📘 হাদিস নিয়ে বিভ্রান্তি > 📄 ৩.২.১ হাদীছ বর্জন ঈমানের পরিপন্থী

📄 ৩.২.১ হাদীছ বর্জন ঈমানের পরিপন্থী


হাদীছ হলো রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা, কাজ, সমর্থন ও তাঁর গুণাবলীর প্রতিফলন। হাদীছকে অস্বীকার করার অর্থই হলো, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে অস্বীকার করা। আর তাঁকে অস্বীকার করে ইসলামী জীবন বিধ labourerনের মানদণ্ডে কারো মু'মিন থাকার কোন সুযোগ থাকে না। বরং যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূল ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মধ্যে পার্থক্য নির্ধারণের অপপ্রয়াস চালায় কুরআনেই তাদেরকে প্রকৃত কাফির বলে চিহ্নিত করেছেন আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা। তিনি ইরশাদ করেন--
إِنَّ الَّذِينَ يَكْفُرُونَ بِاللَّهِ وَرُسُلِهِ وَيُرِيدُونَ أَنْ يُفَرِّقُوا بَيْنَ اللَّهِ وَرُسُلِهِ وَيَقُولُونَ نُؤْمِنُ بِبَعْضٍ وَنَكْفُرُ بِبَعْضٍ وَيُرِيدُونَ أَنْ يَتَّخِذُوا بَيْنَ ذَلِكَ سَبِيلًا . أُولَئِكَ هُمُ الْكَافِرُونَ حَقًّا وَأَعْتَدْنَا لِلْكَافِرِينَ عَذَابًا مُهِينًا.
'এবং যারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলগণকে অস্বীকার করে এবং আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের মধ্যে (ঈমানের ব্যাপারে) তারতম্য করতে চায় এবং বলে আমরা কতককে বিশ্বাস করি ও কতককে অবিশ্বাস করি, আর তারা মধ্যবর্তী কোন পথ অবলম্বন করতে চায়, এরাই প্রকৃত কাফির এবং কাফিরদের জন্য আমি লাঞ্ছনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করেছি।'৪৩ সুতরাং রাসূল ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বাদ দিয়ে শুধু আল্লাহর প্রতি আনুগত্য দেখানোর যেমন কোন সুযোগ নেই, তেমনি হাদীছ না মেনে শুধু আল-কুরআন মেনে মু'মিন থাকার কোন সুযোগ নেই।

টিকাঃ
৪৩. সূরাহ আন-নিসা: ১৫০-১৫১

📘 হাদিস নিয়ে বিভ্রান্তি > 📄 ৩.২.২ হাদীছ বর্জন করে ইসলামী শারী’আত পালন একেবারেই অবাস্তব

