📄 ৩.১.৭ আমর বিল মা’রূফ, নাহি আনিল মুনকার ও হালাল হারাম নির্ণয়ের দায়িত্বে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম
সফলকাম ব্যক্তিদের বর্ণনা দিতে গিয়ে এক পর্যায়ে আমর বিল মা'রূফ ও নাহী আনিল মুনকার অর্থাৎ সৎকার্যের আদেশ ও অসৎ কাজের বাধা প্রদান ও কোন কিছুকে হালাল ও হারাম নির্ণয় করার মত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অন্যতম কার্যক্রম ছিল, সে প্রসঙ্গে মহাগ্রন্থ আল-কুরআন স্পষ্ট বক্তব্য তুলে ধরেছে। এ প্রসংগে আল্লাহ 'আয্যা ওয়া জাল্লা বলেন-
الَّذِينَ يَتَّبِعُونَ الرَّسُولَ النَّبِيَّ الْأُمِّيَّ الَّذِي يَجِدُونَهُ مَكْتُوبًا عِنْدَهُمْ فِي التَّوْرَاةِ وَالْإِنْجِيلِ يَأْمُرُهُمْ بِالْمَعْرُوفِ وَيَنْهَاهُمْ عَنِ الْمُنْكَرِ وَيُحِلُّ لَهُمُ الطَّيِّبَاتِ وَيُحَرِّمُ عَلَيْهِمُ الْخَبَائِثَ وَيَضَعُ عَنْهُمْ إِصْرَهُمْ وَالْأَغْلَالَ الَّتِي كَانَتْ عَلَيْهِمْ فَالَّذِينَ آمَنُوا بِهِ مَعَهُ أُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ. وَعَزَّرُوهُ وَنَصَرُوهُ وَاتَّبَعُوا النُّورَ الَّذِي أُنْزِلَ
'যারা এ উম্মী নবী রাসূলের অনুসরণ করে, যার উল্লেখ তাওরাত ও ইনজিলে লিপিবদ্ধ রয়েছে, যে তাদেরকে সৎ কাজের আদেশ দেয় এবং অসৎ কাজ থেকে বাধা প্রদান করে, তাদের জন্য যাবতীয় পবিত্র বস্তু হালাল ও অপবিত্র বস্তু হারাম করে এবং তাদের উপর বিদ্যমান গুরুভার ও শৃঙ্খল থেকে তাদেরকে মুক্ত করে। সুতরাং যারা তার প্রতি ঈমান আনে, তাকে সম্মান করে, তাকে সাহায্য করে এবং তার প্রতি অবতীর্ণ নূর (কুরআন) কে অনুসরণ করে, তারাই সফলকাম।'৩৮
ইসলামে সৎকাজ ও অসৎকাজ এবং হালাল ও হারাম বিষয়টি খুবই ব্যাপক। সুতরাং এ আয়াতের শিক্ষাই হচ্ছে, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম শুধু কুরআনে বর্ণিত সৎকার্যের নির্দেশ ও অসৎকাজের নিষেধ এবং কুরআনে বর্ণিত হালাল হারামকেই ঘোষণা দিয়ে ক্ষ্যান্ত হননি, তার বাইরে বিদ্যমান অনেক সৎকাজের তিনি নির্দেশ দিয়েছেন ও অসৎকাজকে নিষেধ করেছেন এবং এর বাইরেরও অনেক কিছুকে হালাল ও হারাম হওয়ারও ঘোষণা দিয়েছেন। এ প্রেক্ষাপটে হাদীছ না মানলে ইসলামের অনেক আমর বিল মা'রূফ ও নাহী আনিল মুনকার এবং হালাল ও হারাম আমাদের অগোচরেই থেকে যাবে। যারা তাঁর হাদীছ মানতে অস্বীকার করে তারা তাঁর এ সব হালাল - হারাম ও মা'রূফ মুনকারও অলক্ষ্যে অস্বীকার করে। আল-কুরআনের দ্বারাই অত্যাবশ্যকীয় করা ইসলামের এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে প্রত্যাখ্যান করেও কি কারো মুসলিম থাকার সুযোগ থাকে!
