📄 ৩.২.৪ হাদীছ ব্যতীত ইসলামী শারী’আতের পূর্ণ বিধিবিধান পালন অসম্ভব
যারা শুধু কুরআনের আলোকেই ইসলামী শারী'আতকে কল্পনা করে, তারা মূলত ইসলামী শারী'আতের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ। ইসলামী শারী'আতের এমন অনেক হুকুম আহকাম রয়েছে, যে সম্পর্কে কুরআনে কিছুই পাওয়া যায় না। মূলত হাদীছ দ্বারাই তা প্রমাণিত হয়েছে, আল-কুরআন দ্বারা নয়। এ প্রসঙ্গে এখানে শুধু কয়েকটি উদাহরণ উপস্থাপন করা হচ্ছে-
ক. দাদী-নানীকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা :
ইসলামী শারী'আহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত যে, মৃতের মাতা না থাকলে মৃতের দাদী ও নানী তার সম্পদের এক-ষষ্ঠাংশের উত্তরাধিকারী হয়। এটি আল-কুরআন দ্বারা নয়, শুধু হাদীছ দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত। বর্ণিত হয়েছে
عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةً عَنْ أَبِيهِ أَنْ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - جَعَلَ لِلْجَدَّةِ السُّدُسَ إِذَا لَمْ تَكُنْ دُونَهَا أُمِّ.
'যদি মাতা না থাকে তাহলে দাদী বা নানীকে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক-ষষ্ঠাংশ উত্তরাধিকার প্রদেয় বলে ঘোষণা করেছেন। '৫৪ হাদীছ না মেনে, শুধু আল-কুরআন মানতে গেলে ইসলামী শারী'আতের দাদী-নানীকে উত্তরাধিকার নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ এ অংশটি বাদ দেয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ে, যা মূলত ইসলামী শারী'আতকে সংকুচিত হতে বাধ্য করে। ইসলামী শারী'আতের এ সংকোচন ইসলামী শারী'আতের পরিপূর্ণতার পরিপন্থী।
খ. স্ত্রীর সাথে তার খালা অথবা ফুফুকে একই সময়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখাকে অবৈধকরণ : ইসলামী শারী'আহতে নিজের স্ত্রীর সাথে তার খালা অথবা ফুফুকে একত্রে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করাকে হারাম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আল-কুরআনের কোথাও এ বিধান প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ ভাবে উল্লেখ করা হয়নি। শুধু হাদীছে উল্লেখ হওয়ার কারণে ইসলামে এটাকে হারাম বলে গণ্য করা হয়েছে। বর্ণিত হয়েছে-
عن الشعبي سمع جابرا رضي الله عنه قال : نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن تنكح المرأة على عمتها أو خالتها.
'শা'বী জাবির রাদি আল্লাহু 'আনহু থেকে শুনেছেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন মহিলাকে তার ফুফু ও তার খালার সাথে একত্রে বিয়ে করাকে নিষেধ করেছেন। ৫৫ যারা হাদীছ পরিপালনকে অস্বীকার করে, কুরআনে এ বিষয়ে কোন কিছু উল্লেখ না থাকার কারণে কি এটাকে হালাল বলে মনে করবে? ইসলামে সর্বসম্মত ভাবে স্বীকৃত এ হারামকে হালাল জ্ঞান করা, মূলত ইসলামী শারী'আতের অংশ বিশেষ না মানারই নামান্তর, যা মূলত ইসলামের দৃষ্টিতে কঠোর অপরাধ। সুতরাং ইসলামী শারী'আহ মানতে হলে হাদীছ মানা অপরিহার্য।
গ. মৃত মাছ, পঙ্গপাল, কলিজা ও প্লীহা ভক্ষণ বৈধকরণ : আল-কুরআনে যে কোন মৃতকে ও রক্ত ভক্ষণকে হারাম ঘোষণা করেছে। আল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّم.