📄 ৩.২.২ হাদীছ বর্জন করে ইসলামী শারী’আত পালন একেবারেই অবাস্তব


ইসলামী শারী'আতে হুকুম আহকামের জন্য দলীল হওয়ার ক্ষেত্রে আল-কুরআন ও আল-হাদীছের মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। এটি সঠিক যে, হাদীছের চেয়ে আল-কুরআনের রয়েছে এক স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। আল-কুরআন সরাসরি আল্লাহর বাণী, যা তিনিই অবতীর্ণ করেছেন। যা তিলাওয়াত করা ইবাদাত বলেই গণ্য। সমগ্র মানবজাতি একত্রিত হয়েও কুরআনের একটি আয়াত রচনার যোগ্যতা রাখেনা। এসব বিবেচনায় আল-কুরআন হাদীছ থেকে আরো বেশি মর্যাদাপূর্ণ, এতে কোন সন্দেহ নেই। এর অর্থ এ নয় যে, হাদীছকে বাদ দিয়ে ইসলামী বিধি-বিধান শুধু কুরআনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। মূলত, আল-কুরআন ও হাদীছের সমন্বয়েই ইসলামী শারী'আহর পরিপূর্ণ রূপ অস্তিত্ব লাভ করেছে। আল-কুরআন হলো ইসলামী শারী'আহর প্রথম উৎস আর হাদীছ হলো তার দ্বিতীয় উৎস। কুরআনে বর্ণিত ইসলামী শারী'আহর অনেক কিছুই সংক্ষিপ্ত, যা হাদীছে বিস্তারিত আলোচিত হয়েছে। এটি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলার বিজ্ঞোচিত এক ব্যবস্থাপনা। তিনি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইসলামী শারী'আহকে আরো বিকশিত করে উপস্থাপনের দায়িত্বে নিয়োজিত করেছেন। এ প্রসংগে তিনি ইরশাদ করেন-
وَأَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الذِّكْرَ لِتُبَيِّنَ لِلنَّاسِ مَا نُزِّلَ إِلَيْهِمْ وَلَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُونَ.
'এবং আমি তোমার প্রতি আল-কুরআন অবতীর্ণ করেছি মানুষকে সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য যা তাদের উপর অবতীর্ণ করা হয়েছিল, যাতে তারা চিন্তা করে।'৪৪ এ আয়াতের স্পষ্ট শিক্ষা হচ্ছে যে, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহিস সাল্লাম-এর অন্যতম দায়িত্বই হচ্ছে, প্রয়োজনে কুরআনকে বিশ্লেষণ করা। এ বিষয়ে তিনি আরো ইরশাদ করেন-
وَمَا أَنْزَلْنَا عَلَيْكَ الْكِتَابَ إِلَّا لِتُبَيِّنَ لَهُمُ الَّذِي اخْتَلَفُوا فِيهِ.
'আমি তো তোমার প্রতি আল-কুরআন অবতীর্ণ করেছি, যারা এ বিষয়ে মতভেদ করে তাদেরকে সুস্পষ্টভাবে বুঝিয়ে দেয়ার জন্য।'৪৫
সুতরাং আল-কুরআন বিশ্লেষণ করা হলো রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর উপর আল্লাহ প্রদত্ত অন্যতম দায়িত্ব। রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক কুরআনের যে বিশ্লেষণ হয়েছে, তার বাস্তব রূপই হচ্ছে হাদীছ। এখানে হাদীছ অস্বীকার করার অর্থই হচ্ছে, আল্লাহ রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আল-কুরআন বিশ্লেষণের যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা অস্বীকার করা। আল্লাহর পক্ষ হতে তার প্রতি দেয়া এ দায়িত্ব অস্বীকারের অর্থই হচ্ছে, আল্লাহ প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি যে বিশ্লেষণ দিয়েছেন, তা অস্বীকারের মাধ্যমে দায়িত্ব প্রদানকারী সত্তা আল্লাহকে অস্বীকার করা।
প্রত্যহ কতবার ছালাত আদায় করতে হবে, এ ছালাতের সময় কখন থেকে আরম্ভ হবে আর তা কখন শেষ হবে, প্রতিটি সময়ে কত রাক'আত ছালাত আদায় করতে হবে, ছালাত আদায়ের সময় সাজদাহ ও রুকূ' কখন করতে হবে, ছালাতের মধ্যে কী কী পাঠ করতে হবে, কী কী কাজ করলে ছালাত ভংগ হবে; এমনি অসংখ্য বিষয় যা ছালাতের সাথে সংশ্লিষ্ট, তার কোন ন্যূনতম বর্ণনাও কি কুরআনে রয়েছে? আল-কুরআনে ছালাতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে মাত্র। এর আনুষঙ্গিক এ সব বিষয়ে তো হাদীছই আমাদেরকে পথ নির্দেশনা দিয়েছে। হাদীছেই তো এসেছে- রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-
