করার পক্ষেই সকল ছাহাবী রাদিআল্লাহু আনহুম একমত হন। যুদ্ধই হক ও বাতিলের মধ্যে সুষ্পষ্ট পার্থক্য নির্ধারণের জন্য একমাত্র পন্থা বলে স্বল্প সংখ্যক তথা কথিত মুসলিম যারা মুসলিম উম্মাহর বলয় থেকে বের হয়ে যায় তারাই খারিজী সম্প্রদায় নামে পরিচিতি লাভ করে। তারা সকল ছাহাবী রাদিআল্লাহু আনহুমকে আস্থা যোগ্য মনে করে না বিধায়, তাদের বর্ণিত হাদীছকে তারা অস্বীকার করে। সকল হাদীছই তাদের নিকট অগ্রহণযোগ্য। তারা কুরআনের বাইরে সকল ইসলামী বিধি-বিধানকে অস্বীকার করে। সেজন্য কুরআনে বিবাহিত ব্যভিচারীকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যার কথা না থাকায়, তারা এ ইসলামী দন্ডবিধিকেও অস্বীকার করে। নিজের ঔরসজাত ছেলে ও মেয়ের কন্যাকে বিবাহ করাও তাদের কারো কারো নিকট এ জন্য বৈধ যে, কুরআনে এটাকে হারাম করা হয়নি।৭০ মোট কথা তারা সীমাহীন বিভ্রান্তির মধ্যে নিপতিত রয়েছে।
টিকাঃ
৭০. আল-বুগদাদী, 'আব্দুল কাহির, আল-ফিরাকু বায়নাল ফিরাক, তাবি, কায়রো, ৩৫১ পৃ:
📄 ৪.১.২.৪ মু’তাযিলাহ সম্প্রদায়
হাদীছ অস্বীকার করার ক্ষেত্রে মু'তাযিলাহ সম্প্রদায় তিন শ্রেণীতে বিভক্ত।
ক. হাদীছুল মুতাওয়তির ও আহাদীছুল আহাদ উভয় প্রকার হাদীছই মিথ্যা হওয়ার সম্ভাবনার কারণে প্রত্যাখ্যাত।
খ. শুধু হাদীছুল আহাদই প্রত্যাখ্যাত।
গ. কাওলী হাদীছ মাত্রই প্রত্যাখ্যাত।
তারা মুহাদ্দিছগণকে তিরস্কার করে। আবূ হুরাইরা রাদি আল্লাহু 'আনহু হতে বর্ণিত হাদীছকে প্রত্যাখ্যাত মনে করে। উমার (রা) কে গালি দেয় এবং ইবন মাস'উদকে (রা) মিথ্যাবাদী বলে জানে। তারা মদ্যপায়ীর দণ্ডবিধি, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর শাফা'আত ও আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলাকে দর্শনের হাদীছসমূহকে অস্বীকার করে। এই সকল বিভ্রান্ত সম্প্রদায়ের কারণেই হাদীছ নিয়ে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়। উল্লেখ্য যে, এই বিভ্রান্তি ত্রয়োদশ হিজরীর আগ পর্যন্ত তেমন ব্যাপকতা লাভ করেনি।
হাদীছ অস্বীকারকারীদের বিভ্রান্ত মতামতের সারাংশ নিম্নরূপ-
১. আল্লাহর কিতাব কুরআনই আমাদের জন্য যথেষ্ট।৭১
২. হাদীছ ওহী নয়।৭২
৩. হাদীছ সম্মানিত হওয়ার অনুপযুক্ত।৭৩
৪. হাদীছের অনুসরণ শিরকের অন্তর্ভুক্ত।৭৪
৫. হাদীছ কুরআনের সাথে সাংঘর্ষিক।৭৫
৬. হাদীছ রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগে শারীআতের উৎস বলে বিবেচিত হত না।৭৬
৭. আল-কুরআনে যে হাদীছের বক্তব্য নেই, তা গ্রহণযোগ্য নয়।৭৭
৮. হাদীছ শুধু রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর যুগেই অনুসরণযোগ্য ছিল, পরবর্তীতে নয়।৭৮
টিকাঃ
৭১. ড. খাদিম হুসায়িন ইলাহী বখশ, ২১১ পৃঃ
৭২. প্রাগুক্ত ২১৪ পৃঃ
৭৩. প্রাগুক্ত ১৫৫ পৃঃ
৭৪. হাবরী, মুহতাফা, আল-কাওলুল ফাছল, ২১৯ পৃঃ
৭৫. আল-মানার, নবম খ. ৫১৭ পৃঃ
৭৬. প্রাগুক্ত, ১০ খ. ২২৩ পৃঃ
৭৭. ড. খাদিম হুসায়িন ইলাহী বখশ, আল-কুআনিউন, তায়িফ, ১৪০৯ হিঃ, ১০৫ পৃঃ
৭৮. প্রাগুক্ত, ২২১