'হারাম করা হয়েছে তোমাদের উপর মৃত ও রক্ত।'৫৬ এ আয়াত অনুযায়ী যেহেতু যে কোন মৃত ও রক্ত ভক্ষণ করা হারাম সেহেতু মৃত মাছ, কলিজা ও প্লীহা রক্ত বিশেষ হওয়ায় তা হারাম হওয়া অপরিহার্য ছিল। কিন্তু হাদীছ মৃত মাছ, পঙ্গপাল এবং জবহকৃত পশুর কলিজা ও প্লীহাকে এ হারামের গণ্ডিমুক্ত করে এগুলোকে হালাল বলে ঘোষণা দিয়েছে। বর্ণিত হয়েছে-
عن عبد الله بن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: أحلت لكم میتتان ودمان فأما الميتتان فالحوت والجراد وأما الدمان فالكبد والطحال.
"আবদুল্লাহ ইবন 'উমার রাদি আল্লাহু 'আনহুমা সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদের জন্য দুটি মৃত ও রক্তকে হালাল করা হয়েছে। মৃত দু'টি হচ্ছে, মাছ ও পঙ্গপাল এবং রক্ত দু'টি হচ্ছে, কলিজা ও প্লীহা।"৫৭
যারা হাদীছ অস্বীকার করে শুধু কুরআনকে মেনে আত্মতৃপ্তি বোধ করেন, তারা কি মৃত মাছ, পঙ্গপাল, কলিজা ও প্লীহা খাওয়াকেও কুরআনে হারাম হওয়ার কারণে তা হারাম মনে করেন? নিশ্চয় তাদের তা মনে করার কথা নয়। অলক্ষ্যেই তারা হাদীছকে মেনেই মূলত এগুলোকে হালাল মনে করে থাকেন। সুতরাং তাদের শুধু আল-কুরআন মানার এ দাবী যে অসম্ভব ও অবাস্তব তা তারা নিজেরাই প্রমাণ করলেন।
ঘ. ভিন্ন ধর্মাবলম্বী পিতামাতা ও সন্তানের উত্তরাধিকার: আল্লাহ ইরশাদ করেছেন-
يُوصِيكُمُ اللهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ فَإِنْ كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِنْ كَانَ لَهُ وَلَدٌ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ.
'আল্লাহ তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে নির্দেশ দিচ্ছেন, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান, কিন্তু কেবল কন্যা দুইয়ের অধিক থাকলে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তি দুই- তৃতীয়াংশ, আর মাত্র এক কন্যা থাকলে তার জন্য অর্ধেকাংশ। আর সন্তান থাকলে পিতা-মাতা প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-ষষ্ঠাংশ, সে নিঃসন্তান হলে এবং পিতা-মাতাই উত্তরাধিকারী হলে তার মাতার জন্য এক-তৃতীয়াংশ।৫৮ এই আয়াত প্রত্যেক পিতা-মাতা তার সন্তানের এবং প্রত্যেক সন্তান তার পিতামাতার উত্তরাধিকারী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তারা একে অপরের ধর্মাবলম্বী হোক বা না হোক, তার কোন বর্ণনা এখানে নেই। তবে হাদীছেই মূলত কাফির পিতামাতা মুসলিম সন্তানের অথবা কাফির সন্তান মুসলিম পিতামাতার উত্তরাধিকারী না হওয়ার স্পষ্ট বক্তব্য উপস্থাপন করেছে। মুসলিম উম্মাহও এই সিদ্ধান্তকে অনুশীলন করে আসছে। যেমন হাদীছে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، أَن النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: لَا يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ، وَلَا يَرِثُ الْكَافِرُ الْمُسْلِمَ.
'উসামাহ ইবন যায়িদ রাদি আল্লাহু 'আনহুমা সূত্রে বর্ণিত মহানবী ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুসলিম কাফিরের উত্তরাধিকারী হয় না এবং কাফিরও মুসলিমের উত্তরাধিকারী হয় না।৫৯ উত্তরাধিকারীর এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাটি কস্মিনকালেও শুধু কুরআনের মাধ্যমে জানা সম্ভবপর নয়। এজন্য অবশ্যই হাদীছের দ্বারস্থ হওয়া ব্যতিত কোন বিকল্প নেই।
৬. পূর্ববর্তী স্বামীর সাথে বিবাহ: মহাগ্রন্থ আল কুরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন-
فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ.