صلوا كما رأيتموني أصلي
'আমাকে যেমনিভাবে ছালাত আদায় করতে দেখ তেমনি ভাবেই ছালাত আদায় কর। ৪৬ যারা হাদীছ অস্বীকার করার ধৃষ্টতা দেখায়, তারা হাদীছ বাদ দিয়ে ছালাত আদায়ের সামান্য চিন্তাও কি করতে পারে? কখনো সম্ভব নয়। সেজন্য হাদীছ-বাদ দিয়ে যারা শুধু আল-কুরআন মানার আস্ফালন দেখায়, তারা মূলত অলক্ষ্যে ছালাতের বাস্তব রূপকেই অস্বীকার করে।
একই ভাবে আল-কুরআনে যাকাত আদায়ের নির্দেশ এসেছে। কোন কোন সম্পদের কত দিন পর পর, কি পরিমাণ যাকাত দিতে হবে, তা কি হাদীছের মাধ্যম বাদ দিয়ে অন্য মাধ্যমে জানা সম্ভব? ছিয়াম পালনের হুকুম আহকাম, হজ্জ পালনের নিয়মাবলী, দৈনন্দিন জীবনে ইসলামী নিয়ম নীতি অনুযায়ী ক্রয়-বিক্রয়, পারস্পরিক আদান প্রদান, বিবাহ শাদীর পদ্ধতি প্রভৃতি অসংখ্য কর্মকাণ্ড পরিচালনা পদ্ধতি হাদীছ অমান্য করে পালন করা কোন ভাবেও সম্ভব নয়। ইবন হাযম রাহিমাহু আল্লাহ এ বাস্তবতাকেই তুলে ধরে হাদীছ অস্বীকারকারীদেরকে প্রশ্নাকারে বলেছেন যে-
في أي قرآن وجد أن الظهر أربع ركعات وأن المغرب ثلاث ركعات وأن الركوع على صفة كذا والسجود على صفة كذا وصفة القراءة فيها والسلام وبيان ما يجتنب في الصوم وبيان كيفية زكاة الذهب والفضة والغنم والإبل والبقر ومقدار الأعداد المأخوذ منها الزكاة ومقدار الزكاة المأخوذة وبيان أعمال الحج من وقت الوقوف بعرفة وصفة الصلاة بها وبمزدلفة ورمي الجمار وصفة الإحرام وما يجتنب فيه وقطع يد السارق وصفة الرضاع المحرم وما يحرم من الماكل وصفة الذبائح والضحايا وأحكام الحدود وصفة وقوع الطلاق وأحكام البيوع وبيان الربا ... وإنما في القرآن جمل لو تركنا وإياها لم ندر كيف نعمل فيها وإنما المرجوع إليه في كل ذلك النقل عن النبي صلى الله عليه و سلم. فلا بد من الرجوع إلى الحديث ضرورة ولو أن امرأ قال لا نأخذ إلا ما وجدنا في القرآن لكان كافرا بإجماع الأمة ولكان لا يلزمه إلا ركعة ما بين دلوك الشمس إلى غسق الليل وأخرى عند الفجر.
'যোহরের চার রাক'আত, মাগরিবের তিন রাক'আত, রুকু' ও সাজদাহ এর প্রকৃতি, কিরাআতের অবস্থা, ছালাম ফিরানোর বিবরণ, ছিয়ামে যা বর্জনীয়, স্বর্ণ, রৌপ্য, ছাগল ও উটের যাকাত আদায়ের পদ্ধতি, হজ্জ পালনের কর্মকাণ্ড বিশেষ করে 'আরাফাতে অবস্থান এবং 'আরাফাতে ও মুজদালিফায় ছালাত আদায়ের বিবরণ, (আকাবাতে) পাথর নিক্ষেপ, ইহরামের বর্ণনা এবং ইহরাম অবস্থায় যা পরিত্যাজ্য তার বর্ণনা, চোরের হাত কর্তন, ক্রয়-বিক্রয়ের বিধি-বিধান, সুদের বর্ণনা... তোমরা কোন কুরআনে পেয়েছ?
আল-কুরআন হচ্ছে সারসংক্ষেপ, যদি হাদীছ বর্জন করি তাহলে কিভাবে তা কার্যে পরিণত করব, তা আমরা জানব না। সুতরাং হাদীছের দিকে প্রত্যাবর্তন অত্যাবশ্যক। যদি কোন ব্যক্তি বলে যে, আমরা কুরআনে যা পাই তাই গ্রহণ করব, সমগ্র উম্মাহ তার কাফির হওয়ার ব্যাপারে এক মত। তার জন্য সূর্য অস্ত যাওয়া থেকে অন্ধকার রাত পর্যন্ত এক রাক'আত এবং ফজরের সময় শুধু আরো এক রাক'আত ছালাত আদায় অপরিহার্য হবে।'৪৭ সুতরাং হাদীছ অস্বীকার করে শুধু আল-কুরআন অনুসরণের দাবি একেবারেই অবান্তর, অবাস্তব, অমূলক ব্যতীত আর কিছু নয়।