টিকাঃ
৩৮. সূরাহ আল-'আরাফ: ১৫৭
📄 ৩.১.৮ রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন হিকমাত শিক্ষা দানের দায়িত্ব প্রাপ্ত
রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছিলেন মানব জাতির জন্য শ্রেষ্ঠতম শিক্ষক। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা মানুষকে আল-কুরআন শিক্ষাদানের মহান শিক্ষক হিসাবে তাঁকে যেমন প্রেরণ করেছেন, একই সাথে হিকমাতের মত অন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষাদানের দায়িত্বও তাঁকে অর্পণ করেছেন। এ প্রসংগে আল্লাহ 'আয্যাহ ওয়া জাল্লা ইরশাদ করেন-
لَقَدْ مَنَّ اللَّهُ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ إِذْ بَعَثَ فِيهِمْ رَسُولًا مِنْ أَنْفُسِهِمْ يَتْلُو عَلَيْهِمْ آيَاتِهِ وَيُزَكِّيهِمْ وَيُعَلِّمُهُمُ الْكِتَابَ وَالْحِكْمَةَ وَإِنْ كَانُوا مِنْ قَبْلُ لَفِي ضَلَالٍ مُبِينٍ .
'আল্লাহ মু'মিনদের প্রতি অবশ্যই অনুগ্রহ করেছেন যে, তিনি তাদের নিজেদের মধ্য হতে তাদের নিকট এই রাসূল প্রেরণ করেছেন, যে তার আয়াতসমূহ তাদের নিকট তিলাওয়াত করে, তাদেরকে পরিশোধন করে এবং কিতাব ও হিকমাত শিক্ষা দেয়, যদিও তারা পূর্বে স্পষ্ট বিভ্রান্তিতেই ছিল।'৩৯
এ আয়াতের অনিবার্য শিক্ষা হচ্ছে যে, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের পাশাপাশি তাঁর উম্মাতকে হিকমাতও শিক্ষা দিতেন। এখানে আল-কুরআনও শিক্ষা দিতেন এবং হিকমাতও শিক্ষা দিতেন; এ থেকে স্পষ্টভাবে বুঝা যায় যে, হিকমাত আল-কুরআনের বাইরের আর একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আর বাস্তবতার আলোকে আল-কুরআনের সাথে অতিরিক্ত আর যা রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিক্ষা দিয়েছেন তা মূলত তাঁরই দিক নির্দেশনা যা পরবর্তীতে হাদীছ হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এ জন্য অনেক মুফাচ্ছির এ আয়াতে 'হিকমাত' বলতে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সুন্নাত তথা হাদীছকেই চিহ্নিত করেছেন।৪০ সুতরাং কুরআনের বাইরে যে সকল বিষয় রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম শিক্ষা দিয়েছেন, তা একজন মুসলিমের পক্ষে উপেক্ষা করার কোন সুযোগ নেই। বরং এ হিকমাত তথা হাদীছ পালনও আল-কুরআনের আলোকে তার জন্য অপরিহার্য পালনীয়। যারা এ অপরিহার্য বিষয়কে বর্জন করে যতই তারা শুধু আল-কুরআনেরই অনুসরণের দাবী করুক না কেন তারা মূলত আল-কুরআনকেই বর্জন করে।
টিকাঃ
৩৯. সূরাহ আলে-ইমরান: ১৬৪
৪০. আস-সুয়ূতী জালাল উদ্দীন ওয়াল মাহাল্লী, জালাল উদ্দীন, তাফসীরুল জালালায়িন, কায়রো, তাবি, ১খ. ৯০পৃ:
📄 ৩.১.৯ বিবাদ-বিসম্বাদে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত
মানুষের মধ্যে কোন তর্ক-বিতর্ক, মতানৈক্য ও বিবাদ-বিসম্বাদ দেখা দিলে, সে ক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে সমাধানের মানদণ্ড হিসেবে মেনে নেয়া প্রত্যেক মু'মিনের জন্য অত্যাবশ্যক। কোন বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সমাধান দিয়ে গেছেন তা নিঃশর্তভাবে মেনে নিলেই শুধু কোন ব্যক্তি মু'মিন থাকার সুযোগ পান। আর তা মেনে না নিলে, তার মু'মিন বলে পরিচয় দেয়ার অধিকার থাকে না। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা এ বিষয়ে ইরশাদ করেন-
فَلَا وَرَبِّكَ لَا يُؤْمِنُونَ حَتَّى يُحَكِّمُوكَ فِيمَا شَجَرَ بَيْنَهُمْ ثُمَّ لَا يَجِدُوا فِي أَنْفُسِهِمْ حَرَجًا مِمَّا قَضَيْتَ وَيُسَلِّمُوا تَسْلِيمًا.