'এরপর যদি যে তাকে তালাক দেয় তবে সে তার জন্য বৈধ হবে না, যে পর্যন্ত সে অন্য স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হয়। '৬০ এ আয়াতে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী তার তালাকদাতা স্বামীর জন্য বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে অন্য কারো সাথে শুধু বিবাহ হওয়াকেই শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার সাথে মেলামেশ করা না করা বা অন্য কোন দ্বিতীয় স্বামীর পক্ষ থেকে তালাক দেয়ার পর ইদ্দত পালন করা না করার বিষয়, এখানে উল্লেখ হয়নি। শুধু কুরআনের অনুসারীরা কি এই আয়াতের সরাসরি বক্তব্য অনুযায়ী প্রথম স্বামীর তালাকের পরপরই অন্য কারো সাথে বিবাহ দিয়ে সে তালাক দিলে ঐ মহিলাকে তার প্রথম স্বামীর সাথে ইদ্দত ছাড়াই বিবাহকে অনুমোদন দেবেন? ইসলামের দৃষ্টিতে এটি কক্ষনো বৈধ হবে না। বরং হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, এ জন্য দ্বিতীয় স্বামীর সাথে তার মেলামেশা অত্যাবশ্যক। বর্ণিত হয়েছে- রিফা'আতুবনু সামওয়াল আল- কুরাযী রাদি আল্লাহু 'আনহু তার স্ত্রী তামীমাহ বিনত ওয়াহাব রাদি আল্লাহু 'আনহাকে তিন তালাক দিলেন। আব্দুর রহমান ইবনুয যুবায়ির রাদি আল্লাহু 'আনহু তাকে বিবাহ করেন। তিনি ছিলেন স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করতে অক্ষম। তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল। রিফা'আহ রাদি আল্লাহু 'আনহাকে তিনি দ্বিতীয়বার বিবাহ করতে চাইলে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
تُرِيدِينَ أَنْ تَرْجِعِي إِلَى رِفَاعَةَ، لا، حَتَّى تَذُوقِي عُسَيْلَتَهُ، وَيَذُوقَ عُسَيْلَتَكَ.
'তুমি কি রিফা'আর কাছে ফিরে যেতে চাও? কক্ষনো না, যতক্ষণ না তুমি তার (ইবনুয যুবায়িরের) মধুর স্বাদ এবং সে তোমার মধুর স্বাদ গ্রহণ না করে।৬১ সুতরাং প্রথম স্বামীর নিকট ফিরে যেতে হলে দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে নির্জনবাস অপরিহার্য, তা শুধু হাদীছ দ্বারাই প্রমাণিত।
চ. চোরের হাত কাটার পরিমাণ: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা ইরশাদ করেন-
وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حكِيمٌ.
'এবং পুরুষ চোর এবং নারী চোর, তাদের হস্তচ্ছেদ কর, এ তাদের কৃতকর্মের ফল এবং আল্লাহর পক্ষ হতে আদর্শ দণ্ড, আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।৬২ এ আয়াতে কি পরিমাণ চুরি করলে হাতের কোন পর্যন্ত কাটা যাবে তার বর্ণনা নেই। শুধু কুরআনের অনুসারীগণ তাহলে এই আয়াত কিভাবে কার্যকর করবেন? হাদীছে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قال النبي صلى الله عليه و سلم تُقْطَعُ الْيَدُ فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا.
'আয়িশাহ (রা) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'দীনারের এক-চতুর্থাংশের বেশি চুরি করলে (চোরের) হাত কাটতে হবে। '৬০ আরো বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَدِيٍّ : أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَطَعَ يَدَ سَارِقٍ مِنَ الْمَفْصِلِ.