টিকাঃ
৪৪. সূরাহ আন-নাহল: ৪৪
৪৫. সূরাহ আন-নাহল: ৬৪
৪৬. হাহীহ আল-বুখারী, ১ খ., ২২৬ পৃঃ, ৫খ. ২২৩৮ পৃঃ, ৬খ. ২৬৪৭পৃঃ
৪৭. ইবন হাযম, ইহকাম ফী উছুলুল আহকাম, মিশর, তাবি, ২খ. ৭৯-৮০পৃ:

📘 হাদিস নিয়ে বিভ্রান্তি > 📄 ৩.২.৩ আল-কুরআন অনুধাবনের জন্য হাদীছের অপরিহার্যতা

📄 ৩.২.৩ আল-কুরআন অনুধাবনের জন্য হাদীছের অপরিহার্যতা


ছাহাবীগণ আরবী ভাষাভাষী হয়েও প্রাথমিক পর্যায়ে কুরআনের কিছু কিছু বিষয় পরিষ্কারভাবে বুঝতেন না। এক পর্যায়ে আল্লাহ অবতীর্ণ করলেন-
الَّذِينَ آمَنُوا وَلَمْ يَلْبِسُوا إِيمَانَهُمْ بِظُلْمٍ
'যারা ঈমান এনেছে এবং তাদের ঈমানকে যুলম দ্বারা কলুষিত করে নি।'৪৮ যুলম থেকে বেঁচে থাকা কঠিন কাজ বিধায় আছহাব রাদিআল্লাহু আনহুম এ আয়াত নিজেদের জন্য অনুসরণ করাকে অসম্ভব বলে মনে করলেন। তাঁরা বললেন, يارسول الله فأينا لا يظلم نفسه؟ "হে আল্লাহর রাসূল, আমাদের কে রয়েছে যে, নিজের নফছের উপর যুলম করে না? তিনি বললেন- ليس ذلك إنما هو الشرك 'তোমরা এ দ্বারা যা বুঝেছ তা নয়, এখানে 'যুলম"এর অর্থ হচ্ছে, শিরক।৪৯
এ আয়াতে 'যুলম' দ্বারা যে শিরক বুঝানো হয়েছে, তা মূলত রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। এখানে হাদীছ অস্বীকার করে এ আয়াতের সঠিক অর্থ অনুধাবণ করা কি আদৌ সম্ভব? আল্লাহ আরো ইরশাদ করেন-
أَلَمْ تَرَ كَيْفَ ضَرَبَ اللهُ مَثَلًا كَلِمَةً طَيِّبَةً كَشَجَرَةٍ طَيِّبَةٍ أَصْلُهَا ثَابِتٌ وَفَرْعُهَا فِي السَّمَاءِ .. تُؤْتِي أُكُلَهَا كُلِّ حِينٍ بِإِذْنِ رَبِّهَا وَيَضْرِبُ اللَّهُ الْأَمْثَالَ لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَذَكَّرُونَ . وَمَثَلُ كَلِمَةٍ خَبِيثَةٍ كَشَجَرَةٍ خَبِيثَةٍ اجْتَثَّتْ مِنْ فَوْقِ الْأَرْضِ مَا لَهَا مِنْ قرار.
'তুমি কি লক্ষ্য কর না আল্লাহ কিভাবে উপমা দিয়ে থাকেন? সৎ বাক্যের তুলনা উৎকৃষ্ট বৃক্ষ, যার মূল সুদৃঢ় ও যার শাখা-প্রশাখা উর্ধ্বে বিস্তৃত। যা প্রত্যেক মওসুমে তার প্রতিপালকের অনুমতিক্রমে ফল দান করে থাকে এবং আল্লাহ মানুষের জন্য উপমা দিয়ে থাকেন যাতে তারা শিক্ষা গ্রহণ করে। কু-বাক্যের তুলনা এক মন্দ বৃক্ষ, যার মূল ভূপৃষ্ঠ হতে বিছিন্ন, যার কোন স্থায়িত্ব নেই। ৫০
এখানে দুটি আয়াতে ব্যবহৃত শব্দ "شجرة طيبه" দ্বারা যে খেজুর গাছ ও "شجرة خبيئة" দ্বারা যে হানজালাহ বৃক্ষকে বুঝানো হয়েছে, তা হাদীছ দ্বারাই প্রমাণিত। হাদীছে যেমন বর্ণিত হয়েছে-
عن أنس بن مالك أن رسول الله صلى الله عليه و سلم أتي بقناع جزء فقال : مثل كلمة طيبة كشجرة طيبة أصلها ثابت وفرعها في السماء تؤتي أكلها كل حين بإذن ربها فقال : هي النخلة ومثل كلمة خبيثة كشجرة خبيثة اجتثت من فوق الأرض ما لها من قرار قال : هي الحنظلة
'রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন এখানে كلمة طيبة كشجرة طيبة أصلها ثابت وفرعها في السماء تؤتي أكلها كل حين بإذن ربها كلمة خبيثة كشجرة خبيثة اجتثت من فوق শব্দে খেজুর গাছ এবং শجرة طيبة ة الأرض ما لها من قرارك শজরাহ খবীছাহ এর অর্থ হচ্ছে, হানজালাহ বৃক্ষ।"৫১ হাদীছ অস্বীকার করলে এ দুটির সঠিক অর্থ উপলব্ধি করা কি কোন ভাবেও সম্ভব? আল- কুরআন বুঝার জন্য যে হাদীছের প্রয়োজন তার আরো প্রমাণ হচ্ছে, আল্লাহর বাণী-
يُثَبِّتُ اللَّهُ الَّذِينَ آمَنُوا بِالْقَوْلِ الثَّابِتِ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَيُضِلُّ اللَّهُ الظَّالِمِينَ وَيَفْعَلُ اللَّهُ مَا يَشَاءُ. ৫৩
'যারা শাশ্বত বাণীতে বিশ্বাসী, তাদেরকে দুনিয়ার জীবনে ও আখিরাতে আল্লাহ সুপ্রতিষ্ঠিত রাখবেন এবং যারা যালিম আল্লাহ তাদেরকে বিভ্রান্তিতে রাখবেন। আল্লাহ যা ইচ্ছা তা করেন। ৫২ এ আয়াতে "আখিরাত" এর অর্থ হচ্ছে, কবরে প্রশ্নোত্তরের সময়। এখানে আখিরাতের স্বাভাবিক অর্থ পরকাল না হয়ে যে কবরে মুনকার ও নাকীরের প্রশ্নোত্তরের সময়কালকে বুঝানো হয়েছে, তা মূলত হাদীছ দ্বারাই প্রমাণিত। হাদীছ অস্বীকার করলে এ বাস্তব সত্য বুঝার সুযোগ থাকবে কি?
এমনি অসংখ্য আয়াতের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ হাদীছ ব্যতীত উপলব্ধি করা কোন প্রকারেও সম্ভব নয়। সুতরাং কুরআনের অনেক অংশ বুঝার জন্য আমরা হাদীছের উপরই নির্ভরশীল। হাদীছ অস্বীকার করে কুরআনের অনেক অংশই অনুধাবন করা অসম্ভব। সে জন্য যারা হাদীছ বাদ দিয়ে আল-কুরআন বুঝার অপচেষ্টায় ব্যস্ত, তারা মূলত বিভ্রান্তির ভেতরেই রয়েছে। হাদীছ উপেক্ষা করে আল-কুরআন বুঝা একেবারেই অবাস্তব।