'কিন্তু না, তোমার প্রতিপালকের শপথ। তারা মু'মিন হবে না যতক্ষণ পর্যন্ত না তারা তাদের নিজেদের বিবাদ-বিসম্বাদের বিচার ভার তোমার উপর অর্পণ করে; এরপর তোমার সিদ্ধান্ত সম্বন্ধে তাদের মনে কোন দ্বিধা না থাকে এবং সর্বান্তঃকরণে তা মেনে নেয়।৪১ সুতরাং রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিচার ফায়সালা মনে প্রাণে মেনে নেয়া না নেয়াই হচ্ছে ঈমানের মানদণ্ড। তাঁর অসংখ্য হাদীছে তাঁর এ বিচার ফায়সালার বর্ণনা এসেছে। যারা তাঁর হাদীছ অস্বীকার করে তারা তাঁর এ বিচার ফায়সালাকেও অস্বীকার করে। আর যারা এটা অস্বীকার করে তারা কক্ষনো মু'মিন থাকার দাবী করতে পারে না।
টিকাঃ
৪১. সূরাহ আন-নিসা: ৬৫
📄 ৩.১.১০ আল্লাহ ও রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ফায়সালা অভিন্ন
কোন সমস্যা সমাধানে অথবা কোন বিচার কার্যের ফায়সালার ক্ষেত্রে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা তাঁর নিজের ফায়সালার সাথে সাথে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর ফায়সালাকেও অভিন্ন ভাবে উপস্থাপন করেছেন। একথা মূলত: উভয়ের ফায়সালাকে ভিন্ন করে দেখার কোন সুযোগ রাখেনি। আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা ইরশাদ করেন-
وَإِذَا دُعُوا إِلَى اللهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ إِذَا فَرِيقٌ مِنْهُمْ مُعْرِضُونَ. وَإِنْ يَكُنْ لَهُمُ الْحَقُّ يَأْتُوا إِلَيْهِ مُذْعِنِينَ . أَفِي قُلُوبِهِمْ مَرَضٌ أَمِ ارْتَابُوا أَمْ يَخَافُونَ أَنْ يَحِيفَ اللَّهُ عَلَيْهِمْ وَرَسُولُهُ بَلْ أُولَئِكَ هُمُ الظَّالِمُونَ . إِنَّمَا كَانَ قَوْلَ الْمُؤْمِنِينَ إِذَا دُعُوا إِلَى اللَّهِ وَرَسُولِهِ لِيَحْكُمَ بَيْنَهُمْ أَنْ يَقُولُوا سَمِعْنَا وَأَطَعْنَا وَأُولَئِكَ هُمُ الْمُفْلِحُونَ.
'আর যখন তাদেরকে তাদের মধ্যে বিচার ফায়সালা করে দেয়ার জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের দিকে আহবান জানান হয় তখন তাদের একদল মুখ ফিরিয়ে নেয়। আর এদের যদি কিছু প্রাপ্য থাকে তাহলে তারা বিনীতভাবে রাসূলের নিকট ছুটে আসে। এদের অন্তরে কি ব্যাধি আছে, না তারা সংশয় পোষণ করে, না তারা ভয় করে যে, আল্লাহ ও তাঁর রাসূল তাদের প্রতি যুল্ম করবেন? বরং তারাই তো যালিম। মু'মিনদের উক্তি তো এই যে, যখন তাদের মধ্যে ফায়সালা করে দেয়ার জন্য আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলের দিকে আহবান করা হয়, তখন তারা বলে, আমরা শুনলাম ও আনুগত্য করলাম, আর তারাই তো সফলকাম। ১৪২
এ আয়াতগুলোতে একক কোন বিচার ফায়সালার দিকে আহবান জানানোর কথা না বলে আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা ও রাসূল ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর সম্বিলিত বিচার ফায়সালার কথা বলা হয়েছে। সুতরাং শুধু রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বিচার ফায়সালাকে ভিন্নভাবে দেখে তাকে উপেক্ষা করার কোন সুযোগ নেই। একইভাবে হাদীছে বর্ণিত বিচার ফায়সালাকেও উপেক্ষা করা যায় না।
মহাগ্রন্থ আল-কুরআন এখানে উল্লিখিত এই আয়াতসমূহে রাসূলুল্লাহ ছال্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে যেভাবে মূল্যায়ন করেছে তার সংক্ষিপ্ত সার হচ্ছে-
১. রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর জীবনই হচ্ছে মানবজাতির জন্য চলার সঠিক পথ।
২. রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশ পালন ও নিষেধ বর্জন ব্যতীত মুসলিম হওয়া অসম্ভব।
৩. রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উপেক্ষা করা ঈমানের প্রতি রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে, দাওয়াত দিয়েছেন তা উপেক্ষা করারই নামান্তর।
৪. রাসূলুল্লাহ ছال্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্যহীনতা তাঁকে যে উদ্দেশ্যে প্রেরণ করা হয়েছে তা অস্বীকার করারই শামিল।
৫. রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর আনুগত্য না করে, শুধু আল্লাহর আনুগত্য করার দাবি অর্থহীন।
৬. রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর বাণীও ওহীর অন্তর্ভুক্ত। তা অস্বীকার করা আল-কুরআন নামক ওহী অস্বীকার করার মতই জঘন্য।
৭. ইসলামী জীবন ব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ হালাল হারাম পরিপূর্ণভাবে জানতে ও মানতে হলে রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর অনুসরণ ব্যতীত সম্ভব নয়।
৮. ইসলামী জ্ঞানের অংশ হিকমাত, রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর মাধ্যমেই শিক্ষালাভ সম্ভব।
৯. বিচার ফায়সালার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যা রাসূলুল্লাহ ছال্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম দিয়েছেন, তা উপেক্ষা করে মু'মিন থাকার কোন সুযোগ নেই।
১০. রাসূলুল্লাহ ছাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে পাশ কাটিয়ে পরিপূর্ণ আল-কুরআন পালনের চিন্তা অবান্তর।
উল্লেখ্য যে, রাসূলুল্লাহ ছال্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে মূল্যায়ন করে তাঁর হাদীছ অবমূল্যায়নের কোন সুযোগ নেই, একইভাবে তাঁর হাদীছ প্রত্যাখ্যান করে তাঁকে মূল্যায়ন করার দাবিও অযৌক্তিক। এখানে বর্ণিত আয়াতগুলো রাসূলুল্লাহ ছال্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ইসলামী জীবন ব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে যে ভাবে সম্পৃক্ত করেছে তার ফলে তাঁকে বাদ দিয়ে এবং তাঁর হাদীছকে প্রত্যাখ্যান করে ইসলামকে কল্পনাও করা যায় না। একই সাথে আল-কুরআন পরিপূর্ণভাবে মেনে মুসলিম থাকতে হলে, উল্লেখিত এ আয়াতগুলো অনুসরণের কোন বিকল্প নেই। আর এ আয়াতগুলো অনুসরণ করতে হলে সেগুলো রাসূলুল্লাহ ছال্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে ও তাঁর হাদীছকে যেভাবে মূল্যায়ন করেছে সেভাবেই তাঁকে ও তাঁর হাদীছকে গ্রহণ করা অপরিহার্য। সুতরাং তাঁকে ও তাঁর হাদীছকে বাদ দিয়ে কুরআনের অনুসারী হওয়ার চিন্তা ইসলামের দৃষ্টিতে একেবারেই অবাস্তব। আজগুবী কল্পনা। অবান্তর চিন্তা বই কিছু নয়। তাহলে মহাগ্রন্থ আল-কুরআনের আলোকেই বলা যায় যে, তাঁকে ও তাঁর হাদীছকে বাদ দিয়ে ইসলামকে চিন্তা করার কোন সুযোগ নেই। তাঁর হাদীছ অস্বীকার করা বা বাদ দেয়া হচ্ছে, মূলত রাসূলুল্লাহ ছال্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বর্জন করারই অপর নাম। কুরআনের মূল্যায়নেই যেহেতু রাসূলুল্লাহ ছال্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইসলামের অবিচ্ছেদ্য অংশ, সেহেতু যারা কুরআনকেই মানতে চায় তাদের বুঝা উচিত যে কুরআনের অপরিহার্য দাবীই হচ্ছে যে, রাসূলুল্লাহ ছال্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়া সাল্লামকে তথা তাঁর হাদীছকে অনুসরণ করতে হবে।
টিকাঃ
৪২. সূরাহ আন- নূর: ৪৮-৫১