'আদী রাদি আল্লাহু 'আনহু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে- রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম চোরের হাতের কবজির গিরা থেকে কেটেছিলেন। '৬১ সুতরাং চোরের সাজা কার্যকরের জন্য হাদীছের বর্ণনা অবশ্যই পালনীয়, যা শুধু কুরআনের দ্বারা কোনভাবেই সম্ভব নয়।
আসলে ইসলামী শারী'আতের বিধি বিধানে এমন কিছু হালাল হারামের বিষয় রয়েছে, যার পরোক্ষ বা সারসংক্ষেপ আলোচনাও কুরআনে নেই, যা মূলত হাদীছের দ্বারাই প্রমাণিত, যা হাদীছের উপরই নির্ভরশীল। যারা হাদীছ অনুসরণের বিরোধিতা করেন, তারা ইসলামে সর্বসম্মত এরূপ অসংখ্য হালাল হারামের বিধি বিধানকেও অমান্য করতে বাধ্য হন, যা মূলত ইসলামী শারী'আতের পূর্ণ বিধি বিধান পালনের ক্ষেত্রে অন্তরায় সৃষ্টি করে। সে জন্য হাদীছ না মেনে পরিপূর্ণ ইসলামী শারী'আহ পরিপালনের কোন সুযোগ নেই। ইসলামে হালাল হারাম সম্পর্কে যে মূল বক্তব্য তার মর্মার্থ হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন কিছু হালাল করলে তা হালাল এবং তিনি কোন কিছু হারাম করলে ইসলামে তা হারাম বলেই গণ্য হয়। এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে যে-
عن الْحَسَنُ بْنُ جَابِرٍ قَالَ سَمِعْتُ الْمِقْدَامَ بْنَ مَعْدِي كَرِبَ يَقُولُ حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ خَيْبَرَ أَشْيَاءَ ثُمَّ قَالَ يُوشِكُ أَحَدُكُمْ أَنْ يُكَذِّبَنِي وَهُوَ مُتَّكِى عَلَى أَرِيكَتِهِ يُحَدَّثُ بِحَدِيثِي فَيَقُولُ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ كِتَابُ اللَّهِ فَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَلَالٍ اسْتَحْلَلْنَاهُ وَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَرَامٍ حَرَّمْنَاهُ أَلَا وَإِنَّ مَا حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلُ مَا حَرَّمَ اللَّهُ.
'আল- হাসান ইবন জাবির রাদি আল্লাহু 'আনহু সূত্রে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আল- মিকদাম ইবন মা'দিকারব রাদি আল্লাহু 'আনহুকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু দ্রব্যকে খাইবারের দিন হারাম করেন এরপর বলেন, তোমাদের কেউ আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার নিকটবর্তী হয় এমন অবস্থায় যে, আমার হাদীছ বর্ণিত হলে সে তার পালঙ্কে হেলান দিয়ে বলে, 'আমাদের মাঝে তো আল্লাহর কিতাব রয়েছে। এর মধ্যে আমরা যা হালাল পাবো তা আমরা হালাল করব, এখানে আমরা যা হারাম পাবো তা হারাম করব।' সাবধান, নিশ্চয় আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা হারাম করেছেন তা তো আল্লাহর হারাম করারই মত।১৬৫ সুতরাং হাদীছের মাধ্যমে যা হালাল সাব্যস্ত হয়েছে, তা ইসলামে হালাল আর যা হারাম সাব্যস্ত হয়েছে তা অবশ্যই হারাম বলেই গণ্য।
টিকাঃ
৫৪. আবু দাউদ, সূনান, বায়রূত, ভাবি, ৩খ. ২২২পৃঃ
৫৫. হাহীহ আল-বুখারী, ৫খ. ১৯৬৫পৃঃ
৫৬. সূরাহ আল-মায়িদাহঃ ০৩
৫৭. ইবন মাজাহ, সুনান, বায়রূত, তাবি., ২খ. ১১০২ পৃঃ
৫৮. সূরাহ আন-নিসা: ১১
৫৯. ছাহীহ আল-বুখারী, ৬খ. ২৪৮৪ পৃঃ, ছাহীহ মুসলিম, ৫খ. ৫৯ পৃঃ
৬০. সূরাহ আল-বাকারাহ: ২৩০
৬১. ছাহীহ আল-বুখারী, ২খ. ৯৩৩ পৃঃ, হাহীহ মুসলিম ২খ. ২০৫৫ পৃঃ, মানিক মুয়ত্তা', দামিল্ক, ১৪১৬ হিঃ ২খ. ৫১৮ পৃঃ
৬২. সূরাহ আল-মায়িদাহঃ ৩৮
৬৩. ছাহীহ আল-বুখারী, ৬খ. ২৪৯২ পৃঃ
৬৪. আল-বাইহাকী, আন-সুনানুল কুবরা, মাক্কাহ, আল-মুকাররামাহ, ১৪১৪ হিঃ ৮খ. ২৭০ পৃঃ