টিকাঃ
৪৮. সূরাহ আল-আন'আম: ৮২
৪৯. ছাহীহ আল-বুখারী, ৩ খ., পৃ. ১২৬২
৫০. সূরাহ ইবরাহীম: ২৪-২৬
৫১. ইবন হিব্বান, আবু হাতিম, ছহীহ ইবন হিব্বান, বায়রূত, ১৪১৪ হি. ২খ, ২২৩ পৃঃ
৫২. সূরাহ ইবরাহীম : ২৭
৫৩. ছাহীহ আল বুখারী, ৪খ. ২৭৩৫ পৃঃ

📘 হাদিস নিয়ে বিভ্রান্তি > 📄 ৩.২.৪ হাদীছ ব্যতীত ইসলামী শারী’আতের পূর্ণ বিধিবিধান পালন অসম্ভব

📄 ৩.২.৪ হাদীছ ব্যতীত ইসলামী শারী’আতের পূর্ণ বিধিবিধান পালন অসম্ভব


যারা শুধু কুরআনের আলোকেই ইসলামী শারী'আতকে কল্পনা করে, তারা মূলত ইসলামী শারী'আতের বাস্তব অবস্থা সম্পর্কে একেবারেই অজ্ঞ। ইসলামী শারী'আতের এমন অনেক হুকুম আহকাম রয়েছে, যে সম্পর্কে কুরআনে কিছুই পাওয়া যায় না। মূলত হাদীছ দ্বারাই তা প্রমাণিত হয়েছে, আল-কুরআন দ্বারা নয়। এ প্রসঙ্গে এখানে শুধু কয়েকটি উদাহরণ উপস্থাপন করা হচ্ছে-
ক. দাদী-নানীকে উত্তরাধিকারী ঘোষণা :
ইসলামী শারী'আহর সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত যে, মৃতের মাতা না থাকলে মৃতের দাদী ও নানী তার সম্পদের এক-ষষ্ঠাংশের উত্তরাধিকারী হয়। এটি আল-কুরআন দ্বারা নয়, শুধু হাদীছ দ্বারাই প্রতিষ্ঠিত। বর্ণিত হয়েছে
عَنِ ابْنِ بُرَيْدَةً عَنْ أَبِيهِ أَنْ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - جَعَلَ لِلْجَدَّةِ السُّدُسَ إِذَا لَمْ تَكُنْ دُونَهَا أُمِّ.
'যদি মাতা না থাকে তাহলে দাদী বা নানীকে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক-ষষ্ঠাংশ উত্তরাধিকার প্রদেয় বলে ঘোষণা করেছেন। '৫৪ হাদীছ না মেনে, শুধু আল-কুরআন মানতে গেলে ইসলামী শারী'আতের দাদী-নানীকে উত্তরাধিকার নীতিমালার গুরুত্বপূর্ণ এ অংশটি বাদ দেয়া অপরিহার্য হয়ে পড়ে, যা মূলত ইসলামী শারী'আতকে সংকুচিত হতে বাধ্য করে। ইসলামী শারী'আতের এ সংকোচন ইসলামী শারী'আতের পরিপূর্ণতার পরিপন্থী।
খ. স্ত্রীর সাথে তার খালা অথবা ফুফুকে একই সময়ে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করে রাখাকে অবৈধকরণ : ইসলামী শারী'আহতে নিজের স্ত্রীর সাথে তার খালা অথবা ফুফুকে একত্রে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করাকে হারাম হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। আল-কুরআনের কোথাও এ বিধান প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষ ভাবে উল্লেখ করা হয়নি। শুধু হাদীছে উল্লেখ হওয়ার কারণে ইসলামে এটাকে হারাম বলে গণ্য করা হয়েছে। বর্ণিত হয়েছে-
عن الشعبي سمع جابرا رضي الله عنه قال : نهى رسول الله صلى الله عليه وسلم أن تنكح المرأة على عمتها أو خالتها.
'শা'বী জাবির রাদি আল্লাহু 'আনহু থেকে শুনেছেন যে, তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন মহিলাকে তার ফুফু ও তার খালার সাথে একত্রে বিয়ে করাকে নিষেধ করেছেন। ৫৫ যারা হাদীছ পরিপালনকে অস্বীকার করে, কুরআনে এ বিষয়ে কোন কিছু উল্লেখ না থাকার কারণে কি এটাকে হালাল বলে মনে করবে? ইসলামে সর্বসম্মত ভাবে স্বীকৃত এ হারামকে হালাল জ্ঞান করা, মূলত ইসলামী শারী'আতের অংশ বিশেষ না মানারই নামান্তর, যা মূলত ইসলামের দৃষ্টিতে কঠোর অপরাধ। সুতরাং ইসলামী শারী'আহ মানতে হলে হাদীছ মানা অপরিহার্য।
গ. মৃত মাছ, পঙ্গপাল, কলিজা ও প্লীহা ভক্ষণ বৈধকরণ : আল-কুরআনে যে কোন মৃতকে ও রক্ত ভক্ষণকে হারাম ঘোষণা করেছে। আল্লাহ ইরশাদ করেছেন:
حُرِّمَتْ عَلَيْكُمُ الْمَيْتَةُ وَالدَّم.
'হারাম করা হয়েছে তোমাদের উপর মৃত ও রক্ত।'৫৬ এ আয়াত অনুযায়ী যেহেতু যে কোন মৃত ও রক্ত ভক্ষণ করা হারাম সেহেতু মৃত মাছ, কলিজা ও প্লীহা রক্ত বিশেষ হওয়ায় তা হারাম হওয়া অপরিহার্য ছিল। কিন্তু হাদীছ মৃত মাছ, পঙ্গপাল এবং জবহকৃত পশুর কলিজা ও প্লীহাকে এ হারামের গণ্ডিমুক্ত করে এগুলোকে হালাল বলে ঘোষণা দিয়েছে। বর্ণিত হয়েছে-
عن عبد الله بن عمر أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال: أحلت لكم میتتان ودمان فأما الميتتان فالحوت والجراد وأما الدمان فالكبد والطحال.
"আবদুল্লাহ ইবন 'উমার রাদি আল্লাহু 'আনহুমা সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম তোমাদের জন্য দুটি মৃত ও রক্তকে হালাল করা হয়েছে। মৃত দু'টি হচ্ছে, মাছ ও পঙ্গপাল এবং রক্ত দু'টি হচ্ছে, কলিজা ও প্লীহা।"৫৭
যারা হাদীছ অস্বীকার করে শুধু কুরআনকে মেনে আত্মতৃপ্তি বোধ করেন, তারা কি মৃত মাছ, পঙ্গপাল, কলিজা ও প্লীহা খাওয়াকেও কুরআনে হারাম হওয়ার কারণে তা হারাম মনে করেন? নিশ্চয় তাদের তা মনে করার কথা নয়। অলক্ষ্যেই তারা হাদীছকে মেনেই মূলত এগুলোকে হালাল মনে করে থাকেন। সুতরাং তাদের শুধু আল-কুরআন মানার এ দাবী যে অসম্ভব ও অবাস্তব তা তারা নিজেরাই প্রমাণ করলেন।
ঘ. ভিন্ন ধর্মাবলম্বী পিতামাতা ও সন্তানের উত্তরাধিকার: আল্লাহ ইরশাদ করেছেন-
يُوصِيكُمُ اللهُ فِي أَوْلَادِكُمْ لِلذَّكَرِ مِثْلُ حَظِّ الْأُنْثَيَيْنِ فَإِنْ كُنَّ نِسَاءً فَوْقَ اثْنَتَيْنِ فَلَهُنَّ ثُلُثَا مَا تَرَكَ وَإِنْ كَانَتْ وَاحِدَةً فَلَهَا النِّصْفُ وَلِأَبَوَيْهِ لِكُلِّ وَاحِدٍ مِنْهُمَا السُّدُسُ مِمَّا تَرَكَ إِنْ كَانَ لَهُ وَلَدٌ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ لَهُ وَلَدٌ وَوَرِثَهُ أَبَوَاهُ فَلِأُمِّهِ الثُّلُثُ.
'আল্লাহ তোমাদের সন্তান সম্বন্ধে নির্দেশ দিচ্ছেন, এক পুত্রের অংশ দুই কন্যার অংশের সমান, কিন্তু কেবল কন্যা দুইয়ের অধিক থাকলে তাদের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তি দুই- তৃতীয়াংশ, আর মাত্র এক কন্যা থাকলে তার জন্য অর্ধেকাংশ। আর সন্তান থাকলে পিতা-মাতা প্রত্যেকের জন্য পরিত্যক্ত সম্পত্তির এক-ষষ্ঠাংশ, সে নিঃসন্তান হলে এবং পিতা-মাতাই উত্তরাধিকারী হলে তার মাতার জন্য এক-তৃতীয়াংশ।৫৮ এই আয়াত প্রত্যেক পিতা-মাতা তার সন্তানের এবং প্রত্যেক সন্তান তার পিতামাতার উত্তরাধিকারী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। তারা একে অপরের ধর্মাবলম্বী হোক বা না হোক, তার কোন বর্ণনা এখানে নেই। তবে হাদীছেই মূলত কাফির পিতামাতা মুসলিম সন্তানের অথবা কাফির সন্তান মুসলিম পিতামাতার উত্তরাধিকারী না হওয়ার স্পষ্ট বক্তব্য উপস্থাপন করেছে। মুসলিম উম্মাহও এই সিদ্ধান্তকে অনুশীলন করে আসছে। যেমন হাদীছে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ أَسَامَةَ بْنِ زَيْدٍ، أَن النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَالَ: لَا يَرِثُ الْمُسْلِمُ الْكَافِرَ، وَلَا يَرِثُ الْكَافِرُ الْمُسْلِمَ.
'উসামাহ ইবন যায়িদ রাদি আল্লাহু 'আনহুমা সূত্রে বর্ণিত মহানবী ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, মুসলিম কাফিরের উত্তরাধিকারী হয় না এবং কাফিরও মুসলিমের উত্তরাধিকারী হয় না।৫৯ উত্তরাধিকারীর এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাটি কস্মিনকালেও শুধু কুরআনের মাধ্যমে জানা সম্ভবপর নয়। এজন্য অবশ্যই হাদীছের দ্বারস্থ হওয়া ব্যতিত কোন বিকল্প নেই।
৬. পূর্ববর্তী স্বামীর সাথে বিবাহ: মহাগ্রন্থ আল কুরআনে আল্লাহ ইরশাদ করেছেন-
فَإِنْ طَلَّقَهَا فَلَا تَحِلُّ لَهُ مِنْ بَعْدُ حَتَّى تَنْكِحَ زَوْجًا غَيْرَهُ.
'এরপর যদি যে তাকে তালাক দেয় তবে সে তার জন্য বৈধ হবে না, যে পর্যন্ত সে অন্য স্বামীর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ না হয়। '৬০ এ আয়াতে তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী তার তালাকদাতা স্বামীর জন্য বৈধ হওয়ার ক্ষেত্রে অন্য কারো সাথে শুধু বিবাহ হওয়াকেই শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার সাথে মেলামেশ করা না করা বা অন্য কোন দ্বিতীয় স্বামীর পক্ষ থেকে তালাক দেয়ার পর ইদ্দত পালন করা না করার বিষয়, এখানে উল্লেখ হয়নি। শুধু কুরআনের অনুসারীরা কি এই আয়াতের সরাসরি বক্তব্য অনুযায়ী প্রথম স্বামীর তালাকের পরপরই অন্য কারো সাথে বিবাহ দিয়ে সে তালাক দিলে ঐ মহিলাকে তার প্রথম স্বামীর সাথে ইদ্দত ছাড়াই বিবাহকে অনুমোদন দেবেন? ইসলামের দৃষ্টিতে এটি কক্ষনো বৈধ হবে না। বরং হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, এ জন্য দ্বিতীয় স্বামীর সাথে তার মেলামেশা অত্যাবশ্যক। বর্ণিত হয়েছে- রিফা'আতুবনু সামওয়াল আল- কুরাযী রাদি আল্লাহু 'আনহু তার স্ত্রী তামীমাহ বিনত ওয়াহাব রাদি আল্লাহু 'আনহাকে তিন তালাক দিলেন। আব্দুর রহমান ইবনুয যুবায়ির রাদি আল্লাহু 'আনহু তাকে বিবাহ করেন। তিনি ছিলেন স্ত্রীর সাথে মেলামেশা করতে অক্ষম। তাদের মধ্যে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেল। রিফা'আহ রাদি আল্লাহু 'আনহাকে তিনি দ্বিতীয়বার বিবাহ করতে চাইলে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন-
تُرِيدِينَ أَنْ تَرْجِعِي إِلَى رِفَاعَةَ، لا، حَتَّى تَذُوقِي عُسَيْلَتَهُ، وَيَذُوقَ عُسَيْلَتَكَ.
'তুমি কি রিফা'আর কাছে ফিরে যেতে চাও? কক্ষনো না, যতক্ষণ না তুমি তার (ইবনুয যুবায়িরের) মধুর স্বাদ এবং সে তোমার মধুর স্বাদ গ্রহণ না করে।৬১ সুতরাং প্রথম স্বামীর নিকট ফিরে যেতে হলে দ্বিতীয় স্বামীর সঙ্গে নির্জনবাস অপরিহার্য, তা শুধু হাদীছ দ্বারাই প্রমাণিত।
চ. চোরের হাত কাটার পরিমাণ: আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা ইরশাদ করেন-
وَالسَّارِقُ وَالسَّارِقَةُ فَاقْطَعُوا أَيْدِيَهُمَا جَزَاءً بِمَا كَسَبَا نَكَالًا مِنَ اللَّهِ وَاللَّهُ عَزِيزٌ حكِيمٌ.
'এবং পুরুষ চোর এবং নারী চোর, তাদের হস্তচ্ছেদ কর, এ তাদের কৃতকর্মের ফল এবং আল্লাহর পক্ষ হতে আদর্শ দণ্ড, আল্লাহ পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।৬২ এ আয়াতে কি পরিমাণ চুরি করলে হাতের কোন পর্যন্ত কাটা যাবে তার বর্ণনা নেই। শুধু কুরআনের অনুসারীগণ তাহলে এই আয়াত কিভাবে কার্যকর করবেন? হাদীছে বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ قال النبي صلى الله عليه و سلم تُقْطَعُ الْيَدُ فِي رُبْعِ دِينَارٍ فَصَاعِدًا.
'আয়িশাহ (রা) সূত্রে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, 'দীনারের এক-চতুর্থাংশের বেশি চুরি করলে (চোরের) হাত কাটতে হবে। '৬০ আরো বর্ণিত হয়েছে-
عَنْ عَدِيٍّ : أَنَّ النَّبِيَّ - صلى الله عليه وسلم - قَطَعَ يَدَ سَارِقٍ مِنَ الْمَفْصِلِ.
'আদী রাদি আল্লাহু 'আনহু সূত্রে বর্ণিত হয়েছে- রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম চোরের হাতের কবজির গিরা থেকে কেটেছিলেন। '৬১ সুতরাং চোরের সাজা কার্যকরের জন্য হাদীছের বর্ণনা অবশ্যই পালনীয়, যা শুধু কুরআনের দ্বারা কোনভাবেই সম্ভব নয়।
আসলে ইসলামী শারী'আতের বিধি বিধানে এমন কিছু হালাল হারামের বিষয় রয়েছে, যার পরোক্ষ বা সারসংক্ষেপ আলোচনাও কুরআনে নেই, যা মূলত হাদীছের দ্বারাই প্রমাণিত, যা হাদীছের উপরই নির্ভরশীল। যারা হাদীছ অনুসরণের বিরোধিতা করেন, তারা ইসলামে সর্বসম্মত এরূপ অসংখ্য হালাল হারামের বিধি বিধানকেও অমান্য করতে বাধ্য হন, যা মূলত ইসলামী শারী'আতের পূর্ণ বিধি বিধান পালনের ক্ষেত্রে অন্তরায় সৃষ্টি করে। সে জন্য হাদীছ না মেনে পরিপূর্ণ ইসলামী শারী'আহ পরিপালনের কোন সুযোগ নেই। ইসলামে হালাল হারাম সম্পর্কে যে মূল বক্তব্য তার মর্মার্থ হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন কিছু হালাল করলে তা হালাল এবং তিনি কোন কিছু হারাম করলে ইসলামে তা হারাম বলেই গণ্য হয়। এ প্রসঙ্গে বর্ণিত হয়েছে যে-
عن الْحَسَنُ بْنُ جَابِرٍ قَالَ سَمِعْتُ الْمِقْدَامَ بْنَ مَعْدِي كَرِبَ يَقُولُ حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ يَوْمَ خَيْبَرَ أَشْيَاءَ ثُمَّ قَالَ يُوشِكُ أَحَدُكُمْ أَنْ يُكَذِّبَنِي وَهُوَ مُتَّكِى عَلَى أَرِيكَتِهِ يُحَدَّثُ بِحَدِيثِي فَيَقُولُ بَيْنَنَا وَبَيْنَكُمْ كِتَابُ اللَّهِ فَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَلَالٍ اسْتَحْلَلْنَاهُ وَمَا وَجَدْنَا فِيهِ مِنْ حَرَامٍ حَرَّمْنَاهُ أَلَا وَإِنَّ مَا حَرَّمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ مِثْلُ مَا حَرَّمَ اللَّهُ.
'আল- হাসান ইবন জাবির রাদি আল্লাহু 'আনহু সূত্রে বর্ণিত তিনি বলেন, আমি আল- মিকদাম ইবন মা'দিকারব রাদি আল্লাহু 'আনহুকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম কিছু দ্রব্যকে খাইবারের দিন হারাম করেন এরপর বলেন, তোমাদের কেউ আমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার নিকটবর্তী হয় এমন অবস্থায় যে, আমার হাদীছ বর্ণিত হলে সে তার পালঙ্কে হেলান দিয়ে বলে, 'আমাদের মাঝে তো আল্লাহর কিতাব রয়েছে। এর মধ্যে আমরা যা হালাল পাবো তা আমরা হালাল করব, এখানে আমরা যা হারাম পাবো তা হারাম করব।' সাবধান, নিশ্চয় আল্লাহর রাসূল ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা হারাম করেছেন তা তো আল্লাহর হারাম করারই মত।১৬৫ সুতরাং হাদীছের মাধ্যমে যা হালাল সাব্যস্ত হয়েছে, তা ইসলামে হালাল আর যা হারাম সাব্যস্ত হয়েছে তা অবশ্যই হারাম বলেই গণ্য।

টিকাঃ
৫৪. আবু দাউদ, সূনান, বায়রূত, ভাবি, ৩খ. ২২২পৃঃ
৫৫. হাহীহ আল-বুখারী, ৫খ. ১৯৬৫পৃঃ
৫৬. সূরাহ আল-মায়িদাহঃ ০৩
৫৭. ইবন মাজাহ, সুনান, বায়রূত, তাবি., ২খ. ১১০২ পৃঃ
৫৮. সূরাহ আন-নিসা: ১১
৫৯. ছাহীহ আল-বুখারী, ৬খ. ২৪৮৪ পৃঃ, ছাহীহ মুসলিম, ৫খ. ৫৯ পৃঃ
৬০. সূরাহ আল-বাকারাহ: ২৩০
৬১. ছাহীহ আল-বুখারী, ২খ. ৯৩৩ পৃঃ, হাহীহ মুসলিম ২খ. ২০৫৫ পৃঃ, মানিক মুয়ত্তা', দামিল্ক, ১৪১৬ হিঃ ২খ. ৫১৮ পৃঃ
৬২. সূরাহ আল-মায়িদাহঃ ৩৮
৬৩. ছাহীহ আল-বুখারী, ৬খ. ২৪৯২ পৃঃ
৬৪. আল-বাইহাকী, আন-সুনানুল কুবরা, মাক্কাহ, আল-মুকাররামাহ, ১৪১৪ হিঃ ৮খ. ২৭০ পৃঃ

লিঙ্ক শেয়ার করুন
close

লিঙ্ক কপি করুন

0:00
0:00